মরক্কোর আটলান্টিক উপকূলীয় সাফি প্রদেশে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২১ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন। রবিবার মরক্কো কর্তৃপক্ষ জানায়, আহতদের বেশিরভাগই ইতিমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। এক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে সাফির পুরাতন শহরের ৭০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ও দোকান প্লাবিত হয়, বহু গাড়ি ভেসে যায় এবং আশপাশের রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ে, ফলে বন্দর নগরীর বিভিন্ন রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটিকে এক “কালো দিন” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবহাওয়া দপ্তর মঙ্গলবার পর্যন্ত আরও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা সাত বছরের দীর্ঘ খরার পর মরক্কোতে জলবায়ুর বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য নতুন বন্যার আশঙ্কা করছে।
এই দুর্যোগ মরক্কোর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি ও নগর অবকাঠামোর দুর্বলতা নতুন করে সামনে এনেছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মরক্কোর সাফিতে আকস্মিক বন্যায় ২১ জন নিহত, সাত বছরের খরার পর প্রবল বৃষ্টি
মরক্কোর ঐতিহাসিক নগরী ফেজে বুধবার ভোরে পাশাপাশি থাকা চারতলা দুটি ভবন ধসে অন্তত ১৯ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, আল-মুস্তাকবাল এলাকায় অবস্থিত ভবন দুটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে ছিল এবং সেখানে আটটি পরিবার বসবাস করত। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা সংস্থা ও বেসামরিক সুরক্ষা বিভাগ দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসএনআরটি জানায়, ধসে পড়া ভবনগুলোতে বহুদিন ধরে ফাটলের চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল, কিন্তু ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিক মন্তব্য দেয়নি।
দুই মাস আগে ফেজে জীবনযাত্রার অবনতি ও জনসেবার ঘাটতি নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছিল। এই দুর্ঘটনা পুরনো নগরীগুলোর ভবন নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা নতুন করে সামনে এনেছে।
ফেজে জোড়া ভবন ধসে ১৯ নিহত, মরক্কোর নগর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৬০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।