অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। রোববার থেকে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, যখন ইরানি মুদ্রার বড় দরপতন দেশটির অর্থনৈতিক দুর্দশা আরও বাড়িয়ে দেয়। রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুত বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণাঞ্চলীয় ফারস প্রদেশে বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় সরকার ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তেহরানের কর্তৃপক্ষ বুধবার ব্যাংকে ছুটি ঘোষণা করে, তবে উত্তেজনা কমেনি।
পশ্চিমাঞ্চলীয় লোরেস্তান প্রদেশে একজন আধাসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন এবং ফাসা শহরে তিন পুলিশ আহত ও চারজন গ্রেপ্তার হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিবিসি যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, ফাসায় গভর্নরের কার্যালয়ের গেট ভেঙে ফেলছেন বিক্ষোভকারীরা এবং নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ছুঁড়ছে। দেশজুড়ে স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার বলছে, এটি শীতকালে জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ, কিন্তু অনেকের মতে এটি বিক্ষোভ দমন কৌশল।
তেহরানে ডলারের বিপরীতে মুদ্রার দরপতনের পর ক্ষুব্ধ দোকানিদের বিক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা হয়, পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেন এবং ধর্মীয় শাসকদের বিরুদ্ধে একাধিক শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।