সোমবার পশ্চিম ইকুয়েডরের মানাবি প্রদেশে সামরিক পোশাক পরা বন্দুকধারীরা সাতজনকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে একটি খামারে, যখন দেশজুড়ে মাদক-সহিংসতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। জানুয়ারি থেকে মানাবিসহ নয়টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। কুইটো থেকে এএফপি জানায়, হামলাকারীরা ভোরে আক্রমণ চালায়।
পুলিশ জানায়, হামলাকারীরা প্রথমে ভুক্তভোগীদের একটি আঙিনায় জড়ো করে জিজ্ঞাসাবাদ করে, পরে রাইফেল ও পিস্তল দিয়ে গুলি চালায়। নিহতদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরও ছিল। প্রেসিডেন্ট ডেনিয়েল নবোয়া মাদকবিরোধী অভিযানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করলেও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কমেনি; বরং গত বছর সহিংস মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ড ৯ হাজার ২১৬-এ পৌঁছায়।
দক্ষিণ আমেরিকার একসময়ের নিরাপদ দেশ ইকুয়েডর এখন কোকেন পাচারের বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলে কৌশলগত অবস্থানের কারণে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপমুখী পাচারের প্রবেশদ্বারে পরিণত হয়েছে।
ইকুয়েডরে সামরিক পোশাকে বন্দুকধারীদের হামলায় সাতজন নিহত
ইকুয়েডরের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পুয়ের্তো লোপেজের সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন বোর্ডওয়াকে একাধিক বন্দুকধারীর গুলিতে শিশুসহ ছয়জন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, রবিবারের এ ঘটনায় হামলাকারীরা একটি ভ্যান ও দুটি মোটরসাইকেলে করে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। নিহতদের মধ্যে দুই বছর বয়সী এক শিশুকন্যাও রয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, সপ্তাহান্তে শহরটিতে এটি ছিল তৃতীয় প্রাণঘাতী হামলা, যেখানে মোট নয়জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ এখনো হামলাকারীদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি, তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকেই এ হামলার সূত্রপাত হয়েছে।
কলম্বিয়া ও পেরুর মাঝখানে অবস্থিত ইকুয়েডরে সাম্প্রতিক সময়ে মেক্সিকান ও কলম্বিয়ান কার্টেলের সঙ্গে যুক্ত গ্যাং সহিংসতা বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার কঠোর নিরাপত্তা নীতির পরও হত্যাকাণ্ড বেড়েই চলেছে। জেনেভাভিত্তিক অর্গানাইজড ক্রাইম অবজারভেটরি জানিয়েছে, চলতি বছর শেষে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে হত্যার হার ৫২-এ পৌঁছেছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ।
ইকুয়েডরের সৈকতে গুলিতে ছয়জন নিহত, গ্যাং সহিংসতা বেড়েছে
লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচার দমনে ইকুয়েডরের মান্তা বিমানঘাঁটিতে সাময়িকভাবে মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইকুয়েডরীয় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথ এই অভিযানের লক্ষ্য মাদক কার্টেলের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং গোয়েন্দা সক্ষমতা জোরদার করা। ২০০৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এই ঘাঁটি ব্যবহার করলেও সম্প্রতি ইকুয়েডরের জনগণ বিদেশি সামরিক ঘাঁটি অনুমোদনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
কুইটোতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, এই স্বল্পমেয়াদি যৌথ উদ্যোগ উভয় দেশের নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং মাদক পাচারবিরোধী কার্যক্রমে সহায়তা করবে। প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া বলেন, এই অভিযান “মাদকপাচারের পথ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে” সহায়ক হবে। নোবোয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাদক কার্টেলের সহিংসতায় ইকুয়েডর গভীর সংকটে পড়েছে। একসময় নিরাপদ দেশ হিসেবে পরিচিত ইকুয়েডর এখন কলম্বিয়া ও পেরু থেকে কোকেন রপ্তানির প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, মার্কিন সেনা মোতায়েন ইকুয়েডরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ইকুয়েডরে মার্কিন বিমানবাহিনী মোতায়েন, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ২০২ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।