অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ১৭০ সাংবাদিককে ‘সন্ত্রাসী’ বলার ইসরাইলের দাবি নাকচ করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সাংবাদিকেরা সামরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন—এমন দাবির পক্ষে ‘এক টুকরো প্রমাণও’ নেই।
এর আগে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের তদন্তে দেখা গেছে, সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা আসলে গাজায় হামাস, ইসলামিক জিহাদ ও অন্যান্য ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ সদস্য ছিলেন। এর জবাবে আলবানিজ বলেন, সাংবাদিকদের সামরিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দাবির পক্ষে ‘শূন্য’ প্রমাণ রয়েছে।
আলবানিজ জানান, তিনি এ বিষয়ে শিগগির একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পশ্চিমা গণমাধ্যম তথ্য যাচাই শুরু করার সময় ইসরাইল অপতথ্য ছড়ানো বাড়িয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, গণহত্যার যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একটি ‘লেজিটিমাইজেশন সেল’ গল্প তৈরি করছে। তাঁর পরবর্তী প্রতিবেদনে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলেও তিনি জানান।
গাজায় নিহত ১৭০ সাংবাদিককে সন্ত্রাসী বলার ইসরাইলি দাবি নাকচ আলবানিজের
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন জমিতে পর্যটন পার্ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে ইসরাইল। দেশটির কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, রোববার থেকে ‘হেরোদের জলাধার’ বা ‘হেরডস পুলস’ নামে পরিচিত স্থানে উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। জর্ডান উপত্যকার ওই জায়গার মালিক ফিলিস্তিনি কৃষক সাদ নেমের।
নেমেরের ভাষ্য অনুযায়ী, গত জুনে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা তার সেচের পানির পাইপলাইন দখল করে নেয় এবং পানি জলাধারের দিকে সরিয়ে দেয়। এতে তার কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর কিছুদিন পর বসতি স্থাপনকারীরা স্থানটিকে ইসরাইলি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে প্রচার শুরু করে। তাদের দাবি, পুলটি বাইবেলের যুগের ইহুদি রাজা হেরোডের আমলের।
স্মোত্রিচ ওই স্থানের উন্নয়নে ৩০ লাখ শেকেল, প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার, বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, সংরক্ষণ ও সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতেই উন্নয়নকাজ করা হচ্ছে। একই পোস্টে তিনি বলেন, ‘বসতি স্থাপন বিপ্লব অব্যাহত রয়েছে।’ সাদ নেমের বর্তমানে ওই এলাকায় প্রবেশ করতে পারছেন না।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন জমিতে পর্যটন পার্কের কাজ শুরু করেছে ইসরাইল
ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইল ৮০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষককে হত্যা করেছে এবং ৩,৩০০ জনের বেশি শিক্ষককে আহত করেছে। বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আগের রোববারের এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি বলেছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে শিক্ষকরা শিক্ষার অধিকার রক্ষায় কঠিন অস্তিত্বের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
মন্ত্রণালয়ের মতে, গাজা ও পশ্চিম তীরের শিক্ষা খাত চলমান যুদ্ধে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। ১৭০ জনের বেশি শিক্ষক এখনো কঠিন পরিস্থিতিতে আটক রয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। শত শত চেকপয়েন্টে চলাচল-নিষেধাজ্ঞা ও হয়রানি শিক্ষকদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে, বিশেষত হেবরনের দক্ষিণের মাসাফের ইয়াত্তা, মধ্য পশ্চিম তীরের আল-মুঘাইয়ির, জর্ডান উপত্যকা এবং এরিয়া সি এলাকায়।
মন্ত্রণালয় বলেছে, ক্লিয়ারেন্স রেভিনিউ আটকে রাখায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আর্থিক সংকট তীব্র হয়েছে এবং সরকারি কর্মচারীদের পূর্ণ বেতন দেওয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং শিক্ষা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে লঙ্ঘন বন্ধে ও শিক্ষার্থী-শিক্ষাকর্মীদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। আটক শিক্ষকদের মুক্তি ও আটকে রাখা আর্থিক পাওনা আদায়েও চাপ তৈরির আবেদন করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি মন্ত্রণালয়ের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় ৮০০-এর বেশি শিক্ষক নিহত
আগামী ২৮ নভেম্বর নির্ধারিত ফিলিস্তিনি আইনসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজার বাসিন্দারা রাজনৈতিক স্লোগানের চেয়ে চাকরি, নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। দেইর আল-বালাহর ২৪ বছর বয়সি আহমাদ মোহসেনের জন্য এটি প্রথম জাতীয় ভোট। তিনি চান প্রার্থীরা বেকারত্ব, আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বাস্তব সমস্যা সমাধানের কথা বলুন। নার্সিংয়ে পড়াশোনা শেষ করা মোহসেন এখন প্রিপেইড ইন্টারনেট কার্ড বিক্রি করেন।
যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাস আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করলেও পারিশ্রমিক না পাওয়ায় মোহসেন অন্য কাজ খুঁজতে বাধ্য হন। তার প্রধান দাবি ভালো বেতনের স্থায়ী চাকরি এবং নিরাপত্তা। গাজায় বেকারত্ব প্রায় ৮০ শতাংশ। ইসরাইলের দীর্ঘ অবরোধ ও যুদ্ধে অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; যুদ্ধে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
২০০৬ সালে ভোট দেওয়া গাসসান মারওয়ান ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাড়ি ও কারখানা হারানোর পর পুনর্গঠন, শান্তি ও নিরাপত্তা চান। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, গাজায় প্রায় ১২ লাখ ৪০ হাজার ভোটার রয়েছেন, তবে বাস্তুচ্যুতি, ধ্বংস ও নিরাপত্তাজনিত কারণে আয়োজন কঠিন। বিশ্লেষক ইয়াদ আল-কুরার বলেন, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবিকা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে হবে।
২৮ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে গাজার ভোটারদের প্রধান দাবি চাকরি, নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৪ হাজার ২২৯ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একই সময়ে আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৮৮ জন। মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাবে, ইসরাইলি হামলায় আরও সাতজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন আগে আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন, পরে তারা মারা যান; ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৫২ জন আহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। একই সময়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮৩৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গাজায় একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০৫ জনের লাশ উদ্ধারের পর বড় ধরনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় তিন বছর আগে ইসরাইলি বিমান হামলায় ভবনটি ধ্বংস হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধারের ঘটনায় গাজায় আবারও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, হামলা শুরুর পর থেকে নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছেই।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে নিহত ৭৪ হাজার ২২৯, ধ্বংসস্তূপে মিলছে আরও মরদেহ
গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের রিমাল এলাকার একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীরা। খান ইউনিস থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক হানি আল-শায়ের জানান, শনিবার ভোরে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই আল-আসালা ভবনে হামলাটি চালানো হয়।
রিমাল গাজা সিটির অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা, যেখানে হাজারো বাস্তুচ্যুত মানুষ অস্থায়ী তাঁবু ও শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। আল-শায়ের বলেন, বাসিন্দারা ঘুমিয়ে থাকার সময় যুদ্ধবিমানের শব্দ ক্রমে জোরালো হয় এবং এরপর তিনটি হামলা হয়। বিস্ফোরণটি লক্ষ্যবস্তু অ্যাপার্টমেন্ট ভেদ করে নিচের তলাগুলোতেও ক্ষয়ক্ষতি ঘটায় এবং বহুতল ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী অন্তত এক ঘণ্টা জ্বলার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিখোঁজ ব্যক্তি ও লাশের সন্ধানে তল্লাশি চালায়। আল-শায়ের ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন, বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন। আল-শিফা হাসপাতাল জানায়, নিহতদের চারজন নারী; তাঁদের মধ্যে একজন বয়স্ক খ্রিষ্টান নারী ও তাঁর মেয়ে রয়েছেন। আহত ছয়জনকে চিকিৎসার জন্য আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
গাজা সিটির একটি অ্যাপার্টমেন্টে হামলায় পাঁচজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন
আল জাজিরার ২ অক্টোবর প্রকাশিত একটি তথ্যচিত্রে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ১ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ৭৪ হাজার ৪০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে অন্তত ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৬৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের কয়েক হাজার মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের তথ্য ব্যবহার করে তথ্যচিত্রটি তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, গাজার মোট জনসংখ্যার প্রতি ৩১ জনে অন্তত একজন নিহত এবং প্রতি ১৩ জনে একজন আহত হয়েছেন। উত্তর গাজা, গাজা সিটি, দেইর আল-বালাহ, খান ইউনিস ও রাফাহে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্রও আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে।
তথ্যচিত্রে ১০ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি শুরুর পর অন্তত ১ হাজার ৪৩৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো ৫ হাজার ৫২ জন আহত হওয়ার হিসাব দেওয়া হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে এতে বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিশ্লেষণ করা হয়েছে কোপার্নিকাস সেন্টিনেল-১ স্যাটেলাইটের তথ্যের ভিত্তিতে। বিশ্লেষণ করেছেন সিএনওয়াই গ্র্যাজুয়েট সেন্টারের কোরি শের ও ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির ড্যামন ভ্যান ডেন হোক।
আল জাজিরার তথ্যচিত্রে গাজায় ৭৪ হাজার ৪০ ফিলিস্তিনি নিহতের তথ্য
যুদ্ধ ও অবরোধে বিপর্যস্ত গাজায় স্থানীয় সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরির চেষ্টা করছেন তরুণ উদ্ভাবকেরা। গাজা সিটিতে আয়োজিত ইয়ুথ টেকনোলজি হ্যাকাথনে শতাধিক তরুণ-তরুণী অংশ নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ৪৫টির বেশি প্রযুক্তি প্রকল্প উপস্থাপন করেছেন।
দীর্ঘদিনের যুদ্ধ গাজার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। অবকাঠামো ধ্বংস, নানা সীমাবদ্ধতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং চারপাশের সংকটকে প্রকল্প তৈরির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সমস্যার ব্যবহারিক সমাধান খোঁজা।
আয়োজকদের উদ্যোগে হ্যাকাথনটি তরুণদের ধারণা পরীক্ষা, নতুন কিছু তৈরি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রয়োগের সুযোগ দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আয়োজন তরুণ ফিলিস্তিনিদের সক্ষমতা প্রকাশ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ভিন্ন এক ভবিষ্যৎ কল্পনা করার পরিসর তৈরি করেছে।
যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজার তরুণদের ৪৫টির বেশি প্রযুক্তি প্রকল্প
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধের ফলে জমে থাকা ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন, যা পুরোপুরি সরাতে সাত থেকে ১০ বছর লাগতে পারে। ফিলিস্তিনবিষয়ক ইউএনডিপির বিশেষ প্রতিনিধি জাকো সিলিয়ার্স বলেন, এই ধ্বংসাবশেষ গত ১৮ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধে সৃষ্ট মোট ধ্বংসস্তূপের প্রায় ২০ গুণ। ইউএনডিপির ধারণা, এর নিচে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষের দেহাবশেষ চাপা থাকতে পারে।
ধ্বংসস্তূপ অপসারণ একই সঙ্গে মানবিক উদ্ধার ও ফরেনসিক কার্যক্রম, কারণ কর্মীদের মানবদেহ, অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ, অ্যাসবেস্টস ও অন্যান্য বিপজ্জনক উপাদান শনাক্ত করতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৭ হাজার টন ধ্বংসস্তূপ সরানো হয়েছে এবং ৩ লাখ টনের বেশি পুনর্ব্যবহার বা পুনঃব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে। প্রায় ৫৮০ কিলোমিটার সড়ক পরিষ্কার হওয়ায় ত্রাণবাহী ট্রাক, উদ্ধারকারী দল ও বাসিন্দাদের চলাচল কিছুটা সহজ হয়েছে।
ক্রেন, বুলডোজার, জ্বালানি ও যন্ত্রাংশের সংকট এবং গাজায় সরঞ্জাম প্রবেশের বিধিনিষেধ কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে। ইউএনডিপি পাঁচটি ধ্বংসস্তূপ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র পরিচালনা করছে; সাতটি ক্রাশারের মধ্যে দুটি স্থানীয় প্রকৌশলীরা পুনর্নির্মাণ করেছেন। পিষে ফেলা বর্জ্য সড়ক মেরামত, গর্ত ভরাট এবং তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয় উঁচু করতে ব্যবহৃত হচ্ছে। জাতিসংঘ ধ্বংসস্তূপ অপসারণের সময় সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রমাণ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাবে গাজার ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরাতে লাগতে পারে সাত থেকে ১০ বছর
ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ পশ্চিম তীরে গাজায় চালানো অভিযানের মতো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটকে দেওয়া ও রোববার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের যুদ্ধ করতে হবে। তিনি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ভেঙে দেওয়ারও আহ্বান জানান।
পশ্চিম তীরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উত্তেজনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্মোতরিচ বলেন, সেখানে কোনো ‘সন্ত্রাসী’ অবকাঠামো, অস্ত্র, সুড়ঙ্গ বা সন্ত্রাসী রাখা যাবে না। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের হামলা শুরুর পর পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ১ হাজার ৩৩০টির বেশি হামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যা দিনে গড়ে ছয়টি।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র ও প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলেছে, স্মোতরিচের মন্তব্য ইসরাইলের সরকারি নীতির অংশ। মন্ত্রণালয়টি ফিলিস্তিনিদের হত্যা, উচ্ছেদ, জমি দখল ও বসতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে পশ্চিম তীর ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগ করেছে। সুক্কত উপলক্ষে ইসরাইল সরকার পশ্চিম তীরজুড়ে সামরিক অবরোধ ঘোষণা করেছে; এতে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের চলাচলে বাড়তি বিধিনিষেধ থাকবে।
পশ্চিম তীরে গাজার মতো অভিযান ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ভেঙে দেওয়ার আহ্বান স্মোতরিচের
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে এক দিনে এক হাজারের বেশি ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারী প্রবেশ করেছেন। জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন মোট ১ হাজার ১৪৩ জন ইসরাইলি সেখানে প্রবেশ করেন। ইসরাইলি বাহিনীর নিরাপত্তায় তারা মসজিদ চত্বরে ঢুকে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এ সময় প্রাঙ্গণে ধর্মীয় প্রার্থনা ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। এক বিবৃতিতে জেরুজালেম গভর্নরেট বলেছে, আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনগত মর্যাদা নিয়ে বিদ্যমান ব্যবস্থার ধারাবাহিক লঙ্ঘনের অংশ হিসেবেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য খালেদ মেশাল শনিবার সতর্ক করে বলেন, আল-আকসাকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের বিভিন্ন পদক্ষেপ পবিত্র স্থানটির ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠার পরিস্থিতি তৈরি করছে। মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদ ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও বিরোধপূর্ণ স্থানগুলোর একটি হিসেবেও বিবেচিত।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, এক দিনে আল-আকসায় প্রবেশ করেন ১ হাজার ১৪৩ ইসরাইলি
১২৬০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনের আইনে জালুত প্রান্তরে সুলতান সাইফুদ্দীন কুতুজের নেতৃত্বাধীন মামলুক বাহিনী কিতবুগার নেতৃত্বাধীন মঙ্গোল-তাতার বাহিনীকে পরাজিত করে। ১২৫৮ সালে বাগদাদ পতনের পর মঙ্গোলদের অগ্রযাত্রা মিসরের জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছিল। নিবন্ধে এই জয়কে চেঙ্গিস খানের উত্থানের পর মঙ্গোলদের প্রথম বড় পরাজয় এবং তাদের পশ্চিমমুখী বিস্তারের মোড় ঘোরানো ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
মামলুক রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যে কুতুজ ক্ষমতা গ্রহণ করে মঙ্গোল প্রতিরোধে আমির ও সেনাপতিদের ঐক্যবদ্ধ করেন। তিনি সিরিয়ায় পালিয়ে যাওয়া বাহরি মামলুকদের সাধারণ ক্ষমা দিয়ে ফিরিয়ে আনেন; তাঁদের মধ্যে রুকনুদ্দীন বাইবার্স ছিলেন। হালাকু খানের আত্মসমর্পণের দাবির জবাবে কুতুজ যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেন। যুদ্ধের অর্থ জোগাতে তিনি প্রথমে নিজের ও অভিজাতদের সম্পদ তহবিলে দেন, পরে মাথাপিছু এক দিনার কর এবং ধনীদের কাছ থেকে অগ্রিম জাকাত নেন।
যুদ্ধে কুতুজ মূল বাহিনী পাহাড় ও ঝোপঝাড়ের আড়ালে রাখেন এবং বাইবার্সের অগ্রগামী দলকে সামনে পাঠান। মঙ্গোলরা পিছু হটা দলকে তাড়া করে ফাঁদে পড়ে; এরপর মামলুকরা চারদিক থেকে আক্রমণ চালায়। কিতবুগা নিহত হলে মঙ্গোল বাহিনী পালিয়ে যায়। বিজয়ের দুই দিন পর কুতুজ দামেস্কে প্রবেশ করে শান্তি, শৃঙ্খলা ও প্রশাসন পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন।
আইনে জালুতের মামলুক বিজয় মঙ্গোল অগ্রযাত্রা থামিয়ে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বদলায়
ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিহল মার্টিন। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তিনি বলেন, অব্যাহত সহিংসতা ও ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ ফিলিস্তিনে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ আরও কঠিন করে তুলছে।
মার্টিন বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে এবং মানুষের মৌলিক অধিকার অস্বীকার বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুতর চ্যালেঞ্জ। গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে সাধারণ মানুষের দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ মোকাবিলায় সম্মিলিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি জানান। গত অক্টোবরে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে হওয়া গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপকে স্বাগত জানালেও তিনি বলেন, এর পর বাস্তব পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসেনি।
তিনি গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকা, মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা এবং বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। যুদ্ধাপরাধে দায়মুক্তি থাকা উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কার্যক্রম দুর্বল করার পদক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানান। মার্টিন সতর্ক করেন, গাজার ঘটনাগুলোর দায় ও পরিণতি থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শেষ পর্যন্ত নিজেদের এড়িয়ে যেতে পারবে না।
ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ মোকাবিলায় বিশ্ব ব্যর্থ, বললেন আইরিশ প্রধানমন্ত্রী
জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি বলেছেন, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতে সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে এক উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। সংস্থাটি ভেঙে দেওয়া হলে গাজার ২০ লাখ মানুষ ক্ষুধা, তীব্র শীত এবং শিক্ষার সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সাফাদি বলেন, ইউএনআরডব্লিউএর দায়িত্ব অন্য কোনো ব্যবস্থায় স্থানান্তর করা সংস্থাটি বিলুপ্ত করার প্রথম ধাপ হবে। তিনি বলেন, কোনো আশ্রয়দাতা দেশ সংস্থাটির কার্যক্রমের দায়িত্ব নেবে না, কারণ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলো আগে থেকেই বড় চাপ ও দায়িত্ব বহন করছে। তাদের ওপর ইউএনআরডব্লিউএর দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর গাজায় ইউএনআরডব্লিউএর প্রায় ৪০০ কর্মী নিহত হয়েছেন। তিনি ১০ কোটি ডলারের তহবিল ঘাটতি, ভিসা না দেওয়া এবং আঞ্চলিক সমন্বয় সভা থেকে সংস্থাটিকে বাদ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। ভারপ্রাপ্ত কমিশনার-জেনারেল ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স বলেন, গাজার ৯৪ শতাংশ বাসিন্দার সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র নেই এবং ৯৮ শতাংশ মানুষ খোলা নর্দমার বর্জ্য ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বাস করছে।
জর্ডানের সতর্কতা, ইউএনআরডব্লিউএ বিলুপ্ত হলে গাজার মানবিক সংকট আরও গভীর হবে
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ফিলিস্তিনজুড়ে ইসরাইলের আগ্রাসন ও ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নির্লিপ্ততার কঠোর সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি প্রশ্ন করেন, কিছু দেশ আর কতদিন নীরব থাকবে অথবা ফিলিস্তিনি নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইসরাইলকে মারণাস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখবে।
আব্বাস বলেন, গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় এবং চরম ক্ষয়ক্ষতি বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা দেওয়া, পূর্বপুরুষের ভূমিতে তাদের স্থায়ী উপস্থিতি বজায় রাখা, ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান এবং আন্তর্জাতিক বৈধতার ভিত্তিতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আর কিসের অপেক্ষা করছে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক নীতিমালার ভিত্তিতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে সবার জন্য টেকসই শান্তি আসতে পারে। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি উগ্রপন্থা নিরাপত্তাহীনতা ও হুমকি বাড়াচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইলের চরমপন্থী শক্তি তথাকথিত ‘গ্রেটার ইসরাইল’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনায় লিপ্ত, যার লক্ষ্য ঔপনিবেশিক প্রকল্প সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের সামগ্রিক অস্তিত্ব মুছে ফেলা।
গাজা ও পশ্চিম তীরে পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান আব্বাসের
ফিফা ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে শিশু-কিশোরদের নিরাপদে ফুটবল খেলা ও সময় কাটানোর সুযোগ দিতে দুটি নতুন ফিফা অ্যারেনা চালু করেছে। মাঠ দুটি বেথলেহেমের দক্ষিণে মারাহ রাবাহ এবং পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের কুসিনে নির্মিত হয়েছে। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে ফিফা, আর্থিক সহায়তা দিয়েছে সুইজারল্যান্ড সরকার।
সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স প্রকল্পটিতে অর্থ সহায়তা দিয়েছে। পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ ও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে শিশুদের শিক্ষা, খেলাধুলা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে সীমিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মাঠ দুটি শিশুদের নিয়মিত ফুটবল খেলা ও শরীরচর্চার সুযোগ দেবে।
উদ্বোধন উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী ইউনাইট ফর পিস: কিডস কাপ আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ১৪টি স্থানীয় দলের প্রায় ১৬০ শিশু অংশ নিচ্ছে। গ্রুপ পর্বের পর কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল হবে এবং ফুটবলভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমও থাকবে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, মাঠগুলোর সাফল্য নির্ভর করবে প্রতিদিনের ব্যবহারের ওপর। ২৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা শেষ হলেও মাঠ দুটি কমিউনিটির জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং ফুটবল সরঞ্জামও দেওয়া হবে।
পশ্চিম তীরের শিশুদের জন্য দুটি ফুটবল মাঠ চালু করল ফিফা
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বলেছেন, গাজায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের হাতে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বলে তাঁর বর্ণিত গণহত্যার যন্ত্রণা ও মানসিক আঘাত ফিলিস্তিনিদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম বহন করতে হবে। তিনি গাজায় ইসরাইলি অভিযানে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত ও ট্রমার কথা তুলে ধরেন।
লুলা একই সঙ্গে হামাসের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেস্কা আলবানিজকে তাঁর বক্তব্যের কারণে নীরব না করার আহ্বান জানান। সত্য বলার জন্য আলবানিজকে চুপ করিয়ে দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট।
পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণেরও সমালোচনা করেছেন লুলা। তিনি এসব বসতিকে অবৈধ উল্লেখ করে বলেন, এ সম্প্রসারণের ফলে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। তাঁর মতে, ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের নিরাপদে বসবাসের জন্য এই সমাধান গুরুত্বপূর্ণ।
গাজায় ট্রমা প্রজন্মজুড়ে থাকবে বলে মন্তব্য লুলার, বসতি সম্প্রসারণেরও সমালোচনা
ইসরাইল জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গাজার খান ইউনিসে তাদের অভিযানে হামাস কমান্ডার মুহাম্মদ সুলেমান বিউক নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এই হত্যার দাবি করে এবং বিউককে হামাসের কমান্ডার হিসেবে উল্লেখ করে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, দক্ষিণ ইসরাইলে ৭ অক্টোবরের হামলায় বিউকের সম্পৃক্ততা ছিল। তবে অভিযানের বিষয়ে বা বিউকের ভূমিকা সম্পর্কে উৎসে স্বাধীন কোনো বিবরণ কিংবা অতিরিক্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরাইলি হামলায় আরও চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশের ছেলেও রয়েছেন। এ ছাড়া পূর্ব গাজা সিটির শুজাইয়া এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আরও একজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইসরাইলের দাবি, গাজায় হামাস কমান্ডারসহ পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত
যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সশরীরে যেতে পারছেন না। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদে ভোটের মাধ্যমে তাঁকে ভিডিওর মাধ্যমে ভাষণ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বিশ্বনেতাদের বার্ষিক এই সমাবেশে দূর থেকে ভাষণের সুযোগ পেলেন আব্বাস।
প্রস্তাবটির পক্ষে ১৫২ ভোট, বিপক্ষে তিন ভোট এবং চারটি ভোটদান থেকে বিরত থাকার ঘটনা ঘটে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আব্বাস ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে না পারলে আগামী এক বছর জাতিসংঘের বিভিন্ন বৈঠক ও সম্মেলনে ভিডিওর মাধ্যমে অংশ নিতে পারবেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা আব্বাসের ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র বুধবার জানিয়েছে, কিছু ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিকীকরণের চেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। জাতিসংঘে মার্কিন উপ-রাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হতে হলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা, চরমপন্থা ও পররাষ্ট্রনীতির কারণ দেখিয়ে ভিসা না দেওয়ার অধিকার দাবি করে।
জাতিসংঘের ভোটে ভিডিও ভাষণের অনুমতি পেলেন মাহমুদ আব্বাস
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় বাড়িতে ভোরের অভিযানে আল জাজিরা মুবারাশের সাবেক সংবাদদাতা আলা হাসান আল-রিমাওয়িকে আটক করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এ তথ্য জানিয়েছে। সম্প্রতি তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার আর্থিক সংকটে থাকা ফিলিস্তিনিদের ঋণমুক্তির লক্ষ্যে একটি সামাজিক উদ্যোগ শুরু করেছিলেন।
রিমাওয়ির পরিবারের সদস্যরা জানান, ইসরাইলি সেনারা তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে নিয়ে যায়। তবে আটকের কারণ সম্পর্কে ইসরাইলি বাহিনী এখনো কোনো বিবৃতি দেয়নি। গত বছরের অক্টোবরে দুই বছর কারাগারে থাকার পর মুক্তি পান তিনি। এর আগে ২০২১ সালের এপ্রিলেও তাকে আটক করা হয়েছিল; অনশন শুরু করার এক মাস পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রিমাওয়ির উদ্যোগটির নাম ছিল ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ঋণমুক্তি’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি শেকেল, অর্থাৎ ৪৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার সমপরিমাণ ঋণ মওকুফ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফিলিস্তিনিদের ঋণমুক্তি উদ্যোগের পর রামাল্লায় সাবেক সাংবাদিক আল-রিমাওয়িকে আটক
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৯৫ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।