২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কুমিল্লায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে ছাত্র-জনতার ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে ওঠে বলে আন্দোলনসংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। ৪ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কোটবাড়ী বিশ্বরোড, আলেখারচর বিশ্বরোড, ঝাগুরঝুলি ও আশপাশের এলাকায় সকাল থেকে আন্দোলনকারীদের অবস্থান জোরদার হয়। তাঁদের মতে, ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ কুমিল্লার আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেয় এবং পরদিনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পটভূমি তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
বেলা প্রায় ১১টার দিকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে একটি মিছিল আলেখারচর বিশ্বরোডের দিকে গেলে সংঘর্ষ হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও অংশগ্রহণকারীদের দাবি, সেনাবাহিনী প্রথমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে, পরে সাঁজোয়া যান নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে অগ্রসর হয়।
তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরে সেনাবাহিনী এলাকায় অবস্থান নেওয়ার পর আন্দোলনকারীরা সাহস পায় এবং আলেখারচর বিশ্বরোড, ঝাগুরঝুলি ও কোটবাড়ী বিশ্বরোডে ছাত্র-জনতার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন এবং মহানগর বিএনপি সভাপতি উদবাতুল বারী আবুও সেনাবাহিনীর সহযোগিতার কথা বলেন। আন্দোলনের আহ্বায়ক আবু রায়হান দিনটিকে কুমিল্লার জন্য ঐতিহাসিক বলে বর্ণনা করেন।
কুমিল্লায় ২০২৪ সালের ৪ আগস্টের প্রতিরোধে সেনাবাহিনীর ভূমিকার দাবি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সর্বাত্মক অসহযোগের প্রথম দিন ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গুলিতে এক দিনে শতাধিক মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হন। ওই দিন শাহবাগে আন্দোলনের পক্ষ থেকে আগে নির্ধারিত ৬ আগস্টের বদলে ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সন্ধ্যা ৬টা থেকে কারফিউ জারির পরও রাত ১০টা পর্যন্ত বহু স্থানে সংঘর্ষ চলে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ৫০টির বেশি জেলায় সহিংসতা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় ১৩ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও ছররা গুলি ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনের দাবি। বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়, নেতাদের বাসভবন ও সরকারি দপ্তরে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের খবরও দেওয়া হয়।
শাহবাগে বেলা ৩টার দিকে সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর কবির নানক আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি গোষ্ঠী’ আখ্যা দিয়ে সহিংসতার দায় তাদের ওপর আরোপ করেন। সরকার অনির্দিষ্টকালের কারফিউ, মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ, আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন ও তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। একই দিনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব দেয়।
৪ আগস্টের সহিংসতার মধ্যে ৫ আগস্টে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়
বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজের প্রথমবর্ষের ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী গোলাম নাফিজ ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেটে আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মহাখালীর বাসা থেকে সকাল ১০টার দিকে বের হয়ে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন এবং পথে কেনা লাল-সবুজ পতাকা মাথায় বাঁধেন। তার মা নাজমা আক্তারের সঙ্গে শেষ কথা হয় দুপুর ৩টায়; তখন তিনি নিজেকে নিরাপদ বলে জানান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ জুলাই মহাখালীতে তার পায়ে রাবার বুলেট লাগলেও তিনি আন্দোলন চালিয়ে যান। ফার্মগেটে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় আন্দোলনকারীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে নাফিজ গুলিবিদ্ধ হন। রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ তাকে আল-রাজী হাসপাতাল হয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিকশার ছবিতে তাকে শনাক্ত করে বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ করেন; পরে মামা আবুল হাশেম সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে তার মরদেহ শনাক্ত করেন।
লাশ বাড়িতে নেওয়া ও দাফনের সময় পরিবার পুলিশি হয়রানি এবং বাধার অভিযোগ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে নাফিজকে দাফন করা হয়। ফার্মগেটে নাফিজসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যার মামলায় ২২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। মামলায় সাবেক এডিসি শচীন মৌলিক গ্রেপ্তার আছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফার্মগেটে গুলিবিদ্ধ নাফিজের মৃত্যু ও হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার বিবরণ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন ৪ আগস্ট মাগুরায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার রায়নগর গ্রামের বাসিন্দা ফরহাদ ঢাকায় যেতে না পেরে মাগুরাতেই আন্দোলনে যোগ দেন। ঢাকা-মাগুরা মহাসড়কের পারনান্দুয়ালী ব্রিজ এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের সময় তার মাথায় গুলি লাগে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং ওই রাতেই রায়নগর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরহাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং ক্লাস, লাইব্রেরি, পড়াশোনা ও ইবাদতে সময় দিতেন। আন্দোলনে যাওয়ার আগে তিনি বড় ভাইকে বলেছিলেন, ‘চলেন ভাই, শহীদ হয়ে আসি।’ মৃত্যুর আগে তিনি পকেটে থাকা ফোন ও লাশ মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া জানান, খবর পেয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত মা শিরিনা বেগম ভেঙে পড়েন।
২০২৪ সালের ২১ আগস্ট মাগুরা সদর থানায় করা হত্যা মামলায় সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ ৬৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। প্রায় দুই বছরেও চার্জশিট দাখিল হয়নি। পুলিশ বলছে, প্রকৃত আসামি শনাক্ত এবং নির্দোষ কাউকে হয়রানি থেকে বাঁচাতে তদন্ত চলমান রয়েছে। পরিবার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে।
জুলাই শহীদ ফরহাদ হোসেন
জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা ওসমান হাদি বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)। রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে তার ভাই ওমর হাদি সংবাদমাধ্যম *আমার দেশ*-কে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দাফন ও জানাজার প্রস্তুতি চলছে।
ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই বিপ্লব আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী, যিনি গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জবাবদিহিতার দাবিতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তার মৃত্যুর খবরে সহকর্মী ও রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানা গেছে, তার এক ভাই চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন, অন্যরা ঢাকায় জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আগামীকাল শুক্রবার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার স্মরণে প্রতিবাদ ও শ্রদ্ধা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
জুলাই বিপ্লবের নেতা ওসমান হাদি ঢাকায় ইন্তেকাল করেছেন, পরিবার নিশ্চিত করেছে
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় শনিবার সন্ধ্যায় জুলাই রেভেলস সংগঠনের দুই সদস্য হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন। ওসমান হাদীর ওপর গুলির ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন শেষে ফেরার পথে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের সড়কে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাদের লাঠি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। পথচারীরা আহতদের উদ্ধার করে রাজউক কলেজ সংলগ্ন ইউএসবি স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে হামলাটি ঘটে এবং হামলাকারীদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। উত্তরা বিভাগের ডিসি শাহরিয়ার হোসেন জানান, আহতদের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছে হামলাকারীদের শনাক্ত করতে। সাম্প্রতিক ওসমান হাদী গুলির ঘটনার পর সংগঠনটির সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ওসমান হাদী ইস্যুতে মানববন্ধন শেষে উত্তরায় জুলাই রেভেলসের দুই সদস্য আহত
শেখ হাসিনা ও আরও দুই আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ প্রসিকিউশন তাদের শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। গতকাল আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে প্রসিকিউশন যুক্তিখণ্ডন শুরু করে, যা আজ শেষ হবে। আজ চিফ প্রসিকিউটর ও অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রাইব্যুনালে বক্তব্য রাখবেন। এর পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ থাকবে। এর আগে ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন—যার মধ্যে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তি ও চিকিৎসকরাও আছেন। তারা জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যা, গুম-খুন ও নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরেন। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়ে ঘটনার পেছনের নির্দেশদাতা ও বাস্তবায়নকারীদের নাম উল্লেখ করেন। প্রসিকিউশন বলছে, উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রমাণ আসামিদের দোষ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।
ট্রাইব্যুনালে আজ বক্তব্য তুলে ধরবেন চিফ প্রসিকিউটর। এছাড়া, এটর্নি জেনারেলও বক্তব্য রাখবেন
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সন্তানদের সম্মান জানাতে বাংলাদেশ সরকার তাদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজে এই সুবিধা নিশ্চিত করে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নুসরাত জাহান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে গত ২১ সেপ্টেম্বর। পরবর্তীতে ১৫ অক্টোবর কারিগরি শিক্ষা বিভাগ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরকে শহীদ পরিবারের সন্তানদের অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী দেশপ্রেমিক ছাত্র ও জনতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।
‘জুলাই শহীদ’ পরিবারের সন্তানদের জন্য সারাদেশে বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ চালু করছে সরকার
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার বিকেল ৫টায় ঐতিহাসিক জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫–এ স্বাক্ষর করার মাধ্যমে “নতুন বাংলাদেশের” সূচনা ঘোষণা করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি শুরু হয় বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। স্বাক্ষর শেষে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “জুলাই সনদ দিয়ে আমাদের বাংলাদেশ পরিবর্তন হবে। এটি ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফল, যা গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় অধ্যায়।” তিনি জানান, পুরোনো ধারনা ও পদ্ধতিকে বদলে সংসদ ও প্রশাসনসহ রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন নীতি ও ভাবনা যুক্ত করা হয়েছে। ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, এই পরিবর্তন বাংলাদেশের নতুন দিকনির্দেশনা দেবে। তিনি বলেন, “আজ আমাদের নবজন্ম হলো। এই স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করলাম।”
বিকাল চারটা ৩৭ মিনিটে জাতীয় সংগীতে শুরু হয় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরকে আজ (৮ অক্টোবর) তৃতীয় দিনের মতো জেরা করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এ জেরা চলছে। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের জেরা শেষ হলেও সময়ের অভাবে আজ পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর ৫৪তম ও শেষ সাক্ষী হিসেবে গত কয়েকদিনে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের বিভিন্ন প্রমাণ ও ভিডিও উপস্থাপন করেছেন। তিনি ৪১ জেলায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, মারণাস্ত্র ব্যবহার ও পুলিশি অভিযান সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছেন। জেরা শেষে ট্রাইব্যুনাল যুক্তিতর্ক ও রায় ঘোষণার ধাপে যাবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত আছেন মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিমসহ অন্যরা। মামলাটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ জেরা অনুষ্ঠিত হবে।
২০২৩ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানায় সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের এক মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করেন কনস্টেবল রাশেদুল ইসলাম। তিনি জানান, সেদিন বিকেলে থানা ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থানকালে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে নিচে নামেন। নিচে এসে দেখেন, এক ভ্যানে লাশের স্তূপ। তখন থানার সাবেক ওসি সায়েদ বলেন, “রাশেদ, আপনার হাত খালি আছে, লাশগুলো ঢেকে দেন।” রাশেদ নীল রঙের ব্যানার দিয়ে লাশগুলো ঢেকে দেন। পরে তিনি জানতে পারেন, সেই লাশগুলো পুলিশের গাড়িতে তুলে পুড়িয়ে ফেলা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি ১২তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জন আসামি; এর মধ্যে আটজন পলাতক। বিচারক নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। আগামী ৮ অক্টোবর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানালা দিয়ে নিচে তাকাতেই দেখি মানুষজনের চিৎকার আর ছোটাছুটি। অনিরাপদ ভেবে নিজেও নিচে নেমে আসি। ঠিক তখনই একটি ভ্যানে দেখি লাশের স্তূপ। এমন সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কণ্ঠ ভেসে এলো— ‘রাশেদ আপনার হাত খালি আছে, লাশগুলো ঢেকে দেন।’
জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এটি দেশের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো বড় রাজনৈতিক দলকে এমন বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) দলের অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ চলছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাসহ দলীয় নেতারা জুলাই আন্দোলনের সময় গণহত্যা ও দমনমূলক কার্যক্রমে নির্দেশ দেন। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল হয়েছে। সম্প্রতি সংশোধিত আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দল বা তার অঙ্গসংগঠনকেও শাস্তি দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। খুব শিগগিরই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।
জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত অপরাধে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে প্রমাণ সংগ্রহ শুরু করেছে প্রসিকিউশন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত হওয়া ৬ মরদেহের পরিচয় এক বছরেও শনাক্ত করতে না পেরে অবশেষে মরদেহগুলো দাফন করেছে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সকালে ঢামেক থেকে লাশ বুঝে নিয়ে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করেছে সংস্থাটি। শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর বলেন, আদালতের নির্দেশের পর মরদেহগুলো আজ সকালে আঞজুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা দাফন করেছে। তিনি বলেন, মরদেহগুলো এক বছরের বেশি সময় ধরে মর্গে ছিল। এ সময় অনেকেই শনাক্ত করতে এসেছেন। কয়েকজনের ডিএনএ নমুনা নিয়েও পরীক্ষা করা হয়েছে, তবে শনাক্ত করা যায়নি। শাহবাগ থানার তথ্য বলছে, গত বছরের ৫ আগস্টের আগে ঢাকার যাত্রাবাড়ীসহ কয়েকটি এলাকা থেকে এসব লাশ আসে। ময়নাতদন্ত অনুযায়ী, তাদের বেশির ভাগের মৃত্যু হয়েছে ‘আঘাতজনিত কারণে’।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত হওয়া ৬ মরদেহের পরিচয় এক বছরেও শনাক্ত করতে না পেরে অবশেষে মরদেহগুলো দাফন করেছে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাত ছয় শহীদের মরদেহ দাফনের জন্য আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। দীর্ঘ এক বছর ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকা এসব মরদেহের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। শাহবাগ থানার ওসি মো. খালিদ মনসুর জানান, ময়নাতদন্ত শেষে ছয়টি মরদেহ দীর্ঘ এক বছর ধরে অজ্ঞাত অবস্থায় ঢামেক মর্গে রাখা ছিল। এখনও পর্যন্ত তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা একটি চিঠি পেয়েছি—বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মরদেহগুলো দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হবে। জানা গেছে, ছয়টি মরদেহের মধ্যে তিনটি যাত্রাবাড়ী থানার, একটি পল্টন থানার এবং দুটি শাহবাগ থানার মামলা সংশ্লিষ্ট। মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাত ছয় শহীদের মরদেহ দাফনের জন্য আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সারা দেশে দ্বিতীয় দিনের মতো ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পালিত হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ, হামলা, অগ্নিসংযোগ ও গুলিতে অন্তত ৬৭ জন নিহত হন, যার মধ্যে ঢাকায় ৬২ জন। রংপুর, সাভার, সিলেট ও নরসিংদীতে আরো পাঁচজন মারা যান। এছাড়া সারাদেশে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, পুলিশ, সাংবাদিক, পথচারীসহ কয়েকশ মানুষ আহত হন। ১৯ জুলাই শিক্ষার্থী, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, থানা ও বিআরটিএ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর হয়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে যান, গণপরিবহণ ও রেল চলাচল বন্ধ হয়। কারফিউ জারি করে সেনা মোতায়েন করা হয়। আন্দোলনকারীরা সরকারের সঙ্গে সংলাপ প্রত্যাখ্যান করে ৯ দফা দাবি পেশ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থান ও জনসাধারণের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ফিরে দেখা ১৯ জুলাই: সারা দেশে দ্বিতীয় দিনের মতো ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পালিত হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৬৭ জন নিহত হন, যার মধ্যে ঢাকায় ৬২ জন।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৬৬ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।