আফগানিস্তানে ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের পর আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৭ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার হেরাত প্রদেশের কাবকান এলাকায় ছাদ ধসে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য মারা যান। হেরাতের গভর্নরের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ সাঈদী জানান, নিহতদের মধ্যে দুজন শিশু রয়েছে।
আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এএনডিএমএ) মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ হাম্মাদ জানান, সোমবার থেকে বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বন্যায় উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, গবাদি পশু মারা গেছে এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পর্যবেক্ষক দল পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের সংঘাত, দুর্বল অবকাঠামো, বন উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আফগানিস্তানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। গত আগস্টে ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটিতে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়।
আফগানিস্তানে ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের পর আকস্মিক বন্যায় ১৭ জন নিহত
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তান, ইরান ও ইউরোপীয় দেশগুলোকে আফগান শরণার্থীদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এসব দেশ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে আফগানদের ফেরত পাঠাচ্ছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি জর্জেট গ্যাগননের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর প্রায় ২৫ লাখ আফগান দেশে ফিরেছেন, যা আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।
অ্যামনেস্টি সতর্ক করেছে, ফেরত আসা আফগানদের অনেকেই কাজ ও আশ্রয় পাচ্ছেন না এবং তালেবান শাসনের অধীনে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতিমালা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে কাউকে এমন স্থানে ফেরত না পাঠানো হয় যেখানে তারা গুরুতর মানবাধিকার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন অব্যাহত থাকলে আফগানিস্তানের মানবিক সংকট আরও তীব্র হবে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
মানবিক সংকটে আফগানদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো বন্ধের আহ্বান অ্যামনেস্টির
আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার পর ইসলামাবাদকে পাল্টা জবাবের হুমকি দিয়েছে তালেবান সরকার। নিহতদের মধ্যে নয়জন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে আফগান কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার রাতে পেশোয়ারে আত্মঘাতী হামলায় ছয়জন নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তান এই হামলা চালায়। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, দেশের আকাশসীমা ও জনগণ রক্ষার অধিকার আফগানিস্তানের রয়েছে এবং উপযুক্ত সময়ে জবাব দেওয়া হবে। পাকিস্তান দাবি করে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) হামলা চালায়, যদিও তালেবান এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক প্রথমে স্বাভাবিক থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
খোস্তে পাকিস্তানের বিমান হামলায় বেসামরিক নিহতের পর পাল্টা হুমকি দিল আফগানিস্তান
আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ট প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত নয়জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজন শিশু ও একজন নারী। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, মধ্যরাতে এই হামলা চালানো হয় এবং একই সময়ে কুনার ও পাকটিকা প্রদেশেও হামলা হয়, যেখানে আরও চারজন নিহত হন। মুজাহিদ অভিযোগ করেন, পাকিস্তান সাধারণ মানুষের ঘরে বোমা ফেলেছে, এতে বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। পাকিস্তান এখনো এই ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, তারা নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে হত্যা করেছে। আইএসপিআর জানায়, বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই ঘটনায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় আট শিশুসহ নয়জন নিহত, সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি
আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ শিশু ও এক নারী রয়েছেন। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, মধ্যরাতে গোরবুজ জেলায় স্থানীয় বাসিন্দা ওয়ালিয়াত খানের বাড়িতে এই হামলা চালানো হয়। তিনি একে পাকিস্তানের আগ্রাসী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া কুনার ও পাকতিকা প্রদেশেও আরও কয়েকটি বিমান হামলা হয়েছে, যেখানে অন্তত চারজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। হামলার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পাকিস্তান এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে পারস্পরিক অভিযোগ বাড়ছে।
আফগানিস্তানের খোস্তে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৯ শিশু ও এক নারীসহ নিহত ১০
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তান থেকে ওষুধ আমদানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সরকারি সংবাদমাধ্যম আলেমারাহ নিউজ জানায়, নিম্নমানের ওষুধ ও সীমান্ত বাণিজ্যে ঘনঘন বিঘ্নের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানি সরবরাহকারীদের সঙ্গে চলমান চুক্তি তিন মাসের মধ্যে বাতিল করতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেন, এই পদক্ষেপ দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অধিকার সুরক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদার কাবুলে ব্যবসায়ীদের পাকিস্তানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাণিজ্যপথ খোঁজার আহ্বান জানান। দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে এই নিষেধাজ্ঞা জারি হলো। বর্তমানে আফগানিস্তান পাকিস্তান, ভারত, তুরস্ক ও বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানি করে।
নিম্নমানের অভিযোগে পাকিস্তানি ওষুধ নিষিদ্ধ করে বিকল্প উৎস খুঁজতে বলল আফগানিস্তান
বাংলাদেশের দৈনিক যুগান্তর-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মুহাজির ফারাই স্পষ্ট জানিয়েছেন—ভারত কাবুলের আঞ্চলিক বস নয়। তিনি বলেন, ইসলামিক আমিরাত ইসলামি ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে এবং কারও নির্দেশে কাজ করে না। আফগানিস্তান পাকিস্তান, ইরান, চীন, ভারত ও বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
সাম্প্রতিক পাকিস্তান-আফগান সীমান্ত সংঘাত প্রসঙ্গে ফারাই জানান, পাকিস্তানি সেনারা আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে আফগানিস্তান শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) ইস্যুকে তিনি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি দাবি করেন, তালেবান সরকারের অধীনে আফগানিস্তানে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বেড়েছে, মাদক উৎপাদন বন্ধ হয়েছে এবং দেশ এখন সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ রাজস্বে পরিচালিত হচ্ছে। রাশিয়া, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হয়েছে, আর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার উদ্যোগও চলছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন হলেও, তা কোনোভাবেই নির্ভরশীল নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আফগানিস্তানের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে উপমন্ত্রী মুহাজির ফারাই। সৌজন্যে: ফারাই
কাবুলে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইরান ও তালেবান কর্মকর্তারা সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। শুক্রবার মেহর নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আফগানিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা বিকদেলি, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মহাপরিচালক মোহাম্মদ রেজা বাহরামি এবং তালেবানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি। আলোচনায় মূল গুরুত্ব পায় সীমান্তে নিরাপত্তা সহযোগিতা, মাদক পাচার রোধ, এবং যৌথ সমন্বয় জোরদার করা। উভয় পক্ষ পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে অব্যাহত সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়। ইরানি প্রতিনিধি দল যৌথ সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানায়, অন্যদিকে হাক্কানি জানান, তালেবান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সদ্ভাব ও আঞ্চলিক সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। এই বৈঠক ইরান-আফগানিস্তান সম্পর্ক জোরদারের নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাবুলে সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদকবিরোধী সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক করছেন ইরান ও তালেবান কর্মকর্তারা
কয়েক দিনের রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘর্ষের পর অবশেষে ৪৮ ঘণ্টার অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। বুধবার (১৫ অক্টোবর) পাকিস্তানের সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, জটিল হলেও সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে উভয় দেশ আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাবে। পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তানই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে, যদিও কাবুল এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে রাতভর অভিযানে পাকিস্তান ডজনখানেক আফগান নিরাপত্তাকর্মী ও সন্ত্রাসী হত্যার দাবি করে। পাল্টা হামলায় তালেবানও একটি পাকিস্তানি পোস্ট ধ্বংস ও একটি ট্যাংক দখলের কথা জানিয়েছে। সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, আফগানিস্তান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে যারা পাকিস্তানে হামলা চালায়। তবে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তালেবান কোনো দেশবিরোধী হামলায় আফগান ভূমি ব্যবহার করতে দেবে না।
৪৮ ঘণ্টার অস্ত্রবিরতিতে সম্মত পাকিস্তান-আফগানিস্তান
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগেই এই বিস্ফোরণ ঘটে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, কাবুলে হাসপাতাল পরিচালনাকারী ইতালীয় এনজিওর তথ্যে জানা গেছে আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এনজিওটির কান্ট্রি ডিরেক্টর দেজান প্যানিক বলেন, অ্যাম্বুলেন্সে করে অনেককে আনা হয় এবং বিস্ফোরণটি হাসপাতাল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাবুলে পরপর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের ভবনের কাচ ভেঙে রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংসাবশেষ। এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটল যখন আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাত প্রশমনে ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। উভয় দেশই শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে এ ঘটনা ঘটে
তালেবানরা দাবি করেছে যে, শনিবার রাতে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘাতের সময় তারা ২৫টি সীমান্ত পোস্ট দখল করেছে এবং ৫৮ পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে। কাবুলের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, আফগান বাহিনী এসব পোস্ট থেকে পাকিস্তানি সেনাদের সরিয়ে ৩০ জনকে আহত করেছে। তিনি পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে আফগান সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলে কঠোর প্রতিক্রিয়া হবে। এর আগে পাকিস্তান অভিযোগ করেছিল, আফগান বাহিনী তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বাজারে বোমা হামলা চালিয়েছে এবং পাকিস্তান এটিকে প্রতিশোধমূলক অভিযান বলে অভিহিত করেছে। পাকিস্তানি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি আফগান হামলাকে ‘বিনা উস্কানিতে’ উল্লেখ করে বেসামরিক হতাহতের কথা জানিয়েছেন। কুনার-কুররাম অঞ্চলে উভয় পক্ষ ছোট অস্ত্র ও মর্টার ব্যবহার করেছে। আঙ্গুর আড্ডা, বাজাউর, কুররাম, দির, চিত্রল ও বারামচায় ব্যাপক গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। এই সংঘাত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
তালেবানরা দাবি করেছে যে, শনিবার রাতে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘাতের সময় তারা ২৫টি সীমান্ত পোস্ট দখল করেছে এবং ৫৮ পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে
আফগানিস্তানে ‘অনৈতিক কার্যকলাপ’ ঠেকাতে দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধের ঘোষণা দেয় তালেবান সরকার। সোমবার রাত থেকেই একাধিক নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায় এবং টেলিফোন সেবাও প্রভাবিত হয়। এতে দেশটিতে ‘সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট’ সৃষ্টি হয়। কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও অন্তত আটটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ব্যাংকিং ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম মঙ্গলবার সকাল থেকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিদেশে থাকা আফগানরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আগে অন্তত ফোনে কথা বলা যেত। এখন সেটাও সম্ভব নয়।’ কাবুলভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে তাদের সংবাদ কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও সংবাদ সংস্থা এপি ও এএফপি জানিয়েছে, তারা কাবুলে নিজ নিজ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না।
আফগানিস্তানের কাবুল থেকে বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারে লুকিয়ে দিল্লি পৌঁছায় ১৩ বছর বয়সী আফগান কিশোর। রোববার সকাল ১১টার দিকে ঘটে, কেএএম এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আরকিউ-৪৪০১ দুই ঘণ্টার যাত্রা শেষে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে ঘটনাটি ধরা পড়ে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, কুন্দুজ শহরের ওই ছেলেটি কাবুল বিমানবন্দরে গোপনে ঢুকে বিমানের পিছনের কেন্দ্রীয় ল্যান্ডিং গিয়ার বগিতে প্রবেশ করে। বিমানের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অবতরণের পর তাকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পরে বিমান সংস্থার কর্মীরা তাকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। কিশোর জানায়, শুধুমাত্র কৌতূহল থেকেই বিমানে প্রবেশ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের পরে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে একই ফ্লাইটে তাকে ফেরত পাঠানো হয় আফগানিস্তানে।
আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃহস্পতিবার ফের ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এটি গত রোববার থেকে একই অঞ্চলে তৃতীয় ভূমিকম্প। নানগারহার প্রদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র নকিবুল্লাহ রহিমি জানান, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল পাকিস্তান সীমান্তের কাছে দূরবর্তী শিবা জেলায়। বারকাশকট এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর আগে, কুনার ও নানগারহার প্রদেশে আঘাত হানা ভূমিকম্পে অসংখ্য গ্রাম বিধ্বস্ত হয়, গৃহহীন হয় কয়েক লাখ মানুষ এবং আহত হয় তিন হাজার ৬০০ জনেরও বেশি। বৃহস্পতিবার উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও মরদেহ উদ্ধার করেছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০৫ জনে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ৬৪০ জন। জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছে, খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয়ের মতো জরুরি সহায়তা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ফলে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে।
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। রোববার রাতে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৬২২ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫শ’। ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গ্রিনিচ মান সময় রাত ১১টা ১৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল জালালাবাদের ২৭ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে এবং ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাত্র ৮ কিলোমিটার। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ধরা পড়েছে ৬.০। এ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত আফগান প্রশাসনের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে লিখেছেন, ‘দুঃখজনকভাবে, আজ রাতের ভূমিকম্পে আমাদের কয়েকটি পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দারা উদ্ধার তৎপরতায় নেমেছেন এবং কেন্দ্রীয় ও পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলো থেকেও সহায়তা দল ঘটনাস্থলের পথে রয়েছে।
রোববার রাতে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০০ জন। ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গ্রিনিচ মান সময় রাত ১১টা ১৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল জালালাবাদের ২৭ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে এবং ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাত্র ৮ কিলোমিটার। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ধরা পড়েছে ৬.০। আফগান তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, কুনার প্রদেশের নূর গাল, সাওকি, ওয়াতপুর, মানোগি এবং চাপা দারা জেলায় বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, বহু প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি এবং উদ্ধারকারী দলগুলো ওইসব এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। স্থানীয়রা এ ভূমিকম্পকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এদিকে ভারপ্রাপ্ত আফগান প্রশাসনের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ লিখেছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দারা উদ্ধার তৎপরতায় নেমেছেন এবং কেন্দ্রীয় ও পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলো থেকেও সহায়তা দল ঘটনাস্থলের পথে রয়েছে।
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তান সীমান্তের কাছে ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে এখন পর্যন্ত ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নানগারহার ও কুনার প্রদেশে ভূমিকম্পের কারণে আহত ১১৫ জনের বেশি মানুষকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে ভূমিকম্প হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৮ কিলোমিটার গভীরে। এরপর থেকে অন্তত আরও তিনটি কম্পন হয়েছে। সেগুলোর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ২-এর মধ্যে। কাবুলেও বেশ কয়েক সেকেন্ড কম্পন টের পাওয়া যায়। ইসলামাবাদেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ভূমিকম্পে কমপক্ষে ৪ হাজার মানুষ মারা যায়।
কাবুল পাকিস্তানি সেনাদের হামলার অভিযোগের পর পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেছে। তালেবান সরকার জানিয়েছে অন্তত তিনজন বেসামরিক নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। আফগান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানকে আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং ডুরান্ড লাইন সংলগ্ন এলাকায় উসকানিমূলক বোমা হামলার অভিযোগ করেছে। পাকিস্তান এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে সীমান্ত সন্ত্রাস, বাণিজ্যিক সীমাবদ্ধতা এবং স্থগিত কূটনৈতিক আলোচনার কারণে উত্তেজনা বাড়ছে। শিনওয়ার জেলার ড্রোন হামলা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভঙ্গুরতা ও আঞ্চলিক অস্থিরতা তুলে ধরেছে।
ইরান থেকে ফেরত আসা শরণার্থীদের বহনকারী একটি যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৭১ জন। হেরাত প্রদেশের পুলিশ মঙ্গলবার জানায়, বাসটির ‘অতিরিক্ত গতি ও অবহেলার’ কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার একদিন আগে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি ঘোষণা দেন যে আগামী মার্চের মধ্যে আরও ৮ লাখ আফগানিকে দেশ ছাড়তে হবে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদও নিশ্চিত করেছেন যে নিহতরা ইরান থেকে বহিষ্কৃত হয়ে কাবুল ফিরছিলেন, তবে নিহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, খারাপ সড়কের কারণে আফগানিস্তানে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। গত বছরের ডিসেম্বরে দুটি বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ৫২ জন মারা যান। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, শুধু এ বছরের জুনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার আফগান ইরান থেকে ফেরত এসেছেন। ইরান সরকার ৬ জুলাইয়ের মধ্যে অনিবন্ধিত শরণার্থীদের দেশ ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। এছাড়া চলতি বছরেই ১৪ লাখের বেশি মানুষ ‘ফেরত এসেছে বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে’।
আফগানিস্তানে পাকিস্তান ও ইরান থেকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো লক্ষাধিক শরণার্থীর কারণে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রত্যাবর্তনের ঢল নেমেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, শুধু ২০২৫ সালেই প্রায় ১৫ লাখ আফগান ফিরতে বাধ্য হয়েছেন, যা ২০২৩–২০২৫ সালের মোট ৪০ লাখের অংশ। এর অর্ধেক নারী ও কিশোরী, যাদের দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ ও নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে। জাতিসংঘ বৈশ্বিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। তবে তালেবান সরকার সংকট অস্বীকার করে নারীর অধিকার রক্ষার দাবি জানিয়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৮৩ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।