ইরাক সরকার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে থাকা অস্ত্র ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। আন্তর্জাতিক জোটের নির্ধারিত ৩০ সেপ্টেম্বরের বিদায়ের পর এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি রোববার ইরাকি নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এটি একটি কৌশলগত ইরাকি সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়নে সংঘাত নয়, সংলাপের পথ নেওয়া হবে।
আল-আরাজি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস বা পিএমএফের বিভিন্ন ব্রিগেডের সম্পর্ক ছিন্ন করতে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। চলমান সংলাপ থেকে ইতিবাচক ফলও পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র রাষ্ট্রের শক্তিতে পরিণত হবে এবং সেগুলো কোনো বাইরের পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে না। যুদ্ধ ও শান্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধু রাষ্ট্রের—এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক শক্তি একমত বলেও তিনি বলেন।
ইরানের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছে। কাতাইব হিজবুল্লাহ অস্ত্র ত্যাগকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি সেনাদের ইরাক ত্যাগের সঙ্গে যুক্ত করেছে। তারা উত্তর ইরাক থেকে তুরস্কের সেনা প্রত্যাহার এবং কুর্দি পেশমার্গা বাহিনী বিলুপ্তির দাবিও তুলেছে। আল-আরাজি সংঘাতকে সরকারের জন্য লাল রেখা উল্লেখ করে পিএমএফ যোদ্ধাদের অধিকার রক্ষার আশ্বাস দেন।
জোটের বিদায়ের পর মিলিশিয়াদের অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা ইরাকের
ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি বলেছেন, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ইরাক তার ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। বাগদাদ ডায়ালগ সম্মেলনের অষ্টম আসরের দ্বিতীয় দিনে তিনি এ বক্তব্য দেন। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ২২ আগস্ট ২০২৬।
আমিদি বলেন, ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অঞ্চলের কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি জানান, দেশটিতে মাত্র দুই বা তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এখনো অস্ত্র সমর্পণ করেনি। তাদের অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরাকের সংবিধান অনুযায়ী অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে থাকতে হবে এবং নাজাফের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষও এ আহ্বান জানিয়েছে। চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধের প্রভাব ইরাকের ওপর ব্যাপকভাবে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে জটিল সমস্যা সমাধানে ইরাক ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে; এর প্রভাব পুরো বিশ্বের ওপর পড়েছে বলেও তিনি বলেন।
অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলায় ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার না করার ঘোষণা প্রেসিডেন্টের
কুর্দিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানিকে লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ১৮ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত খবরে জানানো হয়, একটি ড্রোন বারজানির দপ্তরে এবং আরেকটি কুর্দিস্তানের গোয়েন্দাপ্রধানের বাড়িতে আছড়ে পড়ে। কুর্দিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে, ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
বারজানি এক্সে লিখেছেন, কুর্দিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের তদন্তে তার ব্যক্তিগত কার্যালয় ও গোয়েন্দাপ্রধানের বাড়িতে ইরানি ড্রোন হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি ঘটনাটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এটি কুর্দিস্তান অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর কুর্দিস্তানকে কয়েকবার লক্ষ্য করা হয়েছে। ইরানের আশঙ্কা ছিল, কুর্দি যোদ্ধারা কুর্দিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হয়ে ইরানে স্থল হামলা চালাতে পারে। ইউএই হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ইরাক ও ইরাকি কুর্দিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেছে।
মাসরুর বারজানির দপ্তর ও গোয়েন্দাপ্রধানের বাড়িতে ইরানি ড্রোন হামলা, হতাহত নেই
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি বলেছেন, বাগদাদ তার ভূখণ্ড বা আকাশসীমাকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা চালানোর কাজে ব্যবহার করতে দেবে না। ১৩ আগস্ট ২০২৬ ইরাকের বিমান প্রতিরক্ষা কমান্ড অপারেশনস সেন্টার পরিদর্শনের সময় তিনি এই অবস্থান জানান।
জাইদি বলেন, ইরাক তার জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটি তার ভূখণ্ড বা আকাশসীমাকে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে না।
ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের আকাশ ও সার্বভৌমত্ব অলঙ্ঘনীয়। আকাশসীমার যেকোনো লঙ্ঘন কিংবা ইরাকের নিরাপত্তায় যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। বক্তব্যটি তিনি বিমান প্রতিরক্ষা কমান্ডের অপারেশনস সেন্টার পরিদর্শনের সময় দেন।
ইরাক তার ভূখণ্ড ও আকাশসীমা প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহার করতে দেবে না
ইরাক থেকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল জাইদির দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, আইএসবিরোধী বৈশ্বিক জোটের অভিযান শেষের পথে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সব বিদেশি সেনা ইরাক ছাড়বে। ১ অক্টোবর থেকে দেশটিতে কোনো বিদেশি সেনা থাকবে না বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেন্টকম কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলি আল জাইদির বৈঠকের পর এই সময়সীমা নির্ধারিত হয়। জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন সফরে দুজনের বৈঠক হয়েছিল। বিবৃতিতে ১ অক্টোবরকে ইরাকের জন্য ঐতিহাসিক দিন বলা হয়েছে এবং সেনা প্রত্যাহারের পর পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের প্রতি সম্মান বজায় রাখার কথা জানানো হয়েছে।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতের অভিযানের মাধ্যমে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি শুরু হয়। পরে আইএসের উত্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান অব্যাহত রাখে। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা এপিকে বলেছেন, আইএসকে পরাজিত করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক ও জোটসঙ্গীরা অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দমনে ইরাকি সেনাবাহিনী এখন যথেষ্ট সক্ষম। তিনি ইরাকে থাকা মার্কিন সেনার সংখ্যা জানাননি।
৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে ইরাকের তেল রপ্তানি ৭৫ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী বাসেম মোহাম্মদ খুদাইর। ৮ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রপ্তানিতে এই বড় ধস নেমেছে। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাক প্রতিদিন প্রায় ৩৪ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত।
এক সংবাদ সম্মেলনে খুদাইর জানান, বর্তমানে ইরাকে প্রতিদিন প্রায় ২৭ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ১৭ লাখ ব্যারেল রপ্তানি করা হচ্ছে। তিনি তেল রপ্তানির জন্য ভবিষ্যতে বিকল্প পথ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন এবং রপ্তানি অবকাঠামো ও বিকল্প রুট বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেওয়ার কথা জানান।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকি তেল রপ্তানির সুযোগ তৈরির বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, তবে এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ শুরু হয়নি বলে জানান মন্ত্রী। ইরাক সরকার তেল কোম্পানিগুলোর ওপর যেকোনো হামলার বিরোধিতা করেছে এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। হরমুজ দিয়ে বিপুল বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহন হওয়ায় অবরোধ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
হরমুজ অবরোধে ইরাকের তেল রপ্তানি ৭৫ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন তেলমন্ত্রী
বড় অঙ্কের মূল্যছাড়ে ইরাকের অপরিশোধিত তেল কিনতে চীন ও ভারতের কয়েকটি তেল শোধনাগার হরমুজ প্রণালি হয়ে জাহাজ খুঁজছে। রয়টার্সকে শিপিং খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে তারা ইরাকের বসরা অয়েল টার্মিনাল থেকে তেল তোলার জন্য জাহাজ খুঁজছে। তবে প্রণালির নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এখনো কোনো জাহাজ ভাড়ার চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি।
আগস্টে সরবরাহের জন্য ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান সোমো বসরা হেভি ও বসরা মিডিয়াম গ্রেডের অপরিশোধিত তেলে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৩০ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। এই মূল্যছাড়ই চীন ও ভারতের শোধনাগারগুলোর আগ্রহের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় জাহাজমালিকেরা সেখানে জাহাজ পাঠাতে অনাগ্রহী। ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে প্রণালি দিয়ে মাত্র ছয়টি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার বের হয়েছে, আর প্রবেশ করেছে ২১টি জাহাজ; যার বেশির ভাগ ইরানের জলপথ ব্যবহার করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর সময় ইরান প্রণালি বন্ধ করে দেয়; এর আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ এ পথ ব্যবহার করত।
হরমুজ নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে ছাড়ে ইরাকি তেল কিনতে জাহাজ খুঁজছে চীন ও ভারতের শোধনাগার
ইরাক গত ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৩ কোটির বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিমাণ যুদ্ধের আগের ইরাকের গড় মাসিক রপ্তানির প্রায় ২৯ শতাংশ। খবরটি ৫ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত ও হালনাগাদ হয়েছে।
যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাক প্রতি মাসে গড়ে ১০ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। এই তেলের বেশির ভাগ দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বসরা এলাকার তেল টার্মিনাল থেকে আসত। ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন সংস্থা সোমোর প্রধান আলি নিজার জানান, জুলাই মাসে প্রণালিটি দিয়ে আনুমানিক ৩ কোটি ৫৫ লাখ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে।
আলি নিজারের ভাষ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ইরাক-তুরস্ক পাইপলাইন ব্যবহার করে সিহান বন্দরের মাধ্যমে আরও ৭০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হয়েছে। ইরাক সিরিয়ার মধ্য দিয়ে ট্যাংকার ট্রাকেও কিছু অপরিশোধিত তেল পরিবহন করেছে। সিরিয়ার বানিয়াস বন্দরে একটি পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে।
গত এক মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকের ৩ কোটির বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি
ইরাকের বিভিন্ন প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের কথিত যৌথ বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হারাকাত হিজবুল্লাহ আল-নুজাবা। ২৯ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবারের এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি সতর্ক করেছে যে প্রাণঘাতী হামলার পর অঞ্চলে মার্কিন ও সৌদি স্বার্থ মারাত্মক পরিণতির মুখোমুখি হবে।
ইরাকের সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিয়া সশস্ত্র দলগুলোর জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস বা হাশদ আল-শাবি জানিয়েছে, রাতভর হামলায় তাদের অন্তত ২০ যোদ্ধা নিহত ও আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন। তাদের তথ্যমতে, বাগদাদ, বসরা, কারবালা, কিরকুক ও নিনেভেসহ সাতটি প্রদেশে একযোগে হামলা চালানো হয়।
হাশদ আল-শাবি বলেছে, হামলায় তাদের কয়েকটি ভবন, সামরিক যান ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছেন। প্রতিবেদনে নুজাবার হুমকিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া এবং ওয়াশিংটন ও রিয়াদের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।
ইরাকে হামলার পর মার্কিন ও সৌদি স্বার্থে প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি নুজাবার
ইরাকের পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, দেশটির সাতটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় তাদের অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। পিএমএফের হিসাবে হামলায় আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনটি ২৯ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত ও পরে হালনাগাদ করা হয়।
পিএমএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, বাগদাদ, ওয়াসিত, নিনেভেহ, বসরা, কিরকুক, কারবালা ও দিয়ালা প্রদেশে তাদের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় ভবন, যানবাহন এবং সামরিক সরঞ্জামের বিভিন্ন মাত্রার ক্ষতি হয়েছে বলেও সংগঠনটি দাবি করেছে।
পিএমএফ জানিয়েছে, হতাহতদের এই সংখ্যা প্রাথমিক এবং তা আরও বাড়তে পারে। এর আগে নিহতের সংখ্যা আট বলে জানানো হয়েছিল। প্রতিবেদনে হামলার সময়, ব্যবহৃত অস্ত্র বা যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের কোনো প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।
ইরাকের সাত প্রদেশে যৌথ হামলায় পিএমএফের অন্তত ২০ যোদ্ধা নিহতের দাবি
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বাহিনী ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছে। ২৯ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় গোষ্ঠীগুলোর আট সদস্য নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড, সেন্টকম, জানিয়েছে যে লক্ষ্যবস্তু ছিল পূর্ব ইরাকজুড়ে একাধিক গোষ্ঠীর অস্ত্রভান্ডার ও রসদসংক্রান্ত স্থাপনা।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির নির্দেশে এসব গোষ্ঠী মার্কিন বাহিনী ও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়েছিল। সংস্থাটি বলেছে, গত ৭২ ঘণ্টায় আইআরজিসি-নির্দেশিত ৩০টির বেশি ড্রোন হামলার জবাবেই যৌথ বাহিনী নির্ভুল হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে সেন্টকম আইআরজিসির ড্রোন হামলাগুলোকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করে এবং দাবি করে যে সেগুলো কোনো লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়নি। সেন্টকমের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মার্কিন নাগরিক ও বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ৬০০টির বেশি হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল। এসব হামলা চলতে থাকলে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর স্থাপনায় সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ৮
ইরাকের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় একাধিক বোমা হামলায় ‘ইউক্রেনীয় সেল’ জড়িত থাকার নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আবৌদি। ২৮ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আরবি ভাষার সংবাদমাধ্যম দাজলা টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।
আল-আবৌদি বলেন, নতুন কিছু তথ্য-প্রমাণ ইরাকে ‘ইউক্রেনীয় হস্তক্ষেপের’ দিকে ইঙ্গিত করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি ইউক্রেনীয় সেলের সদস্য সরকারি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে একটি ছোট দলকে গ্রেপ্তার করেছে।
কর্মকর্তার দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া অল্প কয়েকজন ব্যক্তি ইউক্রেনের হয়ে কাজ করার কথা স্বীকার করেছে এবং সরকারি স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় বা হামলাগুলোর সুনির্দিষ্ট বিবরণ তিনি প্রকাশ করেননি। আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে দায়ী করার আগে আরও বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরাকি নিরাপত্তা উপদেষ্টা সরকারি স্থাপনায় হামলায় ইউক্রেনীয় সেলের সংশ্লিষ্টতার দাবি করেছেন
উত্তর ইরাকের কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের বৃহত্তম খোর মোর গ্যাসক্ষেত্রে সোমবার দিবাগত শেষ রাতে ড্রোন হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি। সুলাইমানিয়ায় অবস্থিত ক্ষেত্রটি থেকে অঞ্চলের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। একই সময়ে গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের কুর্দিস্তানের রাজধানী এরবিলেও বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
ইরাকি সংবাদমাধ্যম ও ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরবিলে মার্কিন কনস্যুলেটের কাছের এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণ ঘটে। আল জাজিরাকে স্থানীয় পুলিশ জানায়, এরবিলের উত্তর-পূর্বের খালিফান ও সোরান এলাকার বিভিন্ন স্থানে অন্তত চারটি ইরানি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ও আশপাশে ভয়াবহ আগুন লাগার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, ইরানি ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এরবিলের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টির বেশি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন উড়তে দেখা গেছে। দুটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছানোর পর বিধ্বস্ত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। টানা ১৩ রাত পাল্টাপাল্টি হামলার পর গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হামলা স্থগিত করে; ট্রাম্প বলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
উত্তর ইরাকের খোর মোর গ্যাসক্ষেত্র ও এরবিলের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলা ও বিস্ফোরণের খবর
ইরাকের ইরবিলে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর প্রায় সবই ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরেমিনিয়া। ২৬ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আকরেমিনিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির সাম্প্রতিক হামলায় ইরবিলে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরান মারাত্মক ক্ষতি করেছে। তাঁর বক্তব্যে বলা হয়, এসব হামলার কারণে অনেক ঘাঁটি তাদের কার্যক্ষমতা ও পরিচালন সক্ষমতা হারিয়েছে।
ইরানি সেনা মুখপাত্র আরও বলেন, ইরান আরাশ-২ ড্রোনের চেয়ে উন্নত এবং বেশি নির্ভুল নতুন হামলাকারী ড্রোন মোতায়েন করছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসনের মাধ্যমে ইরানি জাতির ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পারবে না—এটি না বোঝা পর্যন্ত ইরান সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরবিলে মার্কিন স্থাপনা ধ্বংসের দাবি ইরানি সেনা মুখপাত্রের
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি আগামীকাল মন্ত্রীপরিষদের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ইরান সফরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ইরাকি বার্তা সংস্থা আইএনএ। ইরানের সরকারি আমন্ত্রণে এই সফরে গ্যাস সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে আলজাজিরা জানিয়েছে।
সরকারের মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি বলেন, রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে অস্ত্র রাখার বিষয়টি শুধুমাত্র বাগদাদে আলোচনা হয়েছে এবং এটি ইরাকের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তিনি জানান, দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় জ্বালানি ও গ্যাস সংক্রান্ত বিষয়গুলো ইরাকের জাতীয় স্বার্থের অংশ হিসেবে গুরুত্ব পাবে। আল-আবুদি আরও বলেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরাক কূটনৈতিক সমাধানভিত্তিক উদ্যোগ অনুসরণ করছে।
তিনি জানান, ইরাক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেশ কিছু চুক্তি করেছে, যার মধ্যে বিকল্প তেল রপ্তানি পথ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে তেল রপ্তানি সুরক্ষিত রাখতে ইরাক মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। আল-আবুদি বলেন, ইরাক সংঘাতে জড়াবে না এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে বৈদেশিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে মনোযোগ দিচ্ছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে গ্যাস ও কূটনীতি নিয়ে ইরান সফরে যাচ্ছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইরান সফরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ইরাকের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরাকের জাতীয় বার্তা সংস্থা আইএনএ জানিয়েছে, জাইদি তেহরানে গিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে কয়েকটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করবেন।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ক্ষমতায় আসার পর এটি হবে জাইদির প্রথম ইরান সফর। ট্রাম্প অন্য এক প্রার্থীকে ভেটো দেওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। যুক্তরাষ্ট্র সফরে তিনি মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ৪৮টি চুক্তি ও অংশীদারিত্ব সম্পন্ন করেছেন। ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত জাইদি ইরাকের দুর্বল অর্থনীতি পুনর্গঠনের এবং মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করেছেন।
এদিকে সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের ওপর দায় চাপানোর পর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল অস্থির হয়ে উঠেছে, যেখানে মার্কিন সেনা, বিদেশি তেল কোম্পানি ও নির্বাসিত ইরানি কুর্দি বিদ্রোহীরা অবস্থান করছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ইরান যাচ্ছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি
১৮ জুলাই উত্তর ইরাকে একটি ভূপাতিত ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে এক মার্কিন সেনা নিহত ও আরেকজন আহত হয়েছেন বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ঘটনাটি ঘটে ড্রোনটি নিষ্ক্রিয় করার সময়। নিহত সেনার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ বাহিনীর সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর আগে জর্ডানে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ হন। সেন্টকম জানায়, জর্ডানের দুর্ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দেহাবশেষ উদ্ধার করে শনাক্তকরণ পরীক্ষা চলছে।
অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের হামলা বেড়েছে। এই সংঘাতে হাজারো প্রাণহানি ঘটেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়ে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বেড়েছে।
ইরাকে ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয়কালে বিস্ফোরণে মার্কিন সেনা নিহত, উত্তেজনা তীব্র
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করেছে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি এইচকেএন এনার্জি। কুর্দি সংবাদমাধ্যম রুদাউ এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে হামরিন তেলক্ষেত্র উন্নয়নে চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক দিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৯ জুলাই সালাহউদ্দিন প্রদেশে অবস্থিত ওই তেলক্ষেত্র নিয়ে চুক্তিটি হয়, যার লক্ষ্য ছিল দৈনিক ১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল তেল ও ৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন।
সম্প্রতি ইরবিল ও সুলাইমানিয়াহ প্রদেশে একাধিক ড্রোন হামলায় ইরানের একটি কুর্দি বিরোধী দলের নয়জন সদস্য নিহত হন। এই নিরাপত্তা সংকটের পরই মার্কিন কোম্পানিটি কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডানা গ্যাসও সুলাইমানিয়াহর কাছে খোর মোর গ্যাসক্ষেত্রে ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’র কারণে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে।
ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক অস্থিরতা ইরাকের উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি খাতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় কুর্দিস্তানে কার্যক্রম স্থগিত করল এইচকেএন এনার্জি
ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক (আইআরআই) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। ইরানপন্থি এই সংগঠন বৃহস্পতিবার জানায়, তাদের সদস্য ও সমর্থকদের অনুদানে গঠিত তহবিল থেকে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। সংগঠনটি ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, যে ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান ট্রাম্পকে হত্যা করবে, তারাই এই পুরস্কার পাবে।
আইআরআই তাদের বিবৃতিতে বলেছে, বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষ ট্রাম্পকে বিচারের মুখোমুখি করতে চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তারা দাবি করেছে, শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া তাদের জন্য বাধ্যতামূলক অঙ্গীকার এবং স্বৈরাচারীরা কখনো শান্তিতে থাকতে পারবে না।
গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল–জাইদির সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প ২০২০ সালে ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকি নেতা আবু মাহদি আল–মুহান্দিসকে হত্যার ঘটনায় নিজের ভূমিকার কথা স্বীকার করেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই মন্তব্যের পরই আইআরআই পুরস্কার ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়।
২০২০ সালের হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্যের পর ট্রাম্পের মাথার জন্য এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ৪৮টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এসব চুক্তির মধ্যে তেল ও জ্বালানি খাতের সহযোগিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যেখানে এক্সনমোবিল, কেবিআর, জিই ভার্নোভা, শেল ও হ্যালিবার্টনের মতো প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। এছাড়া ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়ে কয়েকটি চুক্তি হয় এবং স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগসেবা প্রদানকারী স্টারলিংকের সঙ্গে ইরাকে সেবা চালুর চুক্তিও সম্পন্ন হয়।
যুদ্ধ ও অস্থিরতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ইরাক এখন অর্থনীতি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। দেশটি দুর্বল অবকাঠামো, ভঙ্গুর জনসেবা, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির সমস্যায় ভুগছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে রাজস্বে বড় ক্ষতি হওয়ায় নতুন বিনিয়োগ ও সহযোগিতা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা আলি আল-জাইদি ইরাকের অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করেছেন। দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কূটনৈতিক নীতি অনুসরণ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির ৪৮টি বাণিজ্য ও জ্বালানি চুক্তি সই
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ২৪৬ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।