ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেটেরি অর্পো গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে বাস্তব পদক্ষেপ নয়, বরং আলোচনার কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শুক্রবার ফিনল্যান্ডের পাবলিক ব্রডকাস্টার ইলে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডে কোনো ধরনের সামরিক দখল পরিস্থিতিকে বিপর্যয়কর করে তুলবে, বিশেষ করে যদি কোনো ন্যাটো দেশ অন্য ন্যাটো দেশের ভূখণ্ডে হস্তক্ষেপ করে।
অর্পো বলেন, ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি মূল্যবান জোট এবং তিনি বিশ্বাস করেন না যে ওয়াশিংটন গ্রিনল্যান্ড দখলের মতো চরম পদক্ষেপ নেবে। তিনি স্বীকার করেন, ফিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অনেকাংশেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল, তবে ফিনল্যান্ড বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থা, জাতিসংঘের ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক আইনকে সমর্থন করে।
তার মতে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার গ্রিনল্যান্ডবাসী ও ডেনিশ জনগণের হাতে থাকা উচিত। এই মন্তব্য আসে ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করার পর।
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ বিপর্যয়কর হবে বলে সতর্ক করলেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র শনিবার তাদের দ্বিপাক্ষিক যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক মহড়া ‘ইন্সপায়ার্ড গ্যাম্বিট–২০২৬’-এর ১৩তম সংস্করণ শুরু করেছে। দুই সপ্তাহব্যাপী এই মহড়ার লক্ষ্য হলো উভয় দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়। উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের পাব্বিতে অবস্থিত জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মহড়ার সূচনা হয়, যেখানে উভয় দেশের সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানিয়েছে, এই মহড়ায় শহুরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ব্যবহৃত কৌশল, কৌশলগত পদ্ধতি ও মার্কসম্যানশিপ দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি একে অপরের অপারেশনাল মতবাদ ও সর্বোত্তম অনুশীলন সম্পর্কে ধারণা বাড়ানো হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং পারস্পরিক সামরিক সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দুই সপ্তাহব্যাপী এই মহড়ার লক্ষ্য হলো উভয় দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়
ইসরাইলের ঐতিহ্যমন্ত্রী আমিচাই এলিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের মুদ্রা রিয়ালের পতন ও অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে ইসরাইলি এজেন্টরা বর্তমানে ইরানের ভেতরে সক্রিয়। বৃহস্পতিবার ইসরাইলের আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত বছরের জুনে ইরানের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরাইল স্থলভাগে এজেন্ট ব্যবহার করেছিল এবং এখনো একই ধরনের তৎপরতা চলছে। এলিয়াহু নিশ্চিতভাবে বলেন, ইরানের মাটিতে এখনো কিছু ইসরাইলি এজেন্ট কাজ করছে।
মন্ত্রী জানান, এসব এজেন্ট সরাসরি সরকার উৎখাতের জন্য নয়, বরং ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যে কাজ করছে, যাতে দেশটি ইসরাইলের জন্য হুমকি হয়ে না ওঠে। এর আগে তেহরান ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইসরাইলি গোয়েন্দা তৎপরতা স্বীকার করে এবং মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে একাধিক গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।
এলিয়াহুর বক্তব্য ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অভিযোগকে আরও উসকে দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর ভাষায় অভিযুক্ত করে সতর্ক করেছেন যে, অহংকারী শক্তিগুলোর পরিণতি ১৯৭৯ সালের রাজবংশের মতোই হবে।
ইরানে বিক্ষোভের মধ্যে ইসরাইলি এজেন্ট সক্রিয় থাকার দাবি
তাজিকিস্তানের আয়নি বিমানঘাঁটি থেকে ভারত নীরবে সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহার করেছে, যা ছিল দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বিদেশি সামরিক ঘাঁটি। প্রায় দুই দশক ধরে এই ঘাঁটি মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত উপস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে। আফগানিস্তানের ওয়াখান করিডর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলের ওপর নজরদারির উল্লেখযোগ্য সুবিধা দিত।
সোভিয়েত আমলে নির্মিত আয়নি ঘাঁটি ভারতের উদ্যোগে ২০০২ সালে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সংস্কার করা হয় এবং যুদ্ধবিমান ও ভারী পরিবহন বিমানের উপযোগী করে তোলা হয়। তবে ২০২২ সালে ঘাঁটির লিজ মেয়াদ শেষ হলে ভারত প্রত্যাহার শুরু করে। তাজিকিস্তান লিজ নবায়নে আগ্রহ দেখায়নি এবং কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায় যে রাশিয়া ও চীনের চাপই ছিল এর অন্যতম কারণ। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ঘাঁটিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাজিকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়নি ঘাঁটি হারানো ভারতের জন্য বড় কৌশলগত ক্ষতি। এটি আফগানিস্তান, চীন ও পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও প্রভাব বিস্তারে ভারতকে অনন্য সুবিধা দিত। এখন ভারত মধ্য এশিয়ায় সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ক্ষেত্র হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে।
তাজিকিস্তানের কৌশলগত আয়নি ঘাঁটি থেকে নীরবে কার্যক্রম গুটিয়ে নিল ভারত
তুরস্কের ইস্তাম্বুল প্রসিকিউটর অফিস ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ৩৭ জন ইসরাইলি শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) জারি করা এ পরোয়ানায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল ক্যাটজ, জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গাভির ও সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামিরের নামও অন্তর্ভুক্ত। তুর্কি প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান ছিল পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক গণহত্যা। তদন্তের আওতায় রয়েছে গাজায় তুর্কি-ফিলিস্তিনি মৈত্রী হাসপাতালে ইসরাইলি বিমান হামলাও। গত বছর তুরস্ক আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা ইসরাইলবিরোধী গণহত্যা মামলায় অংশ নেয়। এদিকে, ইসরাইল এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের রাজনৈতিক প্রচারণা বলে মন্তব্য করেছে, যখন গাজায় নাজুক যুদ্ধবিরতি চলছে।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট জানিয়েছে, ভারতীয় মূলধারার কয়েকটি গণমাধ্যম “গ্রেটার বাংলাদেশ” নামে একটি মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব গণমাধ্যম — ফিনানসিয়াল এক্সপ্রেস, ফার্স্ট পোস্ট, ইন্ডিয়া ডট কম, এবিপি লাইভ ও নিউজ এইটিন — দাবি করেছে যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তুর্কি সংসদীয় প্রতিনিধিদলকে “গ্রেটার বাংলাদেশ” মানচিত্র উপহার দিয়েছেন।
বাস্তবে, বইটি ছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের আঁকা দেয়ালচিত্রের সংকলন আর্ট অব ট্রায়াম্ফ — যার প্রচ্ছদে একটি শিল্পনির্ভর মানচিত্র আঁকা ছিল। বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই ছবিটি কোনো রাজনৈতিক বার্তা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত শিল্পকর্ম, যা বাংলাদেশের সরকারি মানচিত্র নয় এবং তাতে বিদেশি ভূখণ্ডও যুক্ত নয়।
আগেও ভারতীয় গণমাধ্যম একই ধরনের মিথ্যা দাবি করেছে, বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে। এসব অপপ্রচার ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ ষড়যন্ত্রতত্ত্বকে উসকে দেয়ার প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছে বাংলাফ্যাক্ট। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ভারতীয় মিডিয়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ও প্রপাগান্ডা চালালেও বাংলাফ্যাক্ট সঠিক তথ্য যাচাই করে জনগণের সামনে উপস্থাপন করে যাচ্ছে।
ড. ইউনূসের উপহার দেওয়া বইয়ের প্রচ্ছদকে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ মানচিত্র দাবি করে অপপ্রচার ভারতীয় গণমাধ্যমে
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করা এবং দেশটিকে বিভক্ত করার পশ্চিমা দেশগুলোর সব প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বুধবার আন্তঃজাতিগত সম্পর্কবিষয়ক কাউন্সিলের এক বৈঠকে তিনি বলেন, রাশিয়ার বাইরে তথাকথিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ছদ্মবেশী জাতীয় কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে, যা আসলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে তথ্যযুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে। এই কেন্দ্রগুলো ‘রাশিয়ার উপনিবেশমুক্তকরণ’ নামে যে ধারণা ছড়াচ্ছে, তা মূলত রুশ ফেডারেশনকে টুকরো টুকরো করা এবং দেশটিকে তথাকথিত ‘কৌশলগত পরাজয়’-এর দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা।
পুতিন বলেন, এসব গোষ্ঠী ‘পোস্ট-রাশিয়া’ নামের এক কল্পিত ধারণা প্রচার করছে—যেখানে রাশিয়াকে বিভক্ত ও সার্বভৌমত্বহীন ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, রুশ নাগরিকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার যেকোনো উস্কানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তার অভিযোগ, এসব কার্যক্রম বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, প্রতিপক্ষরা সামাজিক ও অভিবাসন ইস্যুসহ নিত্যদিনের ঘটনাকেও ব্যবহার করে রাশিয়ার সমাজে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে, এমনকি সন্ত্রাসী কৌশল অবলম্বনকারী গোষ্ঠীগুলোকেও কাজে লাগাচ্ছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা চালালেও প্রতিবারই তারা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি ২০২৬ সালকে ‘রাশিয়ার জনগণের ঐক্যের বছর’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাবেরও সমর্থন জানান।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার মন্ত্রিসভা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রস্তুতি নিয়ে প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তিন দশকেরও বেশি সময় পর আবার পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু করে, তবে মস্কোও ‘সমান জবাব’ দেবে।
এই নির্দেশ আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর, যেখানে তিনি ১৯৯২ সালে আরোপিত পারমাণবিক পরীক্ষা স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে পেন্টাগনকে অবিলম্বে পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেন।
৫ নভেম্বর নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা সিটিবিটি স্বাক্ষরকারী অন্য কোনো দেশ পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু করলে রাশিয়া বাধ্য হবে প্রতিক্রিয়া জানাতে। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেন, যেন তারা তথ্য সংগ্রহ করে সমন্বিত প্রস্তাব জমা দেয়—যেখানে পারমাণবিক প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ রাশিয়ার জন্য সামরিক হুমকি বাড়াচ্ছে। জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ সতর্ক করেন, এখন ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে প্রতিক্রিয়ার সুযোগ হারাতে পারে রাশিয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন তৎপরতা দুই পরাশক্তির মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি করে বৈশ্বিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করেছেন যে, আফগানিস্তান থেকে সীমান্তপারে অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকলে ইসলামাবাদ আত্মরক্ষার জন্য সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। ইন্ডিপেনডেন্ট উর্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাকিস্তান শান্তিপূর্ণ আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে আত্মরক্ষায় পিছপা হবে না। তিনি আফগান তালেবানকে আহ্বান জানান, যেন তাদের ভূখণ্ড পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবহার না হয়, যদিও এখনো কোনো লিখিত নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। খাজা আসিফ অভিযোগ করেন, কাবুলে ভারতের প্রভাব শান্তি প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে এবং পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল রাখতে চাচ্ছে। তবুও তিনি সীমান্ত উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার মাধ্যমে অগ্রগতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।
আফগান সীমান্ত অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকলে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান
সিবিএস নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ৬০ মিনিটস-এ এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতার দিন শেষের পথে। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক নোরা অ’ডনেল জানতে চান, মাদুরোর প্রেসিডেন্ট হিসেবে সময় কি শেষের দিকে? উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, আমি তাই মনে করি।” তবে তিনি ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুদ্ধের সম্ভাবনাকে নাকচ করেন এবং স্থল হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
ট্রাম্প গণমাধ্যমে প্রচারিত সামরিক হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কিত খবরও অস্বীকার করেন, জানান এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছে, মাদুরো ‘কার্টেল দে লস সোলে’স’ নামের এক অপরাধী সংগঠন পরিচালনা করছেন, যাকে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থা ও আইন বিশেষজ্ঞরা সাম্প্রতিক মার্কিন হামলাগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এসব হামলায় ৬৪ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এসব হামলাকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগকে ‘অশালীন ও সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন এবং এটিকে নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি বলে মন্তব্য করেন।
ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে মাদুরোকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন ট্রাম্প
মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড দাবি করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে অন্য দেশের সরকার পরিবর্তনের দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। বাহরাইনে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা গবেষণা সংস্থা আয়োজিত ‘মানামা ডায়ালগ’ সম্মেলনের আগে বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ দশক ধরে “রেজিম চেঞ্জ” নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যর্থতা, বিপুল ব্যয় ও নিরাপত্তা ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
তুলসী গ্যাবার্ডের মতে, অন্য দেশে মার্কিন আদর্শ চাপিয়ে দেওয়া ও সংঘাতে হস্তক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র মিত্রের চেয়ে বেশি শত্রু তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এই ব্যর্থ চক্র ভাঙতে উদ্যোগ নিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা।
তুলসীর বক্তব্য ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সফরের মন্তব্যের প্রতিধ্বনি করে। তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারসহ ট্রাম্পের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের প্রতিফলন। তবে লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক তৎপরতা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেননি।
তুলসী এই পরিবর্তনকে “মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ঐতিহাসিক সংশোধন” হিসেবে আখ্যা দেন, যা ৯/১১-পরবর্তী হস্তক্ষেপমূলক রাজনীতির ইতি টানছে।
তুলসী গ্যাবার্ডের দাবি—ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বেই শেষ হয়েছে মার্কিন “সরকার বদলের” নীতি
তুর্কি রাজনৈতিক বিশ্লেষক লেভেন্ত গুলতেকিন দাবি করেছেন, ইসরাইল ও তার মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে দুর্বল করতে চায়। ইরাক ও সিরিয়াকে ভেঙে দেওয়ার পর এবার তাদের লক্ষ্য ইরান ও তুরস্ক। নিজের ইউটিউব ভিডিওতে গুলতেকিন বলেন, দখলদার ইসরাইল কোনো শক্তিশালী মুসলিম দেশকে এই অঞ্চলে দেখতে চায় না। বহু বছর ধরে তারা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শত্রুতা আবার বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এরদোগানকে প্রশংসা করা ও তুর্কি সেনাবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধির কথা বলা এক ধরনের কৌশল। গুলতেকিনের মতে, গাজায় শান্তি চুক্তি হলেও ইসরাইল তার মূল পরিকল্পনা—অঞ্চলের শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে খণ্ডবিখণ্ড করা—থেকে সরে আসেনি।
গুলতেকিন স্পষ্ট করে বলেন, ইরানে ইসরাইলের লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন নয়, বরং দেশটিকে তিন বা চারটি অংশে বিভক্ত করা। তিনি ইরানিদের দেশপ্রেমের প্রশংসা করে বলেন, এই অঞ্চলের জনগণ তাদের কাছ থেকে দেশপ্রেমের শিক্ষা নিতে পারে।
লেভেন্ত গুলতেকিন নামে এক তুর্কি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ‘দখলদার ইসরাইল এই অঞ্চলে শক্তিশালী কোনো মুসলিম রাষ্ট্র চায় না
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত স্বাক্ষর করল ১০ বছরের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তি, যা বাণিজ্য চুক্তির আগেই সম্পন্ন হয়েছে। মালয়েশিয়ায় ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং মার্কিন যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথের উপস্থিতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর হেগসেথ এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে। আলোচনায় জিই অ্যারোস্পেসের এফ৪০৪ ইঞ্জিন সরবরাহে বিলম্ব এবং তার ফলে তেজস যুদ্ধবিমান উৎপাদনে সমস্যার প্রসঙ্গ উঠে আসে। রাজনাথ সিং দ্রুত হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) ও জিই অ্যারোস্পেসের যৌথভাবে এফ৪১৪ ইঞ্জিন উৎপাদনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করার আহ্বান জানান। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মনির্ভরতা বাড়াবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাবে।
চীনকে ঘিরে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যেই এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত বোঝাপড়াকে আরও গভীর করেছে। এটি ২০২৫ সালে মোদি-ট্রাম্পের যৌথ বিবৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি অগ্রগতি।
বাণিজ্য চুক্তির আগেই প্রতিরক্ষা চুক্তি করল যুক্তরাষ্ট্র-ভারত
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে টানা পাঁচ দিনের বৈঠকের পর যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। ৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত সংঘাতে রূপ নেয়। পাকিস্তান অভিযোগ করে যে আফগান তালেবানরা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে; তবে কাবুল সরকার তা অস্বীকার করেছে।
গত ৯ অক্টোবর পাকিস্তানের বিমান হামলায় কাবুলে টিটিপির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদসহ কয়েকজন নিহত হন। এর জবাবে আফগান বাহিনী পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকিতে হামলা চালায়, যা উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই সৃষ্টি করে। এতে ২০০ জনের বেশি আফগান সেনা ও ২৩ পাকিস্তানি সেনা নিহত হন।
১৫ অক্টোবর ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে আলোচনায় বসে দুই দেশ। দোহা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ইস্তাম্বুলে হওয়া বৈঠকে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করে কাতার ও তুরস্ক। অবশেষে ৩০ অক্টোবর দুই দেশ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে রাজি হয় এবং ৬ নভেম্বর নতুন বৈঠকে শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান অভিযোগ করেছেন, জার্মানি গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা ও দুর্ভিক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছে। বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎর্সের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এরদোগান বলেন, ইসরাইলের হাতে পারমাণবিক ও উন্নত অস্ত্র রয়েছে, যা তারা গাজায় ব্যবহার করছে, অথচ হামাসের কাছে এমন অস্ত্র নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জার্মানি কি এসব দেখছে না?” তার মতে, গাজায় হত্যাযজ্ঞ ও দুর্ভিক্ষ বন্ধ করা তুরস্ক, জার্মানি ও বিশ্বের সব দেশের মানবিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, তুরস্ক ও জার্মানি দুটি প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে একসঙ্গে কাজ করে গাজায় স্থায়ী শান্তি আনতে পারে। এরদোগান আরও আহ্বান জানান, জার্মান রেড ক্রস ও তুরস্কের রেড ক্রিসেন্টসহ আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো যেন দ্রুত গাজায় গণহত্যা ও দুর্ভিক্ষ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।
তিনি উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ইসরাইলের নতুন হামলায় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৬ জন শিশু। এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও মন্তব্য করেন এরদোগান।
গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা ও দুর্ভিক্ষ দেখেও চুপ করে থাকার অভিযোগে জার্মানির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১১৫ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।