২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধস ও পাহাড়ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যাকে ঘিরে ছড়ানো অনলাইন গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় দুই দেশ ভিন্ন পদ্ধতি নেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ১,৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ৫,৬৫০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়। উভয় দেশই বানোয়াট পোস্ট, ছবি ও ভিডিওর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলেও তথ্য প্রকাশ ও নিয়ন্ত্রণের ধরনে পার্থক্য দেখা গেছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ অনলাইনে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ১০ জনকে শাস্তি দেওয়ার কথা জানায় এবং বন্যাসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশকে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী বলে দাবি করে। তবে প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের কিছু ভিডিও সরানো এবং সরকারি মৃত্যুর হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। নেপালে শতাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টকে কনটেন্ট সরাতে অনুরোধ করা হয় এবং ভুয়া ত্রাণ তহবিল প্রচারের অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার হন।
এএফপি ফ্যাক্ট-চেকাররা একাধিক ভাষায় ছড়ানো কয়েক ডজন দাবি যাচাই করেন। বন্যার হিমবাহ ধসের ভিডিও হিসেবে প্রচারিত একটি দৃশ্য আসলে আলাস্কার কলাম্বিয়া গ্লেসিয়ারের ছিল। গুগলের এআই টুলে তৈরি বন্যার ভিডিওও ছড়ায়। বিজ্ঞানীদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বন্যার মূল কারণ হিমবাহ ও পাহাড়ধস বলা হয়েছে।
সীমান্ত বন্যার পর গুজব মোকাবিলায় চীন ও নেপালের ভিন্ন পদক্ষেপ
নেপাল অংশে ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে চীনের তিব্বত ও নেপালকে সংযুক্ত গিরং স্থলবন্দর কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সুনামির মতো নেমে আসা কাদা, পাথর ও পানির প্রবল স্রোত সীমান্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। দুই দেশে এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
রোববার প্রায় ২০ জন চীনা উদ্ধারকর্মী খননযন্ত্র, কোদাল ও ভূগর্ভ অনুসন্ধান রাডার দিয়ে ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজদের খোঁজ করেন। এলাকাটি সাতটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে; চারটিতে অনুসন্ধান শেষ এবং তিনটিতে অভিযান চলছে। গভীর কাদা, পাথরের স্তূপ, নতুন ভূমিধসের আশঙ্কা ও প্রতিকূল আবহাওয়া কাজকে কঠিন করছে। পাঁচতলা কাস্টমস ভবন ও প্রায় ২০ মিটার উঁচু সীমান্ত ফটকও ধ্বংস হয়েছে।
তিব্বত অংশে ৪৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত এবং ৫১৯ জন নিখোঁজ, যাঁদের মধ্যে ২৩ দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। গিরংয়ে প্রবেশের একমাত্র সড়ক পুনরায় চালু হওয়ায় ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কর্মকর্তারা তিব্বতের হিমবাহ ও হিমবাহ-হ্রদ পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন; বিশেষজ্ঞরা আগাম সতর্কতা ও সীমান্তজুড়ে তথ্য বিনিময় জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
হিমবাহ ধসের বন্যায় গিরং বন্দর ধ্বংস, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে
চীনে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর চীন-নেপাল সীমান্তের গিয়েরং বন্দর উদ্ধার তৎপরতার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে সীমান্ত চিহ্নিতকারী বিশাল ভবনটি কাদা ও পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যেতে দেখা গেছে। এ সময় শত শত মানুষ প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ স্থানের দিকে দৌড়ে ছুটছিলেন। ভবনটি হিমালয়ের পাঁচটি উপত্যকার মধ্যে সবচেয়ে গভীর উপত্যকায় ছিল।
২০১৫ সালের ভূমিকম্পে অন্য যোগাযোগপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর গিয়েরং বন্দর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও যাতায়াতকেন্দ্র হয়ে ওঠে। নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে যাতায়াতকারী পর্যটকদের জন্য এটি ছিল প্রধান প্রবেশপথ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এক লাখের বেশি মানুষ বন্দরটি ব্যবহার করেছেন এবং চীন-নেপাল মোট বাণিজ্যের ৩০ শতাংশের বেশি এ পথ দিয়ে পরিচালিত হয়েছে।
দুর্যোগের পর চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ অস্থিতিশীল গভীর উপত্যকায় এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর স্থাপনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গত বছরও প্রবল বৃষ্টিতে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় ১৭ জন নিহত হন। তবে হিমালয় পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে উপত্যকাগুলোই প্রাকৃতিক পথ; যাযাবর, পশুপালক, নেপালি ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গ্রামবাসী ১,৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে এ পথ ব্যবহার করছেন।
বন্যা ও কাদার স্রোতে ভেসে গেছে চীন-নেপাল সীমান্তের গিয়েরং বন্দরের ভবন
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৫২ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।