ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ঘোষণা করেছে, তারা গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি স্বাধীন কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে তারা এই ভূখণ্ডের কোনো শাসনব্যবস্থার অংশ হতে চায় না। বৃহস্পতিবার হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, গাজার প্রশাসন তদারকির জন্য স্বাধীন একটি কমিটি গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে তারা এবং হামাস এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সহজ করবে ও কমিটির কাজে সহায়তা করবে।
কাসেম জোর দিয়ে বলেন, হামাস গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার এই বক্তব্য আসে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত গাজা-সংক্রান্ত জরুরি আরব শীর্ষ সম্মেলনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি প্রত্যাখ্যান করা হয়। ওই পরিকল্পনায় ছয় মাসের জন্য একটি অস্থায়ী প্রশাসনিক কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কমিটি হবে স্বাধীন, নিরপেক্ষ টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে গঠিত এবং ফিলিস্তিন সরকারের অধীনে কাজ করবে।
গাজার প্রশাসন স্বাধীন কমিটির হাতে দিতে প্রস্তুত হামাস, শাসন থেকে সরে দাঁড়াবে
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বৈষম্যমূলক নীতি ফিলিস্তিনিদের জন্য শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইল নিয়মতান্ত্রিকভাবে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে বৈষম্য চালাচ্ছে এবং তাদের চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। এতে পশ্চিম তীর থেকে সব ইহুদি বসতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয় এবং এই নীতিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের জন্য দুটি ভিন্ন আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে, যার ফলে ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও সম্পদ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, ইসরাইলের বৈষম্যমূলক আইন ও নীতি অধিকৃত পশ্চিম তীরে জীবনের সব ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও চাপ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর পর পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়েছে, এতে ১,১০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও অন্তত ২১ হাজার গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত ডিসেম্বরে ইসরাইলি সরকার নতুন ১৯টি ইহুদি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে।
জাতিসংঘ বলছে, পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নীতি ফিলিস্তিনিদের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ফেলেছে
চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার গাজাজুড়ে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজন শিশু। শুক্রবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলায় চারজন নিহত হন। গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় আরও চারজন এবং মধ্য গাজার বুরেইজ ও নুসেইরাত এলাকায় চারজন নিহত হন। উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকায় ১১ বছর বয়সী হামসা হাউসু নামে এক শিশু ইসরাইলি গুলিতে প্রাণ হারায়।
গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ওপর বৃহস্পতিবারের হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি)। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, ইসরাইল যুদ্ধবিরতি চুক্তি মানছে না এবং মিথ্যা নিরাপত্তা অজুহাতে ফিলিস্তিনিদের নির্মূল ও বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৪২৫ জন নিহত এবং ১,২০৬ জন আহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরাইলি হামলায় ১৪ জন নিহত, পাঁচজন শিশু
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ ভয়াবহ আর্থিক সংকটের কারণে ৫৭১ জন ফিলিস্তিনি কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর, লেবানন, জর্ডান ও সিরিয়ায় শরণার্থীদের সহায়তা দিয়ে আসা সংস্থাটি জানিয়েছে, অনুদান কমে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র এই আর্থিক সংকটকে অভূতপূর্ব বলে উল্লেখ করেছেন।
ইউএনআরডব্লিউএ জানায়, ২০২৫ সালে তাদের ব্যয় ছিল প্রায় ৮৮০ মিলিয়ন ডলার, কিন্তু অনুদান এসেছে মাত্র ৫৭০ মিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালেও বড় ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা মূলত গাজায় কর্মরত ছিলেন, তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই তারা গাজা ছেড়েছিলেন এবং ১০ মাসেরও বেশি সময় ধরে বেতন পাননি। মুখপাত্র বলেন, তারা কবে আবার দায়িত্বে ফিরতে পারবেন তা অনুমান করা অসম্ভব।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ইউএনআরডব্লিউএর ৩০০ জনেরও বেশি কর্মী নিহত হয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার কর্মী ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কাজ করছেন। ইসরাইল সংস্থাটির বিরুদ্ধে হামাসকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ এনে ফিলিস্তিনে তাদের কার্যক্রমে বাধা দিয়েছে।
অর্থসংকটে ইউএনআরডব্লিউএ ৫৭১ ফিলিস্তিনি কর্মী ছাঁটাই করেছে
গাজায় বুধবার ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তাদের সেনাদের ওপর হামলার জবাবে এই বিমান হামলা চালানো হয় এবং এতে হামাসের এক শীর্ষ যোদ্ধাকে লক্ষ্য করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, গাজা সিটির একটি বাড়িতে চালানো ওই হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, তবে নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হামাসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, বুধবার এর আগে হামাস যোদ্ধারা তাদের সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এর পরপরই ওই বিমান হামলা চালানো হয়, যার লক্ষ্য ছিল একজন জ্যেষ্ঠ হামাস যোদ্ধা, যিনি ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তবে ইসরাইলি সেনাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। একই দিনে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ এলাকায় ইসরাইল-সমর্থিত একটি ফিলিস্তিনি মিলিশিয়া দাবি করেছে, তারা হামাসের দুই সদস্যকে হত্যা করেছে।
ঘটনাগুলো গাজায় চলমান সহিংসতার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে, যেখানে ইসরাইলি বাহিনী ও স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত, হামাস যোদ্ধা ছিল লক্ষ্য
দখলদার ইসরাইলি বাহিনী পশ্চিম তীরে ব্যাপক আটক অভিযান চালিয়ে বহু ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সাংবাদিক ও এক কিশোরও রয়েছে। বেথলেহেমের উত্তরে আইদা শরণার্থী শিবির থেকে ২৫ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাংবাদিক এনাস ইখলাভিকে হেবরনের পশ্চিমে ইধনা শহরে তার বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়। তুলকারমের কাছে নুর শামস শরণার্থী শিবিরে অভিযান চালিয়ে ১৫ বছর বয়সী ইয়াজান আল-আলৌলকেও আটক করা হয়েছে। কালকিলিয়া, রামাল্লাহ ও তুবাসেও গ্রেপ্তার অভিযান হয়েছে।
বাসিন্দারা এসব অভিযানকে ব্যাপক বাড়ি তল্লাশি ও ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিন রাতেই পশ্চিম তীরে অভিযান চালায় এবং প্রতিবারই ফিলিস্তিনিদের আটক করে। ২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এসব অভিযান ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে।
গত দুই বছরে পশ্চিম তীরে ২১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৯,২৫০ জন ফিলিস্তিনি ইসরাইলি কারাগারে রয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৫০ শিশু ও প্রায় ৫০ নারী। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, বন্দিদের অনেককে অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আটক রেখে নির্যাতন, অনাহার, চিকিৎসা বঞ্চনা ও একাকী কারাবাসে রাখা হচ্ছে।
পশ্চিম তীরে ইসরাইলি অভিযানে সাংবাদিকসহ বহু ফিলিস্তিনি আটক
প্যালেস্টাইন জার্নালিস্টস সিন্ডিকেট জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইসরাইল ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ৯৯টি আইন লঙ্ঘন করেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে হত্যা, শারীরিক আক্রমণ, গ্রেপ্তার এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা। রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে, যা আনাদোলু সংস্থা উদ্ধৃত করেছে, বলা হয়েছে যে ইসরাইলি বাহিনী ফিলিস্তিনি সাংবাদিকতাকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে টার্গেট করার নীতি অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
সিন্ডিকেটের স্বাধীনতা কমিটি জানায়, গাজায় দায়িত্ব পালনের সময় একজন সাংবাদিক নিহত এবং দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সাংবাদিকদের দুই আত্মীয়ও নিহত হন। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৪৮ সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, টিয়ার শেল ও স্টান গ্রেনেডে ১৫টি আক্রমণ, গাড়িচাপা দেওয়ার দুটি চেষ্টা, অস্ত্র উঁচিয়ে নয়টি হুমকি এবং ছয়টি মৌখিক হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সাংবাদিকদের মারধর, সরঞ্জাম ধ্বংস এবং দুটি বাড়ি ধ্বংসের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে সংঘাত শুরুর পর থেকে ২৫৭ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি সেনারা শত শতবার তা লঙ্ঘন করেছে, এতে ৪২০ জন নিহত ও ১,১৮৪ জন আহত হয়েছেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ৯৯টি লঙ্ঘনের অভিযোগ ইসরাইলের বিরুদ্ধে
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরাইলি সেনাদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার যুদ্ধবিরতির ৮৪তম দিনে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ সেনাবাহিনীকে নতুন করে হামলা জোরদারের নির্দেশ দেন। সামরিক বাহিনী জানায়, গাজার সঙ্গে মিশরের রাফাহ সীমান্তপথ খুলে দেওয়ার কোনো নির্দেশনা তারা পায়নি। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় এক ব্যক্তি নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির মধ্যে মোট ৪১৬ জন নিহত ও ১,১৫৩ জন আহত হয়েছেন। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসনে গাজায় ৭১ হাজার ২৭১ জন নিহত ও এক লাখ ৭১ হাজার ২৩৩ জন আহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, গাজায় শীতল ও অস্থিতিশীল আবহাওয়া বিরাজ করছে এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মধ্য গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে ঠান্ডায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে ঠান্ডায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গাজার এক শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে তিনজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়ে সম্পদ ধ্বংস করছে এবং এক সপ্তাহে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি হামলা ও বৈরী আবহাওয়ায় গাজায় মানবিক সংকট
হলিউড অভিনেত্রী ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার সাবেক বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি শুক্রবার মিশরের রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পরিদর্শন করেছেন। তার প্রতিনিধিদের দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়, এটি ছিল এক মানবিক সফরের অংশ। সফরটি এমন সময়ে হয়, যখন ইসরাইল গাজায় কার্যরত কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। ইসরাইল জানিয়েছে, নিবন্ধন নবায়ন না করা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য সরবরাহ বাধ্যতামূলক।
ত্রাণ সংস্থাগুলো এই শর্তে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি দেখছে। সফরে জোলি মানবিক কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং এমন একটি গুদাম পরিদর্শন করেন, যেখানে গাজায় প্রবেশে নিষিদ্ধ চিকিৎসা সামগ্রী মজুত ছিল। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং দ্রুত ত্রাণ, জ্বালানি ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানো জরুরি।
দশটি দেশ সতর্ক করেছে যে গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। ইসরাইল দাবি করেছে, হামাসের অপব্যবহার ঠেকাতেই নতুন বিধি জারি করা হয়েছে, তবে জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো তা প্রত্যাখ্যান করেছে। কঠোর শীত, বৃষ্টি ও ঠান্ডায় গাজার অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
গাজায় ত্রাণ সংস্থা স্থগিতের মধ্যে রাফাহ সীমান্তে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সফর
ইসরাইল ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদের ওপর থেকে ফিলিস্তিনিদের কর্তৃত্ব বাতিল করে পরিকল্পনা ও নির্মাণক্ষমতা ইসরাইলি সংস্থাগুলোর হাতে তুলে দিয়েছে। ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারির এই পদক্ষেপে ফিলিস্তিনিরা সতর্ক করেছেন যে, এতে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ঐতিহাসিক শহরের ওপর ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হবে এবং মসজিদের মর্যাদা স্থায়ীভাবে পরিবর্তনের ঝুঁকি তৈরি করবে।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র ও প্রবাসী মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি ইব্রাহিমি মসজিদের আইনি ও ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থার সরাসরি লঙ্ঘন। মন্ত্রণালয় জানায়, পৌরসভা ও ইসলামিক ওয়াকফের এখতিয়ার বাতিল করা ইসরাইলের একতরফা নিয়ন্ত্রণ আরোপের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা মসজিদের উঠানে ছাদ নির্মাণের অনুমোদনকেও বেআইনি বলে অভিহিত করেছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এই পদক্ষেপ উন্নয়নের জন্য নয়, বরং দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা ও ইব্রাহিমি মসজিদকে জোরপূর্বক পরিবর্তনের পরিকল্পিত প্রচেষ্টা, যা ফিলিস্তিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিদর্শনকে হুমকির মুখে ফেলবে।
ইব্রাহিমি মসজিদের কর্তৃত্ব সরিয়ে ইসরাইল, ফিলিস্তিনের তীব্র নিন্দা
প্যালেস্টাইন জার্নালিস্টস সিন্ডিকেট (পিজেএস) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ইসরাইল ৪২ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে আটক করেছে, যাদের মধ্যে আটজন নারী। প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকৃত পশ্চিম তীর, জেরুজালেমসহ বিভিন্ন স্থানে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অথবা সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের আটক করা হয়েছে।
পিজেএস জানায়, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের তুলনায় আটক সংখ্যা কমলেও ইসরাইল প্রভাবশালী সাংবাদিকদের বারবার আটক করছে, অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে রাখছে এবং তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের ওপর আক্রমণের খবর সংগ্রহের সময়ও সাংবাদিকদের আটক করা হয়েছে।
পিজেএসের অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা ও সত্য প্রচারে বাধা দিতেই ইসরাইল সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করছে।
২০২৫ সালে ৪২ ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে আটক করেছে ইসরাইল, জানাল পিজেএস
ইসরাইলি বাহিনী বুধবার দখলকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের নূর শামস শরণার্থী শিবিরে অন্তত ২৫টি ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এসব ভবনে প্রায় ১০০টি পরিবার বসবাস করত। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এটি সশস্ত্র গোষ্ঠী নির্মূলের অংশ হিসেবে পরিচালিত একটি অভিযান।
নূর শামস শিবির দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি যোদ্ধা ও ইসরাইলি বাহিনীর সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। বুধবার ভোরে বুলডোজার ও ক্রেন ব্যবহার করে ভবনগুলো ধ্বংস করা হয়, ফলে আকাশে ধুলোর কুণ্ডলি ছড়িয়ে পড়ে। শিবিরের বাসিন্দা মুতাজ মাহর বলেন, ঘরবাড়ি ও স্মৃতি হারানো অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং দখলদার বাহিনী তাদের ক্লান্ত করতে চাইছে।
শিবিরের জনপ্রিয় কমিটির সদস্য নিহায়া আল-জেন্দি জানান, বছরের শুরুতেই শত শত পরিবার ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল এবং এখনো দেড় হাজারের বেশি পরিবার ফিরতে পারেনি। তিনি একে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেন।
নূর শামস শরণার্থী শিবিরে ২৫ ভবন গুঁড়িয়ে দিল ইসরাইলি বাহিনী, বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় শীত ও বৈরি আবহাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক শরণার্থী সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে তিনি বলেন, গাজার ফিলিস্তিনিরা জলাবদ্ধ তাঁবু ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে আছে, অথচ প্রয়োজনীয় সাহায্য সরবরাহের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, ত্রাণ সরবরাহে বাধা না থাকলে ইউএনআরডব্লিউএ তাদের কার্যক্রম বহুগুণ বাড়াতে পারবে।
গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈরি আবহাওয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষের জরুরি চাহিদা মেটাতে প্রায় দুই লাখ প্রিফেব্রিকেটেড আবাসন ইউনিট প্রয়োজন। শীতকালীন ঝড়ে হাজার হাজার তাঁবু প্লাবিত হয়েছে ও কিছু উড়ে গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপর্যস্ত করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গাজার মানুষ বৈরি আবহাওয়া, ভবন ধস ও বন্যার সঙ্গে লড়াই করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি সেনা অভিযানে গাজায় ৭১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু, এবং আহত হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি।
বৈরি আবহাওয়ায় গাজায় ত্রাণ সংকট ও মানবিক বিপর্যয় বাড়ছে
গাজা সিটিতে রোববার তীব্র ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে একটি ভবন ধসে এক ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, আল-রিমাল এলাকায় একটি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির দেয়াল ভেঙে পড়ে ৩০ বছর বয়সী ওই নারীর তাঁবুর ওপর। বাড়িটি পূর্বে ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
রাতভর ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে গাজাজুড়ে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু তলিয়ে যায় বা উপড়ে পড়ে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস উপকূলে শত শত তাঁবু নিম্নচাপজনিত সাগরের উঁচু ঢেউয়ে প্লাবিত হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়া জীর্ণ তাঁবু ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাসরত বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য গুরুতর বিপদ তৈরি করেছে। অক্টোবর ২০২৩ থেকে এসব এলাকা বারবার ইসরাইলি হামলার শিকার হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, ইসরাইল গাজায় অভিযান শুরুর পর থেকে সহায়তা ও মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজায় ৭১,২০০–এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১,৭১,২০০–এর বেশি আহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গাজায় ঝড়ে ভবন ধসে ফিলিস্তিনি নারী নিহত, মানবিক সংকট আরও গভীর
ইসরাইলের দুই বছরের সামরিক অভিযানে বাস্তুচ্যুত হাজারো ফিলিস্তিনি শীতকালীন বৃষ্টিতে নতুন করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শনিবার গাজা উপত্যকার ওপর দিয়ে তীব্র নিম্নচাপ বয়ে যায়, সঙ্গে ছিল ভারী বর্ষণ ও দমকা হাওয়া, যা তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়গুলো প্লাবিত করে। আবহাওয়াবিদ লাইথ আল-আল্লামি আনাদোলুকে জানান, এটি চলতি শীতের তৃতীয় নিম্নচাপ এবং সোমবার থেকে চতুর্থটি শুরু হতে পারে।
২০২৩ সালে ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে বহু পরিবার তাঁবুতে বসবাস করছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, বৃষ্টি বাড়লে তা পূর্ণ মাত্রার ঝড়ে রূপ নিতে পারে। বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে তাঁবু ভেঙে পড়ছে, আয় না থাকায় শিশুদের জন্য পোশাক ও গদি জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। মাসের শুরুতে ভারী বৃষ্টিতে গাজাজুড়ে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্লাবিত হয়।
ডিসেম্বরে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। প্রবল ঠান্ডা ও ভেজা আবহাওয়ায় হাইপোথার্মিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মানবিক সংস্থাগুলো আরও আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছে।
গাজায় শীতের বৃষ্টিতে প্লাবিত তাঁবু, বাস্তুচ্যুতদের দুর্ভোগ বেড়েছে
শনিবার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা দুই বছরের বেশি সময় পর ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও ইসরাইলি বাহিনী স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে। আড়াই মাসে ৪০০’র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত ৪৮ ঘণ্টায় চারজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন, পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ থেকে ২৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১১ অক্টোবর থেকে শনিবার পর্যন্ত ৪১৪ জন নিহত ও ১,১৪২ জন আহত হয়েছেন, এবং মোট ৬৭৯ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৭১,২৬৬ এবং আহতের সংখ্যা ১,৭১,২১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। একই দিনে গাজা শহর, জাবালিয়া ও খান ইউনুসে বিমান হামলা এবং মাগাজি ও নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে কামানের গোলাবর্ষণ চালায় ইসরাইলি বাহিনী।
পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীরা অভিযান চালাচ্ছে। জেনিনের কাবাতিয়া গ্রামে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, নাবলুসে হামলা এবং হেবরন এলাকায় কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে
২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরে নামাজরত এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তির ওপর গাড়ি চালিয়ে দেন ইসরাইলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) এক সদস্য। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। ভিডিওতে দেখা যায়, বেসামরিক পোশাক পরা এক ব্যক্তি বন্দুক কাঁধে ঝুলিয়ে একটি এটিভি গাড়ি চালিয়ে নামাজরত ফিলিস্তিনিকে ধাক্কা দেন এবং পরে তাকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন। আইডিএফ নিশ্চিত করেছে, গাড়িচালক একজন রিজার্ভ সৈন্য ছিলেন এবং তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আহত ফিলিস্তিনির নাম মাজদি আবু মুখো। ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর বাবা জানান, বর্তমানে তিনি বাড়িতে থাকলেও দুই পায়ে তীব্র ব্যথা রয়েছে এবং অভিযোগ করেন যে সেনা তার ছেলের চোখে মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়েছিল। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার রেকর্ড হয়েছে, যা বছরটিকে সহিংস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলের আগ্রাসনে গাজায় ৭১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
পশ্চিম তীরে নামাজরত ফিলিস্তিনিকে গাড়ি তুলে আহত করায় বিশ্বজুড়ে নিন্দা
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ১৭০ জন চিকিৎসক স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বৃহস্পতিবার গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের সামনে স্নাতক সমাপণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। একসময় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বৃহত্তম হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি ইসরাইলি হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে অধিকাংশ ভবন ও সরঞ্জাম ধ্বংস বা অকেজো হয়ে পড়ে।
স্নাতকরা দুই বছরের অনাহার, বাস্তুচ্যুতি ও গণহত্যার মধ্যেও হাসপাতালে কাজ ও পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং পরে পরীক্ষা দেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইউসুফ আবু আল-রেইশ এই অনুষ্ঠানকে ‘বোমাবর্ষণ, ধ্বংসস্তূপ ও রক্তনদীর মধ্য দিয়ে’ অর্জিত সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেন। স্নাতক ড. আহমেদ বাসিল বলেন, ধ্বংসের মধ্যেও উন্নত ডিগ্রি অর্জন ফিলিস্তিনিদের জীবনের প্রতি ভালোবাসা ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে।
অনুষ্ঠানে যুদ্ধের সময় নিহত স্বাস্থ্যকর্মীদের স্মরণে তাদের ছবি সম্বলিত খালি চেয়ার রাখা হয়।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আল-শিফা হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপে ১৭০ চিকিৎসকের স্নাতক সম্পন্ন
নতুন বছরের শুরুতেই গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইসরাইলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইসরাইল ও মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন যে জানুয়ারির প্রথম দিকেই এই ধাপ শুরু হবে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ছাড়াই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারেন।
ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় গত ৯ অক্টোবর ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস দুই ধাপের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলের চুক্তি লঙ্ঘন ও দ্বিতীয় ধাপে যেতে বিলম্বের কারণে ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু, এবং আহত হয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন ধাপটি যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার কার্যকারিতা পরীক্ষা করবে।
জানুয়ারির শুরুতে গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা
ফিলিস্তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি সেনা অভিযান ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এক সপ্তাহের মধ্যে পশ্চিম তীরে ৮,০০০-এর বেশি জলপাই গাছ ধ্বংস হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে উত্তর ও মধ্য অঞ্চলে—জেনিনের সিলাত আল-হারিথিয়ায় ৫,০০০ এবং রামাল্লার তুরমুস আয়্যায় ৩,০০০ জলপাই গাছ ধ্বংস হয়েছে। তুলকারেম, ক্বালকিলিয়া, সালফিত, বেথলেহেম ও পূর্ব জেরুজালেমেও ডুমুর ও জলপাই গাছ ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, কৃষি অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে—১৩টি জলকূপ ও কৃষি ঘর ধ্বংস, সেচ ব্যবস্থায় ক্ষতি, জল পাম্প চুরি, ৮২টি মৌচাক ধ্বংস এবং পশুপালনে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। এই হামলাকে তারা “সিস্টেম্যাটিক নীতি” হিসেবে বর্ণনা করেছে, যার উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনি জমি দখল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্থানান্তর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারা রোপণ ও ফসল তোলার সময় সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা অন্তত ১,১০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা, ১১,০০০ জনকে আহত এবং ২১,০০০ জনকে আটক করেছে। জুলাই ২০২৪-এ আন্তর্জাতিক বিচার আদালত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলের দখলকে অবৈধ ঘোষণা করে সব বসতি খালি করার আহ্বান জানায়।
ইসরাইলি হামলায় পশ্চিম তীরে ৮,০০০ জলপাই গাছ ধ্বংস, ক্ষতি ৭০ লাখ ডলার
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৭১ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।