ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইরান সফরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ইরাকের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরাকের জাতীয় বার্তা সংস্থা আইএনএ জানিয়েছে, জাইদি তেহরানে গিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে কয়েকটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করবেন।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ক্ষমতায় আসার পর এটি হবে জাইদির প্রথম ইরান সফর। ট্রাম্প অন্য এক প্রার্থীকে ভেটো দেওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। যুক্তরাষ্ট্র সফরে তিনি মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ৪৮টি চুক্তি ও অংশীদারিত্ব সম্পন্ন করেছেন। ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত জাইদি ইরাকের দুর্বল অর্থনীতি পুনর্গঠনের এবং মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করেছেন।
এদিকে সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের ওপর দায় চাপানোর পর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল অস্থির হয়ে উঠেছে, যেখানে মার্কিন সেনা, বিদেশি তেল কোম্পানি ও নির্বাসিত ইরানি কুর্দি বিদ্রোহীরা অবস্থান করছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ইরান যাচ্ছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি
১৮ জুলাই উত্তর ইরাকে একটি ভূপাতিত ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে এক মার্কিন সেনা নিহত ও আরেকজন আহত হয়েছেন বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ঘটনাটি ঘটে ড্রোনটি নিষ্ক্রিয় করার সময়। নিহত সেনার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ বাহিনীর সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর আগে জর্ডানে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ হন। সেন্টকম জানায়, জর্ডানের দুর্ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দেহাবশেষ উদ্ধার করে শনাক্তকরণ পরীক্ষা চলছে।
অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের হামলা বেড়েছে। এই সংঘাতে হাজারো প্রাণহানি ঘটেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়ে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বেড়েছে।
ইরাকে ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয়কালে বিস্ফোরণে মার্কিন সেনা নিহত, উত্তেজনা তীব্র
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করেছে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি এইচকেএন এনার্জি। কুর্দি সংবাদমাধ্যম রুদাউ এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে হামরিন তেলক্ষেত্র উন্নয়নে চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক দিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৯ জুলাই সালাহউদ্দিন প্রদেশে অবস্থিত ওই তেলক্ষেত্র নিয়ে চুক্তিটি হয়, যার লক্ষ্য ছিল দৈনিক ১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল তেল ও ৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন।
সম্প্রতি ইরবিল ও সুলাইমানিয়াহ প্রদেশে একাধিক ড্রোন হামলায় ইরানের একটি কুর্দি বিরোধী দলের নয়জন সদস্য নিহত হন। এই নিরাপত্তা সংকটের পরই মার্কিন কোম্পানিটি কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডানা গ্যাসও সুলাইমানিয়াহর কাছে খোর মোর গ্যাসক্ষেত্রে ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’র কারণে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে।
ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক অস্থিরতা ইরাকের উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি খাতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় কুর্দিস্তানে কার্যক্রম স্থগিত করল এইচকেএন এনার্জি
ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক (আইআরআই) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। ইরানপন্থি এই সংগঠন বৃহস্পতিবার জানায়, তাদের সদস্য ও সমর্থকদের অনুদানে গঠিত তহবিল থেকে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। সংগঠনটি ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, যে ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান ট্রাম্পকে হত্যা করবে, তারাই এই পুরস্কার পাবে।
আইআরআই তাদের বিবৃতিতে বলেছে, বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষ ট্রাম্পকে বিচারের মুখোমুখি করতে চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তারা দাবি করেছে, শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া তাদের জন্য বাধ্যতামূলক অঙ্গীকার এবং স্বৈরাচারীরা কখনো শান্তিতে থাকতে পারবে না।
গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল–জাইদির সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প ২০২০ সালে ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকি নেতা আবু মাহদি আল–মুহান্দিসকে হত্যার ঘটনায় নিজের ভূমিকার কথা স্বীকার করেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই মন্তব্যের পরই আইআরআই পুরস্কার ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়।
২০২০ সালের হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্যের পর ট্রাম্পের মাথার জন্য এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ৪৮টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এসব চুক্তির মধ্যে তেল ও জ্বালানি খাতের সহযোগিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যেখানে এক্সনমোবিল, কেবিআর, জিই ভার্নোভা, শেল ও হ্যালিবার্টনের মতো প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। এছাড়া ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়ে কয়েকটি চুক্তি হয় এবং স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগসেবা প্রদানকারী স্টারলিংকের সঙ্গে ইরাকে সেবা চালুর চুক্তিও সম্পন্ন হয়।
যুদ্ধ ও অস্থিরতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ইরাক এখন অর্থনীতি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। দেশটি দুর্বল অবকাঠামো, ভঙ্গুর জনসেবা, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির সমস্যায় ভুগছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে রাজস্বে বড় ক্ষতি হওয়ায় নতুন বিনিয়োগ ও সহযোগিতা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা আলি আল-জাইদি ইরাকের অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করেছেন। দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কূটনৈতিক নীতি অনুসরণ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির ৪৮টি বাণিজ্য ও জ্বালানি চুক্তি সই
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের ইরবিলে অবস্থানরত ইরানি বিরোধী গোষ্ঠীগুলো শুক্রবার সকালে দাবি করেছে যে তাদের লক্ষ্য করে আসা আটটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ইরবিলের উত্তর-পশ্চিমে আলানা ভ্যালি এলাকায় ইরানি বিরোধী দলগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়।
কুর্দিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রুদাও জানিয়েছে, অঞ্চলটির সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ভোরে এরবিলের আকাশে বিস্ফোরকবোঝাই আটটি ড্রোন জোট বাহিনী ধ্বংস ও ভূপাতিত করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে এই হামলার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনাটি উত্তর ইরাকে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, যেখানে ইরানি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি রয়েছে। ইরানের ভূমিকা অনিশ্চিত থাকায় ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ইরবিলের আকাশে আট বিস্ফোরক ড্রোন ধ্বংস, ইরানি বিরোধী গোষ্ঠী লক্ষ্যবস্তু
ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে ইরানের পাশে থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সংগঠনটির মহাসচিব আবু হুসেইন আল-হামিদাভি এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়, তবে তারা ইরানি জনগণের পাশে থাকবে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় মূল্য দিতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অঞ্চলজুড়ে ‘সত্য ও মিথ্যার শক্তির’ মধ্যে নতুন সংঘাতের সূচনা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র কাতাইব হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এটি ইরাকে ইরানঘনিষ্ঠ শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্র পূর্বে অভিযোগ করেছিল যে, ইরানের চলমান বিক্ষোভ দমন কার্যক্রমে তেহরান লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ব্যবহার করছে।
এই হুঁশিয়ারি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং কাতাইব হিজবুল্লাহ যেকোনো পরিস্থিতিতে ইরানের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরানের পাশে থাকার অঙ্গীকার কাতাইব হিজবুল্লাহর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ইরাকের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর এটি জাইদির প্রথম বিদেশ সফর, যেখানে তিনি শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা ও জ্বালানি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—এই দুই মিত্রের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে ইরাকের জন্য এই সফর একটি বড় পরীক্ষা। মার্কিন সমর্থনে ক্ষমতায় আসা জাইদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইরাকের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্রীকরণের। তার সরকার ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিরস্ত্রীকরণের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, যা মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মিশন সমাপ্তির সঙ্গে মিলে যায়। কিছু গোষ্ঠী সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও অনেকে অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এই সফরে জাইদি মার্কিন জ্বালানি ও অবকাঠামো কোম্পানির সঙ্গে বড় চুক্তি সই করবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যার মধ্যে একটি চুক্তিতে ইরাক প্রতিদিন পাঁচ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল একটি বিশেষ তহবিলে জমা রাখবে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই সফর ইরাকের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প-জাইদি বৈঠক
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন বলে সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন। এক সপ্তাহের এই সফরে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়। সফরটি এমন সময়ে হচ্ছে যখন ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করতে বাগদাদের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ছে।
সরকারি মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি জানান, ট্রাম্পের আমন্ত্রণে এই সফরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বিনিয়োগ জোরদারের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে, বিশেষ করে তেল ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়া ইরাক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জরুরি পদক্ষেপ নিতে চাইছে। আল-জাইদি রাষ্ট্রের হাতে অস্ত্রের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যদিও প্রভাবশালী কয়েকটি গোষ্ঠীর বিরোধিতার মুখে পড়েছেন।
ওয়াশিংটন সফরে কয়েকটি নতুন চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধির বিনিময়ে প্রতিদিন পাঁচ লাখ ব্যারেল তেল জমা দেওয়ার পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরাকের তেল রাজস্বের অর্থ পাঠানো পুনরায় শুরু করেছে, যা বছরের শুরুতে সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী
ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ (আইআরআই) ইরাকি সরকারের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে। সাবেরিন নিউজের মাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তারা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কঠোরভাবে নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এমন সময়ে এই সফর হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরাক, ইরান, লেবানন, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনে নিরীহ মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে।
বিবৃতিতে মিলিশিয়ারা ইরাকি অর্থনীতিকে মার্কিন আধিপত্য থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানায় এবং স্পষ্ট করে জানায় যে, ইরাকের মাটিতে যেকোনো মার্কিন সেনার উপস্থিতি অবৈধ দখলদারিত্ব হিসেবে গণ্য হবে। এই অবস্থান ইরাকের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির ওয়াশিংটন সফরে তেল ও গ্যাস খাতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরোধিতা সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপকে জটিল করে তুলেছে।
ওয়াশিংটন সফর ও ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে ইরাকি মিলিশিয়াদের ক্ষোভ
ইরাকের পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) বা হাশদ আল-শাবি জানিয়েছে, পবিত্র শহর নাজাফে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শোক মিছিলে ২৩ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরাকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে মিছিলে যোগ দিচ্ছেন এবং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
কয়েক দিনব্যাপী শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে খামেনির লাশ নাজাফে নেওয়া হয়। একই উপলক্ষে কোম, কারবালা এবং তাঁর নিজ শহর মাশহাদেও অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। প্রথমে হযরত আলি (রা.)-এর মাজারে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, এরপর স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় নাজাফে আনুষ্ঠানিক শোক মিছিল শুরু হয়।
মিছিলটি মাজার থেকে কুফা সেতু ও থাওরাত আল-আশরিন চৌরাস্তা হয়ে আল-সদরিন স্কয়ারের দিকে অগ্রসর হয়। পরে খামেনির লাশ কারবালার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, যা বহুদিনব্যাপী শোকানুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইরাকের নাজাফে আয়াতুল্লাহ খামেনির শোক মিছিলে ২৩ লাখেরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফে নেওয়া হলে সেখানে লাখো মানুষ শোক মিছিলে অংশ নেন। মঙ্গলবার রাতে খামেনির কফিন ও পরিবারের সদস্যদের বহনকারী বিমান নাজাফে অবতরণ করে। আল-কুফা সেতু থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শিয়া মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান ইমাম আলি (রা.)-এর মাজারের দিকে অগ্রসর হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নাজাফ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
ইরানে কয়েক দিনব্যাপী স্মরণানুষ্ঠানের পর জানাজার আনুষ্ঠানিকতা ইরাকে স্থানান্তরিত হয়। কর্মকর্তারা জানান, খামেনির মরদেহ কারবালায়ও নেওয়া হবে এবং সেখানে আরও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে। অভিজ্ঞ ইরাকি কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা কারবালার অনুষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় পরিবারের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিহত হন।
ইরান থেকে মরদেহ আনার পর নাজাফে আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ
ইরাকের কারবালায় আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির জানাজা উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কুদস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানি বলেছেন, নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিত এই জানাজা ইরান ও ইরাকের জনগণের সংহতি আরও জোরদার করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দুই জাতির ঐক্যকে দৃঢ় করবে।
কানি জানান, ইরাকি সরকারের উদ্যোগ ও জনগণের অংশগ্রহণ দুই দেশের আধ্যাত্মিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। তিনি কাসেম সোলাইমানি ও আবু মাহদি আল-মুহান্দিসের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে বলেন, খামেনির শেষকৃত্যও প্রতিরোধ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে। কারবালার গভর্নর নাসিফ জাসিম আল-খাত্তাবি জানান, নিরাপত্তা ও লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং ফেডারেল বাহিনী ও সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
জানাজা তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে—মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা, বুধবার নাজাফে শোভাযাত্রা এবং বিকেলে কারবালায় চূড়ান্ত কর্মসূচি। বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে এবং বুধবার কারবালা প্রদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
কারবালা ও নাজাফে খামেনির জানাজা উপলক্ষে ইরাকের প্রস্তুতি সম্পন্ন
ইরাকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সংসদ সদস্যসহ ৪৭ জন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রোববার ভোরে সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের নেতৃত্বে নিরাপত্তা বাহিনী রাজধানী বাগদাদের গ্রিন জোনসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিলেন।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএনএ জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও তেল মন্ত্রণালয়ের অন্তত একজন কর্মকর্তা রয়েছেন। আগামী মাসে ওয়াশিংটন সফরের আগে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে জাইদি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র রাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, এই অভিযান আরও বৃহৎ একটি পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন ও ইরানি তেল পাচার দমন করা। দুর্নীতি দমন কমিশন জানিয়েছে, আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ওয়াশিংটন সফরের আগে ইরাকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ৪৭ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে ইরাক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসাইন জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) আটটি দেশ ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিমত দূর করতে ইরাক মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক অভিযান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরাক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসাইন এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় ইরাকের অর্থনীতি তীব্র সংকটে পড়েছে, কারণ দেশটির প্রায় ৯৫ শতাংশ জাতীয় রাজস্ব আসে এই প্রণালী দিয়ে তেল রপ্তানি থেকে। আরাগচির সফরের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই-এর জানাজা ও শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা।
এই সফরটি এমন সময়ে হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তির শর্তাবলী মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং দক্ষিণ ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও বন্দর অবকাঠামোতে মার্কিন হামলার নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জিসিসি ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে উদ্যোগ নিল ইরাক
ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদি ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেছেন, যার ফলে একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কয়েক কোটি ডলার জব্দ হয়েছে। ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল জানিয়েছে যে তেল মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আদনান আল-জুমাইলির মামলায় প্রায় ৮৬ মিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ, ৭০টি সম্পত্তি, ২১টি যানবাহন এবং তিন কিলোগ্রাম স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। আল-জুমাইলি, যিনি ইরাকি নর্থ রিফাইনারিজ কোম্পানির প্রধানও ছিলেন, ৩০ মে বাগদাদের উত্তরে আল-ইশাকি শহরে গ্রেপ্তার হন। এই পদক্ষেপটি আসে যখন প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক বছরগুলোর সরকারি চুক্তিগুলোতে দুর্নীতির প্রমাণ খুঁজতে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং সন্দেহজনক অনিয়মের কারণে ৭৬৪ মিলিয়ন ডলারের বিমানবন্দর প্রকল্প বাতিল করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও একটি নতুন সংস্থা, সুপ্রিম সার্বভৌম পরিষদ ফর ইন্টিগ্রিটি, ওভারসাইট অ্যান্ড রিকভারি অফ পাবলিক ফান্ডস গঠন করেছেন, যা মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর তদারকি করবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের সূচকে ইরাক ১৮২ দেশের মধ্যে ১৩৬তম স্থানে রয়েছে, যা কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরনো আইন ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দুর্নীতি মোকাবিলা এখনও কঠিন।
পর্যবেক্ষকরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সতর্ক রয়েছেন, কারণ পুরনো ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মামলাগুলো এখনো অমীমাংসিত।
ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ও কোটি ডলার সম্পদ জব্দ
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) উপসাগরীয় দেশগুলোতে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর জন্য ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইরাকের আটটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন থেকে চারটি সেল গঠিত হয়েছে, প্রতিটিতে প্রায় দশজন করে বাছাই করা ইরাকি শিয়া যোদ্ধা রয়েছেন। ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত তারা বসরা ও সামাওয়ার নিকটবর্তী মরুভূমি এলাকা থেকে কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই নতুন দলগুলোর কিছু সদস্য ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ থেকে এসেছে এবং তারা ওই সংগঠনের কমান্ড কাঠামোর বাইরে থেকে সরাসরি আইআরজিসিকে রিপোর্ট করছে। আটটি সূত্রের মধ্যে দুইজন ইরাকি সামরিক কর্মকর্তা, একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং পাঁচজন স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডার রয়েছেন।
পাঁচজন মিলিশিয়া কমান্ডারের মতে, এই নতুন সেলগুলোর লক্ষ্য হলো এমন সময়ে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখা, যখন তাদের প্রক্সি গোষ্ঠী ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ দুর্বল হয়ে পড়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরাকে গোপন সেল গঠন করেছে আইআরজিসি
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬–এর প্রথম ম্যাচে নরওয়ের কাছে ৪–১ গোলে হেরে যাত্রা শুরু করেছে ইরাক। তবে এই ম্যাচটি ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে ২২ বছর বয়সি মিডফিল্ডার জিদান ইকবালের কারণে। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে তিনি বিশ্বের প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার ইতিহাস গড়েন। হতাশাজনক পরাজয়ের মধ্যেও ইরাক ও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। একই ম্যাচে আয়মান হুসেইনের গোলে চার দশক পর বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় ইরাক।
ম্যানচেস্টারে জন্ম নেওয়া জিদানের বাবা পাকিস্তানি ও মা ইরাকি। ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও ইরাক— তিন দেশের যেকোনো একটির হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও তিনি বেছে নিয়েছেন মায়ের দেশ ইরাককে। নিজের মিশ্র ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত জিদান বুটে দুই দেশের পতাকা আঁকেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অ্যাকাডেমি থেকে ফুটবলে হাতেখড়ি নেওয়া এই তরুণ ২০২১ সালে ক্লাবটির সিনিয়র দলে প্রথম ইরাকি খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক ঘটান এবং ২০২২ সালে ইরাকের জাতীয় দলে যোগ দেন।
নরওয়ের বিপক্ষে বড় ব্যবধানের হার সত্ত্বেও জিদানের ঐতিহাসিক অভিষেক ও হুসেইনের গোল ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন থাকবে।
বিশ্বকাপে প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস গড়লেন জিদান ইকবাল
প্রবন্ধে ইরাক অভিযানে খালিদ ইবনে ওয়ালিদের নেতৃত্বে সংঘটিত ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। খলিফা আবু বকরের নির্দেশে তিনি আপার ইরাক দিয়ে অভিযান শুরু করে হীরা জয় করেন এবং এটিকে পরবর্তী অভিযানের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেন। এরপর আনবার, আইনুত তামর, দুমাতুল জানদাল, হুসাইদ, মুসাইয়্যাখ ও ফিরাজসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মুসলিম বাহিনী বিজয় অর্জন করে। প্রতিটি স্থানের ছিল কৌশলগত ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব।
আনবারে দুর্গ জয়, আইনুত তামরে শত্রু সেনাপতির বন্দি হওয়া এবং দুমাতুল জানদালে অবরুদ্ধ মুসলিম বাহিনীর মুক্তি অভিযান ছিল উল্লেখযোগ্য সাফল্য। হুসাইদ ও মুসাইয়্যাখে মুসলিম বাহিনী পারসিক ও আরবদের নতুন জোটকে পরাজিত করে। শেষ পর্যন্ত ফিরাজে রোমান, পারসিক ও আরব বাহিনীর সম্মিলিত শক্তিকে পরাস্ত করে মুসলিমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
হিজরি ১২ সালের জিলকদ মাসে সংঘটিত ফিরাজের যুদ্ধ ইরাকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে গঠিত বৃহত্তম জোটকে ভেঙে দেয় এবং অঞ্চলে মুসলিম কর্তৃত্বকে স্থায়ীভাবে সুসংহত করে।
খালিদ ইবনে ওয়ালিদের বিজয়ে ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে মুসলিম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত
ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর সোমবার ইরাক তার আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি জানায়, ইরাকের সব বিমানবন্দর থেকে যাত্রীবাহী ও বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন অব্যাহত থাকবে।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় ইরান ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ইরাক ৭২ ঘণ্টার জন্য আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। এটি ছিল ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের প্রথম ঘটনা। আকাশসীমা পুনরায় খোলার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরাক সতর্কভাবে স্বাভাবিক বিমান চলাচলে ফিরে যাচ্ছে, যদিও আঞ্চলিক উত্তেজনা এখনো বিদ্যমান।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আকাশসীমা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক ঘটনার ওপর নির্ভর করবে।
ইরান সামরিক অভিযান স্থগিতের পর ইরাক আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিল
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১০৭ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।