সোমালিয়ার ২৭ বছর বয়সি নারী সাজিয়া মোলিম আলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার সমালোচনার অভিযোগে পাওয়া তিন বছরের সাজা বাতিল হওয়ার পর ১২ আগস্ট মুক্তি পান। বানাদির আঞ্চলিক আপিল আদালত তার দণ্ড ও সাজা বাতিল করে মুক্তির নির্দেশ দেয়। মোগাদিশুতে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, জ্বালানির উচ্চমূল্য, সরকারি স্বজনপ্রীতি ও বেকারত্ব নিয়ে টিকটক ও ফেসবুকে কথা বলতেন তিনি।
আলী দাবি করেন, গ্রেপ্তারের দুই দিন আগে দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেন এবং থানায় তাকে মারধর করা হয়। শুরুতে তিনি আইনজীবীর সহায়তা বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগের তথ্য পাননি। পরে মোগাদিশু কেন্দ্রীয় কারাগারে তাকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কারাগারের নারী শাখার অতিরিক্ত ভিড়, আলো-জানালার অভাব ও দরজাবিহীন টয়লেটের কথাও তিনি জানান।
প্রায় এক মাস পর তিনি আইনজীবী পান। ২৫ জুন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অবমাননার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়; অপরাধ সংঘটনে উসকানির অভিযোগে তিনি দোষী হননি। সাবেক প্রেসিডেন্ট শরিফ শেখ আহমেদ, কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা ও মানবাধিকার সংগঠন সাজার নিন্দা জানায়। মুক্তির পরও হুমকির কথা জানিয়ে তিনি সোমালিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং মানসিক সহায়তা নেওয়া, বন্দি নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা ও বই লেখার কথা বলেন।
আপিলে সাজা বাতিলের পর মুক্তি পেলেন সোমালি নারী সাজিয়া মোলিম আলী
সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামাদ বলেছেন, তাঁর দেশ কোনো পরিস্থিতিতেই ইসরাইলি উপস্থিতি মেনে নেবে না। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে সোমালিয়াকে জড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। তাঁর দাবি, ইসরাইল সোমালিল্যান্ডের বন্দরনগরী বারবেরায় নৌঘাঁটি স্থাপন এবং বিমানবন্দর ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।
মোহামাদের অভিযোগ, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ইসরাইল উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরানের কাছাকাছি একটি কৌশলগত অবস্থান তৈরি করতে চায়। বারবেরা সোমালিল্যান্ডের এডেন উপসাগরীয় উপকূলের একটি বন্দর শহর। উত্তর-পশ্চিম সোমালিয়ার স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র সোমালিল্যান্ডের ওপর মোগাদিশু সরকারের দাবি বজায় আছে। প্রেসিডেন্ট ইসরাইলকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, দেশটি আন্তর্জাতিক আইন মানে না।
সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সোমালিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদার বলেছেন মোহামাদ। তিনি জানান, আল-শাবাব বড় শহরগুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ইথিওপিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও তিনি ইতিবাচক মন্তব্য করেন। অর্থনৈতিক স্বার্থে সোমালিয়ার বন্দর ব্যবহার করে ইথিওপিয়ার সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকারে মোগাদিশুর আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।
সোমালিয়ায় ইসরাইলি উপস্থিতি প্রতিহত করা হবে, বললেন প্রেসিডেন্ট
সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মদ দেশটির সেনাবাহিনী পুনর্গঠন, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তুরস্কের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি বিশেষায়িত গরগর বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শন করেছেন। তুরস্কের প্রশিক্ষণে গড়ে ওঠা এই বাহিনীর সদস্যরা সম্প্রতি উন্নত সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
পরিদর্শনের সময় প্রেসিডেন্ট সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ইউনিট কমান্ডার ও সামরিক কর্মকর্তারা তাঁকে বাহিনীর চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি ঘাঁটির প্রশাসনিক ইউনিট, সেনাসদস্যদের আবাসন, হাসপাতাল ও বিভিন্ন লজিস্টিক সুবিধাও ঘুরে দেখেন। সেনাদের সার্বিক অবস্থা, তাদের জন্য দেওয়া সুযোগ-সুবিধা এবং জাতীয় দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতির প্রশংসা করেন তিনি।
সোমালিয়ার নিরাপত্তা রক্ষা ও জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গরগর বাহিনীর ভূমিকারও প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ। তিনি সদস্যদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সবসময় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন এবং সন্ত্রাসমুক্ত সোমালিয়া গড়ার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, বিশেষায়িত সামরিক ইউনিট প্রতিষ্ঠা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে; বিশেষ করে গরগর বাহিনী গঠন ও উন্নয়নে তাদের সহায়তা উল্লেখযোগ্য।
সেনা প্রশিক্ষণ ও গরগর বাহিনী গঠনে তুরস্কের সহায়তার প্রশংসা সোমালি প্রেসিডেন্টের
সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলে জলদস্যুরা ক্যামেরুনের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘লুতুফ’ জিম্মি করেছে। জাহাজটির ১০ সদস্যের ক্রুর মধ্যে অন্তত ছয়জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার পুন্টল্যান্ডের ইয়েল জেলার মারাইয়া উপকূল থেকে প্রায় সাড়ে ৩ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি দখল করা হয়। ক্রুদের মধ্যে একজন তুর্কি ও একজন জর্জিয়ান নাগরিক এবং দুইজন সার্বিয়ান নিরাপত্তারক্ষীও ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সোমালি কর্মকর্তা জানান, জাহাজটিতে মোগাদিশুর একটি তুর্কি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের জন্য পাঠানো অস্ত্র ছিল। এ ছাড়া এতে যোগাযোগ ও স্যাটেলাইট সরঞ্জামও ছিল। কর্মকর্তার দাবি, আটজন জলদস্যু জাহাজটি দখল করে পরে সেটিকে পুন্টল্যান্ডের দাঙ্গোরয়ো জেলার গারমালের কাছাকাছি উপকূলের দিকে নিয়ে যায়।
জাহাজটির মালিক পোলার মুভমেন্ট শিপিং। ওই কর্মকর্তার ধারণা, জলদস্যুরা এর আগে ২৬ এপ্রিল ‘সোয়ার্ড’ নামের আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ ছিনতাই করে থাকতে পারে। নাবিকদের বর্তমান অবস্থা বা জলদস্যুরা কোনো দাবি জানিয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারত ও তুরস্কের সরকারি কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
পুন্টল্যান্ড উপকূলে লুতুফ জাহাজ জিম্মি, ১০ ক্রুর মধ্যে ছয়জন ভারতীয়
আন্তর্জাতিকভাবে অস্বীকৃত সোমালিল্যান্ড অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ফরাসি সংবাদপত্র ল্য মোঁদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছে অবস্থিত বারবেরা বিমানবন্দরকে সামরিক ঘাঁটিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আবুধাবি, তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের স্বার্থেই এই প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।
সোমালিল্যান্ডের রাজধানী হারগেইসা। দেশটি এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত এবং এর উপকূলরেখা প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি অবস্থিত বারবেরা বন্দরটি এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকেই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর নজরে রয়েছে। আরব ও মুসলিম বিশ্বের বিরোধিতা সত্ত্বেও ইসরাইল সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইল ও সোমালিল্যান্ডের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বাড়ছে। উভয় পক্ষের সামরিক ও গোয়েন্দা প্রতিনিধিদের নিয়মিত সফর চলছে, সোমালিল্যান্ডের সেনা কর্মকর্তারা তেল আবিবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং ইসরাইলি দলগুলো বারবেরা ঘাঁটি পরিদর্শন করছে।
ল্য মোঁদের প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে সোমালিল্যান্ডে ঘাঁটি বানাচ্ছে ইউএই
ইসরাইলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি অনুমোদন করেছে সোমালিল্যান্ডের মন্ত্রিসভা। প্রেসিডেন্ট আব্দিরাহমান মোহামেদ আব্দুল্লাহির সাম্প্রতিক ইসরাইল সফরে ঘোষিত এই চুক্তি মন্ত্রিসভার সর্বসম্মত অনুমোদনের মাধ্যমে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল। জুন মাসে অনুষ্ঠিত ওই সফরের পর মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি পাস হয়।
প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে উঠবে। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে সোমালিল্যান্ড, তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া তাদের জন্য দীর্ঘদিন কঠিন ছিল। গত বছর প্রথম দেশ হিসেবে ইসরাইল সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান সুসংহত করার লক্ষ্য, যেখানে তারা ইরান ও হুতি বিদ্রোহীদের প্রভাব মোকাবিলা করতে চায়।
ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তা ও বিনিয়োগে সহযোগিতা চুক্তি অনুমোদন করল সোমালিল্যান্ড
বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন সোমালিয়ার ফুটবল রেফারি ওমর আর্তান। ফিফার চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসলেও যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বৈধ কাগজপত্র ও ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর মার্কিন সীমান্ত কর্তৃপক্ষ তাকে ফিরিয়ে দেয়। পরে ফিফা নিশ্চিত করে যে, আর্তান এই টুর্নামেন্টে কোনো প্রশিক্ষণ বা ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
দেশে ফিরে আর্তান বলেন, তার সব বৈধ কাগজপত্র ছিল, কিন্তু সমস্যা হয়েছে তার দেশের কারণে। মোগাদিশু বিমানবন্দরে অবতরণের সময় শত শত সমর্থক জাতীয় পতাকা হাতে তাকে স্বাগত জানান। মাঠে নামতে না পারলেও, দেশবাসী তাকে প্রকৃত বীরের মর্যাদা দেয়।
আর্তান তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিজেদের দেশ নিয়ে আশা হারাতে নেই এবং তিনি পরবর্তী বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার দেশপ্রেম ও দৃঢ় মানসিকতা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা, মোগাদিশুতে বীরোচিত সংবর্ধনা পেলেন সোমালি রেফারি
মালির মধ্যাঞ্চলে সশস্ত্র জিহাদিদের নতুন হামলায় অন্তত কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন বলে শনিবার স্থানীয় ও নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে। শুক্রবারের এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী ‘জেএনআইএম’। এর আগে বুধবারও তারা কয়েকটি গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত ৩০ জনকে হত্যা করেছিল বলে বামাকো থেকে এএফপি জানিয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ৭০ ছাড়িয়ে গেছে, কেউ কেউ বলছেন প্রায় ৮০ জন নিহত হয়েছেন। এক যুবনেতা অভিযোগ করেছেন, পাশেই সেনা ইউনিট থাকা সত্ত্বেও সাহায্যের অনুরোধে তারা সাড়া দেয়নি। নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, জেএনআইএম মূলত সেইসব গ্রামকে লক্ষ্য করছে যারা স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি চুক্তিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
গত মাসে জেএনআইএম ও তুয়ারেগ নিয়ন্ত্রিত আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএ) মালির জান্তা সরকারের ওপর নজিরবিহীন হামলা চালানোর পর থেকেই সহিংসতা বেড়েছে। এর ফলে দেশটির উত্তরাঞ্চলের বহু এলাকা এখন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মালির মধ্যাঞ্চলে জিহাদিদের হামলায় বহু নিহত, নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ
গত এক সপ্তাহে সোমালিয়া উপকূলে অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ জলদস্যুদের কবলে পড়েছে, যা এক দশক পর আবারও এই অঞ্চলে জলদস্যু আতঙ্ক ফিরিয়ে এনেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এলাকাটির নিরাপত্তা ঝুঁকি ‘যথেষ্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করে জাহাজগুলোকে সতর্কভাবে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে। ২০ এপ্রিল মাছ ধরার জাহাজ ‘আলখারি-২’, ২১ এপ্রিল তেলবাহী ট্যাংকার ‘অনার-২৫’ এবং ২৬ এপ্রিল কার্গো জাহাজ ‘সোয়ার্ড’ অপহৃত হয়। শেষোক্ত জাহাজটি এখনো দস্যুদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ এবং লোহিতসাগরে হুতি বিদ্রোহ দমন অভিযানে নৌবাহিনীর মনোযোগ সরে যাওয়ায় জলদস্যুরা সুযোগ নিচ্ছে। একই সঙ্গে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়ানোয় তেলবাহী জাহাজগুলো জলদস্যুদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
২০০০ সালের শুরুর দিকে সোমালিয়া উপকূল ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক পানিপথ। ন্যাটো ও ইইউ-এর প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এখন তা আবার নতুন ঝুঁকিতে পড়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে সোমালিয়া উপকূলে তিনটি জাহাজ অপহৃত
সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুতা ফের বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জাহাজ অপহরণের ঘটনায় ঝুঁকির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল সশস্ত্র ব্যক্তিরা একটি কার্গো জাহাজ দখল করে সোমালিয়ার আঞ্চলিক পানিতে নিয়ে যায়, যা এক সপ্তাহে চতুর্থ ঘটনা। এর আগে একটি মাছ ধরার নৌকা, একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও আরও কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বা দখলের চেষ্টা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিন বছর আগে এই অঞ্চলে জলদস্যুতা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু সম্প্রতি তা আবার ফিরে এসেছে। দুর্বল নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও অনুকূল আবহাওয়া ছোট নৌযান দিয়ে হামলার সুযোগ বাড়াচ্ছে। ইউকেএমটিও জাহাজগুলোকে সতর্কভাবে চলাচল ও উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ক্রুরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে হামলাকারীরা পিছু হটেছে বলেও জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর খরচ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুতা বেড়ে বৈশ্বিক সমুদ্র নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা দেশজুড়ে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় সমন্বিত হামলায় নিহত হয়েছেন বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে। রাজধানী বামাকোর কাছাকাছি কাটিতে অবস্থিত সেনানিবাসে তার বাসভবনে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলা চালানো হয়। এই হামলা আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী ও তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের যৌথ আক্রমণের একদিন পর ঘটে।
২০২০ ও ২০২১ সালের ধারাবাহিক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকারের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন কামারা। তিনি সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন এবং ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও ছিল। আলজাজিরার প্রতিবেদক নিকোলাস হক বলেছেন, তার মৃত্যু মালির সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বড় ধাক্কা।
আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ জামায়াত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম) এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠী আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএ) হামলার দায় স্বীকার করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি আসসিমি গোইতা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তিনি সুস্থ আছেন বলে জানানো হয়েছে।
বামাকোর কাছে হামলায় মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারা নিহত
মালির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার সকালে রাজধানী বামাকো ও দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে সশস্ত্র হামলা হয়েছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো একাধিক সেনা ব্যারাকে আক্রমণ চালায় এবং তাদের প্রতিরোধে অভিযান চলছে। রাজধানীর বাইরে কাটি এলাকার প্রধান সামরিক ঘাঁটির কাছে ভোরে দুটি বিস্ফোরণ ও টানা গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। একই সময়ে মধ্যাঞ্চলের সেভারে শহর এবং উত্তরের কিদাল ও গাও শহরেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। বামাকোর মোদিবো কেইতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও ভারী অস্ত্রের গুলির শব্দ শোনা যায় এবং এলাকায় একটি হেলিকপ্টার টহল দেয়।
স্বর্ণসহ নানা খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ মালি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সশস্ত্র অস্থিরতায় ভুগছে। ২০২০ ও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটি ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং ফরাসি বাহিনী ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনকে বহিষ্কার করে। গত বছর জুলাইয়ে সামরিক সরকার অভ্যুত্থান নেতা আসিমি গোইতাকে পাঁচ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনুমোদন দেয়, যা নির্বাচন ছাড়াই নবায়নযোগ্য।
মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজার ২০২৩ সালে ‘অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস’ গঠন করে, যা সাহেল অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়াই করছে।
মালির রাজধানী ও বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে সশস্ত্র হামলা, সেনা অভিযান অব্যাহত
সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডে কূটনৈতিক প্রতিনিধি নিয়োগের ইসরাইলি ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশসহ ১২টি দেশ। ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে অংশ নেওয়া দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, সৌদি আরব, মিশর, সোমালিয়া, সুদান, লিবিয়া, আলজেরিয়া, ফিলিস্তিন, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও কুয়েত। এসব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, ইসরাইলের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের গঠনমূলক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা সোমালিয়ার বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও ভূখণ্ডগত ঐক্যের প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, এই পদক্ষেপ একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করছে এবং হর্ন অব আফ্রিকার স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক শান্তি-নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সোমালিল্যান্ডে ইসরাইলি দূত নিয়োগে ১২ দেশের নিন্দা, সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ
গত ২৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন, যা সঙ্গে সঙ্গে সোমালিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন সতর্ক করে জানায়, সোমালিল্যান্ডে কোনো ইসরায়েলি উপস্থিতি থাকলে তা সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’আর এই মাসে সোমালিল্যান্ড সফর করেন এবং কৌশলগত বন্দর শহর বেরবেরা পরিদর্শন করে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। সোমালিল্যান্ড কর্মকর্তারা ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখেন, যা হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকার ঠিক বিপরীতে ইসরায়েলকে অবস্থান দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল নতুন অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। সোমালিল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান হুথিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা ও সামরিক অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সোমালিল্যান্ড, যা কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং সোমালিয়ার চাপের মুখে রয়েছে, ইসরায়েলের স্বীকৃতিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। তবে সোমালিয়া সরকার পুনরায় আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, স্বীকৃতি কেবল মোগাদিশুর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই নতুন সম্পর্কের দিকনির্দেশ এখনো অনিশ্চিত এবং উভয় পক্ষই এর পরিণতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিয়ে ইসরায়েল হুথি হুমকি ও সোমালিয়ার ক্ষোভের মুখে
পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সব ধরনের চুক্তি বাতিল করেছে। লোহিত সাগরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার সোমালিয়া সরকার এই সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে দেশটিতে স্থাপিত আমিরাতের সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প থেকে সরে আসতে হবে আমিরাতকে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, সরকারি সংস্থা, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও আঞ্চলিক প্রশাসনের সঙ্গে সব ধরনের চুক্তি এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে। বারবারা, বোসাসো ও কিসমায়ো বন্দর ঘিরে হওয়া সব চুক্তি ও সহযোগিতাও এতে অন্তর্ভুক্ত। সোমালিয়ার মন্ত্রিপরিষদ দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিও বাতিল করেছে।
নথিতে বলা হয়েছে, সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করার গুরুতর পদক্ষেপের প্রতিবেদন ও প্রমাণ প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ সোমালিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
লোহিত সাগর উত্তেজনার মধ্যে সার্বভৌমত্ব ইস্যুতে আমিরাতের সঙ্গে সব চুক্তি বাতিল সোমালিয়ার
সোমালিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মোয়ালিম ফিকি অভিযোগ করেছেন যে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের সোমালিল্যান্ডে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে। তিনি এই পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিকি বলেন, সোমালিয়া নিশ্চিত করেছে যে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি ইসরাইল সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
তবে ইসরাইল ও সোমালিল্যান্ড উভয়েই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ১৯৯১ সালে সোমালিল্যান্ড সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও জাতিসংঘ এখনো তাকে স্বীকৃতি দেয়নি। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-কে বলেন, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সোমালিল্যান্ডে স্থানান্তর কোনো চুক্তির অংশ নয়।
তিনি আরও বলেন, ইসরাইল ও সোমালিল্যান্ডের মধ্যে রাজনীতি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে, তবে জনসংখ্যা স্থানান্তর তার অংশ নয়।
ফিলিস্তিনিদের সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর অভিযোগে ইসরাইলকে অভিযুক্ত করল সোমালিয়া, উভয়েরই অস্বীকার
ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের স্বীকৃতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। শনিবার জেদ্দায় সংস্থাটির সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ২২তম অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ওআইসি জানায়, ইসরাইলের এই পদক্ষেপ সোমালিয়া ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
গত ২৬ ডিসেম্বর ইসরাইলের ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়। উদ্বোধনী অধিবেশনে ওআইসি মহাসচিব হিসেইন ব্রাহিম তাহা বলেন, সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং আফ্রিকার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি। বৈঠকে দুটি প্রস্তাব গৃহীত হয়—একটি সোমালিল্যান্ডকে ইসরাইলের স্বীকৃতির নিন্দা এবং অন্যটি ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ পরিকল্পনার বিরোধিতা।
ওআইসি প্রস্তাবে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ঐক্যের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, সোমালিল্যান্ড সোমালিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংস্থাটি সতর্ক করে দেয়, সোমালিল্যান্ডকে আলাদা করার বা স্বীকৃতি দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং তার সার্বভৌমত্বের অবমাননা।
সোমালিল্যান্ডকে ইসরাইলের স্বীকৃতি অবৈধ ঘোষণা করে ওআইসির তীব্র নিন্দা
সৌদি আরব শুক্রবার সোমালিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল সোমালিল্যান্ডে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’র সাম্প্রতিক সফরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ২১টি দেশের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে সৌদি আরব এই সফরকে “অবৈধ” আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি সোমালিয়ার ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত রীতি ও জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থি।
বিবৃতিতে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কূটনৈতিক রীতিনীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। যৌথ বিবৃতিতে ইসরাইলকে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব সম্মান করা ও সোমালিল্যান্ডকে দেওয়া স্বীকৃতি অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।
গত ২৬ ডিসেম্বর ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে সোমালিল্যান্ডকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সোমালিল্যান্ডকে এখন পর্যন্ত কেবল ইসরাইলই স্বীকৃতি দিয়েছে, যা সোমালিয়া ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমালিল্যান্ডে ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে সৌদি আরবের তীব্র নিন্দা
সোমালিয়ায় খাদ্যসহায়তা চুরির অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সব চলমান খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি স্থগিত করেছে। বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সোমালিয়ার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে খাদ্যসহায়তা চুরির খবর পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চুরির ব্যাপারে ‘শূন্য সহনশীলতা নীতি’ অনুসরণ করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সোমালিয়ার কর্মকর্তারা মার্কিন অর্থায়িত ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের একটি গোডাউন ধ্বংস করে ৭৬ মেট্রিক টন খাদ্যসহায়তা চুরি করেছেন, যা দরিদ্র সোমালিয়ানদের খাদ্য গ্রহণের সুযোগ নষ্ট করেছে।
মার্কিন মানবিক বিষয়ক, বৈদেশিক সহায়তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বিভাগের সহসচিব জানান, ভবিষ্যতে যেকোনো সহায়তা সোমালিয়ান ফেডারেল সরকারের দায় স্বীকার ও সমাধানের ওপর নির্ভর করবে। সোমালিয়ার কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।
এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অবস্থানকে স্পষ্ট করে এবং সোমালিয়ার জন্য মানবিক সহায়তা পুনরায় শুরুতে বিলম্ব ঘটাতে পারে।
সোমালিয়ায় খাদ্যসহায়তা চুরির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা স্থগিত
সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিনিময়ে স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরাইল। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মদ এই অভিযোগ করে বলেছেন, এই পদক্ষেপে অঞ্চলে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে। তিনি আরও জানান, সোমালিয়ার ভূখণ্ডে ইসরাইলের উপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না। খবরটি প্রকাশ করেছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ বলেন, ইসরাইলের এই স্বীকৃতি ছিল অপ্রত্যাশিত ও অদ্ভুত। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, সোমালিল্যান্ড ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনে সম্মত হয়েছে। ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করা সোমালিল্যান্ড এখনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি, তবে কার্যত স্বায়ত্তশাসিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। মোগাদিসু সোমালিল্যান্ডকে সোমালিয়ার অংশ হিসেবে দেখে এবং এর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন মনে করে।
মোহাম্মদ আরও বলেন, সোমালিল্যান্ড ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের বিষয়েও সম্মতি দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মতো কৌশলগত জলপথে প্রভাব বাড়াতে চায়।
সামরিক ঘাঁটির বিনিময়ে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরাইল, অভিযোগ সোমালিয়ার
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ২৩৭ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।