জার্মান স্টার্টআপ ইসার অ্যারোস্পেস শনিবার নরওয়ের আর্কটিক অঞ্চলের আন্দোয়া স্পেসপোর্ট থেকে স্পেকট্রাম রকেট উৎক্ষেপণ করেছে এবং জানিয়েছে, সেটি কক্ষপথে পৌঁছেছে। মনুষ্যবিহীন রকেটটিতে পাঁচটি ছোট স্যাটেলাইট ও উড্ডয়নকালীন প্রযুক্তিগত পরীক্ষার সরঞ্জাম ছিল। ইসারের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মহাদেশীয় ইউরোপ থেকে কক্ষপথে পৌঁছানো প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট।
নরওয়ের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সিসিলি মাইরসেথ এ উৎক্ষেপণকে ইউরোপের মহাকাশ উৎক্ষেপণ শিল্পের বড় অগ্রগতি বলেছেন। তাঁর মতে, আন্দোয়া থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা ইউরোপের মহাকাশে প্রবেশাধিকার বাড়াবে এবং অস্থির সময়ে নরওয়ে ও ইউরোপের নিরাপত্তা শক্তিশালী করবে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ মার্চে ইসারের উৎক্ষেপণকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
এটি ছিল ইসারের দ্বিতীয় রকেট উৎক্ষেপণ। ২০২৫ সালের মার্চে একই কেন্দ্র থেকে প্রথম রকেটটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর সমুদ্রে পড়ে বিস্ফোরিত হয়েছিল, তবে কেউ আহত হয়নি। ইসার বলেছিল, সে মিশন থেকে বিপুল তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা থেকে প্রায় ২০ কোটি ইউরো অর্থায়ন পেয়েছে এবং কানাডায় দ্বিতীয় উৎক্ষেপণকেন্দ্র নির্মাণ করছে।
নরওয়ের আন্দোয়া থেকে ইসারের স্পেকট্রাম রকেট কক্ষপথে পৌঁছানোর দাবি
একদল বিজ্ঞানী চাঁদের মাটি পরীক্ষা করে ভিনগ্রহের প্রযুক্তির ক্ষুদ্র ধ্বংসাবশেষ খোঁজার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁদের অনুমান, মিল্কিওয়ে ছায়াপথে কখনো প্রযুক্তিসম্পন্ন সভ্যতা থাকলে তাদের অবকাঠামোর ক্ষুদ্র কণা মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে চাঁদের পৃষ্ঠে জমা হতে পারে। এসইটিআই ইনস্টিটিউটের সহযোগী বিজ্ঞানী ও বির্কবেক কলেজের গবেষক লুইস পিনোর নেতৃত্বে হওয়া গবেষণাপত্রটি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব অ্যাস্ট্রোবায়োলজি-তে পর্যালোচনাধীন।
গবেষকেরা এসব কল্পিত কণার নাম দিয়েছেন ‘আর্কিপভ পার্টিকল’, ইউক্রেনীয় গবেষক আলেক্সি ভি. আরখিপভের নামে। ক্ষুদ্র সক্রিয় ভিনগ্রহের যন্ত্রের সম্ভাব্য নাম রাখা হয়েছে ‘ব্রেসওয়েল পার্টিকল’। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত নন এসইটিআই ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী সোফিয়া শেখ; তিনি ধারণাটিকে সৃজনশীল ও অনুসরণযোগ্য পথ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞানীরা প্রায় এক ঘনমিটার বা ৩৫ ঘনফুট চাঁদের মাটি সংগ্রহ ও বিশেষ যন্ত্রে ছেঁকে কৃত্রিম কণা শনাক্তের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে পাওয়া কণা মানুষের মহাকাশ অভিযানের ধ্বংসাবশেষও হতে পারে। তাই সেটি পৃথিবীর তৈরি নাকি ভিনগ্রহের, তা নির্ধারণে রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বা কেমিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষা করতে হবে। সহলেখক ইয়ান ক্রফোর্ড সম্ভাবনাকে খুব কম বললেও একটি নিশ্চিত কণার আবিষ্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন।
ভিনগ্রহের প্রযুক্তিচিহ্ন খুঁজতে চাঁদের মাটি পরীক্ষার প্রস্তাব বিজ্ঞানীদের
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুণগত ও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা বাড়াতে পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গবেষণার পরিবেশ শক্তিশালী করা, গবেষণা খাতে বিশেষ বরাদ্দ বাড়ানো এবং কার্যকর ও টেকসই গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করছে সংস্থাটি। সোমবার ইউজিসির ১৭৯তম পূর্ণ কমিশন সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব জানান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
ইউজিসির নিজস্ব পিএইচডি স্কলারশিপ ৭৫ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে এটি পর্যায়ক্রমে ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশে পিএইচডি করার সুযোগও ১০টি থেকে বাড়িয়ে ৩৫টি করা হয়েছে। পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের সংখ্যাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার বিশেষ বরাদ্দের জন্য আগামী অর্থবছরে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে। সভায় ‘ইউজিসি প্রমোশনাল অ্যান্ড একাডেমিক স্টাফ ডেভেলপমেন্ট গবেষণা প্রকল্প নীতিমালা, ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গুণগত শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি পিএইচডির সুযোগ আরও সম্প্রসারণ প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা জোরদারে পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপ বাড়াচ্ছে ইউজিসি
ইসলামী সভ্যতায় ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণের মাধ্যম থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞান ধীরে ধীরে স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে বিকশিত হয় বলে উৎসে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবর্তনে ইবনে সিনা, ইমাম গাজ্জালি, নাসিরুদ্দিন তুসি, আল-জুরজানি ও আলী কুশজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। মারাগা ও সমরকন্দের গণিত এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ, গণনা ও গাণিতিক মডেল তৈরির মাধ্যমে এ শাস্ত্রকে শক্তিশালী করে।
নামাজের সময়, কিবলার দিক, রমজানের শুরু এবং ইসলামি বর্ষপঞ্জি নির্ধারণে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ব্যবহার ছিল। তাই এর চর্চা দর্শন বা রাজদরবারের আলোচনার মধ্যে সীমিত না থেকে মসজিদ ও মাদ্রাসায়ও বিস্তৃত হয়। ইবনে সিনা জ্যোতির্বিজ্ঞানকে জ্যোতিষশাস্ত্র থেকে পৃথক করেন এবং পর্যবেক্ষণ ও গাণিতিক প্রমাণের ভিত্তিতে একে স্বতন্ত্র জ্ঞানক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
গাজ্জালি ও আদুদুদ্দিন আল-ইজি এর গাণিতিক ও ব্যবহারিক গুরুত্ব মানলেও চূড়ান্ত বাস্তবতা নির্ধারণের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। আল-জুরজানি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক মডেলের সঙ্গে বাস্তবতার সম্পর্কের কথা বলেন এবং তুসি গাণিতিক ভিত্তি জোরদার করেন। আলী কুশজি পর্যবেক্ষণ, অন্তর্দৃষ্টি ও গণিতের ওপর জোর দিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানকে অ্যারিস্টটলীয় পদার্থবিদ্যা ও অধিবিদ্যার নির্ভরতা থেকে মুক্ত করার পথ তৈরি করেন।
মুসলিম মনীষীদের অবদানে ইসলামী সভ্যতায় জ্যোতির্বিজ্ঞান স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে বিকশিত হয়
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের তত্ত্বাবধানে হাওরাঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, পরিবেশ ও জীবিকা নিয়ে পরিচালিত ২২টি গবেষণা উপ-প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যালোচনা কর্মশালা সোমবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন বছর মেয়াদি এসব উদ্যোগে হাওরবেষ্টিত সাত জেলার ৯০৪ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। গবেষণায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি উৎপাদন, ফসল বহুমুখীকরণ, রোগ-পোকা ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
‘সিটি ব্যাংকস এগ্রিকালচারাল রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন ইন দ্য অ্যাগ্রো-ইকোলজিক্যাল রিজিয়ন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পে সিটি ব্যাংক মোট চার কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে। প্রকল্পটির উদ্বোধনী কর্মশালা হয়েছিল ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। এতে বাকৃবির ২২ জন প্রধান গবেষকসহ মোট ৮১ জন গবেষক, ৩৬ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও চারজন পিএইচডি ফেলো অংশ নেন।
গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে ২১টি কর্মশালা ও ১৩টি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়। নয়টি ইমপ্যাক্ট জার্নালে ৪৩টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে এবং বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমে ১২৪টি স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় কৃষি প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সরকারের সমন্বয়, বাজার সংযোগ ও কৃষককেন্দ্রিক উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষণার ফল, তথ্য-উপাত্ত ও প্রশিক্ষণসামগ্রী সংরক্ষণে গড়ে তোলা হয়েছে ডিজিটাল জ্ঞানভাণ্ডার।
বাকৃবির ২২ হাওর গবেষণা প্রকল্পে সাত জেলায় সরাসরি উপকৃত ৯০৪ কৃষক
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি এবং গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিতে ৬২ জন শিক্ষক ও গবেষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। গুগল স্কলার প্রোফাইলে যাঁদের দুই হাজার বা তার বেশি সাইটেশন রয়েছে, তাঁরা এ স্বীকৃতি পান। বৃহস্পতিবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বিজ্ঞান, প্রকৌশল, স্বাস্থ্য, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, কম্পিউটিং ও চারুকলাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-গবেষক সম্মাননা পেয়েছেন। সূচনা বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম গবেষণার মান ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে সাইটেশনের গুরুত্ব নিয়ে উপস্থাপনা দেন।
উপাচার্য সম্মাননাপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান উন্নয়নে গবেষকদের আরও অগ্রণী ভূমিকার আহ্বান জানান। তিনি জানান, ২০ বছর মেয়াদি একাডেমিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। গবেষণার জন্য এক হাজার কোটি টাকা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আরও এক হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের লক্ষ্যেও কাজ হচ্ছে।
গুগল স্কলারে দুই হাজার বা বেশি সাইটেশনের জন্য ঢাবির ৬২ শিক্ষক-গবেষক সম্মানিত
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংঘ বা আইএইউ ২০০৬ সালের আগস্টে প্লুটোকে গ্রহের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বামন গ্রহ হিসেবে পুনঃশ্রেণিবিন্যাস করার দুই দশক পর বিতর্কটি আবার সামনে এসেছে। নেপচুনের বাইরে প্লুটোর মতো দূরবর্তী বস্তু আবিষ্কার এবং ২০০৫ সালের জুলাইয়ে প্লুটোর কাছাকাছি আকারের, সূর্য থেকে আরও দূরের এরিস আবিষ্কারের পর প্লুটোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তীব্র হয়।
আইএইউর সংজ্ঞায় গ্রহ হতে কোনো বস্তুকে নিজ মহাকর্ষে প্রায় গোলাকার হতে, সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে এবং কক্ষপথের আশপাশ মহাকর্ষীয়ভাবে পরিষ্কার করতে হয়। প্লুটো প্রথম দুটি শর্ত পূরণ করলেও তৃতীয়টি করে না, কারণ তার আশপাশে কুইপার বেল্টের বহু বস্তু রয়েছে এবং তার কক্ষপথ নেপচুনের কক্ষপথের সঙ্গে সম্পর্কিত। সমালোচকদের মতে, কক্ষপথ পরিষ্কারের শর্তে অস্পষ্টতা আছে এবং এটি প্লুটোর বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্যের বদলে শ্রেণিবিন্যাস বিতর্ককে সামনে এনেছে।
ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসের গ্রহবিষয়ক জ্যোতির্বিজ্ঞানী পল বাইর্ন প্লুটো, সেরেস, এরিস, মাকেমাকে ও হাওমিয়াকে গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি বস্তুটির ভৌত ও ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের পক্ষে, তবে বলেন পুরোনো স্মৃতি বা জাতীয়তাবাদ নয়, বৈজ্ঞানিক কারণেই সিদ্ধান্ত বদলানো উচিত।
আইএইউর সিদ্ধান্তের ২০ বছর পরও প্লুটোর গ্রহ-মর্যাদা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত
চীন মানববিহীন চ্যাং’ই-৭ চন্দ্রাভিযানের উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর বেইজিংয়ের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত এই গবেষণামূলক মিশনটি লং মার্চ-৫ রকেটে পাঠানোর কথা ছিল। চীনের মানববাহী মহাকাশ সংস্থা বলেছে, সমন্বিত মূল্যায়নে দেখা গেছে মিশনটি উৎক্ষেপণের শর্ত পূরণ করছে না এবং এ বছরের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উৎক্ষেপণ সম্ভব নয়। খবরটি ২৪ আগস্ট ২০২৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, সতর্কতা, নির্ভরযোগ্যতা ও মিশনের সাফল্য নিশ্চিত করার নীতিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোন শর্তগুলো পূরণ হয়নি বা নতুন উৎক্ষেপণ তারিখ কবে নির্ধারিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। চ্যাং’ই-৭-এর লক্ষ্য ছিল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানির সন্ধান করা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সপ্তাহান্তে বা সোমবার উৎক্ষেপণের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল।
চন্দ্রযান ও রকেটটি দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান প্রদেশের ওয়েনচাং মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে উৎক্ষেপণস্থলে নেওয়া হয়েছিল। লং মার্চ-৭এ রকেটে ঝংশিং-৪বি যোগাযোগ উপগ্রহ বহনকারী একটি মিশনে উড্ডয়নের সময় অস্বাভাবিকতা দেখা দিয়ে রকেট বিস্ফোরণের ঘটনার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই স্থগিতাদেশ এল। ওই ব্যর্থতার কারণ তদন্তাধীন বলে জানানো হয়েছে।
উৎক্ষেপণের শর্ত পূরণ না হওয়ায় চীন চ্যাং’ই-৭ চন্দ্রাভিযান পিছিয়েছে
চাঁদের দক্ষিণ মেরুর স্থায়ী অন্ধকারে থাকা গহ্বরে বরফের সন্ধানে মনুষ্যবিহীন ও রোবটনির্ভর চ্যাং’ই-৭ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে চীন। ২৪ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এর উৎক্ষেপণ সময়সীমা নির্ধারিত, এবং সোমবার থেকেই উৎক্ষেপণ হতে পারে। চীনের সপ্তম চন্দ্র অভিযানের ল্যান্ডার দক্ষিণ মেরুর কাছে শ্যাকলটন ক্রেটারের কিনারায় নামার কথা রয়েছে।
অভিযানে একটি অরবিটার, ল্যান্ডার, রোভার ও সৌরশক্তিচালিত হপার থাকবে। অরবিটার মানচিত্র ও ছবি তৈরি করে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। ল্যান্ডার বৈজ্ঞানিক যন্ত্র বহন করবে এবং রোভার পাথর, মাটি ও স্থানীয় পরিবেশ পরীক্ষা করবে। ছয় পা-ওয়ালা হপার গভীর ও অন্ধকার গর্তে ঢুকে আবার বেরিয়ে আসতে পারবে, যেখানে প্রচলিত রোভার পৌঁছাতে পারে না।
চ্যাং’ই-৭ বরফ কোথায়, কত গভীরে ও কী অবস্থায় আছে এবং তা সংগ্রহ করা সম্ভব কি না, তা অনুসন্ধান করবে। প্রাচীন মেরু-বরফে চাঁদের আগ্নেয় কর্মকাণ্ডের ইতিহাস সংরক্ষিত থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। সহজে সংগ্রহযোগ্য পানি ভবিষ্যৎ মানব অভিযানে পানীয়, যন্ত্রপাতি ঠান্ডা রাখা, হাইড্রোজেন জ্বালানি ও শ্বাসের জন্য অক্সিজেন উৎপাদনে কাজে লাগতে পারে।
চাঁদের দক্ষিণ মেরুর গহ্বরে বরফের অবস্থান ও সংগ্রহযোগ্যতা খুঁজবে চ্যাং’ই-৭
চীনের বেসরকারি মহাকাশ স্টার্টআপ ল্যান্ডস্পেস পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য পেয়েছে। বুধবার ঝুকু-৩ বাণিজ্যিক রকেট উৎক্ষেপণের পর এর প্রথম ধাপটি সফলভাবে স্থলভাগে ফিরিয়ে এনে অবতরণ করানো হয়। রকেটটি স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে উত্তর-পশ্চিম চীনের ডংফেং কমার্শিয়াল স্পেস ইনোভেশন পাইলট জোন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। সিনহুয়া পুরো অভিযানকে সম্পূর্ণ সফল বলেছে।
সিসিটিভির ভিডিওতে প্রথম ধাপটিকে নির্ধারিত মরুভূমির অবতরণস্থলের দিকে ধীরে নামতে দেখা যায়। মাটিতে নামার ঠিক আগে এর ভাঁজ করা পা খুলে যায় এবং এটি নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণ করে। সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, রকেটটির দ্বিতীয় ধাপ হংহু-০৩ স্যাটেলাইটকে নির্ধারিত কক্ষপথে সফলভাবে পাঠিয়েছে।
মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ল্যান্ডস্পেসই প্রথম প্রতিষ্ঠান যা কক্ষপথে উৎক্ষেপণযোগ্য শ্রেণির রকেটের বুস্টার নিজস্ব অবতরণ পা ব্যবহার করে স্থলভাগে ফেরাতে পেরেছে। অধ্যাপক রিচার্ড ডি গ্রিজ বলেন, এক মাসে চীন রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি খাতের মাধ্যমে দুটি পৃথক পুনরুদ্ধার প্রযুক্তি দেখিয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রতিযোগিতা কম খরচে আরও ঘন ঘন উৎক্ষেপণে সহায়তা করতে পারে।
উত্তর-পশ্চিম চীনে উৎক্ষেপণের পর ঝুকু-৩-এর প্রথম ধাপ সফলভাবে অবতরণ করেছে
ইন্দোনেশিয়া, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোয় গত এক মাসে সাত বা তার বেশি মাত্রার তিনটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বিশ্বে ভূমিকম্প বাড়ছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। জুনে ভেনেজুয়েলাতেও কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। তবে ১৮ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক কম্পনের ধারা অস্বাভাবিক নয় এবং শক্তিশালী ভূমিকম্পের সংখ্যা স্বাভাবিক ওঠানামার মধ্যেই রয়েছে।
২০১৬ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ৬ বা তার বেশি মাত্রার ১৩৩টি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯৯টি, আর ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ছিল ১৫৭টি। চলতি বছরের আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৬ বা তার বেশি মাত্রার ৯১টি এবং ৭ বা তার বেশি মাত্রার ১১টি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে। গতি সামান্য বেশি হলেও বিজ্ঞানীদের মতে এটি অস্বাভাবিক নয়; এ বছর এখনো ৮ বা ৯ মাত্রার কোনো মহাভূমিকম্প হয়নি।
ইউএসজিএসের হিসাবে, বিশ্বে বছরে প্রায় ২০ হাজার, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৫৫টি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়, যার অধিকাংশ মানুষ অনুভব করে না। ক্ষয়ক্ষতি নির্ভর করে কম্পনের গভীরতা, জনবসতির নৈকট্য, ভবনের নির্মাণমান ও মাটির গঠনের ওপর। বিজ্ঞানীরা নির্ভুল সময়ভিত্তিক পূর্বাভাস দিতে পারেন না, তবে ঝুঁকি নির্ধারণ, শক্তিশালী ভবন ও আগাম সতর্কতা প্রাণ বাঁচাতে পারে।
সাম্প্রতিক কম্পনের পরও দীর্ঘমেয়াদি তথ্যে অস্বাভাবিক ভূমিকম্প বৃদ্ধির প্রমাণ নেই
চিত্রশিল্পী কনসেত্তা আন্তিকো বলেন, তিনি সাধারণ একটি ছায়ার মধ্যেও লাল, নীল ও সবুজের নানা সূক্ষ্ম আভা দেখতে পান, যা তাঁর শিক্ষার্থীরা দেখতে পেতেন না। পরে জিনগত পরীক্ষায় তাঁর শরীরে টেট্রাক্রোমেসির সম্ভাবনা ধরা পড়ে। এই দৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যে কারও চোখে সাধারণ তিন ধরনের কোন কোষের পাশাপাশি চতুর্থ ধরনের কোন কোষ থাকতে পারে, যা রঙের আরও সূক্ষ্ম পার্থক্য শনাক্তে সহায়ক হতে পারে।
নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির টেট্রাক্রোমেসি প্রকল্পের গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ১২ শতাংশ নারীর মধ্যে চার ধরনের কোন কোষ তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে, যদিও জনগোষ্ঠীভেদে হার ভিন্ন হতে পারে। তবে জিন বা অতিরিক্ত কোন কোষ থাকলেই বেশি রং দেখা নিশ্চিত নয়। ইউসি আরভাইনের ড. কিম্বার্লি এ. জেমিসন বলেন, বাস্তবে বেশি রং শনাক্তের সক্ষমতাকে ফাংশনাল টেট্রাক্রোমেসি বলা যায়, কিন্তু তা প্রমাণ করা সহজ নয়।
বিজ্ঞানীদের মধ্যে টেট্রাক্রোম্যাটরা সম্পূর্ণ নতুন রং দেখেন, নাকি পরিচিত রঙের ভেতরের সূক্ষ্ম ভেদ বেশি বোঝেন, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনলাইন পরীক্ষা নির্ভরযোগ্য নয়, কারণ অধিকাংশ পর্দায় শুধু লাল, সবুজ ও নীল চ্যানেল ব্যবহৃত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জিনগত পরীক্ষা ও পরীক্ষাগারে পরিচালিত মূল্যায়ন তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভরযোগ্য; রেটিনাল টেট্রাক্রোমেসি কীভাবে কার্যকরী সক্ষমতায় পরিণত হয়, তাও এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।
টেট্রাক্রোমেসি কিছু নারীর রঙের সূক্ষ্ম পার্থক্য দেখার সক্ষমতার সম্ভাবনা তুলে ধরে
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রায়োগিক সক্ষমতা জোরদারে আধুনিক সাংগঠনিক কাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ এবং গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি বিজ্ঞানী সংঘ আয়োজিত মতবিনিময় সভাটি ১৬ আগস্ট দুপুর ২টায় বাপশকের প্রধান কার্যালয়ের ড. আনোয়ার হোসেন অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। সভার বিষয় ছিল বাপশকের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়।
মূল প্রবন্ধে ড. এ. এস. এম. সাইফুল্লাহ বলেন, কৃষি, চিকিৎসা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্প ও পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালের সাংগঠনিক কাঠামো বর্তমান বহুমাত্রিক কার্যক্রম ও জনবলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিজ্ঞানীদের আধুনিক ক্যারিয়ার ট্র্যাক, যথাযথ পদোন্নতি ও পেশাগত স্বীকৃতির ঘাটতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর প্রেক্ষাপটে স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন ও তদারকি সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র, এসএমআর, জ্বালানি চক্র ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাপশককে জাতীয় কারিগরি সহায়তা সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়। মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ও উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ সক্ষমতা ও গবেষণা কার্যক্রমে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বাপশকের কাঠামো, জনবল ও গবেষণা সক্ষমতা আধুনিকায়নে মতবিনিময় সভায় জোর
মঙ্গলের উপগ্রহ থেকে নমুনা সংগ্রহের লক্ষ্যে জাপানি বিজ্ঞানীরা মনুষ্যবিহীন মার্শিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন বা এমএমএক্স অভিযান উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তানেগাশিমা স্পেস সেন্টার থেকে মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। সৌরজগতের সৃষ্টি ও পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তির রহস্য বোঝার ক্ষেত্রে এই নমুনা সহায়ক হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অভিযানটি ভবিষ্যতে মানুষকে মঙ্গলে পাঠানোর পথও তৈরি করতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের সামনে মহাকাশযানটি উন্মোচন করা হয়। এটি প্রায় তিন বছর মঙ্গলের কক্ষপথে অবস্থান করবে এবং এ সময় ফোবোসে অবতরণের চেষ্টা করবে। মহাকাশযানটির লক্ষ্য ফোবোসের পৃষ্ঠ থেকে অন্তত ১০ গ্রাম উপাদান সংগ্রহ করা। একই সময়ে ফরাসি কমিক চরিত্র অ্যাস্টেরিক্সের কুকুরের নাম অনুসারে আইডেফিক্স নামের একটি রোভার উপগ্রহটির পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করবে।
এমএমএক্স মঙ্গলের অন্য উপগ্রহ ডেইমোসও পর্যবেক্ষণ করবে, তবে সেখানে অবতরণ করবে না। পরে একটি ফেরত ক্যাপসুল পৃথিবীর উদ্দেশে রওনা হয়ে প্রায় ২০৩১ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অবতরণের কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে জাপানের আগের নমুনা ফেরত আনার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে: ২০২০ সালে জাক্সার হায়াবুসা-২ একটি গ্রহাণু থেকে ৫.৪ গ্রাম পাথর ও ধুলা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনে।
ফোবোস থেকে নমুনা আনতে জাপানের এমএমএক্স অভিযান উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিতে
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী দল পৃথিবী থেকে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষের বেশি দূরের জি০১৪৮-৪২১৪ গ্যালাক্সিতে একই সঙ্গে তিনটি সক্রিয় বিশালাকার কৃষ্ণগহ্বর শনাক্ত করেছে। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল ফিজিকসের নেতৃত্বাধীন দলটি বলছে, দূরবর্তী মহাবিশ্বের একটি গ্যালাক্সিতে তিনটি সক্রিয় কৃষ্ণগহ্বর থাকার এটিই প্রথম প্রমাণ। গবেষণাটি অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গ্যালাক্সিটির দুটি কৃষ্ণগহ্বর কেন্দ্রে রয়েছে এবং তাদের দূরত্ব প্রায় ৬২০ আলোকবর্ষ। তৃতীয়টি বাইরের অংশে, কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ আলোকবর্ষ দূরে। তিনটিই অ্যাক্রিশন ডিস্কের পদার্থ গ্রহণ করছে। গবেষকেরা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তথ্য, বর্ণালির হাইড্রোজেন সংকেত এবং স্পেকট্রো-অ্যাস্ট্রোমেট্রি ব্যবহার করে এগুলো শনাক্ত করেন।
সবচেয়ে বড় কৃষ্ণগহ্বরটির ভর প্রায় ৮ কোটি সূর্যের সমান; অন্য দুটির ভর প্রায় ৬ লাখ ও ২০ লাখ সূর্যের সমান। কেন্দ্রের দুটি আগামী কয়েক শ মিলিয়ন বছরে একীভূত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্যালাক্সিটির রেডশিফট ৫ দশমিক ০২, ফলে পর্যবেক্ষিত চিত্রটি মহাবিস্ফোরণের প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন বছর পরের।
দূরবর্তী গ্যালাক্সিতে তিন সক্রিয় বিশালাকার কৃষ্ণগহ্বর শনাক্ত করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৩৩ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।