সৌদি আরবে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়েতি দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ইরানে হামলার জন্য সৌদি আকাশসীমা, জলসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রশংসনীয়। এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরান সৌদি আরবের এই অবস্থানকে মূল্যায়ন করে।
যুদ্ধ শুরুর আগে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় রিয়াদ সমর্থন দিয়েছিল এবং বারবার জানিয়েছিল যে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়, যার মধ্যে সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাস ও কিছু জ্বালানি স্থাপনাও ছিল।
১ মার্চ সৌদি সরকার ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে হামলার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ জানায়। উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এলখেরেজি বলেন, নির্বিচারে হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করছে এবং সৌদি আরব সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ব্যবস্থা নেবে।
ইরানে হামলায় সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতিতে ইরানের কৃতজ্ঞতা
বুধবার সৌদি আরামকোর সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার রাস তানুরায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। কমপ্লেক্সের কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। গত সোমবার ড্রোন হামলার কারণে এই রিফাইনারি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
সোমবারের হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হলেও তেহরান তা অস্বীকার করে জানায়, তারা কেবল মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকেই লক্ষ্যবস্তু করে। ইরান দাবি করে, আরামকোতে হামলাটি ইসরাইলের ‘ছদ্মবেশী হামলা’।
নতুন এই হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে, যদিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও কার্যক্রমে এর প্রভাব এখনো জানা যায়নি।
ড্রোন হামলার পর সৌদি আরামকোর রাস তানুরা রিফাইনারিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত
সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ স্টেশনে সোমবার (২ মার্চ) ড্রোন হামলা হয়েছে বলে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রয়টার্সকে একটি সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটি নিশ্চিত করেছে যে হামলায় ইরানি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, তবে সিআইএ স্টেশনই মূল লক্ষ্য ছিল কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দূতাবাস প্রাঙ্গণে দুটি ড্রোন আঘাত হানে, এতে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং কিছু বস্তুগত ক্ষতি হয়েছে। হামলার পর সৌদি আরবে নিযুক্ত মার্কিন মিশন জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের দূতাবাস এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। ধাহরান এলাকায় সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকির বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ঘটেছে এবং মার্কিন কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ইরানি ড্রোন হামলায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। রয়টার্স ও এএফপি এই তথ্য প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে যে নয়টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কোথা থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছে তা জানায়নি সৌদি কর্মকর্তারা।
এদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে যে তারা ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে, যার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ভবন ও শীর্ষ নেতৃত্বের বাসভবন লক্ষ্যবস্তু ছিল। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, শনিবার অভিযান শুরু হওয়ার পর তারা ইরানের দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। পাল্টা হামলায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যাতে ছয়জন মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এসব হামলায় সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে, যা অঞ্চলের সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ঘোষণা করেছে যে দেশটির সব মিশনে কনস্যুলার সেবা স্থগিত করা হয়েছে। দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের সব নিয়মিত ও জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে এবং জেদ্দা, রিয়াদ ও দাহরানের মিশনগুলোতে ‘সেল্টার ইন প্লেস’ নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া আমেরিকান নাগরিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বজায় রাখার এবং দূতাবাসের কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সংস্থার ওপর হামলার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোতে হামলার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে।
দূতাবাস কবে কনস্যুলার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করবে তা এখনও জানানো হয়নি, ফলে এই স্থগিতাদেশ কতদিন চলবে তা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
হামলার পর নিরাপত্তা উদ্বেগে সৌদি আরবে সব কনস্যুলার সেবা স্থগিত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার পর কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনের সাংবাদিক কেলি মেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন খুব শিগগিরই বড় ধরনের পদক্ষেপ নেবে এবং সবাই তা দ্রুতই দেখতে পাবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে দুটি ড্রোন দিয়ে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালানো হয়। এতে ভবনের একটি অংশে সামান্য আগুন লাগে এবং আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব স্থাপনা ও কূটনৈতিক মিশনে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবে সব কনস্যুলার সেবা স্থগিত করেছে, এবং হামলার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বেড়ে গেছে।
রিয়াদে দূতাবাসে ড্রোন হামলার পর কঠোর জবাবের ঘোষণা ট্রাম্পের
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক্স-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার ফলে দূতাবাস প্রাঙ্গণে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং ভবনের কিছু অংশে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার পর সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন মিশনের কর্মীদের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। রিয়াদ, জেদ্দা ও জাহরানে কর্মরতদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে এবং অঞ্চলটির সামরিক স্থাপনাগুলোতে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত সীমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে হামলার দায় কার ওপর বর্তায় বা হতাহতের কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তবে ঘটনাটির পর কূটনৈতিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে ড্রোন হামলায় সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতি
ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন সৌদি আরবের আরামকো তেল শোধনাগার রাস তানুরায় আঘাত হেনেছে। হামলার ফলে রিফাইনারির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। স্থাপনায় আগুন লাগলেও তা সীমিত ছিল এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রাস তানুরা রিফাইনারি আরামকো পরিচালনা করে এবং এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানি কেন্দ্র, যেখানে প্রতিদিন ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল শোধন করা হয়।
রাস তানুরা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখানে কোনো সমস্যা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
ইরানের ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের রাস তানুরা রিফাইনারির কার্যক্রম স্থগিত
সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার কোম্পানি আরামকোর রাস তানুরা রিফাইনারিতে ইরানের ড্রোন হামলার পর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আল আরাবিয়া টিভিকে জানিয়েছেন, দুটি ড্রোন শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলার সময় অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও তা সীমিত ছিল এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রাস তানুরা রিফাইনারি বিশ্বের অন্যতম বড় তেল রপ্তানি কেন্দ্র, যেখানে প্রতিদিন ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল শোধন করা হয়। পাশের রপ্তানি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে পাঠানো হয়।
এই হামলা ও শোধনাগার বন্ধের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরানের ড্রোন হামলায় বন্ধ সৌদি আরামকোর রাস তানুরা শোধনাগার
ইরান সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব দাবি করেছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের সব ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে, যা বিমানবন্দর ও মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।
ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত উপসাগরীয় একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, রোববার বিকেলে রিয়াদ বিমানবন্দর ও প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিল এবং কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
বিমানবন্দরের কাছে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে বলেন, তিনি আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দৃশ্য দেখেছেন এবং বিকট শব্দ শুনেছেন। প্রতিবেদনে ইরানের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।
রিয়াদ বিমানবন্দর ও প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে সৌদি আরব
সৌদি আরব বাহরাইন, কাতার, জর্ডান ও কুয়েতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। রিয়াদ জানিয়েছে, এসব হামলা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। সৌদি আরব সতর্ক করেছে যে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের অবিরাম লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে এর গুরুতর পরিণতি হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শনিবার ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের নিন্দা বার্তা আসে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ঘটনাটি উপসাগরীয় অঞ্চলে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সৌদি আরবের অবস্থানকে স্পষ্ট করে তুলেছে, যেখানে সাম্প্রতিক সামরিক কর্মকাণ্ডের পর পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়ে গেছে।
গালফ দেশগুলোতে ইরানের হামলার নিন্দা জানাল সৌদি আরব
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহীম সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। উমরাহ হজ পালন শেষে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেশে ফেরার কথা ছিল তার। তবে জেদ্দা থেকে দুবাইগামী এমিরেটস ফ্লাইটটি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আবার জেদ্দায় ফিরে আসে। ফলে তিনি এবং আরও অনেকে বর্তমানে জেদ্দা বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করলে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। এর ফলে অঞ্চলের বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েন।
মুশফিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি উমরাহ সম্পন্ন করেছেন এবং এখন জেদ্দা বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন। তিনি কবে দেশে ফিরতে পারবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে ফ্লাইট বন্ধ, সৌদিতে আটকা মুশফিকুর রহীম
পবিত্র রমজান মাসে এক দিনে সর্বাধিক ওমরাহ পালনের নতুন রেকর্ড ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার মোট ৯ লাখ ৪ হাজার মানুষ ওমরাহ পালন করেন, যা ২০২৫ সালের ৭ মার্চের ৫ লাখ মুসল্লির পূর্ববর্তী রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে। মক্কার মসজিদুল হারামে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির আগমন সামলাতে সৌদি কর্তৃপক্ষ কঠোর নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
কাবা শরিফের চারপাশের সাদা মার্বেলের খোলা চত্বর মাতাফ এলাকা সারা দিন শুধু ওমরাহ পালনকারীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, রমজানের শুক্রবার ও মাগরিব, ইশা, তারাবি এবং শেষ দশকের তাহাজ্জুদের নামাজে মসজিদুল হারামে মুসল্লিদের ভিড় বেড়ে যায়। নামাজের স্থান পূর্ণ হয়ে গেলে মুসল্লিদের নির্ধারিত খোলা প্রাঙ্গণ ও এলাকাগুলোতে নামাজ আদায়ের আহ্বান জানানো হয়।
মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সাইনেজ অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাঁটার পথ, সড়ক ও খোলা প্রাঙ্গণে জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়। ভিড় ও যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা হয় এবং অননুমোদিত মোটরসাইকেল ও সাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।
রমজানে এক দিনে ৯ লাখ ৪ হাজার ওমরাহ পালনকারীর রেকর্ড
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও দেশীয় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ৪০টি দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি আরব। দেশটির ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি জানিয়েছে, আরও ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চল বা শহরের ক্ষেত্রে আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এই সিদ্ধান্ত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঘোষণা করা হয়।
গালফ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও রোগতাত্ত্বিক হালনাগাদের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ দেশগুলোর তালিকা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। কিছু নিষেধাজ্ঞা ২০০৪ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে, আবার কিছু ধাপে ধাপে যুক্ত হয়েছে ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে। উচ্চমাত্রার এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাবকে এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুমোদিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মান পূরণ করলে তাপপ্রক্রিয়াজাত মুরগি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়। এসব পণ্যের সঙ্গে সরকারি সনদ থাকতে হবে, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে ভাইরাস সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে এবং পণ্য অনুমোদিত স্থাপনা থেকে এসেছে।
বাংলাদেশসহ ৪০ দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানি বন্ধ করল সৌদি আরব
সৌদি একাডেমিক ড. আহমদ আল-তুওয়াইজরি এক নিবন্ধে ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আবুধাবির শাসকরা জায়নবাদীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পুরো অঞ্চলকে ‘ট্রয়ের ঘোড়া’য় পরিণত করেছেন, যার মাধ্যমে বৃহৎ ইসরাইল প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ তৈরি হচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত নিবন্ধটি তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের প্রতিবাদের পর সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলপন্থি গোষ্ঠীগুলো লেখককে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। পরে নিবন্ধটি ফের প্রকাশিত হয় এবং দাবি করা হয় এটি কখনোই সরানো হয়নি।
এই প্রকাশনা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আমিরাতের বিরুদ্ধে প্রথম প্রকাশ্য সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দুই মিত্র দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতভেদের ইঙ্গিত দেয়। আল-তুওয়াইজরি বলেন, গাজা ও ইয়েমেনের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক গভীর আঞ্চলিক বিরোধ তৈরি হয়েছে। তার মতে, ইসরাইলের আচরণে সৌদি আরব অপমানিত বোধ করছে এবং এখন দেশটির ভাষা ও অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে।
ঘটনাটি রিয়াদ ও আবুধাবির সম্পর্কের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে সৌদি আরব তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করছে।
আমিরাত-ইসরাইল সম্পর্কের সমালোচনায় সৌদি লেখকের নিবন্ধে আঞ্চলিক টানাপোড়েন
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তাহনুন বিন জায়েদকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে ইয়েমেন ও সুদানে আবুধাবির নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মিডল ইস্ট আই একাধিক মার্কিন ও পশ্চিমা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, কয়েক সপ্তাহ আগে পাঠানো এই চিঠিতে সৌদি আরব উভয় সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে আমিরাতের কার্যকলাপ সম্পর্কে অভিযোগ তোলে।
চিঠিতে সৌদি যুবরাজ উল্লেখ করেন যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ইয়েমেনে সৌদি সামরিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজনীয়। এতে বলা হয়, সৌদি আরব ইয়েমেনকে তার প্রভাববলয়ের অংশ হিসেবে দেখে এবং দক্ষিণ সীমান্তে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির দায়িত্ব নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। যুবরাজের ভাই ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমানের মাধ্যমে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেন ও সুদানে আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে সৌদি যুবরাজের উদ্বেগ প্রকাশ
সৌদি আরব রবিবার দেশটির প্রতিষ্ঠা দিবস উদ্যাপন করেছে। ১৭২৭ সালে ইমাম মোহাম্মদ বিন সৌদ প্রতিষ্ঠিত প্রথম সৌদি রাষ্ট্র ‘আমিরাত অব দিরিয়াহ’-এর স্মরণে প্রতি বছর ২২ ফেব্রুয়ারি এই দিবস পালিত হয়। দিবসটি সৌদি আরবের ঐতিহাসিক শিকড়, ঐতিহ্য ও নেতৃত্বের উত্তরাধিকারকে তুলে ধরে। ২০২২ সালে বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ দিনটিকে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেন।
প্রতিষ্ঠা দিবস সৌদি জাতীয় দিবস থেকে আলাদা, যা ২৩ সেপ্টেম্বর আধুনিক সৌদি আরবের একীকরণের স্মারক হিসেবে পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে নাগরিক ও প্রবাসীরা দীর্ঘ ছুটি উপভোগ করছেন এবং দেশজুড়ে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।
রাজধানী রিয়াদে ৫ হাজারের বেশি আলোকসজ্জা স্থাপন করা হয়েছে এবং রিয়াদ অঞ্চলে ২৫ হাজারের বেশি পতাকা টানানো হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, এসব আয়োজন প্রায় তিন শতাব্দীর ঐতিহ্যের প্রতি গর্ব প্রকাশ এবং জনপরিসরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের ২৯৯ বছর স্মরণে সৌদি আরবে প্রতিষ্ঠা দিবস উদ্যাপন
সৌদি আরব ২০২৬ সালের ১২ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে ১৯ হাজারের বেশি অবৈধ প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রম, আবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ১২ হাজার ১৫৩ জন আবাসন বিধি, ২ হাজার ৮৪৫ জন শ্রম আইন এবং ৪ হাজার ১০৩ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হন। এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টাকালে ৬৬৩ জনকে আটক করা হয়, যাদের বেশিরভাগই ইয়েমেনি ও ইথিওপিয়ান নাগরিক।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের সহায়তাকারী ২৮ জনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া প্রবাসীদের মধ্যে ১৪ হাজার ৮৯৩ জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, ১ হাজার ৩৮৯ জনকে ভ্রমণ নথি সংশোধনের নির্দেশ এবং ১৫ হাজার ৫৮৫ জনকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, সীমান্ত নিরাপত্তা লঙ্ঘনে সহায়তাকারীদের ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে এবং ব্যবহৃত যানবাহন ও বাসস্থান বাজেয়াপ্ত করা হবে।
সৌদি আরবে সপ্তাহব্যাপী অভিযানে ১৯ হাজারের বেশি অবৈধ প্রবাসী গ্রেপ্তার
রমজান মাসে ওমরাহ পালনকারীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও নির্বিঘ্ন ইবাদত নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যাতায়াত ও স্বাস্থ্য–নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মসজিদের প্রবেশপথে ডিজিটাল সংকেত বসানো হয়েছে, যেখানে সবুজ মানে জায়গা খালি এবং লাল মানে পূর্ণ।
যানজট এড়াতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে এবং বাস, ট্যাক্সি ও হারামাইন হাই স্পিড রেলওয়ে ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় এলাকায় মোটরসাইকেল, সাইকেল ও অনুমোদনহীন যানবাহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মুসল্লিদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান ও বৈদ্যুতিক কার্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, এবং শিশুদের ঘন ভিড় এলাকায় না আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পানিশূন্যতা এড়ানো, বিশ্রাম নেওয়া, অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মানা ও ডিজিটাল অনুমতিপত্র সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অস্ত্র বহন, ভিক্ষাবৃত্তি, অননুমোদিত বিক্রি ও চলাচলে বাধা সৃষ্টি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রমজানে ওমরাহ পালনকারীদের জন্য নতুন নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ নির্দেশনা জারি
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার দুই প্রবাসী সৌদি আরবে পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বনগ্রাম ইউনিয়নের ঘিলাকান্দি গ্রামের হামির উদ্দিন (৫৭) রিয়াদে বৃহস্পতিবার ইফতার শেষে বাসায় ফেরার পথে লরির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপরদিকে লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্ব বাহেরচর গ্রামের হৃদয় মিয়া (২২) বুধবার সকালে মক্কায় পাঁচতলা ভবনের ছাদে কাজ করার সময় নিচে পড়ে মারা যান।
হামির উদ্দিন প্রায় ২০ বছর ধরে সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন এবং তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। হৃদয় মিয়া এক বছর আগে সংসারের সচ্ছলতার আশায় সেখানে যান এবং নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। সহকর্মীরা মোবাইল ফোনে দুর্ঘটনার খবর তাদের পরিবারকে জানান।
দুই প্রবাসীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য স্বজন ও এলাকাবাসী সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রিয়াদ ও মক্কায় পৃথক দুর্ঘটনায় কটিয়াদীর দুই প্রবাসীর মৃত্যু
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৮৮ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।