আধুনিক ইতিহাসবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা প্রচলিত ধারণার বিরোধিতা করে বলেছেন, ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধ আক্রমণের মাধ্যমে নয়, বরং শতাব্দীব্যাপী বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও সামাজিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতে ইসলামের আগমন ঘটে। আরব বণিকরা গোলমরিচের ব্যবসার জন্য ভারতের পশ্চিম উপকূলে আসতেন, যা ইসলামের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইতিহাসবিদ সৈয়দ সুলেমান নদভীর মতে, ইসলামের আবির্ভাবের পর আরবরা গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ নিয়ন্ত্রণে নেন এবং এর ফলে দক্ষিণ ভারতে মাপ্পিলা মুসলিম সম্প্রদায়ের বিকাশ ঘটে। রাজনীতিবিদ শশী থারুরও উল্লেখ করেছেন, মালাবার উপকূলে ইসলাম এসেছে আরব বণিকদের মাধ্যমে, কোনো তরবারির জোরে নয়। ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে মালিক বিন দিনারের উদ্যোগে নির্মিত চেরামন জামা মসজিদকে ইসলামের প্রাচীন উপস্থিতির প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়।
এছাড়া সুফি চিশতি ও সোহরাওয়ার্দী সিলসিলার আধ্যাত্মিক প্রভাব এবং কৃষি উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় নীতির মাধ্যমে বাংলা ও পাঞ্জাবে ইসলামের বিস্তার ঘটেছিল বলে গবেষক রিচার্ড ইটন উল্লেখ করেছেন।
ইতিহাসবিদদের মতে বাণিজ্য ও সুফি প্রভাবেই ভারতে ইসলামের বিস্তার ঘটেছিল
ভারতের প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষক আল্লামা খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী বর্তমানে ১১ দিনের দাওয়াতি ও শিক্ষাবিষয়ক সফরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। সফরকালে তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিভিন্ন দ্বীনি সেমিনার, তরুণদের উদ্দেশ্যে দাওয়াহভিত্তিক কর্মসূচি এবং আলেম-উলামাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নিচ্ছেন। আগামী শুক্রবার তিনি রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জুমার নামাজের আগে প্রাক-খুতবায় ইসলামি চিন্তা, সমকালীন মুসলিম সমাজের চ্যালেঞ্জ, জ্ঞানচর্চা ও উম্মাহর ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
সফরের অংশ হিসেবে আগামী ১৮ জুলাই সকাল ৯টায় কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য ‘ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহ.) কনফারেন্স’-এ তিনি প্রধান অতিথি ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে বক্তব্য দেবেন। একই অনুষ্ঠানে ‘ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহ.) স্মারকগ্রন্থ’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন ইসলামী চিন্তা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চট্টগ্রাম সফরকালে তিনি হাটহাজারী ও পটিয়ার শীর্ষ মাদ্রাসা পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।
বায়তুল মোকাররমে প্রাক-খুতবায় বক্তব্য দেবেন ভারতের আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে আগামী ৯ থেকে ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ‘তৃতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সাংবাদিকতা সম্মেলন-২০২৬’। নেপাল আদিবাসী উপজাতি সাংবাদিক ফেডারেশন (ফোনিজ)-এর আয়োজনে এবং নয়া ন্যাশনাল ফোরাম অব জার্নালিস্টস ও সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের সমন্বয়ে চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। সম্প্রতি কাঠমান্ডুর নয়াবাজারে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় ফোনিজের সাধারণ সম্পাদক সমীর বলামী সম্মেলনের বিস্তারিত কার্যপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০টি দেশের মাতৃভাষাভিত্তিক সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও গবেষকরা এতে অংশ নেবেন। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে প্যানেল আলোচনা, গবেষণাপত্র ও কার্যপত্র উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হবে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মাতৃভাষা সাংবাদিকতার বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রারও আয়োজন করা হবে।
সম্মেলনের অংশ হিসেবে নেপালের ঐতিহাসিক ও পর্যটনস্থল পরিদর্শন এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের মতে, এর মাধ্যমে মাতৃভাষা সাংবাদিকতার বিকাশ, নীতিগত গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা এবং নেপালের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আগস্টে কাঠমান্ডুতে তৃতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সাংবাদিকতা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে
সনাতন ধর্মীয় পঞ্জিকা অনুসারে ফরিদপুরের নগরকান্দায় আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়েছে। রথযাত্রা উদযাপন কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপি। দুপুরে নগরকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গাংজগদিয়া সার্বজনীন কালীমন্দির থেকে রথযাত্রা শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌমুখা পশ্চিমপাড়া দুর্গামন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ রথযাত্রায় অংশ নেন এবং প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আনন্দ প্রকাশ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। উৎসবটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে পালিত হয়।
বিশ্বাস করা হয়, রথের দড়ি টানলে পাপ মোচন হয় এবং শত যজ্ঞের সমান পূণ্য লাভ হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের মধ্যেও যুগের পর যুগ টিকে থাকবে।
নগরকান্দায় রথযাত্রা উদযাপনে ধর্মীয় আচার ও ভক্তদের অংশগ্রহণ
‘ক্যানভাস ২৪ : মুক্তির মহাকাব্য’ শিরোনামে তিন দিনব্যাপী আর্টক্যাম্পের উদ্বোধন হয়েছে ১৫ জুলাই ২০২৬ সকালে জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায়। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আর্টক্যাম্পে ৫৫ জন দেশবরেণ্য, প্রথিতযশা ও তরুণ শিল্পী অংশ নিচ্ছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি, চেতনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে শিল্পের মাধ্যমে ধারণ ও উদযাপনই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, অতীতের অনিয়ম-অবিচার যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং শিল্পের মাধ্যমে মুক্তির চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শিল্পের মাধ্যমে যে বার্তা দেওয়া হয় তা যেন মানুষ উপলব্ধি করতে পারে এবং নবীন শিল্পীরা যেন অভিজ্ঞদের কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়। একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) জানান, এই আর্টক্যাম্পে আঁকা চিত্রগুলো পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে প্রদর্শিত হবে।
১৫ থেকে ১৭ জুলাই প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই আর্টক্যাম্প, যেখানে শিল্পীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলবেন।
শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে তিন দিনব্যাপী আর্টক্যাম্প শুরু
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আগামী ৫ আগস্ট খুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আজ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির উদ্বোধন করবেন।
একই দিনে সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ও সময় অনুযায়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। তিনি আরও বলেন, জাদুঘরের নির্মাণ ও সংস্কারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় জনবল নিয়োগের বিষয়টি শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে।
এই ঘোষণা জাদুঘর উদ্বোধনের প্রস্তুতির শেষ ধাপ নির্দেশ করছে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের সরকারি উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিচ্ছে।
৫ আগস্ট খুলবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই উদ্বোধন করা হবে। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, জাদুঘরের জন্য নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা গেজেট আকারে প্রকাশের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। জনবল নিয়োগ ও কিছু নির্মাণকাজ এখনো চলমান থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাদুঘর নির্মাণে কোনো দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে নানা আয়োজন থাকবে এবং এই সময়ের মধ্যেই জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে।
এই ঘোষণা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের জাতীয় উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৫ আগস্টের মধ্যেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের ঘোষণা
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে টানা তৃতীয় বছরের মতো নবজাতক ছেলেশিশুর সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম হয়েছে ‘মুহাম্মদ’। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (ওএনএস) প্রকাশিত ২০২৫ সালের জন্মনিবন্ধনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫ হাজার ৯৫৭ নবজাতক ছেলের নাম রাখা হয়েছে ‘মুহাম্মদ’। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ‘নোয়া’ নামের তুলনায় প্রায় দুই হাজার বেশি শিশুর এই নাম রাখা হয়েছে।
ওএনএসের তথ্য অনুযায়ী, ‘মুহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা কয়েক দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৯৭ সালে প্রথমবার এটি শীর্ষ ১০০ তালিকায় স্থান পায়, ২০১৬ সালে শীর্ষ ১০–এ উঠে আসে এবং ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো সবচেয়ে জনপ্রিয় নামের অবস্থান দখল করে। এরপর থেকে টানা তিন বছর ধরে এটি শীর্ষে রয়েছে। ২০২৫ সালের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ‘লিও’ এবং চতুর্থ স্থানে ‘লুকা’।
এছাড়া ‘মোহাম্মদ’ নামের বিভিন্ন বানানও দীর্ঘদিন ধরে সরকারি তালিকায় রয়েছে। ১৯৫৪ সালেই নামটির তিনটি ভিন্ন বানান শীর্ষ ১০০–এ ছিল এবং ‘মোহাম্মদ’ বানানটি প্রথম ১৯২৪ সালে তালিকায় উঠে আসে।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে টানা তৃতীয় বছর নবজাতক ছেলেদের শীর্ষ নাম ‘মুহাম্মদ’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন যে, রাষ্ট্র যদি জুলাই বিপ্লব নিয়ে সিনেমা নির্মাণের জন্য অর্থ না দেয়, তবে তিনি নিজেই অর্থ দেবেন। শনিবার জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের বিশেষ অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রয়োজনে নিজের গাড়ি বা রক্ত বিক্রি করেও তিনি এই ফান্ডে অর্থ দেবেন। তিনি যোগ্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের এই কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লবকে ‘জঙ্গি কর্মকাণ্ড’ হিসেবে প্রচারের মিথ্যাচার রুখতে সঠিক ইতিহাসভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ জরুরি। তিনি বিপ্লবটিকে এক মহাকাব্যিক সংগ্রাম হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, একপক্ষ অস্ত্র ব্যবহার করেছে, অন্যপক্ষ বুককে ঢাল বানিয়েছে। তিনি জানান, তৎকালীন স্বৈরশাসকের ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’ নীতির কারণে আহতদের অস্ত্রোপচার বা অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয়নি।
তিনি মনে করেন, মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে এই বীরত্বগাথা অমর করা এবং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।
জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস রক্ষায় সিনেমার অর্থায়নের অঙ্গীকার তাজুল ইসলামের
বাংলাদেশের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, লেখক ও জনবুদ্ধিজীবী অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই। বিনয়ী অথচ দৃঢ়চেতা এই শিক্ষক-লেখক সমাজ ও রাষ্ট্র নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছেন এবং বুদ্ধিজীবীদের সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করেছেন। প্রায় ত্রিশটি গ্রন্থের রচয়িতা হক সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবমুক্তির চর্চায় আজীবন নিবেদিত ছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বাংলাদেশের প্রবন্ধ সাহিত্য’ ও ‘রাষ্ট্রচিন্তায় বাংলাদেশ’।
ড. আহমদ শরীফ প্রতিষ্ঠিত ‘স্বদেশ চিন্তা সংঘ’-এর সভাপতি হিসেবে তিনি মুক্তবুদ্ধি ও প্রগতিশীল চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যৌবনে মার্কসবাদী চিন্তার সংস্পর্শে এসে সমাজতান্ত্রিক দর্শনের প্রভাব গ্রহণ করেন এবং সাম্রাজ্যবাদ ও নয়া ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বিরোধিতা করে তিনি আন্তর্জাতিক মানবিক সংহতির আহ্বান জানান।
জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের মুক্তি ও উন্নয়নের জন্য ২৮ দফা কর্মরেখা প্রণয়ন করেন, যার লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠন। তার মৃত্যুতে মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের এক দৃঢ় কণ্ঠস্বর হারালো দেশ।
আবুল কাসেম ফজলুল হক। ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৪০ – ৫ জুলাই ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা জানিয়েছেন, তিনি ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, যারা এটির দাবি করেছেন, তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করাই সঠিক মনে করেছেন।
শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে জুমা বলেন, জনগণের অর্থে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারকে একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে জনগণের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল তাদের লক্ষ্য। কিন্তু শহীদ উসমান হাদি মৃত্যুর আগে তা সম্পন্ন করতে পারেননি। তার মৃত্যুর পর ওয়ারিশরা প্রতিষ্ঠানটির দাবি করেন। ফেসবুকে অপপ্রচার, কুৎসা ও আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, শহীদ উসমান হাদির সম্মান রক্ষা করাই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।
জুমা আরও জানান, তাদের কাছে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান নয়, বরং বিপ্লবই মুখ্য। তারা ইনকিলাব মঞ্চে দায়িত্বে থেকে সেখান থেকেই তাদের লড়াই ও কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
শহীদ উসমান হাদির সম্মান রক্ষায় ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার থেকে সরে দাঁড়ালেন জুমা
২০২৬ সালের ৯ জুলাই ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত মিনার রশীদের একটি কলামে লেখক মেহের আফরোজ শাওনকে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। লেখক অভিযোগ করেছেন, শাওন “জুলাই সিডিআই” নামে একটি অনলাইন পোস্টের মাধ্যমে জাতির অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। তিনি দাবি করেন, জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের বিধবা হওয়ায় রাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
কলামটিতে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলের ভণ্ডামি নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে। লেখক বলেন, সমাজের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের বুলি আওড়ালেও ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তিনি এসব প্রবণতাকে শাসক দলের প্রভাব ও সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
লেখাটি হুমায়ূন আহমেদের ব্যক্তিজীবনের প্রসঙ্গ টেনে এনে শাওনের সঙ্গে তার সম্পর্ককে সামাজিক মূল্যবোধের জন্য আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং শাওনের কর্মকাণ্ডের তদন্ত দাবি করেছে।
বাংলাদেশে মেহের আফরোজ শাওন ও সাংস্কৃতিক ভণ্ডামি নিয়ে সমালোচনামূলক কলাম
আল-কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সরকারি উদ্যোগে জাতীয় পর্যায়ে কেরাত ও হেফজ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হোক। ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মাওলানা ক্বারী গোলাম মোস্তফা বলেন, নিয়মিতভাবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা গেলে বাংলাদেশের আরও বহু ক্বারী ও হাফেজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের মেধা প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন।
ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, গত চার দশকে আন্তর্জাতিক কেরাত ও হেফজ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ক্বারী ও হাফেজরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। ১৯৮০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৩৭ জন বাংলাদেশি ক্বারী ও হাফেজ ১৮০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন। ১৯৮১ সালে লিবিয়ায় প্রথম আন্তর্জাতিক সাফল্য আসে, এরপর ১৯৮২ সালে সৌদি আরবে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ক্বারী গোলাম মোস্তফা।
ফাউন্ডেশন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্বারী ও হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হোক, যা নতুন প্রজন্মকে কোরআন শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।
সরকারি উদ্যোগে কেরাত ও হেফজ প্রতিযোগিতা আয়োজনের আহ্বান জানাল আল-কোরআন ফাউন্ডেশন
বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠির ঐতিহ্যবাহী জমিদারবাড়ি অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে। সতেরো শতকের শেষের দিকে জানকী বল্লভ রায় চৌধুরী নির্মিত এই জমিদারবাড়িটি একসময় ঐশ্বর্য ও সংস্কৃতির প্রতীক ছিল। বর্তমানে এটি কেবল ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু সংরক্ষণের কোনো সরকারি উদ্যোগ না থাকায় ভবনগুলো ভেঙে পড়ছে এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।
কলসকাঠিতে একসময় প্রায় ১৩টি জমিদার পরিবার বাস করত। এখানে ১১টি দালান ও তিনটি মন্দির রয়েছে, যেগুলোর ইট, সুরকি ও পোড়ামাটির কারুকাজ তৎকালীন আভিজাত্যের নিদর্শন বহন করে। ভবনের দেয়ালে দেব-দেবীর খোদাই করা নকশা ও সুড়ঙ্গপথ আজও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ ভবন লতাগুল্মে ঢাকা এবং মূল্যবান স্থাপত্যের অংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন, যাতে এই ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষিত থাকে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাসটি পৌঁছে দেওয়া যায়।
অযত্নে ধ্বংসের পথে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী কলসকাঠি জমিদারবাড়ি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) আবারও স্মরণ করছে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বন্ধু, সহপাঠী, শিক্ষক ও সহযোদ্ধারা তার সাহস ও আত্মত্যাগের স্মৃতি ভুলতে পারেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের করিডর থেকে স্বাধীনতা স্মারক পর্যন্ত প্রতিটি কোণ আজও তার উপস্থিতির সাক্ষ্য বহন করছে।
বন্ধুরা জানান, আবু সাঈদ ছিলেন বিনয়ী, সহানুভূতিশীল ও সমাজসচেতন একজন মানুষ, যিনি সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেন। সহযোদ্ধারা বলেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সহপাঠীদের সাহস জুগিয়েছেন। শিক্ষকরা তাকে মেধাবী, শ্রদ্ধাশীল ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন শিক্ষার্থী হিসেবে স্মরণ করেন, যিনি মেধার ভিত্তিতে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং বৈষম্যের প্রতিবাদে জীবন উৎসর্গ করেন।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী জানান, আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে তার নামে আবাসিক হল, তোরণ, স্মৃতিস্তম্ভ, জাদুঘর ও গেট নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হবে, যা শিক্ষার্থী ও পরিবারের দাবির প্রতিফলন।
বেরোবিতে শহীদ আবু সাঈদের সাহস ও আত্মত্যাগের স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১২৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।