জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের কূটনীতিক রাবাব ফাতিমাকে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)-এর প্রধান ও তার নতুন বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। বুধবার জাতিসংঘের মুখপাত্রের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। রাবাব ফাতিমা কিরগিজস্তানের রোজা ওতুনবায়েভার স্থলাভিষিক্ত হবেন। জাতিসংঘ মহাসচিব রোজা ওতুনবায়েভা ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান কানাডার জর্জেট গ্যাননকে তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাবাব ফাতিমা বর্তমানে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ ও ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার ৩০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে, যার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতি, নীতিনির্ধারণ, অ্যাডভোকেসি এবং কর্মসূচি বাস্তবায়ন অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমান দায়িত্বের আগে তিনি ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন। সে সময় তিনি ইউনিসেফ ও ইউএন উইমেনের নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি, শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিশনের প্রথম নারী চেয়ার এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশের রাবাব ফাতিমা আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের প্রধান নিযুক্ত
শনিবার সন্ধ্যায় আফগানিস্তানে ৬ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার কম্পন ভারতের উত্তরাঞ্চল ও পাকিস্তানের কিছু এলাকাতেও অনুভূত হয়। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয় এবং এর কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২১৫ কিলোমিটার গভীরে। তাৎক্ষণিকভাবে আফগানিস্তানে কোনো প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক বাসিন্দা নিরাপত্তার জন্য বাইরে অবস্থান নেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তান ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম, বিশেষ করে হিন্দুকুশ এলাকা নিয়মিত ভূমিকম্পপ্রবণ। রেড ক্রসের তথ্যমতে, দেশটি ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করায় প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটে। এছাড়া হেরাতসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফল্ট লাইন বিস্তৃত থাকায় মাঝারি থেকে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা সবসময়ই থাকে।
ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তানেও অনুভূত
তালেবান শাসনের অধীনে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও আফগান নারীরা জীবিকার শেষ আশ্রয় হিসেবে ব্যবসার পথে হাঁটছেন। সরকার অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কমাতে শর্তসাপেক্ষে নারীদের ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। আফগানিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি নারী ব্যবসায়িক লাইসেন্সধারী, যা পাঁচ বছরে প্রায় দশ গুণ বেড়েছে। আরও প্রায় এক লাখ ২০ হাজার নারী লাইসেন্স ছাড়াই ক্ষুদ্র ব্যবসায় যুক্ত আছেন।
যারা একসময় আইনজীবী, প্রকৌশলী বা শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তারা এখন কার্পেট বুনন, প্রসাধনী উৎপাদন ও কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রিক ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। ইউএনডিপির তথ্যমতে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত মাত্র ৭ শতাংশ নারী কর্মসংস্থানে যুক্ত ছিলেন। নাসিরা আজিজি, রোকিয়া রেজায়ি ও ঘোঞ্চা কারিমির মতো উদ্যোক্তারা নানা সামাজিক ও প্রশাসনিক বাধা সত্ত্বেও নিজেদের ব্যবসা গড়ে তুলেছেন।
সরকার নারীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে সহায়তার দাবি করলেও সমালোচকদের মতে, বাস্তবে এই উদ্যোগ সীমিত। কঠিন বাস্তবতায় ব্যবসাই এখন আফগান নারীদের আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রধান ভরসা।
তালেবান শাসনে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ব্যবসায় টিকে আছেন আফগান নারীরা
আফগানিস্তানের সরকারি কর্মচারীরা স্মার্টফোন ব্যবহার বন্ধ করেছেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার নতুন নির্দেশনার পর। ১৭ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এই আদেশে সামরিক ও বেসামরিক সব সরকারি কর্মচারীর জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ আদালতের প্রতীকসহ একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হয়।
চিঠিতে প্রাদেশিক বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা তাদের অধীনস্থ সব কর্মচারীকে এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অবহিত করেন। এতে আরও বলা হয়েছে, শুধুমাত্র সর্বোচ্চ নেতাই এই নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে ছাড় দিতে পারবেন। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সর্বোচ্চ আদালত কোনো সাড়া দেয়নি।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন আফগান সরকারের দুই মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো মন্তব্য করেননি। এই সিদ্ধান্ত আফগানিস্তানের সরকারি খাতে যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আফগানিস্তানে সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা
আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে নারীদের পোশাক নিয়ে তালেবানের কড়াকড়ির প্রতিবাদে বিরল এক বিক্ষোভে গুলি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। এতে এক শিশুসহ অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ‘অনুপযুক্ত হিজাব’ পরার অভিযোগে নারী ও তরুণীদের গণগ্রেপ্তার শুরু করে তালেবান কর্তৃপক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার জিবরাইল জেলায় প্রায় ৭০ জন মানুষ শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাধীনতার দাবিতে এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে স্লোগান দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গুলিতে তিনজন আহত হয়েছেন এবং অন্তত ১৩ জনকে মারধর করে আটক করা হয়েছে। জাতিসংঘ নিশ্চিত করেছে, নিহতদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, সশস্ত্র তালেবান যোদ্ধারা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে এবং এক নারীর কণ্ঠে ‘আজাদি’ স্লোগান শোনা যাচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ফেরেশতা আব্বাসি বলেন, নারীদের গ্রেপ্তারের ঘটনাকে পরিবারগুলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সামিরা হামিদি বলেন, পুরুষদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে পাঁচ বছর ধরে নারী ও মেয়েদের ওপর চলা নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ বেড়েছে। তবে হেরাতের এক তালেবান মুখপাত্র হিজাবের কারণে নারীদের আটক করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
হেরাতে হিজাব ইস্যুতে নারীদের বিক্ষোভে তালেবানের গুলিতে নিহত ২
আফগানিস্তান জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিমান হামলায় ১১ শিশুসহ ১৩ জন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার গভীর রাতে কুনার, খোস্ত ও পাকতিয়া প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। তিনি একে মানবিক অপরাধ ও আগ্রাসন হিসেবে নিন্দা জানান। এটি ছিল সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামলাগুলো জঙ্গিদের আস্তানা ও অন্যান্য স্থাপনায় চালানো হয়েছে। খোস্ত প্রদেশের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, স্পেরা জেলার একটি বাড়িতে হামলায় ৯ জন নিহত ও ১০ জন আহত হন, আর পাশের পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, আফগানিস্তানের মাটি থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। তবে তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানে জঙ্গিবাদ একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়।
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ১৩ জন নিহত, তালেবানের তীব্র নিন্দা
পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরার পথে পূর্ব আফগানিস্তানের লঘমান প্রদেশে একটি ট্রাক উল্টে ২২ জন আফগান শরণার্থী নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। প্রাদেশিক গভর্নরের মুখপাত্র আব্দুল মালিক নিয়াজাই জানান, দুর্ঘটনাটি কাবুল ও নানগারহার প্রদেশকে সংযোগকারী প্রধান মহাসড়কে ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১০ জন শিশু ও পাঁচজন নারী ছিলেন। আহতদের নানগারহারের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রাদেশিক জনস্বাস্থ্য পরিচালক আমিনুল্লাহ শরিফ বলেন, চালক ঘুমিয়ে পড়লে ট্রাকটি খাদে পড়ে যায় এবং এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাকিস্তান ২০২৩ সালে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে, একই সময়ে ইরানও আফগান অভিবাসীদের বহিষ্কার শুরু করে। এর ফলে দুই দেশ থেকে লাখ লাখ আফগান দেশে ফিরে আসে।
দুর্ঘটনায় আহতদের অবস্থা বা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
পূর্ব আফগানিস্তানে পাকিস্তানফেরত ট্রাক উল্টে ২২ জন আফগান নিহত
রাশিয়া আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে বিবিসি সূত্রে জানা গেছে। মস্কোতে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সের্গেই শোইগু এবং তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ। এতে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, স্থল সামরিক সরঞ্জাম এবং তালেবান বাহিনীর প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যদিও ড্রোনের মতো হামলাকারী সরঞ্জাম এতে আছে কি না তা স্পষ্ট নয়।
সূত্র জানায়, রাশিয়া ও তালেবানের মধ্যে আগেই আলোচনা হয়েছিল এবং এই চুক্তি তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে তালেবান সরকারের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ রয়েছে। রাশিয়া কাবুলে দূতাবাস খোলা রেখেছে এবং ২০২২ সালে আফগানিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তিও করেছে। মুজাহিদ মস্কো সফরে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময় আফগানিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষার দুর্বলতা প্রকাশ পায়। এই প্রেক্ষাপটে তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এটি প্রথম আঞ্চলিক সামরিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি।
তালেবান সরকারকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেবে রাশিয়া
গত ৪৮ ঘণ্টায় আফগানিস্তানজুড়ে ভারি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে বলে শুক্রবার স্থানীয় ও দুর্যোগ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলীয় বাঘলান প্রদেশে ১৫ জন, উত্তর-পূর্ব বাদাখশানে দুজন এবং মধ্যাঞ্চলীয় ওয়ার্দাকে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বাঘলানের গভর্নরের মুখপাত্র ফারুক আখপাওয়াক জানান, বন্যায় ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং আরও অনেকে আহত হয়েছে। বাদাখশানের এক স্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, দুজন মারা গেছে, দুজন নিখোঁজ রয়েছে এবং শতাধিক বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে একাধিক প্রদেশে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে।
প্রবল বৃষ্টিপাতে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মানবিক সংকট আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
আফগানিস্তানে ৪৮ ঘণ্টার ভারি বৃষ্টি ও বন্যায় নিহত ২৪ জন
আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহারে শত শত মানুষ ভিড় করছেন নেদা মোহাম্মদ কাদরির বাড়িতে, যিনি নিজেকে আধ্যাত্মিক চিকিৎসক বা কবিরাজ বলে দাবি করেন। তিনি পানিপড়া ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে ক্যান্সার ও থ্যালাসেমিয়া সারানোর কথা বলেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ছাড়াই কাদরি প্রতিদিন শত শত রোগী দেখেন, যাদের অনেকেই শেষ আশায় তার কাছে আসছেন। তবে অনেক পরিবার অভিযোগ করেছে, অর্থ ও পশু নেওয়ার পরও কোনো উন্নতি হয়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে প্রতি বছর ২৪ হাজারের বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং ১৭ হাজারের বেশি মারা যান। হাসপাতাল, চিকিৎসক ও সরঞ্জামের অভাবের পাশাপাশি ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ থাকায় উন্নত চিকিৎসা ও ওষুধের প্রবেশও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কবিরাজি চিকিৎসা বা অ্যান্টিবায়োটিকের ভুল ব্যবহার বিপজ্জনক হতে পারে। তারা বলেন, এসব আধ্যাত্মিক পদ্ধতি মানসিক সান্ত্বনা দিতে পারে, কিন্তু আধুনিক চিকিৎসার বিকল্প নয়।
স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় কবিরাজের শরণাপন্ন হচ্ছেন আফগানরা
আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে শুক্রবার একটি পিকনিক স্পটে বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এনজিল জেলার দেহ মেহরি গ্রামের কাছে মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিরা এই হামলা চালায়। প্রাদেশিক কর্মকর্তারা প্রথমে চারজনের মৃত্যুর কথা জানালেও পরে আরও সাতজন আহতের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, ঘটনাস্থলটি শুক্রবারে সাধারণত জনাকীর্ণ থাকে। হেরাতের একজন চিকিৎসক বিবিসিকে বলেন, নিহতরা সবাই একটি স্থানীয় মাজারে পিকনিক করতে গিয়েছিলেন। হেরাতের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রাদেশিক প্রধান আহমাদুল্লাহ মুত্তাকি জানান, হামলাটি স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে ঘটে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আফগানিস্তানে শিয়া মুসলিমরা সংখ্যালঘু এবং অতীতেও তারা এমন হামলার শিকার হয়েছেন, যদিও এই হামলার উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
আফগানিস্তানের হেরাতে পিকনিক স্পটে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ১১ জন
শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। খামা প্রেসের তথ্যমতে, তালেবান প্রশাসন বুধবার গভীর রাতে এ ঘোষণা দেয়। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত জানায়, হেলমান্দ, ফারাহ ও গোর প্রদেশে চাঁদ দেখা গেছে এবং সরকার পরিচালিত চাঁদ দেখা কমিটি স্থানীয় সাক্ষ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বৃহস্পতিবারকে ঈদের প্রথম দিন ঘোষণা করে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।
এই ঘোষণার ফলে আফগানিস্তানের ঈদের তারিখ অনেক মুসলিম দেশের সঙ্গে ভিন্ন হয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, বুধবার চাঁদ দেখা না যাওয়ায় সেখানে শুক্রবার ঈদ উদযাপন করা হবে। একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও কুয়েত। তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, ইয়েমেন, লেবানন, ফিলিস্তিন ও ইরাকও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী শুক্রবার ঈদ নির্ধারণ করেছে।
দেশভেদে ঈদের তারিখ ভিন্ন হওয়ার মূল কারণ চাঁদ দেখার পদ্ধতির পার্থক্য। কিছু দেশ খালি চোখে চাঁদ দেখা নির্ভর করে, অন্যরা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুসরণ করে। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর আফগানিস্তান নিজস্ব চাঁদ দেখার প্রক্রিয়ায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখা নিশ্চিত হওয়ায় আফগানিস্তানে ঈদুল ফিতর উদযাপন
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সোমবার রাতে পাকিস্তান বিমান হামলা চালায়। মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এই হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত ও ২৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে এমন হামলাকে আফগান ক্রিকেটাররা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
আফগানিস্তান দলের অধিনায়ক রশিদ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, বেসামরিক বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালে হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধ এবং জাতিসংঘের উচিত এই নৃশংসতার তদন্ত করা। সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী বলেছেন, কাবুলের এক হাসপাতালে আশার আলো নিভে গেছে, যেখানে চিকিৎসার জন্য আসা তরুণদের হত্যা করা হয়েছে। পেসার নাভিন উল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, পাকিস্তান ও ইসরায়েলি শাসনের মধ্যে পার্থক্য করা খুব কঠিন।
এই ঘটনার পর আফগান ক্রিকেটারদের ক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ক্ষোভ, জাতিসংঘ তদন্তের আহ্বান আফগান ক্রিকেটারদের
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তালেবান। সোমবার রাত প্রায় ৯টার দিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী কাবুলের ওমিদ আসক্তি চিকিৎসা হাসপাতালে এই হামলা চালায় বলে জানানো হয়েছে।
তালেবানের এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রায় ২ হাজার শয্যার এই হাসপাতালটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য পরিচালিত হতো। হামলায় হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৪০০ নিহতের দাবি তালেবানের
পাকিস্তান বৃহস্পতিবার রাতভর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ সীমান্তবর্তী কয়েকটি প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাবুলে অন্তত চারজন নিহত ও পনেরো জন আহত হয়েছেন। কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খলিল জাদরান বলেন, হামলায় কয়েকটি আবাসিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, এই অভিযান মূলত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা বেড়ে যাওয়ায় ইসলামাবাদ আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা জোরদার করেছে বলে দাবি করে। তবে আফগানিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তাদের ভূখণ্ড থেকে কোনো জঙ্গি তৎপরতা হয় না। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, হামলা কাবুল ছাড়াও কান্দাহার, পাকতিয়া ও পাকতিকা প্রদেশেও হয়েছে।
কান্দাহারে বিমানবন্দরের কাছে বেসরকারি বিমান সংস্থা কাম এয়ারের একটি জ্বালানি ডিপোতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, অভিযানে কোনো বেসামরিক মানুষ নিহত হয়নি। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় চারজন নিহত, কাবুলসহ সীমান্ত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি
সীমান্ত প্রদেশগুলোতে শত শত আফগান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। তারা বেসামরিক মানুষ হত্যার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান এবং সীমান্তে লড়াইরত আফগান সেনাদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিয়া প্রদেশের রাজধানী গারদেজ ও খোস্তের গুরবুজ জেলায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা সেনাদের ফুলের মালা পরিয়ে দেন এবং তালেবান সরকারের পতাকা নাড়ান। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এক সপ্তাহ ধরে চলা সংঘর্ষে কয়েক ডজন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত ও কয়েক হাজার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
জাতিসংঘ মিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে অন্তত ৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১০৪ জন আহত হয়েছে। পাকিস্তান বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে মন্তব্য না করলেও দাবি করেছে, তারা ৪৩০ জনের বেশি আফগান সেনাকে হত্যা করেছে। আফগানিস্তান জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রায় ১৫০ সেনা নিহত হয়েছে। সংঘর্ষের কারণে প্রায় ৬৬ হাজার আফগান বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, জরুরি খাদ্যসহায়তা বন্ধ থাকায় প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশটির বিদ্যমান খাদ্যসংকটকে আরও তীব্র করেছে।
সীমান্ত সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগানদের বিক্ষোভ
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাহুল্লাহ তারার জানিয়েছেন, আফগানিস্তানজুড়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হামলায় ৪১৫ জন আফগান তালেবান সদস্য নিহত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, হামলায় আরও ৫৮০ জন আহত হয়েছে। পাকিস্তান বাহিনী দাবি করেছে, তারা ১৮২টি চেকপোস্ট ধ্বংস ও ৩১টি পোস্ট দখলে নিয়েছে। এছাড়া ৮৫টি ট্যাংক, সশস্ত্র যানবাহন ও বন্দুক ধ্বংস করা হয়েছে। হামলাগুলো আফগানিস্তানের ৪১টি স্থানে পরিচালিত হয়, যার মধ্যে কুর্রাম সেক্টরের কাছে আফগান খারচর চেকপোস্টও রয়েছে।
পাকিস্তানের দাবি, সীমান্তে আফগান তালেবানদের বিনা উসকানিতে হামলার জবাবে এই শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানো হচ্ছে। এই ঘোষণা দুই দেশের সীমান্ত উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি যে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না।
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলায় ৪১৫ তালেবান নিহত বলে দাবি
শনিবার আফগানিস্তানের জালালাবাদ শহরে পাকিস্তানের একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে আফগান সামরিক ও পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঠিক আগে পাইলট প্যারাসুট দিয়ে অবতরণ করেন এবং পরে তাকে জীবিত অবস্থায় আটক করা হয়। শহরের বিমানবন্দরের দিক থেকে দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পরই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘোষণা আসে।
পুলিশের মুখপাত্র তায়েব হাম্মাদ জানান, জালালাবাদে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে এবং পাইলটকে আটক করা হয়েছে। পূর্ব আফগানিস্তানের সামরিক মুখপাত্র ওয়াহিদুল্লাহ মোহাম্মদী বলেন, আফগান বাহিনী বিমানটি ভূপাতিত করেছে এবং পাইলট এখন তাদের হেফাজতে রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে একদিন পর, যখন পাকিস্তান কাবুল ও কান্দাহারে বিমান হামলা চালায়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে আফগান বাহিনী পাকিস্তান সীমান্তে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছিল। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও তথ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।
জালালাবাদে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, আফগান বাহিনীর হাতে পাইলট আটক
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে। পাকিস্তান প্রকাশ্যে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার পর এই আহ্বান জানানো হয়। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আফগানিস্তান সব সময় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে এবং এখনো শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।
গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার রাত থেকে দুই দেশের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলা শুরু হয়। পাকিস্তান অভিযোগ করে যে আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় গুলি চালিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানান, পাকিস্তানের অভিযানে ২৯৭ জন আফগান সেনা নিহত ও ৪৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ধ্বংস করা হয়েছে ৮৯টি সেনা চৌকি ও ১৩৫টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান।
অন্যদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র দাবি করেন, তাদের হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং পাকিস্তানের ১৯টি সেনা চৌকি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এই সংঘর্ষে সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটেছে।
সীমান্ত সংঘর্ষে উত্তেজনা বাড়ায় পাকিস্তানকে আলোচনার আহ্বান আফগানিস্তানের
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ করেছে। বৃহস্পতিবার আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, তালেবান বাহিনী পাকিস্তানের একাধিক চেকপোস্ট দখল করে নিরাপত্তাকর্মীদের হত্যা করেছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এই দাবি অস্বীকার করে জানান, পাকিস্তানি বাহিনীর পাল্টা হামলায় ৩৬ জন তালেবান নিহত হয়েছে এবং দুই পাকিস্তানি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।
এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়ে সাতটি জঙ্গি আস্তানা ধ্বংসের দাবি করেছিল, যেখানে ৮০ জনেরও বেশি নিহত হয় বলে জানানো হয়। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার নিন্দা জানিয়ে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, তালেবানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা কম। তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে সাবেক আফগান সেনাবাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্র ও বিদেশি সরঞ্জাম রয়েছে, তবে বিমান শক্তি দুর্বল।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানান, তালেবান এখনো গেরিলা কৌশল ব্যবহার করছে এবং হালকা অস্ত্র ও রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমার মাধ্যমে আক্রমণ চালাচ্ছে, যেখানে পাকিস্তান একটি নিয়মিত সেনাবাহিনী হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
পাকিস্তান-তালেবান সীমান্ত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রাণহানির দাবি
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১১৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।