দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার ঐতিহাসিক টাইগ্রিস নদী মারাত্মক দূষণ, উজানের বাঁধ নির্মাণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীটি ইরাকের প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ মানুষের কৃষি, পানীয়, বিদ্যুৎ ও পরিবহনের প্রধান উৎস। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জরুরি পদক্ষেপ না নিলে এই নদী অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হতে পারে, যা প্রাচীন নদীতীরবর্তী সম্প্রদায়গুলোর জীবন ও সংস্কৃতিকে বিপন্ন করবে।
বছরের পর বছর অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশন, শিল্পবর্জ্য ও কৃষি রাসায়নিক নদীতে মিশে পানির গুণমান মারাত্মকভাবে নষ্ট করেছে। অপরদিকে, তুরস্ক ও ইরানের বাঁধ নির্মাণে নদীর প্রবাহ ৩০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে। পরিবেশকর্মী সালমান খাইরাল্লা বলেন, টাইগ্রিস শুধু পানি নয়, এটি আধ্যাত্মিকতারও প্রতীক। সম্প্রতি বাগদাদ ও আঙ্কারা ‘তেলের বিনিময়ে পানি’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিক সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে ইরাক শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখে পড়বে, যেখানে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা সরবরাহের চেয়ে অনেক বেশি হবে।
দূষণ ও বাঁধে শুকিয়ে যাচ্ছে ইরাকের টাইগ্রিস নদী, হুমকিতে জীবিকা ও ঐতিহ্য
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির নেতৃত্বাধীন জোট পার্লামেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, মঙ্গলবারের নির্বাচনে এই জোট প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ভোট পেয়েছে। মোট ভোট পড়েছে ৫৬ দশমিক ১১ শতাংশ। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার আশায় সুদানি এই নির্বাচনে অংশ নেন। তবে অনেক তরুণ ভোটার এই নির্বাচনকে প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর মধ্যে তেল সম্পদ ভাগাভাগির একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন। ৩২৯ আসনের সংসদে কোনো দল এককভাবে সরকার গঠন করতে না পারায়, জোট গঠন ও সরকার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরাকে পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী সুদানির জোট এগিয়ে, ভোট পড়েছে ৫৬ শতাংশের বেশি
ইরাকের শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিস্তানি গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞে দুই বছরের কাছাকাছি সময়ে লক্ষাধিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে। শহর ও আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে।' সিস্তানি বলেন, ‘গাজায় দুর্ভিক্ষ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ক্ষুধা ও বঞ্চনার প্রভাব থেকে কোনো শ্রেণি বা বয়সের মানুষই রেহাই পাচ্ছে না।’ আরো বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণকে উৎখাত করতে ইসরাইলি দখলদার বাহিনী যে নৃশংসতা চালাচ্ছে, তা নতুন কিছু নয়। এই সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর ভূমিকাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। সিস্তানি বলেন, ‘এটি তাদের নৈতিক এবং ধর্মীয় দায়িত্ব যে তারা এই মহামানবিক বিপর্যয় চলতে দেবে না।’
ইরাকের পার্লামেন্ট স্পিকার মাহমুদ আল-মাশহাদানি সাম্প্রতিক ইরান-ইসরাইল সংঘর্ষে ইরানের জয়কে ঐতিহাসিক উল্লেখ করেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সমর্থনের বিরুদ্ধে তারা সফল হয়। তিনি বলেছেন, বোমা হামলার সময় ইরানের জনগণ সাহসিকতার সঙ্গে ইসরাইলি শাসনকে উপহাস করেছে। তিনি ইরান-ইরাক সম্পর্কের গুরুত্ব জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে ইরাক ইরানের পাশে থাকবে এবং আইএসআইএস থেকে ইরাক মুক্তিতে ইরানের ভূমিকা সম্মানযোগ্য। তিনি ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোরও আহ্বান জানান।
পূর্ব ইরাকের আল-কুত শহরের একটি পাঁচতলা শপিংমলে ভয়াবহ আগুনে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সরকারি বার্তা সংস্থা আইএনএ। ওয়াসিত প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ আল-মিয়াহি জানিয়েছেন, আগুনের কারণ এখনও জানা যায়নি, তবে প্রাথমিক তদন্তের প্রতিবেদন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা হবে। দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
৩০ জুন রাতে ইরাকের কিরকুক বিমানবন্দরের সামরিক সেকশনে দুটি কাতিউশা রকেট হামলায় দুই নিরাপত্তাকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন। কিরকুকের বিমানবন্দরের সামরিক সেক্টরে ইরাকি সেনাবাহিনী, ফেডারেল পুলিশ এবং হাশেদ আল-শাবির ঘাঁটি রয়েছে। আরেকটি রকেট শহরের একটি বাড়িতে আঘাত হানে, এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়। হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেনি।
ইরান ও ইসরাইলের সংঘাতের মধ্যে ইরাকের ইমাম আলী, বালাদ ও তাজি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া রাজধানী বাগদাদের বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলার খবরও পাওয়া গেছে। খবর আল-জাজিরার। তবে কে এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। ইরানের তাসনিম বার্তাসংস্থা জানায়, বালাদ ঘাঁটির ভেতরে দুটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একসময় এটি ছিল ইরাকে মার্কিন বাহিনীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘাঁটি।
ইরাকের আকাশসীমা ইসরাইলের ৫০টি যুদ্ধবিমান লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই বিমানগুলো সিরিয়া-জর্ডান সীমান্ত থেকে প্রবেশ করে বসরা, নাজাফ ও কারবালার ওপর দিয়ে উড়েছিল। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগে ইরাকের প্রতিনিধি এ ঘটনা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন হিসেবে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। পবিত্র স্থানগুলোর ওপর হুমকি জনসাধারণের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ইরান-ইসরাইলের চলমান সংঘাতের মাঝে এই ঘটনা ঘটে।
ইসরাইল ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় ইরান আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর প্রভাব পড়ছে ইরাকেও। কাতার এয়ারপোর্টের ফ্লাইট ইনফরমেশন বোর্ডে দেখা যাচ্ছে, ইরানের পাশাপাশি ইরাকগামী ফ্লাইটগুলো একের পর এক বাতিল হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইনস ইরাকের আকাশপথও এড়িয়ে চলতে শুরু করেছে। এর কারণ হলো, ইরাকে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো হুমকি দিয়েছে, ইরানে যদি মার্কিন বা ইসরাইলি হামলা হয়, তাহলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো, বিশেষত ইরাকের, ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে’। তবে ইরাক সরকার গোষ্ঠীগুলোকে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর জন্য আলোচনা চালাচ্ছে।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৬০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।