জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা ওসমান হাদি বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)। রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে তার ভাই ওমর হাদি সংবাদমাধ্যম *আমার দেশ*-কে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দাফন ও জানাজার প্রস্তুতি চলছে।
ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই বিপ্লব আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী, যিনি গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জবাবদিহিতার দাবিতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তার মৃত্যুর খবরে সহকর্মী ও রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানা গেছে, তার এক ভাই চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন, অন্যরা ঢাকায় জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আগামীকাল শুক্রবার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার স্মরণে প্রতিবাদ ও শ্রদ্ধা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
জুলাই বিপ্লবের নেতা ওসমান হাদি ঢাকায় ইন্তেকাল করেছেন, পরিবার নিশ্চিত করেছে
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় শনিবার সন্ধ্যায় জুলাই রেভেলস সংগঠনের দুই সদস্য হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন। ওসমান হাদীর ওপর গুলির ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন শেষে ফেরার পথে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের সড়কে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাদের লাঠি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। পথচারীরা আহতদের উদ্ধার করে রাজউক কলেজ সংলগ্ন ইউএসবি স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে হামলাটি ঘটে এবং হামলাকারীদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। উত্তরা বিভাগের ডিসি শাহরিয়ার হোসেন জানান, আহতদের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছে হামলাকারীদের শনাক্ত করতে। সাম্প্রতিক ওসমান হাদী গুলির ঘটনার পর সংগঠনটির সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ওসমান হাদী ইস্যুতে মানববন্ধন শেষে উত্তরায় জুলাই রেভেলসের দুই সদস্য আহত
শেখ হাসিনা ও আরও দুই আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ প্রসিকিউশন তাদের শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। গতকাল আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে প্রসিকিউশন যুক্তিখণ্ডন শুরু করে, যা আজ শেষ হবে। আজ চিফ প্রসিকিউটর ও অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রাইব্যুনালে বক্তব্য রাখবেন। এর পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ থাকবে। এর আগে ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন—যার মধ্যে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তি ও চিকিৎসকরাও আছেন। তারা জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যা, গুম-খুন ও নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরেন। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়ে ঘটনার পেছনের নির্দেশদাতা ও বাস্তবায়নকারীদের নাম উল্লেখ করেন। প্রসিকিউশন বলছে, উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রমাণ আসামিদের দোষ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।
ট্রাইব্যুনালে আজ বক্তব্য তুলে ধরবেন চিফ প্রসিকিউটর। এছাড়া, এটর্নি জেনারেলও বক্তব্য রাখবেন
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সন্তানদের সম্মান জানাতে বাংলাদেশ সরকার তাদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজে এই সুবিধা নিশ্চিত করে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নুসরাত জাহান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে গত ২১ সেপ্টেম্বর। পরবর্তীতে ১৫ অক্টোবর কারিগরি শিক্ষা বিভাগ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরকে শহীদ পরিবারের সন্তানদের অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী দেশপ্রেমিক ছাত্র ও জনতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।
‘জুলাই শহীদ’ পরিবারের সন্তানদের জন্য সারাদেশে বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ চালু করছে সরকার
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার বিকেল ৫টায় ঐতিহাসিক জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫–এ স্বাক্ষর করার মাধ্যমে “নতুন বাংলাদেশের” সূচনা ঘোষণা করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি শুরু হয় বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। স্বাক্ষর শেষে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “জুলাই সনদ দিয়ে আমাদের বাংলাদেশ পরিবর্তন হবে। এটি ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফল, যা গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় অধ্যায়।” তিনি জানান, পুরোনো ধারনা ও পদ্ধতিকে বদলে সংসদ ও প্রশাসনসহ রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন নীতি ও ভাবনা যুক্ত করা হয়েছে। ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, এই পরিবর্তন বাংলাদেশের নতুন দিকনির্দেশনা দেবে। তিনি বলেন, “আজ আমাদের নবজন্ম হলো। এই স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করলাম।”
বিকাল চারটা ৩৭ মিনিটে জাতীয় সংগীতে শুরু হয় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরকে আজ (৮ অক্টোবর) তৃতীয় দিনের মতো জেরা করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এ জেরা চলছে। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের জেরা শেষ হলেও সময়ের অভাবে আজ পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর ৫৪তম ও শেষ সাক্ষী হিসেবে গত কয়েকদিনে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের বিভিন্ন প্রমাণ ও ভিডিও উপস্থাপন করেছেন। তিনি ৪১ জেলায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, মারণাস্ত্র ব্যবহার ও পুলিশি অভিযান সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছেন। জেরা শেষে ট্রাইব্যুনাল যুক্তিতর্ক ও রায় ঘোষণার ধাপে যাবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত আছেন মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিমসহ অন্যরা। মামলাটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ জেরা অনুষ্ঠিত হবে।
২০২৩ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানায় সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের এক মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করেন কনস্টেবল রাশেদুল ইসলাম। তিনি জানান, সেদিন বিকেলে থানা ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থানকালে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে নিচে নামেন। নিচে এসে দেখেন, এক ভ্যানে লাশের স্তূপ। তখন থানার সাবেক ওসি সায়েদ বলেন, “রাশেদ, আপনার হাত খালি আছে, লাশগুলো ঢেকে দেন।” রাশেদ নীল রঙের ব্যানার দিয়ে লাশগুলো ঢেকে দেন। পরে তিনি জানতে পারেন, সেই লাশগুলো পুলিশের গাড়িতে তুলে পুড়িয়ে ফেলা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি ১২তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জন আসামি; এর মধ্যে আটজন পলাতক। বিচারক নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। আগামী ৮ অক্টোবর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানালা দিয়ে নিচে তাকাতেই দেখি মানুষজনের চিৎকার আর ছোটাছুটি। অনিরাপদ ভেবে নিজেও নিচে নেমে আসি। ঠিক তখনই একটি ভ্যানে দেখি লাশের স্তূপ। এমন সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কণ্ঠ ভেসে এলো— ‘রাশেদ আপনার হাত খালি আছে, লাশগুলো ঢেকে দেন।’
জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এটি দেশের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো বড় রাজনৈতিক দলকে এমন বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) দলের অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ চলছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাসহ দলীয় নেতারা জুলাই আন্দোলনের সময় গণহত্যা ও দমনমূলক কার্যক্রমে নির্দেশ দেন। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল হয়েছে। সম্প্রতি সংশোধিত আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দল বা তার অঙ্গসংগঠনকেও শাস্তি দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। খুব শিগগিরই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।
জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত অপরাধে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে প্রমাণ সংগ্রহ শুরু করেছে প্রসিকিউশন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত হওয়া ৬ মরদেহের পরিচয় এক বছরেও শনাক্ত করতে না পেরে অবশেষে মরদেহগুলো দাফন করেছে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সকালে ঢামেক থেকে লাশ বুঝে নিয়ে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করেছে সংস্থাটি। শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর বলেন, আদালতের নির্দেশের পর মরদেহগুলো আজ সকালে আঞজুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা দাফন করেছে। তিনি বলেন, মরদেহগুলো এক বছরের বেশি সময় ধরে মর্গে ছিল। এ সময় অনেকেই শনাক্ত করতে এসেছেন। কয়েকজনের ডিএনএ নমুনা নিয়েও পরীক্ষা করা হয়েছে, তবে শনাক্ত করা যায়নি। শাহবাগ থানার তথ্য বলছে, গত বছরের ৫ আগস্টের আগে ঢাকার যাত্রাবাড়ীসহ কয়েকটি এলাকা থেকে এসব লাশ আসে। ময়নাতদন্ত অনুযায়ী, তাদের বেশির ভাগের মৃত্যু হয়েছে ‘আঘাতজনিত কারণে’।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাত ছয় শহীদের মরদেহ দাফনের জন্য আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। দীর্ঘ এক বছর ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকা এসব মরদেহের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। শাহবাগ থানার ওসি মো. খালিদ মনসুর জানান, ময়নাতদন্ত শেষে ছয়টি মরদেহ দীর্ঘ এক বছর ধরে অজ্ঞাত অবস্থায় ঢামেক মর্গে রাখা ছিল। এখনও পর্যন্ত তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা একটি চিঠি পেয়েছি—বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মরদেহগুলো দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হবে। জানা গেছে, ছয়টি মরদেহের মধ্যে তিনটি যাত্রাবাড়ী থানার, একটি পল্টন থানার এবং দুটি শাহবাগ থানার মামলা সংশ্লিষ্ট। মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সারা দেশে দ্বিতীয় দিনের মতো ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পালিত হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ, হামলা, অগ্নিসংযোগ ও গুলিতে অন্তত ৬৭ জন নিহত হন, যার মধ্যে ঢাকায় ৬২ জন। রংপুর, সাভার, সিলেট ও নরসিংদীতে আরো পাঁচজন মারা যান। এছাড়া সারাদেশে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, পুলিশ, সাংবাদিক, পথচারীসহ কয়েকশ মানুষ আহত হন। ১৯ জুলাই শিক্ষার্থী, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, থানা ও বিআরটিএ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর হয়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে যান, গণপরিবহণ ও রেল চলাচল বন্ধ হয়। কারফিউ জারি করে সেনা মোতায়েন করা হয়। আন্দোলনকারীরা সরকারের সঙ্গে সংলাপ প্রত্যাখ্যান করে ৯ দফা দাবি পেশ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থান ও জনসাধারণের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে অন্তত ৫২ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে উঠে এসেছে বিবিসি আই-এর একটি অনুসন্ধানে। ওইদিন শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর চলমান আন্দোলনের শেষ দিনে ভয়াবহ এই ঘটনা ঘটে। বিবিসি শতাধিক ভিডিও, ছবি, সাক্ষ্য ও সরেজমিন অনুসন্ধান করে নিশ্চিত করেছে, দুপুর ২:৪৩ মিনিট থেকে গুলি শুরু হয়ে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলে। নিহতদের মধ্যে আন্দোলনকারী মিরাজ হোসেনের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওতে গুলির শুরু ও তার মৃত্যু মুহূর্ত ধরা পড়ে। ভিডিও, হাসপাতালের রেকর্ড ও সামাজিক মাধ্যমে যাচাই করে বিবিসি নিহতের সংখ্যা ৫২ জন নিশ্চিত করেছে। ঘটনার সময় পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও অপেশাদার আচরণের কথা স্বীকার করেছে পুলিশ, এবং দোষীদের বিচারে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার ধানমন্ডিতে হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলিতে নিহত নোয়াখালীর তরুণী নাছিমা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় আরও ১০০-১৫০ জন অজ্ঞাতনামা আসামিও রয়েছে। শহীদ নাছিমার ভাই স্পেনপ্রবাসী হেলাল উদ্দিন সোলায়মান মামলাটি দায়ের করেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ধানমন্ডির এক ভবনের ছাদে অবস্থানকালে গুলিতে নাছিমা ও তার ভাইয়ের শরীরে বিদ্ধ হয়। নাছিমা পরদিন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
২০২৪ সালের ৫ জুলাই শুক্রবার সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল সংক্রান্ত চার দফা দাবির ভিত্তিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা সারা দেশে অনলাইন ও অফলাইনে জনসংযোগ কর্মসূচি পরিচালনা করেন। এর আগে ৪ জুলাই সন্ধ্যায় শাহবাগ মোড় অবরোধ প্রত্যাহারের সময় নাহিদ ইসলাম তিন দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন—৫ জুলাই জনসংযোগ, ৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিল, এবং ৭ জুলাই ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন। আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনে একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনকে জোরদার করেছে। পাশাপাশি, সরকারি পরিপত্রের অংশবিশেষ অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাবির বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’, যারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে আগামী ১ জুলাই থেকে কর্মসূচি শুরু হবে, চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। আগামী সোমবার বিস্তারিত জানানো হবে। ১৪ জুলাই থেকে মূল আয়োজন চলবে। আন্দোলনে যেভাবে দেশ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, সেভাবে কর্মসূচি করা হবে। উপদেষ্টা বলেন, এখন থেকে ৫ আগস্ট সরকারি ছুটি পালন করা হবে। রোববার উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন দিবস জাতীয় দিবস হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রেডিও বাংলাদেশ বেতার ও বিটিভিকে স্বায়ত্তশাসিত করার চিন্তা করা হচ্ছে।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৯৫ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।