ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। দেড় বছরের মেয়াদে সরকারটি আমলাতন্ত্রের অসহযোগিতা, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার মুখে পড়ে। একাধিকবার সরকারি কর্মকর্তাদের দ্বারা উপদেষ্টাদের ঘেরাও এবং সচিবালয় অচল হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা সরকারের নিয়ন্ত্রণক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
সরকারের উপদেষ্টা, বর্তমান ও সাবেক সচিব এবং জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপে উঠে এসেছে পরস্পরবিরোধী মতামত। বিশেষজ্ঞরা সরকারের নতজানু মনোভাব ও আমলাতন্ত্রের উচ্চাভিলাষকে দায়ী করেছেন, অন্যদিকে কিছু উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর অসহযোগিতার কথা বলেছেন। অবসরপ্রাপ্ত সচিবদের মতে, শেখ হাসিনার সরকারের কর্মকর্তাদের বহাল রাখার সিদ্ধান্ত ইউনূস সরকারের জন্য বুমেরাং হয়েছে এবং প্রশাসনে অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে। সম্পদ বিবরণী ও সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের চেষ্টাও আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধের মুখে পড়ে।
সরকারের মেয়াদ শেষের প্রাক্কালে বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা জনআস্থা ক্ষুণ্ন করেছে এবং কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন অসম্ভব করে তুলেছে।