Web Analytics

আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মারুফ জামান। ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর তাকে বিমানবন্দর এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়। পরে ১৬ মাস তাকে সেই আয়নাঘরে বন্দি করে রাখা হয়। ভারতীয় আগ্রাসন এবং হাসিনা সরকারের সমালোচনা করতেন তিনি। তাকে যেখানে রাখা হয়, সেটি ছিল ডিজিএফআইয়ের টর্চার সেল। মারুফ জামান জানান, ১৬ মাস তার প্রতিটি মুহূর্ত কাটে মৃত্যু আতঙ্কের মধ্য দিয়ে। একজন অফিসার ৩-৪ দিন পরপর এসে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন। চলত বেধড়ক পিটুনি। এক ঘুসিতে তার মুখের একদিকের প্রায় সব দাঁত পড়ে যায়। ছিঁড়ে যায় পায়ের লিগামেন্ট। অফিসার চলে গেলে আহত অবস্থায় তিনি মেঝেতেই পড়ে থাকেন। ন্যূনতম চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। ক্ষতস্থানে ঘা হয়ে যায়। দাঁত ভাঙা মাড়িতে পচন ধরে। খাবার চিবিয়ে খাওয়ার মতো শক্তিও ছিল না। তিনি জানান, যেখানে তাকে বন্দি রাখা হয়, সেই জায়গাটা ছিল খুবই ছোট। বাইরের আলো সেখানে পৌঁছায় না। ঘড়ঘড় করে সারাক্ষণ তীব্র শব্দ করা হয়। স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে তেলাপোকা, আরশোলার ছড়াছড়ি। প্রচণ্ড মশার উৎপাত। ফলে একমুহূর্ত ঘুমের সুযোগ ছিল না। সারাক্ষণ মানুষের কান্না আর গোঙানির শব্দ আসত। নানা কায়দার নির্যাতন হতো। এর অন্যতম ছিল ওয়াটার বেডিং থেরাপি। এতে মুখের ওপর ভেজা কাপড় রেখে পানি ঢালা হয়। এতে দম বন্ধ হয়ে আসত। এতে বন্দিরা ছটফট করে। দু-একজনকে মাঝেমধ্যে পেছনে দুই হাত বেঁধে বাইরে কোথাও নিয়ে যাওয়া হতো। তাদের কেউ কেউ আর কখনোই ফিরে আসত না। প্রহরীদের কেউ কেউ চুপিসারে তাদের মেরে ফেলার কথা জানাতেন।

18 Apr 25 1NOJOR.COM

সাবেক রাষ্ট্রদূত ষোলো মাস ছিলেন আয়নাঘরে, নির্যাতনে একদিকের সব দাঁত পড়ে যায়, দেওয়া হয়নি চিকিৎসা

নিউজ সোর্স

সাবেক রাষ্ট্রদূত ষোলো মাস ছিলেন আয়নাঘরে, নির্যাতনে একদিকের সব দাঁত পড়ে যায়, দেওয়া হয়নি চিকিৎসা

আয়নাঘরের ভয়াবহ ও লোমহর্ষক বর্ণনা দেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মারুফ জামান। হাসিনা সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) পরিচালিত বহুল আলোচিত আয়নাঘরে তাকে দীর্ঘদিন বন্দি রাখা হয়।

সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।