নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। শেখ হাসিনার পতনের পর ইউনূস সরকার ভারতের প্রভাববলয় থেকে সরে এসে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে উদ্যোগী হয়েছে। চীনের সঙ্গে তিস্তা নদী প্রকল্প ও মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে চুক্তি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ইউরোপ থেকে যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে নতুন কূটনৈতিক দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হয়েছে। এই নীতিগত পরিবর্তন অনেকের কাছে জিয়াউর রহমানের সময়কার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের দীর্ঘদিনের প্রভাব কমে যাওয়ায় নয়াদিল্লি অস্বস্তিতে পড়েছে এবং ভারতীয় গণমাধ্যমে ইউনূসবিরোধী প্রচার তারই প্রতিফলন। নতুন নীতির ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার চ্যালেঞ্জও সামনে আসতে পারে।
জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাসহ ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এসব কমিশনের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র কাঠামোকে গণতন্ত্রীকরণ, বিকেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহি বৃদ্ধি করা। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৪৩ থেকে ২৫-এ নামানো, পদোন্নতি ও বদলিতে মেধা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নীতি প্রণয়ন এবং পেশাদার, নাগরিকমুখী আমলাতন্ত্র গঠনের প্রস্তাব দেয়। তবে বিভাগগুলোকে প্রদেশে রূপান্তরের মতো কিছু প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। সংস্কার প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রশাসন ক্যাডার ও অন্যান্য ক্যাডারের মধ্যে পদোন্নতি কোটাকে কেন্দ্র করে তীব্র দ্বন্দ্বে জর্জরিত। প্রশাসন ক্যাডার ৫০:৫০ কোটার প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেও অন্যান্য ক্যাডার এটিকে সমতার পথে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পুনঃনিয়োগের প্রভাব সংস্কার বাস্তবায়নকে আরো জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সমন্বিত রোডম্যাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্যারান্টি ছাড়া এসব সংস্কার কার্যকর হবে না। পেশাদারিত্বভিত্তিক, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গঠনে এখনই বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ সরকার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষাপটে জুলাই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ কয়েকজন রাজনীতিককে গানম্যান দিয়েছে এবং তাদের অস্ত্রের লাইসেন্স প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ও উত্তরাঞ্চলীয় সমন্বয়ক সারজিস আলম। সাম্প্রতিক ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, ভারতের প্রভাবমুক্ত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির দাবিদার ও আধিপত্যবিরোধী রাজনীতিকরা এখন বিশেষ হিটলিস্টের টার্গেট। বিএনপি, জামায়াত, জেপি ও এলডিপির কয়েকজন নেতাও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আবেদন করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ জানিয়েছে, এসব আবেদন যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, যারা নিরাপত্তা চেয়েছেন তাদের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হলেও, এটি দেশের রাজনৈতিক বিভাজন ও অবিশ্বাসের গভীরতাকেও প্রতিফলিত করছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর উদ্ভূত ছাত্রনেতাদের মধ্যে অন্যতম শরীফ ওসমান হাদি ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে মারা যান। ৩২ বছর বয়সী এই নেতা ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ সংগঠনের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’ নামে নতুন রাজনৈতিক রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছিলেন, যা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয় পুনর্নির্মাণের ওপর জোর দেয়। হাদি নিজেকে একজন বাঙালি মুসলমান হিসেবে উপস্থাপন করতেন এবং ভারতের প্রভাবাধীন ‘সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ’-এর বিরোধিতা করতেন। অন্য ছাত্রনেতারা যেখানে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার বা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিতে যোগ দেন, সেখানে হাদি স্বাধীন অবস্থান বজায় রেখে তৃণমূল সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তার হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশের তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে, যদিও পুলিশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হাদির মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সঙ্গে ঘোষিত জুলাই সনদের গণভোট এখন নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব ও অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই শতাধিক উগ্রপন্থী ‘অখণ্ড হিন্দুরাষ্ট্র’ নামের সংগঠনের সদস্যরা দূতাবাসের ফটকে জড়ো হয়ে বাংলাদেশবিরোধী স্লোগান দেয় এবং পরে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। এর ফলে হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার গভীর আতঙ্কে পড়েছেন। ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিলেন, এমনকি কেউ কেউ হামলাকারীদের উৎসাহিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উগ্র সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে তথাকথিত ‘অখণ্ড ভারতের’ অংশ করার দাবি তুলে আসছে। এই ধারাবাহিক হামলা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন। বাংলাদেশ ও ভারত সরকার শিগগিরই কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার নিয়ে আলোচনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। রোববার প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, গত তিন বছরে অনুমোদিত অবৈধ বসতির সংখ্যা দাঁড়াল ৬৯টিতে। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, জুডিয়া ও সামেরিয়ায় এই বসতিগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্মোত্রিচ নিজেও পশ্চিম তীরের একজন বসতিস্থাপনকারী। এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব এবং জাতিসংঘ। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, পশ্চিম তীরে ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও বসতি সম্প্রসারণ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ইসরাইলকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করবে এবং ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনাকে জটিল করে তুলবে। জাতিসংঘের পরবর্তী অধিবেশনে বিষয়টি আলোচনার জন্য উত্থাপিত হতে পারে।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে দুটি পৃথক অভিযানে ভারতীয় মদদপুষ্ট আল-খারিজি গোষ্ঠীর নয় সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। ১৯ ডিসেম্বর ডেরা ইসমাইল খান ও বান্নু জেলায় পরিচালিত এই অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়। আইএসপিআর জানায়, ডেরা ইসমাইল খানে তীব্র গোলাগুলির পর চারজন এবং বান্নুতে আরও পাঁচজন সন্ত্রাসী নিহত হয়। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ। নিহতরা নিরাপত্তা বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলায় জড়িত ছিল। এলাকায় আরও সন্ত্রাসী লুকিয়ে আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে স্যানিটাইজেশন অভিযান চলছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা বেড়েছে বলে ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলিতে এই অস্থিতিশীলতা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ভারতের আসাম রাজ্য থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে ১৯ জনকে পুশইন করেছে ভারত। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সামাজিকমাধ্যম এক্সে জানান, আসাম পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) নাগাঁও ও কার্বি আংলং জেলায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং বৈধ নথি ছাড়া কাউকে আসামে থাকতে দেওয়া হবে না। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও কর্মকর্তারা জানান। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের পুশইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির পরিপন্থী। এর আগেও বিএসএফ বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলাভাষীদের ধরে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে, যাদের মধ্যে বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা ও অজ্ঞাত পরিচয়ের মানুষও ছিল। বিজিবি জানিয়েছে, কিছু রোহিঙ্গা যারা ভারতে ইউএনএইচসিআর-এ নিবন্ধিত ছিল, তাদেরও বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু করবে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জুলাই বিপ্লবের সময় কারফিউ জারি করে ছাত্র ও সাধারণ মানুষ হত্যায় উসকানি দেওয়া হয়েছিল। এই বিপ্লবের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল শুনানি পরিচালনা করবেন। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষ আজ তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবে, এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বক্তব্য দেবেন। গত ৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করা হয়, আর ১৩ আগস্ট দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় নির্ধারণে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে গত ১৬ মাসে কোনো নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়নি বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) জমা পড়েনি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে টেকনো ড্রাগস সর্বশেষ তালিকাভুক্ত হয়েছিল। করোনা মহামারির পর এত দীর্ঘ সময় ধরে আইপিওহীন সময়কে বাজার সংশ্লিষ্টরা নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার দ্রুত বাজারে আনার নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বাজার বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন আইপিও বিধিমালা প্রণয়ন প্রক্রিয়াই এই স্থবিরতার মূল কারণ। ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) বিধিমালা, ২০২৫’ খসড়া জনমত যাচাই শেষে কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, পুরনো বিধিমালা কার্যকর থাকলেও কোম্পানিগুলো সুশাসনের অভাব ও প্রাইস মডেলের সীমাবদ্ধতায় আবেদন করেনি। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দীর্ঘ আইপিওহীন সময়ে বাজার অন্তত দুই বছর পিছিয়ে গেছে। বর্তমানে ৩৮৪ তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ১০২টি দুর্বল ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে ২০২৬ সালে বাজারে আস্থা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সুনামগঞ্জ-৩ (শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনে এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলমের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। রবিবার বিকেলে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে তারা এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন, যা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে দুই দলের মধ্যে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তালহা আলম সম্প্রতি জমিয়তের মুফতি ওয়াক্কাস গ্রুপের প্রচার সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করে এবি পার্টিতে যোগ দেন। জমিয়তের মাওলানা হোসেন আহমেদ ও হাফিজ সৈয়দ ওয়াযিরুল হকসহ নেতারা জানান, তারা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তালহার নির্বাচনি প্রচারণায় সক্রিয় থাকবেন। তাদের মতে, তালহা আলম কেবল রাজনৈতিক সহকর্মী নন, বরং একজন ভাই, যার প্রতি তাদের আস্থা অটুট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঐক্য তালহা আলমের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্বগুণের প্রতিফলন। এবি পার্টি ও সাবেক জমিয়ত নেতাদের সমর্থন তার নির্বাচনি অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য সৃষ্টি করতে পারে।
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় আগাম লাউ চাষে কৃষকদের জীবনে এসেছে পরিবর্তন। অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এবার পাইকাররা মাঠ থেকেই লাউ কিনে নিচ্ছেন, ফলে কৃষকরা পাচ্ছেন ন্যায্য দাম। এ বছর উপজেলায় প্রায় ৫৮ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে, পাশাপাশি কুমড়া, শিম, শসা ও করলার চাষও বেড়েছে। পূর্ব কেউন্দিয়া গ্রামের কৃষক মামুন হোসেন জানান, তিনি ২৫০টি মাদায় প্রায় ৫০০ লাউ গাছ লাগিয়ে আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত আড়াই লাখ টাকার লাউ বিক্রি করেছেন এবং আরও দুই লাখ টাকার বিক্রির আশা করছেন। তার উৎপাদন খরচ ছিল মাত্র ৩০–৩৫ হাজার টাকা। অন্য কৃষক সুজিতও দেড় লাখ টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কাউখালীর পলিবিধৌত মাটি সবজি চাষের জন্য উপযুক্ত এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি প্রকল্প ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ফলে উন্নত জাতের সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লাউ চাষ এখন দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জন্য টেকসই আয়ের উৎসে পরিণত হচ্ছে।
প্রতিকূল আবহাওয়া, শ্রমিক অসন্তোষ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ২০২৫ সালে দেশের চা উৎপাদন ১০–১২ শতাংশ কমেছে। মৌলভীবাজারসহ প্রধান চা উৎপাদন এলাকায় দীর্ঘ খরা, ভারী বৃষ্টিপাত ও দেরিতে কুঁড়ি আসার ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে রপ্তানি বাণিজ্যে ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চা শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সার, গ্যাস, ডিজেল ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন দাম (প্রতি কেজি ২৪৫ টাকা) যথেষ্ট নয়। নিলামে বিক্রি কমে গেছে এবং প্রতিবেশী দেশ থেকে নিম্নমানের চা অবৈধভাবে প্রবেশ করায় দেশীয় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শ্রমিকরাও কম আয় করছেন, কারণ উৎপাদন কমে যাওয়ায় পাতা তোলার পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত সরকারি সহায়তা, আধুনিক সেচব্যবস্থা ও গুণগত মান উন্নয়নের উদ্যোগ না নিলে চা শিল্প দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়বে। রপ্তানি পুনরুদ্ধারে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও মানোন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় কাপ্তাই হ্রদের পানি সময়মতো না কমায় বিপাকে পড়েছেন প্রায় ১৩ হাজার কৃষক। পানিতে তলিয়ে থাকা জমিতে বোরো ধানের বীজ রোপণ করতে না পারায় কৃষকরা আশঙ্কা করছেন আগামী মৌসুমে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। সাধারণত পৌষ মাসে এসব জমিতে ধান রোপণ শুরু হয়, কিন্তু এবারও জমিগুলো পানিতে ডুবে থাকায় চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, সরকার কাপ্তাই বাঁধ বন্ধ রেখেছে বলে পানি নামছে না। উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, লংগদুর মোট ৮ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর এখনো পানির নিচে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের স্বার্থে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে দ্রুত পানি কমানোর অনুরোধ জানানো হবে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচন পর্যন্ত পানি না কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সময়সীমার মধ্যে পানি না কমলে হাজারো কৃষক ক্ষতির মুখে পড়বে এবং খাদ্য সংকটের ঝুঁকি বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের নামে থাকা হল ও ভবনের নাম পরিবর্তনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নতুন করে তীব্র হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর ডাকসু ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে ‘ফ্যাসিবাদের চিহ্নমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়’ গড়ার আহ্বান জানান। তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে ‘ফেলানী হল’ করার দাবি তোলেন। তবে হল সংসদের কিছু নেত্রী অভিযোগ করেছেন, ডাকসু তাদের মতামত না নিয়েই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। শিক্ষার্থীদের ভোটে ‘ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল’ নামটিও বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সিন্ডিকেট সভায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক কেবল নাম পরিবর্তনের নয়, বরং রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও নতুন প্রজন্মের মূল্যবোধের সংঘাতের প্রতিফলন। সিদ্ধান্তটি ভবিষ্যতে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন আন্দোলনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।