চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসা বা সেবা নিতে গিয়ে দুর্ব্যবহারের শিকার রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ দায়ের এবং প্রতিকার পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিতে যাত্রা শুরু করেছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন’। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। আহ্বায়ক নিভীন রেজা ও সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলাম কার্যক্রম তুলে ধরেন; অবহেলার শিকার কয়েকটি পরিবারের সদস্যও অভিজ্ঞতা জানান।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচারের সুযোগ নিশ্চিত করতে বিশেষ নজর প্রয়োজন। স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছাতে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথাও তিনি বলেন। ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম মনে করেন, অবহেলার অভিযোগ দ্রুত ও কার্যকর নিষ্পত্তিতে বিদ্যমান আইনি কাঠামো যথেষ্ট নয়; চিকিৎসক, হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বয়ে কার্যকর কাঠামো দরকার।
আয়োজকেরা জানান, কোথায় ও কীভাবে অভিযোগ করতে হবে, কোন চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ করতে হবে এবং কোথায় আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা মিলবে—এসব বিষয়ে তথ্য, পরামর্শ ও ফলোআপ দেওয়া হবে। প্ল্যাটফর্মটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার পথ দেখানো এবং ভবিষ্যৎ রোগী নিরাপত্তায় ব্যবস্থা গড়তে কাজ করবে। রোগীর অধিকার ও চিকিৎসকের পেশাগত মর্যাদাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ ও প্রতিকারে সহায়তায় নতুন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের যাত্রা
গাজা উপত্যকায় সাড়ে তিন লাখের বেশি রোগীর জরুরি ওষুধ প্রয়োজন, কিন্তু সেখানে প্রবেশ করা চিকিৎসাসামগ্রী চাহিদার তুলনায় অনেক কম বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি মেডিকেল রিলিফ সোসাইটির পরিচালক মোহাম্মদ আবু আফাশ। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য দেন। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ২২ আগস্ট ২০২৬।
আবু আফাশ বলেন, বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের পাশাপাশি অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রীরও ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে গাজায় যে পরিমাণ সহায়তা ঢুকছে, তা মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। চিকিৎসা সহায়তা প্রবেশের ব্যবস্থা না হলে উপত্যকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ অব্যাহত না থাকলে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়বে। এতে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। ফিলিস্তিনি মেডিকেল রিলিফ সোসাইটির এই কর্মকর্তা গাজায় দ্রুত ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
অপর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তার মধ্যে গাজায় সাড়ে তিন লাখের বেশি রোগীর জরুরি ওষুধ প্রয়োজন
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পর টাঙ্গাইলের সখীপুরে ক্যান্সার আক্রান্ত লাইলী বেগমের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী নাঈম শিকদারের মা। ২২ আগস্ট সখীপুরের কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাঈমের দাদা সাত্তার শিকদারের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এমপি।
পারিবারিক সূত্র ও শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার মাধ্যমে ৪ আগস্ট লাইলী বেগমের ক্যান্সার শনাক্ত হয়। তিনি বর্তমানে সিরাজগঞ্জ খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসার ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় নাঈমের দাদা ৭০ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করেছেন। নাঈমের সহপাঠীরা এসএসসি পাসের আনন্দে মিষ্টি না কিনে ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে, আর শিক্ষক ও অন্য শিক্ষার্থীরা আরও ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেন।
মন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি জানার পর প্রধানমন্ত্রী তাকে পরিবার ও স্কুলে গিয়ে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি জানতে এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে নির্দেশ দেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ওই ২৫ শিক্ষার্থীকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান এবং নিজ হাতে মিষ্টি খাওয়ান। উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সখীপুরে শিক্ষার্থীর মায়ের ক্যান্সার চিকিৎসায় সহায়তা দিলেন তারেক রহমান
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসে ক্যানসার শনাক্তের পজিট্রন ইমিশন টোমোগ্রাফি-কম্পিউটেড টোমোগ্রাফি বা পেট সিটি স্ক্যান সেবা চালুর প্রস্তুতি চলছে। ল্যাব স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, এবং সংশ্লিষ্টরা আগামী দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে পরীক্ষা চালুর আশা করছেন। এই সুবিধা চালু হলে চট্টগ্রামের রোগীদের পরীক্ষার জন্য ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন কমবে।
হাসপাতাল সূত্রের হিসাবে, চট্টগ্রামে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা প্রায় চার লাখ এবং প্রতিদিন গড়ে ১২০ জন ক্যানসার রোগী চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, বেসরকারিভাবে পেট সিটি স্ক্যানে বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা লাগে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় চমেক হাসপাতালে সেবা চালু হলে ব্যয় অর্ধেকেরও কম হতে পারে।
প্রকল্পের আওতায় পেট সিটি ল্যাবের সঙ্গে সাইক্লোট্রন মেশিনও স্থাপন করা হচ্ছে, যা পরীক্ষার প্রয়োজনীয় রেডিও আইসোটোপ উৎপাদন করবে। বিশেষ বাংকারে যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ চলছে এবং জনবল নিয়োগও শেষ পর্যায়ে। পেট সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে ক্যানসারের অবস্থান, শরীরের অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়া এবং চিকিৎসার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা যায়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রায় ১০৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি গ্রহণ করে।
দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে চট্টগ্রামে পেট সিটি স্ক্যান চালুর আশা
বগুড়ার জয়পুরপাড়ায় নবনির্মিত আধুনিক জেলা কসাইখানা উদ্বোধনের প্রায় তিন মাস পরও চালু হয়নি। লোকবল নিয়োগ ও দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি গত ১৭ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উদ্বোধন করেন। পরে এটি বগুড়া সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রশাসক জানান, চলতি মাসের মধ্যেই কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের অধীনে ৫০ শতক জমিতে কসাইখানাটি নির্মিত হয়েছে। এখানে প্রতি ঘণ্টায় ১৫টি গরু এবং ৩০টি ছাগল বা ভেড়া জবাই ও মাংস প্রস্তুত করা যাবে। কর্মকর্তারা বলেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকায় পরিবেশদূষণের আশঙ্কা থাকবে না। নিয়োগের পর কর্মীদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
সিটি করপোরেশনের হিসাবে স্থাপনাটি পরিচালনায় প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং মাসে ৭ থেকে ৯ লাখ টাকা খরচ হবে। জবাইয়ের চার্জ এখনো নির্ধারিত হয়নি। বাসিন্দারা সনদবিহীন জবাই, অসুস্থ পশুর মাংস বিক্রি ও বর্জ্য নদীতে ফেলার অভিযোগ তুলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা বলেন, শিগগির দরপত্র আহ্বান এবং কসাইদের তালিকা তৈরির কাজ করা হচ্ছে।
লোকবল ও দরপত্র বাকি থাকায় বগুড়ার আধুনিক কসাইখানা এখনো চালু হয়নি
মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক মের্ক ও মডার্নার যৌথভাবে তৈরি ব্যক্তিগতকৃত এমআরএনএ ভ্যাকসিন অস্ত্রোপচারের পর মেলানোমা ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সম্ভাবনা দেখিয়েছে। ভ্যাকসিনটি মের্কের ইমিউনোথেরাপি ওষুধ কিট্রুডার সঙ্গে দেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মতে, এ পদ্ধতি ভবিষ্যতে অন্য টিউমার ও ক্যানসারের চিকিৎসায়ও নতুন পথ খুলতে পারে।
এক হাজারের বেশি মেলানোমা রোগী নিয়ে পরিচালিত বড় গবেষণায় অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের প্রতি ছয় সপ্তাহে সর্বোচ্চ নয়টি ডোজ ব্যক্তিগতকৃত ভ্যাকসিন এবং কিট্রুডা দেওয়া হয়। আগের গবেষণার পাঁচ বছরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু কিট্রুডার তুলনায় ভ্যাকসিন যুক্ত করলে ক্যানসার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ এবং শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি প্রায় ৫৯ শতাংশ কমে।
গবেষকদের দাবি, কিট্রুডার সঙ্গে ভ্যাকসিন যোগ করায় নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। মের্ক ও মডার্না নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারেও প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করছে। মূত্রথলি, কিডনি, অগ্ন্যাশয় ও পাকস্থলীর ক্যানসার নিয়ে গবেষণা চলছে এবং এক থেকে দুই বছরের মধ্যে কিছু ফল আসতে পারে।
কিট্রুডার সঙ্গে ব্যক্তিগতকৃত এমআরএনএ ভ্যাকসিনে মেলানোমা পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি কমেছে
তরুণদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ে সচেতন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার শেখাতে তানজানিয়ার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে ইউনেস্কো। ১২ থেকে ১৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত তিন দিনের ব্যবহারিক কর্মসূচিতে দেশটির ১৩টি উচ্চ ও তৃতীয় পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী সহপাঠী শিক্ষকরা অংশ নেন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইউনেস্কোর সঙ্গে অংশীদার প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করে।
ইউনেস্কো বলেছে, তরুণরা জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় অনলাইনে কাটায়; তাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য দেওয়া ও সচেতনতা তৈরিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রশিক্ষণে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, এইচআইভি এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ে সঠিক, আকর্ষণীয় ও তরুণবান্ধব ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির কৌশল শেখানো হয়।
অংশগ্রহণকারীদের দায়িত্বশীল অনলাইন যোগাযোগ এবং পাঠক-দর্শকের আগ্রহ বুঝতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশ্লেষণী তথ্য ব্যবহারের বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ইউনেস্কোর মতে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহপাঠী শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে তরুণদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেবেন। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা বাড়ানো এবং তরুণদের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তরুণদের স্বাস্থ্যতথ্য পৌঁছাতে তানজানিয়ার শিক্ষকদের ইউনেস্কো প্রশিক্ষণ
সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করার অভিযোগের পর কনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে তাঁর বাড়ি পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন। ৩৫ বছর বয়সী কনিকা ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ২টায় মারা যান। পরিবারের অভিযোগ, ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে অপারেশনের সময় তাঁর পেটে গজ রেখে দেওয়া হয়েছিল।
নিহতের ভাসুর সমির মণ্ডল জানান, ২৯ জুন কনিকা মণ্ডলকে সিজারিয়ানের জন্য সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের অপারেশনে তিনি কন্যাসন্তান প্রসব করেন। পরদিন থেকে তাঁর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলতে শুরু করে। পরে ৩ জুলাই তাঁকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্বামীর দাবি, চিকিৎসক আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে ৭ জুলাই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় পেটে গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে এবং সেদিন অস্ত্রোপচারে তা বের করা হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার মন্ত্রীর নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রী পরিবারকে সমবেদনা জানান, নিজ তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা দেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
কনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পাশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, গঠিত তদন্ত কমিটি
২১ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এক লেখায় মাসুদ সাঈদী শাহবাগের পিজি হাসপাতালে তার বাবা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ভর্তি ও মৃত্যুর ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট ২০২৩ কাশিমপুর কারাগারের এক রক্ষীর ফোনে তিনি জরুরি হাসপাতালে নেওয়ার খবর পান, তবে শুরুতে কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে তা জানতে পারেননি। পরে পিজি হাসপাতালে নেওয়ার খবর পেলে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিবারের সদস্যদের তাঁর কাছে যেতে বাধা দেয় বলে তিনি দাবি করেন।
মাসুদ সাঈদী লিখেছেন, চিকিৎসকেরা সাংবাদিকদের প্রাথমিক ইসিজিতে হার্ট অ্যাটাক ধরা পড়ার কথা বলেন এবং বুকের ব্যথা কমে যাওয়ায় কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে রাখার কথা জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন দ্রুত এনজিওগ্রাম বা প্রাইমারি পিসিআই করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা হয়নি, সিসিইউতে দেখা করতে দেওয়া হয়নি এবং শারীরিক অবস্থার নিয়মিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
লেখায় বলা হয়, পরিবারের সাক্ষাৎ ও একজন অ্যাটেনডেন্ট থাকার অনুমতি চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছিল। মাসুদ সাঈদী দাবি করেন, পরে দ্বিতীয়বার হার্ট অ্যাটাকের খবর লোকমুখে শুনলেও হাসপাতাল থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাননি। শেষে পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁকে সিসিইউ এলাকায় নিয়ে গিয়ে বাবার মৃত্যুর সংবাদ দেন। লেখাটিতে চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লেখকের অভিযোগও রয়েছে।
বাবার শেষ হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যু নিয়ে অভিযোগের বিবরণ দিলেন মাসুদ সাঈদী
সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ২০ আগস্ট জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, কোনো কর্মী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে সেই বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বেতন বিল ছাড় করা যাবে না। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে সহকারী পরিচালক প্রশাসন-১ ডা. কামরুল ইসলাম আদেশে স্বাক্ষর করেন। ১৬ আগস্ট স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এটি জারি হয়। সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুশাসন বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
তিন সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসের অধীনে রিয়েল টাইম ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু করতে বলা হয়েছে। হাজিরার তথ্য আইবাস বেতন সফটওয়্যারের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতন, ছুটি ও পদোন্নতির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ট্যাগ অফিসার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসকদের সাপ্তাহিক ই-হাজিরা প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের হাজিরা নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক ও বেতন নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ
রংপুরের পীরগঞ্জে এক প্রসূতি ও তাঁর গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় নগর মাতৃসদন কেন্দ্রের সব কার্যক্রম বৃহস্পতিবার সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এ ঘোষণা দেন। নিহত শ্রাবণী (১৯) উপজেলার প্রজাপাড়া এলাকার রিকশাচালক মতিয়ার রহমানের মেয়ে। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রসববেদনা উঠলে তাঁকে কেন্দ্রে ভর্তি করা হয় এবং পরে তিনি ও তাঁর গর্ভের সন্তান মারা যান।
স্বজনদের অভিযোগ, বাড়ির কাছে হওয়ায় শ্রাবণী মা ও খালার সঙ্গে হেঁটে কেন্দ্রে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সিজারের জন্য নগদ ১০ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয় এবং পরে অ্যাম্বুলেন্সে রংপুরে পাঠানো হয়। তাঁর বাবা বলেন, ওষুধ কিনতে বাইরে পাঠানো হয়েছিল তাঁকে; ফিরে এসে তিনি মেয়েকে মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে তুলতে দেখেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধে একাধিকবার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। ইউএনও বলেন, চিকিৎসকের তথ্যমতে শ্রাবণী এক্লাম্পসিয়া, খিঁচুনি ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ছিলেন; তবে সিভিল সার্জনের তদন্তের আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত নয়। স্বজন ও এলাকাবাসী কেন্দ্র ঘেরাও করে জড়িতদের শাস্তি দাবি করলে প্রশাসন কার্যক্রম বন্ধ করে।
প্রসূতি ও অনাগত সন্তানের মৃত্যুর পর পীরগঞ্জের মাতৃসদন সাময়িক বন্ধ
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত নীতিমালা বাতিল করে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। বৃহস্পতিবার বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে এবং ওষুধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ অগ্রাধিকার পেয়েছে।
ফুয়াদ বলেন, ওষুধ জীবন রক্ষার উপকরণ, শুধু ব্যবসার পণ্য নয়; তাই ওষুধনীতির কেন্দ্রে রোগী ও সাধারণ মানুষকে রাখতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ উৎপাদিত হলেও মানুষকে উচ্চমূল্যে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। ১৯৯৪ সালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ছিল, যা অন্তর্বর্তী সরকারের ২০২৬ সালের নীতিমালায় ২৯৭টিতে উন্নীত করা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গত ৩ আগস্ট ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ ও ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ বাতিল করে পুরোনো কাঠামোয় ফিরেছে। এবি পার্টি সাত দফা দাবি জানিয়েছে, যার মধ্যে নীতিমালা পুনর্বহাল, কার্যকর মূল্য নিয়ন্ত্রণ, একই জেনেরিকের অযৌক্তিক মূল্যবৈষম্য কমানো, চিকিৎসকদের অনৈতিক প্রণোদনা বন্ধ এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী শিল্প সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ রয়েছে।
বাতিল হওয়া অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্যনীতি পুনর্বহালের দাবি এবি পার্টির
বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তি দ্রুত বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ আগস্ট পর্যন্ত চলতি মাসে প্রায় ১১ হাজার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা জুলাইয়ের ৯ হাজার ২০০-এর বেশি ভর্তির সংখ্যাকেও ছাড়িয়েছে। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৭৬ জন মারা গেছেন এবং সাড়ে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্ষা মৌসুমে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতেও সংক্রমণ বাড়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় এ বছর ৭ হাজারের বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ৩৪ জন মারা গেছেন। ঢাকার বাইরে খুলনায় ১ হাজার ৬০০-এর বেশি আক্রান্ত ও ১৪ মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৯১ জন ভর্তি এবং তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পিরোজপুরে ১ হাজার ২০০-এর বেশি আক্রান্ত ও একজনের মৃত্যু, ময়মনসিংহে ৯২৪ আক্রান্ত ও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গাজীপুরে আক্রান্ত ৭২০ জন হলেও কোনো মৃত্যুর খবর নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমে থাকা পানি, ঘনবসতি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং পানি সংরক্ষণের পাত্র এডিস মশার প্রজনন বাড়াচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার কারণে বৃষ্টির পানি পাত্রে রাখার প্রয়োজন হয়। উচ্চ তাপমাত্রা, ঘন ঘন বৃষ্টি, নগরায়ন, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বিস্তার এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ঘাটতিকেও সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯ আগস্টে ডেঙ্গু ভর্তি প্রায় ১১ হাজার, ঢাকার বাইরেও বাড়ছে সংক্রমণ
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মহাসড়ক করিডরে ৬০টি অত্যাধুনিক বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্সের পাইলট কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা করছে। ১৯ আগস্ট ২০২৬ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে বাসসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান সওজের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার ও হাসপাতালে নেওয়ার মাধ্যমে দুর্ঘটনার পরের গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন আওয়ার’ কাজে লাগানো এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
প্রাথমিকভাবে চন্দ্রা-এলেঙ্গা হয়ে রংপুর, হাটিকুমরুল-নাটোর হয়ে রাজশাহীর কাটাখালী এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নির্ধারিত অংশে সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। নির্দিষ্ট অংশে প্রায় ১০ কিলোমিটার পরপর অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা কেন্দ্রীয় কল সেন্টার ফোনকারীর অবস্থান, দুর্ঘটনাস্থল ও আহতের সংখ্যা জেনে নিকটতম অ্যাম্বুলেন্স পাঠাবে।
প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে তিনজন স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ আট ঘণ্টার শিফটে দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স নয়, তবে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে বেসিক লাইফ সাপোর্ট দেবে। দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য সেবাটি বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মহাসড়কের পাশে প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ মিটার পরপর দুজন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবককে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ ও ফার্স্ট এইড বক্স দেওয়া হচ্ছে। পাইলট সফল হলে সেবাটি আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়ায় মহাসড়কে ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সের পাইলট পরিকল্পনা
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশ জীবনের প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি। রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে বুধবার সকাল, ১৯ আগস্ট ২০২৬, গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। গবেষণায় আরও বলা হয়, মারা যাওয়া শিশুদের ৬৫ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল; তাদের মধ্যে ১২ শতাংশ তীব্র এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি অপুষ্টিতে ছিল।
হাসপাতালভিত্তিক এই গবেষণায় হাম নিয়ে ভর্তি ৩৫৪ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আক্রান্ত শিশুদের ৪৩ শতাংশের বয়স ছিল তিন থেকে নয় মাসের মধ্যে। জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি এমন শিশুর হার ছিল ৩৮ শতাংশ। গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাশিহাইয়ের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।
বয়স ও টিকার তথ্য অনুযায়ী ৩৪১ শিশুকে চার দলে ভাগ করা হয়। দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ১৬ জনের হাম শনাক্ত হলেও গবেষকেরা বলেন, এটি টিকাপ্রাপ্ত সব শিশুর মধ্যে সংক্রমণের হার নয়। দুই ডোজ নেওয়ার পরও হাম শনাক্ত হওয়ার কারণ জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে তাঁরা জানান। সম্ভাব্য কারণ হিসেবে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা যথেষ্ট না গড়া, সময়ের সঙ্গে অ্যান্টিবডির সুরক্ষা কমা, অপুষ্টি বা ব্যক্তিভেদে অন্য কারণের কথা বলা হলেও বর্তমান গবেষণায় কোনো নির্দিষ্ট কারণ নির্ধারিত হয়নি।
হামে মারা যাওয়া ৮২ শতাংশ শিশু প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গ বুকের দুধ পায়নি
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১১৪ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।