প্রায় তিন মাসের আপেক্ষিক শান্তির পর সোমবার ভোরে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার ও জাতিসংঘ জানিয়েছে, এতে অন্তত তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের দাবি, অভিযানে ২৮ জন ‘সন্ত্রাসী’ ও আত্মঘাতী হামলাকারী নিহত হয়েছে।
তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, কুনারের নুরগাল জেলায় একটি বাড়িতে হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হন। পাকতিকার বারমাল জেলায় আরও দুটি স্থানে বোমা হামলায় একটি দোকান ও একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের খবর নেই। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছে।
হামলার ঘটনায় তালেবান সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং কাবুলে পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রতিবাদপত্র দিয়েছে। মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ একে ‘আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে যথাযথ জবাবের কথা বলেছেন। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে টিটিপিসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আফগান ভূখণ্ড ব্যবহারের অভিযোগ করে আসছে, যা কাবুল অস্বীকার করে।
কুনার ও পাকতিকায় পাকিস্তানের হামলায় আফগান সীমান্ত উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে
আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগান কর্তৃপক্ষ। সোমবার কুনার প্রদেশের একটি বাড়িতে এই হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে কয়েক মাসের আপেক্ষিক শান্তির পর এই হামলা দুই দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে।
আফগান কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, পাকতিকার বারমাল জেলায় আরও দুটি স্থানে হামলায় একটি দোকান ও একটি খালি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে, তবে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি পুলিশ স্থাপনায় আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হন। মার্চেও পাকিস্তানি বিমান হামলায় আফগানিস্তানে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল।
কুনারে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত, আহত চারজন
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় সোমবার জানায়, আফগানিস্তানে তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের জঙ্গি হিসেবে বর্ণনা করেছে দেশটি। মন্ত্রণালয়ের দাবি, খাইবার পাখতুনখোয়ায় সাম্প্রতিক একাধিক হামলার জন্য দায়ী সংগঠনগুলোর কথিত গোপন আস্তানা ও নিরাপদ ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়।
বিবৃতিতে পাকিস্তান বলেছে, আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রশিক্ষণকেন্দ্রসহ তিনটি লক্ষ্যবস্তু নিখুঁতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এতে কয়েকজন আত্মঘাতী হামলাকারীও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। কেন্দ্র ও গোপন আস্তানাগুলোতে রাখা বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংসের দাবিও করেছে পাকিস্তান।
এর আগে আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার কুনার প্রদেশের একটি বাড়িতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। সীমান্তে কয়েক মাসের আপেক্ষিক শান্তির পর হামলাটি দুই দেশের মধ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। ইসলামাবাদ আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানে হামলার অভিযোগ করে আসছে, যা তালেবান সরকার অস্বীকার করে।
পাকিস্তানের হামলায় ২৮ জঙ্গি নিহতের দাবি, আফগান কর্তৃপক্ষের বেসামরিক হতাহতের তথ্য
আফগানিস্তানের ভেতরে কোনো হামলা বা সামরিক অভিযান চালানো হলে পাকিস্তানকে বিধ্বংসী জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালেবান সরকার। আল আরাবিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তানের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ থেকে নিজেদের রক্ষা করার অধিকার আফগানিস্তানের রয়েছে। তিনি বলেন, এমন অভিযানকে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।
পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান সন্ত্রাসীদের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও আশ্রয় দিয়ে পাকিস্তানে হামলার সুযোগ করে দিচ্ছে। আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র দাবি করেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে যোদ্ধা নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং অস্ত্র সরবরাহ পাচ্ছে। পরে তারা পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মুজাহিদ এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, তালেবান সরকার আফগান ভূখণ্ড থেকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপিকে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেয় না। অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে তালেবান সরকার সমর্থন বা সহায়তা করে—এ অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। আফগানিস্তানের ভেতরে সামরিক অভিযান হলে কাবুল থেকে শক্ত প্রতিক্রিয়া আসতে পারে বলেও তিনি জানান।
আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান হলে পাকিস্তানকে শক্ত জবাবের হুঁশিয়ারি তালেবানের
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, তিন বছরেরও কম সময়ে রেকর্ড ৬০ লাখ আফগান শরণার্থী নিজ দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি বলেছে, সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত বড় পরিসরে শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন দেখা যায়নি। তবে সব প্রত্যাবর্তন স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইউএনএইচসিআর বিস্তারিত হিসাব দেয়নি, তবে ফিরে যাওয়া শরণার্থীদের বড় অংশ প্রতিবেশী পাকিস্তান ও ইরান থেকে আফগানিস্তানে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জুনে বলেন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ইসলামাবাদ পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুরু করার পর ২৪ লাখের বেশি আফগান নাগরিক দেশে ফিরেছেন।
ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ইরান থেকে প্রায় ২১ লাখ আফগান নিজ দেশে ফিরেছেন। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক অভিযান এবং পরবর্তী কয়েক দশকের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার সময়ে লাখ লাখ আফগান পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সর্বশেষ জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে এখনো ৭ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি নিবন্ধিত আফগান শরণার্থী রয়েছেন; পাশাপাশি ১০ লাখের বেশি অনিবন্ধিত আফগান নাগরিক থাকার ধারণা করা হচ্ছে।
তিন বছরের কম সময়ে ৬০ লাখ আফগান শরণার্থী দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর
সাউথ এশিয়া মনিটরে ২৮ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে আফগানিস্তানের ওয়াখান করিডরকে চীনের বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্প্রসারণের সম্ভাব্য নতুন সীমান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দীর্ঘ ও সরু পাহাড়ি এই ভূখণ্ডের আয়তন প্রায় ৫,১৭৫ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে তাজিকিস্তান, দক্ষিণে পাকিস্তান এবং পূর্ব প্রান্তে চীন। উনিশ শতকে ব্রিটিশ-রুশ সাম্রাজ্যবাদী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে এটি বাফার জোন হিসেবে গঠিত হয়েছিল।
আধুনিক সীমান্ত তৈরির আগে ওয়াখি, কিরগিজ ও তাজিক জনগোষ্ঠীর বাণিজ্য, পশুপালন, মৌসুমি অভিবাসন ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ মধ্য এশিয়া জুড়ে বিস্তৃত ছিল। নতুন সীমারেখা এসব ঐতিহ্যগত পথকে বিভক্ত করে দেয়। বিশেষ করে কিরগিজ পশুপালকদের মৌসুমি চারণভূমিতে যাতায়াত এবং ওয়াখিদের কৃষি ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ সংকুচিত হয়। লেখক এসব বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীকে রূপকভাবে ‘ভূতুড়ে সম্প্রদায়’ বলেছেন।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ ওয়াখানের গুরুত্ব আবার বাড়িয়েছে। সম্ভাব্য যোগাযোগপথ চীনকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান হয়ে আরব সাগরের দিকে স্থলপথ দিতে পারে এবং মধ্য এশিয়ায় তার অর্থনৈতিক প্রভাব জোরদার করতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ পথ নির্মাণ, অবকাঠামোর পরিধি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব এখনো নিশ্চিত নয়।
বিশ্লেষণে ওয়াখান করিডরকে চীনের বাণিজ্য ও কৌশলগত বিস্তারের সম্ভাব্য পথ বলা হয়েছে
আফগানিস্তানে অপুষ্টি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৩৭ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে এবং তাদের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ শিশু জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত। ২০২৬ সালে শিশুদের অপুষ্টি বৃদ্ধির প্রবণতা অন্য বছরের তুলনায় কয়েক মাস আগেই শুরু হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুতর পুষ্টি সংকটের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়সি শিশুদের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের ঘাটতি বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। ইউনিসেফের গবেষণায় দেখা গেছে, তারা প্রয়োজনীয় প্রধান খাদ্যগোষ্ঠীর মধ্যে মাত্র দুটি থেকে খাবার পাচ্ছে, ফলে স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্য, খাদ্য ও পানির সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বাস্তুচ্যুতি এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কমে যাওয়াকে সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৩ সাল থেকে ইরান ও পাকিস্তান থেকে ৬০ লাখের বেশি মানুষ আফগানিস্তানে ফিরেছে, যা দুর্বল স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার ওপর চাপ বাড়িয়েছে। খরা ও বন্যায় কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত এবং খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ২০২৬ সালের পুষ্টি কর্মসূচিতে প্রায় ১৮ কোটি ডলার প্রয়োজন হলেও মাত্র ২২ শতাংশ অর্থায়ন হয়েছে, ফলে কিছু পুষ্টিকেন্দ্র বন্ধ বা সীমিত কার্যক্রম চালাতে বাধ্য হয়েছে।
আফগানিস্তানে গুরুতর অপুষ্টিতে প্রায় ১০ লাখ শিশুর জীবনহানির ঝুঁকি: ইউনিসেফ
আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশে তালেবানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বেড়েছে, যা দেশটির কার্যত শাসক তালেবান সরকারের জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে আফগানিস্তান আবার দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র সংঘাত ও রাজনৈতিক বিভাজনের দিকে যেতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট ও আফগানিস্তান ফ্রিডম ফ্রন্ট তালেবানের বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালিয়েছে।
স্থানীয় কয়েকটি ছোট প্রতিরোধগোষ্ঠীও সক্রিয় হয়েছে এবং সাবেক তালেবান কমান্ডার জুমা খান ফাতেহের বিদ্রোহ কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতিকে জটিল করেছিল। জেবাক শহরের আশপাশে এবং কুরান ওয়া মুনজান জেলায় তালেবানবিরোধী হামলা বেড়েছে। ওয়াখান করিডরের প্রবেশপথের কাছে হওয়ায় জেবাক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এনআরএফ বাদাখশানের রাজধানী ফয়জাবাদের তালেবান মেয়রকে হত্যার দায়ও স্বীকার করেছে।
দুর্গম পাহাড়, সীমিত যোগাযোগব্যবস্থা, ল্যাপিস লাজুলি ও স্বর্ণের খনি এবং তাজিকিস্তান, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সীমান্ত বাদাখশানের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আফগানিস্তান থেকে সৃষ্ট সন্ত্রাসী হুমকি উল্লেখযোগ্যভাবে না কমার কথা বলা হয়েছে। তালেবানবিরোধী রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সমঝোতা চাইলেও তালেবান এতে খুব বেশি আগ্রহ দেখায়নি।
বাদাখশানে তালেবানবিরোধী হামলা বাড়ায় আফগানিস্তানের নিরাপত্তা উদ্বেগ তীব্র
আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারা কিছু সাফল্য দেখালেও নারী শিক্ষা, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে বড় ব্যর্থতার মুখে পড়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের পর তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
গত পাঁচ বছরে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আগে যেসব এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, সেখানে এখন তুলনামূলক নিরাপদে যাতায়াত সম্ভব হচ্ছে। তালেবান আইএস-খোরাসানসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হুমকিও অনেকটাই দুর্বল করেছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমলেও কর ও শুল্ক আদায়, প্রবাসী আয়, প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়িয়ে অর্থনীতি সচল রাখার চেষ্টা চলছে।
তবে মেয়েদের ষষ্ঠ শ্রেণির পর আনুষ্ঠানিক আধুনিক শিক্ষার সুযোগ বন্ধ রয়েছে এবং শিক্ষায় ধর্মীয় বিষয়ের ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। ক্ষমতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার নেতৃত্বাধীন সীমিত গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে; বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়নি। সরকারি অর্থব্যবস্থার স্বচ্ছতার অভাব ও দুর্নীতির অভিযোগও চ্যালেঞ্জ। বড় সামরিক হুমকি না থাকলেও জনঅসন্তোষ ও বিচ্ছিন্নতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি হতে পারে।
পাঁচ বছরে নিরাপত্তায় অগ্রগতি হলেও নারী শিক্ষা ও স্বীকৃতিতে চ্যালেঞ্জে তালেবান
আফগানিস্তানের বাদাখশান প্রদেশের রাজধানী ফায়জাবাদের মেয়র হাবিব-উর-রহমান মনসুর বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার হাসপাতাল ও পৌরসভা সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে তাঁর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে। হাসপাতালের এক নার্স জানান, মেয়রকে বহনকারী গাড়িতে বোমা হামলা হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।
ফায়জাবাদ পৌরসভার এক কর্মী বলেন, কর্মস্থলের কাছে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে মনসুর নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের নার্স হামলার তথ্য দেন। হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।
মেয়র নিহত হওয়ার তিন সপ্তাহ আগে বাদাখশানেই তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান জাবিহুল্লাহ আমিরি ফায়জাবাদ যাওয়ার পথে গুলিতে নিহত হন; ওই হামলার দায় দায়েশ-খোরাসান স্বীকার করেছিল। দুর্গম প্রদেশটিতে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর খনন কার্যক্রম বেড়েছে, কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর সাম্প্রতিক হামলাগুলো নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ফায়জাবাদে গাড়িবোমা হামলায় মেয়র হাবিব-উর-রহমান মনসুর নিহত
আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন ইউএনএএমএর দুই আফগান পুরুষ কর্মীকে আটক করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ইন্টেলিজেন্স। ইউএনএএমএ মঙ্গলবার জানায়, ৯ আগস্ট রোববার কর্মকর্তারা তাঁদের আটক করেন এবং দুই দিন ধরে জাতিসংঘের সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগাযোগ বা সাক্ষাতের সুযোগ হয়নি।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দপ্তর আটক কর্মীদের বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে তা জাতিসংঘকে জানানো হয়নি এবং তাঁদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আফগান সরকার এএফপিকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
তালেবানরা ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পঞ্চম বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে এই আটকের ঘটনা ঘটল। চলতি সপ্তাহে ইউএনএএমএ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বলপ্রয়োগ, গ্রেপ্তার ও আটক নিয়ে স্পষ্টতা এবং জবাবদিহি বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। আফগানিস্তানজুড়ে স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিসংঘের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।
হেরাতে জাতিসংঘের দুই আফগান কর্মী আটকের পর যোগাযোগ ও সাক্ষাতের অনুমতি চেয়েছে ইউএনএএমএ
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের কূটনীতিক রাবাব ফাতিমাকে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)-এর প্রধান ও তার নতুন বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। বুধবার জাতিসংঘের মুখপাত্রের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। রাবাব ফাতিমা কিরগিজস্তানের রোজা ওতুনবায়েভার স্থলাভিষিক্ত হবেন। জাতিসংঘ মহাসচিব রোজা ওতুনবায়েভা ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান কানাডার জর্জেট গ্যাননকে তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাবাব ফাতিমা বর্তমানে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ ও ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার ৩০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে, যার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতি, নীতিনির্ধারণ, অ্যাডভোকেসি এবং কর্মসূচি বাস্তবায়ন অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমান দায়িত্বের আগে তিনি ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন। সে সময় তিনি ইউনিসেফ ও ইউএন উইমেনের নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি, শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিশনের প্রথম নারী চেয়ার এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশের রাবাব ফাতিমা আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের প্রধান নিযুক্ত
শনিবার সন্ধ্যায় আফগানিস্তানে ৬ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার কম্পন ভারতের উত্তরাঞ্চল ও পাকিস্তানের কিছু এলাকাতেও অনুভূত হয়। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয় এবং এর কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২১৫ কিলোমিটার গভীরে। তাৎক্ষণিকভাবে আফগানিস্তানে কোনো প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক বাসিন্দা নিরাপত্তার জন্য বাইরে অবস্থান নেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তান ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম, বিশেষ করে হিন্দুকুশ এলাকা নিয়মিত ভূমিকম্পপ্রবণ। রেড ক্রসের তথ্যমতে, দেশটি ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করায় প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটে। এছাড়া হেরাতসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফল্ট লাইন বিস্তৃত থাকায় মাঝারি থেকে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা সবসময়ই থাকে।
ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তানেও অনুভূত
তালেবান শাসনের অধীনে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও আফগান নারীরা জীবিকার শেষ আশ্রয় হিসেবে ব্যবসার পথে হাঁটছেন। সরকার অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কমাতে শর্তসাপেক্ষে নারীদের ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। আফগানিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি নারী ব্যবসায়িক লাইসেন্সধারী, যা পাঁচ বছরে প্রায় দশ গুণ বেড়েছে। আরও প্রায় এক লাখ ২০ হাজার নারী লাইসেন্স ছাড়াই ক্ষুদ্র ব্যবসায় যুক্ত আছেন।
যারা একসময় আইনজীবী, প্রকৌশলী বা শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তারা এখন কার্পেট বুনন, প্রসাধনী উৎপাদন ও কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রিক ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। ইউএনডিপির তথ্যমতে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত মাত্র ৭ শতাংশ নারী কর্মসংস্থানে যুক্ত ছিলেন। নাসিরা আজিজি, রোকিয়া রেজায়ি ও ঘোঞ্চা কারিমির মতো উদ্যোক্তারা নানা সামাজিক ও প্রশাসনিক বাধা সত্ত্বেও নিজেদের ব্যবসা গড়ে তুলেছেন।
সরকার নারীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে সহায়তার দাবি করলেও সমালোচকদের মতে, বাস্তবে এই উদ্যোগ সীমিত। কঠিন বাস্তবতায় ব্যবসাই এখন আফগান নারীদের আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রধান ভরসা।
তালেবান শাসনে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ব্যবসায় টিকে আছেন আফগান নারীরা
আফগানিস্তানের সরকারি কর্মচারীরা স্মার্টফোন ব্যবহার বন্ধ করেছেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার নতুন নির্দেশনার পর। ১৭ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এই আদেশে সামরিক ও বেসামরিক সব সরকারি কর্মচারীর জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ আদালতের প্রতীকসহ একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হয়।
চিঠিতে প্রাদেশিক বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা তাদের অধীনস্থ সব কর্মচারীকে এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অবহিত করেন। এতে আরও বলা হয়েছে, শুধুমাত্র সর্বোচ্চ নেতাই এই নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে ছাড় দিতে পারবেন। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সর্বোচ্চ আদালত কোনো সাড়া দেয়নি।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন আফগান সরকারের দুই মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো মন্তব্য করেননি। এই সিদ্ধান্ত আফগানিস্তানের সরকারি খাতে যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আফগানিস্তানে সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা
আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে নারীদের পোশাক নিয়ে তালেবানের কড়াকড়ির প্রতিবাদে বিরল এক বিক্ষোভে গুলি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। এতে এক শিশুসহ অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ‘অনুপযুক্ত হিজাব’ পরার অভিযোগে নারী ও তরুণীদের গণগ্রেপ্তার শুরু করে তালেবান কর্তৃপক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার জিবরাইল জেলায় প্রায় ৭০ জন মানুষ শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাধীনতার দাবিতে এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে স্লোগান দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গুলিতে তিনজন আহত হয়েছেন এবং অন্তত ১৩ জনকে মারধর করে আটক করা হয়েছে। জাতিসংঘ নিশ্চিত করেছে, নিহতদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, সশস্ত্র তালেবান যোদ্ধারা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে এবং এক নারীর কণ্ঠে ‘আজাদি’ স্লোগান শোনা যাচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ফেরেশতা আব্বাসি বলেন, নারীদের গ্রেপ্তারের ঘটনাকে পরিবারগুলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সামিরা হামিদি বলেন, পুরুষদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে পাঁচ বছর ধরে নারী ও মেয়েদের ওপর চলা নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ বেড়েছে। তবে হেরাতের এক তালেবান মুখপাত্র হিজাবের কারণে নারীদের আটক করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
হেরাতে হিজাব ইস্যুতে নারীদের বিক্ষোভে তালেবানের গুলিতে নিহত ২
আফগানিস্তান জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিমান হামলায় ১১ শিশুসহ ১৩ জন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার গভীর রাতে কুনার, খোস্ত ও পাকতিয়া প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। তিনি একে মানবিক অপরাধ ও আগ্রাসন হিসেবে নিন্দা জানান। এটি ছিল সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামলাগুলো জঙ্গিদের আস্তানা ও অন্যান্য স্থাপনায় চালানো হয়েছে। খোস্ত প্রদেশের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, স্পেরা জেলার একটি বাড়িতে হামলায় ৯ জন নিহত ও ১০ জন আহত হন, আর পাশের পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, আফগানিস্তানের মাটি থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। তবে তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানে জঙ্গিবাদ একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়।
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ১৩ জন নিহত, তালেবানের তীব্র নিন্দা
পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরার পথে পূর্ব আফগানিস্তানের লঘমান প্রদেশে একটি ট্রাক উল্টে ২২ জন আফগান শরণার্থী নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। প্রাদেশিক গভর্নরের মুখপাত্র আব্দুল মালিক নিয়াজাই জানান, দুর্ঘটনাটি কাবুল ও নানগারহার প্রদেশকে সংযোগকারী প্রধান মহাসড়কে ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১০ জন শিশু ও পাঁচজন নারী ছিলেন। আহতদের নানগারহারের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রাদেশিক জনস্বাস্থ্য পরিচালক আমিনুল্লাহ শরিফ বলেন, চালক ঘুমিয়ে পড়লে ট্রাকটি খাদে পড়ে যায় এবং এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাকিস্তান ২০২৩ সালে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে, একই সময়ে ইরানও আফগান অভিবাসীদের বহিষ্কার শুরু করে। এর ফলে দুই দেশ থেকে লাখ লাখ আফগান দেশে ফিরে আসে।
দুর্ঘটনায় আহতদের অবস্থা বা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
পূর্ব আফগানিস্তানে পাকিস্তানফেরত ট্রাক উল্টে ২২ জন আফগান নিহত
রাশিয়া আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে বিবিসি সূত্রে জানা গেছে। মস্কোতে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সের্গেই শোইগু এবং তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ। এতে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, স্থল সামরিক সরঞ্জাম এবং তালেবান বাহিনীর প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যদিও ড্রোনের মতো হামলাকারী সরঞ্জাম এতে আছে কি না তা স্পষ্ট নয়।
সূত্র জানায়, রাশিয়া ও তালেবানের মধ্যে আগেই আলোচনা হয়েছিল এবং এই চুক্তি তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে তালেবান সরকারের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ রয়েছে। রাশিয়া কাবুলে দূতাবাস খোলা রেখেছে এবং ২০২২ সালে আফগানিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তিও করেছে। মুজাহিদ মস্কো সফরে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময় আফগানিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষার দুর্বলতা প্রকাশ পায়। এই প্রেক্ষাপটে তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এটি প্রথম আঞ্চলিক সামরিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি।
তালেবান সরকারকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেবে রাশিয়া
গত ৪৮ ঘণ্টায় আফগানিস্তানজুড়ে ভারি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে বলে শুক্রবার স্থানীয় ও দুর্যোগ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলীয় বাঘলান প্রদেশে ১৫ জন, উত্তর-পূর্ব বাদাখশানে দুজন এবং মধ্যাঞ্চলীয় ওয়ার্দাকে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বাঘলানের গভর্নরের মুখপাত্র ফারুক আখপাওয়াক জানান, বন্যায় ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং আরও অনেকে আহত হয়েছে। বাদাখশানের এক স্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, দুজন মারা গেছে, দুজন নিখোঁজ রয়েছে এবং শতাধিক বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে একাধিক প্রদেশে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে।
প্রবল বৃষ্টিপাতে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মানবিক সংকট আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
আফগানিস্তানে ৪৮ ঘণ্টার ভারি বৃষ্টি ও বন্যায় নিহত ২৪ জন
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১১৪ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।