যারা নিজস্ব নিউজ পোর্টাল শুরু করতে চান, তাদের জন্য নিউজ সাইট ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট সাপোর্ট ও মার্কেটিংসহ পূর্ণাঙ্গ সমাধান নিয়ে আসছে একনজর। একইসাথে দেশের ৬৪ জেলায় চালু হচ্ছে ৬৪টি স্থানীয় একনজর মিডিয়া। প্রতিটি জেলার জন্য সীমিতসংখ্যক বিনিয়োগকারী (ইনভেস্টর) নেয়া হবে।
বিস্তারিত জানতে ইনবক্সে যোগাযোগ করুন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করেছেন বর্ণাঢ্য উৎসবের মাধ্যমে। পর্তুগালের পোর্তো শহরে সেন্ট্রো সিনেমা বাতালহো ও পোর্তো বাংলাদেশ কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় পিঠা উৎসব, যেখানে পরিবেশিত হয় দেশীয় পিঠা ও প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘বরবাদ’। আয়োজকদের মতে, প্রবাসে থেকেও বাংলা সংস্কৃতি ধরে রাখার এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও চলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে টাইমস স্কয়ার ও জ্যাকসন হাইটসে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সংগীত, নৃত্য ও লোকজ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে জমে ওঠে বর্ষবরণ উৎসব। পান্তা-ইলিশ, পিঠা উৎসব ও শিশুদের অংশগ্রহণ উৎসবকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। মিশরের কায়রোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা হেলিওপোলিস আন্তর্জাতিক উদ্যানে আয়োজন করেন বৈশাখী উৎসব, যেখানে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, দেশীয় খাবার ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। মালয়েশিয়াতেও প্রবাসীরা লাল-সাদা পোশাকে গান, কবিতা ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের মাধ্যমে উদযাপন করেন পহেলা বৈশাখ।
প্রবাসীদের মতে, এসব আয়োজন শুধু আনন্দের নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
বিশ্বজুড়ে প্রবাসীদের বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন
বাংলাদেশ জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। রাজধানী ঢাকায় রমনার বটমূলে ছায়ানটের পরিবেশনায় সূচিত হয় দিনব্যাপী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। এবারের বৈশাখে আনন্দের পাশাপাশি ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের আহ্বান। দীর্ঘ দেড় দশক পর ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’, যার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ বিশিষ্টজনরা অংশ নেন।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও আমার বাংলাদেশ পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও শোভাযাত্রা ও মেলার মাধ্যমে নববর্ষ উদযাপন করে। এনসিপি বাংলামোটরে বর্ণিল মেলার আয়োজন করে, আর বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাস শহরের বিভিন্ন স্থানে গান ও নাচের আয়োজন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিণত হয় উৎসবের প্রাণকেন্দ্রে, যেখানে প্রদর্শনী, পুতুলনাচ ও লোকজ খেলায় উপচে পড়ে জনসমাগম।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। ইউনেস্কোর স্বীকৃত এই উৎসব এখন বাঙালির আত্মপরিচয় ও মানবিক গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
গণতন্ত্র ও ঐক্যের আহ্বানে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উদযাপন করল বাংলাদেশ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত ‘বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলা-১৪৩৩’-এ দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের পাশাপাশি চীন থেকে আমদানিকৃত নানা সামগ্রীর প্রদর্শনী হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ মেলা আয়োজন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। মেলাটির উদ্বোধন করেন উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। মোট ৭৫টি স্টল অংশ নেয় এবং দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
‘কারুকুটি’ স্টলে পাটের তৈরি ব্যাগ, ফ্লোর ম্যাট, সুপারির খোলের প্লেট-বাটি ও শীতলপাটির জুতা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। অন্যদিকে ‘গিফট বাস্কেট বাই কানিজ গার্লস প্রাইওরিটি’ স্টলে চীনা স্কিন কেয়ার পণ্য, গয়না ও কৃত্রিম নখ বিক্রি হয়, যেখানে নারী শিক্ষার্থীদের ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য। অংশগ্রহণকারীরা বিক্রিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে বড় উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ জানান।
আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ সৃষ্টি ও দেশীয় পণ্যের প্রসারে এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মেলা শেষে পণ্যের মান ও উপস্থাপনার ভিত্তিতে সেরা তিনটি স্টলকে পুরস্কৃত করা হবে।
চবি মেলায় দেশীয় পাটপণ্য ও চীনা সামগ্রীতে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা আগ্রহ
পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেছেন, বৈশাখের তাৎপর্য ও গুরুত্ব মাথায় রেখে দেশ গড়তে হবে এবং বাঙালি সংস্কৃতিকে ধারণ করতে হবে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জিয়ানগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভিনদেশি সংস্কৃতি পরিহার করতে হবে, কারণ পশ্চিমা সংস্কৃতি প্রায় দেশীয় সংস্কৃতিকে গ্রাস করে ফেলেছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় বাঙালিয়ানা সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, একটি জাতি টিকে থাকে তার নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষার উপর নির্ভর করে। দেশপ্রেমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরবর্তী প্রজন্মকে খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
মাসুদ সাঈদী আরও বলেন, অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারগুলো বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতির পরিবর্তে বিদেশি সংস্কৃতি চালু করার চেষ্টা করেছে এবং বিদেশি প্রভুদের সন্তুষ্ট করতে গদি রক্ষার চেষ্টা করেছে।
বৈশাখের চেতনায় দেশ গড়ার আহ্বান জানালেন এমপি মাসুদ সাঈদী
২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল প্রকাশিত ‘আমার দেশ’-এর একটি প্রবন্ধে বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সংস্কৃতি ও উৎসবের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন, জাতীয় উৎসব প্রায়ই রাষ্ট্রের মতাদর্শ প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে এবং নাগরিকদের মধ্যে ঐক্য ও পরিচয়বোধ গঠনে ভূমিকা রাখে। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র কখনো উৎসবকে ব্যবহার করে ক্ষমতার বৈধতা জোরদার করতে, আবার কখনো সামাজিক সংহতি ও স্মৃতিচর্চা বজায় রাখতে।
প্রবন্ধে পহেলা বৈশাখের ঐতিহাসিক বিবর্তন তুলে ধরা হয়েছে—যেভাবে এটি গ্রামীণ অর্থনৈতিক প্রথা থেকে শহুরে মধ্যবিত্তের অংশগ্রহণে জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন শাসনামলে উৎসবের ভেতরে ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ উপাদানের ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা এবং মতাদর্শিক প্রভাবের কথাও এতে আলোচিত হয়েছে। দুর্খেইম, টার্নার ও হবসবমের তত্ত্বের আলোকে উৎসবকে সামাজিক স্থিতি ও পরিবর্তনের উভয় মাধ্যম হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
শেষাংশে বলা হয়েছে, বৈশাখী ভাতা ও করপোরেট অংশগ্রহণ উৎসবের ব্যাপ্তি বাড়াচ্ছে। তবে উৎসবের প্রাণশক্তি তার স্বতঃস্ফূর্ততা ও অংশগ্রহণমূলক চরিত্রেই নিহিত, যা বাঙালি সংস্কৃতির বহুমাত্রিক ও পরিবর্তনশীল রূপকে প্রতিফলিত করে।
রাষ্ট্র ও সংস্কৃতি কীভাবে বাংলাদেশের জাতীয় উৎসব ও পরিচয় গঠন করে তা বিশ্লেষণ
২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল সারাদেশে যখন পহেলা বৈশাখের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল, তখন কুড়িগ্রামের রাজিবপুর, রৌমারী, চিলমারী ও উলিপুরের চরাঞ্চলে ছিল নিস্তব্ধতা। চরম দারিদ্র্য ও প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করা এসব এলাকার মানুষ উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত। অনেকেই জানেন না কবে পহেলা বৈশাখ, আর জানলেও নতুন জামা, পান্তা-ইলিশ বা মেলায় অংশ নেওয়ার সামর্থ্য নেই তাদের।
প্রায় ৪০০ চরাঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর বন্যা ও নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে মৌলিক চাহিদা থেকেও বঞ্চিত। শহরে বৈশাখী শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকলেও যোগাযোগব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় তারা সেখানে অংশ নিতে পারেন না। তবে দেনা পরিশোধের জন্য মহাজনের হালখাতা করতে হয়, যা তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা মনে করেন, চরাঞ্চলের মানুষকে বৈশাখের আনন্দে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তবেই সারাদেশে সমানভাবে বাঙালি সংস্কৃতির ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
দারিদ্র্যে কুড়িগ্রামের চরবাসীর কাছে অধরাই রইল বৈশাখের আনন্দ
২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্যাপন করা হয়। সকাল থেকেই সিআরবি শিরীষতলা, ডিসি হিল, জিমনেসিয়াম মাঠ, পলোগ্রাউন্ড, সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ নতুন বছরকে বরণ করে নেয়। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষ ও শিশুরা গান, নাচ ও মেলায় অংশ নেয়।
সিআরবিতে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন পরিষদের আয়োজনে রবীন্দ্র-নজরুল সংগীত ও লোকগানের পরিবেশনা হয়। ডিসি হিলে আবৃত্তি, নাচ ও গানের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আল্পনা আঁকা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট মূল ক্যাম্পাসে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করে। জামালখানের প্রেস ক্লাবে পান্তা-ইলিশসহ ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরীর বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করে। আন্দরকিল্লা, খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ের বাজারে ব্যবসায়ীরা হালখাতা পালন করেন। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে নগরবাসী আনন্দ-উচ্ছ্বাসে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।
চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্যাপন
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ডিসি হিল আবারও নতুন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। নতুন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার, দ্রুত সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নিয়েছেন। পহেলা বৈশাখে এই পাহাড় আবারও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে, যা নগরবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
ডিসি হিলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি। ২০০৪ সালে এখানে নির্মিত নজরুল স্কোয়ার সময়ের সঙ্গে অবহেলায় নষ্ট হয়ে যায়। ২০১৭ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক পহেলা বৈশাখ ছাড়া অন্য সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিলে ডিসি হিলের প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়ে যায়। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘদিন বহাল থাকে।
বর্তমান সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগে নাগরিকরা আশা করছেন, ডিসি হিল আবারও উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হবে এবং চট্টগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারক হিসেবে তার গৌরব ফিরে পাবে।
চট্টগ্রামের ডিসি হিল পুনর্গঠনে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবনের আশার সঞ্চার
২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার রমনা বটমূলে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী বাংলা নববর্ষ উদযাপন শুরু হয়েছে। সূর্যোদয়ের পরপরই সম্মেলক কণ্ঠে একটি গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সূচনা হয়। ভোর রাত থেকেই বটমূলের সামনে মানুষের ভিড় জমে, অশুভ শক্তির বিনাশ ও কল্যাণময় আগামীর প্রত্যাশায় প্রায় দুইশত শিল্পী এতে অংশ নেন।
ছায়ানট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের প্রভাতী আয়োজনে বৈচিত্র্যময় সুরের সমাহার ঘটানো হয়েছে। পুরো অনুষ্ঠানে রয়েছে আটটি সম্মেলক গান, চৌদ্দটি একক কণ্ঠের গান এবং দুটি কবিতা পাঠ—সব মিলিয়ে ২২টি পরিবেশনা। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।
এই আয়োজন বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে ঢাকার অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে প্রতি বছর বিপুল দর্শক আকর্ষণ করে।
রমনা বটমূলে সংগীত ও কবিতায় ছায়ানটের নববর্ষ উদযাপন শুরু
ড. আহমদ আনিসুর রহমানের লেখা একটি প্রবন্ধে, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত, পহেলা বৈশাখ তথা বাংলা নববর্ষের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক শিকড় বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। লেখক উল্লেখ করেছেন, জাতীয় সংস্কৃতির প্রতিটি উপাদানের মতোই নববর্ষ উদযাপনের মূল্য নির্ভর করে তার সঠিক ব্যবহারের ওপর। তিনি সতর্ক করেছেন, বিদেশি বা ঔপনিবেশিক প্রভাবের কারণে সাংস্কৃতিক বিকৃতি ঘটলে তা জাতীয় জীবনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলা সন প্রবর্তিত হয় প্রায় ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে, হিজরি চান্দ্র সনের সৌর সংস্করণ হিসেবে, যা ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল। এটি মূলত কৃষি উৎপাদনের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চালু করা হয়। লেখক স্পষ্ট করেছেন যে বাংলা সন ভারতের প্রাচীন বিক্রমী সন নয়, বরং বাংলাদেশের নিজস্ব সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে গঠিত একটি স্বতন্ত্র বর্ষপঞ্জি। প্রবন্ধে বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা ও খেলাফতের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
লেখকের মতে, পহেলা বৈশাখের প্রকৃত চেতনা রক্ষা করতে হলে এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি, যাতে অপসংস্কৃতির প্রভাব থেকে তা সুরক্ষিত থাকে।
বাংলা নববর্ষের উৎপত্তি ও সাংস্কৃতিক বিকৃতি রোধে সতর্কতার আহ্বান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মঙ্গলবার সকালে ‘দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ’-এর ব্যানারে রাজধানীতে বৈশাখী শোভাযাত্রা আয়োজন করে। শোভাযাত্রাটি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এতে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ রাজধানীর নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা পলো, ঢেঁকি, খেওয়া জাল, কুলাসহ গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী উপকরণ প্রদর্শন করেন।
শোভাযাত্রার পথে শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান, জারি, সারি ও ভাটিয়ালি পরিবেশন করে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেন। শোভাযাত্রা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিজাতীয় ও পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ জাতির জন্য ক্ষতিকর। তারা সরকারকে আহ্বান জানান বাঙালির প্রকৃত চেতনা ও হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে।
এই আয়োজনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসবের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা ও দেশীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহ্বান তুলে ধরে।
ঢাকায় জামায়াতে ইসলামী বৈশাখী শোভাযাত্রায় দেশীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্য উদযাপন
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। ভোরে রমনার বটমূলে ২২টি গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ বরণের সূচনা হয় এবং জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
শোভাযাত্রাটি চারুকলার উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি প্রদক্ষিণ করে আবার চারুকলায় ফিরে আসে। এতে মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া—এই পাঁচটি প্রধান মোটিফ স্থান পেয়েছে, যা নতুন সূচনা, শক্তি, শান্তি, সাংস্কৃতিক শেকড় ও গ্রামীণ সরলতার প্রতীক। অংশগ্রহণকারীরা বাউলদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শোভাযাত্রাকে ঘিরে ক্যাম্পাসে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, ডিবি ও সোয়াট সদস্যরা মোতায়েন থাকেন, দর্শনার্থীদের পরিচয়পত্র যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় এবং সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পুরান ঢাকায় জেলা প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় পাঁচ দিনব্যাপী বহুমুখী পাটপণ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ২৬টি স্টল নিয়ে এই মেলা ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে এবং বৃহস্পতিবার শেষ হবে। রোববার ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম বলেন, পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ এবং এর মাধ্যমে শতাধিক পণ্য তৈরি সম্ভব। তিনি পাটপণ্য উদ্যোক্তাদের সৃষ্টিশীলতাকে সমর্থন করার আহ্বান জানান, যাতে দেশি ও বিদেশি বাজারে পাটের প্রসার ঘটে।
পুরান ঢাকাবাসীর উদ্দেশে জেলা প্রশাসক জানান, সীমিত খোলা জায়গার কারণে এমন আয়োজনের সুযোগ কম হলেও এবারের বৈশাখে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। পহেলা বৈশাখের দিন বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতি প্রদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পহেলা বৈশাখে পুরান ঢাকায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পাঁচ দিনব্যাপী পাটপণ্য মেলা
ফ্রান্সে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ইসলামী শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্যারিসের ওভারভিলিয়ে এলাকায় মাল্টি কালচারাল (এমসি) ইনস্টিটিউট ফ্রান্সের উদ্যোগে অভিভাবক ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে এমসি ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল প্রফেসর বদরুল বিন হারুন।
বক্তারা এমসি ইনস্টিটিউটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে প্রবাসী সন্তানদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান এবং সম্মিলিত সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
ফান্ডরেইজিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীরা আন্তরিকভাবে সাড়া দেন এবং প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানটি শেষ হয় এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
ফ্রান্সে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সন্তানদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় উৎসাহ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সামাজিক উৎসব বিঝু-বৈসু-সাংগ্রাই-বিষু-চাংক্রান-সাংক্রাই-বিহু-বৈসু বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে। “উৎসবের বুননে ঋদ্ধ হোক আমাদের অধিকার” প্রতিপাদ্যে জুম সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ফুল নিবেদন, বর্ণাঢ্য র্যালি এবং ঐতিহ্যবাহী ‘পাজন’ পরিবেশনের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা উদ্বোধন করেন এবং সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক শান্তিময় চাকমা সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হিল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কৃতি নিশান চাকমা এবং জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত প্রামাণিক। অধ্যাপক বিদিশা বলেন, পাহাড় ও সমতল থেকে আগত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে এবং তিনি ভবিষ্যতে এ উৎসব উপলক্ষে ছুটি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন। অন্যান্য বক্তারাও উৎসবের সময় ছুটি প্রদানের পক্ষে মত দেন।
রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাহাড়ি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই উৎসব আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়।
ঢাবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিঝু উৎসব, পাহাড়ি সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যের উদযাপন
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৩৭ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।