গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন সরকারি বাসভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যেখানে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাসভবনের নকশায় থাকবে মাটির নিচে অত্যাধুনিক বাংকার ও টানেল, যা বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে সুরক্ষা দেবে। বিশ্বের অন্যান্য প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের আদলে এই ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আগে সাবেক সরকারি বাসভবন গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। নতুন বাসভবনের জন্য রাজধানীর মিন্টো রোড, হেয়ার রোড ও বেইলী রোড এলাকাগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদ ভবনের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এই এলাকাগুলোর মধ্যে স্থান নির্বাচন করা হবে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে জায়গা নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী ও গৃহায়ন মন্ত্রীর মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী গুলশান-২ এ তার নিজস্ব বাসভবন থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যবহার করছেন। স্থায়ী বাসভবনের স্থান নির্ধারণের পর নির্মাণকাজ শুরু হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। ঢাকায় নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন চীনের প্রভাব মোকাবিলার ঘোষণা দিলে চীনা দূতাবাস তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই দুই পরাশক্তির কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছিল। চীন অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ায়, আর যুক্তরাষ্ট্র চাপ দেয় চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে। নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সই করে বাংলাদেশ, যা কূটনীতিকদের মতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি বাস্তবায়নে চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ই বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রতিযোগিতা যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনি সুযোগও বটে, তবে কূটনৈতিক সতর্কতা অপরিহার্য।
১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী আজ রাতে টেলিভিশনে একাধিক ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ২০২৬–এর মুলতান সুলতানস ও পেশোয়ার জালমির ম্যাচ রাত ৮টায় টি স্পোর্টস ও ট্যাপম্যাডে সরাসরি দেখা যাবে। ফুটবলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিডস ইউনাইটেডের লড়াই রাত ১টায় স্টার স্পোর্টস ও টফি লাইভে সম্প্রচার হবে। এছাড়া লা লিগায় লেভান্তে ও গেতাফের ম্যাচ রাত ১টায় ফ্যানকোড ও বেট৩৬৫–এ এবং সিরি’এ–তে ফিওরেন্তিনা ও লাৎসিওর ম্যাচ রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে বেট৩৬৫–এ দেখা যাবে। এই সম্প্রচার সূচি ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য ব্যস্ত এক রাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে একইসঙ্গে ক্রিকেট ও ফুটবলের শীর্ষ লিগগুলোর ম্যাচ দেখা যাবে। বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রচারের এই বৈচিত্র্য টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ক্রীড়া উপভোগের সুযোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। জনপ্রিয় দল ও লিগের উপস্থিতির কারণে এসব ম্যাচে দর্শক আগ্রহ বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশের মোট ৩২ হাজার ৩২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার মধ্যে ৬৫ শতাংশ কেন্দ্র বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে সাড়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক অর্থবছরে পিডিবিকে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। তারা এ সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল নীতি ও দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর ১২ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র চার হাজার মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোও জ্বালানি ঘাটতিতে ভুগছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, গ্রীষ্মে চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছালে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রকাশিত শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা পরিশোধ না হলে জ্বালানি আমদানি ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানকে ঘিরে নৌ অবরোধ শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, সোমবার সকাল ১০টা থেকে এ অবরোধ কার্যকর হবে। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বেসামরিক জাহাজের জন্য খোলা থাকবে, তবে কোনো সামরিক জাহাজ চলতে দেওয়া হবে না। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই ইরান কার্যত প্রণালীটি বন্ধ করে রেখেছে, যা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়ে বৈশ্বিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে কাতার ও সৌদি আরব বিকল্প পথ খুঁজছে। কাতার সমুদ্রপথে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে, আর সৌদি আরব জানিয়েছে তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন এখন পূর্ণ সক্ষমতায় সচল। ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এই পাইপলাইনটি প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে। পাশাপাশি মানিফা তেলক্ষেত্র থেকেও প্রতিদিন অতিরিক্ত ৩ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংকটকালীন এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের অর্থনীতি সচল রাখতে বিকল্প রুট ও নতুন কৌশলের ওপর নির্ভর করছে।
আমেরিকার সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরু করার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরাইল লেবাননের দক্ষিণ সীমান্তে হামলা জোরদার করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের তাইবা, নাকুরা ও দাইর সারইয়ানসহ একাধিক গ্রাম সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে। গার্ডিয়ান ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রকাশিত ভিডিও বিশ্লেষণ করে এসব ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরেছে, যদিও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজের নির্দেশনার পর এই অভিযান শুরু হয়। তিনি গাজার রাফাহ ও বাইত হানুনের মতো লেবানন সীমান্তের সব ঘরবাড়ি ধ্বংসের নির্দেশ দেন। ইসরাইল দাবি করছে, হামলাগুলো হিজবুল্লাহর সুড়ঙ্গ ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে এবং তারা সীমান্ত থেকে লিতানি নদী পর্যন্ত একটি ‘সিকিউরিটি জোন’ গড়ে তুলবে, যেখানে উদ্বাস্তুদের ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে না। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, বেসামরিক স্থাপনা নির্বিচারে ধ্বংস করা যুদ্ধাপরাধের শামিল। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক গবেষক মন্তব্য করেছেন, সীমান্তের কিছু স্থাপনা হিজবুল্লাহ ব্যবহার করতে পারে বলে পুরো গ্রাম ধ্বংসের যৌক্তিকতা নেই।
ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম জমাদানের শেষ দিনে নয়াপল্টন কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। গত তিন দিনে এক হাজার ২০০-এর বেশি ফরম বিক্রি হয়েছে এবং নয় শতাধিক নারী নেত্রী পূরণকৃত ফরম জমা দিয়েছেন। নির্ধারিত সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত থাকলেও রাত ৯টা পর্যন্ত ফরম গ্রহণ করা হয়। দলীয় সিদ্ধান্তে সোমবারও ফরম জমা নেওয়া হবে। দলীয় সূত্র জানায়, জমা দেওয়া জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই শেষে সংসদীয় বোর্ড সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবে এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সাক্ষাৎকার নেবে। বিএনপি ৩৬টি সংরক্ষিত আসন পেলেও শতাধিক নারী নেত্রীকে পর্যালোচনায় রাখা হতে পারে। স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে ১৬ এপ্রিল থেকে সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া শুরু করবেন। যেসব জেলায় বিএনপি প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন, সেসব এলাকায় নারী প্রার্থী বাছাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সতর্ক করে বলেছেন, তারকা প্রার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রার্থী নির্বাচনে সংগঠন দক্ষতা ও মেধাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তুরস্ক ইস্তানবুলকে দুবাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন কর সুবিধা ও সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আঙ্কারা ইতোমধ্যে ইস্তানবুল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারে (আইএফসি) প্রস্তাবিত কর ছাড় ও বিদেশি কর্মীদের জন্য আয়কর অব্যাহতি আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরানের পাল্টা আক্রমণে উপসাগরীয় অঞ্চলের আর্থিক কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিতে পড়ায় তুরস্ক এই সুযোগ কাজে লাগাতে চায়। ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য বিদেশি বাণিজ্য আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করমুক্ত রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান ৪০ জন বৈশ্বিক সিইওকে আপ্যায়ন করেন, যা তুরস্কে বিনিয়োগ আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। আইএফসির প্রধান নির্বাহী জানান, কিছু কোম্পানি ইরান যুদ্ধের কারণে তুরস্কে স্থানান্তর বা বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী। তবে আন্তর্জাতিক ব্যাংকাররা তুরস্কের আদালত, মুদ্রাস্ফীতি ও আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক প্রবীণ কর্মকর্তা বলেন, ডেটা সেন্টার ও এআই কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে হলে এসব সমস্যা সমাধানে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি দখল নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব ও আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। আগস্টের পর থেকে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব পদ দখলের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যালয় ভাঙচুরের মামলা দেওয়া হয়েছে। বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করা ট্রাস্টি পবিত্র কুমার সরকারকে পরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ২০১২ সালের নভেম্বরে খুলনার প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসে। সাবেক চেয়ারম্যান তালুকদার আবদুল খালেক আত্মগোপনে গেলে বিএনপি সমর্থিত সিরাজুল হক চৌধুরী দায়িত্ব নেন, পরে ২০২৫ সালের মে মাসে মিজানুর রহমান নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। ইউজিসি পরে মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমানকে অবৈধ ট্রাস্টি ঘোষণা করে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আদালত তাদের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয়। রায়ের পরও তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন, যার শুনানি ১৬ এপ্রিল নির্ধারিত। শুনানির আগে পবিত্র সরকারের গ্রেপ্তার ঘটনায় সহকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের কর্তৃত্ববাদী অবস্থান ত্যাগ করে এবং ইরানি জাতির অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, তাহলে সমঝোতার পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে পেজেশকিয়ান ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের প্রশংসা করেন। তিনি আলোচনাকারী দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সৃষ্টিকর্তা যেন তাদের সহায় হন। তার এই বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান ও আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, পাশাপাশি ইরানের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের প্রতিফলন ঘটেছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিনিদের সমর্থন কমেছে বলে সিবিএস ও ইউগভের এক জরিপে জানা গেছে। জরিপে দেখা গেছে, গত মাসের শেষের তুলনায় সমর্থন ২ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩৮ শতাংশে নেমে আসে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর সর্বনিম্ন। মার্চের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৬২ শতাংশ নাগরিক ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। সাম্প্রতিক ভোক্তা মূল্যসূচক অনুযায়ী, দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, যা অনেক আমেরিকান ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে দেখছেন। অর্থনৈতিক চাপ ও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস একত্রে যুদ্ধবিরোধী মনোভাবকে আরও জোরদার করছে। জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মূল্যস্ফীতি ও যুদ্ধবিরোধী মনোভাব অব্যাহত থাকলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য জনসমর্থন ধরে রাখা আরও কঠিন হতে পারে।
পাকিস্তানের সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মুশাহিদ হুসেইন সাইয়েদ বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের হুমকি ‘বাড়াবাড়ি’ ছাড়া আর কিছু নয়। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার্যত ইরানের হাতে এবং ট্রাম্পের এই হুমকি ইরানিদের ভয় দেখিয়ে নতজানু করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, গত ৪৩ দিনে যা সম্ভব হয়নি, তা নিকট ভবিষ্যতেও হবে না। সাইয়েদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের বক্তব্য বাস্তবসম্মত কোনো নীতি নয়, বরং রাজনৈতিক হুংকার। তার মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে বিবেচিত। এই সাক্ষাৎকারে আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ অবরোধের বাস্তবতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং ইরানের শক্ত অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
জ্বালানি সংকটের কারণে চট্টগ্রামে পণ্যবাহী ট্রাক, লরি ও কাভার্ডভ্যানের সংখ্যা কমে ৮ হাজারের নিচে নেমে এসেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম। একই সঙ্গে পরিবহন ভাড়া বেড়েছে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। এতে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা পণ্য সরবরাহে বিপাকে পড়েছেন এবং বাজারে কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চালক ও পরিবহন অফিসগুলো জানায়, জ্বালানি ঘাটতির কারণে পর্যাপ্ত গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না এবং যে কয়েকটি পাওয়া যাচ্ছে তাতেও অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। আগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় একটি খোলা ট্রাকের ভাড়া ছিল ২৪-২৫ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে ৩৩-৩৫ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনারবাহী লরির ভাড়াও অনুপাতে বেড়েছে। চালকরা জানান, পাম্পে দীর্ঘ লাইন, সীমিত তেল সরবরাহ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে যাত্রা সময়ও বেড়েছে। পণ্য পরিবহন মালিক ও ব্যবসায়ী নেতারা সতর্ক করেছেন, বন্দরে নিয়োজিত পরিবহনগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি না দিলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ও জাতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা অভিযোগ করেছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সংকটকে পুঁজি করে সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ঘোষণা করেছেন যে ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের ডিএনএ ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, প্রায় আড়াই কোটি মানুষের এই শহরে প্রতি বছর ডিএনএ পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ছে, তাই মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরিকে আধুনিক ল্যাবে রূপান্তর করা হবে। রোববার ঢাকার আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি উপদেষ্টা পরিষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবগুলোকে ধীরে ধীরে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রোফাইলিং ল্যাবে উন্নীত করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমান ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবের যন্ত্রপাতি ১৫ বছরের বেশি পুরনো হওয়ায় কার্যকারিতা কমে গেছে, তাই নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন জরুরি। সব ফরেনসিক ডিএনএ রিপোর্টকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সভায় জনবল নিয়োগ, ডাটাবেজ তৈরি, ডিএনএ আইন সংশোধন, যোগ্য কর্মী নিয়োগ ও নমুনা বিশ্লেষণের ফি নির্ধারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা জুয়েল আমিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার সাঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে ‘আমার দেশ’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এ ঘটনার পর শুক্রবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিএনপি নেতা জুয়েল আমিন ও আওয়ামী লীগ নেতা সবুজ মিয়াকে আটক করে। উভয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলন ও ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তাদের কর্মকাণ্ডে যমুনা নদীর তীরবর্তী বাঁধটি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে এবং তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।