শনিবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে শত শত মানুষ ফিলিস্তিন ও লেবানন ভূখণ্ডে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নেন। ওডেনপ্ল্যান স্কোয়ারে বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা অধিকৃত পশ্চিম তীর, গাজা ও লেবাননে ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল “স্কুল ও হাসপাতালের ওপর বোমা হামলা বন্ধ করো” এবং “খাদ্যসংকটের অবসান ঘটাও।” তারা গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ ও সুইডেন সরকারের কাছে ইসরাইলে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি জানান।
ইরানি বংশোদ্ভূত একদল অংশগ্রহণকারী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নীতির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানান। আজারবাইজানি বংশোদ্ভূত সুইডিশ মানবাধিকারকর্মী আইদিন আমির হাশিমি আনাদোলুকে বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের রাজনৈতিক, নৈতিক ও আইনি সহায়তা ছাড়া ইসরাইল এমন পদক্ষেপ নিতে পারত না। তার অভিযোগ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন দমন করা হয়েছে।
হাশিমি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে ইসরাইলের সমালোচনা বা বয়কটের আহ্বান শাস্তিযোগ্য অপরাধে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, সুইডেনে এমন কিছু হতে দেওয়া হবে না এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি অব্যাহত থাকবে।
স্টকহোমে গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরাইলি অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সুসংগত বা কার্যকর কৌশল নেই। সুইডিশ রেডিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার ঘোষিত লক্ষ্য পূরণে ওয়াশিংটন কীভাবে এগোবে, তা এখনও অস্পষ্ট। ক্রিস্টারসন সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকৌশলে কোনো ধারাবাহিকতা দেখতে পাচ্ছেন না।
তার এই মন্তব্য ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সমালোচনার ধারাবাহিকতা আরও জোরদার করেছে। এর আগে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ যুক্তরাষ্ট্রের ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’র অভাবের সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন যে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ওয়াশিংটন কার্যত অপদস্থ হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান ইস্যুতে আরও ধারাবাহিক ও গুরুত্ববহ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
পশ্চিমা মিত্রদের এই ধারাবাহিক সমালোচনা মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে বাইডেন প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে ইউরোপীয় সমালোচনায় সুইডেনের যোগ
সুইডেনের আপসালায় অনুষ্ঠিত মন্ডো ক্ল্যাসিক ইনডোর মিটিংয়ে পোল ভল্টার আরমান্দ ‘মন্ডো’ ডুপ্লান্টিস নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। আইএফইউ অ্যারেনায় তিনি ৬.৩১ মিটার অতিক্রম করে নিজের আগের ৬.৩০ মিটারের রেকর্ড ভেঙেছেন। এটি তার ক্যারিয়ারের ১৫তম বিশ্বরেকর্ড, যা পোল ভল্টে তার আধিপত্য আরও দৃঢ় করেছে।
আমেরিকায় জন্ম নেওয়া কিন্তু মায়ের সূত্রে সুইডেনের হয়ে খেলা ডুপ্লান্টিস প্রথম চেষ্টাতেই ৫.৬৫, ৫.৯০ ও ৬.০৮ মিটার অতিক্রম করেন। এরপর ৬.৩১ মিটারে সফল লাফ দিয়ে দর্শক ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের উচ্ছ্বাসে ভাসান। ২০২০ সালে পোল্যান্ডে ৬.১৭ মিটার লাফিয়ে প্রথম বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর থেকে তিনি ধাপে ধাপে উচ্চতা বাড়িয়ে এখন পর্যন্ত ১৪ সেন্টিমিটার উন্নতি করেছেন।
এটি সুইডেনের মাটিতে তার দ্বিতীয় বিশ্বরেকর্ড এবং চলতি বছরের প্রথম। এই জয়ে টানা ৩৮তম প্রতিযোগিতায় জয় পেলেন তিনি, ক্যারিয়ারে মোট ১৩০টি জয়ের মধ্যে শেষ ৫০টিই টানা এসেছে।
আপসালায় ৬.৩১ মিটার লাফিয়ে নিজেই নিজের রেকর্ড ভাঙলেন ডুপ্লান্টিস
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে নিজ নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে সুইডেন। শুক্রবার সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, ইরান ও আশপাশের অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত। তিনি সুইডিশ নাগরিকদের ইরান সফর এড়িয়ে চলার এবং যারা বর্তমানে সেখানে আছেন, তাদের দ্রুত দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানান। স্টেনারগার্ড বলেন, আকাশপথ ও স্থলপথে সীমান্ত ক্রসিংয়ের মাধ্যমে এখনো ইরান ত্যাগ করা সম্ভব এবং এই সুযোগ কাজে লাগাতে নাগরিকদের উৎসাহিত করেন।
তিনি আরও জানান, যারা ইরানে থাকার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাদের নিজ দায়িত্বে থাকতে হবে, কারণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরান থেকে সরিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়, পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানকে চাপে রাখতে সীমিত হামলার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে এবং ন্যায্য চুক্তিতে না পৌঁছালে খারাপ কিছু ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেন।
এই পরিস্থিতি অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার প্রেক্ষিতে সুইডেন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ সুইডেনের
সুইডেন সরকার নাগরিকত্ব প্রদানের নিয়ম আরও কঠোর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পার্লামেন্টে প্রস্তাব অনুমোদিত হলে আগামী ৬ জুন থেকে নতুন বিধান কার্যকর হবে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার আগে অন্তত আট বছর সুইডেনে বসবাস করতে হবে, যা বর্তমানে পাঁচ বছর। আবেদনকারীদের মাসিক আয় কমপক্ষে ২০ হাজার সুইডিশ ক্রোনার হতে হবে এবং সুইডিশ ভাষা, সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। যাদের অপরাধের রেকর্ড রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় আরও বাড়ানো হবে।
২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের পর থেকে সুইডেন ধাপে ধাপে অভিবাসননীতি কঠোর করছে। ওই বছর প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন। বর্তমান সংখ্যালঘু জোট সরকার মনে করছে, অভিবাসনের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিলে আসন্ন সেপ্টেম্বরের সংসদীয় নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন পাওয়া সহজ হবে। অভিবাসনমন্ত্রী ইয়োহান ফোরসেল বলেছেন, নতুন শর্তগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর।
অভিবাসনবিরোধী দল সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দাবি করেছে, দীর্ঘদিনের ব্যর্থ অভিবাসননীতির কারণেই দেশে গ্যাংভিত্তিক অপরাধ বেড়েছে। গত সপ্তাহে সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও নিয়ম কঠোর করার পরিকল্পনা জানিয়েছিল।
দীর্ঘ বসবাস ও আয়ের শর্তসহ নাগরিকত্বের নিয়ম কঠোর করছে সুইডেন
সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন ঘোষণা করেছেন যে দেশটি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘শান্তির বোর্ড’-এ অংশ নেবে না। দাভোসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বর্তমান যে পাঠ্য বা কাঠামো উপস্থাপন করা হয়েছে, তার আওতায় সুইডেন এই উদ্যোগে যুক্ত হবে না। এই বোর্ডটি মূলত যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা পুনর্গঠনের তত্ত্বাবধানের উদ্দেশ্যে গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
একাধিক ইউরোপীয় দেশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে এই উদ্যোগের মাধ্যমে জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করা হতে পারে। নরওয়ে ও ফ্রান্স ইতিমধ্যে বোর্ডে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমর্থন থাকলেও জাতিসংঘের বিকল্প কোনো সংস্থা গ্রহণযোগ্য নয়।
এই প্রত্যাখ্যানের ঘটনা ঘটছে এমন সময়ে, যখন গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার কারণে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইতিমধ্যে বোর্ডে যোগদানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন, যেখানে ট্রাম্প আজীবন সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
গাজা পুনর্গঠনের ট্রাম্পের শান্তির বোর্ডে যোগ দেবে না সুইডেন
বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো যা খুশি তাই করতে পারবে— এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে সুইডেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনগার্ড বলেছেন, বৃহৎ শক্তিগুলো যেন ইচ্ছামতো কাজ করতে না পারে, সে জন্য আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে থাকা জরুরি। তিনি এই মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের নতুন হুমকি এবং ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে অপহরণ করে।
স্টেনগার্ড ওয়াশিংটনের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং এটি ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। তিনি আরও জানান, সুইডেন মনে করে ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে একটি বিপজ্জনক নজির হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা ইউরোপীয় উদ্বেগকে আরও স্পষ্ট করেছে।
গ্রিনল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে সুইডেনের নিন্দা, আন্তর্জাতিক আইন মানার আহ্বান
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে শত শত মানুষ ইসরাইলের নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার ওডেনপ্ল্যান স্কয়ারে সমবেত হয়ে তারা অধিকৃত পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি না মানার অভিযোগে তেলআবিবের নিন্দা জানান। বিক্ষোভকারীরা ‘গণহত্যা বন্ধ করো’ ও ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো’ লেখা ব্যানার বহন করে সুইডিশ পার্লামেন্টের দিকে মিছিল করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মালিন আকেরস্ট্রম বলেন, শীতের কারণে গাজায় মানবিক বিপর্যয় তীব্র হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সময়ে ১০০ জনেরও বেশি সুইডিশ সংসদ সদস্য পশ্চিম তীরে সহিংসতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এই বিক্ষোভ ইউরোপে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে প্রতিফলিত করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সুইডেন সরকার ও রাজনীতিকদের ওপর মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও মানবাধিকার ইস্যুতে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার চাপ বাড়ছে।
স্টকহোমে শত শত মানুষের ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ, গাজা ও পশ্চিম তীর সংকটে পদক্ষেপের আহ্বান
রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে—এই শঙ্কায় ব্যাপক খাদ্য মজুত কর্মসূচি শুরু করেছে সুইডেন। দেশটির কৃষি বোর্ড জানিয়েছে, সম্ভাব্য বৈশ্বিক সংঘাতের সময় জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ৫৭ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে বিভিন্ন খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জন্য দৈনিক কমপক্ষে ৩,০০০ ক্যালরি খাবার সংরক্ষণ থাকবে। প্রতিবেশী ফিনল্যান্ড আগামী মাস থেকে যুদ্ধকালীন জীবনের প্রস্তুতি বিষয়ে নাগরিকদের প্রশিক্ষণ শুরু করবে। অন্যদিকে, রাশিয়ার ক্রেমলিন জানিয়েছে, পশ্চিমা বিশ্ব “রুশবিরোধী হিস্টিরিয়ায়” ভুগছে এবং সুইডেনের খাদ্য মজুত পরিকল্পনাও তারই অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপ সম্ভাব্য বৃহৎ সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে—সুইডেনের এই পদক্ষেপ তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।
রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে—এই শঙ্কায় ব্যাপক খাদ্য মজুত কর্মসূচি শুরু করেছে সুইডেন
যুক্তরাষ্ট্রের মেরি ব্রাঙ্কো ও ফ্রেড রামসডেল এবং জাপানের শিমন সাগাগুচি ২০২৫ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরতত্ত্বে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁরা পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণা করেছেন, যা শরীরের নিজস্ব কোষ ও ক্ষতিকারক নয় এমন বহিরাগত উপাদানের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া ঠেকাতে সাহায্য করে। সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজয়ীরা পাবেন একটি মেডেল, সনদ ও মোট ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার বা ১৪৬ কোটি টাকার সমান। তাঁদের এই আবিষ্কার অটোইমিউন রোগ চিকিৎসা ও ইমিউন নিয়ন্ত্রণ গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
মেরি ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল ও শিমন সাগাগুচি। ছবি: সংগৃহীত।
নোবেল পুরস্কারের মৌসুম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে, এবং এ বছর বিজয়ীদের নাম আজ ঘোষণা করা হবে। রীতি অনুযায়ী প্রথমে চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল বিজয়ীর নাম জানানো হবে, এরপর পর্যায়ক্রমে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি এবং অর্থনীতির বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। পাঁচটি পুরস্কার সুইডেনের স্টকহোম থেকে ঘোষণা করা হয়, তবে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হয় নরওয়ের অসলো থেকে। এই পুরস্কারগুলো সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে প্রদান করা হয়, যিনি ডিনামাইটের উদ্ভাবক ছিলেন, এবং তাঁর অর্থের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়। নোবেল পুরস্কার ১৯০১ সাল থেকে প্রদান করা হচ্ছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং মূল্যবান পুরস্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম। অর্থনীতি পুরস্কার ১৯৬৮ সালে চালু হলেও এখন এটি মূল পাঁচটি বিভাগের সঙ্গে একই সময়ে দেওয়া হয় এবং সমান মর্যাদা পেয়েছে। বিজয়ীদের হাতে স্বর্ণপদক, সার্টিফিকেট এবং ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার প্রদান করা হবে। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ১০ ডিসেম্বর, নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে।
চিকিৎসাশাস্ত্রে আজকের নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা হওয়ার অপেক্ষায় বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা তুঙ্গে।
সুইডেনের ওরেব্রো শহরের এক শিক্ষাকেন্দ্রে বন্দুকধারীর গুলিতে ১০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে হামলাকারীও রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে স্টকহোম থেকে ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষাকেন্দ্রটি মূলত যাদের প্রাথমিক বা মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ হয়নি, তাদের জন্য। হামলার উদ্দেশ্য অজানা। প্রথমে পুলিশ ঘটনাটিকে হত্যাচেষ্টা, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে। নিরাপত্তার জন্য আশপাশের স্কুলগুলো বন্ধ রাখা হয়, পরে খালি করা হয়। সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী উল্ফ ক্রিস্টারসন একে দেশের জন্য বেদনাদায়ক দিন বলে উল্লেখ করেন।
সুইডেনে স্কুলে গুলিতে ১০ জন নিহত, বন্দুকধারীও মৃত
২০২৩ সালে সুইডেনে কোরআন পোড়ানো ৩৮ বছর বয়সী ইরাকি শরণার্থী সালওয়ান মোমিকা ২৯ জানুয়ারি স্টকহোমের এক অ্যাপার্টমেন্টে গুলিতে নিহত হন। সুইডিশ পুলিশ পাঁচজনকে আটক করলেও হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করেনি। হামলার সময় মোমিকা টিকটকে লাইভ করছিলেন। তিনি জাতিগত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অপরাধের মামলায় ৩০ জানুয়ারি রায় পাওয়ার কথা ছিল। বাকস্বাধীনতার নামে অনুমোদিত তার কোরআন পোড়ানোর ঘটনাগুলি বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল। সুইডেন তার দেশান্তর প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে, কারণ ইরাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি ছিল।
সুইডেনে কোরআন পোড়ানো সালওয়ান মোমিকা স্টকহোমে গুলিতে নিহত
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১১৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।