সাত মাস বন্ধ থাকার পর ইরানের সঙ্গে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করেছে ইরাকের জাতীয় বিমান সংস্থা ইরাকি এয়ারওয়েজ। বৃহস্পতিবার নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেহরানের উদ্দেশে একটি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে কার্যক্রমটি শুরু হয়। গত মার্চের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই রুটের ফ্লাইট বন্ধ ছিল।
ইরাকি এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ইরানের বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে তেহরান, মাশহাদ ও ইসফাহান। নাজাফ থেকে এসব শহরে প্রতিদিন ফ্লাইট চলাচল করবে বলে বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে।
দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সরাসরি আকাশপথ পুনরায় চালুর ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে রোববার ইরানের ক্যাস্পিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বাগদাদ ও ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক সমঝোতার আওতায় নির্দিষ্ট ছাড় পাওয়ার পর ফ্লাইটটি পরিচালিত হয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার পর ২৫ সেপ্টেম্বর নাজাফ ও ইরানের মধ্যে সব বিমান চলাচল স্থগিত হয়েছিল।
নাজাফ থেকে ইরানের তিন শহরে প্রতিদিন সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে ইরাকি এয়ারওয়েজ
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরাক থেকে মার্কিন ও অন্যান্য বিদেশি সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তেহরান এটিকে ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা সুসংহত করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ইরাকের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানানোর ওপর জোর দিয়েছে ইরান।
তেহরান বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক উপস্থিতি সহিংসতা, অনিরাপত্তা, বিভাজন ও সন্ত্রাসবাদ ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনেনি। ইরানের দাবি, গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগে ইরাকে মার্কিন হামলার পর দুই দশকেরও বেশি সামরিক উপস্থিতিতে ব্যাপক প্রাণহানি, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি, পরিবেশ বিপর্যয় ও যুদ্ধাপরাধের ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের মতে, এই পরিস্থিতি পরবর্তীতে ইরাক ও আশপাশের অঞ্চলে আইএসসহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উত্থানের পথ তৈরি করে। বিবৃতিতে ইরাকের দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি, উল্লেখিত কর্মকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তেহরান।
ইরাক থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতির সমালোচনা ইরানের
ইরাক ও তুরস্ক তেল ও গ্যাস খাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার জন্য একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। ইরাকের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএনএ জানিয়েছে, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। আঙ্কারায় ইরাকের তেলমন্ত্রী বাসেম মোহাম্মদ খুদাইর তুরস্কের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী আলপারস্লান বায়রাকতারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ইরাকের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে তেল ও গ্যাস খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প এবং তেল, গ্যাস ও জ্বালানি বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পর কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় ইরাকের তেল রপ্তানি ৮০ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রপ্তানি সচল রাখতে দুই দেশ বিকল্প পরিবহনপথের দিকে ঝুঁকছে। আগস্টে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বোটাস এবং ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সোমো ও এনওসির মধ্যে এক বছরের চুক্তি হয়। এর আওতায় কিরকুক-জেইহান তেল পাইপলাইন দিয়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগস্টে প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদি তেল, বিদ্যুৎ, পানিসম্পদসহ বিভিন্ন খাত নিয়ে কাঠামোগত চুক্তির কথাও বলেছিলেন।
দীর্ঘমেয়াদি তেল-গ্যাস সহযোগিতা নিয়ে আলোচনায় ইরাক ও তুরস্ক
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরাকের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগে তৈরি বিধিনিষেধ দ্রুত প্রত্যাহার করে স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল পুনর্বহালের জন্য বাগদাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান। গত সপ্তাহে নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালু হওয়ার পর তেহরান এ আহ্বান জানায়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি ও অমানবিক আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগের সমালোচনা করেছে।
বিবৃতিতে ইরান বলেছে, দুই দেশের লাখ লাখ মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে তেহরান ও বাগদাদের মধ্যে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল আলোচনা প্রয়োজন। ইরাকি বার্তা সংস্থা আইএনএ জানায়, সোমবার গভীর রাতে নাজাফ ও ইরানের মধ্যে বিমান চলাচল আবার শুরু হয়। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির বিশেষ উদ্যোগে এ ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তেহরানে ইরাকের রাষ্ট্রদূত ইয়াসির আব্দুলজহরা আল-হাজ্জাজ বলেন, ইরানগামী ফ্লাইট বন্ধে বাগদাদের কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত ছিল না। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় বিদেশি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কোম্পানিগুলোর সেবা দিতে অস্বীকৃতিতেই সংকট তৈরি হয়। বাগদাদ, এরবিল ও সুলাইমানিয়ায় ফ্লাইট বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ১২ ঘণ্টার বেশি সড়কপথে যেতে হচ্ছে। মানবিক, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ধর্মীয় সফরের জন্য ছাড় চাচ্ছে ইরাক সরকার।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় বিঘ্নিত স্বাভাবিক ফ্লাইট পুনরুদ্ধারে ইরানকে ইরানের আহ্বান
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে রাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র সমর্পণের জন্য নতুন সময়সীমা হিসেবে ২০২৭ সালের ৩০ জুন নির্ধারণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের মিশন শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার তিনি এ ঘোষণা দেন। বাগদাদ থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এর আগে নির্ধারিত ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা থেকে সরে আসেন জায়েদি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অস্ত্রের বিষয়টি সমাধানে ১ অক্টোবরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও সম্মত সময়সূচির ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়া ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবে। ঘোষণাটি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অস্ত্রের বিষয়টি মোকাবিলায় একটি আনুষ্ঠানিক সময়সূচি নির্ধারণ করল।
সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্র সমর্পণে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দিল ইরাক
২০২৭ সালের জুনের মধ্যে দেশের সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনা করছে ইরাক সরকার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হোসেন এ ঘোষণা দিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খসড়া পরিকল্পনাটি শিগগিরই উপস্থাপন করা হবে এবং এতে বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আগামী বছরের জুন মাসকে সময়সীমা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। প্রস্তাবিত পরিকল্পনার আওতায় কোন কোন গোষ্ঠী থাকবে বা এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আঞ্চলিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জরুরি প্রয়োজনীয়তার কারণে এ উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। নিরস্ত্রীকরণে ইরাকের এই উদ্যোগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের চাপও একটি প্রধান কারণ হিসেবে বলা হয়েছে।
২০২৭ সালের জুনের মধ্যে সব সশস্ত্র গোষ্ঠী নিরস্ত্র করার পরিকল্পনা ইরাকের
কাতাইব হিজবুল্লাহ ইরাকে তাদের সামরিক তৎপরতা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। তবে ইরাকের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী শত্রু উড়োজাহাজকে লক্ষ্য করার বিষয়টি এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের মতে, ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের আওতাধীন গোষ্ঠীটির নেতা আহমেদ আল-হামদাওয়ি এ ঘোষণা দেন।
ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইরানপন্থি কয়েকটি গোষ্ঠীর একটি জোট। জোটটির মুখপাত্র জাফর আল-হুসেইনি বলেছেন, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইরাক সরকারের সঙ্গে আলোচনা কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়নি।
আল-হুসেইনি বলেন, প্রতিরোধের অস্ত্র যোদ্ধাদের হাতেই আমানত হিসেবে থাকবে। ইরাক ও দেশটির জনগণকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো যেকোনো শত্রুর বিরুদ্ধে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হবে বলেও তিনি জানান। ঘোষণায় সামরিক তৎপরতা স্থগিতের কথা বলা হলেও, শত্রু হিসেবে বিবেচিত এবং ইরাকি আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী উড়োজাহাজের বিষয়ে গোষ্ঠীটির অবস্থান আলাদা রাখা হয়েছে।
ইরাকে সামরিক তৎপরতা স্থগিত করলেও আকাশসীমা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখল কাতাইব হিজবুল্লাহ
ইরাক সরকার জানিয়েছে, দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে এবং যুদ্ধ ও লজিস্টিক সহায়তায় নিয়োজিত মার্কিন বাহিনীর সব সদস্য ইরাক ছেড়েছেন। ২৩ বছরের দখলদারিত্বের অবসান হিসেবে বর্ণিত এই উপলক্ষে বুধবার থেকে পরবর্তী শনিবার পর্যন্ত চার দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
‘ইরাকের সার্বভৌমত্ব দিবস’ উপলক্ষে এই ছুটি ঘোষণা করা হয়। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষকে এ দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের জন্য সরকারি মিডিয়া সেলের সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশ দেন।
কর্মসূচির মধ্যে সরকারি ও জনসাধারণের প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইরাকের শহীদ ও নিহতদের স্মরণে অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা রয়েছে। পাশাপাশি ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব দিবস’ লেখা ব্যাজ পরার ব্যবস্থাও থাকবে। এসব ব্যাজে ইরাকের মানচিত্র অথবা দেশটির জাতীয় পতাকার রং ব্যবহার করা হবে।
মার্কিন বাহিনীর সব সদস্য ইরাক ছাড়ার ঘোষণায় চার দিনের সাধারণ ছুটি
ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, দেশটিতে এখন মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের কোনো সেনা নেই। বুধবারের মধ্যে প্রত্যাহার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই শেষ মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে দেখছে। ইরানও এটিকে তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য বিজয় হিসেবে বিবেচনা করছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একসময় অঞ্চলটি ছেড়ে যাবে, কিন্তু ইরান ও তার প্রতিবেশীরা সেখানে থাকবে।
পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের উপপ্রধান আমির হায়াত মোঘাদ্দামও সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, মার্কিন ও বিদেশি সেনা চলে গেলে ইরাকে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িত থাকার অভিযোগ করে আসছে। সৌদি আরব বলেছে, তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলার উৎস ছিল ইরাকি ভূখণ্ড; বাগদাদ হামলার নিন্দা জানিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাকে থাকা তাদের শেষ সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর এই প্রত্যাহারকে ইরান ও তার মিত্ররা বিজয় হিসেবে দেখছে।
২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বর্তমানে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।
ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাকের কমান্ডার আবু মুজতবা আল-ইয়াসিরি সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ বলেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের ইতিহাসের একটি ‘কালো অধ্যায়ের’ সমাপ্তি উদযাপন করা হবে। তিনি বলেন, বিদেশি সেনা দিয়ে ইরাকের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা যায় না; এটি প্রতিরোধ ও জনগণের ইচ্ছার মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব।
৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাকের শেষ ঘাঁটিগুলো থেকে সেনা সরাবে যুক্তরাষ্ট্র
কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর ইরাকে আবার নগদ মার্কিন ডলার পাঠাতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাকের সরকারি মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি শনিবার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আলি ফালেহ আল-জায়েদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ডলারের নতুন একটি চালান ইরাকে পৌঁছাবে, তবে এর পরিমাণ বা নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।
আল-আবুদি বলেন, নতুন চালান ইরাকের অভ্যন্তরীণ বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে। ডলার বিতরণে নজরদারি জোরদার, বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার ঠেকানো এবং ইলেকট্রনিক লেনদেন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়ার পর এই সমঝোতা হয়েছে বলে তিনি জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরাক ধীরে ধীরে আরও ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র গত এপ্রিলে ইরাকে নগদ ডলার পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের একটি চালানও ছিল। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব কমাতে বাগদাদের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। নগদনির্ভর ইরাকি অর্থনীতিতে ডলারের চালান গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের একটি হিসাবে রাখা হয়।
কয়েক মাস বন্ধের পর ইরাকে নগদ ডলার পাঠানো আবার শুরু করতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র
বাগদাদ পুনরায় জানিয়েছে, ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সদর দপ্তর আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বন্ধ হয়ে যাবে। শনিবার ইরাকি নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের কার্যালয়ের পরিচালক আবদুল আমির আল-শাম্মারির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়। তিনি বলেন, ইরাকের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি সামরিক ঘাঁটি নেই এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভালো। তাঁর দাবি, পুরো ইরাকি ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ এখন ইরাকি সশস্ত্র বাহিনীর হাতে রয়েছে।
আইএস বা দায়েশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এই আন্তর্জাতিক জোট গঠিত হয়। তখন সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত। জোটে ফ্রান্স, স্পেনসহ বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন ও বাগদাদ ইরাকে জোটের সামরিক মিশন শেষ করতে দুই ধাপের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। প্রথম ধাপটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
ইরাক জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় আনবার প্রদেশের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে এবং ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরাকি বাহিনী। দ্বিতীয় ধাপ চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে; এ সময়ে ইরবিলের একটি বিমানঘাঁটি থেকে সিরিয়ায় জোটের সামরিক মিশন পরিচালিত হচ্ছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে গোয়েন্দা তথ্য, তথ্য আদান-প্রদান ও অস্ত্র কর্মসূচিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়টি থাকবে।
ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সদর দপ্তর ৩০ সেপ্টেম্বর বন্ধ হবে বলে জানিয়েছে বাগদাদ
ইরানি ফ্লাইট পরিচালনা বা সহায়তা করা কয়েকটি বিমানবন্দরকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছাড় চাইছে ইরাক। প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির কার্যালয় জানিয়েছে, মার্কিন অর্থ বিভাগের সাম্প্রতিক নীতি নিয়ে বাগদাদ ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চালাচ্ছে।
মার্কিন নীতিতে বলা হয়েছে, ইরানি ফ্লাইট পরিচালনা বা সেগুলোকে সহায়তা করা বিমানবন্দরগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। শনিবার প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, চিকিৎসা, পড়াশোনা, ধর্মীয় ভ্রমণ এবং সাধারণ নাগরিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মানবিক কারণে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করতে ছাড় বা অব্যাহতি চাওয়া হচ্ছে।
ইরাক সরকার বলেছে, তারা অঞ্চলের উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করছে এবং সংকটের ধারাবাহিকতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। বিবৃতিতে সব পক্ষকে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে এমন সমাধান খোঁজার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা বর্তমান সংকট ও সংঘাতের অবসান ঘটাবে এবং অঞ্চলের দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে।
মানবিক কারণে ইরানি ফ্লাইটে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় চাইছে ইরাক
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার হুমকির পর ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল কার্যত বন্ধ করেছে ইরাক। দেশটির তিনটি প্রধান বিমানবন্দরে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর গ্রাউন্ড সার্ভিস বন্ধ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বন্দ্বের মধ্যে এ পদক্ষেপ বাগদাদের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। এ বিষয়ে কোনো তারিখ বা বিমানবন্দরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
ইরানপন্থি রাজনীতিকেরা ইরাক সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপ উপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু সরকার সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই দেশের সঙ্গেই ইরাকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে। ইরাকের সংসদে ইরানপন্থি রাজনীতিকদের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। বাণিজ্য ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানিতেও ইরানের ওপর নির্ভরশীল ইরাক, বিশেষত বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ ইরানি গ্যাসনির্ভর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি বিমান সংস্থার সেবা বন্ধের জবাবে ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে, যা ইরাকের অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ ও জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে ইরাকের প্রধান আয়ের উৎস তেল রপ্তানি ইতিমধ্যেই ব্যাহত হচ্ছে। সংকটের দায় নিয়ে দেশটির ভেতরে মতভেদ রয়েছে; কেউ ইরানের নিয়ন্ত্রণকে দায়ী করছেন, অন্যরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করছেন।
মার্কিন চাপের মুখে ইরানি বিমান সংস্থার সেবা স্থগিত করল ইরাক
ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের ইরবিল বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এএফপি জানিয়েছে, বিমানবন্দরটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের সেনাসদস্যরা অবস্থান করছেন। বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এএফপির সাংবাদিকেরা বিমানবন্দরের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পাশাপাশি সেখান থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন। ঘটনার পর বিমানবন্দর এলাকায় ধূসর রঙের ধোঁয়া দেখা গেছে বলেও জানিয়েছেন এএফপির এক সাংবাদিক।
বিস্ফোরণে হতাহত, ক্ষয়ক্ষতি বা কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে উৎসে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ঘটনার পরিস্থিতি বা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও অতিরিক্ত বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
ইরবিল বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ, এলাকায় ধূসর ধোঁয়া দেখা গেছে
ইরাক ইসলামিক স্টেট বা আইএস গোষ্ঠীর হাজার হাজার সন্দেহভাজন সদস্যের বিরুদ্ধে বিচার ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করছে। এর অংশ হিসেবে সিরিয়া থেকে গত বছর ইরাকে স্থানান্তরিত ৪৭ ফরাসি নাগরিকের দলের ছয়জনের বিচার রোববার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার এএফপিকে এ তথ্য দেন ইরাকের এক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা। অভিযুক্ত ছয়জনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
ইরাকের কারাগারে আগে থেকেই বহু আইএস সন্দেহভাজন আটক রয়েছে। গত বছর থেকে প্রতিবেশী সিরিয়ার কারাগারগুলো থেকে আরও হাজার হাজার বন্দিকে ইরাকে নেওয়া হয়েছে। ৪৭ জনের ওই বড় দলে আদ্রিয়েন গিহালও রয়েছেন, যিনি ২০১৬ সালে ফ্রান্সের নিস শহরে হামলার দায় আইএসের পক্ষে স্বীকার করেছিলেন। ২০১৪ সালে আইএস সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে এবং ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও নারী-কিশোরীদের যৌন দাসত্বে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সহায়তায় ইরাক ২০১৭ সালে আইএসের বিরুদ্ধে বিজয় ঘোষণা করে। দুই বছর পর কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস সিরিয়ায় গোষ্ঠীটির সামরিক পরাজয় নিশ্চিত করে। ইরাকি আদালত সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলায় শত শত মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন; ২০১৯ সালে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১১ ফরাসির সাজা পরে যাবজ্জীবনে পরিবর্তিত হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব বিচারকে তড়িঘড়ি ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়াবিহীন বলে সমালোচনা করেছে।
সিরিয়া থেকে আনা ছয় ফরাসি আইএস সন্দেহভাজনের বিচার শুরু করছে ইরাক
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলায় ব্যবহৃত একটি ড্রোন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম জব্দ করেছে ইরাক। শনিবার ইরাকের নিরাপত্তাবিষয়ক গণমাধ্যম সেলের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান এ তথ্য জানান। ইরাকের ভূখণ্ডে পরিচালিত অভিযানে একটি যৌথ গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা টাস্কফোর্স সরঞ্জামটি খুঁজে পেয়ে জব্দ করে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে ফরেনসিক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইরাক থেকে উৎক্ষেপণ করা কয়েকটি ড্রোন রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের পাইপলাইনে আঘাত হানে। এতে কয়েকজন আহত হন এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করা হয়। এই পাইপলাইন বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ বহন করে এবং হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল রপ্তানির সুযোগ দেয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য উৎক্ষেপণস্থল হিসেবে ইরাকের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মাইসান প্রদেশকে শনাক্ত করেছে।
ইরানের অনুরোধে তদন্তে অংশ নেওয়া ও ফলাফল পর্যালোচনার অনুমোদন দিয়েছে ইরাক। গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের জন্য বাগদাদ সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে। সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অভিযান চালাচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য ইরান সীমান্তের কয়েকটি পথ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। বাগদাদের অনুরোধে সৌদি আরব আপাতত পাল্টা ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সৌদির পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন প্ল্যাটফর্ম জব্দ করেছে ইরাক
সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের সঙ্গে শালামচেহ সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে ইরাক। নিরাপত্তাবিষয়ক দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। সীমান্তটি কবে বন্ধ করা হয়েছে বা কতদিন বন্ধ থাকবে, তা উৎসের লেখায় উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বড় পরিসরে অভিযান চলছে। সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্তটি ড্রোন হামলার পর উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সৌদি আরব শুক্রবার জানায়, ইরাক থেকে উৎক্ষেপিত ড্রোন দিয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর সৌদি আরবের ওই গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সীমান্ত বন্ধ, তদন্ত বা পাইপলাইনের অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদনে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
সৌদিতে ড্রোন হামলার পর ইরানের সঙ্গে শালামচেহ সীমান্ত পারাপার বন্ধ করল ইরাক
ইরানের সঙ্গে শালামচেহ স্থলসীমান্ত বন্দর বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইরাক। রয়টার্স জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বন্দর বন্ধের নির্দেশ ঠিক কবে দেওয়া হয়েছে, তা উৎসে উল্লেখ করা হয়নি।
রয়টার্সকে দুটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ইরাক থেকে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর বন্দরটি বন্ধ করা হয়। হামলায় ক্ষয়ক্ষতি, হতাহত, দায়ী পক্ষ বা বন্দরটি কতদিন বন্ধ থাকবে—এসব বিষয়ে উৎসে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
শালামচেহ ইরান ও ইরাকের মধ্যে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলপথ। দুই দেশের বাণিজ্য এবং যাত্রী চলাচলেও বন্দরটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এর আগে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সীমান্ত এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুজন নিহত ও ১১ জন আহত হন বলে উৎসে বলা হয়েছে।
ড্রোন হামলার পর ইরানের সঙ্গে শালামচেহ সীমান্তবন্দর বন্ধ করল ইরাক
আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে তেল পরিবহন ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কায় হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে তেল রপ্তানির চেষ্টা করছে ইরাক। দেশটির প্রধান রাজস্বের উৎস তেল রপ্তানি সুরক্ষিত রাখতেই বাগদাদ এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরাক সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা মাজহার মুহাম্মদ সালেহ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরাকি নিউজ এজেন্সিকে বলেন, আঞ্চলিক সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তাঁর মতে, পাইপলাইন ও বিকল্প পথ খোঁজা রাষ্ট্রীয় কৌশলের অংশ; এর লক্ষ্য ভূরাজনৈতিক সংঘাত থেকে তেল নীতি ও বিপণনকে দূরে রাখা।
সালেহ বলেন, হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহনে বাধা দীর্ঘস্থায়ী হলে ইরাককে প্রতিবেশী দেশগুলোর ট্রানজিট অঞ্চলের ওপর বেশি নির্ভর করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর আগে ইরাক প্রতিদিন প্রায় ৩৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করত, যার ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। সরকারের লক্ষ্য বিকল্প পথে একই পরিমাণ রপ্তানি বজায় রাখা।
হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এড়িয়ে তেল রপ্তানির বিকল্প পথ খুঁজছে ইরাক
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৭৮ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।