কর্ণফুলী পেপার মিলস (কেপিএম) নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশ স্টেশনারি অফিস (বিএসও)-এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ৯১৪ টন কাগজ সরবরাহ করেছে। ১১ কোটি টাকার বেশি মূল্যের এই কাগজ আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ও অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হবে। কেপিএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সরবরাহের কথা থাকলেও কেপিএম ১১ জানুয়ারির মধ্যেই তা সম্পন্ন করেছে।
কেপিএম জানায়, নির্বাচনের জন্য ব্রাউন, সবুজ ও গোলাপি রঙের কাগজের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছিল। রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত এই রাষ্ট্রায়ত্ত কাগজকল ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে সাড়ে ৩ হাজার টন কাগজ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১১টি প্রতিষ্ঠানে আরও ১২০০ টন কাগজ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর অধীনে পরিচালিত কেপিএম দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কাগজকলগুলোর একটি এবং ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৯ হাজার ৩০ টন কাগজ উৎপাদন করেছে।
নির্ধারিত সময়ের আগেই ইসিকে ৯১৪ টন ব্যালট কাগজ সরবরাহ করল কেপিএম
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করবে। ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সংলাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংলাপে আরপিও ও আচরণবিধির সাম্প্রতিক সংশোধন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন এবং দলগুলোর নিজস্ব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। নতুন আচরণবিধিতে পোস্টার ও প্লাস্টিকজাত সামগ্রী নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবে ফেস্টুন, লিফলেট ও ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। একই দিনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘোষিত লকডাউন কর্মসূচি থাকলেও ইসি নির্ধারিত সময়েই সংলাপ আয়োজনের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। গণভোট বিষয়ে কোনো নির্দেশনা এখনো কমিশনে পৌঁছায়নি বলে তিনি জানান।
নির্বাচনী আচরণবিধি ও সহযোগিতা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসছে ইসি
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোট অনুষ্ঠিত হলেও কমিশন শতভাগ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে ভোটের কালি এসে পৌঁছেছে এবং প্রয়োজনীয় সব মৌলিক কাজ শেষ হয়েছে। শান্তিপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচনসহ দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইসি জানিয়েছে, নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ, আইন সংশোধন ও ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ সব কাজ নভেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে এবং ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণার আগেই প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। দেশে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি, যার মধ্যে নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৭২ জন, পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৩৮২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩০ জন। ৩০০ আসনে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং মোট ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন, যা নির্বাচন ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
কমিশনের জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, ‘নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের অধ্যাদেশ জারি করেছে, যাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও নতুন বিধান। নতুন আরপিও অনুযায়ী, আদালতে ফেরারি বা পলাতক ঘোষিত কেউ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। একইসঙ্গে একক প্রার্থীর আসনে ‘না ভোট’ পুনর্বহাল করা হয়েছে, প্রার্থীর জামানত ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন আইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নির্বাচনে নিরাপত্তা জোরদার করবে। আইটি-সমর্থিত ডাক ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রবাসী, সরকারি চাকরিজীবী ও হেফাজতে থাকা ভোটারদের জন্য। হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে নির্বাচনের পরও প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা পেয়েছে ইসি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার ও অপতথ্য প্রচারকে নির্বাচনি অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে।
অনিয়ম হলে প্রয়োজন হলে পুরো আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতাও যুক্ত হয়েছে। এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনি আইনের সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে, যা আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচনের পথ সুগম করবে।
নির্বাচনে পলাতক প্রার্থী নিষিদ্ধসহ আরপিওতে কঠোর ও আধুনিক বিধান সংযোজন করেছে নির্বাচন কমিশন
সুপ্রিম কোর্টে ভোট ডাকাতি, হামলা ও বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীদের হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অ্যাডভোকেট আবু সাইদ সাগরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ জামিনের আবেদন শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার জানান, আবু সাইদ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন, তবে রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতার পর আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত ১৪ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন, যেখানে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ ৭৫ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ১৪ ও ১৫ মার্চ ভোট চলাকালে আওয়ামীপন্থি আইনজীবী ও পুলিশের সহায়তায় বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়, যাতে বহু আইনজীবী আহত হন ও নারী আইনজীবীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে।
সুপ্রিম কোর্টে ভোট ডাকাতি, বিএনপির আইনজীবীদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শাহবাগ থানায় করা মামলায় অ্যাডভোকেট আবু সাইদ সাগরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য রেখে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল নির্ধারণ করা হবে। কমিশন আগামী জুলাই-আগস্ট থেকেই পূর্ণ প্রস্তুতি শুরু করতে চায়। সাধারণত ৪৫-৫৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হয়, এবং ইসি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সময়মতো তফসিল ঘোষণা এবং দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১১৮ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।