চলমান গ্যাং সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হাইতির জনগণের প্রতি সংহতি জানাতে মঙ্গলবার দেশটি সফরে যাচ্ছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তার কার্যালয় জানায়, এটি হবে ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর তার প্রথম হাইতি সফর। সফরকালে তিনি সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী, পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং দেশের মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাও পর্যালোচনা করবেন।
আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হাইতি বহু বছর ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটে ভুগছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অপহরণে দেশটি বিপর্যস্ত। জাতিসংঘের তথ্যমতে, প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং ৫০ লক্ষাধিক মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছে। ২০২৪ সালের শুরুতে সহিংসতা বেড়ে গেলে অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগে বাধ্য হন এবং অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব গঠিত হয়।
গুতেরেস নতুন আন্তর্জাতিক গ্যাং দমন বাহিনীর সহায়তা কার্যক্রমও পর্যালোচনা করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-এইমের সঙ্গে বৈঠক করবেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান দ্রুত বাহিনী মোতায়েন ও দায়মুক্তি বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সহিংসতা ও মানবিক সংকট পর্যবেক্ষণে হাইতি যাচ্ছেন জাতিসংঘ মহাসচিব
হাইতির একটি ঐতিহাসিক দুর্গে শনিবার পদদলিত হয়ে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রী এমানুয়েল মেনার্ড জানিয়েছেন। ঘটনাটি মিলো শহরে একটি পর্যটন অনুষ্ঠানের সময় ঘটে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে কতজন আহত হয়েছেন তা মন্ত্রী নির্দিষ্ট করে জানাননি।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিলস-অ্যামি গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের পর দুর্গটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থী সেখানে উপস্থিত হয়েছিল।
ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর বিপ্লবী নেতা হেনরি ক্রিস্টোফি দুর্গটি নির্মাণ করেন। এটি বর্তমানে হাইতির স্বাধীনতার প্রতীক এবং ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত।
হাইতির ঐতিহাসিক দুর্গে পদদলিত হয়ে অন্তত ৩০ জন নিহত
ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে ভয়াবহ গ্যাং হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত আর্টিবোনিত অঞ্চলের পেতিত-রিভিয়ের এলাকায় এই হামলা ঘটে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা সরকার ঘোষিত ১৬ জনের তুলনায় অনেক বেশি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোর থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জঁ-দেনি এলাকার আশপাশের গ্রামগুলোতে গ্যাং সদস্যরা বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
মানবাধিকার সংস্থা ডিফেনসুর প্লাস জানিয়েছে, এই সহিংসতায় প্রায় ছয় হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সহিংসতার কারণে এর আগেই দুই হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সংস্থাটি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ৮০ জনের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করছে। ডিফেনসুর প্লাস ও কালেক্টিভ টু সেভ দ্য আর্টিবোনিত যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, নিরাপত্তাহীনতা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে অঞ্চলটি ছেড়ে দেওয়ায় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক অডিও বার্তায় গ্যাং নেতা লাকসন এলান দাবি করেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
হাইতিতে গ্যাং হামলায় অন্তত ৭০ নিহত, সহিংসতায় বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ
গভীর রাজনৈতিক সংকট ও গ্যাং সহিংসতার মধ্যে হাইতির উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা জানান, ইউএসএস স্টকডেল, ইউএসসিজিসি স্টোন এবং ইউএসসিজিসি ডিলিজেন্স পোর্ট-অ-প্রিন্স উপসাগরে প্রবেশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় মার্কিন দূতাবাস জানায়, এই নৌবহরের উপস্থিতি হাইতির নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশে পাঠানো এই নৌবহর ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’-এর অংশ, যা ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের সহিংসতা ও অস্থিরতার পর হাইতি নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দেশটির প্রেসিডেনশিয়াল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের মেয়াদ ৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। ২০১৬ সালের পর থেকে কোনো নির্বাচন না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২০২৪ সালে গ্যাং সহিংসতার চাপে প্রধানমন্ত্রী আরিয়েল অঁরি পদত্যাগ করেন। বর্তমানে বহু এলাকা প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যারা হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো অপরাধে জড়িত বলে অভিযোগ আছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র হাইতির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র গ্যাংকে সমর্থনের অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক সংকট ও গ্যাং সহিংসতার মধ্যে হাইতির উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ২১৮ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।