তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠলে জার্মানির অর্থনীতি বছরে ২০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রগনোস। জার্মানির ব্যবসাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম হ্যান্ডেলসব্ল্যাটের জন্য প্রস্তুত করা এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকা প্রতিটি দিন ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো ক্ষতি করে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত জুনের শেষ দুই সপ্তাহের তাপপ্রবাহে জার্মানির প্রায় ৬ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ইউরো ক্ষতি হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতি বছর তিন থেকে চারটি অনুরূপ তাপপ্রবাহ দেখা দিলে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি হতে পারে। উৎপাদন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, এরপর স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা, খুচরা বাণিজ্য, নির্মাণ এবং খাদ্যশিল্পের ওপর প্রভাব পড়ছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, তাদের হিসাবের মধ্যে বিদ্যুতের উচ্চমূল্য, যন্ত্রপাতির বিকল হওয়া, সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এসব বিবেচনায় নিলে প্রকৃত ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে।
তীব্র তাপপ্রবাহে জার্মানির বার্ষিক ক্ষতি ২০ বিলিয়ন ইউরো ছাড়াতে পারে
জার্মানি ঘোষণা করেছে যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও শেনজেন এলাকার বাইরের ৬২টি দেশের নাগরিকরা ২০২৬ সালেও ভিসামুক্তভাবে দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন। জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই দেশগুলোর নাগরিকরা ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত জার্মানিতে ভিসা ছাড়া অবস্থান করতে পারবেন। তারা পর্যটন, ব্যবসায়িক বৈঠক বা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে যেতে পারবেন, তবে এই সময়ে কাজ করার অনুমতি থাকবে না।
ভিসামুক্ত দেশের তালিকায় রয়েছে জার্মানির ঘনিষ্ঠ কয়েকটি দেশ, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইসরাইল। কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকরা জার্মানিতে পৌঁছানোর পর সেখান থেকেই নির্দিষ্ট ধরনের বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন, যা দেশটির প্রচলিত অভিবাসন আইনের আওতায় হবে।
এই নীতির ধারাবাহিকতা জার্মানির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ সহজীকরণের প্রচেষ্টার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৬ সালেও ৬২টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার বহাল রাখল জার্মানি
জার্মানিতে তীব্র গরমে ৫ হাজার ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার বেশিরভাগই ঘটেছে ২০২৬ সালের জুন মাসে। রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, দেশটিতে সাপ্তাহিক গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের অনেক বেশি ছিল। কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুন পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ মাস ছিল এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, স্থলভাগ ও মহাসাগরজুড়ে ক্রমাগত উষ্ণায়নের ফলে এই অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক গড় ভূপৃষ্ঠের বায়ুর তাপমাত্রা ১৬.৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা ১৯৯১–২০২০ সালের জুন মাসের গড়ের চেয়ে তিন ডিগ্রি বেশি। তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়ে স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে।
ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন ও নেদারল্যান্ডসে ২০–২৮ জুনের মধ্যে অতিরিক্ত ৪,৭০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আইবেরিয়া ও ফ্রান্সে দাবানল ও খরা পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করেছে, কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় প্রায় ১.৪ ডিগ্রি বেড়েছে এবং তা আরও বাড়তে পারে।
পশ্চিম ইউরোপে রেকর্ড গরমে জার্মানিতে ৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু
জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বতন্ত্র ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুষদ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি ‘ক্যাম্পাস অব রিলিজিয়নস’-এর অংশ হিসেবে ২০২৭ সালে উদ্বোধনের লক্ষ্যে নির্মাণাধীন, যেখানে ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট ও ইসলামিক থিওলজির বিভাগগুলো একই স্থানে থাকবে। পশ্চিম জার্মানির মুনস্টার শহরে ২০২১ সাল থেকে এই ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ চলছে বলে ডয়েচ ভেলে জানিয়েছে।
নবগঠিত অনুষদের প্রতিষ্ঠাতা ডিন মোহানাদ খোরশিদে একে ইতিহাসের অনন্য অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নতুন অনুষদ ইসলামের উদার ও আলোকিত ব্যাখ্যা প্রচারে কাজ করবে এবং নিজস্বভাবে পিএইচডি ও গবেষণা ডিগ্রি প্রদান করতে পারবে। অনুষদের নীতিমালায় ইসলাম ও গণতন্ত্রের সামঞ্জস্য, কোরআনের সমকালীন ব্যাখ্যা এবং আন্তধর্মীয় সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি চরমপন্থা ও ইহুদি-বিদ্বেষের বিরোধিতাও উল্লেখ রয়েছে।
২০২৭ সাল থেকে ‘ইসলাম ও সমাজকর্ম’ নামে একটি স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার লক্ষ্য যুবসেবা, হাসপাতাল ও প্রবীণ সেবায় দক্ষ জনবল তৈরি করা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগকে ইউরোপজুড়ে একাডেমিক ধর্মতত্ত্বের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছে।
২০২৭ সালে ইউরোপের প্রথম ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুষদ চালু করবে মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়
জার্মানির বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হারের সময় জাতীয় দলের চার খেলোয়াড়—লিওন গোরেৎজকা, ওয়ালডেমার আন্তন, নাথানিয়েল ব্রাউন ও মালিক থিয়াও—পেনাল্টি নিতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। অধিনায়ক জোশুয়া কিমিখ নাকি গোরেৎজকাকে দু’বার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তিনি রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত ডিফেন্ডার জনাথন তাহ দায়িত্ব নেন, কিন্তু তার শট অনেক ওপরে চলে যায়। এরপর হোসে কানালে গোল করে প্যারাগুয়েকে ৪-৩ ব্যবধানে জিতিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত জার্মান ফুটবল ফেডারেশন, কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো খেলোয়াড়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি। টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর দলের মানসিক প্রস্তুতি, নেতৃত্ব ও চাপ সামলানোর সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিতর্ক জার্মান ফুটবলে আত্মবিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার আহ্বান তুলতে পারে।
প্যারাগুয়ের কাছে হারের সময় চার জার্মান খেলোয়াড়ের পেনাল্টি নিতে অস্বীকৃতি, দাবি বিল্ডের
ইউরোপজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু জার্মানির অধিকাংশ বাড়িতে এখনও এসি নেই। যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ বাসায় এসি রয়েছে, ইউরোপে গড়ে এই হার মাত্র ২০ শতাংশ এবং জার্মানিতে তা ৬ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুনে ইউরোপের তাপমাত্রা বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের তুলনায় ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, যা বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জার্মানির আবাসন কাঠামো মূলত শীতের তাপ ধরে রাখার জন্য তৈরি, ফলে গরমে ঠান্ডা রাখার উপযোগী নয়। পুরোনো ভবনে এসি বসানো ব্যয়বহুল ও জটিল, আর ঐতিহাসিক শহরে স্থাপত্য সংরক্ষণ আইন বড় বাধা। প্রায় অর্ধেক মানুষ ভাড়া বাসায় থাকায় মালিকের অনুমতি ছাড়া এসি স্থাপন সম্ভব নয়। উচ্চ বিদ্যুৎমূল্যও বড় প্রতিবন্ধকতা, যেখানে ৩৮ শতাংশ ইউরোপীয় জানিয়েছেন তারা গরমে ঘর ঠান্ডা রাখার খরচ বহন করতে পারেন না।
পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে ইউরোপে প্রাকৃতিক বায়ু চলাচল, তাপ প্রতিরোধী নির্মাণসামগ্রী, সবুজ ছাদ, জেলা ভিত্তিক কুলিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর আধুনিক এসির মতো বিকল্প প্রযুক্তির দিকে গুরুত্ব বাড়ছে।
তীব্র ইউরোপীয় গরমেও জার্মানিতে এসি ব্যবহারে অনীহা
জার্মানির প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগলসম্যান স্বীকার করেছেন যে দলটি আর বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ সারির মধ্যে নেই। কুরাসাওকে ৭–১ গোলে হারানোর পর শেষ ৩২-এর ম্যাচে প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বোস্টনের ফক্সবরো স্টেডিয়ামে এই পরাজয়কে জার্মান ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম বড় পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে। নাগলসম্যান বলেন, টানা তৃতীয়বারের মতো টুর্নামেন্ট থেকে আগেভাগে ছিটকে যাওয়া প্রমাণ করে যে জার্মানি আর প্রথম সারির দল নয়।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি অতিরিক্ত সময়ে জোনাথান টাহর হেডার বাতিলের ভিএআর সিদ্ধান্তকে ‘একটি রসিকতা’ বলে আখ্যা দেন এবং রেফারিংয়ের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। বরখাস্তের গুঞ্জন থাকা সত্ত্বেও নাগলসম্যান জানিয়েছেন, ডিএফবি চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন এবং পরিস্থিতি থেকে পালাবেন না।
তিনি আরও বলেন, জার্মানিকে পুরোনো ফর্মে ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর জার্মানিকে শীর্ষ দল মানছেন না নাগলসম্যান
জার্মানির স্টাড শহরে গুলির ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে, তবে হামলার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি ইয়ুথ সেন্টারের কাছে এই গুলির ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়ভাবে বড় ধরনের পুলিশি অভিযানের সূচনা করে।
স্টাড পুলিশ হোয়াটসঅ্যাপে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, ড্যাঙ্কারস্ট্রাসে এলাকায় অভিযান চলছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলতে ও জরুরি সেবা কর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার জনসংখ্যার এই শহরটি হামবুর্গের পশ্চিমে অবস্থিত।
পুলিশ এখনো নিহতদের পরিচয় বা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি এবং হামলার কারণ অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে।
জার্মানির স্টাডে গুলিতে ৫ নিহত, সন্দেহভাজন আটক, উদ্দেশ্য অজানা
জার্মানির পূর্বাঞ্চলে জনসংখ্যা হ্রাস দ্রুত বাড়ছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনকে গভীর করছে। স্যাক্সোনি-আনহাল্টের ওসচের্সলেবেন শহরে জনসংখ্যা ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তরুণ ও শিক্ষিতদের পশ্চিমে চলে যাওয়া এবং জন্মহার কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসনের কারণে সামগ্রিকভাবে জার্মানির জনসংখ্যা সামান্য বেড়েছে, কিন্তু পূর্বাঞ্চলের গ্রামীণ এলাকাগুলো ক্রমেই জনশূন্য হয়ে পড়ছে। গবেষকরা সতর্ক করেছেন, ২০৭০ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, বিশেষ করে পূর্ব জার্মানিতে।
এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে উগ্র ডানপন্থি ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি) দল। গোয়েন্দা সংস্থা একে উগ্রবাদী হিসেবে চিহ্নিত করলেও, স্যাক্সোনি-আনহাল্টে আসন্ন নির্বাচনে দলটি প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসতে পারে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, জনসংখ্যা হ্রাস ও অর্থনৈতিক স্থবিরতা এএফডি-র প্রতি সমর্থন বাড়াচ্ছে, যদিও অভিবাসনই শ্রমঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জন্মহার কমে যাওয়া ও তরুণদের স্থানান্তর জার্মানির শ্রমবাজার ও সামাজিক ভারসাম্যের জন্য বড় হুমকি।
পূর্ব জার্মানির জনসংখ্যা হ্রাসে উগ্র ডানপন্থিদের উত্থান ও রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ছে
লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সাম্প্রতিক চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল বলেছেন, এই চুক্তি দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার প্রশংসা করেন এবং বলেন, চুক্তির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।
ভাডেফুল লেবাননের প্রতি রাষ্ট্রের একচ্ছত্র বলপ্রয়োগের ক্ষমতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং ইসরাইলের জন্য সুস্পষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ, বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাত থাকা সত্ত্বেও এই চুক্তি নিয়ে আলোচনায় হিজবুল্লাহ অংশ নেয়নি।
লেবানন-ইসরাইল চুক্তিতে জার্মানির স্বাগত, বাস্তবায়ন ও দায়িত্বশীল আচরণের ওপর জোর
জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশটি লোহিতসাগরে দুটি জাহাজ পাঠাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি জানান, মাইন অপসারণকারী জাহাজ ‘ফুল্ডা’ এবং সরবরাহকারী জাহাজ ‘মোসেল’ বর্তমানে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিতসাগরের দিকে যাচ্ছে।
পিস্টোরিয়াস বলেন, মাইন অপসারণ অভিযানে অংশ নিতে ইরান ও ওমানের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তিনি আরও জানান, এই অভিযান তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। ঘোষণাটি জার্মানির পক্ষ থেকে আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগে অংশগ্রহণের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
তবে অভিযানের সময়সূচি বা পরিধি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি এবং এর বাস্তবায়ন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।
হরমুজ অভিযানের প্রস্তুতিতে লোহিতসাগরে জার্মানির দুটি জাহাজ পাঠানো হয়েছে
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভেডেফুল জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে হরমুজ প্রণালি সুরক্ষার জন্য গঠিত মিশনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বার্লিন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এটি ন্যাটো মিশন হিসেবে দেখা হচ্ছে না। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘোষণা দেওয়া হয় ২২ মে ২০২৬ তারিখে।
ভেডেফুল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোল্যান্ডে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানান তাদের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী জার্মানিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে। ট্রাম্প এর আগে পোল্যান্ড থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।
এই ঘটনাগুলো ইউরোপে প্রতিরক্ষা কৌশল ও পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন দিক নির্দেশ করছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটে।
হরমুজ সুরক্ষায় যুক্তরাজ্য নেতৃত্বাধীন মিশনে যোগ দেবে জার্মানি, পোল্যান্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েনকে স্বাগত
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজের সন্তানদের পড়াশোনা বা কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর পরামর্শ দেবেন না। ভুর্ৎসবুর্গে তরুণ ক্যাথলিকদের এক সম্মেলনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখন এমন এক সামাজিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরাও চাকরি পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার চলমান বিরোধের মধ্যেই এই মন্তব্য আসে।
মের্ৎসের বক্তব্যের পর ট্রাম্পের শিবির থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত রিচার্ড গ্রেনেল তাকে ‘ট্রাম্প ডেরাঞ্জমেন্ট সিনড্রোম’-এ আক্রান্ত বলে কটাক্ষ করেন। জার্মানির উগ্র-ডানপন্থি দল এএফডি’র নেতা আলিস ভাইডেলও মের্ৎসের সমালোচনা করে বলেন, তিনি নিজের দেশকেই সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে ফেলছেন।
বাণিজ্য ও ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। মের্ৎস জার্মান অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে লড়ছেন এবং বলেছেন, তিনি এখনো শক্তিশালী ন্যাটোর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে চান।
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান পাঠাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেন জার্মান চ্যান্সেলর মের্ৎস
জার্মানির অভ্যন্তরে ইরান-সমর্থিত সম্ভাব্য হামলার হুমকি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট হুমকির কথা স্বীকার করলেও একে ‘তাত্ত্বিক’ বা ‘অনুমাননির্ভর’ বলে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, আঞ্চলিক গোয়েন্দা প্রধানরা মনে করছেন, এই হুমকি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও জরুরি, এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ায় সাধারণ মানুষ যথেষ্ট সতর্ক নয়।
ইউরোপীয় গোয়েন্দারা ইতোমধ্যে জার্মানির বিভিন্ন ইহুদি ও ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান এবং ইরানবিরোধী ব্যক্তিদের ওপর হামলার অন্তত ৫০টি ছক শনাক্ত করেছে। মিউনিখের একটি ইসরাইলি রেস্তোরাঁয় সাম্প্রতিক হামলায় ইরানি প্রক্সিদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ‘হারাকাত আসহাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া’ নামের একটি গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে, যাদের সঙ্গে তেহরানের আর্থিক সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এসব তৎপরতা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে, তবে চ্যান্সেলর কার্যালয় সুনির্দিষ্ট হুমকি বা লক্ষ্যবস্তু নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেনি।
ইরান-সমর্থিত হামলার হুমকি নিয়ে জার্মান নেতৃত্বে বিভাজন
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত জার্মানিতে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে না। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম এআরডি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মের্ৎস জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে নিজেদের জন্যও পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র নেই, ফলে সরবরাহের সম্ভাবনা কার্যত নেই।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জার্মানিকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে না ওঠা পর্যন্ত দেশটির প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করতে। মের্ৎস আরও বলেন, জার্মানি থেকে ৫ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা নতুন কিছু নয়, কারণ বাইডেন প্রশাসনের অধীনে তারা অস্থায়ীভাবে মোতায়েন ছিল।
তিনি আশ্বস্ত করেন যে ন্যাটোর পারমাণবিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় কোনো আপস হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রই জার্মানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে থাকবে।
ক্ষেপণাস্ত্র ঘাটতিতে জার্মানিতে টমাহক মোতায়েন স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র
জার্মানি থেকে প্রায় ৫,০০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ রিপাবলিকান নেতারা। পেন্টাগনের এই ঘোষণা আসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎসের সাম্প্রতিক বিরোধের পর, যখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। ন্যাটো জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বুঝতে কাজ করছে।
ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট বলেন, এই পরিবর্তন ইউরোপকে প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়ুস এই সিদ্ধান্তকে “অনুমানযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। রিপাবলিকান নেতারা রজার উইকার ও মাইক রজার্স সতর্ক করে বলেন, এই পদক্ষেপ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে ভুল বার্তা পাঠাতে পারে এবং ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে সময় লাগবে।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল জানান, বার্লিন সেনা কমানোর সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত এবং ন্যাটোর কাঠামোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ আলোচনা চলছে, তবে রামস্টাইন এয়ার বেসের মতো বড় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর গুরুত্ব অপরিবর্তনীয়।
জার্মানি থেকে ৫,০০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ন্যাটো ও রিপাবলিকানদের উদ্বেগ
মার্কিন সেনা কমানোর হুমকির পর ন্যাটো এবং ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক অংশীদারত্বের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। মুনস্টার সামরিক ঘাঁটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই অংশীদারত্ব জার্মানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যক্তিগতভাবেও তার কাছে প্রিয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান যে যুক্তরাষ্ট্র জার্মানিতে সেনা উপস্থিতি পর্যালোচনা করছে। মের্ৎসের এক মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমালোচনার পর ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এরপরই সেনা কমানোর হুমকি দেন। এই ঘটনায় বার্লিন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়েছে।
তবে মের্ৎস ন্যাটোর কাঠামোর ভেতরে থেকেই দীর্ঘমেয়াদী মিত্রতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জার্মানির সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ইঙ্গিত দেয়।
ট্রাম্পের সেনা কমানোর হুমকির পর ন্যাটো ঐক্যের ওপর জোর দিলেন জার্মান চ্যান্সেলর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জার্মানিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনা সংখ্যা কমানোর বিষয়টি তার প্রশাসন পর্যালোচনা করছে। তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে জানান, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে মের্ৎস মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরানের নেতৃত্বের কাছে যুক্তরাষ্ট্র “অপমানিত” হচ্ছে—এ মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। এছাড়া ট্রাম্প অভিযোগ করেন, জার্মানি ও অন্যান্য ন্যাটো মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটকে যথেষ্ট সহায়তা করছে না এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে নিজেদের নৌবাহিনী মোতায়েন না করায় তাদের সমালোচনা করেন।
বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৩,৯০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি সামরিক ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত।
ইরান ইস্যুতে উত্তেজনার মধ্যে জার্মানিতে মার্কিন সেনা কমানোর বিষয়টি পর্যালোচনায় ট্রাম্প
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র বিব্রত অবস্থায় পড়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি নেতৃত্বের কাছে অপমানিত হচ্ছে এবং দেশটির যুদ্ধ থেকে প্রস্থানের কোনো স্পষ্ট কৌশল নেই। আলজাজিরা ও রয়টার্সের বরাতে ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
উত্তর রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার মার্সবার্গ শহরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে মের্জ বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রস্থান কৌশল দেখতে পাচ্ছেন না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে এবং প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী প্রমাণিত হয়েছে।
এই মন্তব্য ইউরোপীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির প্রতি উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।
ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান কৌশল নেই ও অপমানিত হচ্ছে বলে মন্তব্য মের্জের
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধ ‘সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়’ এবং এটি বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। মের্জের মতে, এই সংঘাত ইউরোপ, এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, উদীয়মান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেবল একটি ঐক্যবদ্ধ ইউরোপই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মের্জ জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী বৈঠকে ইরানের সংঘাতসহ প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
চ্যান্সেলর আরও বলেন, ইউরোপকে পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে এবং নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতা যত কঠিনই হোক না কেন, তা মেনে নিতে হবে।
ইরান যুদ্ধকে অপ্রয়োজনীয় বললেন মের্জ, ইউরোপীয় ঐক্যের আহ্বান জানালেন
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১০৬ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।