তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় দ্বীপটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের প্রস্তুতি নেয় ডেনমার্ক। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ডিআর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডের বিমানবন্দরগুলোর রানওয়ে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যাতে মার্কিন বাহিনী সহজে অবতরণ করতে না পারে। আহতদের চিকিৎসার জন্য রক্তের মজুত রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। ইউরোপীয় কর্মকর্তারা এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করলেও ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।
গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে, যদিও উভয় দেশই ন্যাটোর সদস্য। ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে বারবার গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতৃত্ব প্রত্যাখ্যান করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোপেনহেগেন ফ্রান্স ও জার্মানির সমর্থন চায় এবং নর্ডিক দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ সামরিক প্রস্তুতি নেয়।
৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ডেনমার্ক প্রস্তুতি জোরদার করে। পরে ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে ও সুইডেনের যৌথ বাহিনী গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন হয়। ট্রাম্প বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ইচ্ছা প্রকাশ করলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
ট্রাম্পের সময় মার্কিন আগ্রাসনের আশঙ্কায় গ্রিনল্যান্ডে রানওয়ে ধ্বংসের প্রস্তুতি নেয় ডেনমার্ক
ডেনমার্কের রাজা ফ্রেডেরিক দশম বুধবার থেকে তিন দিনের জন্য স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড সফর শুরু করবেন বলে রাজপ্রাসাদ জানিয়েছে। সফরটি দ্বীপটির প্রতি সমর্থনের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরসূচি অনুযায়ী, রাজা রাজধানী নুক, মানিতসক এবং কাংগারলুসুয়া সফর করবেন, যেখানে তিনি ডেনিশ সেনাদের আর্কটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। গত জানুয়ারির শেষ দিকে সফরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তখন ৫৭ বছর বয়সী এই সম্রাট দ্বীপটির প্রায় ৫৭ হাজার বাসিন্দার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে যখন গ্রিনল্যান্ডের বিশাল খনিজসম্পদ নিয়ে ডেনমার্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকে সরে এলেও তিনি এখনও দ্বীপটির মালিকানা পেতে আগ্রহী। ট্রাম্পের মতে, রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আর্কটিক অঞ্চলে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক-গ্রিনল্যান্ডের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে, তবে এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
আর্কটিক উত্তেজনার মধ্যে গ্রিনল্যান্ড সফর শুরু করছেন ডেনমার্কের রাজা ফ্রেডেরিক দশম
আমেরিকান পণ্যের বিকল্প খুঁজে দিতে তৈরি দুটি মোবাইল অ্যাপ ডেনিশ অ্যাপ স্টোরের শীর্ষে উঠে এসেছে। ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড, যা ডেনমার্কের একটি অঞ্চল, অধিগ্রহণের হুমকির পর ইউরোপীয় ভোক্তারা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে NonUSA এবং Made O’Meter নামের অ্যাপ দুটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ব্যবহারকারীরা এসব অ্যাপে পণ্যের বারকোড স্ক্যান করে উৎপত্তিস্থান জানতে পারেন এবং স্থানীয় বিকল্পের পরামর্শ পান। NonUSA বুধবার প্রথম স্থানে উঠে আসে, আর Made O’Meter পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান Appfigures জানিয়েছে, গত সপ্তাহে এই অ্যাপগুলোর ডাউনলোড ৮৬৭% বেড়েছে। ডেনিশ অ্যাপ স্টোর, যা গ্রিনল্যান্ডকেও সেবা দেয়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বয়কটের পাশাপাশি মার্কিন ভ্রমণ বাতিল ও স্ট্রিমিং সেবা ত্যাগের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। NonUSA এখন ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন ও আইসল্যান্ডে শীর্ষ বাজারে রয়েছে, যা নর্ডিক দেশগুলোর অংশগ্রহণ নির্দেশ করে।
যদিও ডেনমার্কের অ্যাপ বাজার ছোট, এই প্রবণতা দেখায় রাজনৈতিক উত্তেজনা কীভাবে দ্রুত ভোক্তা আচরণ ও ডিজিটাল প্রবণতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক উত্তেজনার মধ্যে বয়কট অ্যাপ ডেনিশ চার্টের শীর্ষে
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক সফরে যাচ্ছেন, যেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপ দখলের হুমকি থেকে সরে আসার পর এমন সংবেদনশীল সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোপেনহেগেন থেকে এএফপি জানিয়েছে, ফ্রেডেরিকসেন ব্রাসেলস সফর শেষে নুকের উদ্দেশে রওনা হবেন। শুক্রবার ভোরে তিনি ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহে দাভোসে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে মৌখিক সমঝোতায় পৌঁছান ন্যাটো মহাসচিব রুটে। ব্রাসেলস বৈঠকে রুটে ও ফ্রেডেরিকসেন আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে ন্যাটোর তৎপরতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হন। ন্যাটোর একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ নিয়ে সমঝোতার পরই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে আসেন ট্রাম্প।
যদিও পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, ট্রাম্প দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্র তার সব লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং এই সমঝোতা স্থায়ীভাবে কার্যকর থাকবে।
আর্কটিক নিরাপত্তা ইস্যুতে নুকে গ্রিনল্যান্ড নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে যাচ্ছেন ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত কেবল এই দুই দেশই নিতে পারে এবং সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আলোচনা হতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে অবিলম্বে আলোচনা শুরু করতে চান— এমন মন্তব্যের এক দিন পরই তিনি এই বক্তব্য দেন। ফ্রেডেরিকসেন বলেন, নিরাপত্তা, বিনিয়োগ ও অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা সম্ভব হলেও সার্বভৌমত্ব আলোচনার বিষয় নয়।
তিনি আরও বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটো জোটের সামগ্রিক বিষয় এবং ন্যাটোর মহাসচিব ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিক। ডেনমার্ক দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটোর জন্য আর্কটিক অঞ্চলে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং গ্রিনল্যান্ড সরকার ও ন্যাটোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
ফ্রেডেরিকসেন জানান, ডেনমার্ক মিত্রদের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপে অংশ নিতে চায় যাতে আর্কটিকের নিরাপত্তা জোরদার করা যায়, তবে তা অবশ্যই আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে করতে হবে।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করল ডেনমার্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে হুমকির প্রেক্ষিতে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, ইউরোপকে ব্ল্যাকমেইল করা যাবে না। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিরোধিতা করা আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর তিনি শুল্ক আরোপ করতে পারেন।
রোববার এই বিষয়ে আলোচনা করতে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের নেতারা বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রান্স আটলান্টিক সম্পর্ককে খাটো করেছে এবং এটি ভবিষ্যতে গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তারা সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে ন্যাটো সদস্য দেশগুলো আলোচনার জন্য প্রস্তুত। ইতোমধ্যে গ্রিনল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ট্রাম্পের হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি প্রত্যাখ্যান করল ডেনমার্ক, বলল ইউরোপকে ব্ল্যাকমেইল করা যাবে না
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান পরিবর্তনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পর তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং ট্রাম্প এখনো গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা পোষণ করছেন। বৈঠকে অংশ নেন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
এএফপি জানায়, ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পর এই বৈঠকের মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি দূর করার আশা করা হয়েছিল। রাসমুসেন বলেন, ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে গ্রিনল্যান্ড দখল তাদের স্বার্থে নয় এবং সেখানে দীর্ঘদিন মার্কিন ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও এমন পদক্ষেপ অপ্রয়োজনীয়। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের জন্য আবেগঘন, কারণ তারা আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থেকে প্রাণ দিয়েছে।
আলোচনার পথ খোলা রাখতে উভয় পক্ষ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি যৌথ কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে ন্যাটোর সমর্থন পাওয়া উচিত এবং তার প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান পরিবর্তনে ব্যর্থ ডেনমার্ক
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে বুধবার হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত আর্কটিক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাসমুসেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেন, পরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। রাসমুসেন বলেন, তিনি “কিছু ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে” চান।
ট্রাম্প সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডের নেতার বক্তব্যকে উপেক্ষা করে বলেন, “ওটা তাদের সমস্যা,” এবং ঘোষণা দেন যে যুক্তরাষ্ট্র “তারা চাইুক বা না চাইুক” গ্রিনল্যান্ড নেবে। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানের পর ট্রাম্প আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয় সরকারই এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেদেরিক নিলসেন স্পষ্ট করে বলেন, দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় বা শাসনে যেতে চায় না।
বৈঠকটি গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত হবে কি না তা এখনও জানা যায়নি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, বন্ধ বৈঠক হলে প্রকাশ্য সংঘাতের ঝুঁকি কমবে।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উত্তেজনা কমাতে ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির পর ডেনমার্ক এখন এক ‘চরম সন্ধিক্ষণ’-এর মুখে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে বৈশ্বিক খনিজ সম্পদ সরবরাহ বিষয়ক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বলেন, এই সংকট শুধু গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নয়, বরং বৃহত্তর কৌশলগত ও নীতিগত স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি আরও জানান, ডেনমার্ক যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের মূল্যবোধ রক্ষায় প্রস্তুত এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারে বিশ্বাসী।
গ্রিনল্যান্ডের ওপর ট্রাম্পের দাবির বিরোধিতায় ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে জার্মানি ও সুইডেন। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখল করা হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হবে। নর্ডিক, বাল্টিক ও ইউরোপের কয়েকটি দেশও ডেনমার্ককে সমর্থন জানিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের সামরিক প্রধানেরা গ্রিনল্যান্ডে সম্ভাব্য ন্যাটো মিশন নিয়ে আলোচনা করছেন। জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের দখলদারির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিতে ডেনমার্কের সতর্কবার্তা, বললেন ফ্রেডেরিকসেন
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্পের সহকারী স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে আঁকা গ্রিনল্যান্ডের মানচিত্র পোস্ট করার পর তিনি এই মন্তব্য করেন। ফ্রেডেরিকসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ড্যানিশ কিংডমের কোনো ভূখণ্ড দখলের অধিকার নেই এবং ডেনমার্ক ন্যাটোর সদস্য হওয়ায় গ্রিনল্যান্ডও সেই নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় রয়েছে।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশাধিকার পায়। আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে ডেনমার্ক বিনিয়োগও বাড়িয়েছে বলে জানান তিনি। ফ্রেডেরিকসেন যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানান, যেন তারা একটি ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশের জনগণের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া বন্ধ করে। কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন এবং ডেনমার্ক তা আটকাতে পারবে না।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে বিশেষ দূত নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই ডেনমার্কে ক্ষোভ দেখা দেয়। প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ডে অধিকাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করছে।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পকে হুমকি বন্ধের আহ্বান ডেনমার্কের
ডেনমার্কের জাতীয় ডাক বিভাগ পোস্টনর্ড ঘোষণা করেছে, তারা ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর শেষবারের মতো চিঠি বিতরণ করবে। এর মাধ্যমে ১৬২৪ সাল থেকে চলা চার শতাব্দীর পুরোনো ডাক পরিষেবার সমাপ্তি ঘটবে। গত ২৫ বছরে দেশে চিঠি পাঠানোর হার ৯০ শতাংশেরও বেশি কমে যাওয়ায় এবং ডিজিটাল যোগাযোগের প্রসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পোস্টনর্ড জানিয়েছে, ডাক পরিষেবা বন্ধের অংশ হিসেবে প্রায় ১,৫০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হবে এবং ১,৫০০টি ঐতিহ্যবাহী লাল পোস্টবক্স সরিয়ে ফেলা হবে। ইতোমধ্যে ১,০০০ পোস্টবক্স বিক্রি হয়েছে মাত্র তিন ঘণ্টায়, আর জানুয়ারিতে আরও ২০০টি নিলামে তোলা হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডাও ১ জানুয়ারি থেকে চিঠি সরবরাহের দায়িত্ব বাড়াবে, যেখানে গ্রাহকরা অনলাইনে বা অ্যাপের মাধ্যমে ডাক খরচ পরিশোধ করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতে লেখা চিঠি এখন অনেকের কাছে যত্ন ও অনুভূতির প্রতীক। তরুণ প্রজন্ম ডিজিটাল ক্লান্তির বিপরীতে চিঠি লেখাকে সচেতন পছন্দ হিসেবে গ্রহণ করছে।
ডেনমার্কে ৪০০ বছরের ডাক ইতিহাসের সমাপ্তি, পোস্টনর্ডের শেষ চিঠি বিতরণ
কয়েকজন মার্কিন নাগরিক গ্রীনল্যান্ডের সমাজে গোপনভাবে প্রভাব বিস্তার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার প্রচারণায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডেনমার্কে এক শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিককে তলব করা হয়েছে। ডেনিশ গোয়েন্দা সংস্থা এ অঞ্চলে চলমান প্রভাব খাটানোর অভিযান সম্পর্কে সতর্ক করে জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেছেন, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গ্রীনল্যান্ড দখলের আগ্রহের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা ঘটেছে, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আর্কটিক অঞ্চলে বিদেশি হস্তক্ষেপকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১১৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।