পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আনা ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। বুধবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটের দিকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে চালানটি কেন্দ্রের নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হয়। গত ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টায় বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে চালানটি রাশিয়া থেকে ভারত হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
পরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় সড়কপথে ইউরেনিয়াম ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। এদিকে প্রথম ইউনিটে গত ১১ অক্টোবর থেকে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর প্রথম ইউনিটের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেন্দ্রে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, নভেম্বরের শেষ দিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম পৌঁছানোকে প্রকল্পের নতুন অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান পৌঁছেছে
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। রোববার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আয়োজিত বেসিক প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, ১১ অক্টোবর ২০২৬ সালে কেন্দ্রটির প্রথম ক্রিটিক্যালিটি সফলভাবে অর্জিত হয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হওয়ার পর এটি বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে।
সচিব বলেন, পারমাণবিক খাতে উৎপাদনের পাশাপাশি অপারেশন, রেগুলেশন ও নিরাপত্তা সংস্কৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তরুণ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের আইএইএ বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে বায়েরা থেকে প্রতি বছর তিন থেকে পাঁচজন আন্তর্জাতিক মানের রেগুলেটর তৈরির লক্ষ্যও তিনি উল্লেখ করেন।
চার সপ্তাহের প্রশিক্ষণটি ১৮ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। আইএইএর চার কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ এবং দেশীয় বিশেষজ্ঞরা এতে প্রশিক্ষণ দেবেন। বায়েরা, বায়েক ও এনপিসিবিএলের ৪০ জন নবীন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী অংশ নিচ্ছেন। বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান পারমাণবিক ও তেজস্ক্রিয় জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতিকে জাতীয় অগ্রাধিকার বলেন।
রূপপুরের প্রথম ক্রিটিক্যালিটিকে জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলা হয়েছে
মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোস থেকে উপাদান সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে জাপান মনুষ্যবিহীন মার্শিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন বা এমএমএক্স অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। জাক্সা জানিয়েছে, এমএমএক্স মহাকাশযানবাহী এইচ-৩ রকেট জাপানের তানেগাশিমা মহাকাশকেন্দ্র থেকে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৪১ মিনিটে উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মহাকাশ সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।
মহাকাশযানটি প্রায় এক বছর পর মঙ্গলের কাছে পৌঁছে ফোবোসকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ তিন বছর প্রদক্ষিণ করবে। পরে সেটি উপগ্রহটির পৃষ্ঠে অবতরণ করে অন্তত ১০ গ্রাম উপাদান সংগ্রহ করবে। অবতরণের উপযোগী স্থান চিহ্নিত করতে আগে আইডেফিক্স নামের রোভার ফোবোসের পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করবে। মহাকাশযানটি মঙ্গলের অন্য উপগ্রহ ডেইমোসও পর্যবেক্ষণ করবে, তবে সেখানে অবতরণ করবে না।
জাক্সার আশা, সংগৃহীত নমুনা মঙ্গল ও তার দুই উপগ্রহের উৎপত্তি সম্পর্কে নতুন তথ্য দেবে এবং ফোবোসকে প্রাকৃতিক মহাকাশ স্টেশন হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করবে। নমুনা থেকে উপগ্রহ দুটি বিশাল সংঘর্ষে সৃষ্টি হয়েছিল নাকি মঙ্গলের মহাকর্ষে ধরা পড়া গ্রহাণু ছিল, তা বোঝা যেতে পারে। প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইয়াসুহিরো কাওয়াকাতসু বলেন, মঙ্গলের মহাকর্ষীয় টান অতিক্রম করে ফিরে আসা বড় চ্যালেঞ্জ।
ফোবোস থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরতে জাপানের এমএমএক্স অভিযান
যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বিরল বৈশিষ্ট্যের দুটি শ্বেত বামন নক্ষত্র শনাক্ত করেছেন, যার একটি মানুষের চোখে সবুজ এবং অন্যটি স্যামন-পিঙ্ক বা গোলাপি দেখাতে পারে। মার্ক হোল্যান্ডসের নেতৃত্বে দলটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা কয়েকটি শ্বেত বামন পর্যবেক্ষণ করে আলোর বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য রং নির্ধারণ করে। গবেষণাটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী আরএএসটিআই-তে প্রকাশিত হয়েছে।
সাধারণত নক্ষত্রের রং তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে এবং সেগুলো কমলা, সাদা বা নীল আভায় দেখা যায়। তবে শ্বেত বামনের বায়ুমণ্ডলের উপাদান ও বিশেষ ভৌত পরিবেশ আলোর বৈশিষ্ট্য বদলাতে পারে। গবেষকদের মতে, সবুজ নক্ষত্রটির বায়ুমণ্ডলে হিলিয়ামের সঙ্গে অন্য উপাদানের মিথস্ক্রিয়া এর রঙের কারণ হতে পারে। এতে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম ও লিথিয়ামের মতো ধাতুও পাওয়া গেছে; গোলাপি নক্ষত্রটির রয়েছে ঘন কার্বনের স্তর।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, পাথুরে গ্রহাণু বা ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রহ শ্বেত বামনের শক্তিশালী মহাকর্ষে ভেঙে গিয়ে ধূলিকণা হিসেবে নক্ষত্রের বাইরের স্তরে জমা হতে পারে। সেই রাসায়নিক চিহ্ন বিশ্লেষণ করে অতীতের মহাজাগতিক ঘটনার সূত্র মেলে। রংগুলো খালি চোখে বা সাধারণ টেলিস্কোপে দেখা যায় না; তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও বর্ণালী বিশ্লেষণ থেকে তা নির্ধারিত হয়েছে। উন্নত যন্ত্রে ভবিষ্যতে আরও ১০ থেকে ১২টি সবুজ নক্ষত্র শনাক্ত হতে পারে বলে আশা গবেষকদের।
ওয়ারউইক গবেষকদের শনাক্ত সাদা বামন নক্ষত্র, যা সবুজ ও স্যামন-পিঙ্ক দেখাতে পারে
সাংস্কৃতিক পরিচয় ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষার কথা বলে বুরকিনা ফাসো সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিত করেছে এবং নারীদের জন্য ‘হাকিলি মুসো’ নামে জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু করেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের জুনে সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধের নির্দেশ দেয়। নতুন নীতিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় আগস্টে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতাটি শুরু হয়।
প্রথম আসরে ২০২৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮৪ জন তরুণী অংশ নেন। এক সপ্তাহের প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণের পর তারা গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে লিখিত এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি বিষয়ে সেরা পাঁচজনকে পুরস্কার ও শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়।
প্রথম স্থান অর্জনকারীরা ২০ লাখ সিএফএ ফ্রাঙ্ক, একটি মোটরসাইকেল, একটি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন উপহার পান। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ট্রাওরে বিজয়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিজ্ঞানভিত্তিক পেশায় এগিয়ে যেতে ও বড় লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানান। সরকারের লক্ষ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, বিজ্ঞান শুধু পুরুষদের ক্ষেত্র—এই ধারণা ভাঙা এবং গবেষণা, প্রযুক্তি ও উচ্চশিক্ষায় নারীদের উৎসাহিত করা।
সুন্দরী প্রতিযোগিতার বদলে নারীদের জন্য জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু করল বুরকিনা ফাসো
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মহাবিশ্বে এমন কিছু গ্রহ থাকতে পারে যেখানে প্রাণের টিকে থাকা ও বিকাশের পরিবেশ পৃথিবীর চেয়েও বেশি অনুকূল। এসব তাত্ত্বিক জগৎকে ‘সুপারহ্যাবিটেবল’ বা অতি-বাসযোগ্য গ্রহ বলা হচ্ছে। এগুলো পৃথিবীর চেয়ে সামান্য বড়, উষ্ণ জলবায়ু ও বৃহৎ জলাশয়সমৃদ্ধ হতে পারে এবং কোটি কোটি বছর স্থিতিশীল পরিবেশ ধরে রাখতে সক্ষম হতে পারে। তবে এখনো কোনো অতি-বাসযোগ্য গ্রহ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়নি।
বিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের গ্রহের ব্যাস পৃথিবীর চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বড় এবং ভর প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শক্তিশালী অভিকর্ষ ঘন বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে, আর বড় লোহার কেন্দ্র শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে ক্ষতিকর মহাজাগতিক বিকিরণ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। অগভীর সমুদ্র ও ছোট দ্বীপের বিস্তৃত অঞ্চল বৈচিত্র্যময় বাস্তুতন্ত্র গঠনে সহায়ক হতে পারে। ছোট, শীতল ও কমলা রঙের কে-ডোয়ার্ফ নক্ষত্রও সম্ভাবনাময় বলে বিবেচিত হচ্ছে।
জার্মানির লাইবনিজ ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোফিজিকসের ইভা ভিলোভিচের পরীক্ষায় কৃত্রিম কে-ডোয়ার্ফ আলোতে গার্ডেন ক্রেস কৃত্রিম সূর্যালোকের তুলনায় দ্রুত ও বেশি বেড়েছে। ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের কথা থাকা ইএসএর প্ল্যাটো মিশন কে-ডোয়ার্ফকে প্রদক্ষিণকারী পাথুরে গ্রহ শনাক্তে সহায়তা করবে। পরে সেসব গ্রহের বায়ুমণ্ডলে জৈবিক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিতবাহী গ্যাস বিশ্লেষণ করতে হবে।
পৃথিবীর চেয়েও প্রাণের জন্য অনুকূল গ্রহের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। রোববার বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এটি দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের অগ্রগতির অংশ; প্রকল্পটি রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বায়েরা। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা আইএইএ’র নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের বি-ওয়ান ধাপ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষাসংক্রান্ত জটিলতাও কেটে গেছে। প্রকল্পটি এখন বি-টু ধাপে যাবে, যেখানে প্রাথমিক পরিচালনার জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হবে। এই প্রস্তুতি শেষে ক্রিটিক্যালিটি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে প্রথম সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা ও চীনের বেইজিংয়ের বিজ্ঞানীরা পৃথকভাবে বিশ্বের প্রথম দুটি কার্যকর নিউক্লিয়ার ক্লক তৈরি করেছেন। সময় মাপার এই যন্ত্রগুলো পরমাণুর ইলেকট্রনের শক্তিস্তর পরিবর্তনের বদলে পরমাণুর কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াসের শক্তিস্তর পরিবর্তন ব্যবহার করে। উভয় দলই থোরিয়াম-২২৯ আইসোটোপ ব্যবহার করেছে, যার নিউক্লিয়াসের তুলনামূলক কম শক্তিস্তর ব্যবধান উপযুক্ত লেজার আলো দিয়ে উত্তেজিত করা সম্ভব।
নিউক্লিয়াস বাইরের পরিবেশের কিছু প্রভাবের প্রতি তুলনামূলক কম সংবেদনশীল হওয়ায় এ ধরনের ঘড়ি তাত্ত্বিকভাবে আরও স্থিতিশীল ও নির্ভুল হতে পারে। টিইউ ভিয়েন ও জার্মানির ফিজিক্যাল-টেকনিক্যাল ফেডারেল ইনস্টিটিউটের দলটি ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় সরাসরি ব্যবহারকারী হস্তক্ষেপ ছাড়াই যন্ত্রটি স্থিতিশীলভাবে চালিয়েছে। এক দিনের পর্যবেক্ষণে এর ফ্রিকোয়েন্সি-সংক্রান্ত কর্মদক্ষতা ছিল প্রায় ১০^-১৫ মাত্রার।
বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বাধীন দলটি ভিয়েনার যন্ত্রের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ ভালো স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে এবং দুটি আলাদাভাবে তৈরি স্ফটিকের ফলের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করেছে। তবে গবেষকেরা বলছেন, নতুন ঘড়িগুলো এখনো সবচেয়ে নির্ভুল অপটিক্যাল পারমাণবিক ঘড়ির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। লেজার, স্ফটিকের গুণমান, পুনরাবৃত্তিযোগ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মক্ষমতায় আরও উন্নতি প্রয়োজন।
ভিয়েনা ও বেইজিংয়ে থোরিয়াম-২২৯ ব্যবহার করে কার্যকর নিউক্লিয়ার ক্লক তৈরি
টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশবিষয়ক গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন ব্রুনাইপ্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেহেদী মাসুদ। তিনি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও এলসেভিয়ারের ‘ওয়ার্ল্ডস টপ ২% সায়েন্টিস্ট’ তালিকাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণা র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি ব্রুনাইয়ের সুলতান শরীফ আলী ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ইসলামিক অর্থনীতি ও ফিন্যান্স অনুষদে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, SciRank Global-এর ২০২৫ সালের রেজিস্ট্রিতে তিনি বিশ্বের শীর্ষ ৫ শতাংশ গবেষকের মধ্যে রয়েছেন। পরিবেশ শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে Scholarly Index-এর বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে তাঁর অবস্থান ১৫৭তম। তাঁর গবেষণার লক্ষ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক কল্যাণের মধ্যে টেকসই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।
ড. মেহেদী মাসুদের ১২০টির বেশি পিয়ার-রিভিউড নিবন্ধ, দুটি একক গ্রন্থ এবং একাধিক বইয়ের অধ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, Google Scholar-এ তাঁর উদ্ধৃতি ৭ হাজার ৩৯৫টির বেশি এবং H-index ৪৪; Scopus-এ উদ্ধৃতি ৩ হাজার ৬০০-এর বেশি। তিনি মালয়েশিয়ার iRECYCLE-Malaysia প্রকল্পে ই-বর্জ্য থেকে মূল্যবান ধাতু পুনরুদ্ধার ও সার্কুলার ইকোনমি নিয়ে কাজ করছেন।
টেকসই উন্নয়ন গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন অধ্যাপক মেহেদী মাসুদ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ২০২৬ সালের ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় এপিএসের ওয়েবসাইটে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ বছর বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্য থেকে ১৫৩ জন এই সম্মান পেয়েছেন।
নিউক্লিয়াস-নিউক্লিয়াস বিভবের প্রয়োগে নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যা সমাধানে অবদানের জন্য তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন। বাংলাদেশে কম্পিউটার সচেতনতা ও বিজ্ঞানশিক্ষা প্রসারেও তার পথিকৃৎ ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে তাকে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত একমাত্র পদার্থবিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি এই আন্তর্জাতিক সম্মান অর্জন করেছেন।
৮৬ বছর বয়সী বসাক বলেন, এই স্বীকৃতি তার গবেষণা, শিক্ষকতা ও বিজ্ঞানচর্চার দীর্ঘ পথের অনন্য সম্মান এবং বাংলাদেশের জন্যও গর্বের বিষয়। তিনি তরুণদের বিজ্ঞানচর্চা ও মৌলিক গবেষণায় আগ্রহী হওয়ার আশা প্রকাশ করেন। গত ৫ অক্টোবর তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে ২০২৬ সালের গুণী শ্রেষ্ঠ শিক্ষক সম্মাননাও পেয়েছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অরুণ কুমার বসাক এপিএসের ২০২৬ সালের ফেলো নির্বাচিত
আবু আলি হাসান ইবনুল হাইসামের বৈজ্ঞানিক উত্তরাধিকার তুলে ধরা হয়েছে এই লেখায়, যেখানে তাঁকে আধুনিক অপটিকসের জনক বলা হয়েছে। ৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে বসরায় জন্ম নেওয়া ইবনুল হাইসাম গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা ও প্রকৌশলে পরিচিতি লাভ করেন। নীলনদের বন্যা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নিয়ে ফাতেমী খলিফা আলহাকেমের আমন্ত্রণে কায়রো যাওয়ার পর তিনি প্রায় ১০ বছর গৃহবন্দি ছিলেন, যা ১০২১ সালে খলিফার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
এই বন্দিদশায় তিনি সাত খণ্ডের কিতাবুল মানাজির বা Book of Optics রচনা করেন। গ্রন্থটিতে আলো, দৃষ্টি, প্রতিফলন ও প্রতিসরণের পরীক্ষাভিত্তিক এবং সুসংবদ্ধ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। তিনি চোখ থেকে আলোকরশ্মি বেরিয়ে বস্তু দৃশ্যমান হয়—এ ধারণা নাকচ করেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, স্বপ্রভ বস্তু থেকে আলো অন্য বস্তুর ওপর পড়ে, সেখান থেকে প্রতিফলিত হয়ে চোখে প্রবেশ করে বলেই মানুষ দেখতে পায়।
লেখায় অন্ধকার ঘরের ক্ষুদ্র ছিদ্র ব্যবহার করে আলোর সরলরৈখিক গতি প্রদর্শন, প্রতিফলন নিয়ে গবেষণা এবং কর্নিয়া, আইরিস, পিউপিল, লেন্স ও অপটিক নার্ভের বর্ণনাকে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতকে গ্রন্থটি ল্যাটিনে অনূদিত হয়। ইউনেস্কো ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক আলোকবর্ষ হিসেবে কিতাবুল মানাজির রচনার এক হাজার বছর পূর্তি উদ্যাপন করে।
ইবনুল হাইসামের গবেষণা অপটিকস ও দৃষ্টি-বিজ্ঞানের নতুন ভিত্তি গড়ে দেয়
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানী ও গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণা ও জরিপের ভিত্তিতে তালিকাটি প্রকাশ করা হয়েছে।
তালিকায় রয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. হাসান আলী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম এবং একই বিভাগের শিক্ষার্থী অভিজিৎ ঘোষ। অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অধ্যাপক ইসলাম বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত টানা পঞ্চমবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া তাঁর গবেষণা জীবনের অনন্য স্বীকৃতি। তিনি এ অর্জন পরিবার, সহ-গবেষক, শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও সহযোগীদের উৎসর্গ করেছেন। রেজিস্ট্রার ফেরদৌস রহমান আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যসংখ্যা আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ স্বীকৃতি গবেষণার মান, আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
২০২৬ সালের বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় বেরোবির চার সদস্য
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বায়েরা, বৃহস্পতিবার এ অনুমোদন দিয়েছে।
উৎপাদনে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। এই অনুমোদনের ফলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে গেল।
এ ঘটনাকে দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক উৎপাদন কবে শুরু হবে বা কেন্দ্রটির পরিচালনাসংক্রান্ত অন্য কোনো বিস্তারিত তথ্য উৎসে দেওয়া হয়নি।
রূপপুরের প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল
৫৬তম আন্তর্জাতিক ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে পদকজয়ী বাংলাদেশ দলের সদস্যরা শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। কলম্বিয়ার বুকারামাঙ্গা শহরে ৪ থেকে ১২ জুলাই অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দল অংশ নেয়।
বিশ্বের ৯৫টি দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাংলাদেশ দল একটি রৌপ্য, দুটি ব্রোঞ্জ এবং একটি সম্মানসূচক পদক অর্জন করে। প্রতিবেদনে এই ফলাফলকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অসাধারণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পদকজয়ীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, তারাই আগামীর বাংলাদেশ এবং ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেবে। তিনি বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই হবে না; সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সম্পৃক্ত হতে হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ দল আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহাম্মদ জাহাঙ্গীর মাসুদ উপস্থিত ছিলেন।
চারটি সম্মাননা জয়ের পর শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ফিজিক্স অলিম্পিয়াড দলের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশের তরুণ গবেষক মারজানা আক্তার ২০২৬ সালের ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। ভাইরোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, সংক্রামক রোগ, বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি নিয়ে কাজের জন্য তিনি এই স্বীকৃতি পেয়েছেন। উৎসে এটিকে তার গবেষণাজীবনের বড় অর্জন এবং বাংলাদেশের বিজ্ঞানচর্চার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে মারজানা জাতিসংঘের ‘ইয়াং উইমেন ফর বায়োসিকিউরিটি ফেলোশিপ ২০২৫’-এ বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে নির্বাচিত হন। তার মতে, এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে বিজ্ঞান কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে গবেষণাগারের নিরাপত্তা, সংবেদনশীল জৈব উপাদান ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ, বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনিরাপত্তা এবং বিজ্ঞান কূটনীতিও যুক্ত। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেও এশিয়ার সেরা বিজ্ঞানীদের সারিতে পৌঁছানো সম্ভব।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি মাইক্রোবায়োলজি, ভাইরোলজি, মলিকুলার ডায়াগনস্টিকস ও প্রাণিসম্পদ-সম্পর্কিত রোগজীবাণু নিয়ে কাজ করেন। তার লক্ষ্য রোগ প্রতিরোধ, বায়োসেফটি, বায়োসিকিউরিটি সচেতনতা, ওয়ান হেলথ প্রস্তুতি ও প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণে অবদান রাখা। গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশে শক্তিশালী বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চান তিনি।
২০২৬ সালের এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০ তালিকায় বাংলাদেশের মারজানা আক্তার
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১১৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।