পাকিস্তানের লাহোরে আইসিসি ও পিসিবির সঙ্গে বৈঠক শেষে দেশে ফিরেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বৈঠকের পর বিসিবি জানায়, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ায় বাংলাদেশকে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না। বুলবুল বলেন, আইসিসি সরাসরি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে না পারলেও বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগামী বছর মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ এবং ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ আয়োজন।
বুলবুল জানান, এই বৈঠকের মাধ্যমে আইসিসিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং বাংলাদেশ এখন ক্রিকেটের ‘পাওয়ার হাউস’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা বাংলাদেশের পক্ষে আইসিসিতে অবস্থান নিয়েছিল এবং ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের কথাও বিবেচনা করেছিল। বুলবুলের মতে, এটি কোনো জয় নয়, বরং বাংলাদেশের গুরুত্বের স্বীকৃতি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ও দর্শকসংখ্যা এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা বিশ্ব ক্রিকেট কাঠামোতে দেশের অবস্থানকে অপরিহার্য করে তুলেছে।
নিষেধাজ্ঞা এড়াল বাংলাদেশ, ভবিষ্যৎ বিশ্ব ক্রিকেট ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ পেল
পাকিস্তান ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করায় বড় আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। লাহোরে আইসিসি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বৈঠকের পর সোমবার রাতে পাকিস্তান সরকার দলকে ম্যাচ খেলার অনুমতি দেয়। ফলে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল।
খবরে বলা হয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকেই আইসিসির সবচেয়ে বেশি আয় হয়। পাকিস্তান যদি বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় থাকত, তবে সম্প্রচার, গেটমানি ও স্পন্সরসহ মোট ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা প্রায় ১,৯৮৫ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ত সংস্থাটি। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিল।
পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় আইসিসি বড় আর্থিক সংকট থেকে বেঁচে গেছে এবং ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচটি নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।
ভারত ম্যাচে খেলবে পাকিস্তান, ১৭৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি এড়াল আইসিসি
বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ‘ব্রিলিয়ান্ট অ্যাচিভমেন্ট’ বলে অভিহিত করেছেন। লাহোরে অনুষ্ঠিত আইসিসির বৈঠকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল অংশ নেন। পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণায় সৃষ্ট সংকট নিরসনে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিশ্বকাপে না খেলায় বিসিবির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি বা জরিমানা হবে না। পাশাপাশি বাংলাদেশ আইসিসির একটি টুর্নামেন্টের আয়োজকস্বত্বও পাবে। পরে পাকিস্তান ভারত ম্যাচ খেলতে রাজি হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আসিফ নজরুল বলেন, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি জানান, দেশের ক্রিকেটার ও বোর্ড নিজেদের নিরাপত্তা ও জাতীয় মর্যাদার স্বার্থে যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতেও নেওয়া উচিত।
বিশ্বকাপ নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়ে বিসিবির কূটনৈতিক সাফল্যে প্রশংসা ক্রীড়া উপদেষ্টার
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে সব অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। এই সিদ্ধান্ত আসে লাহোরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও আইসিসির বৈঠকের পর। পেশোয়ারে সাংবাদিকদের পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানান, আইসিসি বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে তা স্বীকার করার পরই পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি হয়েছে।
নাকভি বলেন, বাংলাদেশের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে এবং পাকিস্তানের উদ্দেশ্য ছিল কেবল বাংলাদেশের ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। তিনি জানান, সরকারের সিদ্ধান্তও এই ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। এর আগে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতের বাইরে ম্যাচ সরানোর দাবি জানায়।
আইসিসির সিদ্ধান্তে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়। পাকিস্তানের সমর্থন ও আইসিসির স্বীকারোক্তির পর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজনের পথ সুগম হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রতি অন্যায় স্বীকারের পর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সম্মত পাকিস্তান
কলম্বোতে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে রাজি হওয়ায় পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে। খবরটি জানার পর তিনি এক্স প্ল্যাটফর্মে পোস্ট দিয়ে জানান, বহুল প্রতীক্ষিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জেনে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে ধন্যবাদ জানান।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিথা হেরাথও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও পররাষ্ট্র দপ্তরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শ্রীলঙ্কার অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করায় তারা কৃতজ্ঞ। তিনি পিসিবি ও পাকিস্তানের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানান এবং এই সিদ্ধান্তকে ক্রীড়াসুলভ মানসিকতা, বন্ধুত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর আগে পাকিস্তান সরকার জানায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ এবং শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য সদস্য দেশের সমর্থনমূলক বার্তা পর্যালোচনা করে তারা ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে।
কলম্বো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচে রাজি হওয়ায় পাকিস্তানকে ধন্যবাদ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তিন উইকেটে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় ডাচরা। নামিবিয়াকে সাত উইকেটে হারিয়ে তারা জয় পায়। টস হেরে আগে ব্যাট করে নামিবিয়া ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৬ রান তোলে, যা নেদারল্যান্ডস ১৮ ওভারেই ১২ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায়।
নেদারল্যান্ডসের জয়ে মূল ভূমিকা রাখেন বাস ডি লিডি। তিনি ৪৮ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৭২ রান করেন। অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস ৯ বলে ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন। নামিবিয়ার পক্ষে নিকোল লফটি-ইটন সর্বোচ্চ ৩৮ বলে ৪২ রান করেন, ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক যোগ করেন ২৬ বলে ৩০ রান। নেদারল্যান্ডসের হয়ে লোগান ফন বিক ও বাস ডি লিডি দুটি করে উইকেট নেন।
এই জয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে অল্প ব্যবধানে হারের পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে নেদারল্যান্ডস, যা তাদের টুর্নামেন্টে টিকে থাকার আশা জাগিয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নামিবিয়াকে সাত উইকেটে হারাল নেদারল্যান্ডস
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান, যা তাদের পূর্বের বয়কট সিদ্ধান্তের প্রত্যাহার। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি এই সিদ্ধান্তকে ক্রিকেটের জয় হিসেবে দেখেছেন। এক্স-এ দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকারের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের পবিত্রতা রক্ষা করেছে এবং বিশ্বব্যাপী খেলাটির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছে। তার মতে, ক্রিকেট জয়ী হয়েছে এবং এটি বিভাজন দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন এই সিদ্ধান্তকে প্রতিযোগিতা ও ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শিগগিরই একটি টেস্ট সিরিজ আয়োজন করা হবে এবং যুক্তরাজ্য তিন ম্যাচের সিরিজের জন্য উপযুক্ত স্থান হতে পারে।
কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলছে না। তারা কেবল আইসিসি ও এসিসির বড় টুর্নামেন্টেই মুখোমুখি হয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান, আফ্রিদির মতে এটি ক্রিকেটের জয়
বিশ্ব পেশাদার ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রো এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকে (এএফসি) নারী ও পুরুষ ফুটবলের মধ্যে বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানিয়েছে। আগামী মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হতে যাওয়া নারী এশিয়ান কাপকে সামনে রেখে সংগঠনটি পুরুষদের টুর্নামেন্টের মতো সমান শর্ত, নিয়ম ও অর্থ পুরস্কার নিশ্চিত করার দাবি জানায়। গত বছর ডিসেম্বরে ফিফপ্রো এএফসিকে একটি চিঠি দেয়, যাতে নারী এশিয়া কাপে অংশ নেওয়া ১২ দলের মধ্যে সাত দলের খেলোয়াড়রা স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে ৩০ শতাংশ পুরস্কারের অর্থ খেলোয়াড়দের মধ্যে বিতরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ফিফপ্রো নারী ফুটবলের পেশাদারিত্ব ত্বরান্বিত করতে চার দফার একটি রূপরেখাও এএফসিকে দিয়েছে। সংগঠনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন নারী এশিয়া কাপে প্রায় ৮২.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হতে পারে, যা নারী ফুটবলের জন্য নতুন মাইলফলক হবে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এশিয়ার নারী ফুটবলাররা এখনো কম পারিশ্রমিক ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছেন।
ফিফপ্রোর এশিয়া-ওশেনিয়ার সেক্রেটারি জেনারেল শোকো সুজি বলেন, ২০২৬ নারী এশিয়া কাপ বৈষম্য দূর করে নারী খেলোয়াড়দের মূল্যায়নের নতুন মান নির্ধারণের সুযোগ এনে দিতে পারে।
নারী ও পুরুষ এশিয়ান কাপে সমান পুরস্কার নিশ্চিতের আহ্বান ফিফপ্রোর
এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা আলোচনার পর পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের বয়কট প্রত্যাহার করেছে, যা ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় সংকটের অবসান ঘটিয়েছে। আইসিসি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যে একাধিক বৈঠকের পর পাকিস্তান সরকার ১৫ ফেব্রুয়ারি দলকে মাঠে নামার নির্দেশ দেয়।
বিতর্কের সূচনা হয় যখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দিতে নির্দেশ দেয়। এর পরদিন বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেয় এবং ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করে। আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার করলে পাকিস্তান প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়।
পরবর্তীতে আইসিসি জানায়, বাংলাদেশকে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না এবং ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি আইসিসি ইভেন্ট বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। এই সমঝোতার পর পাকিস্তান বয়কট প্রত্যাহার করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিরোধ মিটে ভারত ম্যাচে ফিরছে পাকিস্তান
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তান ৩২ রানে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে আগের আসরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ের পর এবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় পাকিস্তান। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ৪১ বলে ৭৩ রান করে ইনিংসের ভিত গড়েন। বাবর আজম ৩২ বলে ৪৬ ও শাদাব খান ১২ বলে ৩০ রান যোগ করেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে পাকিস্তান ৯ উইকেটে ১৯০ রান তোলে। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে শ্যাডলি ফন শ্যালউইক ২৫ রানে ৪ উইকেট নেন।
জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ইনিংস থামে ১৫৮ রানে ৮ উইকেটে। শুভম রাঞ্জানে ৩০ বলে অপরাজিত ৫১ এবং ওপেনার শায়ান জাহাঙ্গীর ৩৪ বলে ৪৯ রান করলেও জয় পায়নি দলটি। পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিক ২৭ রানে ৩ উইকেট নেন। আগের আসরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে বিদায় নেওয়া পাকিস্তানের জন্য এটি ছিল মধুর প্রতিশোধ।
এই জয় ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচের আগে পাকিস্তানকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩২ রানে হারিয়ে প্রতিশোধ নিল পাকিস্তান
পাকিস্তান তাদের পূর্বঘোষিত বয়কট প্রত্যাহার করে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দেশনায়েকের মধ্যে টেলিফোন আলাপের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানকে ম্যাচটি খেলতে অনুরোধ জানান এবং প্রস্তাব দেন যে ম্যাচটি শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত হতে পারে। এর আগে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলতে না দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল।
জিও টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের নেতাদের আলোচনাটি ইতিবাচক ছিল এবং উভয়েই পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সময়ে আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুপস্থিতির কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ওপর কোনো শাস্তি আরোপ করা হবে না এবং বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্ণ সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা অব্যাহত থাকবে।
আইসিসি আরও জানায়, ২০৩১ সালের পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করবে, যা বাংলাদেশের আয়োজক সক্ষমতার প্রতি সংস্থাটির আস্থা পুনর্ব্যক্ত করে।
শ্রীলঙ্কার মধ্যস্থতায় বয়কট প্রত্যাহার করে ভারতের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্ষমা না চাওয়ায় ক্রীড়া সাংবাদিকরা অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনাল ম্যাচ বয়কট করেছেন। টুর্নামেন্টের প্রথম দিনের খেলার সময় প্রেসিডেন্ট বক্সের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ছবি তোলার কারণে ফটো সাংবাদিক তানভীন তামিমকে সতর্ক করে চিঠি পাঠায় বিসিবি। পরে বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ দাবি করেন, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি।
৬ ফেব্রুয়ারি একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের দিকে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলছেন ফারুক আহমেদ, পাশে ছিলেন পরিচালক খালেদ মাসুদ পাইলট। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকরা বিসিবির কাছে ক্ষমা চেয়ে সময়সীমা নির্ধারণ করেন এবং ফাইনালের আগে বিসিবি প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ জানান।
নির্ধারিত সময়ে বিসিবি ক্ষমা না চাওয়ায় সাংবাদিকরা সম্মিলিতভাবে ফাইনাল ম্যাচের সংবাদ কাভারেজ বয়কট করেন, যা বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতায় বিরল প্রতিবাদের নজির।
বিসিবির ক্ষমা না চাওয়ায় এআই ছবি বিতর্কে টি-টোয়েন্টি ফাইনাল বয়কট সাংবাদিকদের
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে চলমান অস্থিরতার মধ্যে রোববার হঠাৎ পাকিস্তান সফরে যান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। লাহোরে তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বৈঠকেও যোগ দেন। বৈঠক শেষে সেদিন রাতেই তিনি পাকিস্তান ত্যাগ করেন। লাহোর বিমানবন্দরে পিসিবি চেয়ারম্যান নাকভি তাকে বিদায় জানান।
ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয় আইসিসি এবং তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়। এই পরিস্থিতিতে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা লাহোরে গিয়ে পিসিবির সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে বিসিবি সভাপতি আমিনুলও উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, পাকিস্তান তিনটি শর্ত দিয়েছে, যা পূরণ হলে তারা ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি হবে।
এই বৈঠকগুলো বিশ্বকাপ ঘিরে সৃষ্ট কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অস্থিরতার মধ্যে লাহোরে পিসিবি ও আইসিসির সঙ্গে বৈঠক করেন বিসিবি সভাপতি
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আইসিসির মধ্যে চলমান টানাপোড়েন নতুন মোড় নিয়েছে। বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবার তিনটি শর্ত দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব শর্ত মেনে নিলেই কেবল পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে।
ভারতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয় আইসিসি। ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধও গৃহীত হয়নি। শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় পাকিস্তান এবং প্রতিবাদস্বরূপ ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়। এতে আইসিসির সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক অচলাবস্থায় পড়ে। তবে লাহোরে আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পিসিবি তিনটি দাবি তোলে—বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ, পূর্ণ অংশগ্রহণ ফি এবং ভবিষ্যতে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের স্বত্ব।
আইসিসি সম্ভাব্য শাস্তির ইঙ্গিত দিলেও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি অবস্থান বদলাননি। তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এখন নজর আইসিসি পাকিস্তানের শর্তে কতটা ছাড় দেয় তার দিকে।
বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসির কাছে তিন শর্তে অবস্থান জানাল পাকিস্তান
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে আলোচনা করছে ভারতের বিপক্ষে ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কট ইস্যু সমাধানে। ফেব্রুয়ারি ১৫ তারিখে কলম্বোতে নির্ধারিত এই ম্যাচটি পাকিস্তান সরকারের নির্দেশে অনিশ্চয়তায় পড়ে, কারণ সরকার দলকে ম্যাচ না খেলতে বলেছে। এএফপি সূত্রে জানা গেছে, আইসিসি মুখোমুখি সংঘাত নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজছে।
২০ দলের এই টুর্নামেন্ট ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনায় ছায়াচ্ছন্ন। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে স্কটল্যান্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে, যার প্রতিবাদে পাকিস্তান সহ-আয়োজক ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকার করেছে। নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা পাকিস্তান ম্যাচটি ত্যাগ করলে দুই পয়েন্ট হারাবে এবং নেট রান রেটে ক্ষতি হবে। ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব জানিয়েছেন, তার দল কলম্বোতে খেলতে প্রস্তুত।
আইসিসির এই মধ্যস্থতা ক্রিকেটের অন্যতম প্রতীক্ষিত দ্বন্দ্বটি রক্ষা করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ভারত ও পাকিস্তান এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেনি।
ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের টি২০ বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কট সমাধানে আলোচনায় আইসিসি
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৪৮ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।