বাংলাদেশ সরকার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিলুপ্ত করে ‘বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর খসড়া অনুযায়ী একটি নতুন উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত বছরের ১০ ডিসেম্বর নোটিস দিয়ে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অংশীজনদের মতামত চেয়েছে। খসড়া অনুযায়ী নতুন কমিশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে গঠিত হবে, যার থাকবে স্বাধীন আইনি সত্তা, নিজস্ব সিলমোহর ও প্রশাসনিক ক্ষমতা।
খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশনে একজন চেয়ারম্যান, আটজন কমিশনার এবং দশজন খণ্ডকালীন সদস্য থাকবেন। চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা হবে মন্ত্রিসভার মন্ত্রীর সমান। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি টিম খসড়া প্রণয়ন করেছে। উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, নতুন কমিশন উচ্চশিক্ষাকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে মুক্ত করবে, তবে নেতৃত্বে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
শিক্ষাবিদদের মধ্যে কেউ কেউ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও অনেকে সতর্ক করেছেন যে অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও একাডেমিক স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, সবার মতামতের ভিত্তিতে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত করে স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত।
ইউজিসি বিলুপ্ত করে নতুন উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠনের খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপনের সময়সূচি অনুযায়ী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার মাউশির সহকারী পরিচালক মো. খালিদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক অনুযায়ী জাতীয় পর্যায়ের কার্যক্রমের পুনর্নির্ধারিত সময়সূচি প্রেরণ করা হয়েছে এবং উক্ত সময়সূচি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারকে জানানো হয়, ৪ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন নীতিমালা অনুসরণ করে প্রতিদিনের কার্যক্রমের তথ্য ই-মেইলে পাঠাতে হবে। এসব তথ্যের মধ্যে উপজেলা, থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী, শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান, শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নির্দেশনার উদ্দেশ্য হলো দেশব্যাপী শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন কার্যক্রমকে একীভূতভাবে বাস্তবায়ন করা এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিবেদন প্রেরণ নিশ্চিত করা।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপনে সময়সূচি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে মাউশি
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকার আবারও বেসরকারি স্কুল ও কলেজকে মাসিক বেতন আদেশ (এমপিও) সুবিধার আওতায় আনার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ১৪ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। উপসচিব সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালে জারিকৃত নতুন এমপিও নীতিমালার আলোকে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। আবেদনের শর্ত ও নীতিমালার বিস্তারিত তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকেই এমপিও সুবিধা পাবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের হাজারো শিক্ষক-কর্মচারীর দীর্ঘদিনের বেতন-ভাতার অনিশ্চয়তা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৪ জানুয়ারি থেকে বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিও আবেদন শুরু
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহফুজা খাতুন স্বাক্ষরিত স্মারকে জানানো হয়েছে, অধিদপ্তরের অধীনস্থ স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের নিয়ে ২০২৬ সালের দেশব্যাপী চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক ও গজল প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি দেশের সব জেলা স্টেডিয়ামে বছরব্যাপী ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন ও কারাতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিনা খরচে নিবন্ধন করতে পারবেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসব প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ট্যালেন্ট স্পোর্টস লিমিটেডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্যোগটির লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও ক্রীড়া দক্ষতা বিকাশে উৎসাহিত করা।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী এবং কোনো ফি প্রদান করতে হবে না, যাতে সব শিক্ষার্থী সমানভাবে সুযোগ পায়।
দেশব্যাপী শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণে নির্দেশনা জারি
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ আবারও পরিবর্তন করেছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফরম পূরণ শুরু হবে আগামী ১ মার্চ থেকে। একই সঙ্গে ৪ জানুয়ারির পূর্ববর্তী বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা হয়েছে।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণেচ্ছু শিক্ষার্থীদের নির্বাচনি পরীক্ষার ফলাফল আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। ফরম পূরণের বিস্তারিত সময়সূচি ও নির্দেশনা যথাসময়ে বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
চলতি বছরের এইচএসসি ফরম পূরণের তারিখ এটি নিয়ে তৃতীয়বার পরিবর্তন করল ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
২০২৬ সালের এইচএসসি ফরম পূরণ ১ মার্চ শুরু, আগের বিজ্ঞপ্তি বাতিল
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে মোট ৬৭ হাজার ২০৮টি শূন্যপদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল ও কলেজে ২৯ হাজার ৫৭১টি, মাদরাসায় ৩৬ হাজার ৮০৪টি এবং কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ৮৩৩টি পদ শূন্য রয়েছে। অনলাইন আবেদন ১০ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১৭ জানুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে। শূন্যপদের তালিকা, আবেদন ফরম ও অন্যান্য শর্তাবলি এনটিআরসিএর ওয়েবসাইট এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনকারীর বয়স ৪ জুন ২০২৫ তারিখে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর হতে হবে এবং শিক্ষক নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ফলাফল প্রকাশের তারিখ থেকে তিন বছর পর্যন্ত বৈধ থাকতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১ জানুয়ারির নির্দেশনা অনুযায়ী, বর্তমানে কর্মরত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা সমপদে আবেদন করতে পারবেন না।
এই গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশজুড়ে ৬৭,২০৮ শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত মেধা ও সাধারণ বৃত্তির সংখ্যা এবং অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে যাতে এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ের সব বৃত্তির হার ২০ শতাংশ বাড়ানো এবং বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসিক ও এককালীন অর্থ দ্বিগুণ করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব কার্যকর হলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪১ হাজার থেকে বেড়ে ৪৯ হাজার ১৫১ জনে পৌঁছাবে।
মাউশির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুনিয়র বৃত্তি বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এবং ২০১৫–১৬ অর্থবছরের পর থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী এসএসসি বৃত্তি ৩০ হাজার ৬০০, এইচএসসি ১২ হাজার ৬০০ এবং স্নাতক (সম্মান ও পাস) মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজারে উন্নীত হবে। সব স্তরে মাসিক ভাতা ও বার্ষিক অনুদান দ্বিগুণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বর্তমানে প্রস্তাবটি যাচাই করছে এবং অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনুমোদন পেলে চলতি অর্থবছর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।
এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ২০ শতাংশ বাড়ানো ও ভাতা দ্বিগুণের প্রস্তাব
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষাকে ঘিরে একটি ‘অতীব জরুরি’ নির্দেশনা জারি করেছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণেচ্ছু শিক্ষার্থীদের টেস্ট বা নির্বাচনি পরীক্ষা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হবে এবং এর ফলাফল ১০ মার্চের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। গত রোববার প্রকাশিত সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে ফেব্রুয়ারি মাসে পরীক্ষা শুরুর কথা বলা হলেও নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। এতে আরও বলা হয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ আগামী ১১ মার্চ থেকে শুরু হবে। ফরম পূরণের সময়সূচি ও পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি পরবর্তীতে বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
এই নির্দেশনার লক্ষ্য হলো ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন করা এবং নির্ধারিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার বজায় রাখা।
২০২৬ সালের এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে শুরু, ফল প্রকাশ ১০ মার্চের মধ্যে
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও দেশের অনেক মাধ্যমিক শিক্ষার্থী এখনো পাঠ্যবই হাতে পায়নি। তবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, আগের বছরের তুলনায় এবার বই বিতরণে তারা সফল। সংস্থাটি রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকলেও নিবিড় তদারকির মাধ্যমে ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই মাধ্যমিক ও কারিগরি স্তরের সব বই সরবরাহ সম্পন্ন করা হবে। ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৩০ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪ কপির মধ্যে গড়ে ৮৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ বই সরবরাহ হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের ৮ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার ৮৮০টি বই শতভাগ মুদ্রণ ও বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি স্তরের বইয়ের কাজ এখনো শেষ হয়নি; ৮৮ দশমিক ৫০ শতাংশ মুদ্রণ এবং ৭৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার নবাবপুর ও কেরানীগঞ্জের স্কুল প্রধানরা জানিয়েছেন, অষ্টম ও নবম শ্রেণির বই সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে।
প্রেস মালিকদের কম দর দেওয়ার কারণে ছাপার কাজে অনীহা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মতিউর রহমান পাঠান জানান, অষ্টম শ্রেণির অর্ধেকের বেশি বই ইতিমধ্যে স্কুলে পৌঁছেছে এবং ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
মাধ্যমিকের অনেক শিক্ষার্থী বই পায়নি, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সরবরাহের আশা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় চূড়ান্ত পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ১২ শিক্ষার্থীকে এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করেছে। শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৭তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। এছাড়া ইন্টার্নশিপ রিপোর্টে জালিয়াতির অভিযোগে এক শিক্ষার্থীর রিপোর্ট বাতিল করা হয়েছে এবং আরেকজনকে সম্পূর্ণ নতুন করে কোর্স সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা পদার্থবিজ্ঞান, ইংরেজি, আইসিটি, অর্থনীতি, প্রত্নতত্ত্ব ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও একাডেমিক শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা আপসহীন এবং নকল বা জালিয়াতির মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা তাদের বর্তমান ব্যাচের সঙ্গে আর পরীক্ষা দিতে পারবেন না এবং পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠোর অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নকলের দায়ে ১২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, কঠোর শৃঙ্খলা জোরদার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত ১০টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা এখন admission.eis.du.ac.bd ওয়েবসাইটে লগইন করে অথবা প্রবেশপত্রে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুযায়ী এসএমএস পাঠিয়ে ফলাফল জানতে পারবেন।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এবার পাসের হার গত বছরের তুলনায় অনেক কম। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী ন্যূনতম পাস নম্বর অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে উত্তীর্ণের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০ শতাংশে। মোট ১ হাজার ৫০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ৩৪ হাজার ৬২ জন, অর্থাৎ প্রতি আসনের জন্য গড়ে ৩২ জন করে প্রতিযোগিতা করেছেন। গত ৬ ডিসেম্বর ঢাবি ক্যাম্পাসসহ রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র ও দেশের চারটি বিভাগীয় শহরে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
আসন বণ্টন অনুযায়ী, ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য ৯৩০টি, বিজ্ঞান শাখার জন্য ৯৫টি এবং মানবিক শাখার জন্য ২৫টি আসন নির্ধারিত রয়েছে।
ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পাসের হার মাত্র ১০ শতাংশ
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬৭ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের জন্য সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে। এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের বয়স গণনা করা হবে ২০২৫ সালের ৪ জুন তারিখ অনুযায়ী, যা আগের ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতেও প্রযোজ্য ছিল। বয়স গণনার এই পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
তবে এবারের গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রার্থীরা এবার সর্বোচ্চ সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পছন্দ হিসেবে উল্লেখ করতে পারবেন, যেখানে আগে সর্বোচ্চ ৪০টি প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল। এছাড়া ই-অ্যাপ্লিকেশন ফরমে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে ‘আদার অপশন’, যেখানে প্রার্থীরা তাদের পছন্দের বাইরে অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে সম্মতি বা অসম্মতি জানাতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনের ফলে সুপারিশ প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
শিক্ষক নিয়োগে নতুন নিয়মসহ সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে এনটিআরসিএ
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফরম পূরণের নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর হায়দার উদ্দিন কামাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১১ মার্চ থেকে ফরম পূরণ শুরু হবে। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয় রোববার, ৪ জানুয়ারি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব কলেজের প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নির্বাচনী পরীক্ষা গ্রহণ শেষে ফলাফল ১০ মার্চের মধ্যে প্রকাশ করেন। ফরম পূরণের সময়সূচিসহ পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি পরবর্তীতে বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
এই ঘোষণা ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি কার্যক্রমকে সময়মতো সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, যাতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
২০২৬ সালের এইচএসসি ফরম পূরণ ১১ মার্চ থেকে শুরু হবে
ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পারায় আটটি ফ্লাইট রোববার বিকল্প বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, নিরাপদ উড্ডয়ন ও অবতরণের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেবিচকের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাওছার মাহমুদ জানান, ঘন কুয়াশার কারণে ছয়টি ফ্লাইট সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, একটি ফ্লাইট কলকাতা বিমানবন্দরে এবং একটি ফ্লাইট ভিয়েতনামের হ্যানয় বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় ঢাকায় স্বাভাবিক ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব হয়নি।
শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা বাংলাদেশের বিমান চলাচলে প্রতিবছরই বিঘ্ন ঘটায়, যা এবারও ফ্লাইট সময়সূচিতে প্রভাব ফেলেছে।
ঘন কুয়াশায় ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে আটটি ফ্লাইট ডাইভার্ট
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ৬৮ হাজার শূন্য পদে নিয়োগের অনুমতি চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এনটিআরসিএর প্রশাসন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় যাচাই–বাছাই শেষে অনুমোদন দিলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, টেলিটকের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৭২ হাজারের বেশি শূন্য পদের তথ্য পাওয়া যায়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের যাচাই শেষে ৬৮ হাজার পদ প্রকৃত শূন্য হিসেবে নিশ্চিত হয়। এসব পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমতি চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ জুন এনটিআরসিএ ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এক লাখ ৮২২ শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেয় এবং পরবর্তীতে প্রায় ৪১ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে দ্রুতই সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আশা করছে এনটিআরসিএ।
৬৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগে সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তির অনুমতি চেয়েছে এনটিআরসিএ
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১০০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।