ইরান রোববার রাশিয়ার ভোস্টোচনি কসমোড্রোম থেকে টোলু-৩, জাফর-২ ও কাউসার-১.৫ নামের তিনটি রিমোর্ট-সেন্সিং স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠিয়েছে। সয়ুজ-২.১বি উৎক্ষেপণযানের মাধ্যমে মাল্টি-পে-লোড মিশনের অংশ হিসেবে স্যাটেলাইটগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়। বার্তা সংস্থা মেহের জানায়, এটি ইরানের সপ্তমবারের মতো রাশিয়ার রকেট ব্যবহার করে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ।
ইরানের স্পেস এজেন্সির প্রধান হাসান সালারিহ বলেন, এই উৎক্ষেপণ দেশটির মহাকাশ খাতের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং এটি প্রথমবার, ইরান একসঙ্গে একাধিক স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছে। টোলু-৩ ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে ভারী ও উন্নত পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট, যার ওজন ১৫০ কেজি। এর প্রায় ৮০ শতাংশ উপাদান ইরানে তৈরি, যা স্যাটেলাইট ক্লাস্টার প্রযুক্তির স্বদেশীকরণে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান আগামী বছর ‘শহীদ সোলাইমানি’ নামে তাদের প্রথম টেলিযোগাযোগ স্যাটেলাইট ক্লাস্টার উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে।
রাশিয়ার ভোস্টোচনি কসমোড্রোম থেকে তিনটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করল ইরান
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থা রসকসমস ঘোষণা করেছে যে তারা ২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এই কেন্দ্র থেকে রাশিয়ার চন্দ্র কর্মসূচি এবং যৌথ রাশিয়া-চীন গবেষণা কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রসকসমস লাভোচকিন অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে চুক্তি করেছে, যেখানে রোসাটম ও কুরচাটোভ ইনস্টিটিউটও অংশ নিচ্ছে।
রাশিয়া ১৯৬০-এর দশক থেকে মহাকাশ অনুসন্ধানে অগ্রগামী হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। ২০২৩ সালে লুনা-২৫ মিশনের ব্যর্থতা রাশিয়ার চন্দ্র অভিযানে বড় ধাক্কা দেয়। রসকসমস এই নতুন পরিকল্পনাকে চাঁদে স্থায়ী উপস্থিতি গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ রাশিয়ার মহাকাশ প্রতিযোগিতায় পুনরায় অবস্থান শক্ত করার প্রচেষ্টা। তবে প্রকল্পটি সফল করতে প্রযুক্তিগত জটিলতা ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে রাশিয়া
২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশসহ উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে পালিত হলো বছরের দীর্ঘতম রাত ও ক্ষুদ্রতম দিন। এই দিনটি ‘শীতকালীন অয়নান্ত’ নামে পরিচিত, যখন পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করে। ফলে সূর্যালোকের সময় কমে যায় এবং শীতের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, পৃথিবীর অক্ষের সামান্য হেলনের কারণে ঋতু পরিবর্তন ঘটে। জুন মাসে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে পড়ায় দিন দীর্ঘ হয়, যা ‘গ্রীষ্মকালীন অয়নান্ত’ নামে পরিচিত। অপরদিকে ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে পড়ায় সেখানে গ্রীষ্ম শুরু হয় এবং উত্তরে শীত নেমে আসে।
এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাটি শুধু ঋতু পরিবর্তনের সূচক নয়, বরং সাংস্কৃতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এ সময় তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা যায়নি। অয়নান্ত পৃথিবী ও সূর্যের সম্পর্কের চক্রাকার প্রকৃতি এবং জলবায়ুর পরিবর্তন বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
উত্তর গোলার্ধে বছরের দীর্ঘতম রাত ও ক্ষুদ্রতম দিন পালিত হলো শীতকালীন অয়নান্তে
বিলিয়নিয়ার জেফ বেজোসের প্রতিষ্ঠিত মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। সংস্থাটি প্রথমবারের মতো একজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী নারীকে মহাকাশে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। মিকেলা বেনথাউস নামের এই মহাকাশযান ও মেকাটনিক্স প্রকৌশলী নিউ শেপার্ড রকেটে করে এনএস-৩৭ সাবঅরবিটাল মিশনে অংশ নেবেন। ফ্লাইটটি পৃথিবী থেকে ৬২ মাইল ওপরে অবস্থিত কারমান লাইন অতিক্রম করবে, যা মহাকাশের আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে স্বীকৃত।
২০১৮ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করা মিকেলা এখন অন্তর্ভুক্তিমূলক মহাকাশ অভিযানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তার সঙ্গে থাকবেন ইঞ্জিনিয়ার হ্যান্স কোয়েনিগসম্যান, উদ্যোক্তা নীল মিলচ, বিনিয়োগকারী জোয়ি হাইড, অ্যাডোনিস পোরোলিস এবং মহাকাশপ্রেমী জেসন স্ট্যানসেল। প্রায় ১০–১২ মিনিটের এই ফ্লাইটে তারা কয়েক মিনিটের জন্য মাইক্রোগ্রাভিটি অনুভব করবেন।
এটি ব্লু অরিজিনের ১৬তম মানব মহাকাশযান মিশন। এখন পর্যন্ত সংস্থাটি ৮৬ জনকে কারমান লাইন অতিক্রম করিয়েছে, যার মধ্যে ৮০ জনের জন্য এটি ছিল প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ।
ব্লু অরিজিনের এনএস-৩৭ মিশনে যাচ্ছেন প্রথম হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী নারী মিকেলা বেনথাউস
ইরানের দেহদাশত শহরের ঐতিহাসিক বেলাদশাপুর এলাকার নিচে প্রায় সাত হাজার বছরের প্রাগৈতিহাসিক এক গ্রাম আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। প্রত্নতাত্ত্বিক জবিহুল্লাহ মাসউদিনিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত খননে ৫ম ও ৬ষ্ঠ সহস্রাব্দ খ্রিস্টপূর্ব সময়কার বসতির স্তর পাওয়া গেছে। এটি দেহদাশতে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা, যা অঞ্চলটির নবপাথরিক যুগ থেকে ইসলামী যুগ পর্যন্ত ধারাবাহিক বসতির প্রমাণ দিয়েছে।
গবেষকেরা জানান, উপরের স্তরে ইসলামী যুগের স্থাপত্যের নিচে পাওয়া গেছে প্রাচীন মৃৎপাত্র ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন। উত্তপ্ত পাথরের টুকরো পাওয়া গেছে, যা দিয়ে সে সময়ের মানুষ দুধ বা পানি গরম করত—এটি প্রাচীন প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। শহরের উত্তরাংশে প্রাচীন কানাত পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ধ্বংসাবশেষও মিলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার ইরানের প্রাচীন নগরবসতির ইতিহাসে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনবে। ইতিমধ্যে স্থানে একটি ছোট গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যাতে গভীর স্তরের নিদর্শন সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা যায়।
ইরানের দেহদাশতের নিচে সাত হাজার বছরের প্রাচীন গ্রাম আবিষ্কার, নবপাথরিক যুগের নিদর্শন উন্মোচিত
ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন ইনস্টিটিউট অব ন্যানো সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএনএসটি) পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বা পিইটি বোতল থেকে উৎপন্ন ন্যানো-প্লাস্টিক মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। *ন্যানোস্কেল অ্যাডভান্সেস* জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় প্রশান্ত শর্মা ও সাক্ষী দাগরিয়ার নেতৃত্বে দলটি দেখিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শে ন্যানো-প্লাস্টিক অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ও প্রতিরক্ষা ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং অ্যান্টিবায়োটিক সংবেদনশীলতা বাড়ায়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এসব কণা রক্তের লোহিত কণিকার ঝিল্লি ক্ষতিগ্রস্ত করে, অক্সিডেটিভ চাপ, ডিএনএ ক্ষতি, প্রদাহ ও কোষমৃত্যু ঘটায়। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে ন্যানো-প্লাস্টিকের সংস্পর্শে থাকা মানবস্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য, রক্তের স্থিতিশীলতা ও কোষীয় কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ভারতীয় গবেষণায় পিইটি বোতলের ন্যানো-প্লাস্টিক মানবকোষ ও অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ায় ক্ষতি ঘটায়
বিশ্বের সবচেয়ে বিরল রক্তের ধরন ‘আরএইচ নাল’ বা ‘গোল্ডেন ব্লাড’ নিয়ে গবেষণায় নতুন অগ্রগতি অর্জন করেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রতি ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র একজনের শরীরে এই রক্ত থাকে, যেখানে ৫০টি আরএইচ অ্যান্টিজেনের কোনোটিই নেই। ফলে এটি প্রায় সব ধরনের আরএইচ রক্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও, দাতার অভাবে রক্ত সঞ্চালন প্রায় অসম্ভব। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডার লাভাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বার্সেলোনার গবেষকরা সিআরআইএসপিআর-ক্যাস৯ প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্টেমসেল থেকে অ্যান্টিজেনবিহীন বা সার্বজনীন লোহিত রক্তকণিকা তৈরির চেষ্টা করছেন। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থায় বিপ্লব আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ও ক্লিনিক্যাল ব্যবহারে এখনো সময় লাগবে। প্রফেসর টোয়ে নেতৃত্বাধীন দল ‘রিস্টোর’ প্রকল্পের অধীনে জিন এডিটিং ছাড়া ল্যাবে তৈরি রক্তের মানবদেহে পরীক্ষাও শুরু করেছে, যা এই ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম উদ্যোগ।
বিজ্ঞানীরা সিআরআইএসপিআর প্রযুক্তিতে ল্যাবে তৈরি করছেন বিরল ‘গোল্ডেন ব্লাড’ রক্তের বিকল্প
চট্টগ্রামের সাউদান মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে আগামী ৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘এসএমসিএইচ সামিট ২০২৫’ নামে প্রথম দেশি ও আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন। দিনব্যাপী এই আয়োজনে দেশি-বিদেশি পাঁচ শতাধিক চিকিৎসক ও গবেষক অংশ নেবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ‘স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও মানবতার সেতুবন্ধন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে ৬৩টি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে, যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের চারজন আন্তর্জাতিক গবেষকও অংশ নেবেন। স্বাস্থ্য শিক্ষা, প্রযুক্তি, গণস্বাস্থ্য, বার্ধক্যজনিত রোগ, অনুজীববিদ্যা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।
চট্টগ্রামে ৪ ডিসেম্বর প্রথম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে অংশ নেবেন ৫ শতাধিক গবেষক
বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা এখন ল্যাবরেটরিতে বিশ্বের সবচেয়ে বিরল রক্তের ধরন ‘আরএইচ নাল’ বা ‘গোল্ডেন ব্লাড’-এর বিকল্প তৈরি করার চেষ্টা করছেন। প্রতি ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র একজনের শরীরে পাওয়া এই রক্তে ৫০টি আরএইচ অ্যান্টিজেনের কোনোটি নেই, ফলে এটি প্রায় সব আরএইচ গ্রুপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫০ জনের শরীরে এই রক্ত শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনের গবেষকেরা সিআরআইএসপিআর-সিএএস৯ জিন এডিটিং ও স্টেম সেল প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাস্টমাইজড লোহিত রক্তকণিকা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে ব্যাপক উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যে ‘রিস্টোর’ নামে প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ল্যাবে তৈরি রক্ত মানবদেহে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ল্যাব-উৎপাদিত বিরল রক্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানে বড় অগ্রগতি আনতে পারে এবং জীবন রক্ষায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
বিরল রক্তের ঘাটতি মেটাতে ল্যাবে সার্বজনীন ‘গোল্ডেন ব্লাড’ তৈরির চেষ্টা চলছে
নেদারল্যান্ডসের দক্ষিণ হল্যান্ড প্রদেশের স্কিপলাউডেন গ্রামে বিশ্বের প্রথম ল্যাব-উৎপাদিত বা কালচারড গোশতের খামার স্থাপন করা হচ্ছে। পনির প্রস্তুতকারক কার্ন ভ্যান লিউয়েনের নেতৃত্বে এই সপ্তাহেই একটি দুগ্ধ খামারে প্রথম উৎপাদন মডিউল স্থাপন করা হবে। গবেষক উইলেম ভান এলেন প্রথম কালচারড মিট ধারণাটি দেন, আর ২০১৩ সালে মাসট্রিখট বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্ক পোস্ট গুগলের অর্থায়নে গরুর পেশির স্টেম সেল থেকে বিশ্বের প্রথম ল্যাব-উৎপাদিত হ্যামবার্গার তৈরি করেন। নিবিড় পশুপালনে প্রাণীর কষ্ট কমানো ও পরিবেশগত প্রভাব হ্রাস করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। স্কিপলাউডেনের এই পাইলট প্রকল্পে সরাসরি খামারেই ক্ষুদ্র পরিসরে কালচারড গোশত উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের বসন্তে সেখানে একটি অভিজ্ঞতা কেন্দ্র চালু হবে, যেখানে দর্শনার্থীরা পুরো প্রক্রিয়া দেখতে পারবেন। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বায়ো-রিঅ্যাক্টরে প্রাণীর কোষকে পুষ্টি উপাদানসহ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বৃদ্ধি করা হয়, যা প্রাণীর শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের অনুরূপ।
নেদারল্যান্ডসে প্রাণীর কোষ থেকে তৈরি বিশ্বের প্রথম ল্যাব-উৎপাদিত গোশতের খামার চালু হচ্ছে
তিয়ানগং মহাকাশকেন্দ্রে আটকে থাকা তিন নভোচারীকে উদ্ধারের জন্য চীন মানবহীন শেনঝো-২২ মহাকাশযান পাঠিয়েছে। শেনঝো–২০ রিটার্ন ক্যাপসুলটি কক্ষপথের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের পৃথিবীতে ফেরার পরিকল্পনা বিলম্বিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ নভেম্বর জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে লং মার্চ–২এফ রকেটের মাধ্যমে শেনঝো–২২ উৎক্ষেপণ করা হয় এবং এটি সফলভাবে তিয়ানগংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়। চায়না ম্যানড স্পেস এজেন্সি জানিয়েছে, নভোচারী ঝাং লু, উ ফেই ও ঝাং হংঝাং বর্তমানে কক্ষপথে অবস্থান করছেন এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই উদ্ধার অভিযান চীনের মহাকাশ কর্মসূচিতে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে শেনঝো–২১ মিশনে চীনা নভোচারীরা ২০৪ দিন কক্ষপথে অবস্থান করে দেশের দীর্ঘতম মহাকাশমিশনের রেকর্ড গড়েছিলেন।
শেনঝো–২০ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আটকে পড়া নভোচারীদের উদ্ধারে শেনঝো–২২ পাঠালো চীন
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, চলতি সপ্তাহে সূর্য থেকে নির্গত একাধিক করোনাল ম্যাস ইজেকশন (সিএমই) পৃথিবীতে আঘাত হানছে, যা তীব্র ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) একে জি-৪ স্তরের ঝড় হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা অত্যন্ত শক্তিশালী। ইতোমধ্যে আফ্রিকা ও ইউরোপে সাময়িক রেডিও ব্ল্যাকআউট দেখা গেছে এবং স্যাটেলাইট ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। তবে এই ঝড়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের আকাশে মনোমুগ্ধকর অরোরা বা উত্তরী আলো দেখা যাচ্ছে। সূর্যের ১১ বছরের চৌম্বকীয় চক্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এমন আলোর প্রদর্শন বেড়েছে। যদিও সৌরঝড় সরাসরি মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়, এটি জিপিএস, রেডিও যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ গ্রিডে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে।
তীব্র সৌরঝড়ে অরোরা দৃশ্যমান, যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটছে
মার্কিন বিজ্ঞানী জন ক্লার্ক, মিশেল দেভোরেট ও জন মার্টিনিস পেয়েছেন ২০২৫ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস মঙ্গলবার ঘোষণা করে যে, ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম টানেলিং এবং ইলেকট্রিক সার্কিটে এনার্জি কোয়ান্টাইজেশনের অভাবনীয় গবেষণার জন্য এই তিন বিজ্ঞানীকে সম্মানিত করা হচ্ছে। তাদের আবিষ্কার কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার ক্ষুদ্র জগতের আচরণকে বৃহৎ পরিসরের বাস্তব জগতে প্রয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তারা প্রমাণ করেছেন, অতিপরিবাহী বৈদ্যুতিক সার্কিট এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় ‘টানেল’ করে যেতে পারে এবং নির্দিষ্ট মাত্রায় শক্তি শোষণ ও বিকিরণ করে। নোবেল পুরস্কারের ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার তারা সমানভাবে ভাগ করে নেবেন।
কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা তিন মার্কিন নোবেলজয়ী—জন ক্লার্ক, মিশেল দেভোরেট ও জন মার্টিনিস।
উইসকনসিনের টিম ফ্রিডে গত দুই দশকে ২০০ বারের বেশি সাপের কামড় ও ৬৫০ বারের বেশি সাপের বিষ ইনজেকশন নিয়ে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলেন। তাঁর অনন্য অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বিজ্ঞানীরা সম্ভাব্য ‘সার্বজনীন অ্যান্টিভেনম’ তৈরিতে সফলতা পান। সেল সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় এটি ১৯টি সাপের মধ্যে ১৩টির বিষের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত হয়। এখন অস্ট্রেলিয়ায় পশু পরীক্ষার পরিকল্পনা চলছে। বর্তমানে সেন্টিভেক্স কোম্পানিতে কর্মরত ফ্রিডে বলেন, জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পেরে তিনি গর্বিত।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৮০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।