ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি ফোনকলই আলোচনার অগ্রগতি থামিয়ে দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ২১ ঘণ্টার বৈঠকের মাঝপথে নেতানিয়াহু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ফোন করেন, যা সম্ভাব্য সমঝোতার পথ বন্ধ করে দেয়। এক্সে দেওয়া বার্তায় আরাগচি অভিযোগ করেন, ওই ফোনকল আলোচনার ফোকাস যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ইস্যু থেকে সরিয়ে ইসরায়েলের স্বার্থের দিকে নিয়ে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, ওয়াশিংটন আলোচনার মাধ্যমে এমন কিছু অর্জন করতে চেয়েছিল যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমে করতে পারেনি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে ভ্যান্সের সংবাদ সম্মেলনকে তিনি ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলেন। ইরান জানায়, তারা জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হোয়াইট হাউস এখনো নেতানিয়াহু ও ভ্যান্সের ফোনকলের বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের শান্তি আলোচনা ইসলামাবাদে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর অবস্থান নেন। ওয়াশিংটন ডিসির কাছে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান আলোচনায় ফিরুক বা না ফিরুক, এতে তার কিছু যায় আসে না। এর আগে তিনি আলোচনাকে বন্ধুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছিলেন, কিন্তু সমঝোতা না হওয়ায় অবস্থান পরিবর্তন করেন। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তেহরান তার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করতে রাজি না হওয়ায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদ বৈঠকের ব্যর্থতার পর উভয় পক্ষের অনমনীয় অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, নিকট ভবিষ্যতে সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের হুমকি দিয়েছেন, যা তাইওয়ানের জন্য নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই ঘোষণায় দ্বীপটির জ্বালানি নির্ভরতার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে, কারণ প্রায় ৯৭ শতাংশ জ্বালানি আমদানি করে তাইওয়ান। ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দেশটি এবং এর সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, যা বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত চিপের প্রায় ৯০ শতাংশ উৎপাদন করে, বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। তাইওয়ানের জ্বালানি জাহাজে করে আসে, যার বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং পশ্চিম উপকূলের কয়েকটি বন্দরে পৌঁছায়। চীন বহু বছর ধরে তাইওয়ানের ওপর চাপ প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সাম্প্রতিক সামরিক মহড়ায় বন্দর ও সমুদ্রপথ অবরোধের অনুশীলন করেছে। বেইজিং তাইওয়ান ইস্যুকে অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরছে এবং ইরান ও ভেনেজুয়েলায় মার্কিন পদক্ষেপের সমালোচনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ চীনের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তাইওয়ান শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, লিফট, রাস্তার আলো ও ব্যবসার সময়ে সীমাবদ্ধতা আনতে পারে। সরকার পারমাণবিক শক্তি পুনর্বিবেচনা করছে, তবে নিষ্ক্রিয় চুল্লি পুনরায় চালু করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সোমবার তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে তার দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ভারতের হাইকমিশনার তথ্যমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। এই সাক্ষাৎ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ) দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপের কারণে দেশ গভীর সংকটে পড়েছে। বর্তমানে এলএনজি, কয়লা ও তেলের উচ্চমূল্যের কারণে সরকারকে প্রতিদিন ২০০ কোটিরও বেশি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বিএসআরইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ, দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সমাধান হলেও প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে নবায়নযোগ্য যন্ত্রপাতি আমদানিতে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ও কর আরোপ রয়েছে, যা বিনিয়োগে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে প্রচলিত জ্বালানি খাত ভর্তুকি ও নীতিগত সুবিধা পাচ্ছে। সংগঠনটি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর শুল্ক ও কর কমানো, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে শূন্য শুল্ক নির্ধারণ, স্বল্প সুদে অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং স্থগিত সৌর প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।
ইসলামাবাদে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা ভেঙে পড়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, দুই পক্ষের মতপার্থক্য এতটাই গভীর যে আপাতত তা মেটানো সম্ভব নয়। এর পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে তাৎক্ষণিক নৌ অবরোধের নির্দেশ দেন এবং সতর্ক করেন, তেহরানকে শুল্ক প্রদানকারী জাহাজ আটক করা হবে। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। দোহা, তেল আবিব, তেহরান, আবুধাবি ও সৌদি আরবের নাগরিকরা সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইসরাইলে এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সফল মনে করেন, আর ৩২ শতাংশ এটিকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। ইরানে স্বল্পস্থায়ী শান্তির আশা দ্রুতই ভেঙে গেছে। লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যত শুরুই হয়নি, বরং দেশটি চুক্তির আওতায় ছিল কি না তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। ইসরাইল সেখানে হামলা জোরদার করেছে। পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, আলোচনার ভাঙন বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলতে পারে যদি শান্তি প্রচেষ্টা পুনরায় গতি না পায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, গত সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তেহরান একটি সম্ভাব্য চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছে গিয়েছিল। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সদিচ্ছা নিয়েই ইরান আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। আরাগচি আরও জানান, আলোচনার সময় দুই পক্ষ যখন একটি সমঝোতা থেকে মাত্র ‘কয়েক ইঞ্চি’ দূরে ছিল, তখন তেহরান অপর পক্ষের কঠোর অবস্থান, লক্ষ্য পরিবর্তন এবং অবরোধের মুখে পড়ে। তিনি আলোচনার বিষয়বস্তু বা নির্দিষ্ট ইস্যু সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। এই বক্তব্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়, যদিও ইসলামাবাদের বৈঠকে বর্ণিত প্রতিবন্ধকতার কারণে ফলাফল অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
ছেঁড়া, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ এবং এর বিনিময়ে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, জনসাধারণের স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে প্রতিটি ব্যাংক শাখাকে নিয়মিতভাবে এ সেবা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বাজারে এখনো ক্ষতিগ্রস্ত নোটের আধিক্য রয়েছে, যা সাধারণ লেনদেনে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। ‘পরিচ্ছন্ন নোট নীতিমালা’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার মতো ছোট মূল্যমানের নোট বিশেষ কাউন্টারের মাধ্যমে গ্রহণ করে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোটে বিনিময়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে আরও বলা হয়, কোনো ব্যাংক শাখা এ সেবা দিতে অনীহা দেখালে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গত বুধবার, ৮ এপ্রিল, লেবাননজুড়ে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৩৫০ জন নিহত হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৬ হাজার ৫৮৮ জন আহত হয়েছেন। এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লেবাননের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ইসরাইলি হামলার তীব্রতায় দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। অসংখ্য এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতা লেবাননে মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে, যেখানে চিকিৎসা অবকাঠামো মারাত্মকভাবে চাপে রয়েছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নাশকতার আশঙ্কা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর রমনার বটমূলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিতে র্যাব সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। র্যাব জানায়, শাহবাগ, টিএসসি, রমনা বটমূল, হাতিরঝিল ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বহুস্তর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সারা দেশে ১৫টি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন, মোট ৩০৮টি টহল—১৮১টি পিকআপ ও ১২৭টি মোটরসাইকেল টহল—মাঠে রয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, কন্ট্রোল রুম ও সিসিটিভি মনিটরিং চালু রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা উস্কানিমূলক তথ্য ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ইভটিজিংয়ের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। র্যাব উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরান ও ইসরাইল ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়ানোয় ন্যাটো জোটের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৩ এপ্রিল জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় এখন থেকে গভীরভাবে পরীক্ষা করা হবে। ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনের সময় ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে ছিল না এবং এই অবস্থায় সদস্যপদ থাকা বা না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সদস্য দেশ তাদের প্রতিরক্ষা বাজেটের ন্যায্য অংশ পরিশোধ করছে না এবং যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে যথাযথ সহায়তা দিচ্ছে না। রাশিয়ার বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ব্যয়কে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অযৌক্তিক বলে মনে করেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ভূমিকা ও আর্থিক অবদান নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থান ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ও কৌশলগত অঙ্গীকার নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
হাঙ্গেরির পার্লামেন্ট নির্বাচনে দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ও তার ফিদেস পার্টির বড় পরাজয় হয়েছে। আংশিক সরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, পিটার মাগিয়ার নেতৃত্বাধীন তিসজা পার্টি বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে। গণনা করা ভোটের ফল অনুযায়ী, তিসজা পার্টি পেয়েছে ৫২.৪৯ শতাংশ ভোট এবং ফিদেস পার্টি পেয়েছে ৩৮.৮৩ শতাংশ। মাগিয়ার সামাজিক মাধ্যমে জানান, অরবান তাকে ফোন করে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত অরবান তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ফলাফল বেদনাদায়ক হলেও পরিষ্কার, এবং এখন তারা বিরোধী দল হিসেবে দেশের সেবা করবেন। আংশিক ফলাফলে দেখা গেছে, ১০৬টি নির্বাচনি এলাকার মধ্যে ৯৫টিতে তিসজা পার্টি এগিয়ে রয়েছে এবং ১৯৯ আসনের পার্লামেন্টে দলটি ১৩০টির বেশি আসন পেতে পারে। ২০১০ সালের পর এই প্রথম হাঙ্গেরিতে সরকার পরিবর্তন হতে যাচ্ছে, যা দেশটির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে হরমুজ প্রণালি খোলার চেষ্টা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। রোববার সিএনএনের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইরানকে থামানোর চেষ্টা না করলে তারা আরও বেশি অর্থ ও সুবিধা পাবে, যা তাদের প্রক্সিদের অর্থায়ন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরঞ্জাম কেনা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রণালি অবরোধের পরিকল্পনা ইরানের নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা করার একটি উপায় হতে পারে। এতে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ এড়ানো সম্ভব হলেও মার্কিন জাহাজগুলো ইরানি হামলার মুখে আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রণালি অবরোধের ফলে চীনের মতো বৃহৎ শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়বে, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের জাহাজ থামানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে।
সৌদি আরব ঘোষণা করেছে যে পবিত্র হজ পালনের জন্য শুধুমাত্র সরকারি হজ ভিসাই বৈধ হবে। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবের বাইরে থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। রোববার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, হজ পালনের একমাত্র অনুমোদিত উপায় হলো হজ ভিসা। সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিজিট, ট্রানজিট, ওমরাহ বা ট্যুরিস্ট ভিসাধারীরা হজের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারবেন না। মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, এসব ভিসাধারীদের হজের অনুমতি দেওয়া হবে না। সৌদি আরবের নাগরিক ও প্রবাসীদের জন্য নিয়ম কিছুটা ভিন্ন, তাদের ‘নুসুক’ অ্যাপের মাধ্যমে বুকিং সম্পন্ন করে হজ পারমিট নিতে হবে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, হজের জন্য সব ধরনের অফিসিয়াল বুকিং কেবল অনুমোদিত মাধ্যমেই করতে হবে এবং কোনো অননুমোদিত বা ভুয়া চ্যানেলের মাধ্যমে বুকিং না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেছে।
আন্তর্জাতিক কর্মীরা স্পেনের বার্সেলোনা থেকে ৭০ নৌকার একটি বহর নিয়ে গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে প্রস্তুত হচ্ছেন। “গ্লোবাল রেজিলিয়েন্স ফ্লোটিলা” নামে এই অভিযানের লক্ষ্য ইসরায়েলের নৌ অবরোধ ভেঙে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। রবিবার যাত্রা শুরু করতে যাওয়া এই অভিযানে ৭০টি দেশের প্রায় ১,০০০ স্বেচ্ছাসেবক অংশ নিচ্ছেন। নৌকাগুলোতে খাদ্য, ওষুধ, স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষাসামগ্রী রয়েছে। সংগঠকরা জানিয়েছেন, এই মিশনটি ফিলিস্তিনি নাগরিক সমাজ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং গ্রিনপিস ও ওপেন আর্মসসহ আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে, এবং বার্সেলোনা পৌরসভা থেকেও সমর্থন পেয়েছে। ফ্লোটিলার মুখপাত্র পাবলো কাস্তিয়া বলেন, এই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নিন্দা জানানো, জবাবদিহিতা দাবি করা এবং সমুদ্র ও স্থলপথে মানবিক করিডর খুলে দেওয়া। তিনি সতর্ক করেন যে, অন্যান্য আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে গাজা নিয়ে বৈশ্বিক মনোযোগ কমে গেছে, যা ইসরায়েলকে অবরোধ আরও কঠোর করার সুযোগ দিচ্ছে। ২০০৭ সাল থেকে অবরোধের মধ্যে থাকা গাজা ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে মারাত্মক মানবিক সংকটে পড়েছে, যেখানে ৭২,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই যাত্রা ২০২৫ সালের প্রথম গ্লোবাল রেজিলিয়েন্স ফ্লোটিলার পরবর্তী উদ্যোগ, যা আন্তর্জাতিক জলে ইসরায়েলি বাহিনী দ্বারা আটকানো হয়েছিল। ২০১০ সালের পর থেকে গাজা অবরোধ ভাঙার সব প্রচেষ্টা একইভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।