ইরানের তেহরান প্রদেশের বাহারেস্তান কাউন্টির কালেহ মির শহরের দুটি আবাসিক এলাকায় মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী বোমা হামলা চালিয়েছে। ফার্স সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এই হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। জনবহুল এই এলাকায় হামলার ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। বাহারেস্তানের গভর্নর জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ এখনো চলছে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। আল জাজিরার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হামলার কারণ বা সামরিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পর কুয়েত নতুন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কৌশল ঘোষণা করেছে। ২০২৬ সালের ৫ এপ্রিল কথিত ইরানি ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিভিন্ন সরকারি ভবন ও মন্ত্রণালয় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। যদিও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, দেশটি উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে এবং দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার পদক্ষেপ নেয়। কুয়েত সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছেন, উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে যাতে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সেনাবাহিনী জানায়, বিস্ফোরণের শব্দ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যক্রমের ফল এবং আতঙ্কের কারণ নয়। নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কুয়েত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার ও জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিচ্ছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অব্যাহত বোমা হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল সীমিত করে তেল অস্ত্রের নতুন সংস্করণ প্রয়োগ করেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের ঘাটতি ও দাম বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে এবং বিশ্লেষকদের মতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা ১৪০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসন ২০ মার্চ ইরানি তেল কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য শিথিল করেছে, যা তাদের নীতিগত সংকটের ইঙ্গিত দেয়। প্রতিবেদনটি ১৯৭৩ সালের আরব তেল নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেছে। তখন আরব ওপেক দেশগুলো ইসরাইল-সমর্থক দেশগুলোর বিরুদ্ধে রপ্তানি বন্ধ করে তেলের দাম চারগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রকে তার মধ্যপ্রাচ্য নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ওইসিডি দেশগুলোর কৌশলগত তেল মজুত থাকলেও তা দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। ইরানের এই পদক্ষেপ দেখিয়েছে, সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তেল এখনো কার্যকর রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে রয়ে গেছে।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ছোট বারইহাটি গ্রামে সরকারি খাল ভরাট করে এবং গফরগাঁও–বরমী আঞ্চলিক সড়কের জমি খনন করে মাছের খামার তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শত শত কৃষক বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা জানান, বৌমরা বা শুকলাইন খালটি টাংগাব, দোয়াদাইর, নিগুয়ারী ও চার্মুতা গ্রাম অতিক্রম করে সুতিয়া নদীতে মিশেছে। কৃষকরা এই খালের পানি সেচ ও নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহার করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ কর্মী আবুল কাশেম প্রায় ২০০ ফুট খাল ভরাট করে এবং সড়কের জমি দখল করে গভীর পুকুর খনন করেছেন, যা সড়ক ধসের ঝুঁকি তৈরি করেছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও মুক্তিযোদ্ধারা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আবুল কাশেম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি নিজের জমিতেই পুকুর করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন এবং ইউএনও এনএম আব্দুল্লাহ-আল-মামুন সরকারি খাল ভরাটের ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি মাসব্যাপী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে নতুন জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। মায়ের্সকের সাবেক পরিচালক লার্স জেনসেন বিবিসিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাব ১৯৭০-এর দশকের অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার চেয়েও বেশি হতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএর প্রধান ফাতিহ বিরোলও সতর্ক করেছেন যে, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকি। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশ্লেষকরা জানান, ১৯৭০-এর দশকের সংকট ছিল আরব দেশগুলোর পরিকল্পিত তেল নিষেধাজ্ঞার ফল, যা তেলের দাম চারগুণ বাড়িয়ে বৈশ্বিক মন্দা সৃষ্টি করেছিল। তবে বর্তমান বাজার অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় ও সহনশীল হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলো এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রণালি দ্রুত খুললেও সরবরাহ ঘাটতি ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ অন্তত ছয় থেকে বারো মাস স্থায়ী হতে পারে। স্থিতিশীলতা ফিরবে কেবল যুদ্ধের তীব্রতা কমলে।
ইরান সমর্থিত কাতাইব হিজবুল্লাহর নেতা আবু হুসেন আল-হামিদাওয়ি সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালি নিয়ে তার হুমকি বাস্তবায়ন করে, তবে আঞ্চলিক তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হবে। ইরানের সংবাদ সংস্থা ইরনা প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জোর করে প্রণালি খুলতে চাইলে কোনো তেল বা গ্যাস প্ল্যাটফর্ম অক্ষত থাকবে না। আল-হামিদাওয়ি আরও বলেন, এই অঞ্চলে মার্কিন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও বৈধ লক্ষ্যবস্তু এবং এ বিষয়ে কোনো সীমারেখা নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হয় সবার জন্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে, না হয় কেউই নিরাপত্তা পাবে না। আলজাজিরা সূত্রে প্রকাশিত এই বিবৃতি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ঘোষণা করেছে, হরমুজ প্রণালি আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে বদলে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, পারস্য উপসাগর এলাকায় ইরান যে নতুন ব্যবস্থা চালু করতে চায়, তা বাস্তবায়নে তারা সামরিক প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে ইরানের পার্লামেন্টারি কমিটি একটি খসড়া আইন অনুমোদন করে, যেখানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ট্রানজিট ফি আরোপের প্রস্তাব রয়েছে এবং এই ফি ইরানের নিজস্ব মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দেশগুলোর ওপর পাল্টা বিধিনিষেধের কথাও বলা হয়েছে। পরিকল্পনায় ইরানের সার্বভৌমত্ব, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও ওমানের সঙ্গে আইনি সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়ে সতর্ক করেছেন, না মানলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে। রাশিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭১ হাজার কোটি টাকার বেশি কমে যাওয়ায় এবং বৈদেশিক ঋণ ছাড় প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। এ সময়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ পাঁচ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ব্যাংক খাত থেকেই এসেছে ৯৮ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বাড়লেও দেশীয় বাজারে দাম না বাড়ানোর কারণে সরকারকে মার্চ-জুন সময়ে ডিজেল ও অকটেনে ১৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। রপ্তানি আয় টানা আট মাস ধরে কমছে, অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে আয় কমেছে ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। মার্চে রেমিট্যান্স রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ডলার হলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এ প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাবেক বিশ্বব্যাংক অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং অতিরিক্ত ঋণ বা টাকা ছাপানো হলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, অর্থ ছাপানো নয়, বরং বিনিয়োগ ও সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করা হবে। অর্থনৈতিক উপদেষ্টারা রাজস্ব আহরণ বাড়ানো ও ভর্তুকি কমানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
গ্রীষ্ম আসার আগেই দেশে শুরু হয়েছে ব্যাপক লোডশেডিং। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ বিভাগ চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দিতে পারছে না। রোববার দুপুরে ১৩ হাজার ৫৩০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১২ হাজার ৮৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে, ফলে ৬০৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এক দিনের ব্যবধানে অর্ধেকে নেমে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে ৪৫০০ থেকে ৫০০০ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৪০০০ মেগাওয়াট এবং ভারতের আদানি, ভেড়ামারা ও ত্রিপুরা কেন্দ্র থেকে গড়ে ১৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মোট পাওনা প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে বেসরকারি তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর বকেয়া প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পিডিবি জরুরি ভিত্তিতে ২০ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে। এদিকে ব্যবসায়ীদের অনুরোধে সরকার দোকান ও বিপণিবিতান রাত ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে, যা আগে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সীমিত ছিল।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় না খুললে ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার, ৫ এপ্রিল তিনি বলেন, ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে এবং দেশটি নরকের মধ্যে বসবাস করবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা একে ‘বিপজ্জনক খেলা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেছেন, এটি বেসামরিক মানুষের ক্ষতি করবে ও ‘যুদ্ধাপরাধে উসকানি’ হিসেবে বিবেচিত। ট্রাম্পের হুমকির পর ইরান দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সি-১৩০ যুদ্ধবিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। একই সময়ে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে ইরানে একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সামরিক দাবি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক আবারও অস্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছেছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি বর্তমানে চরম দুরবস্থার মধ্যে পড়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক স্থবিরতায় তাদের আয় প্রায় তলানিতে নেমে এসেছে। স্কুল ও পর্যটন খাত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ট্যাক্সিচালকদের আয় প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে, হাজার হাজার ক্লিনার ও নির্মাণশ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। নিত্যপণ্যের দাম ও ঘরভাড়া বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। যুদ্ধসংক্রান্ত ভিডিও ধারণের কারণে অনেক প্রবাসী গ্রেপ্তার হয়েছেন, অথচ দূতাবাসের পক্ষ থেকে কার্যকর সহায়তা দেখা যাচ্ছে না। আবুধাবি ও দুবাইয়ের প্রবাসীরা জানিয়েছেন, ড্রোন ও মিসাইল হামলায় কিছু বাংলাদেশি হতাহত হয়েছেন এবং অনেকেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। হরমুজ প্রণালির অস্থিরতায় সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়েছে। কোম্পানিগুলো খরচ কমাতে কর্মী ছাঁটাই করছে, ফলে অনেকের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। সীমিত আয়ের কারণে দেশে ফেরাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বিএমইটি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, আমিরাতে ১০–১২ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত এবং এখান থেকে দেশের মোট রেমিট্যান্সের ১৫–১৮ শতাংশ আসে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দেওয়া নিজের আলটিমেটামের নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “মঙ্গলবার, রাত ৮টা ইস্টার্ন টাইম!” যা তেহরানের সময় বুধবার ভোর সাড়ে ৩টা, গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা এবং বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা। এর আগে ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে ইরান ব্যবস্থা না নিলে দেশটির কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতু আস্ত থাকবে না। ফেব্রুয়ারি থেকে চলা যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের হুমকি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা বাড়ছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রকে আলটিমেটাম বা হুমকির ভাষা ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কো জানিয়েছে, সংঘাত না বাড়িয়ে ওয়াশিংটনের উচিত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং চলমান যুদ্ধ প্রশমনের প্রচেষ্টা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি হুমকির ভাষা ত্যাগ করে আলোচনার ধারায় ফিরে আসে, তবে তা সংকট সমাধানে সহায়ক হবে। রাশিয়া ও ইরান উভয় দেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ সব পক্ষকে এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে, যা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ নষ্ট করতে পারে। রাশিয়ার এই আহ্বান ইঙ্গিত দেয় যে, মস্কো সংঘাত নয় বরং আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
রোববার দুপুরে বেইলি রোডস্থ সরকারি বাংলোতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি)-এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, পুলিশ সংস্কার, স্বাধীন পুলিশ কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সরকার ধারাবাহিক ও পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নে বিশ্বাসী এবং পুলিশের পুনর্গঠন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপি সহযোগিতা করতে পারে। ইউএনডিপি প্রতিনিধি জানান, সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে কাজ করছে এবং খসড়া অধ্যাদেশে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন ও স্বাধীন পুলিশ কমিশনের অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে বিল আকারে পেশ করা হবে। তিনি আরও জানান, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশও যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রভাবমুক্ত একটি ‘স্বাধীনতার জোট’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ইয়োনসেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তৃতায় তিনি আন্তর্জাতিক আইন, গণতন্ত্র ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি অভিন্ন প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে নতুন জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সম্ভাব্য এই জোটে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ব্রাজিল, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ম্যাক্রোঁ সামরিক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনা করে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সময়ে, ফ্রান্স জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে, যার ফলে ইসরাইলের সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। ইসরাইল ফ্রান্স থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাক্রোঁর এই অবস্থান বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরির প্রচেষ্টা, যেখানে মধ্যম শক্তির দেশগুলো আরও স্বাধীনভাবে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করতে পারবে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।