যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় ইরানের বর্তমান প্রশাসন এখন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া চূড়ান্ত সময়সীমার মুখোমুখি। মিলার সতর্ক করে বলেন, ইরানকে এখন এমন একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হবে যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য, নতুবা আধুনিক ইতিহাসে নজিরবিহীন সামরিক শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
এই হুঁশিয়ারি এমন সময়ে এসেছে যখন দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না। মিলারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরানের সামনে এখন দুটি পথ—চুক্তি মেনে নেওয়া অথবা কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি নেওয়া।
এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কঠোরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ইরান চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলে আরও চাপ বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করছে।
চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলে ইরানকে সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিল যুক্তরাষ্ট্র
ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভিরের শেয়ার করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, সশস্ত্র ইসরাইলি রক্ষীরা গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে আটক সমাজকর্মীদের হাত বেঁধে মাটিতে কপাল ঠেকিয়ে রাখতে বাধ্য করছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দেশ এই আচরণকে মানবিক মর্যাদার লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়ে ইসরাইলি কূটনীতিকদের তলব করেছে।
অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও বেলজিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এই আচরণকে অবমাননাকর বলেছেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ভিডিওটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন এবং ক্ষমা চেয়েছেন। ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এছাড়া স্পেন, পোল্যান্ড, জার্মানি, গ্রিস, সাইপ্রাস, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও তুরস্কও এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
গাজা ফ্লোটিলা আটককাণ্ডে সাত দেশে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত তলব
গাজাভিমুখী ফ্লোটিলা থেকে আটক কর্মীদের প্রতি ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভিরের আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন ও জেফ মার্কলি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তারা বলেন, বেন-গ্যভিরের এই আচরণ ‘ঘৃণ্য ও অমানবিক’ এবং এটি ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলের সামগ্রিক আচরণের প্রতিফলন।
সিনেটর মার্কলি বলেন, গাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদ ও মরিয়া পরিবারগুলোর ছবি মানুষকে প্রতিবাদে উদ্বুদ্ধ করে। ভ্যান হোলেন প্রশ্ন তোলেন, ক্যামেরার সামনে এমন আচরণ করলে বেন-গ্যভির গোপনে আটক বন্দীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে পারেন। তিনি এই আচরণকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আগেই তার (বেন-গ্যভির) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত ছিল।
ডেমোক্র্যাট দলীয় এই দুই সিনেটর দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সক্রিয় এবং এর আগে গাজা অবরোধের পরিস্থিতি দেখতে রাফা সীমান্ত পরিদর্শন করেছিলেন।
গাজা ফ্লোটিলা আটক কর্মীদের প্রতি বেন-গ্যভিরের আচরণে মার্কিন সিনেটরদের তীব্র নিন্দা
ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে গাজাগামী সাহায্যকারী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ থেকে আটক সমাজকর্মীদের উপহাস করতে দেখা যায়। ভিডিওটিতে তাদের হাত বাঁধা ও হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে দেখা যায়, আর পেছনে বাজছিল ইসরাইলের জাতীয় সঙ্গীত। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইসরাইলে স্বাগতম’।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা থেকে ইসরাইলি বাহিনী ওই ফ্লোটিলা কর্মীদের আটক করে। আলজাজিরা সূত্রে জানা যায়, এই ভিডিও প্রকাশ ও মন্ত্রীর আচরণ আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, বিশেষ করে তার অতিডানপন্থি রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে।
ঘটনাটি গাজামুখী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ও ইসরাইলি সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে চলমান উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে, যদিও প্রতিবেদনে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা পরবর্তী পদক্ষেপের উল্লেখ নেই।
গাজাগামী ফ্লোটিলা কর্মীদের নিয়ে ভিডিও পোস্টে ইসরাইলি মন্ত্রীর উপহাস
ইসরাইলের অতিডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভিরের পোস্ট করা একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে অস্ট্রেলিয়া। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, ত্রাণবাহী নৌবহরের আটক কর্মীদের হাত বেঁধে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয়েছে এবং মন্ত্রী তাদের উত্যক্ত করছেন। এ ঘটনায় অস্ট্রেলিয়া অন্যান্য দেশের মতো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে বলেন, বেন-গাভিরের পোস্ট করা ছবিগুলো অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া তার কর্মকাণ্ড এবং আটককৃতদের প্রতি ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের অবমাননাকর আচরণের তীব্র নিন্দা জানায়। ওং আরও জানান, ফ্লোটিলায় অংশ নেওয়া ১১ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিকের মুক্তির জন্য অস্ট্রেলিয়া পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে এবং ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে।
তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান স্পষ্টভাবে জানানো হয়।
বেন-গাভিরের বিতর্কিত ভিডিও নিয়ে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল অস্ট্রেলিয়া
ভারতের ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যায় ছাড়িয়ে যাওয়ার পর আলোচনায় আসে। জনপ্রিয়তা বাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোদি সরকার সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয় এবং তাদের ‘CPJ_2029’ নামের এক্স অ্যাকাউন্ট ভারতে নিষিদ্ধ করে। প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ব্লক হওয়া অ্যাকাউন্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে জানান, তারা শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন একজন ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনার পর। তিনি তার এক কোটিরও বেশি অনুসারীকে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আহ্বান জানান।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সর্বভারতীয় প্রি-মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর থেকেই সিজেপি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছে। জুনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও এই ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই ঘটনার জেরে অন্তত দুজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।
ভারতের আইনি কাঠামো অনুযায়ী, সরকার জাতীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট অপসারণ বা অ্যাকাউন্ট ব্লক করার নির্দেশ দিতে পারে, যদিও এসব নির্দেশ সাধারণত প্রকাশ করা হয় না।
ইনস্টাগ্রামে বিজেপিকে ছাড়িয়ে সিজেপি, পরে মোদি সরকার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল সংস্থা মেটা প্ল্যাটফর্মস বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার কর্মীকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দিতে শুরু করেছে, যা প্রযুক্তি খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৮ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। ছাঁটাই কার্যক্রম শুরু হয় মেটার সিঙ্গাপুর অফিস থেকে, পরে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অফিসেও একই ধরনের ইমেইল পাঠানো হয়। এই দফায় মূলত ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রোডাক্ট টিম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বছরের শেষের দিকে আরও ছাঁটাই হতে পারে।
একই সময়ে মেটা প্রায় ৭ হাজার কর্মীকে নতুন এআই-চালিত টিমে পুনর্বণ্টন করেছে। এসব টিম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও এআইভিত্তিক পণ্য উন্নয়নের কাজে যুক্ত থাকবে। এটি মেটার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ, যেখানে ছোট ও দ্রুতগতির টিম গঠনের মাধ্যমে কাজের গতি ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে এআই অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার ও নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, যা মেটার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে এআইকে কেন্দ্রে স্থাপন করছে।
মেটা ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করে ৭ হাজারকে নতুন এআই টিমে পুনর্বণ্টন করেছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তার বর্তমান দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তিনি ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচনে লড়তে পারেন। ২০ মে ২০২৬ তারিখে ইউনাইটেড স্টেটস কোস্ট গার্ড একাডেমির সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরায়েলে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং একটি জনমত জরিপে তার জনপ্রিয়তা ৯৯ শতাংশ বলে উল্লেখ করেন, যদিও তিনি কোন জরিপের কথা বলেছেন তা স্পষ্ট নয়। ইউএসএ টুডে জানায়, এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
বর্তমানে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ১৯৯৬ সাল থেকে একাধিক মেয়াদে এই পদে রয়েছেন। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিত্র হিসেবে কাজ করছে, এবং ট্রাম্প শুরু থেকেই নেতানিয়াহুর দৃঢ় সমর্থক। নেতানিয়াহু সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি একজন “চমৎকার মানুষ” এবং “যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী”, যাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় না বলে তার মত।
এর আগে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আঘাত ও শান্তি চুক্তির অগ্রগতি সম্পর্কেও মন্তব্য করেছিলেন।
দায়িত্ব শেষে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে লড়ার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প
গত এক বছরে ভারতীয় রুপি বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে প্রায় ১০ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়েছে বলে ২১ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে পাকিস্তানি রুপির বিপরীতে রুপির দরপতন হয়েছে ১১.৮৬ শতাংশ এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে বিনিময় হার নেমে এসেছে ৯৬.৯৬-এ। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ কমে যাওয়াই এই পতনের মূল কারণ।
ভারতের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে রুপির ওপর চাপ বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা স্থবিরতা ও আন্তর্জাতিক বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীরা উদীয়মান বাজার থেকে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন, যা বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কমিয়ে দিচ্ছে। এতে রুপির মান আরও দুর্বল হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, রুপির অবমূল্যায়নে বিদেশে পড়াশোনা, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও আমদানি পণ্যের খরচ বাড়তে পারে। আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয় ও মূলধন প্রবাহের তুলনায় দ্রুত বাড়লে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি আরও গভীর হতে পারে।
তেলের দাম ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় টাকার বিপরীতে রুপি ১০ শতাংশ কমেছে
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফরে গেছেন ইরানের সঙ্গে চলমান মতপার্থক্য কমিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারকের পথে অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে। ইরানের সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ জানিয়েছে, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান কমানো।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানে বর্তমানে সামগ্রিক কাঠামো, বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় এবং আস্থা-নির্মাণমূলক পদক্ষেপ নিয়ে ইরানের প্রস্তাবিত খসড়া আলোচনা করা হচ্ছে। এই খসড়াটি দুই পক্ষের মধ্যে কিছু ব্যবধান কমাতে সহায়তা করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আরও অগ্রগতি অর্জনের জন্য ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে “যুদ্ধের প্রলোভন” বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আইএসএনএ জানায়, মুনিরের এই সফরের উদ্দেশ্য অবশিষ্ট মতপার্থক্যগুলো কমিয়ে এনে সমঝোতা স্মারকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছানো।
ইরানের সঙ্গে মতপার্থক্য কমাতে তেহরান সফরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে গত মঙ্গলবার ইরান যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ হয়েছে বলে সিএনএনকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ট্রাম্প এর আগে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ নামে পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেন। এরপর হোয়াইট হাউস ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক রূপরেখা তৈরিতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে।
এই বিলম্বে নেতানিয়াহু অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ট্রাম্পকে জানান, হামলা স্থগিত করা একটি ভুল সিদ্ধান্ত। ইসরাইলি সূত্র জানায়, প্রায় এক ঘণ্টার ফোনালাপে নেতানিয়াহু সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় শুরু করার জন্য চাপ দেন। তবে ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান ধরে রেখে বলেন, ইরান ইস্যুটি এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফরে যাচ্ছেন, যদিও পারমাণবিক কর্মসূচি ও অবরুদ্ধ তহবিল নিয়ে মূল মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মতবিরোধ, উপসাগরীয় ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতা জোরদার
কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে দুটি বিমান ভূপাতিত করে চারজনকে হত্যার অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিহতদের মধ্যে তিনজন ছিলেন মার্কিন নাগরিক। মিয়ামির ফ্রিডম টাওয়ারে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চে এই অভিযোগের ঘোষণা দেন। কাস্ত্রো ও আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে কিউবান-আমেরিকান সংগঠন ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ-এর দুটি বিমান গুলি করে নামানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিটি হত্যার অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এই অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তথ্য বিকৃত করার অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, কিউবা তাদের আকাশসীমায় আত্মরক্ষার্থে বৈধ পদক্ষেপ নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি অবরোধের কারণে দেশটিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের কিউবার ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ। তবে কাস্ত্রোর বয়স ও অবসরপ্রাপ্ত অবস্থার কারণে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা বা সরাসরি সংঘাতের সম্ভাবনা কম।
১৯৯৬ সালের বিমান ভূপাতিতের ঘটনায় রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের সব মাদরাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। রাজ্য মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তরের অধীনস্থ সব স্বীকৃত, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ও অনুদানবিহীন মাদরাসায় সকালের সমাবেশে এই গান গাওয়া বাধ্যতামূলক। এর আগে গত সপ্তাহে একই নির্দেশনা দিয়ে রাজ্যের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর আগে গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনলাইনে জানান, রাজ্য সরকার স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অধীন সব স্কুলে ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। এই সিদ্ধান্ত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ফেব্রুয়ারি মাসের ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-এর সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছিল।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ স্লোগান, যা সাম্প্রতিক রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। তামিলনাড়ু ও কেরালার অনুষ্ঠানগুলোতেও গানটি নিয়ে বিতর্ক দেখা গেছে।
পশ্চিমবঙ্গে সব মাদরাসায় সকালের সমাবেশে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক
গাজামুখী সাহায্যকারী নৌবহরের আটক কর্মীদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে এই আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখেও ইসরাইলের অতি ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। বেন-গভিরের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ইসরাইলের পতাকা নেড়ে ফ্লোটিলা সমর্থকদের উপহাস করছেন, আর পেছনে জাতীয় সংগীত বাজছে। ভিডিওতে এক নারী অধিকারকর্মীকে জোরপূর্বক মাটিতে ফেলে দেওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়।
আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা থেকে কর্মীদের আটক করার ঘটনায় বিভিন্ন দেশের সরকার ইসরাইলের সমালোচনা করেছে। কিন্তু বেন-গভির এই নির্যাতনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সারকে সমালোচনা করেন, যিনি বলেছিলেন ভিডিওটি ইসরাইলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বেন-গভির লেখেন, ইসরাইল এখন আর দুর্বল রাষ্ট্র নয় এবং যারা হামাসের সমর্থনে আসবে, তাদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার পাল্টা মন্তব্যে বলেন, বেন-গভির ইসরাইলের প্রতিনিধিত্বকারী মুখ নন। ঘটনাটি ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন ও আন্তর্জাতিক সমালোচনা আরও বাড়িয়েছে।
গাজা ফ্লোটিলা নির্যাতন ভিডিওতে বিশ্ব ক্ষোভের পরও বেন-গভিরের অবস্থান অপরিবর্তিত
ইসরায়েলের ১৯ বছরের গাজা অবরোধ ভাঙার প্রচেষ্টায় অংশ নেওয়া চার কর্মীর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ অভিযোগ করেছে যে তারা হামাসকে সহায়তা করছে, যদিও কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন পপুলার কনফারেন্স ফর প্যালেস্টিনিয়ানস অ্যাব্রড (পিসিপিএ) এবং সামিদুনের সদস্য মোহাম্মদ খতিব, জলদিয়া আবুবাকরা, সাইফ আবু কেশেক এবং হিশাম আবু মাহফুজ। এই পদক্ষেপে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ হতে পারে এবং মার্কিন নাগরিকদের তাদের সঙ্গে ব্যবসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা তাদের বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ সীমিত করতে পারে।
অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নিষেধাজ্ঞাকে গাজার প্রতি মানবিক সংহতিকে অপরাধ হিসেবে দেখানোর প্রচেষ্টা বলে নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠকরা বলেছেন, ফ্লোটিলাগুলো ছিল শান্তিপূর্ণ মানবিক সহায়তা মিশন, যা ইসরায়েলের ফিলিস্তিনিদের ওপর আরোপিত সম্মিলিত শাস্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পরিচালিত হয়েছিল। তারা অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় সর্বশেষ ফ্লোটিলাটি আটক করে ৪৬টিরও বেশি দেশের শত শত কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। তুরস্ক, স্পেন ও ব্রাজিলসহ কয়েকটি দেশ এই আটক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে।
২০০৭ সাল থেকে চলমান অবরোধের কারণে গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কর্মীরা বিকল্প কৌশলে তাদের মানবিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
গাজা ফ্লোটিলা কর্মীদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, হামাস সহায়তার অভিযোগ
প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর ইরানের শেয়ারবাজার এই সপ্তাহে সীমিত আকারে পুনরায় চালু হয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার তেহরান স্টক এক্সচেঞ্জে নিয়ন্ত্রিত দুই দিনের লেনদেনের মাধ্যমে কিছু তারল্য সৃষ্টি হলেও প্রায় ৩৬ শতাংশ কোম্পানি, বিশেষ করে বড় পেট্রোকেমিক্যাল ও ইস্পাত প্রতিষ্ঠানগুলো, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাব থেকে শেয়ারহোল্ডারদের রক্ষার জন্য অফলাইনে ছিল। প্রতিদিন লেনদেনের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয় এবং বাজারে অস্থিরতা রোধে শেয়ারের দাম ওঠানামা তিন শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
কর্তৃপক্ষ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করলেও অর্থনৈতিক সংকট গভীর রয়ে গেছে। অর্থনীতিবিদ মেহদি হাঘবালি জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে কোম্পানিগুলো ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করতে পারছে না, আর ছোট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ও ঋণনির্ভর ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছে। এপ্রিলের শেষ দিকে মুদ্রাস্ফীতি ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায় এবং রিয়ালের অবমূল্যায়নে রপ্তানিমুখী কোম্পানিগুলো তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তবে বাণিজ্য বিঘ্ন ও মূল্যবৃদ্ধি প্রকৃত মূল্য সৃষ্টিতে বাধা দিচ্ছে।
নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে সরকারের আর্থিক বিকল্প সীমিত। হাঘবালি বলেন, আমদানি সীমিতকরণ বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি ইরানের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারে।
যুদ্ধ ও মুদ্রাস্ফীতির চাপে তিন মাস পর ইরানের শেয়ারবাজার পুনরায় চালু
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এক সপ্তাহ আগে এক ফেডারেল বিচারক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অস্থায়ী স্থগিতাদেশ দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, গাজায় ইসরাইলের ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধ’ নিয়ে সমালোচনা করায় আলবানিজকে শাস্তি দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। ফ্রান্সেসকা আলবানিজ দীর্ঘদিন ধরে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করে আসছেন এবং তার বক্তব্য ও প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আদালতের স্থগিতাদেশের পর জাতিসংঘ দূত আলবানিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র
ভারত তার জ্বালানি সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করতে আগ্রহ দেখানোর পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে জ্বালানি রপ্তানি বাড়াচ্ছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারত বৈচিত্র্যকরণে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে, যার অর্থ আরও বেশি মার্কিন জ্বালানি কেনা। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের এই আগ্রহে সন্তুষ্ট।
রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য আসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আসন্ন ভারত সফরের ঠিক আগে। ধারণা করা হচ্ছে, সফরে জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য সম্পর্কের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এই প্রেক্ষাপটে রুবিওর সফরে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে পারে।
রুবিওর সফরের আগে ভারতে জ্বালানি রপ্তানি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে ভারতের ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার নবান্নে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই ঘোষণা দেন। ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর যারা ভারতে প্রবেশ করবে, তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হবে। এদের প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ আটক করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে এবং পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে পাঠানো হবে।
অধিকারী জানান, এই ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সরকার বাস্তবায়ন করেনি। তিনি বলেন, সিএএ নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর নাগরিকত্বের সুযোগ দেয়, তবে নির্ধারিত সময়সীমার পর প্রবেশকারীরা এই সুবিধা পাবেন না।
তিনি আরও জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে এবং সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারে ২৭ কিলোমিটার এলাকায় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সিএএ কার্যকর করবে পশ্চিমবঙ্গ, ২০২৪ সালের পর প্রবেশকারীরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী গণ্য হবে
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ও ইনস্টিটিউট ফর পলিসি, গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে এবং তারা বিভিন্ন গণআন্দোলন ও সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে নিজেদের দাবি ও প্রত্যাশা প্রকাশ করছে। বুধবার নেপালের কাঠমান্ডু ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের পলিসি ল্যাব আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও গভর্নেন্সের প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিক্ষকরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী অধ্যাপক ড. লাল বাহাদুর পুন এবং প্রধান অতিথি ছিলেন ড. রাম নারায়ণ শ্রেষ্ঠ। আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও এর সুফল সমভাবে বণ্টিত হচ্ছে না; সুশাসনের ঘাটতি, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করছে।
বক্তারা সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
দক্ষিণ এশিয়ায় তরুণদের অসন্তোষ ও সুশাসনের ঘাটতি নিয়ে আলাউদ্দীন মোহাম্মদের বক্তব্য
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৫৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।