নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ থাকতে শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, বরং কীভাবে ও কখন খাচ্ছেন সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা যায়, ধীরে ধীরে ও ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া এবং নিয়মিত সময়ে খাবার গ্রহণ হজম, বিপাকক্রিয়া ও ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ধীরে খাওয়ার ফলে শরীর সহজে খাবার প্রক্রিয়াজাত করতে পারে, দ্রুত তৃপ্তি অনুভব হয় এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
গবেষকরা দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণা—ওজন নিয়ন্ত্রণ কেবল ক্যালরি গ্রহণ ও ব্যয়ের ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে—এটি পুরোপুরি সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, শরীর কীভাবে খাবার গ্রহণ ও প্রক্রিয়াজাত করে, সেটিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে পুষ্টি উপাদান কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে সাহায্য করে এবং শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, দীর্ঘমেয়াদে সুস্বাস্থ্য ধরে রাখতে শুধু পুষ্টিকর খাবার নয়, বরং নিয়মিত সময়ে খাওয়া, ধীরে চিবিয়ে খাওয়া, পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সমন্বয় প্রয়োজন।
গবেষণায় দেখা গেছে, খাওয়ার সময় ও গতি হজম ও ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ
মুসলিম সভ্যতার স্বর্ণযুগের শ্রেষ্ঠ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আল-জাজারি প্রায় ৮০০ বছর আগে এমন সব যন্ত্র উদ্ভাবন করেছিলেন, যা আজও প্রাসঙ্গিক। পানি ও বায়ুশক্তি দ্বারা চালিত তার অটোমেটিক মেকানিক্যাল ডিভাইসগুলো রোবোটিকস ও সাইবারনেটিকসের প্রাথমিক ধারণা উপস্থাপন করে। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কিতাব ফি মারিফাতিল হিয়ালিল হান্দাসিয়া’-তে প্রায় ১০০টি যন্ত্রের বিস্তারিত বর্ণনা, নকশা ও নির্মাণপদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা প্রকৌশল শিক্ষার এক বাস্তব গাইডবুক হিসেবে বিবেচিত।
তার উদ্ভাবনের মধ্যে ক্র্যাঙ্কশ্যাফট, সেগমেন্টাল গিয়ার, দ্বি-সিলিন্ডার পানি উত্তোলনযন্ত্র, মানবাকৃতির রোবট, স্বয়ংক্রিয় নৌকা ও জলঘড়ি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব যন্ত্রে ভারসাম্য, ফিডব্যাক ও হাইড্রো-মেকানিক্যাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যবহার আধুনিক প্রযুক্তির ধারণার সঙ্গে মিলে যায়।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আল-জাজারির উদ্ভাবন আধুনিক রোবোটিকস, হাইড্রোলিকস ও নিয়ন্ত্রণ প্রকৌশলের ভিত্তি স্থাপন করেছে। তার সৃষ্ট যন্ত্রগুলো আজকের সাইবারনেটিকস ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মূল ধারণার পূর্বসূরি হিসেবে বিবেচিত।
আল-জাজারির দ্বাদশ শতকের উদ্ভাবন রোবোটিকস ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করে
জাহাজ ট্র্যাকিং সাইট মেরিনট্র্যাফিক জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো একটি প্রমোদতরী হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। মাল্টার পতাকাবাহী ‘সেলেস্টিয়াল ডিসকভারি’ নামের জাহাজটি যাত্রীবিহীন অবস্থায় শুক্রবার প্রণালিটি পার হয়েছে। এটি মার্চের শুরুতে দুবাই পৌঁছায় এবং প্রায় ৪৭ দিন সেখানে নোঙর করে ছিল।
মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বর্তমানে ওমানের মাস্কাটের দিকে যাচ্ছে এবং আজ দিনের শেষে সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো যাত্রীবাহী জাহাজ ওই প্রণালি অতিক্রম করল, যা অঞ্চলের সামুদ্রিক চলাচলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে প্রতিবেদনে চলমান যুদ্ধের প্রকৃতি বা জাহাজটির যাত্রা পুনরায় শুরু করার কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
যুদ্ধের পর প্রথমবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করল প্রমোদতরী
একজন রেডিট ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তার ৬২ বছর বয়সী চাচার দীর্ঘদিনের অজানা অসুস্থতার কারণ উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। চাচা ২৫ বছর ধরে তীব্র মাথাব্যথা ও অন্যান্য অজানা উপসর্গে ভুগছিলেন, যদিও তিনি বহু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছিলেন। এআই কথোপকথনের মাধ্যমে উপসর্গগুলো বিশ্লেষণ করে ঘুমজনিত সমস্যার (স্লিপ অ্যাপনিয়া) সম্ভাবনা দেখায় এবং ঘুম পরীক্ষা করার পর তা নিশ্চিত হয়।
রোগ নির্ণয়ের পর সিপ্যাপ মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু হলে উপসর্গগুলো দূর হয়। এই ঘটনাটি দেখায়, কীভাবে এআই জটিল বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ক্ষেত্রে উপেক্ষিত রোগ শনাক্ত করতে সহায়ক হতে পারে। এটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় এআই-এর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা এবং মানব পর্যবেক্ষণের সীমাবদ্ধতা পূরণের সম্ভাবনাও তুলে ধরে।
এই উদাহরণটি প্রমাণ করে যে, এআই-সহায়ক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির পরিপূরক হয়ে রোগ নির্ণয়ে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
২৫ বছর পর এআই শনাক্ত করল ঘুমজনিত সমস্যা
কিংস কলেজ লন্ডনের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেছেন, বলপ্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালী খুলতে চাওয়া ‘প্রায় আত্মঘাতী’ হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে উপসাগরে ২,৫০০ মার্কিন মেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা প্রণালী পুনরায় খুলতে কোনো পার্থক্য আনবে না।
ক্রিগের মন্তব্যে হরমুজ প্রণালী ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। তাঁর মূল্যায়ন ইঙ্গিত দেয় যে বলপ্রয়োগের প্রচেষ্টা কাঙ্ক্ষিত ফল না এনে বরং গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
এই মন্তব্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং সামুদ্রিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বলপ্রয়োগের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে উদ্বেগকে সামনে আনে।
বিশেষজ্ঞের মতে বলপ্রয়োগে হরমুজ প্রণালী খোলা প্রায় আত্মঘাতী হবে
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১২৫ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।