মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে গত মঙ্গলবার ইরান যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ হয়েছে বলে সিএনএনকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ট্রাম্প এর আগে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ নামে পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেন। এরপর হোয়াইট হাউস ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক রূপরেখা তৈরিতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে।
এই বিলম্বে নেতানিয়াহু অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ট্রাম্পকে জানান, হামলা স্থগিত করা একটি ভুল সিদ্ধান্ত। ইসরাইলি সূত্র জানায়, প্রায় এক ঘণ্টার ফোনালাপে নেতানিয়াহু সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় শুরু করার জন্য চাপ দেন। তবে ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান ধরে রেখে বলেন, ইরান ইস্যুটি এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফরে যাচ্ছেন, যদিও পারমাণবিক কর্মসূচি ও অবরুদ্ধ তহবিল নিয়ে মূল মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মতবিরোধ, উপসাগরীয় ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতা জোরদার
ইসরায়েলের ১৯ বছরের গাজা অবরোধ ভাঙার প্রচেষ্টায় অংশ নেওয়া চার কর্মীর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ অভিযোগ করেছে যে তারা হামাসকে সহায়তা করছে, যদিও কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন পপুলার কনফারেন্স ফর প্যালেস্টিনিয়ানস অ্যাব্রড (পিসিপিএ) এবং সামিদুনের সদস্য মোহাম্মদ খতিব, জলদিয়া আবুবাকরা, সাইফ আবু কেশেক এবং হিশাম আবু মাহফুজ। এই পদক্ষেপে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ হতে পারে এবং মার্কিন নাগরিকদের তাদের সঙ্গে ব্যবসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা তাদের বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ সীমিত করতে পারে।
অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নিষেধাজ্ঞাকে গাজার প্রতি মানবিক সংহতিকে অপরাধ হিসেবে দেখানোর প্রচেষ্টা বলে নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠকরা বলেছেন, ফ্লোটিলাগুলো ছিল শান্তিপূর্ণ মানবিক সহায়তা মিশন, যা ইসরায়েলের ফিলিস্তিনিদের ওপর আরোপিত সম্মিলিত শাস্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পরিচালিত হয়েছিল। তারা অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় সর্বশেষ ফ্লোটিলাটি আটক করে ৪৬টিরও বেশি দেশের শত শত কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। তুরস্ক, স্পেন ও ব্রাজিলসহ কয়েকটি দেশ এই আটক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে।
২০০৭ সাল থেকে চলমান অবরোধের কারণে গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কর্মীরা বিকল্প কৌশলে তাদের মানবিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
গাজা ফ্লোটিলা কর্মীদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, হামাস সহায়তার অভিযোগ
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এক সপ্তাহ আগে এক ফেডারেল বিচারক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অস্থায়ী স্থগিতাদেশ দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, গাজায় ইসরাইলের ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধ’ নিয়ে সমালোচনা করায় আলবানিজকে শাস্তি দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। ফ্রান্সেসকা আলবানিজ দীর্ঘদিন ধরে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করে আসছেন এবং তার বক্তব্য ও প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আদালতের স্থগিতাদেশের পর জাতিসংঘ দূত আলবানিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র
একটি সাম্প্রতিক কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস) প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪২টি সামরিক বিমান হারিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু, একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু, সাতটি কে-সি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান, একটি ই-৩ সেন্ট্রি, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ হেলিকপ্টার, ২৪টি এমকিউ-৯ রীপার ড্রোন এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগন এখনো পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রকাশ করেনি। সিআরএস জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং সেন্টকমের বিবৃতি বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করেছে। পেন্টাগনের অর্থ দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা জুলস হার্স্ট থার্ড জানিয়েছেন, ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের খরচ প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার বড় অংশ সরঞ্জাম মেরামত ও প্রতিস্থাপনের ব্যয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রতিবেদন শেয়ার করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের ফলে ইরান গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা অর্জন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও শক্ত প্রতিরোধ দেখাবে।
ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২ বিমান হারানোর দাবি, পেন্টাগনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ হয়নি
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হজ মৌসুমে ইরানে হামলা চালালে মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন সতর্কবার্তার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেন। উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছিলেন যে, হজ চলাকালে যুদ্ধ শুরু হলে সৌদি আরবে অবস্থানরত লাখো হজযাত্রী আটকা পড়তে পারেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং ট্রাম্পকে সম্ভাব্য সুনামগত ক্ষতির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের হজ ২৪ মে শুরু হয়ে ছয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রায় ১০ লাখ বিদেশি হাজি অংশ নেন। এই সময়ে হামলা হলে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারত। ট্রাম্প পরে জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে তিনি হামলা স্থগিত করেছেন।
তিন কর্মকর্তা ধারণা প্রকাশ করেছেন যে, হজ শেষে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির হামলার পর ইরান মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানে এবং উপসাগরীয় উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
হজ মৌসুমে মুসলিম প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় ইরানে হামলা স্থগিত করেন ট্রাম্প
দুই মার্কিন প্রেসিডেন্টের অধীনে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট এম গেটস দীর্ঘদিন ধরে ব্যয়বহুল ও জটিল অস্ত্র প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি কম খরচে নতুন প্রজন্মের অস্ত্র তৈরির আহ্বান জানিয়েছিলেন। দুই দশক পরও পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি। ইরান যুদ্ধে দেখা গেছে, একটি প্যাট্রিয়ট মিসাইল তৈরি করতে ৩৬ মাস সময় ও ৪০ লাখ ডলার খরচ হয়, অথচ যুক্তরাষ্ট্র ১,২০০টিরও বেশি মিসাইল ব্যবহার করেছে, যার কিছু ইরানের স্বল্পমূল্যের শাহেদ ড্রোন প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। এতে গেটসের পুরোনো সমালোচনাই বাস্তব প্রমাণিত হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে।
বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। তিনি এক লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের বাজেট দাবি করেছেন এবং ‘৮৫ শতাংশ সমাধান’ করা অস্ত্র তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অর্থ বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। রোনাল্ড রিগান ইনস্টিটিউটের র্যাচেল হফের মতে, পেন্টাগনের সংস্কৃতি ও চুক্তি প্রক্রিয়ায় বাস্তব পরিবর্তন আনতে হবে।
আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের ম্যাকেনজি ইগলিন মনে করেন, পেন্টাগনের ধীর ক্রয়প্রক্রিয়া ও সীমিত উৎপাদনই বড় বাধা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উৎপাদন তিন থেকে চারগুণ বাড়াতে এবং নতুন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানি যুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ আমেরিকার প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও ক্রয়ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা প্রকাশ করেছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রথম কর্মকর্তা হিসেবে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বিন-গভিরের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। বিন-গভির একটি ভিডিও প্রকাশ করেন যেখানে গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী ফ্লোটিলার বিদেশি কর্মীদের অপমান ও নির্যাতন করতে দেখা যায়। এর পর ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও কানাডা ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে। হাকাবি বিন-গভিরের আচরণকে জাতির মর্যাদার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা বলে মন্তব্য করেন, যদিও তার বক্তব্যের একদিন আগেই মার্কিন ট্রেজারি ফ্লোটিলা আয়োজকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
বিশ্লেষকরা বলেন, এই ঘটনাটি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত মানদণ্ডকে স্পষ্ট করেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া চারজন গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সংগঠক গাজা অবরোধ ভাঙা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন। মার্কিন ট্রেজারি তাদের হামাস-সমর্থিত বলে দাবি করলেও আয়োজকরা অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি গণহত্যাকে সহায়তা করার সমান। ডন ও কুইন্সি ইনস্টিটিউটের মতো সংস্থাগুলো মন্তব্য করেছে, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ ইসরায়েলকে আরও দায়মুক্তি দিচ্ছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ইসরায়েল সমালোচনায় অনীহা প্রকাশ করছে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে।
বিন-গভিরের সমালোচনায় মার্কিন দূত, গাজা ফ্লোটিলা আয়োজকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা
হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন ফ্রান্সে অনুষ্ঠেয় গ্রুপ অব সেভেন (জি৭) সম্মেলনে অংশ নেবেন। মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে আগে তার অংশগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ ছিল। এই ঘোষণার মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প এই বৈঠককে প্রচলিত কূটনৈতিক সমাবেশের তুলনায় বাণিজ্যকেন্দ্রিক করতে আগ্রহী। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পকে উৎসাহ দিতে ভার্সাই প্রাসাদে সম্মেলন-পরবর্তী নৈশভোজ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এছাড়া, ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে হোয়াইট হাউসে পরিকল্পিত ইউএফসি লড়াইয়ের সঙ্গে সময়ের সংঘাত এড়াতে সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়।
এই অংশগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্র ও জি৭ অংশীদারদের মধ্যে নতুন করে সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও আলোচনার মূল ফোকাস বাণিজ্য ইস্যুতেই সীমিত থাকতে পারে।
ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের অংশগ্রহণ নিশ্চিত, আগের অনিশ্চয়তা দূর
ইরানযুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে এক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটে, যখন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য সেথ মল্টন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে প্রশ্ন করেন, এই যুদ্ধে জয়ী হওয়ার প্রকৃত পরিকল্পনা কী। ইরাকযুদ্ধের সময় মেরিন কোরে দায়িত্ব পালন করা মল্টন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন পরাজিত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো পরমাণু চুক্তি নেই এবং হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত নয়। তিনি জানতে চান, এই ভুলের কারণে আরও কতজন আমেরিকানকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে হবে।
শান্ত স্বভাবের জন্য পরিচিত কুপার এই প্রশ্নে ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, মল্টনের বক্তব্য সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানযুদ্ধে তাদের সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং যুদ্ধবিরতি চললেও যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি ২৮ ফেব্রুয়ারির ইরানের স্কুলে মার্কিন হামলায় প্রায় ১৭০ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এই ঘটনার মাধ্যমে ইরানযুদ্ধের কৌশল ও যুক্তি নিয়ে মার্কিন নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ইরানযুদ্ধের কৌশল নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে জেনারেল ও আইনপ্রণেতার সংঘাত
মার্কিন সাংবাদিক অ্যালেক্স মারকোয়ার্ড সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে, যা দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। আলজাজিরাকে তিনি জানান, পারস্য উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে ট্রাম্প ইরানে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছিলেন, তবে কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা এখন খুবই কম।
মারকোয়ার্ড বলেন, ট্রাম্প ইরানকে দুই থেকে তিন দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন, কিন্তু এই সময়সীমার ওপর আস্থা রাখা উচিত নয়। ওয়াশিংটনের সূত্রগুলো মনে করছে, ট্রাম্পের ধৈর্য শেষের পথে। তিনি আরও জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পাকিস্তান, উপসাগরীয় মিত্র ও তুরস্কের মাধ্যমে দূর থেকে চলা আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তার মতে, অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক হামলার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে, যা এবার সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি বিদ্যুৎ গ্রিড ও সেতুর মতো বেসামরিক স্থাপনাকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের ধৈর্য শেষের পথে, নতুন হামলার আশঙ্কা
ইরানের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া সামরিক অভিযান চালাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত এই প্রস্তাবের পক্ষে সিনেটের ভোট দেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী ক্ষমতার ওপর বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি প্রথমবারের মতো সিনেট এমন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিল।
তবে প্রস্তাবটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। কার্যকর হতে হলে এটি আরও কয়েকটি আইনগত ও সাংবিধানিক ধাপ অতিক্রম করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে এটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবায়নের জন্য প্রক্রিয়াটি এখনো চলমান।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি জড়িত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই কংগ্রেস নিজেদের সাংবিধানিক ভূমিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করতে সিনেটের প্রস্তাব অগ্রসর
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্প দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রের চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল তৈরি করতে প্রায় ৩৬ মাস সময় লাগে এবং প্রতিটির খরচ প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার, অথচ ইরান মাসে শত শত স্বল্পমূল্যের ড্রোন তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ১,২০০-এর বেশি ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, যা সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতি সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব রবার্ট এম. গেটসের পুরনো সমালোচনাকে নতুন করে প্রাসঙ্গিক করেছে। বর্তমান প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট ও দ্রুত উৎপাদনের পরিকল্পনা নিচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল বাজেট বাড়ালেই সমাধান হবে না; পেন্টাগনের ক্রয় ও উৎপাদন ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সংস্কার না হলে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে তার “অপ্রতিরোধ্য সামরিক সক্ষমতা” ধরে রাখতে ব্যর্থ হতে পারে।
ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা প্রকাশ করেছে
ইরানবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বিশেষ দূত রব ম্যালি সতর্ক করেছেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে ‘ভিয়েতনাম যুদ্ধের ফাঁদে’ পড়ছেন। আল জাজিরার উপস্থাপক স্টিভ ক্লেমনসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্প ইরানি নেতাদের হত্যা বা ইরানের যুদ্ধজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংসের সংখ্যা দিয়ে নিজের সাফল্য পরিমাপ করছেন, যা একটি ‘ভুল পরিমাপক’।
ম্যালির মতে, এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায় হলো এমন একটি সমঝোতা বা চুক্তি, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ের মূল স্বার্থকে সম্মান জানাবে। তিনি আরও বলেন, এমন চুক্তির সম্ভাবনা নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিকরা বেশি কার্যকর হতে পারেন।
তার মতে, পুরো বিষয়টি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মানসিকতার ওপর, যা নির্ধারণ করবে সংঘাত বাড়বে নাকি আলোচনার পথে যাবে।
সাবেক মার্কিন দূতের মতে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প ভিয়েতনাম যুদ্ধের ভুল পুনরাবৃত্তি করছেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ওপর মঙ্গলবার (২০ মে) নির্ধারিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্র দেশের নেতাদের অনুরোধে এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে জানান, আলোচনায় গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী যেকোনো সময় বড় ধরনের অভিযান চালাতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘খুবই গ্রহণযোগ্য’ একটি চুক্তি হতে পারে, যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত রাখবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, যদি বোমাবর্ষণ ছাড়াই চুক্তি করা যায়, তবে তিনি খুশি হবেন। তবে আলোচনার ফলাফল কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, ইরানকে ২০ বছরের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আগের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা নরম হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।
আলোচনার কারণে ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখলেন ট্রাম্প
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির যৌথ পরিচালিত এক নতুন জরিপে দেখা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন জনগণের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১ হাজার ৫০৭ জন নিবন্ধিত ভোটারের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা যায়, মাত্র ৩০ শতাংশ ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকে সমর্থন করেছেন, যেখানে প্রায় ৬৪ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। একইভাবে, ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিপক্ষে মত দিয়েছেন, আর ৩৭ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন।
২০২৩ সালের নভেম্বরে কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির এক জরিপে দেখা গিয়েছিল, গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৫১ শতাংশের বেশি মার্কিন ভোটার ইসরাইলকে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা পাঠানোর পক্ষে ছিলেন। নতুন জরিপে সেই সমর্থনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এই ফলাফল মার্কিন ভোটারদের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনকে ইঙ্গিত করে, যা বিদেশে সামরিক সহায়তা প্রদানে অনীহা বাড়ার প্রতিফলন।
ইরান যুদ্ধ ও ইসরাইলকে সামরিক সহায়তার বিপক্ষে মার্কিন সমর্থন কমছে
গত চার মাস ধরে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের প্রতিনিধিদের মধ্যে গোপন বৈঠক চলছে, যার লক্ষ্য গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো। নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তি সংশোধন করে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেনা রাখার অনুমতি চাইছে। পাশাপাশি, বড় বিনিয়োগ চুক্তিতে ভেটো ক্ষমতা ও তেল, ইউরেনিয়াম ও রেয়ার আর্থ খনিজ যৌথভাবে উত্তোলনের প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের নেতারা আশঙ্কা করছেন, এসব দাবির ফলে তাদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হবে। তারা মনে করছেন, ইরান সংঘাত কমে এলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ডের দিকে মনোযোগ দিতে পারেন। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয় পক্ষই যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘চিরস্থায়ী ধারা’ ও ভেটো ক্ষমতার তীব্র বিরোধিতা করেছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলে বরফ গলে নতুন সামরিক রুট উন্মুক্ত হচ্ছে, তাই আলাস্কা, কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডে ঘাঁটি সম্প্রসারণ প্রয়োজন। তবে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেছেন, পরিবেশগত নিয়ম কঠোর থাকবে এবং ব্যবসা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রিনল্যান্ডেরই হওয়া উচিত।
আর্কটিকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-গ্রিনল্যান্ড-ডেনমার্কের গোপন আলোচনা
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে থাকা সব সামরিক বিকল্পই ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন আলজেরিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত হেনরি এনশার। আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প এখন এক জটিল অবস্থানে আছেন।
এনশার বলেন, ট্রাম্প যদি ইরানের ওপর ছোটখাটো হামলা চালান, তাহলে তিনি সমালোচনার মুখে পড়বেন এবং এতে ইরানি শাসনের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। আর বড় ধরনের হামলা চালালে মার্কিন সেনাদের হতাহতের ঝুঁকি বেড়ে যাবে এবং সেই হামলা সফল নাও হতে পারে। তার মতে, ট্রাম্পের সামরিক বিকল্পগুলো অত্যন্ত প্রতিকূল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রাম্প হয়তো আশা করছেন উপসাগরীয় দেশগুলো তাকে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা না চালানোর অনুরোধ করবে, কারণ তিনিও আসলে তা এড়াতে চান।
সাবেক মার্কিন কূটনীতিকের মতে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সব সামরিক বিকল্পই ভয়াবহ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর বৃহত্তম মসজিদ ইসলামিক সেন্টারে সোমবার বন্দুক হামলায় দুই কিশোরসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে দুই কিশোর বন্দুকধারী গুলি চালায় এবং পরে তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উদ্দেশ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল জানান, হামলার দুই ঘণ্টা আগে এক সন্দেহভাজনের মা পুলিশকে জানান তার ছেলে আত্মহত্যার প্রবণতায় ভুগছে এবং অস্ত্র নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। পুলিশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছিল, ঠিক তখনই মসজিদে গুলির খবর আসে। ইমাম তাহা হাসান বলেন, এমন ট্র্যাজেডি আগে কখনো ঘটেনি। নিহত নিরাপত্তাকর্মীর সাহসী পদক্ষেপে আরও বড় ক্ষতি এড়ানো গেছে বলে কর্মকর্তারা জানান।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানি, সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মসজিদ ও উপাসনালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সান ডিয়েগো মসজিদে গুলিতে ৫ নিহত, ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে তদন্ত
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ বা যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর অষ্টমবারের মতো জোরপূর্বক ভোটের ঘোষণা দিয়েছেন। সিনেটের মাইনরিটি লিডার চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন। তিনি রিপাবলিকান সিনেটরদের প্রতি প্রস্তাবটি পাস করার, যুদ্ধ শেষ করার এবং সৈন্যদের ক্ষতি থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানান।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী কেবল কংগ্রেসই যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে, প্রেসিডেন্ট নন। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং প্রেসিডেন্টের একক সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করতে চায়।
আসন্ন ভোটের ফলাফল নির্ধারণ করবে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে দ্বিদলীয় সমর্থন গড়ে ওঠে কি না।
ইরান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে সিনেটে অষ্টম ভোটের উদ্যোগ
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের নতুন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের ফলে এক লাখেরও বেশি শিশু তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোট প্রায় দুই লাখ পাঁচ হাজার শিশু কোনো না কোনোভাবে এই বিচ্ছেদের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় এক লাখ পঁয়তাল্লিশ হাজার শিশু যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া নাগরিক। গবেষকদের মতে, সরকারি পরিসংখ্যান প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় অনেক কম, কারণ আটক ব্যক্তিদের সন্তানদের তথ্য সবসময় নথিভুক্ত করা হয় না বা অনেকে ভয়ে তথ্য গোপন করেন।
বিশ্লেষকরা জানান, বর্তমান পরিস্থিতি ২০১৮ সালের “জিরো টলারেন্স” নীতির চেয়েও গুরুতর, যখন প্রায় ৫,৫০০ শিশুকে সীমান্তে আলাদা করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে টেক্সাসের এক মায়ের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়েছে, যিনি গত বছর থেকে তার দুই বছরের মার্কিন নাগরিক ছেলের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, আটক অভিভাবকদের সন্তান নিয়ে দেশত্যাগ বা কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার বিকল্প থাকে, তবে গবেষকদের মতে, অনেক শিশু অনিশ্চিত পরিবেশে বড় হচ্ছে।
শিশু কল্যাণ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অধিকাংশ শিশু আত্মীয় বা পরিচিতদের কাছে থাকলেও তাদের আইনগত বা আর্থিক সক্ষমতা সীমিত। সহায়তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, হেফাজত পরিকল্পনা সংক্রান্ত সহায়তার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে এবং অভিযান জোরদার হলে শিশুদের মানসিক ও সামাজিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানে এক লাখের বেশি শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৬৪ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।