ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপরাধে অংশগ্রহণের’ অভিযোগে জাপানের জনগণকে তাদের সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। জাপানের মিসাওয়া বিমানঘাঁটি থেকে ইরানে হামলার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠানোর খবরের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আরাগচি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনায় জাপানের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন। ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, জাপানে অবস্থিত এসব স্থাপনা ব্যবহারের জন্য জাপান সরকার দায়ী।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও প্রশ্ন তোলেন, জাপানের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে জাপান সরকারের ভূমিকা কী। জাপান সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া বা এফ-১৬ মোতায়েনের বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য সূত্রে দেওয়া হয়নি।
মার্কিন সামরিক স্থাপনা ব্যবহারে জাপান সরকারের জবাবদিহি চেয়েছেন আরাগচি
পাকিস্তানের সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি সব রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন সমানভাবে প্রয়োগ এবং বৈশ্বিক আইন ও নীতি নির্ধারণে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে দ্বিতীয় আন্তঃসংসদীয় স্পিকার্স সম্মেলনে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গিলানি বলেন, শান্তি বেছে বেছে প্রতিষ্ঠা করা যায় না; বিশ্বের কোনো স্থানে শান্তির জন্য হুমকি সৃষ্টি হলে তা সর্বত্র শান্তির জন্য হুমকি হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদন, জবাবদিহি নিশ্চিত এবং ন্যায্য আন্তর্জাতিক নীতি প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন দেশের সংসদের ভূমিকার ওপরও জোর দেন তিনি। বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তিতে কূটনীতি ও সংলাপকেই সবচেয়ে কার্যকর পথ উল্লেখ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা বলেন।
তিনি বলেন, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছে এবং লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে, তাই দেশটি সংঘাতের মূল্য বোঝে ও শান্তির পথ বেছে নিয়েছে। গিলানি আইএসসিকে স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা, তথ্য অনুসন্ধান মিশন এবং শান্তি-নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত সংসদীয় কার্যক্রম চালুর প্রস্তাব দেন। তিনি কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত ও রাজা নরোদম সিহামনির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
আন্তর্জাতিক আইন সমভাবে প্রয়োগ ও গ্লোবাল সাউথের বড় প্রতিনিধিত্ব চাইলেন গিলানি
বাংলাদেশ চীনের তৈরি জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে এবং এ জন্য প্রস্তুত করা খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত প্যাকেজে চীনা অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি পরিবহন হেলিকপ্টার ও ড্রোনও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া গেলে কেনাকাটার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হবে; না হলে পরবর্তী অর্থবছরে তা নেওয়া হবে।
জে-১০সিই চীনের চেংদু জে-১০সি যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ। এক ইঞ্জিনের এ বিমান আকাশযুদ্ধ, স্থল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা, নজরদারি ও দূরপাল্লার মিশনে ব্যবহার করা যায়। এর সর্বোচ্চ গতি প্রায় মাখ ১.৮ থেকে ২ এবং এতে আধুনিক রাডারসহ বিভিন্ন আকাশ থেকে আকাশ ও আকাশ থেকে স্থল ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে।
কেনা হবে এমন বিমানের সংখ্যা ও মোট চুক্তিমূল্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে আগে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০টি জে-১০ কেনার প্রাথমিক পরিকল্পনার সম্ভাব্য মূল্য ছিল প্রায় ২২০ কোটি ডলার। এতে বিমান, খুচরা যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ, পরিবহন, বিমা ও অন্যান্য সরঞ্জামের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। উদ্যোগটি বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জে-১০সিই যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন কিনতে অনুমোদনের জন্য খসড়া প্রস্তাব পাঠাল বাংলাদেশ
ভারত ও উজবেকিস্তান দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম চুক্তি সই করেছে। রোববার তাসখন্দে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ঘোষণা দেন। দুই দেশ পারমাণবিক জ্বালানি ও নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেছে।
তিনটি সিস্টার সিটি ও সিস্টার স্টেট চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন দুই পক্ষ। উজবেকিস্তানের পরিকল্পিত নতুন শহর নিউ তাশখন্দ নির্মাণে গুজরাটের গিফট সিটির অভিজ্ঞতা ব্যবহারের প্রস্তাব দেন মোদি। দুই দেশের সহযোগিতার বর্তমান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি ও সংস্কৃতি রয়েছে।
মিরজিয়োয়েভ জানান, গত বছর প্রথমবারের মতো ভারত-উজবেকিস্তান বাণিজ্য এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটও বেড়ে সপ্তাহে ১৪টিতে পৌঁছেছে বলে তিনি বলেন। ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসামুক্ত ভ্রমণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান উজবেক প্রেসিডেন্ট।
দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম চুক্তির মাধ্যমে ভারত-উজবেকিস্তান সহযোগিতা সম্প্রসারণ
ইরানের অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে চীনা ক্রেতাদের ওপর এখনই দ্বিতীয় ধাপের নিষেধাজ্ঞা দিতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। তবে সতর্কতামূলক বিকল্প হিসেবে এ পদক্ষেপটি নিজেদের হাতে রাখছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা মার্ক পাইফেল আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। তাঁর মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ও অর্থ বিভাগ প্রয়োজন হলে ব্যবহারের জন্য পদক্ষেপটি প্রস্তুত রাখছে।
পাইফেল বলেন, বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া কূটনৈতিকভাবে কঠিন, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অর্থনীতি এখনো পরস্পরের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের বর্তমান প্রধান লক্ষ্য হলো চীনকে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করার পরিবেশ তৈরি করা।
তিনি জানান, চীনা রিফাইনারিগুলো ছাড়মূল্যে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি তেল কিনে বৈশ্বিক প্রতিযোগীদের তুলনায় অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে। পাইফেলের মতে, আন্তর্জাতিক এই সংকটে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার আগ্রহ চীনের নেই এবং বেইজিং আড়ালে তেহরানকে সহযোগিতা করতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে ২৪ সেপ্টেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং।
চীনের ইরানি তেল কেনা নিয়ে নিষেধাজ্ঞার বিকল্প খোলা রাখছে যুক্তরাষ্ট্র
নেপালে টানেলে আটকে থাকা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মীদের কাছে পৌঁছানোর উদ্ধারকাজ রাতভর ভারী বৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একাধিক টানেলে শতাধিক শ্রমিক জীবিত অবস্থায় আটকে থাকতে পারেন। ত্রিশূলী-৩এ ও ৩বি প্রকল্প এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। বুধবার সকালে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত নামার পর থেকে ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।
ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পে সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল ড্রিল মেশিন ব্যবহার করে শনিবার সন্ধ্যায় কাদায় তলিয়ে যাওয়া একটি টানেলের ওপরের অংশে পৌঁছায়। পরে সেখানে বাতাস প্রবেশ করানো এবং ক্যামেরা পাঠানোর কাজ শুরু হয়। নেপাল সেনাবাহিনী রোববার সকালে জানায়, উদ্ধার অভিযানের পঞ্চম দিনে স্থানীয় সময় রাত ২টার পর ভারী বৃষ্টিতে নদীর পানির উচ্চতা বাড়ে এবং খনন করা স্থান পানিতে ভরে যায়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলেছে, অবিরাম বৃষ্টি ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকারীরা রাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছেন। ভারত ও চীনের বিশেষায়িত টানেল উদ্ধারকারী দল অভিযানে যোগ দিয়েছে। ১১টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে; এগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ৪৩১ দশমিক ১ মেগাওয়াট।
ভারী বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধিতে নেপালের টানেল উদ্ধার অভিযান ব্যাহত
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ইয়োসি মেকেলবার্গ বলেছেন, তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলতে পারেন। তাঁর বিশ্লেষণে, আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাব কাজ করতে পারে।
মেকেলবার্গের মতে, তুরস্ক সীমান্তের কাছে সিরিয়ার আবু দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরাইলি হামলা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রায় নিয়েছে। ইসরাইল দাবি করে, সেখানে তুরস্ক সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছিল। তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করে ইসরাইলকে তুরস্ককে সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টার অভিযোগ করেছে। তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়া-বিষয়ক দূত টম ব্যারাকও ইসরাইলের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি বলেন, আহমাদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন সিরীয় সরকার ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত চায় না; তারা পুনর্গঠন, অর্থনীতি সচল করা ও বিদেশি বিনিয়োগে মনোযোগী। সিরিয়ায় তুরস্কের সম্ভাব্য উপস্থিতিকে ইসরাইলের সরাসরি হুমকি বলার যথেষ্ট প্রমাণ নেই বলেও তিনি মত দেন। তাঁর মতে, ন্যাটো সদস্য তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি উত্তেজনা ইসরাইলের আন্তর্জাতিক অবস্থান দুর্বল করতে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ঝুঁকিতে নেতানিয়াহু, বললেন বিশ্লেষক
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না। তিনি দাবি করেন, ইরানের সমন্বয় ও অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের কোন প্রতিশ্রুতি স্থগিত রয়েছে বা কী পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা তিনি নির্দিষ্ট করেননি।
গারিবাবাদি জানান, জাহাজ চলাচল বিষয়ে ওমানের সঙ্গে ইরানের একটি সমঝোতা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালন না করা পর্যন্ত ওই সমঝোতা বাস্তবায়ন করা হবে না। ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে হরমুজ প্রণালি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে ইরান প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
ইরানি কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তেহরানের জন্য নতুন নয় এবং তা মোকাবিলায় ইরান প্রস্তুত। তার অভিযোগ, গত ১৬ মাসে যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয়বারের মতো কূটনৈতিক সমঝোতা থেকে সরে গেছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা যাচাই করছে দুই দেশ। হরমুজ খোলার ক্ষেত্রে ইরান আগে কোনো উদ্যোগ নেবে না বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ খুলবে না বলে জানিয়েছে ইরান
ভয়াবহ বন্যায় শত শত মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পর নেপালের জন্য ৩৬ লাখ ডলারের বেশি মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এই সহায়তা দেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নেপালের জনগণের পাশে রয়েছে। তারা জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা হিসেবে ৩৬ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দিচ্ছে। সাম্প্রতিক এই বন্যায় দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সহায়তার আওতায় বন্যাকবলিত ১০ হাজার পরিবার সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত জরুরি খাদ্য সহায়তা পাবে। বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন্যাদুর্গত নেপালের জন্য ৩৬ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের নেতা ও সাবেক সিনেটর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল কাইয়ুম জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও নিরপেক্ষ করতে সংস্থাটির কাঠামো পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন ইউকের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি দেশের ভেটো ক্ষমতা এবং বিভিন্ন মহাদেশ ও মুসলিম বিশ্বের সীমিত প্রতিনিধিত্ব জাতিসংঘের নিরপেক্ষ কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে।
কাইয়ুম জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন ও শরণার্থী সমস্যা মোকাবিলায় ভূমিকার প্রশংসা করেন। তবে সদস্যরাষ্ট্রগুলো সনদ ও জাতিসংঘের প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করলে সংস্থাটির কার্যকারিতা সীমিত থাকে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি অস্ত্র প্রতিযোগিতা, ঘোষণাবিহীন পারমাণবিক অস্ত্র, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলেন এবং ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের পরিস্থিতিও উল্লেখ করেন।
তিনি ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য ও বাস্তবভিত্তিক কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দেন। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করতে রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। স্থায়ী শান্তির জন্য সংলাপ, মধ্যস্থতা, আন্তর্জাতিক আইন মানা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক জলপথ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার কথাও বলেন।
কার্যকর ও নিরপেক্ষ জাতিসংঘ গঠনে কাঠামো পুনর্গঠনের আহ্বান কাইয়ুমের
খার্তুম থেকে ওমদুরমান হয়ে এল-ওবেইদ পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ সুদানের যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে। সড়কটি দেশের মধ্যাঞ্চলকে কর্দোফান, দারফুর ও পশ্চিম সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছে। জ্বালানি, খাদ্য, গবাদি পশু, বাণিজ্যিক পণ্য ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে এটি গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী (এসএএফ) ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে যুদ্ধ চলছে।
সম্প্রতি সেনাবাহিনী মহাসড়কটির আশপাশের কয়েকটি শহর দখল করে উত্তর কর্দোফানে অবস্থান শক্ত করেছে। সংঘাতবিষয়ক গবেষক আলী মাহমুদ আলীর মতে, সড়কের নিয়ন্ত্রণ এবং আরএসএফের বিপুল অস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম দখল সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতে পারে। এতে দারফুর ও পশ্চিম কর্দোফানে আরএসএফের ঘাঁটির দিকে অগ্রসর হওয়ার পথও তৈরি হতে পারে। বিপরীতে আরএসএফ সড়ক বিচ্ছিন্ন করলে এল-ওবেইদ বিচ্ছিন্ন এবং সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তবে সড়ক দখল করলেও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত নয়, কারণ আরএসএফের ড্রোন হামলার ঝুঁকি রয়েছে। জুনে কর্দোফানজুড়ে ৫০টির বেশি ড্রোন হামলা নথিভুক্ত হয়; কিছু হামলায় জ্বালানি স্থাপনা ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল। ২০ আগস্ট সেনাবাহিনী চাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আরএসএফের অস্ত্রবাহী বহর লক্ষ্য করে হামলার দাবি করে, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকান ইউনিয়ন উদ্বেগ জানায়।
গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ সুদানের যুদ্ধ ও খাদ্য-জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে
নরওয়ের রাজা পঞ্চম হারাল্ড শুক্রবার ৮৯ বছর বয়সে মারা যাওয়ার পর দেশজুড়ে জাতীয় শোক শুরু হয়েছে। শনিবার রাজধানী অসলোতে রাজপ্রাসাদের সামনে হাজার হাজার মানুষ তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হন। মৃত রাজার মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রাসাদে রাখা হয়েছে। রাজধানীর প্রধান সড়ক কার্ল ইয়োহান ধরে দীর্ঘ সারিতে মানুষ প্রাসাদের দিকে যান; তাঁদের হাতে ছিল ফুল, হাতে লেখা বার্তা, ছবি ও ছোট নরওয়েজিয়ান পতাকা।
১৯৯১ সালে সিংহাসনে বসা হারাল্ড তিন দশকের বেশি সময় নরওয়ের রাজা ছিলেন। তিনি রাজতন্ত্রকে আধুনিক করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজপরিবারের দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দেশজুড়ে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। অভিবাসীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন এবং অনেকে ধর্ম, সংস্কৃতি ও যৌন পরিচয়ের বৈচিত্র্যময় মানুষের সহাবস্থানের পক্ষে তাঁর অবস্থান স্মরণ করেন।
হারাল্ডের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ৫৩ বছর বয়সী ছেলে অষ্টম হাকন নতুন রাজা হয়েছেন। প্রথম ভাষণে হাকন বাবাকে ভালো বাবা ও উষ্ণ হৃদয়ের মানুষ হিসেবে স্মরণ করে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সবার সমান মর্যাদার ভিত্তিতে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। রাজা হারাল্ডকে অসলো ক্যাথেড্রালে শেষ বিদায় জানিয়ে আকরশুস দুর্গের রাজকীয় সমাধিতে সমাহিত করার কথা রয়েছে।
রাজা পঞ্চম হারাল্ডের মৃত্যুতে অসলো রাজপ্রাসাদের সামনে হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ছয় মাসে গড়ানোর পর মার্কিন সেনাসদস্যদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তা, মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন, হঠাৎ দায়িত্বের মেয়াদ বাড়ানো এবং সীমিত যোগাযোগ তাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত সেনাদের পরিবারের জন্য সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়া, সংসারের বাজেট এবং প্রিয়জনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নিয়মিত বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের বেশি সেনা রয়েছে এবং যুদ্ধের প্রয়োজনে আরও হাজার হাজার মেরিন ও নৌসেনা পাঠানো হয়েছে। ছয় মাসের সংঘাতে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত ও ৭৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ব্লু স্টার ফ্যামিলিজের মার্চের জরিপে প্রায় ২০০ সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনা পরিবারের সদস্যের ৮১ শতাংশ বলেছেন, ইরান যুদ্ধ তাদের মানসিক চাপ বাড়িয়েছে।
সংগঠনটি অনলাইন সহায়তা, ওয়েবিনার, সরাসরি বৈঠক এবং নতুন মোতায়েন হওয়া সেনাদের স্বামী-স্ত্রীদের অভিজ্ঞ পরিবারগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের পরিবার বিশেষভাবে আর্থিক চাপে পড়ছে, কারণ মোতায়েন তাদের বেসামরিক চাকরির আয় বন্ধ করতে পারে। প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, পরিবারের উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখে সহায়তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরান যুদ্ধ ছয় মাসে গড়ানোয় মার্কিন সেনা পরিবারে বাড়ছে মানসিক ও আর্থিক চাপ
আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশে তালেবানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বেড়েছে, যা দেশটির কার্যত শাসক তালেবান সরকারের জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে আফগানিস্তান আবার দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র সংঘাত ও রাজনৈতিক বিভাজনের দিকে যেতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট ও আফগানিস্তান ফ্রিডম ফ্রন্ট তালেবানের বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালিয়েছে।
স্থানীয় কয়েকটি ছোট প্রতিরোধগোষ্ঠীও সক্রিয় হয়েছে এবং সাবেক তালেবান কমান্ডার জুমা খান ফাতেহের বিদ্রোহ কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতিকে জটিল করেছিল। জেবাক শহরের আশপাশে এবং কুরান ওয়া মুনজান জেলায় তালেবানবিরোধী হামলা বেড়েছে। ওয়াখান করিডরের প্রবেশপথের কাছে হওয়ায় জেবাক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এনআরএফ বাদাখশানের রাজধানী ফয়জাবাদের তালেবান মেয়রকে হত্যার দায়ও স্বীকার করেছে।
দুর্গম পাহাড়, সীমিত যোগাযোগব্যবস্থা, ল্যাপিস লাজুলি ও স্বর্ণের খনি এবং তাজিকিস্তান, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সীমান্ত বাদাখশানের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আফগানিস্তান থেকে সৃষ্ট সন্ত্রাসী হুমকি উল্লেখযোগ্যভাবে না কমার কথা বলা হয়েছে। তালেবানবিরোধী রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সমঝোতা চাইলেও তালেবান এতে খুব বেশি আগ্রহ দেখায়নি।
বাদাখশানে তালেবানবিরোধী হামলা বাড়ায় আফগানিস্তানের নিরাপত্তা উদ্বেগ তীব্র
উত্তর কোরিয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোলকে বরখাস্ত করে সামরিক ও ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বে বড় রদবদল করেছে। কিম জং উনের সভাপতিত্বে শনিবারের বৈঠকে সামরিক নেতৃত্বের কাঠামোগত পুনর্গঠন পরিকল্পনা অনুমোদনের পর এই পরিবর্তন আনা হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ রোববার এ তথ্য জানায়। নো কোয়াং চোলকে দলের অস্ত্রশিল্প বিভাগের প্রথম উপপরিচালক করা হয়েছে।
কোরিয়ান পিপলস আর্মির জেনারেল পলিটিক্যাল ব্যুরোর পরিচালক কিম সং গি নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হয়েছেন। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পাক জং চোনকে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাসীন দলের পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য করা হয়েছে। কেসিএনএ জানিয়েছে, সামরিক ও দলীয় নেতৃত্বে আরও কয়েকজন কর্মকর্তার পদোন্নতিও হয়েছে।
রদবদলের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অগ্রগতির দাবি করেছে পিয়ংইয়ং। শনিবারের এক অনুষ্ঠানে কিম জং উন বিজ্ঞানী, গবেষক ও কর্মকর্তাদের প্রশংসা করে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা দেন বলে কেসিএনএ জানায়, যদিও অস্ত্রব্যবস্থার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফ্রিডম এজ মহড়ায় অংশ নেবে।
বড় সামরিক ও দলীয় রদবদলে উত্তর কোরিয়া নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছে
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৯৬ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।