গীতিকার, খতিব ও ইসলামি আলোচক মুফতি মুশাহিদ মুনাওয়ার শহীদ ওসমান হাদিকে উৎসর্গ করে ছয়টি ইসলামি নাশিদ প্রকাশ করেছেন। জুলাই বিপ্লবের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী সংগ্রামী এই বীরকে নিয়ে লেখা নাশিদগুলো ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ‘দিলমে হাদি’, ‘আয় হাদি ফিরে আয়’ ও ‘জানাও ইন্টেরিম’সহ এসব নাশিদে শহীদের আত্মত্যাগ, বিচারহীনতা ও স্মৃতিচারণ সংযত কিন্তু দৃঢ় ভাষায় উঠে এসেছে। মুশাহিদ মুনাওয়ার জানিয়েছেন, শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে আরও চারটি নাশিদ প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।
‘দিলমে হাদি’ নাশিদে কণ্ঠ দিয়েছেন সায়নান সায়েম, আর ‘আয় হাদি ফিরে আয়’ সুর করেছেন আবু উবায়দা, কণ্ঠ দিয়েছেন কাজী মাশকুরে এলাহী। এই গানগুলোতে শহীদের অনুপস্থিতি ও শূন্যতার বেদনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। অন্যদিকে ‘জানাও ইন্টেরিম’ নাশিদে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি তোলা হয়েছে, যা তরুণ শ্রোতাদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলেছে।
মুশাহিদ মুনাওয়ার বলেন, শহীদদের স্মৃতি যেন প্রজন্মের চেতনায় স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেয়, সেই ভাবনা থেকেই এসব নাশিদ রচিত। সংস্কৃতি সংশ্লিষ্টদের মতে, এই নাশিদগুলো সমসাময়িক ইসলামি সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন এবং সময়ের সাংস্কৃতিক দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
মুফতি মুশাহিদ মুনাওয়ারের ছয় নাশিদে শহীদ ওসমান হাদিকে ঘিরে সাংস্কৃতিক আলোচনার সৃষ্টি
২০২৬ সালের শুরুতে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এক ব্যবহারকারী ও চ্যাটজিপিটির কথোপকথন। ওই ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেন, এক দিনের জন্য যদি সে মানুষ হতে পারত, তাহলে কী করত। চ্যাটজিপিটির উত্তর সবাইকে চমকে দেয়। এটি জানায়, মানুষ হলে সে হালকা বাতাসের ছোঁয়া, রোদের উষ্ণতা ও কান্নার অনুভূতি পেতে চাইত। আরও জানায়, ভুল করতে, প্রেম অনুভব করতে এবং নিজের দয়ালুতা বোঝার ইচ্ছা তার থাকবে। শেষ পর্যন্ত এটি বলে, মানবজীবনের কঠিন সত্যের সঙ্গে বাঁচতে চায়।
এই উত্তর বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের চাকরির বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে, আবার অনেকে মনে করেন এটি মানুষের সহায়ক হিসেবেই কাজ করবে। চ্যাটজিপিটির মানবিক উত্তর অনেককে ভাবিয়েছে—এআই কি কেবল প্রযুক্তি, নাকি মানুষের অনুভূতি বোঝার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া কোনো সত্তা।
ঘটনাটি চিকিৎসা, বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সৃজনশীল কাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করেছে।
চ্যাটজিপিটির মানবিক উত্তর এআই ও অনুভূতি নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে নিয়ে কবি জিয়া হকের লেখা বিপ্লবী কবিতা ও গান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এসব কবিতা ও গান শত মিলিয়ন ভিউ অর্জন করেছে। চার দিন আগে রিলসে জিয়া হক ছিলেন বিশ্বের টপ সার্চে। শিল্পী আবু উবায়দার গাওয়া ‘হাদির জিন্দাবাদ’ ফেসবুকে ১১ মিলিয়নের বেশি এবং ইউটিউবে তিন মিলিয়নের বেশি ভিউ পেয়েছে। একই সঙ্গে ‘হাদি তুই ফিরে আয়’ ও ‘গুলি-টুলি হাদিদের চুলটাও ছেঁড়ে না’ কবিতাগুলোও মিলিয়ন ভিউ অতিক্রম করেছে।
গান ও কবিতার চরণ ফেসবুকে হাজার হাজারবার শেয়ার হচ্ছে, দেয়াল লিখনেও ব্যবহৃত হচ্ছে। গবেষক আমান আবদুল্লাহ ও লেখক ইকবাল খন্দকারসহ অনেকে এর প্রশংসা করেছেন। রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরাও গানটি শেয়ার করেছেন। কবি জিয়া হক বলেছেন, এই সাড়া তাঁর জন্য অকল্পনীয় এবং এটি তাঁকে আরও লেখালেখিতে অনুপ্রাণিত করবে।
শিল্পী আবু উবায়দা ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী এক মাসের ইউটিউব আয় তিনি হাদির পরিবারের জন্য প্রদান করবেন। এছাড়া বহু বাচিকশিল্পী এসব কবিতা আবৃত্তি করেছেন, যা এর জনপ্রিয়তাকে আরও বিস্তৃত করেছে।
জিয়া হকের ‘হাদির জিন্দাবাদ’ গান ও কবিতা মিলিয়ন ভিউ পেয়ে ভাইরাল
চীনে তৈরি একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স রোবট ব্যাডমিন্টন খেলায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। ঝেজিয়াং প্রদেশের শাওক্সিং শহরে কয়েকজন মানব খেলোয়াড়ের সঙ্গে ম্যাচে রোবটটি টানা ১ হাজার ৪৫২ বার সফলভাবে শাটলকক ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়। এটি কোনো মোবাইল রোবটের বিরতিহীনভাবে টানা এতবার ‘কাউন্টার হিট’ করার নতুন রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
রোবটটি তৈরি করেছে ঝেজিয়াং শেনচেন কাইডং টেকনোলজি কোম্পানি। আয়োজকদের মতে, অ্যাথলেটিক রোবটটি ভিশন সিস্টেম ও গতিনিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এই সাফল্য চীনের রোবোটিক্স খাতে ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।
আয়োজকদের মতে, এই রেকর্ড চীনা প্রকৌশলীদের জটিল ক্রীড়া কার্য সম্পাদনে সক্ষম রোবট তৈরির অগ্রগতির প্রতিফলন।
চীনা রোবটের টানা ১,৪৫২ ব্যাডমিন্টন হিটে বিশ্বরেকর্ড
ওপেনএআই প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে সুপারহিউম্যান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে পরবর্তী বড় অগ্রগতি ঘটবে যখন এআই সিস্টেমগুলো “অসীম, নিখুঁত স্মৃতি” অর্জন করবে। বিগ টেকনোলজি পডকাস্টে তিনি বলেন, ওপেনএআই ২০২৬ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করছে, যেখানে এআই ব্যবহারকারীর জীবনের প্রতিটি বিবরণ মনে রাখতে পারবে। তিনি বলেন, মানব সহকারীরা কখনোই প্রতিটি শব্দ, নথি বা কাজের বিবরণ মনে রাখতে পারে না, এবং বর্তমান এআই মেমরি এখনো “খুবই প্রাথমিক” পর্যায়ে রয়েছে।
অল্টম্যানের এই মন্তব্য আসে গুগলের জেমিনি ৩ মডেল প্রকাশের পর, যা কোম্পানিটি “বুদ্ধিমত্তার নতুন যুগ” হিসেবে বর্ণনা করেছে। যদিও জেমিনি ৩ শিল্প মানদণ্ডে রেকর্ড ফলাফল অর্জন করেছে, অল্টম্যান বলেন ওপেনএআই-এর প্রতিক্রিয়া ছিল প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক অংশ। তিনি জানান, জেমিনি ৩ প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলেনি, তবে এটি ওপেনএআই-এর কিছু দুর্বলতা চিহ্নিত করেছে যা দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে ওপেনএআই-এর কৌশল হলো সর্বোত্তম মডেল তৈরি, শক্তিশালী পণ্য উন্নয়ন এবং বৃহৎ পরিসরে পরিষেবা প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো নিশ্চিত করা।
স্যাম অল্টম্যানের পূর্বাভাস, ২০২৬ সালের মধ্যে অসীম স্মৃতিসম্পন্ন এআই আসছে
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ভুয়া ছবি ও ডিপফেক সাংবাদিকতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে দুই দিনব্যাপী ‘এআই-পাওয়ার্ড জার্নালিজম: অপারচুনিটি, রিস্ক অ্যান্ড ডিজিটাল সিকিউরিটি’ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এআই সাংবাদিকদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে, তবে এর অপব্যবহার তথ্য বিকৃতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালা ও তথ্যের নির্ভুলতা কখনোই বদলাবে না। এআই সঠিকভাবে ব্যবহার করলে উৎপাদনশীলতা ৩০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব এবং বিশেষায়িত সাংবাদিকতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। তবে ডিপফেক ও বিকৃত কনটেন্ট জনমত প্রভাবিত করে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাই সাংবাদিকদের এআই শিক্ষায় দক্ষ হতে হবে, যাতে ভুয়া তথ্য শনাক্ত করে গণতন্ত্র ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেওয়া যায়।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, এআই সম্পর্কে জ্ঞান ছাড়া দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সম্ভব নয় এবং সাংবাদিকদের জন্য এ বিষয়ে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকবে।
ডিপফেক মোকাবিলায় সাংবাদিকদের এআই শিক্ষায় দক্ষ হওয়ার আহ্বান প্রেস সচিবের
সম্প্রতি প্রকাশিত গ্লোবাল ওয়ার্কফোর্স স্টাডিতে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির পরও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের শ্রমবাজারে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ লক্ষাধিক নতুন কর্মীর প্রয়োজন হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, এআই ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াকে পরিবর্তন করলেও মানবশ্রমের চাহিদা কমছে না। বরং শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প এবং সরকারি-বেসরকারি সেবার সম্প্রসারণ শ্রমের চাহিদা বাড়াচ্ছে।
সৌদি আরবে শ্রমবাজারের চাহিদা মূলত ভিশন ২০৩০ অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি দ্বারা পরিচালিত, যেখানে নির্মাণ, অবকাঠামো, পর্যটন, উৎপাদন, লজিস্টিকস ও নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় বিনিয়োগ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই উৎপাদনশীলতা না বাড়ালে দেশটিতে প্রায় ৬.৫ লক্ষ অতিরিক্ত কর্মী প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে, আরব আমিরাতের শ্রমশক্তি ২০৩০ সালের মধ্যে ১২.১% বৃদ্ধি পাবে, যা গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম দ্রুত।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বিদেশি শ্রমিকদের জন্য সুযোগ অব্যাহত থাকবে, বিশেষত যারা কারিগরি, ডিজিটাল ও সেবা খাতে দক্ষ। এআই পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় করলেও তত্ত্বাবধান, গ্রাহক সংযোগ ও সমস্যা সমাধানে মানব শ্রম অপরিহার্য থাকবে।
এআই অটোমেশনের পরও ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ লক্ষাধিক চাকরি তৈরি করবে আমিরাত-সৌদি
এনভিডিয়া (Nvidia) উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যাক্সিলারেটর চিপ নির্মাতা গ্রোকের সম্পদ ২০ বিলিয়ন ডলারে নগদ অর্থে কিনতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিসরাপটিভের সিইও অ্যালেক্স ডেভিস, যিনি গ্রোকের সর্বশেষ অর্থায়ন রাউন্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এটি এনভিডিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুক্তি, যদিও গ্রোকের ক্লাউড ব্যবসা এই লেনদেনের বাইরে থাকবে এবং স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। গ্রোকের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জনাথন রস, প্রেসিডেন্ট সানি মাদ্রা এবং অন্যান্য সিনিয়র নেতারা এনভিডিয়ায় যোগ দেবেন, আর অর্থপ্রধান সাইমন এডওয়ার্ডস নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
গ্রোক এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে যে তারা এনভিডিয়ার সঙ্গে তাদের ইনফারেন্স প্রযুক্তির জন্য একটি অ-একচেটিয়া লাইসেন্সিং চুক্তি করেছে, তবে মূল্য প্রকাশ করেনি। এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং কর্মীদের ইমেইলে বলেছেন, কোম্পানি গ্রোকের লো-ল্যাটেন্সি প্রসেসরগুলোকে এনভিডিয়ার এআই ফ্যাক্টরি আর্কিটেকচারে সংযুক্ত করবে, যাতে ইনফারেন্স ও রিয়েল-টাইম কাজের পরিসর বাড়ানো যায়। এনভিডিয়ার সিএফও কোলেট ক্রেস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
Groq, Inc. ২০১৬ সালে সাবেক গুগল প্রকৌশলীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল AI ইনফারেন্সের জন্য বিশেষায়িত Language Processing Unit (LPU) চিপ তৈরি করা। বড় বিনিয়োগ, অধিগ্রহণ এবং বৈশ্বিক ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কোম্পানিটি দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং GroqCloud প্ল্যাটফর্ম চালু করে।
গ্রোকের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জনাথন রস, প্রেসিডেন্ট সানি মাদ্রা এবং অন্যান্য সিনিয়র নেতারা এনভিডিয়ায় যোগ দেবেন
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান দেশটির প্রথম হাইপারস্কেল ক্লাউড অঞ্চল স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন, যা তুরস্ককে একটি আঞ্চলিক ডিজিটাল হাবে পরিণত করার লক্ষ্য বহন করছে। বুধবার আঙ্কারায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা কাউন্সিল এবং বিজ্ঞান একাডেমির ২০২৫ সালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। এর জন্য একটি কৌশলগত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, এবং প্রকল্পটি ২০২৮–২০২৯ সালের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগটি আঙ্কারাভিত্তিক টেলিকম প্রতিষ্ঠান টার্কসেল ও গুগল ক্লাউডের অংশীদারিত্বে গড়ে উঠছে। এতে একাধিক ডেটা সেন্টারের মাধ্যমে বিপুল কম্পিউটিং, স্টোরেজ ও নেটওয়ার্কিং সুবিধা থাকবে, যা সরকার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপদে ডেটা সংরক্ষণ ও ডিজিটাল সেবা পরিচালনায় সহায়তা করবে। এরদোয়ান বলেন, প্রকল্পটি ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে একটি ডিজিটাল সেতু হিসেবে কাজ করবে এবং তুরস্কের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হাইপারস্কেল ক্লাউড অঞ্চল তুরস্কের ডিজিটাল রূপান্তর কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা ডেটা নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
গুগল ক্লাউডের সহযোগিতায় ২০২৯ সালের মধ্যে তুরস্কের প্রথম হাইপারস্কেল ক্লাউড অঞ্চল চালু হবে
গুগলের প্রকাশিত ২০২৫ সালের সার্চ ট্রেন্ডে দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ প্রযুক্তি, বিনোদন ও রাজনীতি বিষয়ক তথ্য খুঁজেছেন সবচেয়ে বেশি। মার্কিন রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কির্কের হত্যাকাণ্ড, নেটফ্লিক্সের অ্যানিমেটেড ছবি ‘কেপপ ডেমন হান্টার্স’ এবং পপ মার্টের ভাইরাল খেলনা চরিত্র ‘লাবুবু’ ছিল বছরের আলোচিত সার্চ বিষয়। এসব বিষয় মানুষের আগ্রহ ও সাংস্কৃতিক প্রবণতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিশেষ করে গুগলের নিজস্ব এআই মডেল ‘জেমিনি’ নিয়ে অনুসন্ধান ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ‘এআই কী’ বা ‘জেমিনি কীভাবে কাজ করে’—এমন প্রশ্ন সার্চের শীর্ষে ছিল, যা প্রমাণ করে সাধারণ মানুষও এখন এআই প্রযুক্তির প্রতি গভীর আগ্রহী।
অন্যদিকে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের শাটডাউনসহ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ঘটনাও সার্চ ট্রেন্ডে প্রভাব ফেলেছে। এসব তথ্য প্রমাণ করে, দৈনন্দিন জীবন থেকে বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ—সবকিছুর জন্যই মানুষ এখনও গুগলের ওপর নির্ভরশীল।
২০২৫ সালের গুগল সার্চে এআই, বিনোদন ও রাজনীতি ছিল সবচেয়ে আলোচিত বিষয়
বিশ্বখ্যাত ভিডিও গেম সিরিজ ‘কল অব ডিউটি’র সহ-নির্মাতা ভিন্স জাম্পেলা যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। সোমবার ইলেকট্রনিক আর্টস (ইএ) তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, ৫৫ বছর বয়সী এই গেম নির্মাতা রোববার নিজের ফেরারি গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।
ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল (সিএইচপি) জানায়, অজ্ঞাত কারণে গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে গিয়ে কংক্রিটের বাধায় আঘাত করে এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। এতে চালক ও এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে পরে মারা যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা সামাজিক মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থলের ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে আগুনে জ্বলতে থাকা লাল ফেরারি গাড়িটি দেখা যায়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো তদন্তাধীন।
প্রথম-ব্যক্তি সামরিক শুটার গেমের ক্ষেত্রে জাম্পেলাকে একজন পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর স্টুডিওগুলো ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ভিডিও গেম তৈরি করেছে। তাঁর মৃত্যু গেমিং শিল্পে এক বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে গাড়ি দুর্ঘটনায় ‘কল অব ডিউটি’র সহ-নির্মাতা ভিন্স জাম্পেলার মৃত্যু
‘মেহেরবান’ খ্যাত জনপ্রিয় গায়ক মুনাইম বিল্লাহ দীর্ঘ বিরতির পর প্রকাশ করেছেন নতুন সংগীত ‘কোটি হাদির ডাক’। শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মৃতি ও বিপ্লবী চেতনাকে ধারণ করে গানটি ২২ ডিসেম্বর সকালে শিল্পীর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়। মুক্তির পরপরই এটি শ্রোতাদের মধ্যে আলোচনায় আসে এবং মুনাইম বিল্লাহর সংগীতে প্রত্যাবর্তনকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে।
মুনাইম বিল্লাহ বলেন, এই গানটি শুধু একটি সংগীত নয়, বরং শহীদ হাদির আদর্শ ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। গানটির কথা লিখেছেন কবি জিয়া হক, সুর করেছেন আবু উবায়দা এবং সাউন্ড মিক্সিং করেছেন শরিফ মাহমুদ। কবি জিয়া জানান, এটি প্রচলিত ধারার বাইরে একটি পূর্ণাঙ্গ সংগীত, যেখানে কথা, সুর ও কণ্ঠের সমন্বয় ঘটেছে।
জিয়া হকের লেখা আগের গান ‘হাদি তুই ফিরে আয়’ এক সপ্তাহে দুই মিলিয়নের বেশি ভিউ পেয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ‘কোটি হাদির ডাক’ একইভাবে বিপ্লবী সংগীত হিসেবে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে।
শহীদ ওসমান হাদির স্মৃতিতে মুনাইম বিল্লাহর নতুন গান ‘কোটি হাদির ডাক’ প্রকাশ
অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিত ২৭তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে (আইআরও) বাংলাদেশ দল মোট ১১টি পদক অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১টি স্বর্ণ, ৬টি ব্রোঞ্জ এবং ৪টি টেকনিক্যাল পদক। ১৭ থেকে ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ উদ্ভাবকরা অংশ নেন। আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল টিটু সিনিয়র ক্রিয়েটিভ ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক জয় করেন।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে ওয়াইডাব্লিউসিএ উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ও স্কলাস্টিকা স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া চারজন শিক্ষার্থী টেকনিক্যাল পদক পেয়েছে ফিজিক্যাল কম্পিউটিং ও ক্রিয়েটিভ মুভি ক্যাটাগরিতে।
বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জাতীয় বাছাই পর্বের মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্বে অংশ নেয়। কর্মকর্তারা বলেন, এই সাফল্য বাংলাদেশের রোবটিক্স শিক্ষার বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং তরুণ প্রজন্মের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দলের ১১ পদক অর্জন, একটি স্বর্ণসহ
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় হোমকেয়ার ব্র্যান্ড টাইলক্সের নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা ফাস্ট বোলার ও ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ খ্যাত শোয়েব আখতার। রিমার্ক-হারল্যান গ্রুপের এই জনপ্রিয় ব্র্যান্ড আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নতুন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে টাইলক্সের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
রিমার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, শোয়েব আখতারের গতি, শক্তি ও আগ্রাসী মানসিকতা ব্র্যান্ডের মূল বার্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। টাইলক্সের অ্যামোনিয়া-ফ্রি সারফেস ক্লিনিং পণ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতেই তাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। শোয়েব আখতার বলেন, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি এখন জীবনের অপরিহার্য অংশ, এবং টাইলক্স সেই সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা আশা করছেন, শোয়েব আখতারের আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা টাইলক্সকে বৈশ্বিক বাজারে আরও পরিচিত করবে। সাকিবের সময়কালের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এই পরিবর্তন ব্র্যান্ডের নতুন অধ্যায় সূচনা করবে বলে তারা মনে করছেন।
শোয়েব আখতার টাইলক্সের নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, সাকিবের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক প্রচারে
আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক গুগল ক্লাউডের সহযোগিতায় ‘দ্য কোর’ নামে একটি নতুন ইন্টিগ্রেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল চালু করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সংবাদ উৎপাদন ও বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় এআইকে আরও গভীরভাবে একীভূত করা, যাতে এটি সাংবাদিকতার একটি সক্রিয় অংশীদার হিসেবে কাজ করতে পারে।
সংস্থাটি জানায়, ছয়টি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই প্ল্যাটফর্ম সাংবাদিকদের জটিল তথ্য বিশ্লেষণ, নিমজ্জিত কনটেন্ট তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ কর্মপ্রবাহ স্বয়ংক্রিয় করতে সহায়তা করবে। আল জাজিরার মহাপরিচালক শেখ নাসের বিন ফয়সাল আল থানি বলেন, ‘দ্য কোর’ প্রকল্প মানব দক্ষতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে সাংবাদিকতাকে আধুনিক করার প্রতিফলন। গুগল ক্লাউডের ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের এআই পরিচালক অ্যালেক্স রাটার একে পরবর্তী প্রজন্মের বুদ্ধিমান মিডিয়ার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ মিডিয়া শিল্পে প্রযুক্তি ব্যবহারের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে এবং ভবিষ্যতের সংবাদ উৎপাদন ও উপস্থাপনা পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
গুগল ক্লাউডের সহায়তায় সাংবাদিকতার জন্য ‘দ্য কোর’ এআই মডেল চালু করল আল জাজিরা
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৮৩ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।