Web Analytics

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল সৌরজগতের বাইরে প্রথমবারের মতো একটি উপগ্রহ শনাক্তের কথা জানিয়েছে। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে আবিষ্কারটি নিশ্চিত করা হয়েছে। চিলির ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরির ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ ব্যবহার করে গবেষকেরা পৃথিবী থেকে ৭১ আলোকবর্ষ দূরের সিডি-৩৫ ২৭৭২ নক্ষত্রব্যবস্থায় বস্তুটি শনাক্ত করেন।

নতুন উপগ্রহটির ভর অন্তত বৃহস্পতির সমান বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। এটি একটি বাদামি বামনকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, যার আকার বৃহস্পতির প্রায় ৩৩ গুণ। বাদামি বামন সাধারণ গ্রহের চেয়ে বড় হলেও নক্ষত্রের মতো পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনে অক্ষম। গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক কেভিন হোয়াই বলেন, ব্যবস্থাটিতে তৃতীয় বস্তু হওয়ায় একে উপগ্রহ বা চাঁদ বলা হচ্ছে।

বাদামি বামনটি ২০১১ সালেই অপটিক্যাল টেলিস্কোপে ধরা পড়েছিল, তবে উপগ্রহটি সরাসরি দেখা যায়নি। দলটি রেডিয়াল ভেলোসিটি পদ্ধতিতে মহাকর্ষীয় কম্পন মেপে এর উপস্থিতি ও আকার নিশ্চিত করে। গবেষকেরা আরও সম্ভাব্য উপগ্রহ খুঁজছেন এবং নির্মাণাধীন এক্সট্রিমলি লার্জ টেলিস্কোপ চালু হলে এ ধরনের অনুসন্ধান সহজ হবে বলে আশা করছেন।

26 Jul 26 1NOJOR.COM

সৌরজগতের বাইরে প্রথম উপগ্রহ শনাক্তের দাবি, বাদামি বামনকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আতিকুল হকের নেতৃত্বে খাদ্যবাহিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া Bacillus cereus শনাক্তে LAMP-ভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে। ২৬ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পদ্ধতিটি দুধ, ডিম ও পশুখাদ্যের নমুনায় ব্যাকটেরিয়া শনাক্তে সর্বোচ্চ ৯০ মিনিট সময় নেয়। Bacillus cereus ডায়রিয়া ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গবেষণায় মাঠপর্যায়ের নমুনার প্রায় ৮০ শতাংশে অন্তত একটি টক্সিন জিন পজিটিভ পাওয়া গেছে। পশুখাদ্যে সর্বোচ্চ দূষণ ধরা পড়ে, আর দুধ ও ডিমেও উল্লেখযোগ্য দূষণ শনাক্ত হয়। প্রচলিত PCR পরীক্ষায় ফল পেতে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা এবং ব্যয়বহুল থার্মাল সাইক্লার লাগে। নতুন পদ্ধতির প্রতি পরীক্ষার খরচ প্রায় ২ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার; সাধারণ ওয়াটার বাথ বা হিটিং ব্লক দিয়েই এটি করা যায়।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, LAMP পদ্ধতিটি প্রায় দশ হাজার গুণ বেশি সংবেদনশীল এবং এর ডায়াগনস্টিক সংবেদনশীলতা ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় পরিচালিত গবেষণাটি Frontiers in Cellular and Infection Microbiology-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণ, মাল্টিপ্লেক্স LAMP, প্রজাতি-নির্দিষ্ট পরীক্ষা ও বহনযোগ্য ফিল্ড কিট তৈরির পরিকল্পনা জানিয়েছেন; তবে সম্প্রসারণে সীমিত বাজেটের কথা উল্লেখ করেছেন।

26 Jul 26 1NOJOR.COM

হাবিপ্রবির LAMP পদ্ধতিতে ৯০ মিনিটে দুধ, ডিম ও পশুখাদ্যে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত

ইউনিভার্সিটি অব রোচেস্টারের অধ্যাপক অ্যাডাম ফ্রাঙ্ক ও নাসার বিজ্ঞানী গ্যাভিন স্মিথ পৃথিবীতে মানুষের আগে উন্নত সভ্যতা ছিল কি না, তা নিয়ে ‘সিলুরিয়ান হাইপোথিসিস’ নামে একটি চিন্তামূলক অনুসন্ধান শুরু করেন। ২০১৭ সালের আলোচনার পর তারা ২০১৮ সালে এ বিষয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। তত্ত্বটির লক্ষ্য অতীতের সভ্যতার অস্তিত্ব প্রমাণ করা নয়; বরং এমন কোনো সভ্যতা থাকলে তার সূক্ষ্ম চিহ্ন কীভাবে খুঁজতে হবে, তা নির্ধারণ করা।

গবেষণাটি পৃথিবীর জলবায়ু ইতিহাসের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের সঙ্গে বর্তমান মানবসৃষ্ট উষ্ণায়নের তুলনা করে। প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে প্যালিওসিন-ইওসিন থার্মাল ম্যাক্সিমামের সময় কার্বন নির্গমনের সঙ্গে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত বেড়েছিল। এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও অনিশ্চিত। টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির গবেষক ক্যাথরিন হেহো এটিকে মানুষের সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরা একটি চিন্তাশীল পরীক্ষা বলেছেন।

প্রাচীন নগর বা জীবাশ্মের প্রমাণ টেকটোনিক পরিবর্তন, আগ্নেয়গিরি ও ভূমিক্ষয়ে হারিয়ে যেতে পারে বলে গবেষকেরা পলিস্তর ও রাসায়নিক পরিবর্তনের দিকে নজর দেন। প্লাস্টিক, কৃত্রিম হরমোন, বিষাক্ত রাসায়নিক এবং ইলেকট্রনিক্সের ভারী ধাতু ভবিষ্যতে মানবসভ্যতার চিহ্ন হয়ে থাকতে পারে। ভূতত্ত্ববিদ জান জালাসিউইচ মনে করেন, নগরায়ন, ধাতু গলানো ও প্লাস্টিক বর্জন স্পষ্ট পদচিহ্ন রেখে যাবে এবং এমন শক্তি-অপচয়কারী প্রাচীন সভ্যতার অস্তিত্ব তিনি নাকচ করেন।

26 Jul 26 1NOJOR.COM

সিলুরিয়ান হাইপোথিসিস অতীতের সভ্যতার চিহ্ন ও জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তোলে

ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে স্পেনের রব্লেদো এলাকায় অবস্থিত নাসার মাদ্রিদ ডিপ স্পেস কমিউনিকেশনস কমপ্লেক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার কেন্দ্রটি থেকে সব কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়। মাদ্রিদের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে থাকা এই স্থাপনাটি নাসার তিনটি বৈশ্বিক গভীর মহাকাশ যোগাযোগকেন্দ্রের একটি। এ ঘটনায় দূরবর্তী মহাকাশযানের সঙ্গে যোগাযোগ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নাসা জানিয়েছে, দাবানলটি এমডিএসসিসি এলাকার মধ্য দিয়ে চলে গেছে। পরিস্থিতি নিরাপদ হলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র এএফপিকে দেওয়া বিবৃতিতে কেন্দ্রটির অবস্থান ও কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নাসা বলেছে, কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

এমডিএসসিসি নাসার ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কের অংশ, যার মাধ্যমে গ্যালাক্সির দূরবর্তী অঞ্চল অনুসন্ধানকারী মহাকাশযানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। নেটওয়ার্কের অন্য দুটি কেন্দ্র অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার গোল্ডস্টোনে অবস্থিত। নাসার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে মহাকাশ মিশনের সহায়তা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটি আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও বাসিন্দাদের প্রতিও সহমর্মিতা জানিয়েছে।

25 Jul 26 1NOJOR.COM

দাবানলে স্পেনের নাসা যোগাযোগকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত, কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

এল সালভাদরের প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রায় ৩ হাজার বছরের পুরোনো বলে ধারণা করা একটি মানব দেহাবশেষ উদ্ধার করেছেন। দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২ জুলাই সান সালভাদরের উপশহর অ্যান্টিগুয়ো কুসকাতলানের একটি সমাধিস্থল থেকে দেহাবশেষটি উত্তোলন করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এটি খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৮৫০ সালের। সেখানে উসুলুতান শৈলীর একটি ছোট মাটির পাত্র পাওয়া গেছে, যার আকৃতি সামুদ্রিক কচ্ছপের মতো। এছাড়া আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের স্তরের নিচে সংরক্ষিত কাসাভা গাছের শাখার অবশেষও উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানান, দেহাবশেষটি উপুড় অবস্থায় ছিল। এর বয়স নিশ্চিত করতে রেডিওকার্বন পরীক্ষা এবং লিঙ্গ নির্ধারণে ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই স্থানে আরও সমাধি থাকতে পারে, যা পশ্চিম এল সালভাদরের চালচুয়াপা প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার মতো।

১৯৭০-এর দশকে চালচুয়াপায় ৩৩ জন মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছিল, যা মেসোআমেরিকা অঞ্চলে মানব বলির প্রাচীনতম প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

22 Jul 26 1NOJOR.COM

এল সালভাদরে প্রায় ৩ হাজার বছরের পুরোনো মানব দেহাবশেষ উদ্ধার

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ আলোকবর্ষ দূরের এক নক্ষত্রমণ্ডলে মহাবিশ্বের সবচেয়ে হালকা দুটি দানবীয় গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন। নাসার ‘ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট’ প্রকল্পের স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রথম এই গ্রহদ্বয় শনাক্ত করেন। ‘টিওআই-৭৯১বি’ ও ‘টিওআই-৭৯১সি’ নামের এই গ্যাসীয় গ্রহগুলোর আকার বৃহস্পতির সমান হলেও ভর বৃহস্পতির মাত্র ৩ থেকে ৬ শতাংশ। এদের ঘনত্ব মানুষের তৈরি সবচেয়ে হালকা পদার্থ ‘অ্যারোজেল’-এর কাছাকাছি।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী জর্জ ড্র্যান্সফিল্ডের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ‘সুপার-পাফ’ গ্রহগুলো প্রচলিত গ্রহ গঠনের মডেলের সঙ্গে মেলে না। এত ছোট কেন্দ্রীয় ভর থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তারা বিপুল পরিমাণ গ্যাস ধরে রাখে, তা পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মে ব্যাখ্যা করা কঠিন। ২০১৬ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইভ জে লি প্রথম ‘সুপার-পাফ’ শব্দটি ব্যবহার করেন এবং জানান, নির্দিষ্ট ঠান্ডা ও ধূলিকণাহীন পরিবেশেই এমন গ্রহ গঠিত হতে পারে।

গবেষকেরা জানান, এই গ্রহগুলোর গঠন ও গতিবিধি বিস্তারিতভাবে জানতে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করা হবে, যদিও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে প্রায় এক শতাব্দী সময় লাগতে পারে।

19 Jul 26 1NOJOR.COM

পৃথিবী থেকে ১১০০ আলোকবর্ষ দূরে দুটি অতিহালকা ‘সুপার-পাফ’ গ্রহের সন্ধান

পোল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে এক শৌখিন ধাতু অনুসন্ধানকারী মাটির নিচে ২ হাজার ৭০০ বছরের পুরোনো একটি ব্রোঞ্জের তলোয়ার আবিষ্কার করেছেন। গদানস্ক বন বিভাগের বেলেমাটির নিচে খাড়া অবস্থায় থাকা এই তলোয়ারটি অবিশ্বাস্যভাবে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। পোমেরানিয়ান প্রাদেশিক হেরিটেজ কনজারভেটর জুনের শুরুতে ফেসবুক পোস্টে এই আবিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, এটি ব্রোঞ্জ যুগের শেষ ভাগের নিদর্শন, যার সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব ৯০০ থেকে ৭০০ অব্দের মধ্যে।

প্রত্নতাত্ত্বিক ও হেরিটেজ কর্মকর্তারা সঠিক প্রত্নতাত্ত্বিক পদ্ধতি অনুসরণ করে তলোয়ারটি উদ্ধার করেন। আবিষ্কারক মার্সিন উইসনিউস্কি এর আগেও একই অঞ্চলে ব্রোঞ্জ যুগের গুপ্তধন খুঁজে পেয়েছিলেন এবং এবারও দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানান। কর্মকর্তারা জানান, ১৯২০-এর দশকে একই এলাকায় অনুরূপ তলোয়ার পাওয়া গিয়েছিল, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হারিয়ে যায়।

তলোয়ারটি পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে এবং পরে জাদুঘরে স্থানান্তর করা হবে। কোন জাদুঘরে পাঠানো হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছে প্রাদেশিক হেরিটেজ কার্যালয়।

17 Jul 26 1NOJOR.COM

পোল্যান্ডে মাটির নিচে অক্ষত অবস্থায় মিলল ২৭০০ বছরের ব্রোঞ্জের তলোয়ার

একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী এলএইচএস ১১৪০বি নামের একটি পাথুরে গ্রহে বায়ুমণ্ডলের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন, যা সম্ভাব্য বাসযোগ্য কোনো পাথুরে গ্রহে বায়ুমণ্ডল পাওয়ার প্রথম স্পষ্ট প্রমাণ। ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, গ্রহটি আমাদের সৌরজগৎ থেকে কয়েক আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এবং এর বায়ুমণ্ডল হিলিয়াম সমৃদ্ধ। যদিও সেখানে প্রাণের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি, বিজ্ঞানীরা মনে করেন গ্রহটিতে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো বিদ্যমান।

২০১৭ সালে আবিষ্কৃত এই গ্রহটি একটি তুলনামূলক শান্ত লাল বামন নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে বাসযোগ্য অঞ্চলে প্রদক্ষিণ করে। এটি পৃথিবীর চেয়ে বড় ও ঠান্ডা এবং মাত্র ২৫ দিনের কম সময়ে একবার প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করে। ২০২৪ সালে চিলির লাস ক্যাম্পানাস অবজারভেটরিতে পর্যবেক্ষণে এর উচ্চ বায়ুমণ্ডলে হিলিয়াম শনাক্ত হয়, যদিও ২০২৫ সালে তা আর দেখা যায়নি।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সন্ধান ও মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থান বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

17 Jul 26 1NOJOR.COM

পাথুরে গ্রহ এলএইচএস ১১৪০বি-তে হিলিয়ামসমৃদ্ধ বায়ুমণ্ডল শনাক্ত

বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো মহাকাশের আন্তঃনাক্ষত্রিক অঞ্চলে চিনির অণু শনাক্ত করেছেন, যা প্রাণের উৎপত্তি বোঝার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী আবিষ্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সোমবার নেচার অ্যাস্ট্রোনমি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেন স্পেনের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোবায়োলজির ড. ইজাসকুন জিমেনেজ-সেরা। গবেষকরা মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোর মাঝের ধুলিকণা ও গ্যাসপূর্ণ অঞ্চলে এই অণু শনাক্ত করেন, যা দীর্ঘদিন ধরে জটিল জৈব অণু তৈরির প্রাকৃতিক রাসায়নিক কারখানা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

ড. জিমেনেজ-সেরা জানান, অণুর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দলটি বারবার পরীক্ষা চালায়। এমআইটির অ্যাস্ট্রোকেমিস্ট ব্রেট ম্যাকগুয়ার এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। বিজ্ঞানীরা বলেন, পৃথিবীতে আরএনএ ও ডিএনএ গঠনে চিনি অপরিহার্য হলেও প্রাথমিক পৃথিবীর পরিবেশে তা তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

গবেষণায় বলা হয়েছে, নক্ষত্র ও গ্রহ গঠনের আগেই আন্তঃনাক্ষত্রিক পরিবেশে এসব চিনির অণু তৈরি হতে পারে এবং পরে গ্রহাণু ও ধূমকেতুর মাধ্যমে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টন পর্যন্ত চিনি পৃথিবীতে পৌঁছায়। এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের অন্যত্র প্রাণের সম্ভাবনাকেও আরও জোরালো করেছে।

15 Jul 26 1NOJOR.COM

আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশে প্রথমবার চিনির অণু শনাক্ত, প্রাণের উৎসে নতুন দিগন্ত

বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো ভারত মহাসাগরে নতুন সমুদ্রতল গঠনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়েছেন, যা পৃথিবীর ভূত্বক পুনর্গঠনের এক বিরল প্রক্রিয়া। ২০২৪ সালে ধারাবাহিক ভূমিকম্পের ফলে তিন ফুটেরও বেশি নতুন তলদেশ তৈরি হয়। ‘নেচার’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেন সামুদ্রিক ভূ-পদার্থবিদ জিন ইভস রয়ার। তাঁর দল ওএইচএ-জিওড্যামস নামের একটি অবজারভেটরিতে যন্ত্রপাতি স্থাপন করেছিলেন, যা সমুদ্রতলের ভূমিকম্প ও ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তনের শব্দ তরঙ্গ শনাক্ত করতে সক্ষম।

১৫টি মনিটরিং স্টেশন নিয়ে গঠিত এই অবজারভেটরিটি যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাত্র দুই মাস পরই ঘটনাটি রেকর্ড করে। দেখা যায়, পর্বতশ্রেণির একটি অংশ প্রায় ১৩ ফুট ধসে পড়ে এবং দুই পাশ তিন ফুটেরও বেশি দূরে সরে যায়। পানির নিচের মাইক্রোফোন ও প্রেসার সেন্সরের মাধ্যমে গবেষকেরা নিশ্চিত হন যে, গভীরের উচ্চচাপযুক্ত ম্যাগমা ওপরে উঠে এসে নতুন পাথুরে তলদেশ তৈরি করেছে।

এই যন্ত্রপাতিগুলো ২০২৭ সাল পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করবে। গবেষকেরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ অন্যান্য বিজ্ঞানীদেরও অনুপ্রাণিত করবে দ্রুত প্রসারিত সমুদ্রতল অঞ্চলে অনুরূপ গবেষণা চালাতে।

10 Jul 26 1NOJOR.COM

২০২৪ সালের ভূমিকম্পে ভারত মহাসাগরে নতুন সমুদ্রতল গঠনের রেকর্ড

২০২৬ সালের ৮ জুলাই বুধবার পৃথিবীর প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ একই সময়ে সূর্যালোক দেখতে পাবে। পৃথিবীর হেলে থাকা অবস্থান ও উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল চলার কারণে এই বিরল দৃশ্য দেখা যাবে। বাংলাদেশ সময় বিকেল প্রায় ৫টা ১০ মিনিটে (জিএমটি ১১টা ১০) প্রায় ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন মানুষ দিনের আলো বা গোধূলির আলোয় থাকবে, যা প্রায় এক মিনিট স্থায়ী হবে। তখন খুব অল্পসংখ্যক মানুষ রাতের অন্ধকারে থাকবে।

উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলে দিনের আলো থাকবে, যেখানে বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ বাস করে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশ, অ্যান্টার্কটিকা ও আশপাশের সমুদ্র অঞ্চলে রাত থাকবে।

এটি প্রথমবার নয়; প্রতি বছর ১৮ মে থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৬০ দিন এমন একটি ক্ষণ আসে, যখন পৃথিবীর প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ একই সময়ে দিনের আলো বা গোধূলির আলো পায়।

08 Jul 26 1NOJOR.COM

পৃথিবীর হেলে থাকা অবস্থায় একসঙ্গে সূর্যালোক দেখবে প্রায় সব মানুষ

থাইল্যান্ডের ফেচাবুরি প্রদেশে ডন ইয়াই থং প্রত্নস্থলে খননকাজ চলাকালে প্রায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ১০০ বছর পুরোনো দুটি স্বর্ণের আংটি উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, প্রাচীন মানব কঙ্কাল ও অন্যান্য প্রত্নবস্তুর সঙ্গে আংটিগুলো পাওয়া যায়। থাইল্যান্ডের চারুকলা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, একটি আংটিতে প্রাচীন ভারতীয় লিপি খোদাই করা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খোদাইকৃত লিপিটি প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপি এবং আংটিটি সম্ভবত ভারতের কোনো বণিক সম্প্রদায়ের সদস্যের ছিল। চারুকলা বিভাগ জানিয়েছে, এর আগে খলং থম ও খাও সাম কেও প্রত্নস্থল থেকেও ব্রাহ্মী লিপিযুক্ত অলংকার ও প্রত্নবস্তু উদ্ধার করা হয়েছিল।

উদ্ধার হওয়া দুটি স্বর্ণের আংটি বর্তমানে ফ্রা নাখন খিরি জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতের কারণে প্রত্নস্থলের ব্রোঞ্জ নিদর্শন ও মানব কঙ্কাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় দ্রুত সংরক্ষণের কাজ চলছে।

05 Jul 26 1NOJOR.COM

থাইল্যান্ডের ফেচাবুরিতে প্রত্নখননে মিলল প্রাচীন ভারতীয় স্বর্ণের আংটি

নিউজিল্যান্ডের ওমারামা ক্লে ক্লিফসের আকাশে সম্প্রতি ধরা পড়েছে বিরল মহাজাগতিক আলোক ঘটনা ‘রেড স্প্রাইটস’। নিউজিল্যান্ডের টম রে এবং স্পেনের ড্যান জাফ্রা ও হোসে কান্তাব্রানা মিল্কিওয়ের ছবি তুলতে গিয়ে এই অদ্ভুত লাল বজ্রপাতের দৃশ্য ধারণ করেন। সাধারণ বজ্রপাত যেখানে মাটির দিকে নামে, সেখানে এটি মেঘের ওপর থেকে মহাশূন্যের দিকে ছুটে যায় এবং মাত্র এক মিলিসেকেন্ড স্থায়ী হয়। কাকতালীয়ভাবে টম রে সেই মুহূর্তে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং ইতিহাসের অন্যতম সেরা রেড স্প্রাইটস ও মিল্কিওয়ে একই ফ্রেমে বন্দি করেন।

বিজ্ঞানীরা জানান, রেড স্প্রাইটস হলো বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে তীব্র বৈদ্যুতিক বিস্ফোরণ, যা বজ্রঝড়ের সময় ধনাত্মক চার্জের কারণে সৃষ্টি হয়। ১৯৮৯ সালে প্রথমবার এটি ধারণ করা হয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকেও এর ছবি তোলা হয়েছে, এবং নাসা ইতালির আকাশে তোলা এমন একটি ছবিকে ‘অ্যাস্ট্রোনমি পিকচার অব দ্য ডে’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

নাসা বর্তমানে ‘Spritacular’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে রেড স্প্রাইটসের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করছে, যা ওজোন স্তর ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব বোঝার গবেষণায় সহায়তা করছে।

29 Jun 26 1NOJOR.COM

নিউজিল্যান্ডের আকাশে রেড স্প্রাইটস ধরা পড়ায় নাসার বৈশ্বিক গবেষণা ত্বরান্বিত

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরিটিক্যাল ফিজিকস (আইসিটিপি) ও ফিজিকস উইদাউট ফ্রন্টিয়ার্স (পিডব্লিউএফ) যৌথভাবে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করছে ‘আইসিটিপি-পিডব্লিউএফ: ফিজিকস ফর বাংলাদেশ অনলাইন সামার ইন্টার্নশিপ ২০২৬’। সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এই ইন্টার্নশিপ আগামী ২০ জুলাই শুরু হয়ে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক গবেষক ও মেন্টরদের তত্ত্বাবধানে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক দিকনির্দেশনার অভাব দূর করে শিক্ষার্থীদের বাস্তব গবেষণার অভিজ্ঞতা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রস্তুত করা। অংশগ্রহণকারীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরে আধুনিক গবেষণার ধারা ও পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হবেন।

বাংলাদেশের যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক বা স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা ৩০ জুন পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। ইন্টার্নশিপে চারটি গবেষণা ট্র্যাক থাকবে, যার মধ্যে হাই এনার্জি ফিজিকস ট্র্যাকে কোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরি, স্ট্রিং থিওরি, কনফরমাল ফিল্ড থিওরি ও অ্যালজেব্রিক কম্বিনেটোরিকস অন্তর্ভুক্ত।

28 Jun 26 1NOJOR.COM

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আইসিটিপি-পিডব্লিউএফ ২০২৬ অনলাইন ফিজিকস ইন্টার্নশিপ শুরু

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আতিকুল হক খাদ্যবাহিত ব্যাকটেরিয়া Bacillus cereus শনাক্তে Loop-Mediated Isothermal Amplification (LAMP) পরীক্ষাপদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা মাত্র ৯০ মিনিটে ফলাফল দিতে সক্ষম। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় পরিচালিত এই গবেষণা আন্তর্জাতিক জার্নাল Frontiers in Cellular and Infection Microbiology-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মাঠপর্যায়ের প্রায় ৮০ শতাংশ নমুনা অন্তত একটি টক্সিন জিনের জন্য পজিটিভ ছিল, যেখানে পশুখাদ্যে সর্বাধিক দূষণ পাওয়া গেছে।

প্রচলিত PCR পরীক্ষার তুলনায় LAMP পদ্ধতি দ্রুত, সাশ্রয়ী (প্রতি পরীক্ষায় প্রায় ২.৫ মার্কিন ডলার) এবং সাধারণ হিটিং ব্লক বা ওয়াটার বাথ দিয়েই সম্পন্ন করা যায়। এটি প্রায় ১০,০০০ গুণ বেশি সংবেদনশীল এবং ৯৬.১% ডায়াগনস্টিক সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করেছে। ড. আতিকুল হক জানান, এই প্রযুক্তি সীমিত সম্পদসম্পন্ন পরিবেশেও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

গবেষকরা ভবিষ্যতে দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণ গবেষণা, মাল্টিপ্লেক্স ও প্রজাতি-নির্দিষ্ট LAMP প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং বহনযোগ্য ফিল্ড কিট তৈরির পরিকল্পনা করেছেন। এটি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হলে নজরদারি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।

22 Jun 26 1NOJOR.COM

খাদ্যে ব্যাকটেরিয়া শনাক্তে ৯০ মিনিটে ফলদায়ক LAMP প্রযুক্তি উদ্ভাবন করলেন হাবিপ্রবির গবেষক

গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৪২ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।

সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।