সৌদি আরব ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করেছে যে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমকে জানান, রিয়াদ অভ্যন্তরীণ বৈঠকে ফিলিস্তিনের স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ১৯৬৭ সালের সীমারেখা ভিত্তিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ সম্ভব। এ আশ্বাসের মধ্যেই সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন, যেখানে ওয়াশিংটন রিয়াদের ওপর ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে চাপ বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা সৌদির অবস্থানের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। ২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় চারটি আরব দেশ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করলেও সৌদি এখনো সেই পথে হাঁটেনি। এদিকে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আরব লীগ ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস।
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হলে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে না সৌদি আরব
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে পদবঞ্চিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জসদ) নেতাকর্মীরা ‘জাগ্রত জবিয়ান’ নামে নতুন একটি প্যানেল গঠন করেছেন। সোমবার (১৭ নভেম্বর) শহীদ সাজিদ ভবনের নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মাধ্যমে এই প্যানেলের ঘোষণা দেন তারা। প্যানেলে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রফিকুল ইসলাম রফিক, জিএস পদে তৌহিদ চৌধুরী এবং এজিএস পদে মেহেদী হাসান আকন। তারা জানান, আবাসন, নিরাপত্তা, লাইব্রেরি ও ছাত্র অধিকার ইস্যুগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর আগে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল ঘোষণা করলে পদবঞ্চিত নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসজুড়ে মনোনয়ন, যাচাই, প্রচারণা চলবে এবং ২২ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনে পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতাদের বিকল্প প্যানেল ‘জাগ্রত জবিয়ান’ ঘোষণা
বাংলাদেশের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি (এনসিএসএ) গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা দণ্ডপ্রাপ্ত বা পলাতক ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি প্রচার না করে। সোমবার রাতে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, কিছু প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়া দণ্ডিত ও পলাতক আসামিদের বক্তব্য প্রচার করছে, যা সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্ররোচনা দিতে পারে। এনসিএসএ জানায়, এ ধরনের প্রচার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ধারা ৮(২) ও ২৬-এর পরিপন্থী, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জাতীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিতকারী তথ্য অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান জানিয়ে গণমাধ্যমকে আইনগত দায়বদ্ধতা বিবেচনায় রেখে সহিংসতা বা ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
দণ্ডিত বা পলাতক ব্যক্তির বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমকে সতর্ক করল এনসিএসএ
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন চললেও তা সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন সাড়া ফেলেনি। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তাঁর বক্তব্য ছাত্রসমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারের নাতিপুতি প্রসঙ্গে দেওয়া সেই মন্তব্যকে অপমানজনক মনে করে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলন মুহূর্তেই রূপ নেয় দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। সরকারের দমন-পীড়নে শত শত মানুষ নিহত ও হাজারো আহত হয়। ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন, যা তাঁর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটায়।
হাসিনার বিতর্কিত বক্তব্যে ছাত্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, শেষ পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ শাসনের পতন ঘটে
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন শেখ হাসিনার মতো হতে চেষ্টাও না করেন এবং তার পরিণতি থেকে শিক্ষা নেন। ১৭ নভেম্বর ভোলা পৌর শাখার আয়োজনে প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে ফ্যাসিবাদ ও খুনের রাজনীতি থেকে মুক্ত একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগই দেশে হত্যার রাজনীতি চালু করেছে এবং ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের সহিংসতার উদাহরণ দেন। জাহিদুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে গণহত্যার অভিযোগে বিচার কার্যকর করবে। সভায় ভোলা শহর শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল আমিনের সভাপতিত্বে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার জাকির হোসাইনসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত রাজনীতি গড়ে তুলতে শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ না করার আহ্বান
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। অনুপস্থিত অবস্থায় ঘোষিত এই রায়ের পর ঢাকায় শেখ হাসিনার পারিবারিক বাড়িগুলো ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে ২০১০ সালের একটি ভিডিও আবারও আলোচনায় এসেছে, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেছিলেন যে শেখ হাসিনার সরকার তাকে জোর করে তার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে। তিনি বলেছিলেন, তাকে অসম্মানজনকভাবে টেনে বের করা হয়েছে এবং মর্যাদাহানি করা হয়েছে। আল্লাহ ও দেশবাসীর হাতে বিচার তুলে দেওয়ার সেই বক্তব্য এখন আবারও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা দুই নেত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাসনে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড, খালেদা জিয়ার পুরনো কান্নাজড়িত বক্তব্য আবার আলোচনায়
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-কে চূড়ান্ত নিবন্ধন দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দল দুটির বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি না আসায় সোমবার রাতে গেজেট প্রকাশ করে কমিশন। এর ফলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তারা নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে অংশ নিতে পারবে। বুধবারের ইসি সংলাপে দল দুটিকে আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকায় তাদের নিবন্ধন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কমিশন এসব অভিযোগ পর্যালোচনা করছে। এর আগে ৪ নভেম্বর তিনটি দলকে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত দাবি-আপত্তি জানানোর সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল ইসি, তবে আপত্তি আসে শুধু আম জনগণ পার্টির বিরুদ্ধে।
আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে এনসিপি ও সমাজতান্ত্রিক দলকে চূড়ান্ত নিবন্ধন দিল নির্বাচন কমিশন
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের হাতিমারাপাড়া পাহাড় এলাকা থেকে সোমবার মাদক পাচার ও অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা সুন অং তঞ্চঙ্গ্যাকে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, স্থানীয় তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের কয়েকজনের সহযোগিতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার সঙ্গে ঘুমধুম ও সোনাইছড়ি এলাকার আরও কয়েকজনের যোগাযোগ ছিল বলে জানা গেছে। ওসি মাসরুরুল হক জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং মাদক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদক পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশে মিয়ানমারের যুবক আটক, তদন্ত চলছে
সোমবার দিনভর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর রাতে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আসামিদের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বিক্ষোভ শুরু হয়। দুপুরের পর বিক্ষোভকারীরা নিউমার্কেট থেকে মিরপুরমুখী সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর কিছুটা শান্ত হলেও রাত সাড়ে আটটার পর পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে চার দফা ধাওয়া–পালটা ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে যান চলাচল শুরু হয়। শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির সামনে রায় ঘোষণার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
শেখ হাসিনার রায় ঘিরে বিক্ষোভের পর ধানমন্ডিতে যান চলাচল স্বাভাবিক
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)। জেনেভা থেকে এক বিবৃতিতে সংস্থার মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, এই রায় জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। শামদাসানি উল্লেখ করেন, বিচারটি অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের গুরুত্ব আরও বাড়ায়। তিনি বলেন, জাতিসংঘ সব পরিস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযত আচরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক আশা প্রকাশ করেছেন যে বাংলাদেশ সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার ও সংস্কারের পথে এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের পর ন্যায়বিচার ও সংযমের আহ্বান জাতিসংঘের
বরিশালে পুলিশের হাতে কামড়ে পালিয়ে যাওয়া ছাত্রদল নেতা মাসুমকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১০ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুমকে রোববার রাতে নগরীর ভাটারখাল এলাকার নিজ বাসা থেকে আটক করা হয়। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, মাসুম একাধিক মামলার আসামি এবং বুধবার রাতে গ্রেফতারের সময় এক পুলিশ সদস্যকে আহত করে পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় নানীবুড়ি ফাঁড়ির এটিএসআই মাহাবুব মামলা দায়ের করেন। সোমবার মাসুমকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনি বলেন, ব্যক্তিগত অপরাধের দায় দল নেবে না এবং মাসুমকে দ্রুত দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। ঘটনাটি বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিরোধী ছাত্র সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
পুলিশকে কামড়ে পালানো বরিশালের ছাত্রদল নেতা মাসুমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থয়ের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া যায়। এই প্রেক্ষাপটে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ফেসবুকে সংক্ষিপ্ত বার্তা দেন— ‘কোথাও কোনো মিষ্টি নেই।’ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করে। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসিফ মাহমুদের পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা অনেকেই রায়ের পর জনমতের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড রায়ের পর মিষ্টি বিতরণে আসিফ মাহমুদের রহস্যময় পোস্ট আলোচনায়
বিশ্ব ইতিহাসে বহু রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি বা রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। ১৬৪৯ সালে ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম চার্লস পার্লামেন্টের বিরোধিতা ও রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে শিরচ্ছেদে মৃত্যুদণ্ড পান। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আদনান মেন্ডেরেস ১৯৬১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সংবিধান লঙ্ঘন ও দুর্নীতির অভিযোগে ফাঁসিতে ঝুলে মৃত্যুবরণ করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো ১৯৭৯ সালে বিতর্কিত বিচারের পর ফাঁসিতে ঝুলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। একই বছর ইরানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আমির-আব্বাস হোবেইদাকে ইসলামি বিপ্লবের পর গুলি করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়। এছাড়া ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুই, হাঙ্গেরির ইমরে ন্যাগি, রোমানিয়ার নিকোলাই চাউশেস্কু ও জাপানের হিদেকি তাজিও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। এসব ঘটনা ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বৈরশাসনের পরিণতি হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাষ্ট্রদ্রোহে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিশ্বনেতাদের ঐতিহাসিক উদাহরণ
গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তারা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ সরকার তাদের দেশে ফেরাতে দুটি আইনি পথ অবলম্বন করতে পারে—২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সহযোগিতা করবে। রায়ে আরও বলা হয়েছে, দুই আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। রাজসাক্ষী হিসেবে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে জটিল অপরাধের বিচার করতে সক্ষম এবং এই রায় যেকোনো আন্তর্জাতিক আদালতেও টিকবে।
হাসিনার মৃত্যুদণ্ড, ভারত থেকে ফেরাতে প্রত্যর্পণ চুক্তি ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে উদ্যোগ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সারা দেশে এখন পর্যন্ত মোট ৬৮৬টি মামলা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, এর মধ্যে ৩২৪টি হত্যা মামলা, যার মধ্যে ঢাকাতেই রয়েছে ৩২১টি। অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, সহিংসতা, নাশকতা ও নির্দেশদাতা হিসেবে তাকে অধিকাংশ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শাপলা চত্বরে গণহত্যাসহ ৫টি মামলা হয়েছে, যার একটিতে সম্প্রতি ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা রয়েছে ৬টি। গত বছরের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় সারা দেশে ১,৬০০টির বেশি মামলা হয়, যার মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৫৮০টি মামলা তদন্তাধীন। এছাড়া আদালত অবমাননার অভিযোগে ২ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়। প্রথম মামলা করা হয় গত বছরের ১৩ আগস্ট মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা ও দুর্নীতিসহ সারা দেশে ৬৮৬টি মামলা
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ কর্তৃক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর বিএনপির সাবেক নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর একটি পুরনো ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, একদিন এই ট্রাইব্যুনালেই হাসিনার ফাঁসি হবে। এ বিষয়ে তার ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, এটি তার বাবার ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, যা অনেক বাংলাদেশির বিশ্বাসের প্রতিফলন। রাঙ্গুনিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণের মনে দীর্ঘদিন ধরে বিচার প্রত্যাশা ছিল। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং দুটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের পর ভাইরাল সালাহউদ্দিন কাদেরের পুরনো ভিডিও আলোচনায়
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে। এ রায় ঘোষণার পর তার জন্মস্থান গোপালগঞ্জ ও টুঙ্গিপাড়ায় দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। উদীচী, সুজন ও জামায়াতে ইসলামী নেতারা এ রায়কে ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখেছেন, অন্যদিকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা ট্রাইব্যুনালকে অবৈধ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নিন্দা জানিয়েছেন। আইনজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা নেতারা মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন, আর সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক অবস্থান থেকে দূরে থেকেছেন। বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হলো, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে রাজনীতিবিদদের জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার প্রশ্নে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
জুলাই অপরাধে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডে গোপালগঞ্জে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
বিচারকের ছেলে হত্যার মামলায় পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামি লিমন মিয়ার ভিকটিম ব্লেমিং বক্তব্য মিডিয়ায় প্রচার হওয়ায় তা অপসারণ, দায়ী পুলিশদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন (মুন্সী বেল্লাল) সোমবার বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ ও বিচারপতি মো. মনজুর আলমের বেঞ্চে রিটটি দাখিল করেন। রিটে স্বরাষ্ট্র, আইন ও তথ্য সচিবসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে। গত ১৩ নভেম্বর রাজশাহীতে মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের বাসায় তার স্কুলপড়ুয়া ছেলে তওসিফ রহমানকে হত্যা ও স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে লিমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ হেফাজতে তার ভিডিও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় বিচার বিভাগ ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ইতিমধ্যে চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে রিটের শুনানি হতে পারে।
আসামির ভিকটিম ব্লেমিং বক্তব্য অপসারণ ও পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে হাইকোর্টে রিট দায়ের
সারা দেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও রায় কার্যকর নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা চান, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে এনে দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করা হোক। শহীদদের বাবা-মা, স্ত্রী ও ভাইবোনরা বলেছেন, রায় কার্যকর হলে তবেই তাদের প্রিয়জনদের আত্মা শান্তি পাবে। পটুয়াখালী, মাগুরা, গাইবান্ধা, জামালপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার পরিবারগুলো রায়কে আল্লাহর ন্যায়বিচার হিসেবে দেখছেন, তবে তারা জোর দাবি জানিয়েছেন যেন রায় ঘোষণায় সীমাবদ্ধ না থাকে। অনেকেই বলেছেন, এই সরকারের আমলেই রায় কার্যকর দেখতে চান। কেউ কেউ বলেছেন, ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তারা খুশি হতে পারছেন না। শহীদ পরিবারের সদস্যরা আরও আহ্বান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এমন শোকের মুখোমুখি না হয়। সামগ্রিকভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া সন্তোষ ও উদ্বেগের মিশ্র প্রকাশ ঘটিয়েছে।
জুলাই শহীদ পরিবারের দাবি শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক
সোমবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় ছাত্র আন্দোলনকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে ছাত্ররা ধানমন্ডি ৩২–এর দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এর আগে সেনাবাহিনী রাসেল স্কয়ারের সামনে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছিল। আন্দোলনকারীরা সেই বলয় অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও আরও কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও পথচারী আহত হন। সংঘর্ষের কারণে যান চলাচল আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকা প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। উত্তেজনা শুক্রাবাদ, কলাবাগান, পান্থপথ ও সোবহানবাগ এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১০টার দিকে ছাত্ররা কলাবাগান ও ধানমন্ডি লেক এলাকায় অবস্থান করছিল, আর পুলিশ ও সেনাবাহিনী রাসেল স্কয়ার থেকে মেট্রো শপিং মল পর্যন্ত মোতায়েন ছিল।
ধানমন্ডি ৩২–এ ছাত্র আন্দোলনে পুলিশ ও সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৩৫ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।