কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় এক কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে সারাদিন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগ নেতা মনির হোসেনের বিরুদ্ধে। বুধবার উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের বিনন্দিয়ারচর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের শিকার আবু সাঈদ শাহ দৌলতপুর গ্রামের মৃত নাজির ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্যানুযায়ী, মনির তার গরুর ফার্ম থেকে ৯০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ এনে আবু সাঈদকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন এবং নির্যাতন চালান। স্থানীয়রা জানান, মনির উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আখলাক হায়দারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন।
আবু সাঈদের মা সেলিনা জানান, মনির কাজের কথা বলে ছেলেকে বাসায় নিয়ে যায়। পরে ছেলেটি কাজের পারিশ্রমিক চাইলে তাকে চোরের অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করে এবং মুক্তির জন্য ৯০ হাজার টাকা দাবি করে।
বুড়িচং থানার ওসি আজিজুল হক বলেন, পুলিশ কিশোরকে উদ্ধার করে মনিরকে আটক করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
বুড়িচংয়ে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় নির্যাতনের শিকার কিশোরকে উদ্ধার করছে পুলিশ
লাকসামে স্থানীয়দের মধ্যে ভয়ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি এবং ছিনতাই ও চুরির পরিকল্পনার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের গেটের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেন লাকসাম থানার ওসি নাজনীন সুলতানা।
আটককৃতরা হলো—লাকসাম পৌর শহরের ফতেহপুর এলাকার মৃত এরশাদ মিয়ার ছেলে কামরুল হাসান ফাহিম (১৭), ধামৈচা এলাকার আবুল কালামের ছেলে মিনহাজুল আবেদীন নাঈম (১৫) এবং উত্তরকুল এলাকার সহিদুল ইসলামের ছেলে জিয়াদুল ইসলাম হৃদয় (১৮)।
ওসি নাজনীন সুলতানা জানান, দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনে কয়েকজন কিশোর দোকানের সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিল। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা তিনজনকে আটক করে এবং তাদের কাছ থেকে দেশীয় ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে তাদের হস্তান্তর করা হয়।
আটক তিনজনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান ওসি। এ ঘটনায় এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে।
দেশীয় অস্ত্রসহ লাকসামে আটক তিন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ২২ বছর বয়সী যুবক সুজন কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আহত হওয়ার ১৪ দিন পর মারা গেছেন। পুলিশ জানায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে মালাপাড়া ইউনিয়নের অলুয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার সামনে কিশোরদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন তিনি। এ ঘটনায় আরও সাতজন আহত হয়। প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে সুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে সোমবার রাতে তিনি মারা যান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোহরপুর ও অলুয়া এলাকার কিশোরদের মধ্যে পূর্বের কথা কাটাকাটির জেরেই সংঘর্ষটি ঘটে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনায় আগে থেকেই মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে, বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় নিহত সুজনকে নিয়ে স্বজনদের আহাজারি।
কুমিল্লায় ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে শহীদ মিনার ভাঙচুরের ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষ দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শহীদ দিবসে এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তদন্তে স্থানীয়দের সংশ্লিষ্টতা সন্দেহ করা হচ্ছে, তবে সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় তৎকালীন তথ্য সংগ্রহে সমস্যা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ আগামী ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
কুমিল্লায় শহীদ মিনার ভাঙচুরের ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠিত
কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার কনস্টেবল মো. মহিউদ্দিন (৫৯) চোরের পালানো ঠেকাতে গিয়ে প্রাণ হারান। স্থানীয়রা চোর রুবেল মিয়াকে ধরে মারধর করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় পুলিশ তাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। তবে হাসপাতালের গেটে অটোরিকশা থেকে নামানোর সময় রুবেল হঠাৎ দৌড়ে পালিয়ে যায়। মঙ্গলবার রাত ৯:৩০টার দিকে সরকারি কলেজ সড়কের কাছে এই ঘটনা ঘটে।
কুমিল্লায় চোরের পালানো ঠেকাতে গিয়ে কনস্টেবলের মৃত্যু
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৬৭ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।