আজারবাইজান থেকে তুরস্কগামী একটি সি-১৩০ সামরিক কার্গো বিমান মঙ্গলবার আজারবাইজান-জর্জিয়া সীমান্ত এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বিমানে ২০ জন তুর্কি সেনা সদস্য ছিলেন, তবে এখনো কোনো হতাহত বা জীবিত উদ্ধারের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার পর আজারবাইজান ও জর্জিয়ার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, ধ্বংসাবশেষে পৌঁছানোর কাজ চলছে। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও যোগাযোগ দপ্তরের প্রধান জর্জিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ও প্রধানমন্ত্রী আলি আসাদভ তুরস্ককে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং উদ্ধার অভিযানে সহায়তা দিচ্ছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আজারবাইজান-জর্জিয়া সীমান্তে তুর্কি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে
তুরস্কের ইস্তাম্বুল প্রসিকিউটর অফিস ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ৩৭ জন ইসরাইলি শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) জারি করা এ পরোয়ানায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল ক্যাটজ, জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গাভির ও সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামিরের নামও অন্তর্ভুক্ত। তুর্কি প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান ছিল পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক গণহত্যা। তদন্তের আওতায় রয়েছে গাজায় তুর্কি-ফিলিস্তিনি মৈত্রী হাসপাতালে ইসরাইলি বিমান হামলাও। গত বছর তুরস্ক আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা ইসরাইলবিরোধী গণহত্যা মামলায় অংশ নেয়। এদিকে, ইসরাইল এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের রাজনৈতিক প্রচারণা বলে মন্তব্য করেছে, যখন গাজায় নাজুক যুদ্ধবিরতি চলছে।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
তুর্কি রাজনৈতিক বিশ্লেষক লেভেন্ত গুলতেকিন দাবি করেছেন, ইসরাইল ও তার মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে দুর্বল করতে চায়। ইরাক ও সিরিয়াকে ভেঙে দেওয়ার পর এবার তাদের লক্ষ্য ইরান ও তুরস্ক। নিজের ইউটিউব ভিডিওতে গুলতেকিন বলেন, দখলদার ইসরাইল কোনো শক্তিশালী মুসলিম দেশকে এই অঞ্চলে দেখতে চায় না। বহু বছর ধরে তারা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শত্রুতা আবার বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এরদোগানকে প্রশংসা করা ও তুর্কি সেনাবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধির কথা বলা এক ধরনের কৌশল। গুলতেকিনের মতে, গাজায় শান্তি চুক্তি হলেও ইসরাইল তার মূল পরিকল্পনা—অঞ্চলের শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে খণ্ডবিখণ্ড করা—থেকে সরে আসেনি।
গুলতেকিন স্পষ্ট করে বলেন, ইরানে ইসরাইলের লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন নয়, বরং দেশটিকে তিন বা চারটি অংশে বিভক্ত করা। তিনি ইরানিদের দেশপ্রেমের প্রশংসা করে বলেন, এই অঞ্চলের জনগণ তাদের কাছ থেকে দেশপ্রেমের শিক্ষা নিতে পারে।
লেভেন্ত গুলতেকিন নামে এক তুর্কি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ‘দখলদার ইসরাইল এই অঞ্চলে শক্তিশালী কোনো মুসলিম রাষ্ট্র চায় না
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে টানা পাঁচ দিনের বৈঠকের পর যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। ৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত সংঘাতে রূপ নেয়। পাকিস্তান অভিযোগ করে যে আফগান তালেবানরা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে; তবে কাবুল সরকার তা অস্বীকার করেছে।
গত ৯ অক্টোবর পাকিস্তানের বিমান হামলায় কাবুলে টিটিপির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদসহ কয়েকজন নিহত হন। এর জবাবে আফগান বাহিনী পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকিতে হামলা চালায়, যা উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই সৃষ্টি করে। এতে ২০০ জনের বেশি আফগান সেনা ও ২৩ পাকিস্তানি সেনা নিহত হন।
১৫ অক্টোবর ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে আলোচনায় বসে দুই দেশ। দোহা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ইস্তাম্বুলে হওয়া বৈঠকে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করে কাতার ও তুরস্ক। অবশেষে ৩০ অক্টোবর দুই দেশ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে রাজি হয় এবং ৬ নভেম্বর নতুন বৈঠকে শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৮৩ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।