ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে সোমবার একটি যাত্রীবাহী বাস গভীর খাদে পড়ে অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আমহারা অঞ্চলের ডেসি শহর থেকে রাজধানী আদ্দিস আবাবাগামী বাসটি প্রায় ১০০ মিটার গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় বহু যাত্রী আহত হন, যাদের মধ্যে কেউ গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল দেশ ইথিওপিয়ায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, কারণ অনেক সড়কের অবস্থা নাজুক। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ ইথিওপিয়ায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়া গাড়ি নদীতে পড়ে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যান।
সর্বশেষ দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি, তবে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে বাস খাদে পড়ে অন্তত ২৮ জন নিহত
মো. সাখাওয়াত হোসেনের লেখা এই ভ্রমণকাহিনিতে ছয় দিনের ইথিওপিয়া সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। আদ্দিস আবাবার বোলি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর লেখক রাজধানীর আধুনিকতা ও ঐতিহাসিক বৈচিত্র্যের মেলবন্ধন অনুভব করেন। তিনি ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ইথিওপিয়ায় প্রাচীন মানব-অবশেষ ‘লুসি’ দেখেন এবং এন্টোটো পাহাড়ে উঠে শহরের মনোরম দৃশ্য ও এন্টোটো মেরি গির্জার নীরব আধ্যাত্মিকতা উপভোগ করেন।
এরপর তিনি আওয়াশ ন্যাশনাল পার্কের সাভানার রুক্ষ সৌন্দর্য, লালিবেলার পাথর কাটা গির্জা, বাহির দারের তানা হ্রদ ও নীল নদের উৎস, এবং সিমিয়েন পর্বতমালার মহিমা প্রত্যক্ষ করেন। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই পর্বতমালায় বিরল প্রাণী যেমন গেলাদা বাবুন ও ইথিওপিয়ান উলফ দেখা যায়।
ভ্রমণ শেষে লেখক অনুভব করেন, ইথিওপিয়া কেবল একটি দেশ নয়, বরং ইতিহাস, প্রকৃতি ও মানুষের মহত্ত্বের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, যেখানে প্রতিটি স্থানই নতুন গল্প বলে।
ছয় দিনের ইথিওপিয়া ভ্রমণে ইতিহাস ও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের অন্বেষণ
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আফার অঞ্চলে একটি ট্রাক উল্টে কমপক্ষে ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত এবং ৬৫ জন আহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্ঘটনাটি প্রতিবেশী জিবুতি থেকে কয়েকশ কিলোমিটার পশ্চিমে সেমেরা এলাকায় ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতরা মানব পাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে বিপজ্জনক রুটে যাত্রা করেছিলেন এবং তারা এই পথের ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। আহতদের ডাউটি রেফারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং আঞ্চলিক সরকার নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
‘হর্ন অব আফ্রিকা’ অঞ্চলের দেশগুলো—সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া ও জিবুতি—থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজের সন্ধানে হাজার হাজার মানুষ এই রুট ব্যবহার করে। অধিকাংশ অভিবাসনপ্রত্যাশী জিবুতি থেকে ইয়েমেন হয়ে সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশে যান। তবে ইথিওপীয় অভিবাসীদের জিবুতি যাওয়ার রুটটি মানব পাচারকারীদের কারণে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে বিবেচিত।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই রুটে ৮৯০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন পথ হিসেবে বিবেচিত।
ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে ট্রাক দুর্ঘটনায় ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত, আহত ৬৫ জন
ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলের হায়লি গুব্বি আগ্নেয়গিরি প্রায় ১২ হাজার বছর পর প্রথমবারের মতো অগ্ন্যুৎপাত করেছে। অগ্ন্যুৎপাত থেকে ১৪ কিলোমিটার উচ্চতায় ছাইয়ের মেঘ উঠে লোহিত সাগর পেরিয়ে ইয়েমেন, ওমান, ভারত ও উত্তর পাকিস্তান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় আফদেরা শহর ছাইয়ে ঢেকে যায় এবং আশপাশে মাঝারি কম্পন অনুভূত হয়। স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশন জানিয়েছে, হোলোসিন যুগে এই আগ্নেয়গিরিতে এর আগে কোনো অগ্ন্যুৎপাতের রেকর্ড নেই। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে পশুপালকদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভলক্যানিক অ্যাশ অয়াডভাইজারি সেন্টার (ভিএএসি) জানিয়েছে, ছাইয়ের মেঘ ভারতের আকাশে প্রবেশ করে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচলে ব্যাঘাত ঘটিয়েছিল, যা এখন স্বাভাবিক হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিফট ভ্যালির এই অঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয়।
১২ হাজার বছর পর ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ছাই ছড়াল এশিয়া ও আফ্রিকায়
ইথিওপিয়া প্রথমবারের মতো মারবুর্গ ভাইরাস রোগের প্রাদুর্ভাব নিশ্চিত করেছে, যেখানে দক্ষিণের ওমো অঞ্চলে নয়জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেসাস ইথিওপিয়ার দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, দেশটি প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। ইবোলা পরিবারের সদস্য এই ভাইরাসটি মারাত্মক হেমোরেজিক জ্বর সৃষ্টি করে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল বা দূষিত বস্তু স্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (সিডিসি) জানায়, এর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকা নেই; চিকিৎসা সহায়ক পরিচর্যার ওপর নির্ভর করে। দক্ষিণ সুদানের সীমান্তের কাছে প্রাদুর্ভাব হওয়ায় আঞ্চলিক উদ্বেগ বেড়েছে। ডব্লিউএইচও ও আফ্রিকা সিডিসি আক্রান্তদের চিকিৎসা, সংস্পর্শ শনাক্তকরণ ও সীমান্ত পর্যবেক্ষণে ইথিওপিয়াকে সহায়তা করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনগণকে শান্ত থাকতে, নির্দেশনা মানতে এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে আহ্বান জানিয়েছে।
ইথিওপিয়ায় প্রথম মারবুর্গ ভাইরাস প্রাদুর্ভাব, নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দিচ্ছে ডব্লিউএইচও
ইথিওপিয়ার আরের্তি শহরে ভার্জিন মেরি উৎসব চলাকালীন গির্জার অস্থায়ী কাঠামো ধসে অন্তত ৩৬ জন নিহত ও ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে। অনেকেই গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, কয়েকজনকে রাজধানীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা থাকতে পারেন। ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে কাঠের বিম ছড়িয়ে রয়েছে এবং ভিড় জমেছে। সরকার শোক প্রকাশ করে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধির দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে দেশটিতে এ ধরনের নির্মাণ দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে, যদিও ইথিওপিয়া বিশ্বের প্রাচীন খ্রিস্টান সম্প্রদায়গুলোর একটি।
ইথিওপিয়ার আরের্তি শহরে ভার্জিন মেরি উৎসবে গির্জার অস্থায়ী কাঠামো ধসে নিহত অন্তত ৩৬, আহত ২০০-এর বেশি
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৪৮ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।