বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে দেশে অন্তত দুটি বড় ও শক্তিশালী ইসলামী ব্যাংক গড়ে উঠবে। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থায়ন ও ব্যাংকিং সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এসব ব্যাংক সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমানতকারীদের ভালো রিটার্ন দেবে। সম্মেলনটি আয়োজন করে সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগ।
গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি বড় অংশ শরীয়াহভিত্তিক হলেও ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত থাকায় তারল্য ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। তিনি শরীয়াহভিত্তিক বন্ড বা সুকুক বাজার গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যা ইসলামী ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট নিরসনে সহায়ক হবে। বর্তমানে দেশের মোট ব্যাংকিং সম্পদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শরীয়াহভিত্তিক ব্যবস্থার অধীনে রয়েছে, তবে সেই অনুপাতে বিনিয়োগ ক্ষেত্র তৈরি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উদ্যোগে সুকুক বাজার গড়ে উঠলে সরকারের অর্থায়ন ব্যয় কমবে এবং ইসলামী ব্যাংকগুলো তারল্য ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি পাবে, ফলে পুরো খাতটি আরও স্থিতিশীল হবে।
দুটি শক্তিশালী ইসলামী ব্যাংক গঠনের ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্যাংকের সুদের হার কমানো সম্ভব নয়। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংকিং অ্যালমানাক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে এই মুহূর্তে ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো সম্ভব নয়।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকিং খাত এখন অনেকটা স্থিতিশীল হলেও সুদের হার কমানো সহজ নয়। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির সহায়তা ছাড়া সরকারের একার পক্ষে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে ব্যর্থ না হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দ্রুত বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ।
তার বক্তব্যে সরকারের আর্থিক নীতিতে সতর্ক অবস্থান এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
অর্থ উপদেষ্টা বললেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকের সুদের হার কমানো সম্ভব নয়
গাইবান্ধার সাঘাটায় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের নির্মাণকাজ মাঝপথে ফেলে পালিয়েছেন ঠিকাদার। গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ১৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় প্রকল্পটি শুরু হয়। ঢাকার মেসার্স ঢালী কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও সাত বছরেও ৬৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিন মাস আগে ঠিকাদারের লোকজন যন্ত্রাংশ নিয়ে সাইট ছেড়ে চলে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
দুই বছর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হলেও শ্রেণিকক্ষ ও প্রশাসনিক ভবনের অভাবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ভোগান্তিতে রয়েছেন। অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম জানান, ভবনের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েও কোনো সমাধান হয়নি।
জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আশিষ কুমার রায় জানিয়েছেন, নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ওয়ার্ক অর্ডার হলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।
সাঘাটায় টেকনিক্যাল কলেজের নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ রেখে পালালেন ঠিকাদার
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাবসহ যুক্তরাষ্ট্রের ‘রাশিয়ান স্যাংশনস বিল’ অনুমোদন পেয়েছে, যদিও ভোটাভুটি এখনো হয়নি। এই বিল পাস হলে ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোর ওপর রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা বন্ধে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন না করায় চুক্তিটি আটকে আছে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে আসছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের পর তা কমেছে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের অজয় শ্রীবাস্তব সতর্ক করেছেন, বিলটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের ৮৭.৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ঝুঁকিতে পড়বে। তিনি মনে করেন, বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও ভারতের উচিত রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া। প্রাক্তন বাণিজ্য সচিব অজয় দুয়া বলেছেন, ৫০০ শতাংশ শুল্ক বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সমান।
বিশ্লেষকদের মতে, বিলটি মূলত ভারতকে লক্ষ্য করছে, যেখানে চীন তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স থেকে সরে যাওয়া দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
রাশিয়ান তেল আমদানিকারকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০% শুল্ক প্রস্তাবে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের টানাপোড়েন
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকেলে ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে ড. রহমান বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং বর্তমানে কার্যকর থাকা ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেন।
রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং মার্কিন কাঁচামাল ব্যবহার করা পোশাকের ওপর শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের বিষয়ে একমত হন। উভয় পক্ষ দ্রুত অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান করে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি বাস্তবায়নে সম্মত হয়। ড. রহমান বলেন, বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে।
তিনি মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির পর ব্যবসায়িক ভ্রমণ সহজ করার আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি তহবিল প্রাপ্তির অনুরোধ করেন। রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার এসব বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠকে শুল্ক হ্রাস ও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা
বাংলাদেশের নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত করতে আগামী ২১ জানুয়ারি পে-কমিশন তাদের শেষ বৈঠক করবে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত পূর্ণ কমিশনের সভায় এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই সভাতেই পে-স্কেলের সব দিক চূড়ান্ত করা হবে, যদিও এর আগে আরেকটি পূর্ণ কমিশনের সভা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সময় স্বল্পতার কারণে কমিশন দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে।
কমিশনের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নবম পে-স্কেলে বেতনের অনুপাত ১:৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন যদি ১ টাকা হয়, সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন হবে ৮ টাকা। সর্বনিম্ন বেতনের জন্য তিনটি প্রস্তাব এসেছে—২১ হাজার, ১৭ হাজার ও ১৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে একটি চূড়ান্ত হবে। তবে সর্বোচ্চ বেতনের স্কেল এখনো নির্ধারিত হয়নি, কারণ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য ভাতার বিষয় এখনো চূড়ান্ত নয়।
এই পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২১ জানুয়ারি নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত করবে পে-কমিশন
ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংগঠনগুলোর জাতীয় নেটওয়ার্ক ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ) সম্প্রতি গণমাধ্যমে আলোচিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ২০২৫ নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিডিএফ জানায়, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশটি ক্ষুদ্রঋণবান্ধব নয় বা মুনাফাভিত্তিক—এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং এটি একটি ইতিবাচক ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ, যা ক্ষুদ্রঋণ খাতকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করবে। সিডিএফের মতে, প্রস্তাবিত ব্যাংকটি সামাজিক ব্যবসার নীতিতে পরিচালিত হবে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের মূলধনের অতিরিক্ত কোনো লভ্যাংশ নিতে পারবেন না।
সংগঠনটি জানায়, ব্যাংকের লক্ষ্য হবে দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও কুটির শিল্পের বিকাশে সহায়তা করা। এর কার্যক্রমে ঋণ, ইনস্যুরেন্স, রেমিট্যান্স, দেশি-বিদেশি অনুদান ও ঋণ গ্রহণের সুযোগ থাকবে। সিডিএফ আরও জানায়, কোনো এনজিওকে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংকে রূপান্তর করা হবে না এবং দ্বৈত নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নও উঠবে না, কারণ ব্যাংক অংশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে, আর এনজিও অংশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে এমআরএর অধীনে।
সিডিএফের মতে, ব্যাংকের ৬০ শতাংশ শেয়ার থাকবে দরিদ্র সদস্যদের হাতে, যা তাদের ক্ষমতায়ন ও লাভের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। সংগঠনটি দাবি করে, এই উদ্যোগ সফল হলে এটি শুধু দেশের ক্ষুদ্রঋণ খাতেই নয়, বৈশ্বিক পর্যায়েও একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
সিডিএফ বলছে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ সামাজিক ব্যবসার নীতিতে দারিদ্র্য নিরসনে সহায়ক
নীলফামারী জেলা সদর ও উপজেলার বাজারে হঠাৎ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু ডিলার ও পরিবেশক সরকার নির্ধারিত দাম অমান্য করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন। জানুয়ারিতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১,৩০৬ টাকা হলেও বাজারে তা ১,৮০০ থেকে ২,১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে সাধারণ ভোক্তা, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ডিলারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। অল্প কিছু সিলিন্ডার এলেও তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মেমো ছাড়াই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, দাম বাড়ার গুজব ছড়ানোর পর থেকেই ডিলাররা মজুতদারি শুরু করেন। অন্যদিকে এক পরিবেশক প্রতিনিধি পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশেষজ্ঞ ও ভোক্তারা দ্রুত প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে মজুতদারি, অতিরিক্ত দাম আদায় ও মেমোবিহীন বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, নইলে সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।
নীলফামারীতে এলপিজি সংকট, ডিলারদের বিরুদ্ধে মজুত ও অতিরিক্ত দামের অভিযোগ
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালের একটি স্থানীয় হোটেলে আয়োজিত অংশীজন মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না এবং সেটিই যুক্তিযুক্ত।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার হয়তো একটি কাঠামো তৈরি করে যেতে পারে, তবে এর বাস্তবায়ন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর। এক মাস পরই নির্বাচন, তাই সরকারের মনোযোগ এখন নির্বাচনের দিকেই। নির্বাচনের পর নতুন সরকার আগের কাজ বিবেচনায় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভায় গভর্নর আরও বলেন, ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে ছেঁড়া-ফাটা নোটের সমস্যা কমবে এবং নতুন ট্রেড লাইসেন্সে কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হলে ক্যাশলেস লেনদেন বাড়বে। তিনি দেশের আমদানিনীতিকে জটিল বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, কর্মকর্তাদের অদক্ষতার কারণে সময়মতো পণ্য আমদানি না হওয়ায় বাজারে দাম বেড়ে যায়।
নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হবে না বলে জানালেন গভর্নর
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি শুক্রবার জানিয়েছে যে ঢাকার আমিনবাজার এলাকায় তুরাগ নদীর তলদেশে স্থাপিত একটি বিতরণ পাইপলাইন মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে রাজধানীজুড়ে গ্যাসের অত্যন্ত স্বল্পচাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনটি মেরামত করা হলেও মেরামতের সময় পাইপলাইনে পানি প্রবেশ করে। একই সঙ্গে শহরে গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ কম থাকায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র স্বল্পচাপ দেখা দেয়। তিতাস গ্যাস জানিয়েছে, সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পরিচালন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য সংস্থাটি দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে।
আমিনবাজারে পাইপলাইন ক্ষতিতে ঢাকাজুড়ে গ্যাসের স্বল্পচাপ, জানাল তিতাস গ্যাস
শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান আশা প্রকাশ করেছেন যে আগামীর নির্বাচিত সরকার দেশের শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। শুক্রবার সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির বিদ্যমান ওয়েট প্রসেস পদ্ধতি থেকে ড্রাই প্রসেসে রূপান্তরের মাধ্যমে দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। পরিদর্শনে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম মোস্তফা এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুর রহমানসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান বলেন, দ্রুতই মিলের উৎপাদন শুরু হবে এবং বিসিআইসি সে লক্ষ্যে কাজ করছে।
নির্বাচিত সরকার নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়াবে বলে আশা
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নকে (আকু) বিল পরিশোধের পর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার কমেছে। বৃহস্পতিবার রিজার্ভ থেকে ১.৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে, যার ফলে মোট রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৩২.৪৩ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ এখন ২৭.৮৪ বিলিয়ন ডলার। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৭ জানুয়ারি রিজার্ভ ছিল ৩৩.৭৮ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম–৬ অনুযায়ী তা ছিল ২৯.১৮ বিলিয়ন ডলার। আকু হলো এশিয়ার নয়টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে একটি আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে প্রতি দুই মাস পরপর আমদানি-রপ্তানির বিল পরিশোধ করা হয়। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ।
নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের আকু বিল পরিশোধের ফলে রিজার্ভে এই হ্রাস ঘটেছে।
১.৫৩ বিলিয়ন ডলার আকু বিল পরিশোধে রিজার্ভ কমে ৩২.৪৩ বিলিয়ন
চট্টগ্রাম নগরীতে গত দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র এলপিজি সংকট দেখা দিয়েছে। বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত দাম ১,২৫৩ টাকা হলেও অনেক জায়গায় ২,০০০ টাকাতেও সিলিন্ডার মিলছে না। বহদ্দারহাট, চকবাজার ও নিউমার্কেট এলাকায় খুচরা ও পাইকারি দোকানে সরবরাহ সংকট দেখা গেছে। ফলে অনেক পরিবার বিকল্প হিসেবে কেরোসিনচুলা ও অন্যান্য জ্বালানির খোঁজ করছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত ডিসেম্বরে এলপিজি আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে কয়েকটি জাহাজ এলপিজি পরিবহন করতে না পারায় সরবরাহ ব্যাহত হয়। বেঙ্গল, বসুন্ধরা ও ইউনিটেডসহ বড় কোম্পানিগুলো আমদানি বন্ধ রাখায় পরিবেশকরা চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পাচ্ছেন না। ব্যাংক জটিলতায় অনেক প্রতিষ্ঠান এলসি খুলতে পারছে না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০–৮০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন।
লোয়াব সভাপতি আমিরুল হক আশা প্রকাশ করেছেন, সরকারের অনুমোদনের পর ১০–১৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন অভিযোগ করেছেন, আমদানিকারক ও ডিস্ট্রিবিউটররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনগণকে জিম্মি করে অতিমুনাফা লুটছে।
চট্টগ্রামে তীব্র এলপিজি সংকট, দাম বেড়েছে, ভোক্তাদের সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি
বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে জিআইজেড প্রস্তাবিত পাঁচটি প্রকল্পের জন্য ২১.৭৭ মিলিয়ন ইউরোর অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বাংলাদেশের পক্ষে এবং জিআইজেড ঢাকা অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর হেনরিখ-জুর্গেন শিলিং জার্মানির পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বলে ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
চুক্তির আওতায় পলিসি অ্যাডভাইজারি ফর প্রমোটিং এনার্জি ইফিসিয়েন্সি অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি (পিএপি ২), ইন্টিগ্রেট, প্রফেশনাল এডুকেশন ইন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সেফটি (পিআরইসিআইএসই), গ্রিন রুম এয়ার-কন্ডিশনিং (জিআরএসিই) এবং ডিজিটাল স্কিলস টু সাকসিড ইন এশিয়া (ডিএস২এস) প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এসব প্রকল্প ২০২৩ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে, যার লক্ষ্য জ্বালানি দক্ষতা, জলবায়ু সহনশীলতা, কারিগরি শিক্ষা ও ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি।
১৯৭২ সাল থেকে জার্মানি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪.০০ বিলিয়ন ইউরো আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং বর্তমানে জিআইজেড ১৮টি প্রকল্পে ১০০.৭২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান সহায়তা প্রদান করছে।
বাংলাদেশ-জার্মানি ২১.৭৭ মিলিয়ন ইউরোর অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর
মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন রোধ এবং প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত পুনরুদ্ধারের কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক নিলামের মাধ্যমে ১৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এই ক্রয় সম্পন্ন হয়।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে মোট ৬১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে এবং চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩,৭৫২ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা ও টাকার মান স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ডলার কেনার এই ধারাবাহিকতা ইঙ্গিত দেয় যে বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করছে, যাতে বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকে এবং বৈদেশিক আয়নির্ভর খাতগুলো সমর্থন পায়।
টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে ২০৬ মিলিয়ন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৮০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।