২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি ‘আমার দেশ’-এ প্রকাশিত জাকারিয়া আল হোসাইনের প্রবন্ধে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জীবন, সংগ্রাম ও শাহাদাতকে ইসলামি সংস্কৃতির নৈতিক সৌন্দর্য ও ত্যাগের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। লেখক বলেন, হাদি নিজের জীবনকে ব্যক্তিগত নয়, বরং ন্যায়, সত্য ও ঈমানের ধারক হিসেবে দেখতেন। তার শাহাদাত ইসলামি সংস্কৃতির ন্যায়বোধ, মানবিক মর্যাদা ও দায়িত্ববোধের জীবন্ত ব্যাখ্যা হিসেবে চিত্রিত হয়েছে।
প্রবন্ধে বলা হয়, ইসলামি সংস্কৃতি কেবল আচার-অনুষ্ঠান বা সাহিত্য নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে নৈতিকতা, সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতি আল্লাহকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিচালিত হয়। শরীফ ওসমান হাদির জীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থানের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। লেখক সতর্ক করেছেন, আধুনিক মানসিক ও সাংস্কৃতিক উপনিবেশবাদ ইসলামি নৈতিকতাকে প্রান্তিক করে তুলছে।
শেষাংশে আহ্বান জানানো হয়, মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে ইসলামি মূল্যবোধকে জীবন্ত সংস্কৃতিতে রূপ দিতে এবং হাদির নৈতিক সাহস ও ন্যায়বোধকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে।
শরীফ ওসমান হাদির নৈতিক উত্তরাধিকার ও ইসলামি সংস্কৃতির ভাবনা নিয়ে প্রবন্ধ
ড. মোহর আলির গবেষণায় বাংলার উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাচীন মুসলিম আগমন ও বসতির প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৩৭–৩৮ সালে রাজশাহীর পাহাড়পুরে খননে আব্বাসি খলিফা হারুনুর রশীদের (৭৮৬–৮০৯ খ্রি.) একটি মুদ্রা এবং কুমিল্লার ময়নামতিতে একই যুগের দুটি মুদ্রা পাওয়া যায়। এসব আবিষ্কার থেকে ধারণা করা হয়, অষ্টম বা নবম শতাব্দীতে আরব বণিক বা ধর্মপ্রচারকরা বাংলায় প্রবেশ করেছিলেন। নবম–দশম শতাব্দীর একটি শিলালিপিতে ‘তাজিক’ শব্দের উল্লেখও আরব বা পারসিক বণিকদের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, আরব বণিকরা বাংলায় স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেছিল কি না তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আরাকানের ইতিহাসে ৭৮০–৮১০ খ্রিষ্টাব্দে এক জাহাজডুবির পর আরবদের চট্টগ্রাম উপকূলে বসতি স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে থু-রা-তান নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির উল্লেখ পাওয়া যায়, যাকে ড. মুহাম্মদ এনামুল হক ও ড. এম.এ. রহিম ‘সুলতান’ শব্দের আরাকানি রূপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের মতে, এটি ছিল প্রাথমিক মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃত্বের প্রতিফলন।
গবেষণায় উপসংহারে বলা হয়েছে, মুসলিম সামরিক বিজয়ের বহু আগে আরব বণিকরা চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তুলেছিল এবং ‘চট্টগ্রাম’ নামটির আরবি উৎসও সেই প্রাচীন সংযোগের সাক্ষ্য বহন করে।
বাংলার উপকূলে প্রাচীন মুসলিম বাণিজ্য ও বসতির প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ প্রকাশ
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে চট্টগ্রামের নেতৃত্বদানকারী কিন্তু প্রায় বিস্মৃত বীর হাবিলদার রজব আলী খাঁর কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। ১৮৫৭ সালের ১৮ নভেম্বর তিনি ৩৪ নম্বর নেটিভ বেঙ্গল পদাতিক বাহিনীর প্রায় ৪০০ সৈন্য নিয়ে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ করেন। তার নেতৃত্বে সিপাহিরা বন্দিদের মুক্ত করে, কোষাগার ও অস্ত্রাগার দখল নেয় এবং প্রায় ৩০ ঘণ্টা চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখে। পরে তারা ত্রিপুরা ও সিলেটের দিকে অগ্রসর হয়। ১৮৫৮ সালের ৯ জানুয়ারি করিমগঞ্জের মালেগড় টিলায় চূড়ান্ত যুদ্ধে প্রায় ৭০ জন সিপাহি শহীদ হন।
রজব আলীর জন্মস্থান ও পরিণতি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন তিনি মণিপুরের অরণ্যে হারিয়ে যান, আবার কেউ দাবি করেন ব্রিটিশরা তাকে ফাঁসি দেয়, যদিও কোনো সরকারি নথিতে তা নেই। মঙ্গল পাণ্ডের তুলনায় তার ভূমিকা কম না হলেও তিনি ইতিহাসে অবহেলিত।
চট্টগ্রাম ও করিমগঞ্জের মানুষ আজও তাকে স্মরণ করে। স্থানীয়রা চান চট্টগ্রামের প্যারেড গ্রাউন্ডের নাম ‘হাবিলদার রজব আলী স্কয়ার’ রাখা হোক এবং তার জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
১৮৫৭ সালের চট্টগ্রাম বিদ্রোহের নেতা হাবিলদার রজব আলী খাঁ আজও বিস্মৃত বীর হিসেবে স্মরণীয়
দীর্ঘ ৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ধনেখালী বিধানসভার অন্তর্গত পুইনান গ্রামে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমা। ২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মীয় সমাবেশ ৫ জানুয়ারি দুপুরে শেষ হবে। প্রায় ৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অনুষ্ঠিত ইজতেমায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও বিদেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নিচ্ছেন। শুক্রবারের জুমার নামাজে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।
ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের জন্য প্রশাসন ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইজতেমা ময়দানের পাশে ১৭০ শয্যাবিশিষ্ট অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিচ্ছেন। ধনেখালীর বিধায়ক অসীমা পাত্র জানান, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এই ধর্মীয় সমাবেশের সঙ্গে কোনো রাজনীতির সম্পর্ক নেই।
নেপালের বিরাটনগর থেকে আগত কামাল উদ্দিন জানান, তিনি এর আগে একাধিক ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন এবং ধর্মীয় বাণী শুনতে বারবার আসেন।
৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমায় লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণ ও প্রশাসনের প্রস্তুতি
জাতীয় কবিতা পরিষদ ঘোষণা করেছে যে “জাতীয় কবিতা উৎসব ২০২৬” আগামী ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। “সংস্কৃতি বিরোধী আস্ফালন রুখে দিবে কবিতা” প্রতিপাদ্য নিয়ে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি মোহন রায়হান, রেজাউদ্দিন স্টালিন, মানব সুরত, মতিন বৈরাগী, হাসান হাফিজ, অনামিকা হক লিলি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। উৎসবের উদ্বোধন করবেন শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান এবং প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে সেমিনার, কবিতাপাঠ, আবৃত্তি, সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেবেন। নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সুইমিংপুল চত্বরে উৎসবের দফতর স্থাপন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, কবিতা গণতন্ত্রের পক্ষে, সংস্কৃতি বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে এবং জাতির কল্যাণে শিল্পের প্রকাশ ঘটাতে ভূমিকা রাখবে।
আগামী ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় কবিতা উৎসব ২০২৬
আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব ‘ছবি মেলা’র একাদশ সংস্করণ শুরু হচ্ছে আগামী ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ঢাকায়। রাজধানীর দৃকপাঠ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। দৃক পিকচার লাইব্রেরি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবটি চলবে ১৬ দিনব্যাপী। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, শিল্পকলা একাডেমি, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, দৃকপাঠ ভবন এবং জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজাসহ পাঁচটি স্থানে নয়টি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এবারের থিম ‘পুনঃ’, যার অর্থ আবার বা নতুনভাবে শুরু করা। এতে পাঁচটি মহাদেশের ১৮টি দেশ থেকে ৫৮ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নিচ্ছেন।
কিউরেটর মুনেম ওয়াসিফ ও সরকার প্রতীক উৎসবের প্রদর্শনীগুলোর বিষয়বস্তু তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘বাট এ উন্ড দ্যাট ফাইটস’, ‘রাইটস অব প্যাসেজ’ ও ‘(আন)লার্নিং প্যালেস্টাইন’। এছাড়া আলেসান্দ্রা সাঙ্গুঁইনেতি, বানি আবিদি ও আমানুল হকের একক প্রদর্শনীও থাকছে। উৎসবে ছয়টি কর্মশালা, ১৬টি পাবলিক টক, চারটি গাইডেড ট্যুর এবং স্থানীয় স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষামূলক কার্যক্রম আয়োজিত হবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ১৬টি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় আয়োজিত এই উৎসব চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
১৬ জানুয়ারি ঢাকায় শুরু হচ্ছে ছবি মেলা, অংশ নিচ্ছেন ১৮ দেশের ৫৮ আলোকচিত্রী
ঐতিহ্যবাহী জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর ২০২৬ সেশনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বোধনী ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টন কলেজে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, গীতিকার ও সুরকার তাফাজ্জল হোসাইন খান। অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা, সাবেক পরিচালক, শিল্পীসহ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
অতিথিরা সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, এটি সুস্থ ধারার আন্দোলনের প্রথম সাংস্কৃতিক সংগঠন, যা ১৯৭৮ সাল থেকে শিশু-কিশোরদের মাঝে নৈতিকতা ও ইতিবাচক চিন্তার প্রসারে কাজ করছে। সংগঠনের পরিচালক ভর্তি কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাইমুম সপ্তাহে মাত্র একদিন প্রশিক্ষণ দেয়, তাই শিক্ষার্থীদের উন্নত শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানের শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে আইডি কার্ড বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন পরিচালক জাহিদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন অফিস সম্পাদক মোরশেদুল ইসলাম।
ঢাকায় সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর ২০২৬ সেশনের নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্বোধনী ক্লাস
সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) আয়োজিত জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ‘সেরাদের সেরা সিজন–৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত বাছাই পর্ব শুক্রবার রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও কলেজ প্রাঙ্গণে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দেশের আটটি বিভাগের বাছাইকৃত প্রতিযোগীরা গান, অভিনয় ও আবৃত্তি—এই তিনটি বিভাগে অংশগ্রহণ করেন।
এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান শিল্পী, অভিনেতা ও আবৃত্তিকারদের জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। সারাদেশ থেকে নির্বাচিত ৩০০ প্রতিযোগীর মধ্যে প্রতিটি বিভাগে ১০ জনকে ‘ইয়েস কার্ড’ প্রদান করে পরবর্তী রাউন্ডে উত্তীর্ণ করা হয় এবং অন্যদের হাতে সম্মাননা উপহার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ওস্তাদ তাফাজ্জল হোসাইন খান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সসাসের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল নোমান।
জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতার পরিচালক ছিলেন জাকির হোসাইন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সহকারী নির্বাহী পরিচালক ইসরাইল হোসাইন শান্ত। অতিথি ও বিচারকমণ্ডলী প্রতিযোগীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করে অডিশন পর্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ‘সেরাদের সেরা সিজন–৬’-এর জাতীয় চূড়ান্ত পর্ব
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির উদ্যোগে আগামী শনিবার (৩ জানুয়ারি) ঢাকার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৫তম চাঁপাই উৎসব-২০২৬। দিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্দেশ্য হলো ঢাকায় বসবাসরত চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর মধ্যে শেকড়ের টান ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করা। উৎসবে সভাপতিত্ব করবেন রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী ও সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলাম, আর বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব)।
উৎসবের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকবে ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা—নানা-নাতির রসাত্মক ও সমসাময়িক গান। পাশাপাশি থাকবে আঞ্চলিক খাবারের স্টল, যেখানে পরিবেশন করা হবে চাঁপাইয়ের বিখ্যাত কালাই রুটি ও মাসকলাইয়ের ডাল। জেলার গুণীজন ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনাও দেওয়া হবে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন জানান, এই উৎসবের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা হবে এবং প্রবাসী চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর মধ্যে সৌহার্দ্য ও ঐক্য বৃদ্ধি পাবে।
৩ জানুয়ারি ঢাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্য উদযাপনে ১৫তম চাঁপাই উৎসব
প্রখ্যাত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া শুক্রবার ভোর ৬টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরার জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তার মেয়ে অঞ্জনা বড়ুয়া জানান, তিনি গত এক সপ্তাহ চট্টগ্রামের একটি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি ছিলেন এবং পরে জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হলে ফুসফুসে পানি জমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজানের মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুকুমার বড়ুয়া। ষাটের দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে ভাড়া বাসায় থেকে লেখালেখি শুরু করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে অবসর নেন। প্রায় ছয় দশকের সাহিত্যজীবনে তিনি ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’, ‘ছড়াসম্রাট’ নামে পরিচিতি পান। তার লেখায় ব্যঙ্গ, হাস্যরস, নৈতিক শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাজনৈতিক বার্তা ফুটে উঠেছে।
ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ২০১৭ সালে একুশে পদকসহ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
প্রখ্যাত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া ৮৮ বছর বয়সে চট্টগ্রামে মারা গেছেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ‘মোনাজাতে ইনসাফ’ কর্মসূচির আওতায় দিনব্যাপী রোজা, মোনাজাত ও স্মরণানুষ্ঠান পালন করেন। টিএসসি এলাকায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শহীদ ওসমান হাদি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা রোজা পালন, বাদ যোহর কোরআন খতম, বিকেলে সালাতুল হাজত আদায় এবং বাদ আসর ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। পরে তাঁর ও বেগম জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া শেষে মাগরিবের আগে সম্মিলিত ইফতার অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া মাহফিলে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফাতিমা তাসনিম জুমা বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি বাংলাদেশের মানুষের কাছে আধিপত্যবাদবিরোধী সাংস্কৃতিক লড়াই পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন, এই সংগ্রামে বহু সংগঠন ও মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শিল্প-সংস্কৃতির প্রতিটি প্রকাশে যেন বাংলাদেশের কণ্ঠ ও পরিচয় প্রতিফলিত হয়, সে দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে। অন্য দেশের প্রভাব বা ভুল ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাবি শিক্ষার্থীদের রোজা-মোনাজাতে ওসমান হাদি ও বেগম জিয়ার স্মরণ
শিল্প মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজৈরের খালিয়া রাজারাম মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ নির্দেশ দেন।
তিনি জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম পরিদর্শনের অংশ হিসেবে রাজৈর ও মাদারীপুরের কয়েকটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা সরেজমিনে দেখা হয়েছে। রাজৈরে তিনটি এবং মাদারীপুরে আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে, যেগুলোর সংরক্ষণ এখন জরুরি। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে সক্রিয় রয়েছে এবং স্থানীয় জনগণ সহযোগিতা করলে সংরক্ষণ কার্যক্রম সহজে সম্পন্ন হবে।
এ সময় এলজিআরডি সচিব মাকসুদুল আলম, জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) ফাতেমা আজরিন তন্বী ও রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা পরিদর্শন শেষে খালিয়া ও কদমবাড়ি ইউনিয়নের ভূমি অফিস ঘুরে দেখেন এবং সরকারি স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে নির্দেশনা প্রদান করেন।
রাজৈরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণের নির্দেশ উপদেষ্টা আদিলুরের
পাবনার চাটমোহরে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান আল হাদির স্মরণে গ্রাফিতি উন্মোচন করা হয়। চাটমোহর উপজেলা চত্বরের শহীদ মিনারের দক্ষিণে ও উপজেলা পরিষদের সীমানা প্রাচীরে হাদি, সাঈদ, আবরার ও মীর মুগ্ধর গ্রাফিতি আঁকেন স্থানীয় শিক্ষার্থীরা।
আয়োজক মো. হাসানুজ্জামান সবুজ জানান, অমলিন ব্যানারে আয়োজিত এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে হাদির দেশের জন্য আত্মত্যাগ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জাগানো। গ্রাফিতি আঁকায় অংশ নেন শিশির, ফয়সাল, স্বপন, মাসুদ রানা, সবুজ ও গোপালসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
আয়োজকদের আশা, এই গ্রাফিতি হাদির আদর্শকে স্মরণ করিয়ে দেবে এবং তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় মর্যাদা ও আত্মত্যাগের চেতনা ধারণে অনুপ্রাণিত করবে।
চাটমোহরে বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান আল হাদির স্মরণে গ্রাফিতি উন্মোচন
কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নে নবনির্মিত একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে ‘শহীদ ওসমান হাদি সড়ক’। শহীদ ওসমান হাদির স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করে রাখতে শুক্রবার বাদ জুমা সগড়া বিশ্বরোড-সংলগ্ন সাইনবোর্ড মোড় এলাকায় দোয়া ও উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিশোরগঞ্জবাসীর ব্যানারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহীদ ওসমান হাদির আত্মত্যাগ ও সংগ্রামী জীবনের স্মৃতি ধরে রাখতে এই সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রনেতা আশিকুজ্জামান আশিকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা হাদির অবদান স্মরণ করেন এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জবাসী স্থানীয় ইতিহাস ও স্মৃতিকে সংরক্ষণের এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
কিশোরগঞ্জে শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে সড়ক উদ্বোধন
শুক্রবার বাদ আসর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির স্মরণে সর্বদলীয় ওলামা-মাশায়েখদের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, হাদি নিজের জীবন দিয়ে সম্মান, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের পক্ষে সাক্ষ্য রেখে গেছেন। তারা মনে করিয়ে দেন, অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করাই সত্যিকারের মানবিকতা।
বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয় এবং আগ্রাসন শুধু অস্ত্রের আঘাত নয়, এটি ন্যায়, মানবতা ও বিবেকের ওপর আঘাত। তারা বলেন, হাদি সবসময় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতেন এবং সবাইকে সাহসী হয়ে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা শহীদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিজ্ঞা করেন, তার রক্ত যেন চরিত্র ও আচরণে প্রতিফলিত হয় এবং সুন্দরবন, হিল ট্র্যাক্টস, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সীমান্তে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। শেষে ওলামা-মাশায়েখরা শহীদের কবর জিয়ারত করেন।
ওলামা-মাশায়েখদের সভায় শহীদ হাদিকে স্মরণ, অন্যায় ও আগ্রাসন প্রতিরোধের শপথ
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৭১ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।