গবেষকেরা ভারত মহাসাগরে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে প্রাচীন, গভীরতম ও বিস্তৃত তিমির সমাধিক্ষেত্র খুঁজে পেয়েছেন। এখানে পাঁচ মিলিয়ন বছরেরও বেশি পুরোনো জীবাশ্ম রয়েছে, যা সাত কিলোমিটারেরও বেশি গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং শত শত মাইলজুড়ে ছড়িয়ে আছে। চীন, ইতালি ও নিউজিল্যান্ডের গবেষক দল ডায়ামান্টিনা ফ্র্যাকচার জোনে ডুবোযান ব্যবহার করে ৪৮৫টি জীবাশ্মস্থল ও পাঁচটি আধুনিক তিমির পতনস্থল শনাক্ত করেছেন।
পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জিওভান্নি বিয়ানুচ্চি বলেন, এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে চরম ও অনাবিষ্কৃত পরিবেশেও অজানা প্রজাতি ও বাস্তুতন্ত্র থাকতে পারে এবং জীবন সেখানে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। মার্কিন ক্যালভার্ট মেরিন মিউজিয়ামের স্টিফেন জে গডফ্রে একে অনন্য আবিষ্কার হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
‘নেচার’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় একটি পাঁচ মিটার দীর্ঘ অ্যান্টার্কটিক মিঙ্কে তিমির কঙ্কাল এবং ৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন বছর পুরোনো বিলুপ্ত ঠোঁটওয়ালা তিমির জীবাশ্মভূত খুলি পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন কপলি বলেন, প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৮০০টি কঙ্কাল পাওয়া সত্যিই বিস্ময়কর।
ভারত মহাসাগরে পাঁচ মিলিয়ন বছরের প্রাচীনতম ও গভীরতম তিমির সমাধিক্ষেত্র আবিষ্কার
নাসা ২০২৭ সালের শেষের দিকে নির্ধারিত বহুল প্রতীক্ষিত ‘আর্টেমিস ৩’ মিশনের জন্য চার নভোচারীর নাম ঘোষণা করেছে। দলে রয়েছেন র্যান্ডি ব্রেসনিক, আন্দ্রে ডগলাস, ফ্রাঙ্ক রুবিও ও লুকা পারমিতানো। বিকল্প নভোচারী হিসেবে থাকছেন অভিজ্ঞ টেস্ট পাইলট বব হাইন্টজ। দুই সপ্তাহব্যাপী এই মিশনে নভোচারীরা মহাকাশে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে ডকিং অনুশীলন করবেন।
সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানে তিনটি রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে। ওরিয়ন মহাকাশযানে নভোচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে ব্লু অরিজিন ও স্পেসএক্সের তৈরি ল্যান্ডারের সাথে যুক্ত হওয়ার মহড়া চালাবেন। ২৮ মে ফ্লোরিডায় ব্লু অরিজিনের নিউ গ্লেন রকেট বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিলেও নাসা কর্মকর্তারা ২০২৭ সালের সময়সূচি নিয়ে আশাবাদী।
চীনের সঙ্গে মহাকাশ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে যুক্তরাষ্ট্র এই মিশনের মাধ্যমে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর্টেমিস ৩ মিশনটি চাঁদে না নেমে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পরীক্ষা চালাবে, যা ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের ঝুঁকি কমাবে।
চাঁদ অভিযানের প্রস্তুতিতে ২০২৭ সালের আর্টেমিস ৩ মিশনের চার নভোচারীর নাম ঘোষণা করল নাসা
যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক মানব ভ্রূণের ডিএনএ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পাদনা করতে সক্ষম হয়েছেন, যা জিন সম্পাদনা বিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিসিস্ট ডিটার এগলির নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় ‘বেস এডিটিং’ নামের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রচলিত ক্রিসপার পদ্ধতির তুলনায় কম ক্ষতিকর বলে দাবি করা হচ্ছে। গবেষকরা হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত পিসিএসকে৯ এবং হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত এইচবিজি জিন সফলভাবে সম্পাদনা করেছেন। গবেষণাটি এখনো কোনো বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়নি এবং বর্তমানে পর্যালোচনাধীন।
বিজ্ঞানীদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আইভিএফ পদ্ধতিতে তৈরি ভ্রূণের জিনগত ত্রুটি সংশোধনে সহায়ক হতে পারে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিশুদের উচ্চতা, বুদ্ধিমত্তা বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা আধুনিক যুগের ইউজেনিক্স বিতর্ককে পুনরুজ্জীবিত করছে। গবেষণার পরবর্তী ধাপে অর্থায়ন করছে নিউক্লিয়াস জিনোমিক্স, যা অতীতে ভ্রূণের বৈশিষ্ট্য পূর্বাভাস দেওয়ার দাবিতে সমালোচিত হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রযুক্তিটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর নিরাপত্তা ও নৈতিক দিক নিয়ে সমাজব্যাপী আলোচনা জরুরি।
মানব ভ্রূণের ডিএনএ সম্পাদনায় যুক্তরাষ্ট্রে সাফল্য, নৈতিক বিতর্কে নতুন আলোচনার সূচনা
বিমলাইন ফর স্কুলস প্রতিযোগিতার ১৩তম সংস্করণে বাংলাদেশসহ ভারত, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরা বিজয়ী হয়েছে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এই পদার্থবিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের সিইআরএন বা এর অংশীদার প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছিল। বৈজ্ঞানিক যোগ্যতার ভিত্তিতে পাঁচটি দলকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের বিজয়ী দল ‘পোলারিস’ (POLARIS) গঠিত হয়েছে নোয়াখালীর চৌমুহানী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ এবং রংপুর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে। তারা বন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের প্রস্তাবিত পরীক্ষা সম্পাদন করবে। ভারতের ও তুরস্কের দলগুলো ২০২৬ সালের আগস্টে সিইআরএনে পরীক্ষা চালাবে, আর যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের দলগুলো ডিইএসওয়াই বিমলাইনে পরীক্ষা করবে।
২০১৪ সালে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের হার ক্রমেই বাড়ছে। ২০২৬ সালে ৮৯টি দেশ থেকে রেকর্ডসংখ্যক ৭১২টি দল পরীক্ষার প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্বজয়, বন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা পরিচালনা করবে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জাপানের মর্যাদাপূর্ণ এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ অর্জন করেছেন। বায়োটেকনোলজি গবেষণায় অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননা দিয়েছে সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান (এসবিজে)। ২ জুন তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ওষুধ ও বায়োমলিকিউলের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার গবেষণার জন্য তাকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, একজন গবেষক হিসেবে এ অর্জন তার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। উন্নত বিশ্বের গবেষকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এ পুরস্কার অর্জন দেশের তরুণ গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে। আগামী ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য ৭৮তম এসবিজে বার্ষিক সম্মেলনে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হবে এবং যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবে এসবিজে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এসবিজে জীববিজ্ঞান, বায়োটেকনোলজি ও জীবনবিজ্ঞানের গবেষণার উন্নয়নে কাজ করে আসছে।
বাংলাদেশি গবেষক জান্নাতুল ফেরদৌস পেলেন জাপানের বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আকাশে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা একটি উল্কাপিণ্ড বিস্ফোরিত হয়েছে বলে জানিয়েছে নাসা। সংস্থাটি জানায়, বিস্ফোরণটির শক্তি ছিল প্রায় ৩০০ টন টিএনটির সমান, যার ফলে পুরো অঞ্চলে জোরালো শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়। নাসার ডেপুটি নিউজ প্রধান জেনিফার ডোরেন জানান, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৬ মিনিটে ম্যাসাচুসেটসের উত্তর-পূর্ব এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে আগুনের গোলার মতো উল্কাপিণ্ডটি ভেঙে যায়।
তিনি বলেন, এই উল্কাপিণ্ড কোনো সক্রিয় উল্কাবৃষ্টির অংশ ছিল না, বরং এটি একটি প্রাকৃতিক মহাজাগতিক বস্তু। নাসার তথ্যমতে, উল্কাপিণ্ডটি ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ হাজার মাইল গতিতে প্রায় ৪০ মাইল উচ্চতায় ভেঙে পড়ে, যার ফলে বিকট শব্দ সৃষ্টি হয়।
হঠাৎ এই বিস্ফোরণের শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই জানান, শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে তাদের বাড়িঘর পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। নাসা তুলনামূলকভাবে ২০১৩ সালের রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্ক ঘটনার উল্লেখ করেছে, যেখানে আরও বড় উল্কাপিণ্ড বিস্ফোরিত হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্ব আকাশে ৩০০ টন টিএনটি শক্তির উল্কাপিণ্ড বিস্ফোরণ
মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে আবু কির উপসাগরের তলদেশে হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন বন্দর শহর হেরাক্লিয়নের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। ২০০০ সালে ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট ফর আন্ডারওয়াটার আর্কিওলজির একটি দল, বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ ফ্রাঙ্ক গুডিওর নেতৃত্বে, নেপোলিয়নের একটি ডুবে যাওয়া যুদ্ধজাহাজের সন্ধান করতে গিয়ে এই শহরের খোঁজ পান। প্রায় ১২০০ বছর ধরে বালির নিচে চাপা পড়ে থাকা শহরটির অস্তিত্ব প্রথম ধরা পড়ে দেবতা হাপির ছয় টন ওজনের একটি মূর্তির অংশ পাওয়ার মাধ্যমে।
পরবর্তী ১৩ বছরে দলটি হেরাক্লিয়নের বিভিন্ন নিদর্শন উদ্ধার করে, যার মধ্যে ছিল দেবতা আমন ও খনসৌয়ের মন্দিরের ভগ্নাংশ, ৬৪টিরও বেশি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ, ৭০০টি নোঙর, স্বর্ণমুদ্রা, তামা ও সোনার তৈজসপত্র। এছাড়া তারা দেবী আইসিসের আদলে তৈরি তৃতীয় ক্লিওপেট্রার মূর্তি, গ্রিক ও মিশরীয় ভাষায় খোদাই করা ফলক এবং দেবতা আমনের উদ্দেশ্যে বলি দেওয়া পশুর মমিও উদ্ধার করেন। শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও অনেক নিদর্শন প্রায় অক্ষত অবস্থায় ছিল।
হেরাক্লিয়ন, যার মিশরীয় নাম থনিস, একসময় ভূমধ্যসাগরের প্রধান বন্দর ছিল, যা ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে সমুদ্রে তলিয়ে যায়।
আলেকজান্দ্রিয়ার কাছে সমুদ্রতলে ১২০০ বছর পর প্রাচীন হেরাক্লিয়ন শহর পুনরাবিষ্কৃত
বিবিসি প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহ গলে সমুদ্রের দিকে ভর সরে যাওয়ায় পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীর হচ্ছে এবং দিনগুলো ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। পরিবর্তনের পরিমাণ মিলিসেকেন্ডের ভগ্নাংশে হলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনের শক্তি বিশাল এবং গত লাখ লাখ বছরের মধ্যে এটি নজিরবিহীন। ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েনা ও ইটিএইচ জুরিখের গবেষকেরা ভূতাত্ত্বিক রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, অতীতে এমন দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছিল কি না।
গবেষণায় সমুদ্রের তলদেশের বেন্থিক ফোরামিনিফেরা জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা প্রাচীন সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তনের রেকর্ড ধরে রেখেছে। গবেষকেরা বিশেষভাবে তৈরি একটি মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করে প্রায় ৩৬ লাখ বছর আগের তথ্য পর্যালোচনা করেছেন। ফলাফলে দেখা গেছে, বর্তমানে দিন বড় হওয়ার হার প্রতি শতাব্দীতে প্রায় ১.৩৩ মিলিসেকেন্ড, যা ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসে অনন্য। প্রায় ১ হাজার গিগাটন ভর মেরু অঞ্চল থেকে সমুদ্রে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, যদি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন উচ্চ মাত্রায় বজায় থাকে, তবে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তনই পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্য পরিবর্তনের প্রধান কারণ হয়ে উঠতে পারে।
বরফ গলে পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীর, দিন বড় হচ্ছে বলে গবেষণা
চীন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে রবিবার রাত ১১টা ০৮ মিনিটে উত্তর-পশ্চিম চীনের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ‘লং মার্চ-২এফ ওয়াই২৩’ রকেটে করে ‘শেনঝৌ-২৩’ মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হবে। এই মিশনে তিনজন নভোচারী এক বছর ‘তিয়াংগং’ মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করবেন, যা চীনের মহাকাশ কর্মসূচিতে নতুন রেকর্ড গড়বে। দলে রয়েছেন কমান্ডার ঝু ইয়াংঝু, পাইলট ঝাং ইউয়ানঝি এবং পেলোড স্পেশালিস্ট লি জিয়াইং, যিনি হংকং থেকে প্রথম নভোচারী এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা।
এই দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের মূল লক্ষ্য মহাকাশে মানুষের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, যেমন বিকিরণের প্রভাব, হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস এবং মানসিক চাপ নিয়ে গবেষণা করা। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় মহাকাশে মানুষের বসবাসের সক্ষমতা যাচাই করাও এই মিশনের উদ্দেশ্য।
এটি এমন সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ২০২৮ সালে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে এবং চীন ২০৩০ সালের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। বেইজিং ২০৩৫ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনাও করেছে।
চাঁদে ২০৩০ সালের লক্ষ্য সামনে রেখে এক বছরের মহাকাশ মিশনে তিন নভোচারী পাঠাচ্ছে চীন
বান্দরবানের বালাঘাটায় সাঙ্গু নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছে দেশের অন্যতম আধুনিক প্ল্যান্ট টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরি। জীববিজ্ঞানের কোষকেন্দ্রের আদলে নকশা করা এই গোলাকার ভবনটি আধুনিক স্থাপত্য ও পরিবেশবান্ধব ধারণার সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে। এতে থাকবে মিডিয়া প্রস্তুতি, ইনোকুলেশন, কালচার, অ্যাক্লাইমেটাইজেশন, হার্ডেনিং জোন, গ্লাস হাউস ও গবেষণার বিশেষ সুবিধা, যা আন্তর্জাতিক মানের কৃষি গবেষণাকে সহায়তা করবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিস্যুকালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প সময়ে রোগমুক্ত ও জেনেটিকভাবে অভিন্ন চারা উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে উৎপাদন বাড়বে, ব্যয় কমবে এবং কৃষকের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। স্থানীয় কৃষকরা আশা করছেন, এই ল্যাবের মাধ্যমে পাহাড়ি বাংলা কলা, আনারস, স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফল ও অর্কিডের উন্নত চারা পাওয়া যাবে, যা তরুণদের কৃষিতে আগ্রহী করবে। নারী কৃষকরাও নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজের সুযোগ দেখছেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এটি শুধু চারা উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, বরং পাহাড়ি উপযোগী ফসল, মাতৃগাছ উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের গবেষণাকেন্দ্র হবে। নির্মাণকাজ প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞরা একে বাংলাদেশের কৃষির আধুনিক রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
বান্দরবানে আধুনিক টিস্যুকালচার ল্যাব পাহাড়ি কৃষিতে আনবে রূপান্তর
বিজ্ঞানীরা থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবিষ্কৃত জীবাশ্ম থেকে বিশাল আকৃতির নতুন এক ডায়নোসর প্রজাতি শনাক্ত করেছেন, যার নাম ‘নাগাটাইটান’। আনুষ্ঠানিক নাম ‘নাগাটাইটান চ্যায়াফুমেনসিস’। এটি ১০০ থেকে ১২০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত, যা টাইরানোসরাস রেক্সের প্রায় ৪০ মিলিয়ন বছর আগের। ২৭ মিটার লম্বা ও ২৭ টন ওজনের এই তৃণভোজী সরোপড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় ডায়নোসর।
এক দশক আগে থাইল্যান্ডের চ্যায়াফুম প্রদেশের একটি পুকুরের পাশে জীবাশ্মগুলো পাওয়া যায়। যুক্তরাজ্য ও থাইল্যান্ডের গবেষকরা যৌথভাবে এই প্রজাতি শনাক্ত করেন। গবেষণাটি ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে এবং এর নেতৃত্ব দেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের থাই পিএইচডি গবেষক থিতিওত সেথাপানিসাকুল। গবেষকেরা মনে করছেন, এটি থাইল্যান্ডের “শেষ টাইটান”, কারণ জীবাশ্মগুলো ডায়নোসর বহনকারী সবচেয়ে নবীন শিলাস্তরে পাওয়া গেছে।
এই আবিষ্কার প্রাচীন জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে বিশাল ডায়নোসরের বিকাশে ভূমিকা রেখেছিল তা বোঝার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, নাগাটাইটান এমন এক সময়ে বাস করত যখন বৈশ্বিক উষ্ণতা ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বাড়ছিল।
থাইল্যান্ডে জীবাশ্ম থেকে নতুন বিশাল ডায়নোসর প্রজাতি ‘নাগাটাইটান’ আবিষ্কার
জলবায়ুসহিষ্ণু ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনে জিনোম এডিটিং প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে গাজীপুরে দিনব্যাপী এক পরামর্শমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ব্র্যাক এগ্রিকালচারাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে আয়োজিত এ কর্মশালাটি বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির অর্থায়নে পরিচালিত একটি বিশেষ গবেষণা প্রকল্পের অংশ ছিল। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. মো. তোফাজ্জল ইসলাম, প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন জীবপ্রযুক্তিবিদ প্রফেসর হাসিনা খান।
বক্তারা বলেন, আধুনিক জিনোম এডিটিং প্রযুক্তি টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা লবণাক্ততা, খরা, অতিবৃষ্টি ও রোগসহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনের চলমান গবেষণার অগ্রগতি উপস্থাপন করেন। কারিগরি অধিবেশনে গাইড-আরএনএ ডিজাইন, জিনোম এডিটিংয়ের ব্যবহার ও জীবনিরাপত্তা বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
সমাপনী পর্বে আগামী তিন বছরে জিনোম-এডিটেড জলবায়ুসহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয় এবং শিক্ষা ও শিল্প খাতের যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গাজীপুরে জলবায়ুসহিষ্ণু ধান উদ্ভাবনে জিনোম এডিটিংয়ের সম্ভাবনা নিয়ে কর্মশালা
আগামী দুই সপ্তাহ দক্ষিণ গোলার্ধের আকাশে দেখা যাবে একটি বিরল ধূমকেতু, যা এরপর এক লাখ ৭০ হাজার বছরের জন্য দৃষ্টির আড়ালে চলে যাবে। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডের তে হোয়াতু স্টারডোমের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জশ আওরাকি জানান, ধূমকেতুটি আগে উত্তর গোলার্ধে ছিল, কিন্তু সূর্যকে প্রদক্ষিণ শেষে এখন দক্ষিণ আকাশে দৃশ্যমান হয়েছে।
আওরাকি বলেন, ধূমকেতুটি বেশ উজ্জ্বল হলেও খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়; এটি দেখতে দূরবীন, টেলিস্কোপ বা ক্যামেরা ব্যবহার করতে হবে। তিনি আরও জানান, আগামী দুই সপ্তাহে ধূমকেতুটির উজ্জ্বলতা ধীরে ধীরে কমে যাবে।
নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে বাধাহীন স্থানে তাকাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূর্য ডোবার পরের এক ঘণ্টার মধ্যেই এটি সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে।
দক্ষিণ গোলার্ধে দুই সপ্তাহ দৃশ্যমান বিরল ধূমকেতু, এরপর হারাবে ১ লাখ ৭০ হাজার বছরে
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ‘মেঘ চুরি’ করছে—এমন ভুয়া দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরাকের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল-খাইকানি আল-রাশিদ টিভিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিমান ব্যবহার করে মেঘ ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে এবং যুদ্ধের কারণে তারা এখন তা করতে পারছে না বলে ইরাকে বৃষ্টি ফিরেছে। তবে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।
ইরাকের আবহাওয়া অধিদপ্তর এই দাবিকে অবৈজ্ঞানিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে, আগেই বৃষ্টিপূর্ণ বছরের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষের হাতে এমন কোনো প্রযুক্তি নেই যা দিয়ে মেঘ চুরি বা আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তারা ব্যাখ্যা করেন, ক্লাউড সিডিং কেবল বিদ্যমান মেঘে সামান্য বৃষ্টিপাত বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে চরম আবহাওয়া বাড়ছে এবং পানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এমন ষড়যন্ত্রমূলক ধারণা সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ছড়ানো ‘মেঘ চুরি’ দাবি ভিত্তিহীন ও অবৈজ্ঞানিক
ফ্রান্সের সমুদ্রবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ মিস তনিয়া অ্যাস্ট্রিড কাপুয়ানো মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে উভয় পক্ষ শিক্ষা ও গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে সমুদ্রবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভারনেন্স-এর পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ফ্রান্সের সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস)-এর মধ্যে শিগগিরই একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে ঐকমত্য হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা ও একাডেমিক বিনিময় কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।
মিস কাপুয়ানো গত দুই বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভারনেন্স-এ ভিজিটিং ফেলো হিসেবে কর্মরত আছেন এবং ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। উপাচার্য তার অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
ঢাবি ও ফরাসি বিশেষজ্ঞের মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণে আলোচনা
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৩৭ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।