আন্তর্জাতিকভাবে অস্বীকৃত সোমালিল্যান্ড অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ফরাসি সংবাদপত্র ল্য মোঁদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছে অবস্থিত বারবেরা বিমানবন্দরকে সামরিক ঘাঁটিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আবুধাবি, তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের স্বার্থেই এই প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।
সোমালিল্যান্ডের রাজধানী হারগেইসা। দেশটি এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত এবং এর উপকূলরেখা প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি অবস্থিত বারবেরা বন্দরটি এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকেই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর নজরে রয়েছে। আরব ও মুসলিম বিশ্বের বিরোধিতা সত্ত্বেও ইসরাইল সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইল ও সোমালিল্যান্ডের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বাড়ছে। উভয় পক্ষের সামরিক ও গোয়েন্দা প্রতিনিধিদের নিয়মিত সফর চলছে, সোমালিল্যান্ডের সেনা কর্মকর্তারা তেল আবিবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং ইসরাইলি দলগুলো বারবেরা ঘাঁটি পরিদর্শন করছে।
ল্য মোঁদের প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে সোমালিল্যান্ডে ঘাঁটি বানাচ্ছে ইউএই
ইসরাইলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি অনুমোদন করেছে সোমালিল্যান্ডের মন্ত্রিসভা। প্রেসিডেন্ট আব্দিরাহমান মোহামেদ আব্দুল্লাহির সাম্প্রতিক ইসরাইল সফরে ঘোষিত এই চুক্তি মন্ত্রিসভার সর্বসম্মত অনুমোদনের মাধ্যমে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল। জুন মাসে অনুষ্ঠিত ওই সফরের পর মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি পাস হয়।
প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে উঠবে। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে সোমালিল্যান্ড, তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া তাদের জন্য দীর্ঘদিন কঠিন ছিল। গত বছর প্রথম দেশ হিসেবে ইসরাইল সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান সুসংহত করার লক্ষ্য, যেখানে তারা ইরান ও হুতি বিদ্রোহীদের প্রভাব মোকাবিলা করতে চায়।
ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তা ও বিনিয়োগে সহযোগিতা চুক্তি অনুমোদন করল সোমালিল্যান্ড
গত ২৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন, যা সঙ্গে সঙ্গে সোমালিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন সতর্ক করে জানায়, সোমালিল্যান্ডে কোনো ইসরায়েলি উপস্থিতি থাকলে তা সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’আর এই মাসে সোমালিল্যান্ড সফর করেন এবং কৌশলগত বন্দর শহর বেরবেরা পরিদর্শন করে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। সোমালিল্যান্ড কর্মকর্তারা ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখেন, যা হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকার ঠিক বিপরীতে ইসরায়েলকে অবস্থান দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল নতুন অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। সোমালিল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান হুথিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা ও সামরিক অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সোমালিল্যান্ড, যা কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং সোমালিয়ার চাপের মুখে রয়েছে, ইসরায়েলের স্বীকৃতিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। তবে সোমালিয়া সরকার পুনরায় আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, স্বীকৃতি কেবল মোগাদিশুর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই নতুন সম্পর্কের দিকনির্দেশ এখনো অনিশ্চিত এবং উভয় পক্ষই এর পরিণতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিয়ে ইসরায়েল হুথি হুমকি ও সোমালিয়ার ক্ষোভের মুখে
ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা প্রথম কোনো দেশের পক্ষ থেকে এমন পদক্ষেপ। শুক্রবার এই স্বীকৃতির পাশাপাশি দুই পক্ষ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। সোমালিল্যান্ডের নেতা আবদিরহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি ইসরাইলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে একে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয় সোমালিল্যান্ড, তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য তারা কয়েক দশক ধরে অপেক্ষা করছিল। গত বছর আবদুল্লাহি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই স্বীকৃতি অর্জন ছিল তার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। ইসরাইলের ঘোষণার পর সোমালিয়ার সরকার জরুরি বৈঠকে বসে এবং আরও কয়েকটি দেশ ইসরাইলের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানায়।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, এই পদক্ষেপ আব্রাহাম চুক্তির চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট একে কৌশলগত অংশীদারত্বের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের প্রস্তুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে কূটনৈতিক চুক্তি করল ইসরাইল
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ২০৮ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।