আল জাজিরা আরবির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েল নিষিদ্ধ তাপ ও থার্মোবারিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার ফলে হাজারো ফিলিস্তিনি নিখোঁজ হয়ে গেছেন। সোমবার প্রচারিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজা সিভিল ডিফেন্স ২,৮৪২ জনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, যাদের দেহাবশেষ হিসেবে কেবল রক্তের দাগ বা অল্প কিছু টিস্যু পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে ইয়াসমিন মাহানির মতো প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে, যিনি ২০২৪ সালের আগস্টে গাজা সিটির আল-তাবিন স্কুলে হামলায় তার ছেলেকে হারান।
বিশেষজ্ঞরা জানান, থার্মোবারিক ও ভ্যাকুয়াম বোমা ৩,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপ উৎপন্ন করে, যা মানবদেহকে মুহূর্তে বাষ্পে পরিণত করতে পারে। তদন্তে মার্কিন তৈরি জিবিইউ-৩৯ বোমার টুকরোও পাওয়া গেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, এমন নির্বিচার অস্ত্র ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং এতে ইসরায়েলসহ পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহকারীরাও জড়িত।
২০২৪ সালের শুরুতে আন্তর্জাতিক আদালতের পদক্ষেপ সত্ত্বেও হামলা ও অবরোধ অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনবিদরা গাজা ইস্যুতে বৈশ্বিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতার কথা বলেন, আর নিহতদের পরিবার এখনো প্রিয়জনদের দেহাবশেষ খুঁজে ফিরছেন।