কর্নাটকের ম্যাঙ্গালুরুতে ঝাড়খণ্ডের মুসলিম শ্রমিক দিলজানি আনসারিকে বাংলাদেশি সন্দেহে একদল যুবক মারধর করেছে। রোববার কুলুর এলাকায় চার যুবক তার পথ আটকায়, পরিচয়পত্র দেখতে চায় এবং তাকে বাংলাদেশি বলে অভিযুক্ত করে। দিলজানি নিজেকে ভারতীয় দাবি করলেও তারা তা অস্বীকার করে তার মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয় এক নারী তাকে উদ্ধার করেন। আতঙ্কে তিনি থানায় অভিযোগ না করে স্থানীয় নেতাদের জানান, যারা পরে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।
পুলিশ তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে যে দিলজানি ভারতীয় নাগরিক এবং তিনি গত ১৫ বছর ধরে প্রতি বছর প্রায় ছয় মাস ম্যাঙ্গালুরুতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। অভিযুক্ত চারজন—সাগর, দানুশ, লালু রথিশ ও মোহন—একটি ডানপন্থি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও অপরাধমূলক ভয় দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে, তবে তারা এখনো পলাতক।
সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা বিশেষ করে হিন্দুত্ববাদী রাজ্যগুলোতে ক্রমেই বাড়ছে।
বাংলাদেশি সন্দেহে ম্যাঙ্গালুরুতে মুসলিম শ্রমিকের ওপর হামলা, পুলিশ জানায় তিনি ভারতীয় নাগরিক
একটি ফাঁস হওয়া নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গাজায় চলমান ইসরাইলি সামরিক অভিযানে ইসরাইলকে সামরিক, গোয়েন্দা ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছে। নথিতে লোহিত সাগর অঞ্চলে অবস্থিত ইউএইর সামরিক ঘাঁটিগুলো ইসরাইলের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ রয়েছে। অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম এমিরেটলিকস ২০২৩ সালের অক্টোবরের এই গোপন নথিটি প্রকাশ করে, যা ইউএই সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের উদ্দেশে লেখা হয়েছিল। এর প্রণেতা ছিলেন আল-দাফরা অঞ্চলের প্রতিনিধি ও ইউএই রেড ক্রিসেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান হামদান বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ক্রেডল জানায়, ৭ অক্টোবরের হামলার পর এবং ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ববর্তী সহযোগিতা চুক্তির ভিত্তিতে ইউএই ইয়েমেন, ইরিত্রিয়া ও সোমালিয়ার ঘাঁটিগুলো ইসরাইলের সহায়তায় প্রস্তুত করে। এসব ঘাঁটি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সক্ষমতা দিয়ে সজ্জিত করা হয়, যাতে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানে ইসরাইলকে শক্তিশালী করা যায়। নথিতে বলা হয়েছে, এই সহায়তা চলবে যতক্ষণ না প্রতিরোধকারীরা পরাজিত হয়।
এদিকে গাজায় অবরোধ ও তীব্র শীতের কারণে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ২১ জনই শিশু বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ফাঁস নথিতে গাজা অভিযানে ইসরাইলকে ইউএইর সহায়তার অভিযোগ
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টে স্বামীর হত্যার বিচার দাবি করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ইনকিলাব মঞ্চ এখনো কোনো কর্মসূচির ডাক দিচ্ছে না। সম্পা লিখেছেন, বিচার যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে এবং দেরির কারণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
পোস্টে তিনি ওসমান হাদির পূর্বের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি হাদির পরিবার ও অনুসারীদের মানসিক অবস্থার কথাও উল্লেখ করেন, যারা তার মৃত্যুর পর গভীর শোকের মধ্যে আছেন। তার এই পোস্ট ইনকিলাব মঞ্চের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি (৩২) গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন। তিন দিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে তাকে জাতীয় কবির সমাধিপাশে দাফন করা হয়।
রাবেয়া ইসলাম সম্পার ফেসবুক পোস্টে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবি
গুমসংক্রান্ত কমিশনের প্রকাশিত ২২৩ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা বহু ক্ষেত্রে দমন-পীড়নকে বৈধতার ছদ্মবেশ দেওয়ার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল। মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনের সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণের বদলে বিচারব্যবস্থা ব্যবহার করা হতো ভুক্তভোগীদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করতে, অবৈধ আটককে স্বাভাবিক করতে এবং জোরপূর্বক আদায় করা স্বীকারোক্তিকে ‘আইনি সত্য’ হিসেবে নথিভুক্ত করতে। কমিশনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিচারব্যবস্থা নাগরিক অধিকার রক্ষার পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রতিবেদনে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি, পদ্ধতিগত হেরফের এবং কৌশলগত মামলা দায়েরের ধারাবাহিক প্রবণতা শনাক্ত করা হয়েছে, যা গুমের ঘটনাগুলোকে আইনের আড়ালে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করেছে। ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে, তাদের জোর করে স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করানো, হুমকি দেওয়া এবং আইনজীবীর উপস্থিতি ছাড়াই আদালতে হাজির করার ঘটনা। অনেক ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটরা স্বীকারোক্তি স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়েছে কি না তা যাচাই না করেই অনুমোদন দিয়েছেন।
কমিশন বলেছে, বিচার বিভাগ সংবিধানের রক্ষক এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষার প্রধান স্তম্ভ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায়বিচারের অধিকার রয়েছে।
কমিশন জানায়, শেখ হাসিনার আমলে গুমে বিচারব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়েছে
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চ শুল্ক আরোপের পরও চীনের রপ্তানি বাণিজ্য রেকর্ড ৩ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বুধবার প্রকাশিত শুল্ক বিভাগের তথ্যে দেখা যায়, গত বছর রপ্তানি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে, আর আমদানি স্থিতিশীল ছিল ২ দশমিক ৫৮ ট্রিলিয়ন ডলারে। ফলে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ১ দশমিক ১৯ ট্রিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রপ্তানি কমলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপে রপ্তানি বাড়িয়ে এই সাফল্য অর্জন করেছে বেইজিং।
ডিসেম্বরে চীনের রপ্তানি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা অর্থনীতিবিদদের ৩ শতাংশ পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে আমদানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য কমেছে, কারণ রুশ তেলের আমদানি হ্রাস পেয়েছে এবং চীনা গাড়ির চাহিদা কমেছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের শুল্ক প্রশাসনের উপমন্ত্রী ওয়াং জুন বলেন, বিশ্ববাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি পর্যাপ্ত নয় এবং বর্তমান পরিস্থিতি চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য অনুকূল নয়।
ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের মাঝেও চীনের রপ্তানি রেকর্ড ৩.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানে অবস্থানরত দেশটির নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ দমন অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত ও গ্রেপ্তার হয়েছে। তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, ইরানে থাকা ভারতীয় ছাত্র, তীর্থযাত্রী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের উপলব্ধ যে কোনো পরিবহনের মাধ্যমে দ্রুত দেশ ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমান, ইরানে সাধারণত প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় নাগরিক অবস্থান করেন। দূতাবাসের বার্তায় নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে এবং দ্রুত যাত্রার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
এই নির্দেশনা ইরানের ক্রমবর্ধমান অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের উদ্বেগকে প্রতিফলিত করছে এবং দেশটির নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানে সহিংস বিক্ষোভ দমনের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের দেশ ত্যাগের পরামর্শ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বুধবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এই ধাপে নিরস্ত্রীকরণ, টেকনোক্র্যাটিক শাসন এবং পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। উইটকফ সতর্ক করে বলেন, হামাসকে চুক্তির অধীনে তার সব বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হবে, যার মধ্যে ইসরাইলি জিম্মিদের লাশ হস্তান্তরও অন্তর্ভুক্ত, অন্যথায় গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে দুই বছরের মধ্যে ইসরাইল গাজায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। গত তিন মাস ধরে উপত্যকায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিনিময়ে ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
উইটকফ তুরস্ক, মিশর ও কাতারকে মধ্যস্থতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের প্রচেষ্টায় এ পর্যন্ত অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার প্রতি ফিলিস্তিনিদের সমর্থনকে স্বাগত জানিয়েছে।
গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরু, নিরস্ত্রীকরণ ও পুনর্গঠনে জোর
গাজীপুর মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল বাসেত বিএনপি ছেড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় টঙ্গী পূর্ব থানার ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি জানান, বিএনপি ও এর সব অঙ্গসংগঠনের দায়িত্ব থেকে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
রফিকুল বাসেত তার পোস্টে লেখেন, দীর্ঘ আত্মসমালোচনা ও চিন্তার পর তিনি ইসলামী আদর্শে জীবন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গাজীপুর মহানগরের নায়েবে আমির ও জামায়াতের গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থী হোসেন আলী এবং মহানগর সহকারী সেক্রেটারি আফজাল হোসেনের মাধ্যমে তিনি জামায়াতে যোগ দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ইসলামী জীবনব্যবস্থা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সর্বোত্তম পথ।
যোগদানের পর রফিকুল বাসেত বলেন, জামায়াতে ইসলামী আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পথে পরিচালিত হয় এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই দলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছিলেন। তিনি আরও জানান, জিয়াউর রহমানের সময় থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বিএনপি নেতা রফিকুল বাসেত গাজীপুরে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিলেন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ইরান তার আকাশপথ পুনরায় খুলে দিয়েছে। এই সাময়িক বন্ধের কারণে কয়েকটি এয়ারলাইন ফ্লাইট বাতিল, রুট পরিবর্তন বা বিলম্ব করতে বাধ্য হয়। মার্কিন ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ইরান সব ধরনের ফ্লাইটের জন্য আকাশপথ বন্ধ ঘোষণা করে। তবে সরকারি অনুমোদিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো দেশটির ভেতরে আসা-যাওয়ার অনুমতি পায়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, রাত ১০টার কিছু আগে (ইটি), অর্থাৎ ০৩০০ জিএমটিতে এই নোটিস প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ইরানি এয়ারলাইন মাহান এয়ার, ইয়াজদ এয়ারওয়েজ এবং এভিএ এয়ারলাইনসের মোট পাঁচটি ফ্লাইট পুনরায় দেশটির আকাশপথ ব্যবহার করে চলাচল শুরু করে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সাময়িক আকাশপথ বন্ধ ও পুনরায় চালু হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার আশঙ্কায় পাঁচ ঘণ্টা পর ইরানের আকাশপথ পুনরায় চালু
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপ থেকে ২ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের আগস্টে এস আলম ভেজিটেবল অয়েল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে থেকে মনিরুজ্জামানের নামে পে-অর্ডারের মাধ্যমে এই অর্থ প্রদান করা হয়। পরে তিনি ওই অর্থ দিয়ে তিনটি এফডিআর খোলেন। বিএফআইইউ জানায়, এই অর্থের বিপরীতে কোনো বৈধ সেবা বা চুক্তির নথি পাওয়া যায়নি এবং লেনদেনটি অত্যন্ত সন্দেহজনক।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অবসরের পর মনিরুজ্জামান এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানে ২৭ মাস চাকরি করেন এবং মাসে সাড়ে ছয় লাখ টাকা বেতন পান। তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ডেপুটি গভর্নর থাকাকালীন সময়ে তিনি এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অনৈতিক সুবিধা দিয়েছিলেন। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মনিরুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ঘুষ নেননি এবং দুই কোটি টাকার একটি সম্পত্তি বিক্রি করেছেন এস আলম গ্রুপের কাছে।
বিএফআইইউর প্রতিবেদন: এস আলম গ্রুপ থেকে ২ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন সাবেক ডেপুটি গভর্নর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত হয়েছেন। বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনাও স্থগিত করা হয়েছে। তবে তিনি কার কাছ থেকে এ তথ্য পেয়েছেন তা স্পষ্ট করেননি, শুধু বলেছেন এটি এসেছে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র’ থেকে। ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের অর্থনৈতিক সংকট থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা, যেখানে বছরের পর বছর মুদ্রার অবমূল্যায়নে ইরানি রিয়েল বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল পাওয়া যাচ্ছে।
উভয় পক্ষের বক্তব্যে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিললেও যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখছে।
ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে বলে জানালেন ট্রাম্প
গাজীপুরের টঙ্গীতে বিএনপির দুই নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় টঙ্গী বাজারের ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত কার্যালয়ে এই যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। যোগদানকারীরা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও গাজীপুর মহানগর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল বাসেত এবং বৃহত্তর টঙ্গী থানা বিএনপির সাবেক সদস্য সোহরাব উদ্দিন। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগরের নায়েব আমির ও গাজীপুর-২ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মুহাম্মদ হোসেন আলীসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রফিকুল বাসেত যোগদানের পর বলেন, দীর্ঘ আত্মসমালোচনা ও চিন্তার পর ইসলামি আদর্শে জীবন পরিচালনার সিদ্ধান্ত থেকে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জামায়াত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পথে পরিচালিত হয়। সোহরাব উদ্দিন জানান, তারা বিএনপির নেতাদের বিষয়টি জানাবেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার করবেন।
এই যোগদান গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
টঙ্গীতে বিএনপির দুই নেতা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিলেন
ইরান সরকার ২৬ বছর বয়সি এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে, যিনি সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দণ্ডিত হয়েছিলেন। তার পরিবার এবং নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগাও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে সিএনএন জানিয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সোলতানি রাজধানী তেহরানের শহরতলি কারাজে বসবাস করতেন। গত ৮ জানুয়ারি তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিন দিনের মধ্যে বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতে তার পরিবারের কেউ উপস্থিত থাকতে পারেননি। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সোলতানির বোন একজন নিবন্ধিত আইনজীবী হলেও তাকে বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।
সোমায়েহ নামের এক আত্মীয় জানান, তারা শুনেছেন দণ্ড কার্যকর হয়নি, তবে এখনো তা বাতিল হয়নি এবং তারা আরও তথ্যের অপেক্ষায় আছেন। পরে হেনগাও নিশ্চিত করে যে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। একই দিনে ওয়াশিংটনে এক সভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনাও স্থগিত রয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের খবর প্রকাশিত হয়।
পরিবার ও মানবাধিকার সংস্থার নিশ্চিতকরণের পর এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ক্যাডারে অনুমোদিত পদের অতিরিক্তসহ প্রায় ১০ হাজার চিকিৎসকের পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলছে, যার মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি ইতোমধ্যে জুনিয়র কনসালট্যান্ট, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে উন্নীত হয়েছেন। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ আওয়ামী লীগপন্থি এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর সদস্য বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সিন্ডিকেট এসব পদোন্নতি সহজ করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন হয়েছে। শহীদ মিনারে ‘শান্তি সমাবেশে’ অংশ নেওয়া কিছু চিকিৎসকও পদোন্নতি পেয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে যে, স্বৈরাচার আমলের একটি নির্বাহী আদেশে সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা ছাড়াই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত। এতে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিন্তু বঞ্চিত চিকিৎসকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব জানান, নির্দিষ্ট অভিযোগ বা গোয়েন্দা প্রতিবেদন এলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, কারণ আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই।
স্বাচিপের প্রায় দেড় হাজার সদস্যের পদোন্নতি স্থগিত রয়েছে এবং তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির পক্ষ থেকেও পদোন্নতির সুপারিশের অভিযোগ উঠেছে।
চিকিৎসকদের পদোন্নতিতে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগে বিতর্ক
যুক্তরাজ্য ইরানের তেহরানে অবস্থিত তাদের দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। বুধবার এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, দূতাবাসটি এখন থেকে দূর থেকে পরিচালিত হবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূতসহ সব কনস্যুলার কর্মীকে ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা জানান, কর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরান বর্তমানে তাদের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সহিংস বিক্ষোভের মুখোমুখি। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের তীব্র অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।
এর আগে ইতালি, পোল্যান্ড, জার্মানি ও স্পেনসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা ও সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
ইরানে অস্থিরতার মধ্যে তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ
ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অরগানাইজড হেট (সিএসওএইচ) ও এর ইন্ডিয়া হেট ল্যাব (আইএইচএল) প্রকল্পের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে ২১টি রাজ্যে ১,৩১৮টির বেশি হেট স্পিচ রেকর্ড হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৩ শতাংশ এবং ২০২৩ সালের তুলনায় ৯৭ শতাংশ বেশি। এসব ঘটনার ৯৮ শতাংশ মুসলিমদের এবং ১৩৩টি খ্রিষ্টানদের লক্ষ্য করে। মোট ঘটনার ৮৮ শতাংশই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে ঘটেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি), বজরং দল ও অন্তর্রাষ্ট্রীয় হিন্দু পরিষদ (এএইচপি) শত শত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। অনেক বক্তব্যে ‘লাভ জিহাদ’, ‘ভূমি জিহাদ’ ও ‘জনসংখ্যা জিহাদ’-এর মতো ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ব্যবহার করে সহিংসতা, বয়কট ও উপাসনালয় ধ্বংসের আহ্বান জানানো হয়েছে। বড়দিনের সময় খ্রিষ্টানদের ওপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে, বিশেষ করে রায়পুরসহ বিভিন্ন শহরে চার্চে আক্রমণ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় হেট স্পিচ এখন বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত, যা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বিভাজনকে উসকে দিচ্ছে।
২০২৫ সালে ভারতে হেট স্পিচ ১৩% বেড়েছে, মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের প্রধান টার্গেট
বাংলাদেশ জানিয়েছে, বর্তমানে ভারতের মাটিতে ক্রিকেট খেলা নিরাপদ নয় এবং তারা নিজেদের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে অটল রয়েছে। এ নিয়ে আইসিসির সঙ্গে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা থাকা এই টুর্নামেন্ট এখন নানা জটিলতায় পড়েছে।
ভারতের কড়া ভিসানীতির কারণে পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া বা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ২০ জনেরও বেশি ক্রিকেটার ভিসা জটিলতায় পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, কানাডা ও নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কয়েকটি দেশের খেলোয়াড়রা ভারতের ভিসা না পাওয়ায় তাদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে শুধু বাংলাদেশের নিরাপত্তা নয়, অন্যান্য দেশও দল গঠনে সমস্যায় পড়ছে।
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও এসব সমস্যা সমাধান না হওয়ায় আয়োজনে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। লেখকের মতে, আইসিসি যদি বিতর্ক এড়াতে চায়, তবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেওয়াই হতে পারে যৌক্তিক সমাধান।
ভারতে নিরাপত্তা ও ভিসা জটিলতায় ২০২৬ ক্রিকেট বিশ্বকাপ অনিশ্চিত
ইরানের ক্ষমতাচ্যুত সর্বশেষ শাহর ছেলে নির্বাসিত রেজা পাহলভি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতনের পর একটি নতুন ইরানের রূপরেখা তুলে ধরেছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বার্তায় তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ ইরান পারমাণবিক সামরিক কর্মসূচি বন্ধ করবে, ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের “বন্ধুদের” উদ্দেশে পাহলভি বলেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থার অধীনে ইরানের ভাবমূর্তি সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, একটি মুক্ত ইরান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখবে এবং দায়িত্বশীল বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে কাজ করবে। নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে তিনি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দেন।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় পাহলভি বলেন, ভবিষ্যৎ ইরান বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের জন্য উন্মুক্ত হবে এবং একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করবে। তিনি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্বচ্ছতা ও সুশাসন গ্রহণের অঙ্গীকার করেন এবং ইরানি জনগণের প্রতি বৈশ্বিক সমর্থনের আহ্বান জানান।
রেজা পাহলভি শান্তি ও বৈশ্বিক সহযোগিতাকেন্দ্রিক ভবিষ্যৎ ইরানের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন
ইরানে চলমান গণবিক্ষোভের মধ্যে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্যে বাজারের ‘ন্যায়সংগত’ অভিযোগ ও রাষ্ট্রবিরোধী বিদ্রোহের মধ্যে পার্থক্য টানার চেষ্টা করেন। তিনি বাজার ব্যবসায়ীদের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে অনুগত অংশ হিসেবে প্রশংসা করে বলেন, রাষ্ট্রের শত্রুরা বাজারকে ব্যবহার করে কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবে তেহরানের বাজারে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে, যেখানে কর্তৃপক্ষ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে। তারা খামেনির পতনের দাবিও তুলেছে।
এই অস্থিরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, একসময় বিপ্লবের স্তম্ভ হিসেবে থাকা বাজার এখন শাসনব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়েছে। গত দুই দশকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ও ধর্মীয় ফাউন্ডেশনগুলোর প্রতি রাষ্ট্রীয় পক্ষপাত, নিষেধাজ্ঞা ও মূল্যস্ফীতির কারণে বাজারের অর্থনৈতিক প্রভাব ক্ষয় হয়েছে। আইআরজিসি এখন বাণিজ্য, ব্যাংকিং ও অবকাঠামো খাতে প্রভাব বিস্তার করে ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোকে প্রান্তিক করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও আইআরজিসি-নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক আধিপত্য কমিয়ে বাজারের আস্থা ফেরানো সম্ভব হলেও, পশ্চিমা উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য এ ধরনের সংস্কারকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে।
খামেনির আহ্বানেও তেহরানের বাজারে বিক্ষোভ, আনুগত্যে ফাটল স্পষ্ট
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নির্বাচনের আগে তীব্র সংকটে পড়েছে। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা ২০২৪ সালে ছাত্র ও তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ভারতে আশ্রয় নেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চাইলেও ভারত তা প্রত্যাখ্যান করে। এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের জনগণ ক্ষুব্ধ হয় এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে। পরবর্তীতে উভয় দেশই ভিসা ইস্যু বন্ধ করে দেয় এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে পারস্পরিক অভিযোগ তোলে।
সংঘাতটি এখন খেলার মাঠেও ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বিক্ষোভের পর এক বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর জবাবে বাংলাদেশ ঘোষণা দেয়, তারা ভারতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নেবে না এবং ম্যাচগুলো অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানায়। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এই উত্তেজনার মূল কারণ। ভারতের লক্ষ্য আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখা, আর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী নেতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জনমত ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে। ভারত বিএনপির সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও জাতীয়তাবাদী মনোভাবের কারণে সম্পর্কের টানাপোড়েন শিগগিরই কাটবে না।
নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৭০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।