২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি, পরিকল্পনার অভাব ও অপচয় ঘটেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কর্ণফুলী টানেল, পদ্মা সেতু, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে সহ আটটি বড় প্রকল্পে প্রাথমিক ব্যয়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্র কমিটি ও টাস্কফোর্স দুর্বল পরিকল্পনা, বাস্তবায়নে বিলম্ব ও দুর্নীতিকে ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্ণফুলী টানেল প্রত্যাশিত গাড়ি চলাচল না পাওয়ায় প্রতিদিন লোকসান গুনছে এবং জনগণের কাছে এটি ব্যয়বহুল ‘সাদা হাতি’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ৯৫ শতাংশ প্রকল্প বৈদেশিক ঋণে বাস্তবায়িত হওয়ায় ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। রেল খাতে বিপুল বিনিয়োগের পরও লোকসান অব্যাহত রয়েছে এবং ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বিআরটি ও লালখান বাজার-বিমানবন্দর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো প্রকল্পগুলো অসমাপ্ত থেকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত ব্যয়, দুর্বল নকশা ও সময়ক্ষেপণ এসব প্রকল্পকে জনগণের জন্য বোঝায় পরিণত করেছে।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর ঢাকার সাবেক গণভবনে স্থাপিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ এখনো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার রাজকীয় ভবনটিকে বিপ্লবের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রূপান্তরের ঘোষণা দিলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও রাজনৈতিক অনীহায় উদ্বোধন বিলম্বিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে প্রকল্পটি স্থায়ী আইনি কাঠামো পেলেও এখনো মূল ফটক বন্ধ রয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা এ বিলম্বে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ প্রশাসনের ভেতরে প্রভাবশালী আমলাদের কারসাজিকে দায়ী করছেন, আবার কেউ মনে করছেন সরকার আন্তরিক এবং দ্রুত উদ্বোধনের চেষ্টা করছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ৪০ কোটি টাকার বেশি বাজেটে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ২০২৫ সালের আগস্টে উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। জাদুঘরটিতে ডিজিটাল ও ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিপ্লবের ইতিহাস উপস্থাপন করা হয়েছে। শহীদদের ব্যবহৃত সামগ্রী, চিঠিপত্র ও ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। এটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বায়ত্তশাসিতভাবে পরিচালিত হবে এবং দেশের বিভিন্ন ‘আয়নাঘর’কে শাখা জাদুঘর হিসেবে সংযুক্ত করা যাবে।
লা লিগার শিরোপা দৌড়ে আবারও হোঁচট খেল রিয়াল মাদ্রিদ। ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রিয়াল বেটিসের মাঠে শেষ মুহূর্তের গোলে ১-১ ড্র করতে হয় তাদের। ম্যাচের ১৭ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল, কিন্তু যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে হেক্টর বেলেরিনের গোল রিয়ালের জয় কেড়ে নেয়। এই ড্রয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমানোর সুযোগ হারায় মাদ্রিদ। পুরো ম্যাচে বেটিস ছিল সমান তৎপর। তারা ৫২ শতাংশ বল দখলে রেখে ১৯টি শট নেয়, যার ৪টি ছিল লক্ষ্যে। রিয়াল নেয় ১২টি শট, লক্ষ্যে ছিল ৮টি। কিলিয়ান এমবাপে ও জুড বেলিংহ্যাম সুযোগ নষ্ট করেন, আর এমবাপের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। গোলরক্ষক আন্দ্রে লুনিন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেও শেষ মুহূর্তে দলকে রক্ষা করতে পারেননি। ৩৩ ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৭৪, তারা দ্বিতীয় স্থানে। এক ম্যাচ কম খেলে ৮২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। ৫০ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে রিয়াল বেটিস। এই ফল রিয়ালের শিরোপা লড়াইয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘাত দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কলেজ, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ, কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। একটি গ্রাফিতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়েকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘাতের সূত্রপাত হলেও মূল কারণ হিসেবে ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষাবিদ ও প্রশাসকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এসব সংঘাত শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে এবং জাতীয় রাজনীতিতেও উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সহনশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। জামায়াতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর হামলার নিন্দা জানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের আহত হওয়ার ঘটনায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দুঃখপ্রকাশ করেছেন। উভয় সংগঠনই সহনশীলতার আহ্বান জানিয়েছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর রোকন উদ্দিনের লেখা একটি বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্য চিত্তরঞ্জন সুতারের রাজনৈতিক ভূমিকা ও বিতর্কিত অতীত পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। লেখায় বলা হয়, সুতারের বিরুদ্ধে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের কিছু অংশ নিয়ে ‘বঙ্গভূমি’ নামে পৃথক হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ বহুবার উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারত ও মুজিবনগর সরকারের মধ্যে সংযোগ রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়। নিবন্ধে বলা হয়, সুতারের রাজনৈতিক উত্থান বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠনের দুর্বলতা ও বিদেশি প্রভাব মোকাবিলায় শৈথিল্যের প্রতিফলন। লেখক মনে করেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বৈঠক ও সরকারি প্রতিবেদনে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ প্রমাণ করে যে বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্ব পেয়েছিল। শেষাংশে নিবন্ধটি সতর্ক করে যে চিত্তরঞ্জন সুতার কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের প্রতীক। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি রাজনৈতিক সততা ও জাতীয় আনুগত্যের কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে আলো, বাতাস ও অক্সিজেনের সংস্পর্শে ভোজ্যতেলে থাকা ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ডি’-এর পুষ্টিগুণ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তারা বলেন, স্বচ্ছ বোতলে অতিবেগুনি রশ্মি প্রবেশ করে ভিটামিন নষ্ট করে, অথচ অস্বচ্ছ বা লেমিনেটেড বোতল এসব ভিটামিনকে কার্যকর রাখে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি কমিটি ২০২৫ সালে ২,৪৮১ জনের ওপর ভিটামিন ‘ডি’ ঘাটতি নিয়ে জাতীয় জরিপ চালায়, যেখানে সব বয়সী ও গর্ভবতী নারীদের মধ্যে ঘাটতি ব্যাপকভাবে ধরা পড়ে। জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধকরণের প্রস্তাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে, যা শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর অপেক্ষায় রয়েছে। গেইন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও প্রগতির জন্য জ্ঞানসহ বিভিন্ন সংস্থার বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্বচ্ছ বোতলের প্রতি ভোক্তার আগ্রহ এবং প্রস্তুতকারকদের আলোক-সংবেদনশীলতা সম্পর্কে অজ্ঞতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং অস্বচ্ছ, আলো-প্রতিরোধী প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান, যাতে ভোজ্যতেলের পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে ও জনস্বাস্থ্য উন্নত হয়।
দেশের এক সময়ের শীর্ষস্থানীয় ইসলামী ব্যাংক এখন গভীর সংকটে পড়েছে এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়মের কারণে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রুপটি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৭ হাজার ১৭৫ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়েছে, যা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের ৬২ শতাংশ। ২০১৭ সালে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এস আলম গ্রুপ নিজের নাম, আত্মীয়স্বজন ও কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেয়। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রতিবেদনে দেখা যায়, এস আলম গ্রুপের নামে-বেনামে মোট ঋণের পরিমাণ এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। ইসলামী ব্যাংক এ পর্যন্ত গ্রুপটির বিরুদ্ধে ২৪টি দেওয়ানি ও ৩৬৮টি ফৌজদারি মামলা করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনও কয়েকটি মামলা করেছে। ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন, এস আলম গ্রুপ ঋণ পরিশোধে এগিয়ে আসেনি এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনটি গোপন চুক্তি সই করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এস আলমের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার পর ব্যাংকের বোর্ড পুনর্গঠন করে খেলাপি ঋণ কমিয়ে ৯২ হাজার ১১৫ কোটি টাকায় নামায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এস আলম আবারও প্রভাব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে সহযোগিতা না করায় ন্যাটো থেকে স্পেনকে স্থগিত করার সম্ভাব্য মার্কিন হুমকির জবাব দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। শুক্রবার সাইপ্রাসের রাজধানী নিকোসিয়ায় অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন শীর্ষ সম্মেলনে তিনি বলেন, স্পেন ন্যাটোর একটি নির্ভরযোগ্য সদস্য এবং পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ ই-মেইল ঘিরে সৃষ্ট গুঞ্জন নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। রয়টার্সের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, ওই ই-মেইলে ইরানবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা না করা ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বিবেচনার কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে স্পেনকে স্থগিত করার বিষয়ও রয়েছে। সানচেজ বলেন, স্পেন তার সব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে এবং তারা কোনো ই-মেইলের ভিত্তিতে নয়, বরং আনুষ্ঠানিক নথি ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ঘোষিত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি আরও জানান, স্পেন ন্যাটোর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করে, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই। প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাটো চুক্তিতে কোনো সদস্য দেশকে স্থগিত বা বহিষ্কারের বিধান নেই। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালির প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন, রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার ক্ষেত্রে যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা আর নবায়ন করা হবে না। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে পরিবহনের পথে থাকা রুশ তেলের ক্ষেত্রেও নতুন কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ইরানের তেলের ক্ষেত্রেও কোনো সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দেন বেসেন্ট। তিনি বলেন, অবরোধ বজায় রয়েছে এবং কোনো তেল বাইরে যাচ্ছে না। এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর জ্বালানি নীতির প্রতিফলন, যা ইরান ও রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ওয়াশিংটনের অব্যাহত নিষেধাজ্ঞা নীতির অংশ, যা দুই দেশের জ্বালানি আয় সীমিত করতে লক্ষ্য রাখছে। ঘোষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের দৃঢ় অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে, যা মস্কো ও তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখবে।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ৯৯৯-এ কলের মাধ্যমে দিদার নামে এক ব্যক্তিকে মাদকসহ আটকের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষের সংঘর্ষ দেখতে পায়। সংঘর্ষে মান্না নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হলে স্থানীয় মাদকচক্র ও তাদের অনুসারীরা পুলিশের ওপর দায় চাপিয়ে প্রায় ৫০-৬০ জনের একটি দল সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। এতে এসআই আপেল ও এসআই নূর মোহাম্মদ আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় ফাহিম, তাহিন ও নিলয় নামে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সন্দ্বীপ থানার ওসি সুজন হালদার জানান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আবারও সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থী শত-সহস্র মানুষের অস্থায়ী আইনি মর্যাদা বাতিলের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বোস্টন, ম্যাসাচুসেটসে দাখিল করা আদালতের নথিতে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে এক বিচারক রায় দিয়েছিলেন যে প্রশাসনের আগের প্রচেষ্টা অবৈধ ছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় প্রায় ৯ লাখ মানুষকে আশ্রয় মামলার বিচার চলাকালে মানবিক প্যারোলের আওতায় অস্থায়ী আইনি মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। নতুন নথিতে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে যে তারা বিচারক অ্যালিসন বারোজের আদেশ মেনে চলছে, তবে সিবিপি প্রধান রডনি স্কটের এক মেমোর ভিত্তিতে নতুন প্যারোল বাতিলের নোটিশ জারি শুরু করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীরা আদালতকে অনুরোধ করেছেন যাতে এই পদক্ষেপকে আগের রায় এড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে রোধ করা হয়। এ বিষয়ে শুনানি ৬ মে নির্ধারিত হয়েছে। এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ, যার মধ্যে দক্ষিণ সীমান্তে আশ্রয় দাবির প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ এবং সিবিপি ওয়ান অ্যাপের পরিবর্তে আত্ম-নির্বাসন টুল সিবিপি হোম চালু করা অন্তর্ভুক্ত।
গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস (জিআরএফসি) ২০২৬ জানিয়েছে যে ২০২৫ সালে গাজা উপত্যকা ও সুদানের কিছু অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত হয়েছে, যা আনুষ্ঠানিক দুর্ভিক্ষ প্রতিবেদন শুরুর পর প্রথমবারের মতো একসঙ্গে দুটি স্থানে নিশ্চিত হলো। ১৮টি মানবিক ও উন্নয়ন সংস্থার যৌথভাবে প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৭টি সংকটাপন্ন দেশ ও অঞ্চলের ২২.৯ শতাংশ মানুষ—প্রায় ২৬৬ মিলিয়ন—২০২৫ সালে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে। যদিও সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় সামান্য কম, এটি মূলত বিশ্লেষিত দেশের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে। গাজা উপত্যকা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত, যেখানে ৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ মানুষ—জনসংখ্যার ৩২ শতাংশ—দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত, আর সুদানে সংখ্যা ৬ লাখ ৩৭ হাজার ২০০। দক্ষিণ সুদান, ইয়েমেন, হাইতি ও মালিতেও সীমিত জনগোষ্ঠী মারাত্মক খাদ্য সংকটে পড়েছে। সংঘাত ও সহিংসতা ১৯টি দেশে ১৪৭.৪ মিলিয়ন মানুষকে ক্ষুধার মুখে ফেলেছে, আর আবহাওয়া ও অর্থনৈতিক ধাক্কা অন্যান্য দেশে প্রধান কারণ। খাদ্য সংকট মোকাবিলায় অর্থায়ন ২০১৬–২০১৭ সালের স্তরে নেমে গেছে। প্রতিবেদনটি সতর্ক করেছে যে কাঠামোগত কারণগুলো মোকাবিলায় টেকসই পদক্ষেপ না নিলে ২০২৬ সালেও দুর্বল দেশগুলো বৈশ্বিক ক্ষুধার ভার বহন করবে।
দক্ষিণ এশিয়ায় সোনার রেকর্ডমূল্য বিবাহের ঐতিহ্য বদলে দিচ্ছে, ফলে অনেক কনে ও পরিবার নকল বা এক গ্রাম সোনার গয়নার দিকে ঝুঁকছেন। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে হিসাবরক্ষক উজমা বশির জানিয়েছেন, তার আয়ের তুলনায় একটি সোনার আংটিও কেনা সম্ভব নয়। ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানজুড়ে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারিতে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫,৫৯৫ ডলারে পৌঁছায় এবং ২০২৫ সালে ভারতে গয়নার চাহিদা ২৪ শতাংশ কমে যায়। নয়াদিল্লির ফাতিমা বেগম তার কন্যাদের বিয়েতে আসল সোনার পরিবর্তে এক গ্রাম গয়না ব্যবহার করেছেন। মুম্বাই ও ঢাকায় জুয়েলারিরা জানিয়েছেন, নকল গয়নার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরিতে ২,২০০ ডলারে পৌঁছেছে, ফলে ক্রেতারা নিরাপত্তা ও সাশ্রয়ের জন্য নকল গয়না বেছে নিচ্ছেন। পাকিস্তানেও একই অবস্থা, যেখানে সোনার দাম প্রতি তোলায় ৫.৪ লাখ রুপি। অঞ্চলজুড়ে জুয়েলারিরা বলছেন, সোনা এখন বিনিয়োগের প্রতীক হয়ে উঠছে, আর কনেেরা ঐতিহ্য রক্ষায় সোনার বিকল্প ব্যবহার করছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ইরান “আর্থিকভাবে ধ্বংসের পথে” এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে দেশটি প্রতিদিন কোটি কোটি ডলার হারাচ্ছে। ১৩ এপ্রিল শুরু হওয়া এই অবরোধে মার্কিন বাহিনী ইরানি পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার আটক করেছে এবং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা জাহাজগুলোকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। এর জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালী বিদেশি জাহাজের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে এবং কয়েকটি বিদেশি জাহাজ আটক করেছে। ইরানের উপ-রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ রেজা আরেফ ও সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, অবরোধ প্রত্যাহার না হলে যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের মতে, অবরোধ ইরানের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করলেও দেশটির তেল রপ্তানি ও মজুদ সক্ষমতা এখনো শক্তিশালী। ইরান ইতিমধ্যে চলমান তেল রপ্তানি থেকে বিলিয়ন ডলার আয় করছে এবং প্রণালী পারাপারে টোল আরোপ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাসমান তেল মজুদের কারণে ইরান আগস্ট পর্যন্ত আয় বজায় রাখতে পারবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র মে মাসের পর অবরোধ চালিয়ে যেতে রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার মুখে পড়বে। চীনের বাণিজ্য বিঘ্নে অসন্তোষও ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এই অচলাবস্থা বৈশ্বিক তেলের দাম বাড়িয়েছে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তীব্র করেছে। ইরান ধৈর্য ও ঐক্যের সংকেত দিচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক ও সামরিক চাপে পড়ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন যে তিনি প্রোস্টেট ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে সফল চিকিৎসা সম্পন্ন করেছেন। একটি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ছোট একটি টিউমার ধরা পড়ার পর এই চিকিৎসা করা হয়। শুক্রবার প্রকাশিত বার্ষিক চিকিৎসা প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। নেতানিয়াহু সামাজিক মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময়ে বিভ্রান্তি এড়াতে তথ্য প্রকাশ দুই মাস বিলম্বিত করেছিলেন। ৭৬ বছর বয়সী এই নেতা জানান, ২০২৪ সালে একটি সুশীল প্রোস্টেট সার্জারির পর নিয়মিত পর্যবেক্ষণের সময় টিউমারটি শনাক্ত হয়। চিকিৎসা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু রেডিয়েশন থেরাপি নিয়েছেন এবং বর্তমানে সুস্থ আছেন। হাদাসা হাসপাতালের অনকোলজি ইউনিটের পরিচালক আহারন পোপোভৎসার জানান, ক্যান্সারটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়েছিল এবং পরীক্ষার ফলাফলে এখন রোগের কোনো চিহ্ন নেই। ইসরায়েলের দীর্ঘতম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী এই প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে এর আগে তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে জল্পনা ছড়িয়েছিল, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্মিত ভুয়া ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। মার্চ মাসে নেতানিয়াহু জেরুজালেমের একটি ক্যাফেতে নিজের উপস্থিতির ভিডিও প্রকাশ করে এসব ভুয়া খবরের জবাব দেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।