Web Analytics

কক্সবাজারের টেকনাফে লবণ মাঠে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে, যেখানে আগে ধান চাষ হতো না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় ৩০০ হেক্টর লবণ মাঠে ব্রি ধান-৭৫ ও বিনা ধান-১৭ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষকেরা। একই জমিতে লবণ ও ধান চাষে আয় ও উৎপাদন বেড়েছে। কর্তৃপক্ষ অন্যান্য পরিত্যক্ত লবণ মাঠেও এ উদ্যোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে, যা স্থানীয় কৃষক ও দেশের খাদ্য সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ নিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল এবং ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। জানা গেছে, এ বছর আমন মৌসুমে ৯ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। ওই জমির অনুকূলে সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে টিএসপি ৪৯.২০, ইউরিয়া ৩৮৫ ও ডিএপি ১০৯.২০ মে.টন। দেখা গেছে, বিএডিসি সার ডিলার সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সারের ব্যবসা পরিচালনা করছেন না। ডিলাররা অবৈধভাবে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করেছেন। এছাড়াও ডিলারদের সার উত্তোলন, মজুত ও বিতরণের বিষয়টি যথাযথভাবে মনিটরিং করছে না কৃষি বিভাগ। কিছু ক্ষেত্রে কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে নানা অনিয়ম করছেন ডিলাররা। কৃষকদের অভিযোগ, বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে সার। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ এ ব্যাপারে তৎপর রয়েছে। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। খুব শিগগিরই এ সমস্যা সমাধান হবে।

Card image

খুলনায় উপকূলীয় কৃষকরা মৎস্য ঘেরের ধারে বছরজুড়ে তরমুজ চাষ করে অতিরিক্ত আয় করছেন। সাধারণত গ্রীষ্মকালীন এই ফলের অসময়ে চাষ এখন ৯৬৬ হেক্টর এলাকায় বিস্তৃত, উৎপাদনের সম্ভাবনা ৩০,৯০০ টন। মাচাং পদ্ধতিতে চাষে সেচ ও পোকামাকড়ের সমস্যা কমে আসে। উচ্চ চাহিদার কারণে প্রতি মণ ১,২০০–১,৯০০ টাকায় বিক্রি সম্ভব। সঠিক বীজ, পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি সহায়তার মাধ্যমে এ পদ্ধতি এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে এবং পরিত্যক্ত জমিকে লাভজনক চাষযোগ্য ভূমিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করছে।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কৃষক মো. শহিদুল্লাহ বর্ষায় জংলি বেগুন গাছে গ্রাফটিং করে কীটনাশকমুক্ত টমেটো ফলিয়ে চমক দেখিয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় এ পদ্ধতিতে ঢলে পড়া রোগ থেকে ফসল রক্ষা ও বেশি ফলন নিশ্চিত হয়েছে। এক হাজার গাছের মধ্যে ৯৯৮টিতে সফলতা মিলেছে। প্রতি কেজি ১৮০–২০০ টাকায় বিক্রি করে ১০ শতাংশ জমি থেকে প্রথম দফায় ৭০ হাজার টাকা আয় করেছেন তিনি, আরও ৪০–৪৫ হাজার টাকার বিক্রির আশা করছেন। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষেত দেখতে ভিড় করছেন।

গাইবান্ধা, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামসহ রংপুর কৃষি অঞ্চলে আগামী মৌসুমে আলুবীজ সংকট দেখা দিতে পারে। ২ হাজার টন ধারণক্ষমতার নতুন হিমাগার নির্মাণ বিলম্বিত হওয়ায় বিদ্যমান হিমাগার অপর্যাপ্ত এবং আইনি নিষেধাজ্ঞার কারণে বীজ সংগ্রহে কৃষক ও ডিলাররা দূর থেকে সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা খরচ বৃদ্ধি করছে। নির্মাণ কাজ ৭০% সম্পন্ন হলেও বহুবার সময় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে পরবর্তী বপনের আগে হিমাগার কার্যক্রম শুরু হবে।

জুলাইয়ের শুরু থেকে টানা বৃষ্টিতে যশোর জেলার ৩ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সবজি, আউশ-আমন ধান, পাট ও মরিচ চাষ ক্ষতির মুখে পড়েছে। নিচু জমিগুলোয় কয়েকদিন ধরে পানি জমে রয়েছে। প্রধান সবজি উৎপাদনকারী এলাকাগুলোর কৃষকেরা বড় ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন। চুড়ামনকাটির চারা উৎপাদনের জমিগুলোও পানির নিচে। কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, বৃষ্টি না থামলে পচন ধরতে পারে, তবে কৃষকদের সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশের দ্রুত বেড়ে ওঠা মাছ চাষ ভারী ধাতু দূষণের কারণে ঝুঁকির মুখে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, চাষের মৃগেলে ক্রোমিয়ামের পরিমাণ এফএওর নিরাপদ সীমার চেয়ে চার গুণ বেশি। যদিও বর্তমান মাত্রা মানুষের জন্য ক্ষতিকর নাও হতে পারে, মাছের খাদ্য ও দূষিত পানির কারণে ভারী ধাতুর উপস্থিতি উদ্বেগজনক। নিয়মিত পুকুর পরিষ্কার না করা এবং দূষিত খাদ্য ব্যবহারের ফলে সমস্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্য ও উৎপাদন সুরক্ষায় সরকারের তৎপরতা জরুরি।

যশোরের গদখালী অঞ্চল, যেখানে আগে দেশীয় ফুলের চাষ হত, এখন সেখানে আরআরএফ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা টিস্যুকালচার পদ্ধতিতে নেদারল্যান্ডসের লিলিয়াম, জারবেরা প্রভৃতি বিদেশি ফুলের চারা উৎপাদন করছে। আগে ভারত থেকে উচ্চ দামে আমদানি হত এসব চারা, এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হওয়ায় আমদানির ওপর নির্ভরতা কমছে। যদিও চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম, তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চাষিরা কম দাম, উন্নত মান এবং প্রশিক্ষণ সুবিধা পাচ্ছেন। বাংলাদেশ শিগগিরই বিদেশি ফুলের চারা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে।

পঞ্চগড় ও নীলফামারীর টমেটো চাষী ও ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে টমেটো আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন, কারণ এতে স্থানীয় বাজারে টমেটোর দাম মারাত্মকভাবে কমে গেছে। তারা মানববন্ধনের মাধ্যমে জানান, মৌসুম শেষে তারা চড়া দামে টমেটো কিনেছেন, কিন্তু আমদানির কারণে দাম পড়ে গেছে। ফলে কৃষক ও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে তারা অক্ষম। তারা বলেন, যদি আমদানি দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ না হয়, তাহলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে, এমনকি জমি বিক্রির প্রয়োজন হতে পারে।

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবন করেছে জিএইউ-১, যা বাংলাদেশের প্রথম লবণসহিষ্ণু গমের জাত। ১২ ডিএস পর্যন্ত লবণাক্ততা সহনশীল এই জাত উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য উপযোগী এবং এতে রয়েছে উচ্চ ফলন ও প্রোটিন। দ্রুত পরিপক্ব হওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বেশি খড় উৎপাদনের কারণে এটি পশুখাদ্য হিসেবেও কার্যকর। জাতীয় বীজ বোর্ড অনুমোদিত এই জাত স্বাভাবিক মাটিতে হেক্টরপ্রতি ৪.৫ টন এবং লবণাক্ত মাটিতে ৩.৭৫ টন ফলন দেয়। গবেষকদের মতে, এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

চলতি বছরে বোরো সংগ্রহ অভিযানে ২৮ হাজার ২৮০ মেট্রিক টন সংগ্রহ করেছে চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগ। সংগ্রহ অভিযানের দুই মাস বাকি থাকতেই লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশের অর্জিত হয়েছে। এ ধান সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত চলমান থাকবে। এর মাধ্যমে ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় কৃষকও খুশি। জানা গেছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩৬ টাকা কেজি দরে গত ২৪ এপ্রিল থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়।

Card image

নাটোরের চলনবিল অধ্যুষিত গুরুদাসপুর ও তাড়াশ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সময়ের আগে হওয়া বন্যার পানিতে ডুবে যাচ্ছে সদ্য পাকা বোরো ধান। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। শ্রমিক সংকট ও ধান সংরক্ষণের সমস্যা দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনর রশিদ বলেন, চলনবিল এলাকায় প্রায় ৩০ ভাগ জমিতে সরিষা তোলার পর নামলা জাতের বোরো ধান রোপণ করা হয়। এটি একটি লাভজনক পদ্ধতি হলেও ঝুঁকিও রয়েছে। হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় ধান ঘরে তুলতে না পারলে কৃষকরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। শ্রমিকের চাহিদা মিটাতে না পারলে এ ক্ষতি কমানো সম্ভব না।

Card image

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। পদক্ষেপ হিসেবে তিস্তা ব্যারেজের সব গেট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেক জমির উঠতি বাদাম খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চরের কৃষকরা নৌকা নিয়ে জমি থেকে বাদাম তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। চাষি আনারুল ইসলাম বলেন, আমি ১৫০ একর জমিতে বাদাম চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত এক-তৃতীয়াংশ বাদাম তুলতে পেরেছি। বাকি বাদাম খেত তিস্তার পানিতে ডুবে গেছে।

Card image

খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, দেশে খাদ্য পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। আজকের দিনে খাদ্য মজুত আছে ১৫ লাখ টন; যা গত বছরের চেয়ে তিন লাখ টন বেশি। আমরা সন্তোষজনক অবস্থানে কখনো ঠিক থাকতে পারি না। কারণ এটা ক্রমাগত খরচ হচ্ছে আবার ক্রমাগত যোগ হচ্ছে। একটা ফসলেই আমাদের ফসল না। তিনি বলেন, দুদিন পরে আসবে আউশ, তারপর আসবে আমন। আমাদের দরকার পড়লে বিদেশ থেকে আমদানি করি। গত বছর আমাদের বেশ আমদানি করতে হয়েছে। এবার বোরো আবাদ যেমন হয়েছে, আমনটাও যদি ভালো হয় তাহলে এবার বিদেশ থেকে চাল আমদানি করতে হবে না।

Card image

বেশি দরে বীজ আলু ক্রয় করে উৎপাদিত আলু কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। এতে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এমতাবস্থায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে বীজ আলুর দর পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন চাষিরা। বক্তারা বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমরা বিএডিসি থেকে ভিত্তি বীজ ক্রয় করেছিলাম ৪৮-৫৪ টাকা দরে। ওই সময়ে উৎপাদিত বীজ আলুর দর পেয়েছি ৩৫-৩৭ টাকা কেজি। অথচ বাইরে আলুর দর ছিল ৭০-৮০ টাকা। কিন্তু আমরা বিএডিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বিধায় বাইরে কোনো আলু বিক্রি না করে বিএডিসির চাহিদামতো আমরা বীজ সরবরাহ করেছি। যার ফলে বিএডিসি ব্যাপক লাভবান হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও একই ঘটনা ঘটেছে!

Card image

গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১০৪ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।