মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা এবং দেশটির প্রধান আয়ের উৎস বন্ধের লক্ষ্যে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সোমবার, ২৪ আগস্ট মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে পদক্ষেপটির কথা জানায়। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট একে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বেসেন্ট বলেন, তেল খাতসহ ইরানের সব আয়ের উৎস বন্ধ করা এবং অন্য দেশ ও কোম্পানিকে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা থেকে বিরত রাখাই এই অভিযানের লক্ষ্য। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর টিকে থাকার প্রতিটি অর্থনৈতিক জীবনরেখা বিচ্ছিন্ন করে তেহরানকে একা করতে চায়।
ইরানের সঙ্গে তেল কেনাবেচা ও ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশ এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন বেসেন্ট। তিনি বলেন, লেনদেন সহজতর করা বা ইরানি তেলকে অর্থে রূপান্তরের কাঠামোয় অংশ নেওয়া সবাইকে লক্ষ্য করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও ব্যাপক কমেছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইরানের তেল আয় ও বৈশ্বিক বাণিজ্য সংযোগ লক্ষ্য করে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যবিরোধ জটিল হওয়ার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে কানাডা পাল্টা চাপ তৈরির কয়েকটি পথ বিবেচনা করছে। কার্নি ডলার-ফর-ডলার ভিত্তিতে পাল্টা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছেন; সম্ভাব্য তালিকায় ইস্পাত, দুগ্ধপণ্য, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, কৃষিযন্ত্র, ইলেকট্রনিকস, পাল্প ও কাগজ রয়েছে, তবে এটি চূড়ান্ত হয়নি। কানাডা তার উৎপাদিত পণ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করে, কিন্তু ২৬টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের পণ্যের প্রধান ক্রেতাও কানাডা।
কার্নি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের বড় অংশ কানাডা সরবরাহ করে এবং দেশটির অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ আসে কানাডা থেকে। জ্বালানি এখনো পাল্টা ব্যবস্থার তালিকায় নেই, তবে বিকল্পটি বাতিল হয়নি। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড জ্বালানি সারচার্জের সম্ভাবনার কথা বলেছেন এবং পটাশ ও লিথিয়াম, নিকেল, গ্রাফাইটের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজে কানাডার সরবরাহক্ষমতার কথা তুলে ধরেছেন।
আগের মার্কিন শুল্কের জবাবে কানাডার অধিকাংশ প্রদেশ মদের দোকান থেকে মার্কিন অ্যালকোহল সরিয়ে নেয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় মার্কিন ওয়াইন রপ্তানি বছরে ৭৮ শতাংশ কমেছে। কার্নি বলেছেন, আগামী ১ জানুয়ারির পর কানাডীয় গাড়ি ও যন্ত্রাংশে ৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি মার্কিন শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
বাণিজ্যবিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর শুল্ক, জ্বালানি ও খনিজ চাপের বিকল্প ভাবছে কানাডা
বিশ্বের সমুদ্রগুলোর সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা গত শনিবার রেকর্ড সর্বোচ্চ ২১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এটি সমুদ্রের সর্বোচ্চ রেকর্ড করা তাপমাত্রা। আগস্টে এ রেকর্ড বিশেষ উদ্বেগের, কারণ সাধারণত বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা মার্চ ও এপ্রিলে সর্বোচ্চ থাকে।
এর আগে সর্বোচ্চ দৈনিক গড় তাপমাত্রার রেকর্ড ছিল ২১ দশমিক ০৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০২৪ সালের মার্চে রেকর্ড করা হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্র উষ্ণ হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরে বর্তমানে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি উষ্ণতা বাড়িয়েছে, তবে এ রেকর্ডের জন্য শুধু এল নিনোকে দায়ী করা যাবে না।
সমুদ্র পৃথিবীর অতিরিক্ত তাপের ৯০ শতাংশের বেশি শোষণ করে; তাই উষ্ণতা বৃদ্ধি জলবায়ু ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, ঝড় ও সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ বাড়াতে পারে এবং প্রবাল, সামুদ্রিক ঘাস ও মাছকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা রেকর্ড ২১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছে
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দ্রুত স্পষ্ট হচ্ছে এবং যুক্তরাজ্যে রেকর্ড তাপমাত্রা, খরা, ফসল নষ্ট হওয়া ও দাবানলের ঘটনা বাড়ছে। তবু দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনের একাংশ জলবায়ু নীতি বাস্তবায়নের ব্যয় নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন। বিবিসি রেডিও-৪-এর এক আলোচনায় প্রশ্ন ওঠে, সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে অনেক দেরি হয়ে গেছে কি না।
গার্ডিয়ান-এর কলাম লেখক জো উইলিয়ামস বলেন, এখনো আশা হারানোর কারণ নেই এবং পৃথিবীর উষ্ণতা যতই বাড়ুক, পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আলোচনায় আরও বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কিছু ক্ষতি ইতোমধ্যে অপূরণীয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বার্চ গাছের টিকে থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
উইলিয়ামস কনজারভেটিভ এমপি নাইজেল হাডলস্টনের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, দৃশ্যমান জলবায়ু প্রভাবের মধ্যেও কার্বন নিঃসরণ কমানো ও নেট জিরো অর্জনের ব্যয়কে বড় করে দেখা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে অংশ প্রায় ১ শতাংশ হলেও এ যুক্তিতে দায়িত্ব এড়ানো যায় না বলেও তিনি মত দেন। অন্য দেশগুলোর অপেক্ষায় থাকলে সংকট আরও গভীর হবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দৃশ্যমান জলবায়ু প্রভাবের মধ্যেও যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সৃষ্ট সংকটের মধ্যে দেশ ভঙ্গুর অর্থনীতির মুখোমুখি হয়েছে এবং তা থেকে বেরিয়ে আসতে নির্বাচিত সরকার নিরলসভাবে কঠোর পরিশ্রম করছে। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে দৈনিক জনতার ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বপন বলেন, বিগত সরকারের ১৭ বছরের ভুল জ্বালানি নীতি, অপরিকল্পিত প্রকল্প ও ব্যাপক লুটপাটের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই সংকট উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং সংবাদপত্রসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় সরকার নীতিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত। ক্ষমতাকে প্রশ্ন করে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই সাংবাদিকতার প্রধান কাজ বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংবাদপত্রের মালিকদের নিরাপদ বিনিয়োগ, লাভজনক প্রক্রিয়া এবং সম্পাদক, সাংবাদিক, ছাপাখানার কর্মীসহ গণমাধ্যম শিল্পসংশ্লিষ্ট সবার স্বার্থ নিশ্চিত করার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি কাটাতে কাজ করছে সরকার
বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সোনালী ব্যাংক পিএলসিকে কাগজে-কলমে হিসাবের পরিবর্তন বা ঋণের শ্রেণি বদলের বদলে খেলাপি ঋণ থেকে প্রকৃত নগদ অর্থ আদায়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশ দিয়েছে। সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে ব্যাংকের আর্থিক ও পরিচালন অবস্থা, অগ্রগতি, ঝুঁকি, সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১৬.৪ শতাংশে নামলেও সুস্থ ও দক্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মানদণ্ডে তা এখনো বেশি বলে মনে করছে বিভাগটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ এক্সিট সুবিধা যেন প্রকৃত ঋণ নিষ্পত্তি ও নগদ আদায়ে ব্যবহৃত হয়, ঋণ দীর্ঘায়িত করার পথ না হয়, সে বিষয়ে নজর দিতে বলা হয়েছে। এ সুবিধার আওতায় আসতে পারে এমন শ্রেণিকৃত ঋণ, পাওয়া আবেদন এবং নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও কুটির শিল্প, কৃষি, নারী ও নতুন উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ঋণ দেওয়ার আগে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা, নগদ প্রবাহ, ব্যবসার কার্যকারিতা, প্রকৃত মালিকানা ও একই গোষ্ঠীতে মোট ঋণ যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসে নগদ আদায়, মানসম্পন্ন ঋণ, ডিজিটাল ব্যাংকিং, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, সুশাসন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি অগ্রাধিকার পাবে।
খেলাপি ঋণ থেকে প্রকৃত নগদ আদায়ে সোনালী ব্যাংককে সরকারের নির্দেশ
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সার সংকটে আমন মৌসুমের চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে বলে কৃষকদের অভিযোগ। টিএসপি ও ডিএপি সার পেতে লাইনে দাঁড়িয়েও ব্যর্থ হওয়ার কথা জানিয়ে তারা আশঙ্কা করছেন, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার নিচে নেমে যেতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কৃষি মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসকদের তদারকি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে এবং উচ্চপর্যায়ের একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে।
কুড়িগ্রামের কৃষকেরা সরকারি দামের চেয়ে বেশি অর্থ দিয়েও প্রয়োজনমতো নন-ইউরিয়া সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। ডিলারদের ভাষ্য, মাসের শুরুতে পাওয়া সরকারি সরবরাহ প্রায় ১৫ দিন চাহিদা মেটাতে পারে, পরে সংকট দেখা দেয়। তবে মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, মজুত পর্যাপ্ত; কৃত্রিম সংকট, আতঙ্কে আগাম কেনা, অতিরিক্ত মজুত, ভুল ব্যবহার এবং সার হাতবদলের কারণে চাপ তৈরি হয়েছে।
পঞ্চগড় বাদে উত্তরাঞ্চলের ১৫ জেলায় চাহিদাপত্র দিয়ে সার না তোলা ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন উপপরিচালককে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং নতুন কমিটিকে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বিএফএ নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। কৃষি সচিব এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতির আশা প্রকাশ করেছেন।
সার সংকটের অভিযোগে তদারকি জোরদার ও অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ
বাংলাদেশে মৌসুমের মধ্যেও ইলিশের সংকট, অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি এবং ছোট মাছের আধিক্য দেখা যাচ্ছে বলে নিবন্ধে বলা হয়েছে। জাতীয় মাছ ও জিআই পণ্য হিসেবে ইলিশ নিয়ে গর্ব থাকলেও, শুধু গর্ব দিয়ে এ প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা সম্ভব নয়। বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, কার্যকর আইনপ্রয়োগ, সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন ছিল প্রায় ৫ দশমিক ২৯ লাখ টন, যা আগের বছরের প্রায় ৫ দশমিক ৭১ লাখ টনের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ কম।
নিবন্ধে নদীর নাব্যহানি, দূষণ, জাটকা নিধন, নিষিদ্ধ সূক্ষ্ম ফাঁসের জালের ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে ইলিশের প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় খাদ্যনিরাপত্তা না থাকলে দরিদ্র জেলেরা আইন ভাঙার ঝুঁকি নেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি সহায়তা বণ্টনে অনিয়ম বা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হতে পারেন। অবৈধ জালের উৎপাদক, পাইকারি ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় অভিযান টেকসই ফল দিচ্ছে না।
খুচরা বাজারে দাম বৃদ্ধির পেছনে মধ্যস্বত্বভোগী, আড়তদার, মজুতদার ও দুর্বল তদারকির ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। নিবন্ধটি নদী রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বিকল্প কর্মসংস্থান ও বাজার স্বচ্ছতায় বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানায়। কোল্ড চেইন, ডিজিটাল নিলাম এবং জেলে সমবায় শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিরপেক্ষ আইনপ্রয়োগ ও স্থায়ী সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইলিশ উৎপাদন কমা ও মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সমন্বিত সংরক্ষণ ও বাজার সংস্কারের আহ্বান
পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় নতুন করে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। মাঝিরঘাট, পালেরচর বাজার, কাথুরিয়া, মধু মাদবরের কান্দি, পৈলান মোল্লার কান্দিসহ আশপাশের প্রায় এক হাজার পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। কাথুরিয়া এলাকায় সড়ক ও বিদ্যুতের খুঁটিসহ প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় হাজারো মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
সরেজমিনে কাথুরিয়ায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কয়েক মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নিরাপত্তার জন্য ২৫টি বসতঘর ও সাতটি দোকান ভেঙে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি সরাচ্ছেন এবং স্থানীয়রা সড়কের ইট নিরাপদ স্থানে রাখছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সময়োপযোগী উদ্যোগের অভাবে ভাঙন বেড়েছে।
পাউবো জানায়, নাওডোবা থেকে পাথালিয়াকান্দি পর্যন্ত ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণে ১ হাজার ১৩০ কোটি টাকার ৩৯টি প্যাকেজে কাজ চলছে। সংস্থাটির মতে, প্রকল্পের তিন কিলোমিটার অংশ এখন ঝুঁকিতে। বর্ষায় স্থায়ী কাজ বন্ধ থাকলেও তীরে ব্লক তৈরির কাজ চলছে এবং জিওব্যাগ ভেসে যাওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।
জাজিরায় পদ্মার ভাঙনে প্রায় এক হাজার পরিবার ঝুঁকিতে, নদীগর্ভে সড়ক ও বিদ্যুতের খুঁটি
মেরু অঞ্চল বাদে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা শনিবার রেকর্ড ২১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস। এটি ২০২৪ সালের মার্চে তিন দিন রেকর্ড হওয়া ২১ দশমিক ০৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে সামান্য ছাড়িয়েছে। বিজ্ঞানীদের উদ্বেগের কারণ, সাধারণত মার্চ বা এপ্রিলে সমুদ্রের বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ হলেও এবার আগস্টেই নতুন রেকর্ড হয়েছে।
শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই এ রেকর্ড হয়েছে। এল নিনোর সময়ে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে অস্বাভাবিক উষ্ণ পানি ভূপৃষ্ঠে উঠে আসে, যা বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বাড়ায়। কোপার্নিকাসের উপপরিচালক সামান্থা বার্গেস বলেন, রেকর্ডটি সমুদ্রের ওপর বাড়তে থাকা চাপের স্পষ্ট সংকেত; এল নিনো বাড়তি তাপ যোগ করলেও কয়েক দশকের মানবসৃষ্ট উষ্ণায়ন এর ভিত্তি তৈরি করেছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এল নিনো বড়দিন পর্যন্ত শক্তিশালী হতে পারে। উষ্ণ সমুদ্র ঝড়ের শক্তি ও আর্দ্রতা বাড়াতে, উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে এবং প্রবালপ্রাচীরসহ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। মানুষের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে আটকে পড়া অতিরিক্ত তাপের ৯০ শতাংশের বেশি সমুদ্র শোষণ করে।
এল নিনোর চূড়ার আগেই বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রেকর্ড
একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। একই সঙ্গে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারেন, সে জন্য সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার গভর্নরের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদারের সাক্ষাতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতকারীদের মুনাফা নিয়ে তৈরি হওয়া অস্পষ্টতা দূর করতে ব্যাংকটিকে সব আমানতকারীকে স্পষ্টভাবে জানাতে বলা হয়েছে যে তাঁদের মুনাফার ওপর কোনো হেয়ারকাট হবে না।
গত ২৯ ডিসেম্বর ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির আমানতকারীরা আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থের নির্ধারিত অংশের বাইরে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারবেন। ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে শুরু হওয়া ব্যাংকটিকে দ্রুত স্বাভাবিক সব ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর পদক্ষেপও নিতে বলা হয়েছে।
১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা নিতে ব্যাংককে নির্দেশ
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধ পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করতে প্রয়োজনীয় প্রকল্প দ্রুত গ্রহণ করা হবে। বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগের প্রেক্ষাপটে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি সেখানে এসেছেন। আপাতত জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ মেরামত করা হবে বলে জানান তিনি। পরিদর্শনের সময় হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ আলহাজ জিকে গউছ, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুল হক এবং স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
হবিগঞ্জ শহর যাতে কোনোভাবেই প্লাবিত না হয়, সে জন্য বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্ষার পরপরই এসব প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। গত রোববার সকালে খোয়াই নদীর পানি বাড়ায় বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ফসলি জমি, পুকুর ও ফিসারির মাছ ভেসে যায়।
খোয়াই বাঁধ ভাঙনের পর দ্রুত প্রকল্প ও জিও ব্যাগে মেরামতের প্রতিশ্রুতি
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার আলগির খালের ওপর নির্মিত আলোচিত ‘রিকশাওয়ালার বাঁধ’, যা ফারাক্কা বাঁধ নামেও পরিচিত, অপসারণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার, ২৪ আগস্ট দুপুরে বাঁধটি কেটে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা হয়। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান বলেন, জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সংকট নিরসন হলে নোয়াখালী অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে সমৃদ্ধ হবে।
বামনী নদীর লবণাক্ত পানি প্রবেশ ঠেকাতে একসময় মাটির এই আড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে পরে এটি নোয়াখালী সদর, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জের পানি নিষ্কাশনের বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অপসারণকালে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি, স্থানীয় নেতাকর্মী, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
বামনী নদীতে ক্লোজার ও ১৯-ভেন্ট রেগুলেটর নির্মাণের পর বাঁধটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি আলগির খাল ও জালিয়ার খালের মোট ১০ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকা পুনঃখনন করা হচ্ছে। প্রশাসনের হিসাবে, কাজ শেষ হলে ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার প্রায় ৯ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন। এতে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি প্রায় ২৮০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ সুরক্ষার পথ সুগম হবে।
জলাবদ্ধতা কমাতে নোয়াখালীর আলগির খালের রিকশাওয়ালার বাঁধ অপসারণ
কুমিল্লার মুরাদনগরে কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটা বন্ধে নেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে প্রশাসনকে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার দ্বৈত বেঞ্চ জনস্বার্থে করা একটি রিটের পর এ আদেশ দেন। রিটটি করেন অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদ।
আদেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে উর্বর মাটি খননে ব্যবহৃত ড্রেজার ও যন্ত্রপাতি জব্দ, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ এবং ড্রেজারে ক্ষতিগ্রস্ত আবাদিজমি ও বালুর গর্ত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবাদিজমি রক্ষায় সময় নির্দিষ্ট করে কর্মপরিকল্পনা এবং মাটি কাটা ও ড্রেজিংয়ে তৈরি গর্তকে আগের আবাদিজমির অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ নিতেও বলা হয়েছে।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মুরাদনগর ইউএনও, এসি ল্যান্ড এবং মুরাদনগর ও বাংগরা বাজার থানার ওসিদের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কৃষি ও পরিবেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি রিটকারী বলেন, স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার ও ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে আসছেন এবং স্থানীয় সাংবাদিকরাও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন।
মুরাদনগরে উর্বর মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের কাছে অগ্রগতি প্রতিবেদন চেয়েছে হাইকোর্ট
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের সরবরাহকারীর কাছ থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি কেনার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সোমবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪১তম সভায় এ বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উত্থাপিত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাবটি সভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে ১৩-১৪ সেপ্টেম্বর সময়ে এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এ কার্গোর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ দশমিক ৬২৫ মার্কিন ডলার।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জি থেকে ২৩-২৪ সেপ্টেম্বর সময়ে আরও এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ কার্গোর মূল্য প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার। এলএনজি কেনার প্রস্তাবসহ ওই বৈঠকে মোট ১৩টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ২৮২ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।