জার্মান বুন্দেসলিগায় নতুন ইতিহাস গড়লেন বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। হেইডেনহেইমের বিপক্ষে ৪–০ গোলের জয়ে দলের চতুর্থ গোলটি করে তিনি বুন্দেসলিগায় নিজের শততম গোল অবদান পূর্ণ করেন। এই জয়ে বায়ার্ন শীর্ষস্থান আরও মজবুত করে নতুন বছর শুরু করবে নয় পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে। কেইন এই কীর্তি গড়েছেন মাত্র ৭৮ ম্যাচে, যা বুন্দেসলিগার ইতিহাসে দ্রুততম। এর আগে নেদারল্যান্ডসের কিংবদন্তি আরিয়েন রোবেন ১১৯ ম্যাচে এই মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন। চলতি মৌসুমে কেইন সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৫ ম্যাচে ৩০ গোল করেছেন, যার মধ্যে লিগে ১৯টি। বায়ার্নের হয়ে তার লিগ গোল এখন ৮১ এবং অ্যাসিস্ট ১৯টি। এই রেকর্ড বায়ার্নের আক্রমণভাগে কেইনের প্রভাব আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। দলের ধারাবাহিক সাফল্যে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, যা তাদের ঘরোয়া ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শুধু সচেতনতা নয়, সব ধরনের অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। সোমবার সকালে এক বক্তব্যে তিনি গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান। গণমাধ্যমে সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর আঘাত মানে কেবল সংবাদপত্র নয়, গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। তার এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই অবস্থান আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে দলটির জনসমর্থন জোরদারের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তারা সতর্ক করেছেন, গণমাধ্যমের ওপর চাপ অব্যাহত থাকলে তা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে আরও সংকুচিত করতে পারে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলের অব্যাহত অবরোধে গাজা উপত্যকায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পথে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ৫২ শতাংশ ওষুধ এবং ৭১ শতাংশ চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পশ্চিম গাজার আল-শিফা হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সংকটের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩২১ ধরনের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মজুদ সম্পূর্ণ ফুরিয়ে গেছে। জরুরি ও নিবিড় পরিচর্যা সেবায় ৩৮ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার ফলে প্রায় দুই লাখ রোগী জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। কিডনি চিকিৎসার সরঞ্জাম না থাকায় ৬৫০ জন রোগী ডায়ালাইসিস পাচ্ছেন না, আর অনকোলজি ওষুধের ৭০ শতাংশ ঘাটতির কারণে প্রায় এক হাজার ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি সহায়তা ও সরবরাহ পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছে। মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, অবরোধ অব্যাহত থাকলে গাজায় পূর্ণমাত্রার স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটতে পারে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৫ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। সোমবার সকাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনের সময়সীমা ১৮ ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। নিবন্ধিত প্রবাসীদের মধ্যে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৮ জন পুরুষ এবং ৩৬ হাজার ৪৫৯ জন নারী। দেশভিত্তিক হিসাবে সৌদি আরব থেকে সর্বাধিক ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৫ জন, কাতার থেকে ৫২ হাজার ১০৯ জন, ওমান থেকে ৩৮ হাজার ৯৯ জন, মালয়েশিয়া থেকে ৩৬ হাজার ৪২৭ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৬ হাজার ৫০০ জন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৪ হাজার ৫৫ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। ইসি জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে নিবন্ধনের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
একজন সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় গবেষকের বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ডিজিটাল যুগে গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক এক গভীর সংকটে পৌঁছেছে। লেখকের মতে, আধুনিক গণমাধ্যমের অবকাঠামো—সোশ্যাল মিডিয়া, সার্চ ইঞ্জিন ও অ্যালগরিদম—এখন কয়েকটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে, ফলে নৈতিক ও নাগরিক ক্ষমতার জায়গায় এসেছে টেকনো-প্লুটোক্রেটিক করপোরেট প্রভাব। এই ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন গণতন্ত্রের মৌলিক মূল্যবোধ—স্বাধীন মতপ্রকাশ, তথ্যপ্রবাহ ও জনসম্মতির ভিত্তি—কে দুর্বল করছে। প্রবন্ধে প্রাচীন এথেন্স থেকে শুরু করে আধুনিক ডিজিটাল যুগ পর্যন্ত গণমাধ্যমের বিবর্তন তুলে ধরা হয়েছে। অ্যারিস্টটল, মিল, চমস্কি ও হাবারমাসের চিন্তাধারার আলোকে লেখক দেখিয়েছেন, তথ্যপ্রবাহই গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি। কিন্তু আজ করপোরেট মালিকানা, অ্যালগরিদমিক নিয়ন্ত্রণ ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার নাগরিক আলোচনাকে সংকুচিত করছে। লেখকের মতে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এখন কেবল সাংবাদিকতার কাজ নয়, এটি মানব সভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে জামায়াত নেতৃত্বাধীন আটদলীয় জোটে প্রার্থী নির্বাচনে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জেলার সুনামগঞ্জ–১ ও সুনামগঞ্জ–৩ আসনে বারবার দলবদল করা দুই আলোচিত রাজনীতিক ডা. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরীকে ঘিরে জোটের তৃণমূলে অনাস্থা ও বিভাজন তৈরি হয়েছে। ডা. রফিকুল ইসলাম একাধিকবার দল পরিবর্তন করে সর্বশেষ ২০২৫ সালের নভেম্বরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেন এবং জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। স্থানীয় জামায়াত নেতারা মনে করেন, তাকে প্রার্থী করা হলে জোটের ভোটব্যাংক ঝুঁকিতে পড়বে। অন্যদিকে শাহীনূর পাশা চৌধুরী, বর্তমানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা, অতীত দলবদল ও বিতর্কিত নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণে তৃণমূলের আস্থা হারিয়েছেন। স্থানীয় নেতারা সতর্ক করেছেন, বিতর্কিত প্রার্থী মনোনয়ন দিলে জোটের প্রতি ভোটারদের আস্থা নষ্ট হতে পারে। মাঠ জরিপ ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে জোটের শীর্ষ নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে। এক বিশ্লেষণধর্মী লেখায় তিনি বাংলাদেশের সীমিত শিল্পোন্নয়নকে ভিয়েতনামের সমাজতান্ত্রিক শিল্পায়নের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো মূলত পোশাকশিল্প ও প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। গত চার বছরে দারিদ্র্য ১৮ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে বেড়েছে, বিনিয়োগ স্থবির, কর্মসংস্থান কমছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীত সরকারগুলো দেশে অলিগার্কি, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রদখলের সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে, যার ফলে গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাহবুব উল্লাহর মতে, ভারতীয় প্রভাব বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করছে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে। তিনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও কুৎসা রাজনীতি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরতার পথে ফেরাই এখন সময়ের দাবি।
জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে এই গণঅভ্যুত্থান জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা জাগিয়েছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কমিশন নির্বাচন কমিশনের কাঠামোগত পরিবর্তন আনলেও স্বাধীন ডিলিমিটেশন কমিশন ও রিকল ভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপেক্ষিত হয়েছে। দীর্ঘ দলীয়করণ ও দুর্নীতির কারণে জনগণের আস্থা এখনো নড়বড়ে। নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব, প্রশাসনের পক্ষপাত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা বাড়ছে। ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলা নির্বাচনি সহিংসতার আশঙ্কাকে আরও গভীর করেছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ভুয়া তথ্যের বিস্তারও নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য শুধু একটি সুষ্ঠু নির্বাচন যথেষ্ট নয়। বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন, নারীর অংশগ্রহণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করলেই জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হতে পারে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। ১৭ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা এই আপিলে তিনি জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ থেকে খালাস চান। গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ মামুনকে পাঁচ বছরের সাজা দেয়। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। চলতি বছরের ১৬ মার্চ প্রসিকিউশন মামুনকে আসামি করার আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে। আগামী বছরের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির তারিখ নির্ধারিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু একই সময়ে বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে। ভারতের সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি, পার্বত্যাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা এবং মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো ট্যাংক, যুদ্ধবিমান ও নৌযানে নির্ভরশীল প্রতিরক্ষা কাঠামো বর্তমান বাস্তবতায় অপ্রতুল। প্রস্তাবিত আধুনিকায়ন রোডম্যাপ ২০২৫ থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত তিন ধাপে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত কাঠামোয় রূপান্তরের পরিকল্পনা দেয়। তাৎক্ষণিক পর্যায়ে আধুনিক ট্যাংক, ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মধ্যমেয়াদে যৌথ কমান্ড, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও সাইবার সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে নীলজলে সক্ষম নৌবাহিনী ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর গবেষণায় বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জিডিপির ২ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তাই এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা থেকে ইয়োকার্তা যাওয়ার পথে সোমবার ভোরে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় ভোরে হাইওয়ে ইন্টারচেঞ্জের কাছে অতিরিক্ত গতিতে চলার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান বুদিওনো জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৩৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে সেমারাং শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি ও চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোই দুর্ঘটনার মূল কারণ। ইন্দোনেশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে, বিশেষ করে মহাসড়কে নিরাপত্তা বিধি অমান্য ও যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির কারণে। সরকার এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে এবং আসন্ন ছুটির মৌসুমে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে।
নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। শেখ হাসিনার পতনের পর ইউনূস সরকার ভারতের প্রভাববলয় থেকে সরে এসে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে উদ্যোগী হয়েছে। চীনের সঙ্গে তিস্তা নদী প্রকল্প ও মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে চুক্তি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ইউরোপ থেকে যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে নতুন কূটনৈতিক দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হয়েছে। এই নীতিগত পরিবর্তন অনেকের কাছে জিয়াউর রহমানের সময়কার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের দীর্ঘদিনের প্রভাব কমে যাওয়ায় নয়াদিল্লি অস্বস্তিতে পড়েছে এবং ভারতীয় গণমাধ্যমে ইউনূসবিরোধী প্রচার তারই প্রতিফলন। নতুন নীতির ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার চ্যালেঞ্জও সামনে আসতে পারে।
জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাসহ ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এসব কমিশনের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র কাঠামোকে গণতন্ত্রীকরণ, বিকেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহি বৃদ্ধি করা। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৪৩ থেকে ২৫-এ নামানো, পদোন্নতি ও বদলিতে মেধা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নীতি প্রণয়ন এবং পেশাদার, নাগরিকমুখী আমলাতন্ত্র গঠনের প্রস্তাব দেয়। তবে বিভাগগুলোকে প্রদেশে রূপান্তরের মতো কিছু প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। সংস্কার প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রশাসন ক্যাডার ও অন্যান্য ক্যাডারের মধ্যে পদোন্নতি কোটাকে কেন্দ্র করে তীব্র দ্বন্দ্বে জর্জরিত। প্রশাসন ক্যাডার ৫০:৫০ কোটার প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেও অন্যান্য ক্যাডার এটিকে সমতার পথে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পুনঃনিয়োগের প্রভাব সংস্কার বাস্তবায়নকে আরো জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সমন্বিত রোডম্যাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্যারান্টি ছাড়া এসব সংস্কার কার্যকর হবে না। পেশাদারিত্বভিত্তিক, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গঠনে এখনই বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ সরকার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষাপটে জুলাই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ কয়েকজন রাজনীতিককে গানম্যান দিয়েছে এবং তাদের অস্ত্রের লাইসেন্স প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ও উত্তরাঞ্চলীয় সমন্বয়ক সারজিস আলম। সাম্প্রতিক ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, ভারতের প্রভাবমুক্ত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির দাবিদার ও আধিপত্যবিরোধী রাজনীতিকরা এখন বিশেষ হিটলিস্টের টার্গেট। বিএনপি, জামায়াত, জেপি ও এলডিপির কয়েকজন নেতাও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আবেদন করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ জানিয়েছে, এসব আবেদন যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, যারা নিরাপত্তা চেয়েছেন তাদের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হলেও, এটি দেশের রাজনৈতিক বিভাজন ও অবিশ্বাসের গভীরতাকেও প্রতিফলিত করছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর উদ্ভূত ছাত্রনেতাদের মধ্যে অন্যতম শরীফ ওসমান হাদি ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে মারা যান। ৩২ বছর বয়সী এই নেতা ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ সংগঠনের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’ নামে নতুন রাজনৈতিক রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছিলেন, যা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয় পুনর্নির্মাণের ওপর জোর দেয়। হাদি নিজেকে একজন বাঙালি মুসলমান হিসেবে উপস্থাপন করতেন এবং ভারতের প্রভাবাধীন ‘সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ’-এর বিরোধিতা করতেন। অন্য ছাত্রনেতারা যেখানে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার বা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিতে যোগ দেন, সেখানে হাদি স্বাধীন অবস্থান বজায় রেখে তৃণমূল সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তার হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশের তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে, যদিও পুলিশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হাদির মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সঙ্গে ঘোষিত জুলাই সনদের গণভোট এখন নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব ও অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।