Web Analytics

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন ১০০ শতাংশ শুল্কের জবাবে চীন জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে “শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে।” চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৪ অক্টোবর এক বিবৃতিতে জানায়, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ‘গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারের রফতানি নিয়ন্ত্রণ’ আরোপের হুমকির পর এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এর আগে চীন ‘দুর্লভ মাটির’ রফতানি সীমিত করেছিল, যা নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। বেইজিং জানিয়েছে, তারা সংলাপের জন্য প্রস্তুত, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি ও আলোচনা একসঙ্গে চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এদিকে, সেপ্টেম্বর মাসে চীনের রফতানি ৮.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানি ৩৪.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলমান শুল্ক যুদ্ধ এখন আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

15 Oct 25 1NOJOR.COM

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়বে চীন

বৃহস্পতিবার ফোনে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, বাড়তে থাকা শুল্ক সংকট ও বাণিজ্য উত্তেজনা ঠেকাতে। ট্রাম্পের অনুরোধে এই আলাপ হয়। চীনকে শর্তভঙ্গের অভিযোগ করলেও তারা তা অস্বীকার করেছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এই আলোচনায় বিনিয়োগকারীরা কিছুটা আশার ইঙ্গিত দেখছেন। যদিও মূল বিরোধ এখনও রয়ে গেছে—যেমন তাইওয়ান, ফেন্টানিল বাণিজ্য ও চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি। দুই নেতার সর্বশেষ সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০১৯ সালে ওসাকায়।

হোয়াইট হাউসে বৃহস্পতিবার চীনের পণ্যের ওপর আরোপ করা শুল্ক প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘শুল্ক আরও বেশি হোক, তা আমি চাই না। কারণ, একটি পর্যায়ে গেলে মানুষ আর কেনাকাটা করতে পারবে না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি শুল্ক কমাতে পারি। কারণ, আপনি চাইবেন, মানুষ কেনাকাটা করুক।’ উল্লেখ্য, এপ্রিলের শুরুতে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করে নিলেও চীনের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম, দেশটির ওপর বরং ধাপে ধাপে শুল্ক বাড়িয়ে ১৪৫ শতাংশ করা হয়। পাল্টা জবাবে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করে। ট্রাম্প বলেন, শুল্ক নিয়ে বেইজিং বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছে। সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসী —চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘খুব ভালো’ একটি চুক্তি হবে।

Card image

দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে উৎসাহিত করতে এবং এই খাতে চীনের আধিপত্য রোধ করার লক্ষ্যে চীনের তৈরি ও পরিচালিত জাহাজের উপর নতুন বন্দর ফি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যার বেশিরভাগই অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে কার্যকর হবে। প্রতিটি চীনা-সংযুক্ত জাহাজের মার্কিন ভ্রমণের জন্য প্রযোজ্য হবে। এক্ষেত্রে প্রতি টনেজ বা প্রতি কন্টেইনারে বাড়তি ফি গুনতে হবে। এছাড়া বছরে পাঁচবার এই ফি মূল্যায়ন করা হবে। কোনো মালিক যদি মার্কিন নির্মিত জাহাজের জন্য অর্ডার দেন তবে তা মওকুফ করা হতে পারে। চীনা নির্মিত জাহাজের জন্য, প্রতি এন্ট্রি ১৮ ডলার বা প্রতি কন্টেইনারে ১২০ ডলার থেকে শুরু হয় - যার অর্থ ১৫,০০০ কন্টেইনারসহ একটি জাহাজের জন্য ১.৮ মিলিয়ন ডলারের বিশাল ফি বাড়তি গুনতে হতে পারে।

Card image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্মার্টফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যকে নতুন পাল্টা শুল্ক থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন, যার মধ্যে চীনা পণ্যের ওপর ১২৫% শুল্কও রয়েছে। মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিরা হুঁশিয়ারি দিয়েছিল—এই শুল্ক কার্যকর হলে আইফোনসহ বিভিন্ন ডিভাইসের দাম তিনগুণ বেড়ে যেতে পারে। অ্যাপলের অনেক পণ্য চীনে তৈরি হলেও এখন উৎপাদন ভারত ও ভিয়েতনামে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এই অব্যাহতি আপাতত স্বস্তি এনে দিলেও, চীনের ওপর শুল্ক বাড়ানো অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন ভালো বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনায় রয়েছে।

Card image

চীনা পণ্যের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কের জবাবে চীন ঘোষণা দিয়েছে, ১০ এপ্রিল থেকে সব ধরনের মার্কিন পণ্যে অতিরিক্ত ৩৪% শুল্ক আরোপ করা হবে। চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যমান শুল্কের পাশাপাশি এই শুল্ক কার্যকর হবে। একই সঙ্গে চীন সাতটি বিরল খনিজ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে গ্যাডোলিনিয়াম ও ইট্রিয়াম। চীন এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় অভিযোগ জানাবার পরিকল্পনাও করেছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে সব আমদানিতে ১০% সার্বজনীন শুল্ক কার্যকর হয়েছে।

Card image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত ও চীনের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন, দাবি করে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের মতোই শুল্ক আরোপ করবে। দীর্ঘ বিলম্বের পর তার প্রশাসন এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। মোদির মার্কিন সফরে বাণিজ্য সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে বিশেষজ্ঞরা পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তির পরিবর্তে শুল্ক কমানোর পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ভারতের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে, এসঅ্যান্ডপি কম প্রভাব দেখলেও গোল্ডম্যান স্যাক্স সতর্ক করেছে। ছয় মাসের মধ্যে হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।

Card image

গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৩৮ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।