জাপানে শ্রমবাজার-২০২৪: নেপাল থেকে গেছে অর্ধলাখ কর্মী, বাংলাদেশের মাত্র সাড়ে তিন হাজার জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ ও ভাষা শেখায় গুরুত্ব দেয়া হোক
এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের শ্রমবাজারে বর্তমানে শ্রম ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে শ্রমশক্তি ঘাটতির অন্যতম প্রধান কারণ বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়ছে ও শিশু জন্মহার কমছে। ফলে বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়ায় কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে। কমসংখ্যক শিশু জন্ম নেয়ায় ভবিষ্যতে তরুণ কর্মক্ষম মানুষের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। জাপান উন্নত শিল্পপ্রধান দেশ হওয়ায় উৎপাদন, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ইত্যাদি খাত বিপুল পরিমাণ শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় উৎপাদন ও সেবা খাতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় শ্রমশক্তি ঘাটতি মেটাতে জাপান সরকার বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের জন্য ভিসানীতি শিথিল করেছে। ফলে জাপানে নির্দিষ্ট কাজে দক্ষ ও জাপানি ভাষায় অভিজ্ঞ বিদেশী শ্রমিকের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কৃষিকাজ, নির্মাণ খাত, কেয়ার গিভার, অটোমোবাইল, শিপিংসহ মোট ১৬টি ক্যাটাগরিতে দেশটিতে শ্রম রফতানির বিশাল সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অবারিত এ সুযোগ বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারছে না। তবে বাংলাদেশ পর্যাপ্তসংখ্যক শ্রমিক পাঠাতে ব্যর্থ হলেও প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার থেকে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক শ্রমিক দেশটিতে যাচ্ছেন এবং তাদের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বাংলাদেশ জাপানে শ্রমশক্তি পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ ভাষাজ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট কাজে প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকা। এছাড়া দক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতার অভাব এবং বিগত সরকারগুলোর যথাযথ উদ্যোগেও ঘাটতি ছিল। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশকে জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে নিতে হবে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত উদ্যোগ।