স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সোমবার জাতীয় সংসদে জানান, রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। নিয়ম ভঙ্গকারী অটোরিকশা আটক ও ডাম্পিং করা হচ্ছে এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলকে শৃঙ্খলায় আনতে সরকার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করছে। নীতিমালা অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে অনুমোদিত অটোরিকশা নাম্বার প্লেট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্ত করা যাবে। এতে চালক নিবন্ধন, পর্যায়ক্রমে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স প্রদান, যানবাহন নিবন্ধন, নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ, চালক নিয়ন্ত্রণ এবং চলাচল ব্যবস্থাপনার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অবৈধ চার্জিং বন্ধেও অভিযান চলছে। সরকারি হিসাবে দেশে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে, যেগুলোর চার্জিংয়ে দৈনিক মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ বা তার বেশি প্রয়োজন। বৈধ চার্জিং পয়েন্ট প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি হলেও ঢাকায় ৪৮ হাজারের বেশি অবৈধ পয়েন্ট রয়েছে। ডিএমপি, ডেসকো ও ডিপিডিসির যৌথ অভিযানে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে ৫০টি এআই ক্যামেরা চালু আছে এবং রমনা ও তেজগাঁওয়ে আরও ২০০টি বসানোর কাজ চলছে।
ঢাকার প্রধান সড়কে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ, প্রণয়ন হচ্ছে নতুন নীতিমালা
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, শুধু সংযোগ সম্প্রসারণ নয়, গুণগত ও অর্থবহ কানেক্টিভিটিই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। সোমবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটির ওয়্যারলেস গ্রুপের ৩৭তম সভা, AWG-37-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৯১ মিলিয়ন মোবাইল সাবস্ক্রিপশন রয়েছে এবং ১০৮ মিলিয়নের বেশি গ্রাহক ৪জি সেবা ব্যবহার করছেন। দেশে ৪৯ হাজারের বেশি ৪জি সাইট, প্রায় ৪৬ হাজার টাওয়ার এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। তিনি মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ সংযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি AI, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও ৫জিতে সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলেন।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল খাতে সময়োপযোগী নীতি, আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। সভায় বেতার যোগাযোগ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, উদীয়মান প্রযুক্তি, নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা ও আইনি সীমা নিয়ে আলোচনা হবে; আঞ্চলিক সুপারিশ এবং সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অর্থবহ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য কানেক্টিভিটিকে টেলিকম অগ্রাধিকার বলল সরকার
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে ডিজিটাল নিবন্ধন ও শৃঙ্খলিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে পরিকল্পনা করেছে সরকার। সোমবার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চালকদের কর্মসংস্থান অক্ষুণ্ন রেখে ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত নতুন নীতিমালা ও বিধিমালা কার্যকর করা হবে। প্রতিটি অটোরিকশায় কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থাকবে, যাতে একটি নম্বর ব্যবহার করে অবৈধভাবে একাধিক রিকশা চালানো না যায়।
নীতিমালায় লেড-এসিড ব্যাটারির বদলে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক চলাচলের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, ঢাকার ১৭টি সিগন্যালে ৫০টি এআইভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা চালুর পর কিছু অনিয়ম কমেছে। তবে নম্বর প্লেট না থাকায় অটোরিকশার অনিয়ম ক্যামেরায় ধরা পড়লেও জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। তিনি নিষেধাজ্ঞার বদলে নিবন্ধন, লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণের দাবি জানান।
মন্ত্রী জানান, দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১ জন নিহত হন; এর ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যুক্ত ছিল। সরকার দ্রুত চূড়ান্ত নীতিমালার পূর্ণ প্রয়োগের কথা জানিয়েছে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং আনছে সরকার
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানি একটি ট্যাংকার “ধ্বংস” করার হুমকি দেওয়ার পর মার্কিন তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর ওপর হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে মার্কিন অর্থনীতির জন্য হারানো দশক আসন্ন বলে লেখা ছিল।
গালিবাফ বলেন, ওই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস উৎপাদন শৃঙ্খল বিশাল, সহজলভ্য এবং অরক্ষিত। তিনি আরও বলেন, এসব জলসীমা ও স্থাপনায় থাকা মার্কিন তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোও একইভাবে অরক্ষিত।
তিনি বলেন, ইরানের সম্পদে আঘাত হানা হলে যুক্তরাষ্ট্রও আক্রান্ত হবে। পোস্টের সঙ্গে তিনি তেল অবকাঠামোর একটি ছবি যুক্ত করেন, যা প্রতিবেদনে সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ছবিটিতে লেখা ছিল, “মার্কিন অর্থনীতির হারানো দশক আসন্ন।”
ইরানি ট্যাংকার ধ্বংসের হুমকির পর মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিকে সতর্ক করলেন গালিবাফ
চীন জাতীয় প্রতিরক্ষা সংহতি আইনে বড় সংশোধন করে প্রয়োজন হলে বেসামরিক নাগরিক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সম্পদকে প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহারের আইনি কাঠামো তৈরি করেছে। জাতীয় গণকংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটি ২৮ আগস্ট সংশোধিত আইন অনুমোদন করেছে এবং এটি আগামী ১ অক্টোবর কার্যকর হবে। ২০১০ সালে আইন প্রণয়নের পর এটি প্রথম বড় সংশোধন।
সংশোধিত আইনে ১৪টি অধ্যায় ও ৮২টি ধারা রয়েছে, যা আগের ৭২ ধারার সঙ্গে ১০টি নতুন ধারা যুক্ত করেছে। আধুনিক যুদ্ধের পরিবর্তিত ধরন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামরিক-বেসামরিক সম্পদের সমন্বয় জোরদার করাই সংশোধনের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এআই, ডেটা সেন্টার, ড্রোন, রোবটিকস ও স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগকে নতুন ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আইন অনুযায়ী সামরিক অভিযান, দুর্যোগ মোকাবিলা বা সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষ এবং ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী নারীদের প্রয়োজনমতো তলব করা যাবে। সীমিত ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে বাড়ি, ভবন, যানবাহন ও সরঞ্জামও রাষ্ট্রীয় কাজে নেওয়া সম্ভব হবে। সীমান্ত বিরোধের প্রেক্ষাপটে ভারতীয় কৌশলগত মহল বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে, তবে আইন সংশোধনকে আসন্ন যুদ্ধের প্রমাণ হিসেবে দেখা যুক্তিসংগত নয়।
চীনের নতুন আইন নাগরিক, শিল্প ও প্রযুক্তিকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত করার সুযোগ দিচ্ছে
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রায় অভিন্ন আচরণবিধি জারি করেছে এবং প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে পৃথক আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করা হয়। কমিশন চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায়।
নতুন বিধিতে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও সীমিত সংখ্যক বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হলেও আকার ও সংখ্যার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রচারসামগ্রী সাদা-কালো হতে হবে, মুদ্রণের তারিখ থাকতে হবে এবং ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে পলিথিনের আবরণ বা পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা গেলেও ব্যয় নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবে দেখাতে হবে। এআই ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য, বিকৃত ছবি বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারেও বিধিনিষেধ রয়েছে।
মাইক ও ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচার দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চালানো যাবে এবং একটির বেশি মাইক ব্যবহার করা যাবে না; জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইক নিষিদ্ধ। ভোটারকে প্রভাবিত করতে এনআইডি নম্বর এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস লেনদেনের জন্য মোবাইল নম্বর সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে; ইউপি নির্বাচনে জরিমানা ১০ হাজার টাকা বহাল আছে।
নতুন স্থানীয় নির্বাচন বিধিতে পোস্টার নিষিদ্ধ, নিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রচার অনুমোদিত
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়; সেবার মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ সংযোগ নিশ্চিত করা। সোমবার সকালে রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে ৩৭তম এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপ বা এডব্লিউজি-৩৭ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সংযোগের মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা এবং দেশের সব প্রান্তের মানুষের কাছে প্রযুক্তির সুফল পৌঁছানো প্রয়োজন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৯ কোটি ১০ লাখ মোবাইল সংযোগ ও প্রায় ১০ কোটি ইন্টারনেট সংযোগ ছিল। ফোর-জি সেবা ব্যবহার করছিলেন ১০ কোটি ৮০ লাখের বেশি গ্রাহক।
দেশে ৪৯ হাজারের বেশি ফোর-জি সাইট, ৪৬ হাজার টাওয়ার এবং প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে তিনি জানান। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে আইসিটি ও টেলিযোগাযোগকে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি ধরা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারে সক্ষমতা বাড়ানো এবং ফাইভ-জি, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও আইওটির জন্য দূরদর্শী স্পেকট্রাম নীতির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
বাংলাদেশে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও অর্থবহ ইন্টারনেট সংযোগের তাগিদ মন্ত্রীর
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ইউনেস্কোর ডিজিটাল লার্নিং উইকে অংশ নিতে রোববার রাতে ঢাকা থেকে ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর সফরের তথ্য জানায়। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
ইউনেস্কো আয়োজিত এ কর্মসূচির ২০২৬ সালের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষা: সত্য, দ্বন্দ্ব, সীমানা’। আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে শিক্ষা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মন্ত্রীর।
৮ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে ‘এইজ অপ্রোপ্রিয়েটনেস অ্যান্ড এআই ইন এডুকেশন’ শীর্ষক সেশনে অংশ নেওয়ার কথা ড. মিলনের। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর তিনি ‘টিচার্স অ্যাট দ্য সেন্টার: এজেন্সি, কমপিটেন্সিস অ্যান্ড দ্য টিচার-স্টুডেন্ট রিলেশনশিপ’ শীর্ষক প্লেনারি সেশনে অংশগ্রহণ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ইউনেস্কোর ডিজিটাল লার্নিং উইকে অংশ নিতে প্যারিসে গেছেন শিক্ষামন্ত্রী মিলন
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ জারি করেছে। ৩ সেপ্টেম্বর সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এতে নির্বাচনি পোস্টার, প্রকাশ্য মিছিল, শোডাউন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক কনটেন্ট প্রচারেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত যানবাহন ব্যবহারসহ কোনো প্রকাশ্য মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ থাকলেও প্রার্থীকে ব্যবহৃত মাধ্যমের তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। ডিজিটাল প্রচারণার ব্যয়ও নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে। ভোটার প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার দেওয়াও নিষিদ্ধ।
ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে প্রচারণা চালানো যাবে না এবং সরকারি সম্পদ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। বিধিমালা লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে তদন্ত শেষে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে।
নতুন উপজেলা নির্বাচনি বিধিমালায় পোস্টার, মিছিল ও বিভ্রান্তিকর এআই কনটেন্ট নিষিদ্ধ
অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন দাবি করেছেন, ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া এবং গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে সমালোচনার কারণে তিনি হলিউডে সিনেমার কাজ হারাচ্ছেন। রোববার ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নতুন সিনেমা ‘দ্য ইকো চেম্বার’-এর প্রচার উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে ৭৯ বছর বয়সি সারান্ডন বলেন, কিছু প্রভাবশালী এজেন্সি এখনো প্রযোজকদের তাকে নিয়োগ না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।
সারান্ডন জানান, সাম্প্রতিক সময়েও তার কাছ থেকে কাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, ইসরাইলের সমালোচনা করা অন্য কিছু শিল্পীও বড় স্টুডিওর কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন। তিনি বলেন, নতুন ছবির পরিচালক আন্দ্রেয়া পাল্লাওরো তাকে নেওয়ার ক্ষেত্রে শিল্পাঙ্গনের কিছু সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ও সামরিক সহায়তা নিয়ে মানুষের বোঝাপড়া বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছেন।
২০২৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কের একটি ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে বক্তব্যের পর ইউনাইটেড ট্যালেন্ট এজেন্সি তাকে ক্লায়েন্ট তালিকা থেকে বাদ দেয়। ওই বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে সমালোচনার পর তিনি প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করে নিজের শব্দচয়নকে ভুল ও অনুপযুক্ত বলেন। বর্তমানে ইউরোপীয় চলচ্চিত্রে কাজ করা সারান্ডন ‘দ্য ইকো চেম্বার’-এ এক বয়স্ক সংগীতশিল্পীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ছবিটিতে তার সঙ্গে আছেন অ্যালিসিয়া ভিকান্ডার ও লুকা মারিনেল্লি।
ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে হলিউডে কাজ হারানোর দাবি সুসান সারান্ডনের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানের খার্গ দ্বীপে সম্ভাব্য হামলার দৃশ্য দেখানো একটি এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করেছেন। ছবিতে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে দ্বীপটির দিকে উড়ে যেতে দেখা যায় এবং দ্বীপটি বিস্ফোরণ ও আগুনে জ্বলতে দেখা যায়। পোস্টের সঙ্গে ট্রাম্প লিখেছেন, “বাই বাই, খার্গ।”
পোস্টে ছবিতে দেখানো হামলা বাস্তবে ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ছবিটিকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার একটি দৃশ্য হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। খার্গ দ্বীপ ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
তেহরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বিভিন্ন হুমকিতে খার্গ দ্বীপের নাম বারবার উঠে এসেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যেই তিনি পোস্টটি দেন। সূত্র অনুযায়ী, ট্রাম্প এর আগেও ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সম্ভাব্য হামলার দৃশ্য তুলে ধরতে ডিজিটালভাবে তৈরি ছবি ব্যবহার করেছেন।
খার্গ দ্বীপে সম্ভাব্য হামলার এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করেছেন ট্রাম্প
মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে এমন ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও ব্যবহার স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়ে নতুন বিল উপস্থাপন করেছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। গত বৃহস্পতিবার উপস্থাপিত বিলটিতে উন্নত এআই প্রযুক্তির বিকাশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।
শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই আরও শক্তিশালী মডেল তৈরি করছে এবং এসব প্রযুক্তি মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটেই স্যান্ডার্সের উদ্যোগটি এসেছে। তিনি জানান, এআই নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং ওপেনএআইয়ের একটি এআই এজেন্টের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
প্রস্তাবিত বিলটি আইনে পরিণত হলে নিষিদ্ধ সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই তৈরির সঙ্গে যুক্ত নির্বাহী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির প্রস্তাব রয়েছে। উন্নত এআই উন্নয়ন বন্ধ থাকার সময়ে এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই নিষিদ্ধ ও উন্নত এআই উন্নয়ন স্থগিতের বিল স্যান্ডার্সের
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারীর সঙ্গে গুগলের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পলিসি প্রধান কাইল গার্ডনারের বৈঠক হয়েছে। রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া এবং স্থানীয় অফিস স্থাপনের জন্য গুগলকে আহ্বান জানায় কমিশন।
গুগল প্রতিনিধি বাংলাদেশে বিভিন্ন সেবা সম্প্রসারণ, পেমেন্ট সিস্টেম চালু এবং অবকাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা করেন। বিটিআরসি গুগলের এআই মডেলের ল্যাব স্থাপন, বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়াতে আলাদা সেবা চালুর সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চায়।
কাইল গার্ডনার এসব বিষয়ে আগ্রহ ও সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র পর্যালোচনার কথা জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় অফিস স্থাপনে বর্তমানে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বিটিআরসি ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ, স্থানীয় পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং বেটিং, জুয়া ও অবৈধ আর্থিক কার্যক্রমের প্রচারণা ঠেকাতে এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় শনাক্ত ও অপসারণ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায়।
স্থানীয় অফিস, পেমেন্ট ও এআই সহযোগিতা বাড়াতে গুগলকে বিটিআরসির আহ্বান
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সাফল্য প্রদর্শনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করছে। রোববারের বক্তব্যে তিনি বলেন, মার্কিন নেতারা যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সাফল্যের প্রমাণ হিসেবে কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবি ও ভিডিও দেখানোর চেষ্টা করছেন।
গালিবাফের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা বর্তমানে হতাশ অবস্থায় রয়েছেন। এ কারণে তারা ফাঁকা বক্তব্য, স্লোগান এবং এআইয়ের আশ্রয় নিচ্ছেন। তিনি এই অভিযোগকে দুই দেশের মধ্যে আবার বেড়ে ওঠা সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সমালোচনার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।
এর আগে গালিবাফ সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া আর সমানুপাতিক থাকবে না। ভবিষ্যৎ জবাব আরও দ্রুত, কঠোর ও বেদনাদায়ক হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। মার্কিন বাহিনী ইরানের কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর তেহরান পাল্টা হামলার দাবি করেছে। পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনাও তীব্র হয়েছে।
যুদ্ধের সাফল্য দেখাতে যুক্তরাষ্ট্র এআই-তৈরি ভুয়া দৃশ্য ব্যবহার করছে বলে ইরানের অভিযোগ
গাজা যুদ্ধের প্রথম বছরে ইসরাইলের সঙ্গে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের চুক্তি করেছিল মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে মাইক্রোসফটের ক্লাউড কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মাইক্রোসফটের অ্যাজুর ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ইসরাইলি সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং দ্রুত ব্যবহারের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে আগের একাধিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। যুদ্ধের প্রথম বছরে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোম্পানিটির ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও গভীর হয় এবং ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ক্লাউড ও এআই-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নেয়।
প্রযুক্তির সম্ভাব্য সামরিক ব্যবহার নিয়ে কোম্পানির ভেতরেও বিতর্ক হয়েছে। কিছু কর্মী ইসরাইলকে প্রযুক্তি সরবরাহ বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ করেন এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা গোয়েন্দা কার্যক্রম, নজরদারি ও লক্ষ্য নির্ধারণে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। মাইক্রোসফট সরবরাহের বিষয়টি অস্বীকার করেনি; তবে অপব্যবহারের অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক আইন বা নীতিমালা লঙ্ঘনের সম্ভাবনা পর্যালোচনার কথা বলেছে।
ইসরাইলের সঙ্গে মাইক্রোসফটের ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের চুক্তি ঘিরে নতুন বিতর্ক
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৫২ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।