ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই গ্রীষ্মে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন মঙ্গলবার জানান, শিশুদের সুরক্ষা জোরদার করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনাটি শিশুদের আসক্তিকর অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কঠোর নিয়ন্ত্রণের পক্ষে সমর্থন বেড়েছে। ফ্রান্স, স্পেন, গ্রিস ও ডেনমার্ক এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে। কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় সামিট অন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড চিলড্রেনে ভন ডার লিয়েন বলেন, প্রযুক্তি দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং এটি শৈশব ও কৈশোরের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবেশ করছে।
ইইউভুক্ত কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে জাতীয় আইন প্রণয়নের পথে রয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন অনলাইন শিশু সুরক্ষার বিষয়ে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করেছে, যা অপ্রাপ্তবয়স্কদের আসক্তি ও সামাজিক উদ্বেগ মোকাবিলায় সম্ভাব্য পদক্ষেপ মূল্যায়ন করবে। অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া ইতোমধ্যে একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।
শিশুদের সুরক্ষায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের পরিকল্পনা আনছে ইইউ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। হাঙ্গেরিতে সরকার পরিবর্তনের পর কয়েক মাসের অচলাবস্থা কাটিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাতজন বসতি স্থাপনকারী বা সংগঠনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপে সম্মত হয়েছে ইইউ।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারো জানান, পশ্চিম তীরে উগ্র ও সহিংস বসতি স্থাপন কার্যক্রমে জড়িত সংগঠন ও নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের বিরোধিতার কারণে পদক্ষেপটি এতদিন আটকে ছিল, তবে পিটার মাগইয়ার ক্ষমতায় আসার পর ভেটো প্রত্যাহার হওয়ায় পথ খুলে যায়। ইইউ মন্ত্রীরা পশ্চিম তীরের বসতি থেকে আসা পণ্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা করেছেন, যদিও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইসরাইল নতুন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর একে ইউরোপের নৈতিক দেউলিয়াত্ব বলে মন্তব্য করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির ইইউকে ‘ইহুদি বিদ্বেষী’ আখ্যা দেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
হাঙ্গেরির ভেটো প্রত্যাহারের পর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতার দায়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন উগ্র ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ১২ মে ২০২৬ তারিখে ঘোষিত এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কয়েক মাসের অচলাবস্থা কাটিয়ে জোটটি পদক্ষেপ নেয়। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেন, সহিংসতা ও চরমপন্থার ফল ভোগ করতে হবে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় সংশ্লিষ্ট বসতি স্থাপনকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং তাদের ওপর ইউরোপীয় দেশগুলোতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে বাড়লেও ইইউর অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে সিদ্ধান্তটি ঝুলে ছিল।
অবশেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পদক্ষেপ চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নির্দেশ করছে এবং পশ্চিম তীরের সহিংসতা মোকাবিলায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
পশ্চিম তীরে সহিংসতার ঘটনায় উগ্র ইসরাইলিদের ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞা
২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধের পর ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যেখানে ইউরোপীয় দেশগুলো ‘কৌশলগত হেজিং’ নীতি অনুসরণ করে একক পরাশক্তির সঙ্গে সম্পূর্ণ জোটবদ্ধ না থেকে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখছে। ইউরোপ এখন স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে ইরান যুদ্ধ তাদের যুদ্ধ নয়, এবং তারা নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অগ্রাধিকারের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এই পরিবর্তনের তিনটি মূল দিক হলো—প্রাতিষ্ঠানিক দূরত্ব সৃষ্টি, অর্থনৈতিক ভারসাম্য পুনর্গঠন এবং বহুমুখী কূটনীতি। ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের বিকল্প উদ্যোগ নিচ্ছে, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছে এবং তুরস্ক, সৌদি আরব ও ভারতের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক পথ খুলছে। এসব পদক্ষেপ ইউরোপের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রতিফলন।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ১৯৪৫ সালের পর পশ্চিমা জোটব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। ইউরোপ এখন নিজেকে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে একটি সার্বভৌম মেরু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
ইরান যুদ্ধের পর ইউরোপের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও বহুমেরুকেন্দ্রিক কূটনীতির পথে অগ্রসরতা
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, ইউরোপ কোনো লেনদেনভিত্তিক, অন্তর্মুখী ও কঠোর বৈশ্বিক ব্যবস্থার কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। সোমবার আর্মেনিয়ার ইয়েরেভানে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় পলিটিক্যাল কমিউনিটি (ইপিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার পুনর্গঠন ইউরোপ থেকেই শুরু হতে পারে। কার্নি ইউরোপের বাইরের প্রথম নেতা হিসেবে এই সম্মেলনে অংশ নেন, যা রাশিয়ার প্রভাব থেকে আর্মেনিয়াকে দূরে রাখার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সম্মেলনটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ায় ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, অনেক জোট এখন আগের মতো নেই, আর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় ইউরোপকে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
ইইউ পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস ও ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে উভয়েই বলেন, ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করা জরুরি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে।
কার্নি বললেন, ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েনে ইউরোপই নতুন বৈশ্বিক শৃঙ্খলার নেতৃত্ব দেবে
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুত্তে জানিয়েছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা বুঝে এখন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সমর্থন না দেওয়ার ট্রাম্পের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আর্মেনিয়ায় অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় পলিটিক্যাল কমিউনিটির এক শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের রুত্তে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছুটা হতাশা ছিল, তবে ইউরোপীয়রা তা শুনেছে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করছে। ট্রাম্পের কঠোর বার্তার পর ন্যাটো দেশগুলোর অবস্থানে এই পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইউরোপীয় মিত্ররা এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রত্যাশার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে নিজেদের অবস্থান সমন্বয় করছে, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।
ন্যাটো প্রধানের মতে, ট্রাম্পের বার্তা অনুযায়ী সামরিক ঘাঁটি চুক্তিতে কাজ করছে ইউরোপ
ইউরোপীয় ফুটবলের ২০২৫–২৬ মৌসুম শেষের পথে, আর শীর্ষ লিগগুলোর শিরোপা লড়াই এখন প্রায় নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। জার্মান বুন্দেসলিগায় ইতোমধ্যে শিরোপা জিতেছে বায়ার্ন মিউনিখ। স্পেনের লা লিগায় ৩৩ রাউন্ড শেষে ৮৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা, আর রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৭৪। গতকাল বার্সেলোনা খেলেছে ওসাসুনার বিপক্ষে, আজ রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ এসপানিওল। বার্সেলোনা জিতলে এবং রিয়াল হারলে বা ড্র করলে নিশ্চিত হবে কাতালানদের ২৯তম লা লিগা শিরোপা।
ইতালির সিরি’এতেও উত্তেজনা তুঙ্গে। ৩৪ ম্যাচ শেষে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইন্টার মিলান, দ্বিতীয় স্থানে নাপোলি ৬৯ এবং তৃতীয় স্থানে এসি মিলান ৬৭ পয়েন্টে। লিগে বাকি মাত্র চার ম্যাচ, ফলে পার্মার বিপক্ষে জয় পেলেই ইন্টার নিশ্চিত করবে তাদের ২১তম শিরোপা।
মে মাসের এই শেষ ধাপে ইউরোপীয় ফুটবলে শিরোপা দৌড় এখন চরম উত্তেজনায়, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই বদলে যেতে পারে পুরো মৌসুমের ভাগ্য।
ইউরোপীয় মৌসুমের শেষ প্রান্তে শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে বার্সেলোনা ও ইন্টার মিলান
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) ইউরো ব্যবহারকারী ২১টি দেশের জন্য মূল আমানত সুদের হার ২ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল ঘোষিত এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্যাংক জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ায় এই হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে এই হার একই রয়েছে।
ইসিবি সতর্ক করেছে যে যুদ্ধের কারণে ইউরোজোনে প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা আগের তুলনায় বেশি। বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখাকে যৌক্তিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এবং বাজারে অস্থিরতা কমানো।
যুদ্ধজনিত ঝুঁকিতে ইসিবি ২ শতাংশ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখল
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিজ্ঞানীদের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সাল ইউরোপের ইতিহাসে অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বছর ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, রেকর্ড দাবানল, হিমবাহ গলন ও খরার মতো চরম জলবায়ুগত ঘটনা দেখা গেছে। ডব্লিউএমও’র তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ড ও ককেশাসসহ বিবেচনায় নিলে ২০২৫ সালই ইউরোপের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর ছিল, আর কোপারনিকাসের তথ্য অনুযায়ী এটি দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের প্রায় ৯৯ শতাংশ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ডব্লিউএমও সতর্ক করেছে, চলতি বছরের শেষে একটি শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হতে পারে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। যুক্তরাজ্যের মেট অফিস জানিয়েছে, এটি “সুপার এল নিনো”তে রূপ নিতে পারে, যা শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে।
প্রতিবেদন আরও জানায়, ২০২৫ সালে দাবানল, সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও হিমবাহ গলনের প্রভাব ছিল নজিরবিহীন। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ইউরোপ অন্যান্য মহাদেশের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে এবং এখনই বড় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
২০২৫ সালে ইউরোপে রেকর্ড তাপমাত্রা, এল নিনো আরও উষ্ণতা বাড়াতে পারে
ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আগামী কয়েক মাসে তীব্র জ্বালানি ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুইডেনের অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী বিশেষভাবে জানিয়েছেন, বিমানের জ্বালানি বা জেট ফুয়েল মজুদ নিয়ে উদ্বেগের বড় কারণ রয়েছে।
সুইডেন সরকার এর আগে জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ তাদের অর্থনীতিতে সীমিত প্রভাব থেকে এখন উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে এবং প্রয়োজনে জ্বালানি রেশনিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামীকাল অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ওপেক ও ওপেক প্লাসের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেষ অংশগ্রহণ হতে যাচ্ছে, কারণ দেশটি ১ মে থেকে জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থায় তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, যা ইউরোপ ও ভারতের মতো বড় বাজারে সংকট আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেল সরবরাহ ব্যাহত, ইউরোপে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা
এয়ার ফ্রান্স কেএলএম গ্রুপের স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা ট্রান্সএভিয়া জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা মে ও জুন মাসে কিছু ফ্লাইট বাতিল করবে। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানান, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলো মোট সূচির প্রায় ২ শতাংশ। যেসব যাত্রীর ফ্লাইট বাতিল হবে, তাদের জন্য বিনা মূল্যে সময় পরিবর্তন, ভাউচার বা সম্পূর্ণ অর্থ ফেরতের সুযোগ দেওয়া হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি সংকট ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। ইউরোপ সাধারণত তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানির প্রায় অর্ধেক উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আমদানি করে। তবে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ হাইড্রোকার্বন এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ইইউর জ্বালানি কমিশনার ড্যান জর্গেনসেন সতর্ক করেছেন, ইউরোপ দ্রুত জ্বালানি সংকটের দিকে এগোচ্ছে, যা জ্বালানির দাম আরও বাড়াতে পারে এবং বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট বাতিলের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ট্রান্সএভিয়া ইতোমধ্যে প্রতি রাউন্ড ট্রিপে গড়ে ১০ ইউরো পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়েছে।
জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় মে-জুনে ফ্লাইট বাতিল করছে ট্রান্সএভিয়া
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অতিরিক্ত ২৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে, যা প্রতিদিন গড়ে ৫৮৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ২৫ এপ্রিল ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যয়বৃদ্ধির চাপ কমাতে ইইউ একগুচ্ছ জরুরি পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, পাঁচ বছরেরও কম সময়ে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপ আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতার কারণে বড় অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে, যা ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর নতুন সংকট তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা ও বিমানবন্দর শিল্প সংগঠন সতর্ক করেছে যে ইউরোপ বিমানের জ্বালানির প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি করে, যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘাটতির মুখে পড়তে পারে। তারা সদস্য দেশগুলোকে বিমান চলাচলসংশ্লিষ্ট কর স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ইউরোপের অনেক জেলে মাছ ধরা বন্ধ করেছেন, আর জার্মান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ জার্মানির অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুতর আঘাত হেনেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ইউরোজোনের ২১টি দেশ ও যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপের জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে ২৮ বিলিয়ন ডলার
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনের এক মন্তব্যকে ঘিরে ইউরোপে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। জার্মান সংবাদপত্র ডি সাইট-এর ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হামবুর্গে এক অনুষ্ঠানে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্প্রসারণে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, ইউরোপকে রাশিয়া, তুরস্ক বা চীনের প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। এই বক্তব্যে তুরস্ককে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে একসঙ্গে উল্লেখ করায় তাৎক্ষণিক সমালোচনা শুরু হয়।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য রুডি কেনেস ও মার্ক বোতেঙ্গা বলেন, এ ধরনের মন্তব্য বিশ্বকে বিপরীতমুখী ব্লকে বিভক্ত করার ঝুঁকি তৈরি করে এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে। আনাদলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেনেস বলেন, পশ্চিমা প্রভাব এখন হ্রাস পাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নীতিই এই বিভাজনকে বাড়াচ্ছে।
পরে ইউরোপীয় কমিশন এক বিবৃতিতে জানায়, তুরস্ক ইইউর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও ট্রান্স-ক্যাস্পিয়ান মিডল করিডর উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তুরস্ককে রাশিয়া-চীনের সঙ্গে তুলনা করে ইউরোপে বিতর্কে ইইউ প্রধান
ফিলিস্তিনে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ইউরোভিশন সঙ্গীত প্রতিযোগিতা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন এক হাজারেরও বেশি শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী। ‘নো মিউজিক ফর জেনোসাইড’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তারা ইউরোপীয় ব্রডকাস্টিং ইউনিয়নকে (ইবিইউ) আহ্বান জানিয়েছেন, ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচার সংস্থা কেএএন-কে বাদ না দিলে শিল্পী, সম্প্রচারকারী, কর্মী ও ভক্তরা যেন প্রতিযোগিতাটি বর্জন করেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে ২০২২ সালে রাশিয়াকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হলেও ইসরাইলকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া ইবিইউ-এর নীতির ভণ্ডামি প্রকাশ করে। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ব্রায়ান ইনো, ম্যাসিভ অ্যাটাক, নি-ক্যাপ, রজার ওয়াটার্সসহ প্রাক্তন ইউরোভিশন বিজয়ী এমিলি ডি ফরেস্ট ও চার্লি ম্যাকগেটিগান।
বিবৃতিতে স্পেন, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও নেদারল্যান্ডসের সম্প্রচারকারী ও প্রতিযোগীদের প্রশংসা করা হয়েছে, যারা প্রতিবাদস্বরূপ নিজেদের প্রত্যাহার করেছেন বা অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ইউরোভিশনের পরবর্তী আসর ১২ থেকে ১৬ মে অস্ট্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
ইসরাইলকে বাদ না দিলে ইউরোভিশন বর্জনের আহ্বান এক হাজারেরও বেশি শিল্পীর
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হরমুজ প্রণালি অবরোধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নতুন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস। লুক্সেমবার্গে ইইউ সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে তিনি জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কাজা কালাস সদস্য দেশগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যে ইইউর বর্তমান নৌ-মিশন শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। এই মিশন বর্তমানে লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দিচ্ছে। তিনি প্রস্তাব করেন, মিশনের সক্ষমতা বাড়িয়ে আঞ্চলিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা আরও সুনিশ্চিত করা হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ চলছে, যা ইইউ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে মিশনের পরিধি হরমুজ পর্যন্ত বাড়ানো হবে কি না, তবে ইইউ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার কৌশল নিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি অবরোধে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়াচ্ছে ইইউ, নৌ-মিশন শক্তিশালী করার আহ্বান
ইউরোপীয় ইউনিয়ন সতর্ক করেছে যে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে ইউরোপসহ পুরো বিশ্বের জন্য এর পরিণাম হবে বিপর্যয়কর। চলমান সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবহন মন্ত্রীদের এক জরুরি ভিডিও কনফারেন্সে পরিবহন কমিশনার অ্যাপোস্টোলোস তজিৎজিকোস্টাস এই সতর্কবার্তা দেন। তিনি জানান, ইউরোপের বিমানবন্দরগুলোতে জেট ফুয়েলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং ইইউ যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উৎস থেকে বিকল্প জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
তবে জ্বালানি সংকট থাকা সত্ত্বেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন তজিৎজিকোস্টাস। তিনি বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসে ব্যাপকভাবে ফ্লাইট বাতিলের কোনো লক্ষণ নেই এবং মানুষের জীবনযাত্রা বা যাতায়াতে এখনই হস্তক্ষেপের প্রয়োজন দেখা যাচ্ছে না।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা জানাল ইইউ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে সম্ভাব্য জেট ফুয়েল সংকট মোকাবিলায় আগেভাগে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)। শুক্রবার সংস্থাটির প্রধান উইলি ওয়ালশ সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপে বিমান জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তিনি জানান, মে মাসের শেষ নাগাদ ইউরোপে জেট ফুয়েলের অভাবে কিছু ফ্লাইট বাতিল হতে পারে এবং এশিয়ার কিছু অঞ্চলে ইতোমধ্যে এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হয়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর ফলেই বিমান জ্বালানির সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। ওয়ালশ বলেন, জেট ফুয়েলের ঘাটতি দেখা দিলে প্রয়োজনে রেশনিং ব্যবস্থা কার্যকর করতে কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ও সমন্বিত পরিকল্পনা থাকা উচিত।
ইইউ জ্বালানি কমিশনার ড্যান জর্গেনসেন জানান, জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় শিগগিরই কিছু ফ্লাইট বাতিল হতে পারে এবং সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জেট ফুয়েল ভাগাভাগির পরামর্শ দেন। তবে ইইউ মুখপাত্র আনা-কাইসা ইতকোনেন বলেন, এখনো ব্যাপক ফ্লাইট বাতিলের মতো কোনো পদ্ধতিগত সংকটের লক্ষণ নেই।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ইউরোপে জেট ফুয়েল সংকটের আশঙ্কায় সতর্কতা
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করেছেন যে ইউরোপে মাত্র প্রায় ছয় সপ্তাহের জেট জ্বালানি মজুদ রয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা ইউরোপে ফ্লাইট বাতিলের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এটি ইতিহাসের অন্যতম বড় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে রূপ নিতে পারে।
বিরোল উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। যত বেশি সময় এই সংকট চলবে, ততই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমবে এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। তিনি সতর্ক করেন, জ্বালানি খাতে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে, যার ফলে পেট্রোল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়বে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ইউরোপে ছয় সপ্তাহের মধ্যে জেট জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বায়ার্ন মিউনিখ। ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথম লেগে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা জার্মান ক্লাবটি দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচের শুরুতেই মাত্র ৩৫ সেকেন্ডে আরদা গুলার গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন, যা ছিল ক্লাবটির চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের দ্রুততম গোল। ষষ্ঠ মিনিটে আলেকজান্ডার পাভলোভিচ সমতা ফেরান, তবে ২৯তম মিনিটে গুলার আবারও রিয়ালকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে হ্যারি কেন ও কিলিয়ান এমবাপে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে খেলা। ৮৭ মিনিটে কামাভিঙ্গা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে রিয়াল ১০ জনের দলে পরিণত হয়। এরপর ৮৯ মিনিটে লুইস দিয়াজ ও ইনজুরি সময়ে মাইকেল অলিস গোল করে বায়ার্নের জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয়ে সেমিফাইনালে ফরাসি ক্লাব পিএসজির মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ।
রিয়ালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠল বায়ার্ন মিউনিখ
হরমুজ প্রণালি আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় চালু না হলে ইউরোপে মারাত্মক জেট জ্বালানির সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় বিমানবন্দরগুলোর সংগঠন এসিআই ইউরোপ। ইউরোপীয় কমিশনের জ্বালানি ও পর্যটন বিষয়ক কমিশনারদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সংস্থাটি জানায়, সদস্যদের মধ্যে জেট জ্বালানির প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংস্থার মহাপরিচালক বলেন, জ্বালানির ঘাটতি বিমানবন্দর পরিচালনা ও আকাশপথে যোগাযোগকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে, যা ইউরোপের অর্থনীতি ও জনগণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে ইউরোপের প্রায় ৫০ শতাংশ জেট জ্বালানি আমদানি হয়। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে কাঠামোগত জ্বালানি সংকট অনিবার্য হবে। সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে কয়েকটি এয়ারলাইন ফ্লাইট কমিয়েছে এবং যাত্রী ভাড়া বাড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে ইউরোপে জেট জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে প্রতি টন ১,৮৩৮ ডলার হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল ৮৩১ ডলার।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে ইউরোপে জেট জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৬০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।