রাজধানীর সদরঘাটে ময়ূর-৭ নামের একটি লঞ্চে আগুন লাগার পুরোনো ভিডিও নতুন ঘটনার দাবি করে ফেসবুকে ভাইরাল করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাটি ২০২৩ সালের ৩০ জুনের। সেদিন ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দায়িত্বরত কর্মকর্তা খালেদা ইয়াসমিন জানিয়েছিলেন, দ্রুত পদক্ষেপে আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছিল, যদিও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব জানা যায়নি। সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি পুরোনো ভিডিও ও সংবাদ ব্যবহার করে বর্তমান আগুনের ঘটনাগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে জানা গেছে। সদরঘাট এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী সামাজিক অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে এই প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। সদরঘাট থানা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এমন কোনো আগুন লাগার ঘটনা ঘটেনি এবং সবাইকে তথ্য যাচাই করে তবেই বিশ্বাস করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুরোনো ময়ূর-৭ লঞ্চে আগুনের ভিডিও ব্যবহার করে ফেসবুকে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে
নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নামে একটি ফেক অডিও রেকর্ড সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ অডিওটি ভুয়া বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কণ্ঠ নয়, বরং এটি একটি বিকৃত এবং কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট কণ্ঠ। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কণ্ঠ যিনি চিনেন, তিনি বুঝতে পারবেন এটি তার কোনো কণ্ঠ নয়। ‘ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট’সহ বিভিন্ন ফেক ফেসবুক আইডি থেকে ২৫ সেকেন্ডের ভুয়া অডিও রেকর্ডটিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে ভিপি নুরের বিষয়ে অজ্ঞাতনামা পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিতে শোনা যায়। একে আইনের পরিপন্থী বলে আরও বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের অসত্য ও বিভ্রান্তিকর অডিও রেকর্ড তৈরির বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মিটফোর্ডে নিহত ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগকে হিন্দু হিসেবে তুলে ধরে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে মিথ্যা বলেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। রোববার রাতে ফেসবুকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, সোহাগ একজন মুসলিম, যার পিতার নাম মো. আইয়ুব আলী ও স্ত্রীর নাম লাকি বেগম। এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে, ডব্লিউআইওএনসহ কয়েকটি গণমাধ্যম বিভ্রান্তিকর শিরোনাম দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রেস উইং। তারা আরও দাবি করে, ভারতীয় মিডিয়া ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে।
কুমিল্লার মুরাদনগরের ধর্ষণের ভুক্তভোগী নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে ফেসবুকে যে দাবি ছড়িয়ে পড়েছে, তা সঠিক নয়। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলা সাংবাদিক ও মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং কোনো জাতীয় বা আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমেও আত্মহত্যার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ফেসবুকের ওই দাবির পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য সূত্র নেই, তাই এটি ভিত্তিহীন প্রচারণা।
হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘হামাসের গাজা শাখার প্রধান ড. খালিল আল-হাইয়াকে দোহায় হত্যাচেষ্টার যে গুজব কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে—তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা তা জোরালোভাবে অস্বীকার করছি’। আরো বলা হয়েছে, এ ধরনের খবর প্রকাশ বা প্রচারের আগে সত্যতা যাচাই করুন এবং ইহুদিবাদী গণমাধ্যমের প্রোপাগান্ডার ফাঁদে পা দেবেন না’।
সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্ট লিখেছে, ‘বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন এক্সে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় পতাকা পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা করছে বলে মিথ্যা তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়েছে।’ জানা গেছে, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী এই গুজব ছড়িয়েছে। গুজবে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের পতাকায় পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত চাঁদ-তারকার ইসলামি প্রতীক যুক্ত করা হবে। প্রেস উইং জানায়, একটি কল্পিত পতাকার ছবি ভাইরাল হয়েছে, যার ভিউ সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ এবং এতে ব্যাপকভাবে সাড়া পড়েছে—বিশেষত পাকিস্তান, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের দর্শকদের মধ্যে। প্রেস উইং বলছে, যে তথ্য হয়েছে তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ বাংলাদেশ সরকার এ নিয়ে ভাবছে না।
সম্প্রতি ভারতের এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় তুরস্কের টার্কিশ টেকনিককে দায়ী করে ভারতীয় কিছু মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ায়। তবে আনাদোলুর ফ্যাক্ট-চেক লাইনের প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি টার্কিশ টেকনিকের রক্ষণাবেক্ষণে ছিল না। বিভ্রান্তিকর কিছু ছবির মাধ্যমে গুজবটি ছড়ানো হয়। টার্কিশ টেকনিক শুধু এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ করে, যেগুলো নিরাপদেই চলছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তাধীন এবং রক্ষণাবেক্ষণজনিত কোনো ত্রুটির প্রমাণ মেলেনি। উল্লেখ্য, ভারতীয় মিডিয়া পৃথিবীর সবচাইতে বেশী মিথ্যা সংবাদ ও গুজব রটায় বলে বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
শুক্রবার দুপুরে মুজাহিদ বিল্লাহসহ বেশ কয়েকজন ফেসবুকে লিখেছেন, সিনিয়রদের সঙ্গে বেয়াদবি করায় পদ হারালেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিব, নতুন সভাপতি আফসান। এরপরই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির জানান, টানা অনেকদিন বৃষ্টিতে ভিজে দলীয় কর্মসূচি পালন করায় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ঠান্ডা জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই আজ কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তার সুস্থতা কামনা করছি। আরও জানান, ছাত্রদলের সভাপতির শারীরিক অসুস্থতার সময়ে নানাধরনের ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে পড়তে দেখেছি। এগুলো সবই উদ্দেশ্যমূলক এবং বিভ্রান্তিকর প্রোপাগান্ডা। এ ধরনের গুজব পরিহার করুন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন শীর্ষক একটি দাবি অনলাইনে প্রচার করা হচ্ছে। তবে রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে। কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই ব্লগস্পটের বিনামূল্যের ডোমেইন সাইট ব্যবহার করে প্রকাশিত ভুয়া সংবাদ সত্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। এই ভুয়া তথ্যটি ছড়ানোর উৎস হিসেবে ফ্রি ডোমেইনের সাইটকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার নাম sadhinnews247।
গেল মার্চে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ২৯৮টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে শনাক্ত হয় যথাক্রমে ২৭১ ও ২৬৮টি ভুল তথ্য। মার্চে ধর্ষণ বিষয়ক অন্তত ২৭টি ভুল তথ্যও শনাক্ত করেছে তারা। রাজনৈতিক ১০৫টি ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল, যা মোট ভুল তথ্যের ৩৫ শতাংশ। এছাড়া জাতীয় বিষয়ে ১০৩টি, আন্তর্জাতিক বিষয়ে ১২টি, ধর্মীয় বিষয়ে ৩৬টি, বিনোদন ও সাহিত্য বিষয়ে তিনটি, শিক্ষা বিষয়ে তিনটি, প্রতারণা বিষয়ে ১২টি, খেলাধুলা বিষয়ে ১৬টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে মার্চে। ভিডিও কেন্দ্রিক ভুলই ছিল সবচেয়ে বেশি, ১৪৩টি। শনাক্ত হওয়া ভুল তথ্যগুলোর মধ্যে মিথ্যা হিসেবে ১৬৮টি, বিভ্রান্তিকর হিসেবে ৯৭টি এবং বিকৃত হিসেবে ৩১টি ঘটনাকে সাব্যস্ত করা হয়েছে। ফেসবু্কে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে, সংখ্যার হিসেবে যা ২৭৩টি। গত মাসে ভারতীয় গণমাধ্যমে চারটি ঘটনায় বাংলাদেশকে জড়িয়ে অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া তিনটি ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতীয় অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকেও এমন হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং জরুরি অবস্থা জারি নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি। এর আগে রোববার রাতে জরুরি অবস্থা জারি হচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘এটা একটা গসিপ। এ সম্পর্কে আমার কোন কমেন্টস নাই’। তিনি জানান, ঈদের পর ঢাকায় অবস্থিত হাই কমিশন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে অস্ট্রেলিয়া।
"এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ গ্রেপ্তার হয়েছেন" গতকাল মধ্যরাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে এটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। মঞ্জু আরও বলেন, এ নিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এক ক্ষুদে বার্তায় তিনি গণমাধ্যমকে এ কথা জানান। প্রসঙ্গত, আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে প্রায় প্রতি রাতেই বিভিন্ন ধরনের গুজব তৈরি করার চেষ্টা করে আসছে একটি মহল। যাদের অনেকে বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল ডা. জাকির নায়েককে নাগরিকত্ব দেওয়ার দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। একটি ভাইরাল পোস্টে ২০১৭ সালের একটি ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়, যেখানে পেরকাসার সাবেক প্রধান ইব্রাহিম আলি তাকে একটি পুরস্কার দিচ্ছেন। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, নায়েক এখনও স্থায়ী বাসিন্দা এবং নাগরিকত্বের আবেদন করেননি। ভারত ২০১৬ সাল থেকে তাকে খুঁজছে, তবে মালয়েশিয়া জানিয়েছে, তিনি কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করলে তাকে প্রত্যর্পণ করা হবে না। তার ওপর থেকে জনসমক্ষে বক্তৃতার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত ‘গত ৬৫ ঘণ্টায় ৭২ ধর্ষণ’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এই প্রতিবেদনে পুরোনো খবরের স্ক্রিনশট দিয়ে ঘটনাগুলো ৬৫ ঘণ্টার মধ্যে ঘটেছে বলে দাবি করা হয়, যা সঠিক নয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্যটি পরিষ্কার করেছে, এবং বলেছে যে এমন অতিরঞ্জিত তথ্য বা মিথ্যা পরিসংখ্যান জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্পষ্ট করেছেন যে, সামাজিক মাধ্যমে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যে দাবি ছড়ানো হয়েছে, তা বিএনপির অফিসিয়াল অবস্থান নয়। রিজভী বলেন, এগুলি কিছু ব্যক্তির ব্যক্তিগত মতামত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য, এবং সরকারকে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৬৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।