বঙ্গোপসাগরে গঠিত ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সমুদ্রবন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি করেছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা বন্দরে দূরবর্তী সংকেত ১ নামিয়ে দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত ২ প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশে তীব্র বাতাস হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবে সোমবার সন্ধ্যা থেকে পাঁচ দিন ধরে দেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দেশের বড় অংশ ঝড় বা উপকূলীয় ঢেউ থেকে নিরাপদ থাকবে, তবে উপকূলীয় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।
বঙ্গোপসাগরে গঠিত ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে তিনটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রা কিছুটা স্বাভাবিকের উপরে থাকতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী এই মাসে দুই থেকে চারদিন মাঝারি থেকে ভারি বজ্রবৃষ্টি এবং তিন থেকে পাঁচ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। নদীগুলো স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার সম্ভাবনা থাকলেও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি থাকতে পারে। দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ২.২৫ থেকে ৪.২৫ মিলিমিটার এবং উজ্জ্বল সূর্যকিরণ ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা থাকতে পারে, যা মৌসুমি আবহাওয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য চরম ঘটনা নির্দেশ করছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে তিনটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
সাগরে একটি গভীর নিম্নচাপের কারণে বাংলাদেশে ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে, যার মধ্যে রাজধানী ঢাকাও রয়েছে। ভোর থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘলা ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে ঢাকা। আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ৩ থেকে ৪ দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বজ্রসহ ঝড় ও ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাতাসের সম্ভাবনা রয়েছে। সপ্তাহান্তিক ছুটির দিনে কম যানবাহন চলাচল সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা অসুবিধা সৃষ্টি করেছে।
সাগরে গভীর নিম্নচাপের কারণে বাংলাদেশজুড়ে ঝড়ো বৃষ্টি, বজ্রসহ ঝড়ের সম্ভাবনা
সাংহাইতে ২৫ দিন ধরে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৯২৬ সালে স্থাপিত ৯৯ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙেছে। ২২ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত শহরে ধারাবাহিক তাপপ্রবাহ দেখা গেছে, যা এশিয়ায় বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে তুলে ধরে। অতিরিক্ত তাপের কারণে গ্লেসিয়ারের গলন, হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি এবং অস্থির আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই মাসে অনেক অঞ্চলে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) অতিক্রম করার পর বেইজিং ৭৫৪টি প্রদেশ, শহর ও কাউন্টির জন্য উচ্চ তাপ সতর্কতা জারি করে।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকে নোয়াখালীর উপকূলে ঝোড়ো বাতাস ও বিরামহীন বৃষ্টিপাত হচ্ছে, ফলে স্থানীয়রা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এবং নৌপথ বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে উত্তাল সাগরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৮ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং নৌযানগুলোকে উপকূলের কাছে সাবধানে চলাচল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানো হবে। উপকূলীয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরের এলাকায় দমকা বা ঝড়ো বাতাসের সম্ভাবনা থাকায় মৎস্যজীবী নৌকা ও ট্রলারকে সাবধানতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের আটটি আরব দেশ—মিশর, ইরাক, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন, বাহরাইন, কাতার ও কুয়েত—তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে, যেখানে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৫১°C পৌঁছাচ্ছে। অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতার কারণে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং বনভূমি ও কৃষিজমিতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও অস্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলিক চাপ এ পরিস্থিতির মূল কারণ বলে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ জনগণকে পর্যাপ্ত পানি পান, সরাসরি সূর্যালোাকা এড়িয়ে চলা এবং অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন।
১৯৭৬ সালের পর থেকে ইংল্যান্ডে এ বছর প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ সংস্থা। দেশের ১৪টি অঞ্চলের মধ্যে ৫টিতে খরা পরিস্থিতি চলছে, আর ৬টি অঞ্চলে পানি সরবরাহ কমে যাওয়ার ও ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। উত্তর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে হোসপাইপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সরকার কৃষক ও পানি সরবরাহকারী সংস্থাদের সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং নতুন জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার মাত্রা বাড়ছে, যা সংকটকে আরও গভীর করছে।
আগামী ১৩ আগস্টের দিকে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নতুন একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা দেশের উপকূলীয় এবং অন্যান্য অঞ্চলে ব্যাপক ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের কারণ হবে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী ১০ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়া ও মাঝারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হবে। তাপমাত্রায় সামান্য ওঠানামা থাকতে পারে এবং লঘুচাপ সৃষ্টি হলে বৃষ্টির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় ‘ঈশান’ বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে, যা ৪–৮ আগস্টের মধ্যে দেশের ৯০% এলাকায় বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটের নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। বজ্রপাত, দমকা হাওয়া এবং চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। সমুদ্র তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকতে পারে। আকাশ থাকবে আংশিক থেকে মেঘাচ্ছন্ন। দেশের উত্তরাঞ্চলে আবহাওয়া আরামদায়ক হলেও দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির ফাঁকে গরম ও ভ্যাপসা অনুভব হতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে সোমবার বিকাল ৪টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে, যা কিছু অঞ্চলে ১৮৮ মি.মি. পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অতিবৃষ্টির ফলে চট্টগ্রামের পার্বত্য এলাকাগুলোতে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ১০ দিন দেশের সব বিভাগে টানা ভারি বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষ দেশের উত্তরাঞ্চল ও বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় এ বৃষ্টি হচ্ছে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটের কিছু এলাকায় অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। তাপমাত্রা সামান্য কমে আসতে পারে এবং রংপুরের ওপর বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী এই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে ঢাকা সহ সারা দেশে টানা পাঁচদিন বৃষ্টিপাত হতে পারে। আগামী ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া হতে পারে। খুলনা ও বরিশাল বিভাগের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে দেশের অন্য অংশে দিনব্যাপী তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রাও সামান্য কমে যেতে পারে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচদিন টানা বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকাসহ রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায়ও বৃষ্টি হতে পারে। উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। দেশের তাপমাত্রা সামান্য ওঠানামা করতে পারে। বর্ধিত পূর্বাভাসে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ে বর্ষার বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় কৃষি খাতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। আমন ধান রোপণে পানি না থাকায় সেচের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষকদের, বাড়ছে খরচ। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট জাগ দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী জুলাইয়ের বৃষ্টিপাত আগের বছরের তুলনায় অনেক কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টির ধরণ পাল্টে যাচ্ছে, যা এই অঞ্চলের কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও কৃষকের জীবিকায় বড় হুমকি তৈরি করতে পারে।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৬৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।