বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক আনুষ্ঠানিকভাবে সারাদেশে ভয়েস ওভার ওয়াই-ফাই (ভিও ওয়াই-ফাই) কলিং সেবা চালু করেছে। এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকেরা মোবাইল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে উন্নতমানের ভয়েস কল করতে পারবেন। দুর্বল নেটওয়ার্ক কভারেজযুক্ত এলাকা, যেমন উঁচু ভবন, ঘনবসতিপূর্ণ স্থান ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকেরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। এর আগে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা চালু করে গ্রাহকদের মতামতের ভিত্তিতে তা উন্নত করা হয়।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান জানান, ভিও ওয়াই-ফাই প্রযুক্তি স্থান ও অবকাঠামো নির্বিশেষে স্পষ্ট ও উচ্চমানের কলিং সেবা নিশ্চিত করবে। মোবাইল সিগন্যাল দুর্বল হলে কল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে রুট হবে, এবং এর জন্য কোনো অতিরিক্ত অ্যাপ বা অথেনটিকেশন প্রয়োজন হবে না। মোবাইল অপারেটর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইএসপি ও প্রযুক্তি অংশীদারদের সহযোগিতায় দেশব্যাপী এই সেবা চালু করা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে নির্দিষ্ট হ্যান্ডসেট মডেল ও নির্বাচিত আইএসপি অংশীদারদের মাধ্যমে সেবা পাওয়া যাচ্ছে। বাংলালিংক ডিভাইস নির্মাতা ও আইএসপি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে সেবার পরিধি বাড়াতে, যা এলটিই নেটওয়ার্কের পরিপূরক হিসেবে ইনডোর ও প্রত্যন্ত এলাকার সংযোগ আরও শক্তিশালী করবে।
বাংলালিংক সারাদেশে ভয়েস ওভার ওয়াই-ফাই সেবা চালু করে কলের মান ও সংযোগ উন্নত করছে
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে আইসিটি বিভাগ তাদের শ্বেতপত্র ictd.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনে ৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে গঠিত টাস্কফোর্স বিগত সরকারের সময় আইসিটি–সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা তদন্ত করে এই শ্বেতপত্র প্রণয়ন করে। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর টাস্কফোর্স চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, যা এখন প্রকাশিত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শ্বেতপত্রে গত দেড় দশকে আইসিটি বিভাগের কার্যক্রমে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও কাঠামোগত সমস্যার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে এতে বিভিন্ন সুপারিশও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকার আশা করছে, এই শ্বেতপত্র আইসিটি বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনবান্ধব সেবা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
আইসিটি বিভাগের অনিয়ম ও সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে অগ্রগতি সত্ত্বেও সরকার এখন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষকদের মূল্যায়ন রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পের কারিগরি পরীক্ষার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশের ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণে সক্ষম একটি শক্তিশালী ব্যাকবোন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
তবে প্রকল্পটি বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে অপতথ্য, প্রশাসনিক দুর্বলতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে। দরপত্র প্রক্রিয়া, যন্ত্রপাতি খালাস এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর চিঠি ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত এবং আর্থিক প্রস্তাব উন্মোচনে সময় স্বল্পতার অভিযোগও প্রকল্পের অগ্রগতিকে জটিল করেছে। তবুও প্রকল্পটি ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপন হবে, যা বিটিসিএলকে দেশের মোট ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের প্রায় ৩০ শতাংশ সরবরাহে সক্ষম করবে এবং ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।
বুয়েটের রিপোর্টের অপেক্ষায় সরকার, বিতর্কের মধ্যেও বিটিসিএলের ফাইভ-জি প্রকল্প এগোচ্ছে
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) মেট্রো রেলের র্যাপিড পাস ও এমআরটি পাস কার্ড ব্যবহারে সুবিধা আনতে নতুন মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। শনিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এখন থেকে র্যাপিড পাস অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই কার্ড রিচার্জ করা যাবে। প্রাথমিক পর্যায়ে নতুন অ্যাপ হওয়ায় কিছু ফিচারে সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে, তবে ডিটিসিএর টেকনিক্যাল টিম নিয়মিতভাবে উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।
যেসব গ্রাহক ইতোমধ্যে rapidpass.com.bd ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তারা একই ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাপে লগইন করতে পারবেন। লগইনের পর ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত রিচার্জ করা যাবে। ব্যাংক কার্ড ছাড়াও বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে রিচার্জের সুযোগ থাকবে। অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারীরা অ্যাপ স্টোরে “Rapid Pass” লিখে সার্চ দিয়ে বা নির্দিষ্ট লিংক থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন।
ডিটিসিএ জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে যাত্রীদের জন্য রিচার্জ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও ডিজিটাল হবে।
ঢাকায় মেট্রো রেলের র্যাপিড পাস রিচার্জে ডিটিসিএর নতুন অ্যাপ চালু
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) উদ্ভাবিত তিন চাকার স্বল্প গতির ব্যাটারিচালিত পরিবেশবান্ধব ই-রিকশার পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন হয়েছে। রোববার সকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন জিগাতলায় পৃথক অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে আফতাবনগর, ধানমণ্ডি ও মতিঝিল এলাকায় নির্ধারিত সড়কে ই-রিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি উপদেষ্টা ও সিটি প্রশাসকরা বলেন, ই-রিকশার নকশা, ব্রেকিং সিস্টেম ও ব্যাটারি নিরাপত্তা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলিত নগর পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নতুন নকশার ই-রিকশায় উন্নত ব্রেকিং ব্যবস্থা, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ৩৮ ভোল্টের লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা একবার চার্জে ৭০–৮০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম।
জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ই-রিকশার চলাচল নির্ধারিত এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে এবং প্রশিক্ষিত, লাইসেন্সধারী চালকরাই এটি চালাতে পারবেন। পাইলট পর্যায়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে পুরো ঢাকায় প্রকল্পটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকায় বুয়েটের পরিবেশবান্ধব ই-রিকশা পাইলট কর্মসূচি শুরু
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক ঘোষণা করেছে যে ভেনেজুয়েলার জনগণ আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিনা মূল্যে তাদের ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত বার্তায় প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বৃহৎ সামরিক অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নেওয়ার ঘটনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্টারলিংক জানিয়েছে, এই সময়ে ভেনেজুয়েলাবাসী তাদের উচ্চগতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বিনা খরচে ব্যবহার করতে পারবেন।
এই বিনা মূল্যের সেবা আগামী ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত চালু থাকবে, যাতে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার সময় ভেনেজুয়েলাবাসীরা যোগাযোগে থাকতে পারেন।
মার্কিন অভিযানের প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলায় ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিনা মূল্যে ইন্টারনেট দেবে স্টারলিংক
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর পর দেশে ক্লোন ও নকল মোবাইল ফোনের ব্যাপক ব্যবহার সম্পর্কে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে লাখ লাখ ভুয়া ও ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর সক্রিয় রয়েছে। শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, “1111111111111”, “0000000000000”, “9999999999999”–এর মতো অসংখ্য ভুয়া আইএমইআই নম্বর ব্যবহৃত হচ্ছে, যদিও এখনই এসব আইএমইআই ব্লক করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, দেশে লাখ লাখ মানুষ নিম্নমানের নকল ফোন ব্যবহার করছেন, যেগুলোর রেডিয়েশন বা স্পেসিফিক অ্যাবজরপশন রেট (SAR) পরীক্ষা কখনোই হয়নি। চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে এসব ডিভাইস সচল রয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ না করে ‘গ্রে’ হিসেবে ট্যাগ করা হবে। গত ১০ বছরে একটি আইএমইআই নম্বরের বিপরীতে ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি ভিন্ন কম্বিনেশন শনাক্ত হয়েছে। মোবাইল অপারেটররা এখনো ফোন, সিম-সংযুক্ত ও আইওটি ডিভাইস আলাদা করে শনাক্ত করতে পারে না, তবে বৈধভাবে আমদানি করা আইওটি ডিভাইস ট্যাগ করার কাজ শুরু হয়েছে।
এনইআইআর চালুর পর দেশে লাখ লাখ ভুয়া আইএমইআই নম্বর সক্রিয় থাকার তথ্য প্রকাশ
দেশের শীর্ষ টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী গ্রামীণফোন ভয়েস ওভার ওয়াই-ফাই (ভিওওয়াইফাই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওয়াই-ফাই কলিং সেবা চালু করেছে। ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঘোষিত এই সেবার মাধ্যমে গ্রামীণফোনের ভিওএলটিই গ্রাহকরা নির্ধারিত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত কোনো অ্যাপ ছাড়াই উচ্চমানের ভয়েস কল উপভোগ করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানটি একে দেশের ডিজিটাল সংযোগের অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে।
নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে গ্রামীণফোন প্রাথমিকভাবে ব্র্যাকনেট, কার্নিভাল ইন্টারনেট, চট্টগ্রাম অনলাইন লিমিটেড ও এমআইমি ইন্টারনেটের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে। কলের মান উন্নত ও গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা প্রদানের লক্ষ্যে এই সেবাটি ডিজাইন করা হয়েছে। গ্রামীণফোনের চিফ প্রোডাক্ট অফিসার সোলায়মান আলম জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি উদ্ভাবন ও ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে সেরা গ্রাহক অভিজ্ঞতা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, ওয়াই-ফাই কলিং চালু হওয়ায় মোবাইল অপারেটর থেকে টেলকো-টেক কোম্পানিতে রূপান্তরের যাত্রা আরও শক্তিশালী হয়েছে। অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই উন্নত ভয়েস কল সেবা প্রদানের এই পদক্ষেপ গ্রামীণফোনের উদ্ভাবনী প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
ভিওওয়াইফাই প্রযুক্তিতে ওয়াই-ফাই কলিং চালু করল গ্রামীণফোন
বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে চালু হওয়া ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রমের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে কোনো অবৈধ বা ক্লোন করা মোবাইল ফোন বন্ধ করা হবে না। প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, অনেক ব্যবহারকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রে একাধিক ফোন রেজিস্ট্রেশন দেখা গেলেও এটি সাময়িক সমস্যা এবং তা সমাধানের কাজ চলছে।
ফয়েজ তৈয়্যব জানান, মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে তিন বিলিয়নের বেশি ডেটাসেট পাওয়া গেছে, যেখানে পুরোনো তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ফলে অনেকের এনআইডিতে সচল ফোনের সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে। বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে পুরোনো তথ্য আর্কাইভ করে শুধুমাত্র বর্তমানে ব্যবহৃত হ্যান্ডসেট দেখানোর কাজ করছে। তিনি আরও জানান, ২০২১ সালে প্রথম চালুর চেষ্টা করা এই সিস্টেমে নতুন কিছু ফিচার যোগ করে এখন তা সচল করা হয়েছে।
সরকারের মতে, এনইআইআর চালুর মাধ্যমে চোরাই ও অবৈধ ফোন শনাক্ত করা সহজ হবে এবং নাগরিকরা তাদের এনআইডির বিপরীতে সিম ও ডিভাইস ব্যবহারের তথ্য জানতে পারবেন, যা সচেতনতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
এনইআইআর চালুর পর অবৈধ ফোন বন্ধে ৯০ দিনের সময় দিচ্ছে সরকার
দক্ষিণ কোরিয়ার মোটরযান নির্মাতা হুন্দাই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস শো (সিইএস)-এ তাদের নতুন ইলেকট্রিক উড়ন্ত যান ‘সুপারনাল এস-এ২’ প্রদর্শন করেছে। ইভিটিওএল প্রযুক্তিনির্ভর এই যাত্রীবাহী উড়ন্ত গাড়িটি হেলিকপ্টারের মতো উল্লম্বভাবে উঠতে ও নামতে পারে এবং বিমানের মতো সামনের দিকে উড়তে সক্ষম। এটি প্রায় দেড় হাজার ফুট উচ্চতায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ মাইল বেগে উড়তে পারে এবং একবার চার্জে ২৫ থেকে ৪০ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক হওয়ায় এটি শব্দ ও দূষণ কমায়, যা শহুরে পরিবেশের জন্য উপযোগী।
ঢাকার প্রেক্ষাপটে এয়ার ট্যাক্সি ধারণাটি যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি বাস্তবায়নও কঠিন। আকাশপথ ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, ভার্টিপোর্ট নির্মাণ ও খরচ—সবকিছুই বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমে এটি করপোরেট যাত্রী বা জরুরি সেবার জন্য সীমিতভাবে চালু হতে পারে। তবে প্রযুক্তির খরচ কমলে এবং অবকাঠামো গড়ে উঠলে এটি ভবিষ্যতে গণপরিবহনের বিকল্প রূপ নিতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এয়ার ট্যাক্সি ঢাকার যানজট পুরোপুরি দূর করতে না পারলেও, এটি নগর চলাচলে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
ঢাকায় ভবিষ্যৎ আকাশযাত্রায় হুন্দাইয়ের ইলেকট্রিক এয়ার ট্যাক্সি নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) বাস্তবায়ন নিয়ে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ঢাকাসহ সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার মোবাইল ব্যবসায়ী এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করছেন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ঘোষণা দিয়েছে, আগামীকাল থেকে অবৈধ বা নিবন্ধনবিহীন মোবাইল ফোন দেশে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারের দাবি, এনইআইআর চালু হলে অবৈধ ফোন বাণিজ্য বন্ধ হবে, অপরাধ কমবে এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, বিদেশ থেকে মাত্র ১৮টি প্রতিষ্ঠান মোবাইল আমদানি করে এবং এনইআইআর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হবে। তারা আশঙ্কা করছেন, প্রায় ৫০ লাখ ফোন অবৈধ হয়ে যাবে এবং প্রায় ২০ হাজার ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বর্তমানে মোবাইল শিল্পে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার মানুষ কর্মরত এবং সরকার বছরে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বিটিআরসি যৌথভাবে শুল্কহার কমানো ও অনিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের নিবন্ধনের উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এনইআইআর বাস্তবায়ন হলে অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধ হয়ে রাজস্ব বাড়বে, ভোক্তা সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার হবে, তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক নীতিমালা জরুরি।
অবৈধ ফোন বন্ধে এনইআইআর চালু, বিক্ষোভে উত্তাল মোবাইল ব্যবসায়ীরা
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন নির্মিত থার্ড টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক কাভারেজ নেই, যা নকশাগত ত্রুটির কারণে ঘটেছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) নির্মাণের প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে এই ত্রুটি শনাক্ত করে এবং জরুরিভিত্তিতে নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। সিলিং খুলে ক্যাবল স্থাপনের প্রয়োজন হওয়ায় কাজ শেষ হতে ছয় থেকে সাত মাস সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।
বেবিচক সূত্র জানায়, মূল নকশায় ইন-বিল্ডিং মোবাইল নেটওয়ার্ক সলিউশন অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এখন নতুন করে ডিজাইন সংশোধন করতে হচ্ছে, যা কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করবে। জরুরি বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটকের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তিতে নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে। অন্যান্য অপারেটররা শুধু জায়গা ভাড়া দিতে রাজি হলেও রাজস্ব ভাগাভাগির প্রস্তাব দেয়নি। চুক্তি প্রতি দুই বছর পর পর পর্যালোচনা হবে এবং নবায়নের ক্ষেত্রে ভাড়া ২.৫ শতাংশ হারে বাড়বে।
বেবিচকের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকা একটি বড় ত্রুটি। তারা আশা করছেন, টেলিটকের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে এবং কাজ শেষ হলে টার্মিনালটি যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা যাবে।
নকশাগত ত্রুটিতে শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন স্থগিত
চীন তাদের নিজস্ব তৈরি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ সি৯১৯–এ প্রথমবারের মতো একজন নারী পাইলটকে ক্যাপ্টেন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পেয়েছেন ইউ ইউ, যিনি এর আগে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজের পাইলট ছিলেন। ২০১৫ সালে চায়না সাউদার্নে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি ‘ভুল-শূন্য’ রেকর্ড ধরে রেখেছেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি সি৯১৯ প্রকল্পে যুক্ত হয়ে দীর্ঘ ও কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। সাংহাইয়ে কমাকের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শ্রেণিকক্ষ ও ফ্লাইট সিমুলেটরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুশীলনও করেন তিনি।
সি৯১৯ হলো রাষ্ট্রায়ত্ত কমার্শিয়াল এয়ারক্রাফট করপোরেশন অব চায়না (কমাক) নির্মিত ন্যারো-বডি যাত্রীবাহী বিমান, যা স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার রুটে ব্যবহারের জন্য তৈরি। এটি বোয়িং ৭৩৭ ও এয়ারবাস এ৩২০–এর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত। ২০২৩ সালের মে মাসে বিমানটি অভ্যন্তরীণ রুটে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে চায়না সাউদার্ন, এয়ার চায়না ও চায়না ইস্টার্ন তাদের বহরে সি৯১৯ যুক্ত করছে এবং পাইলটদের পুনঃপ্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
ইউ ইউ নারী পাইলটদের পেশাগত ও পারিবারিক ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেন। ২০২৪ সালে চীনে নারী পাইলটের সংখ্যা ছিল ৯৪১ জন, যা মোট পাইলটের দুই শতাংশেরও কম হলেও অংশগ্রহণ বাড়ছে।
চীনের নিজস্ব সি৯১৯ উড়োজাহাজে প্রথম নারী ক্যাপ্টেন হিসেবে নিয়োগ পেলেন ইউ ইউ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির লেখা একটি আলোচিত কবিতা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে হঠাৎ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে পেজের প্রোফাইল ছবিটিও অদৃশ্য হয়ে গেছে। শুক্রবার সকালে বিষয়টি নজরে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হয়।
সম্প্রতি এই কবিতাটি প্রধান উপদেষ্টার পেজে শেয়ার করার পর দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু সকালে দেখা যায় পোস্টটি ও প্রোফাইল ছবি আর নেই। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমদ জানান, সরকারের পক্ষ থেকে কিছুই মুছে ফেলা হয়নি। এটি ফেসবুকের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে ঘটেছে এবং বিষয়টি সমাধানে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।
প্রেস উইং জানিয়েছে, এটি সাময়িক সমস্যা এবং পেজটি দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সংবেদনশীল সময়ে এমন ‘টেকনিক্যাল ইরর’ নিয়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কৌতূহল কাটছে না।
ড. ইউনূসের ফেসবুক পেজ থেকে কবিতা ও ছবি উধাও, কর্তৃপক্ষ বলছে কারিগরি ত্রুটি
আমাজন জানিয়েছে, তারা ১,৮০০-এরও বেশি উত্তর কোরীয় নাগরিকের চাকরির আবেদন বাতিল করেছে, যারা আইটি খাতে কাজের সুযোগ পেতে চেষ্টা করছিলেন। কোম্পানির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্টিফেন শ্মিড জানিয়েছেন, এসব আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ল্যাপটপ ফার্ম’ ব্যবহার করে দূর থেকে কাজ করার চেষ্টা করছিলেন, যাতে তাদের প্রকৃত পরিচয় গোপন থাকে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সমস্যা কেবল আমাজনের নয়, বরং পুরো প্রযুক্তি খাতেই ছড়িয়ে পড়ছে।
শ্মিড জানান, গত এক বছরে উত্তর কোরীয় আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। তাদের শনাক্ত করার লক্ষণ হিসেবে ভুল ফোন নম্বর বিন্যাস ও জাল শিক্ষাগত যোগ্যতা পাওয়া গেছে। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় এক নারীকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যিনি প্রায় ৩০০ মার্কিন কোম্পানিতে উত্তর কোরীয়দের চাকরি পেতে সহায়তা করেছিলেন, যার মাধ্যমে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার অবৈধভাবে আয় হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া বিদেশি মুদ্রা অর্জনের জন্য ক্রমবর্ধমানভাবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করছে। ফলে ভবিষ্যতে করপোরেট নিয়োগ যাচাই ও সরকারি নজরদারি আরও কঠোর হতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগে উত্তর কোরীয় ১,৮০০ চাকরির আবেদন বাতিল করল আমাজন
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৭০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।